بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে নবী! আল্লাহকে ভয় কর এবং অবিশ্বাসী ও কপট বিশ্বাসীদের কথা মান্য করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
তোমার পালনকর্তার পক্ষ হ’তে তোমার নিকটে যা অহি করা হয়, তুমি তার অনুসরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা কর, সবই খবর রাখেন।
আর তুমি আল্লাহ্র উপর ভরসা কর। (কেননা) কর্মবধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দু’টি হৃদয় সৃষ্টি করেননি। আর তোমরা যে স্ত্রীদের ‘যিহার’ করেছ, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের ‘মা’ এবং তোমাদের পালক পুত্রদেরকে তোমাদের ‘পুত্র’ সাব্যস্ত করেননি। এগুলি তোমাদের মুখের কথা মাত্র। বস্ত্তত আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করে থাকেন।
তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ পরিচয়ে ডাকো। সেটাই আল্লাহ্র নিকট অধিক ন্যায় সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ পরিচয় না জানো, তাহ’লে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই ও বন্ধু। আর পিতৃ পরিচয়ের ব্যাপারে তোমরা কোন ভুল করলে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। কিন্তু তোমাদের হৃদয়ে দৃঢ় সংকল্প থাকলে অপরাধ হবে। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
নবী (মুহাম্মাদ) মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা। আর আল্লাহ্র কিতাবে রক্ত সম্পর্কীয়গণ পরস্পরের অধিক নিকটবর্তী অন্যান্য মুমিন ও মুহাজিরদের চাইতে। তবে তোমরা যদি তাদের প্রতি সদাচরণ কর, সেটি স্বতন্ত্র বিষয়। আর এটাই মূল কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম ও তোমার কাছ থেকে এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মারিয়াম-পুত্র ঈসার কাছ থেকে। আর তাদের কাছ থেকে নিয়েছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার।
যাতে সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা (অর্থাৎ তার প্রমাণ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা যায়। আর তিনি অবিশ্বাসীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছেন।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের উপরে আপতিত হয়েছিল। তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন এক বাহিনী যাকে তোমরা দেখনি। বস্ত্তত তোমরা যা কর আল্লাহ তা সবই দেখেন।
যখন তারা তোমাদের প্রতি আপতিত হয়েছিল তোমাদের উচ্চভূমি থেকে ও নিম্নভূমি থেকে। আর যখন (ভয়ে) তোমাদের চক্ষু ছনাবড়া হয়ে গিয়েছিল ও প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানারূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিলে।
সে সময় মুমিনরা পরীক্ষায় পতিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে ভীত-কম্পিত হয়েছিল।
যখন মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা প্রতারণা বৈ কিছুই নয়।
তাদের একটি দল বলেছিল, হে ইয়াছরিববাসীরা! এখানে তোমাদের কোন স্থান নেই। তোমরা ফিরে চলো। তাদের আরেকটি দল নবীর কাছে গিয়ে অনুমতি চেয়ে বলেছিল, আমাদের বাড়ী-ঘর অরক্ষিত। অথচ তা অরক্ষিত নয়। বরং তারা চেয়েছিল পালিয়ে যেতে।
যদি শত্রুবাহিনীকে তাদের উপর নগরীর প্রান্ত সমূহ থেকে প্রবেশ করানো হ’ত। অতঃপর তারা কুফরীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হ’ত, তাহ’লে তারা অবশ্যই কুফরী কবুল করত। আর তারা এতে মোটেই দেরী করত না অল্প সংখ্যক ব্যতীত।
অথচ তারা ইতিপূর্বে আল্লাহ্র সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। বস্ত্তত আল্লাহ্র সাথে কৃত অঙ্গীকার অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।
বলে দাও, পালিয়ে তোমাদের কোন লাভ হবে না যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পালিয়ে যাও। সেক্ষেত্রে স্বল্পকাল মাত্র তোমরা দুনিয়া ভোগ করবে (অবশেষে মৃত্যু আসবেই)।
বল, আল্লাহ থেকে তোমাদের কে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের বিষয়ে কোন অমঙ্গল ইচ্ছা করেন অথবা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহের ইচ্ছা করেন? বস্ত্তত তারা নিজেদের জন্য আল্লাহ ব্যতীত কাউকে অভিভাবক বা সাহায্যকারী পাবে না।
আল্লাহ ভালভাবেই জানেন তোমাদের মধ্যে কারা তোমাদেরকে (যুদ্ধে) বাধা দেয় এবং তাদের ভাইদের বলে আমাদের দিকে এস। অথচ তারা নিজেরা খুব কমই যুদ্ধে এসে থাকে-
তোমাদের সাহায্যে কৃপণ হওয়ার কারণে। অতঃপর যখন যুদ্ধ উপস্থিত হয়, তখন তুমি দেখবে যে, মৃত্যুভয়ে হুঁশহারা ব্যক্তির মত ওরা এদিক-ওদিক চোখ ঘুরিয়ে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। অতঃপর যখন যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় তখন তারা গণীমতের লোভে তোমাদেরকে তীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্ধ করে। ওরা ঈমান আনেনি। তাই আল্লাহ ওদের কর্মসমূহ নিস্ফল করে দিয়েছেন। আর এটা আল্লাহ্র জন্য খুবই সহজ।
তারা (ভয়ে) মনে করে যে, শত্রু বাহিনী চলে যায়নি। যদি তারা আবার ফিরে আসে, তাহ’লে তারা চাইবে যে, তারা (পালিয়ে) বেদুঈনদের মধ্যে গিয়ে বসবাস করবে এবং তোমাদের (ধ্বংসের) খবর নিবে। যদি ওরা তোমাদের মধ্যে থাকত, তাহ’লে ওরা যুদ্ধ করত না সামান্য ব্যতীত।
নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসকে কামনা করে ও অধিকহারে আল্লাহকে স্মরণ করে।
আর যখন মুমিনগণ শত্রুদল সমূহকে দেখল, তখন তারা বলল, এটা তো তাই, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে দিয়েছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। আর এটি তাদের ঈমান ও আনুগত্যকেই কেবল বৃদ্ধি করল।
মুমিনদের মধ্যে অনেকে আল্লাহ্র সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। আর তারা আল্লাহ্র সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার আদৌ পরিবর্তন করেনি।
এটা এজন্য যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে তাদের সততার পুরস্কার দিতে পারেন এবং তিনি চাইলে মুনাফিকদের শাস্তি দিতে পারেন অথবা (তওবার কারণে) তাদের ক্ষমা করতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর আল্লাহ কাফেরদের ক্ষুব্ধ অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোনই কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। বস্ত্তত আল্লাহই যুদ্ধে মুমিনদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেলেন। আল্লাহ শক্তিমান ও মহা পরাক্রান্ত।
আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা তাদের সাহায্য করেছিল (অর্থাৎ ইহূদী বনু কুরায়যা), তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ সমূহ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তর সমূহে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা তাদের একদলকে হত্যা করলে এবং একদলকে বন্দী করলে।
আর তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমি, ঘর-বাড়ী, ধন-সম্পদ ও এমন ভূখন্ডের মালিক করে দিলেন, যেখানে তোমরা কোনদিন পা মাড়াওনি। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
হে নবী! তোমার স্ত্রীদের বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা কর, তবে এস আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় করে দেই।
আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখেরাতের গৃহ কামনা কর, তবে তোমাদের মধ্যেকার সৎকর্মশীলাদের জন্য আল্লাহ মহা প্রতিদান প্রস্ত্তত করে রেখেছেন।
হে নবীপত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে যদি কেউ প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি। আর এটা আল্লাহ্র জন্য খুবই সহজ।
আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে ও সৎকর্ম করবে, আমরা তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেব। আর আমরা তার জন্য উত্তম রিযিক প্রস্ত্তত করে রেখেছি।
হে নবীপত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথা বলো না। তাহ’লে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয়ে পড়বে। অতএব তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বল।
আর তোমরা নিজ নিজ গৃহে অবস্থান কর। পূর্বতন জাহেলী যুগের নারীদের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না। তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত্য কর। হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।
আর তোমরা স্মরণ রাখো যে তোমাদের গৃহগুলিতে পঠিত হয় আল্লাহ্র আয়াত সমূহ এবং সুন্নাহ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী ও সকল বিষয়ে খবর রাখেন।
নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়ী পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, ছিয়াম পালনকারী পুরুষ ও নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, এদের জন্য আল্লাহ প্রস্ত্তত রেখেছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফায়ছালা দিলে কোন মুমিন পুরুষ বা নারীর সে বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোন ফায়ছালা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে, সে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে পতিত হয়।
আর (স্মরণ কর), যখন তুমি বলছিলে ঐ ব্যক্তিকে, যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন (ইসলামের দ্বারা) এবং তুমি তাকে অনুগ্রহ করেছ (দাসমুক্তি দ্বারা), তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর তুমি তোমার অন্তরে লুকিয়ে রেখেছিলে এমন বস্ত্ত যা আল্লাহ প্রকাশ করে দিবেন। তুমি মানুষকে ভয় করছ। অথচ আল্লাহই হ’লেন ভয় করার সর্বাধিক হকদার। অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর নিকট থেকে তার প্রয়োজন পূর্ণ করল, আমরা তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিলাম। যাতে মুমিনদের মধ্যে কোন সংকোচ না থাকে তাদের পালকপুত্রদের স্ত্রীদের বিবাহ করায়, যখন তারা তাদের কাছ থেকে প্রয়োজন পূর্ণ করে নেয়। আর আল্লাহ্র আদেশ তো কার্যকর হয়েই থাকে।
আল্লাহ স্বীয় নবীর জন্য যা নির্ধারণ করেন, তা করায় তার কোন দোষ নেই। পূর্ববর্তী নবীগণের জন্যও এটাই ছিল আল্লাহ্র রীতি। বস্ত্তত আল্লাহ্র আদেশ সুনির্ধারিত।
যারা আল্লাহ্র রিসালাত প্রচার করত ও তাঁকে ভয় করত। আল্লাহ ব্যতীত তারা অন্য কাউকে ভয় করত না। আর হিসাব গ্রহণের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
মুহাম্মাদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহ্র রাসূল ও শেষনবী। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ কর
এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর।
তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের জন্য রহমত প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকার হ’তে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য। বস্ত্তত আল্লাহ ঈমানদারগণের প্রতি অতীব দয়ালু।
যেদিন তারা আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে, সেদিন তাদের প্রতি তাঁর সম্ভাষণ হবে ‘সালাম’। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্ত্তত রেখেছেন উত্তম প্রতিদান।
হে নবী! নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে প্রেরণ করেছি, সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে।
আর আল্লাহ্র দিকে আহবানকারীরূপে তাঁর অনুমতিক্রমে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ রূপে।
তুমি মুমিনদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মহা অনুগ্রহ।
আর তুমি কাফের ও মুনাফিকদের অনুসরণ করো না। তাদের দেওয়া কষ্টসমূহ উপেক্ষা কর এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা কর। বস্ত্তত কর্মবিধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিবাহ করবে; অতঃপর তাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের উপর কোন ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। অতএব তাদেরকে কিছু সম্পদ দিবে ও সুন্দরভাবে বিদায় করবে।
হে নবী! আমরা তোমার জন্য হালাল করেছি তোমার স্ত্রীদের, যাদেরকে তুমি মোহর দিয়েছ এবং ঐসব দাসীদের, যাদেরকে আল্লাহ তোমার জন্য ‘ফাই’ (যুদ্ধ বন্দীনী) হিসাবে প্রদান করেছেন। আর তোমার চাচাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন ও খালাতো বোনকে, যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে। আর ঐ মুমিন নারীকে, যে নিজেকে নবীর জন্য পেশ করে, যদি নবী তাকে বিয়ে করতে চান। এটি কেবল তোমার জন্য খাছ, অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আমরা অবশ্যই জানি যা আমরা তাদের জন্য নির্ধারিত করেছি স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী হিসাবে। যাতে তোমার কোন সংকোচ না থাকে। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
এদের মধ্যে তুমি যাকে চাও দূরে রাখ ও যাকে চাও কাছে রাখ। আর যাকে তুমি দূরে রেখেছিলে তাকে কাছে আনার কামনা করায় তোমার কোন দোষ নেই। এটাই সবচেয়ে নিকটবর্তী যে, এতে তাদের চক্ষু শীতল হবে। তারা দুঃখিত হবেনা এবং তুমি তাদেরকে যা (সময়) দিবে, তাতে তারা প্রত্যেকে খুশী হবে। আল্লাহ জানেন তোমাদের অন্তরে যা আছে। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সহনশীল।
এরপর তোমার জন্য কোন নারী বৈধ হবে না এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণও বৈধ হবে না। যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে বিমোহিত করে। তবে তোমার মালিকানাধীন দাসীরা ব্যতীত। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছুর উপরে পর্যবেক্ষক।
হে ঈমানদারগণ! অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা নবীর গৃহ সমূহে প্রবেশ করো না তোমাদের খাওয়ার জন্য আহার্য প্রস্ত্ততির অপেক্ষা না করে। তবে যখন তোমাদের ডাকা হবে, তখন প্রবেশ করো। অতঃপর খাওয়া শেষে বেরিয়ে পড়ো। অহেতুক গল্প-গুজবে রত হয়োনা। এটি নবীকে কষ্ট দেয়। কিন্তু তিনি তোমাদের কিছু বলতে লজ্জা পান। অথচ আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না। আর তোমরা তাঁর স্ত্রীদের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রতার কারণ। আর তোমাদের জন্য সঙ্গত নয় আল্লাহ্র রাসূলকে কষ্ট দেওয়া। আর তাঁর (মৃত্যুর পর) তোমরা তাঁর স্ত্রীদের কখনোই বিবাহ করোনা। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহ্র নিকটে মহাপাপ।
তোমরা কোন কিছু প্রকাশ কর বা গোপন কর, আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত।
নবী পত্নীগণের জন্য তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনীপুত্র, মুমিনা নারী ও তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সামনে যাওয়ায় কোন দোষ নেই। (হে নবী পত্নীগণ!) তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকল বিষয়ের উপর সাক্ষী রয়েছেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ স্বীয় নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফেরেশতারা নবীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি যথাযথভাবে দরূদ ও সালাম প্রেরণ কর।
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে লা‘নত করেন। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্ত্তত রেখেছেন হীনকর শাস্তি।
যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয় কোনরূপ অপরাধ না করা সত্ত্বেও, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের স্ত্রীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের বড় চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং মদীনায় গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তাহ’লে আমরা অবশ্যই তোমাকে তাদের উপর বিজয়ী করব। অতঃপর তারা এই নগরীতে তোমার প্রতিবেশী থাকবে না কিছু সময় ব্যতীত,
অভিশপ্ত অবস্থায়। যেখানেই তাদেরকে পাওয়া যাবে সেখানেই ধরা হবে এবং টুকরা টুকরা করে হত্যা করা হবে।
এটাই ছিল তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্র রীতি, যারা ইতিপূর্বে গত হয়ে গেছে। আর তুমি আল্লাহ্র রীতিতে কখনো ব্যতিক্রম পাবে না।
লোকেরা তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও এর জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে। আর কিভাবে তুমি জানবে যে, অবশ্যই ক্বিয়ামত নিকটবর্তী?
নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের লা‘নত করেছেন এবং তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্ত্তত করে রেখেছেন।
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং সেখানে তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
যেদিন তাদেরকে উপুড়মুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! যদি আমরা আল্লাহ্র আনুগত্য করতাম ও রাসূলের আনুগত্য করতাম!
আর তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করতাম। অতঃপর তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।
হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে তুমি দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদেরকে তুমি কঠিন লা‘নৎ কর।
হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাকে তা থেকে মুক্ত করেন যা তারা রটনা করেছিল। বস্ত্তত সে ছিল আল্লাহ্র নিকট মর্যাদাবান।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।
তাহ’লে তিনি তোমাদের কর্মসমূহকে সংশোধন করে দিবেন ও তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করে।
আমরা আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালার নিকটে এই (দ্বীনের) আমানত পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা তা বহনে অস্বীকার করল এবং এ থেকে ভীত হ’ল। অথচ মানুষ তা বহন করে নিল। নিশ্চয়ই সে অতিশয় যালেম ও অজ্ঞ।
যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারীদের এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদের শাস্তি দিতে পারেন। আর মুমিন পুরুষ ও নারীদের ক্ষমা করেন। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।