بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম র। এগুলি হ’ল প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত।
এটা কি লোকদের জন্য বিস্ময়কর হয়েছে যে, আমরা তাদেরই মধ্যকার একজন ব্যক্তির নিকট প্রত্যাদেশ করেছি যে, তুমি লোকদের (জাহান্নাম থেকে) সতর্ক কর এবং বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে যথার্থ মর্যাদার স্থান। (অথচ) অবিশ্বাসীরা বলে, নিশ্চয়ই এ লোকটি একজন প্রকাশ্য জাদুকর।
নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হ’লেন আল্লাহ, যিনি ছয় দিন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে উন্নীত হয়েছেন। তিনি কর্ম সমূহ পরিচালনা করেন। কোন সুফারিশকারী নেই তাঁর অনুমতি ব্যতীত। তিনিই আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এরপরেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
তাঁরই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন। যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা অবিশ্বাসী তাদের জন্য রয়েছে উত্তপ্ত পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের অবিশ্বাসের প্রতিফল হিসাবে।
তিনিই সেই সত্তা, যিনি সূর্যকে করেছেন কিরণময় ও চন্দ্রকে করেছেন জ্যোতির্ময় এবং ওর গতির জন্য নির্ধারণ করেছেন কক্ষ সমূহ। যাতে তোমরা বছরের গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এগুলিকে সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি নিদর্শন সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন বিজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য।
নিশ্চয়ই রাত্রি ও দিবসের আবর্তন-বিবর্তনে এবং আকাশে ও পৃথিবীতে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, সেসবের মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে আল্লাহভীরু সম্প্রদায়ের জন্য।
নিশ্চয়ই যারা আমাদের সাথে সাক্ষাতের আশা করে না এবং পার্থিব জীবন নিয়ে তৃপ্ত থাকে ও তার মধ্যেই নিশ্চিন্ত হয় এবং যারা আমাদের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে উদাসীন থাকে;
সেসব লোকদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল হিসাবে।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদের প্রতিপালক তাদেরকে তাদের ঈমানের মাধ্যমে নে‘মতপূর্ণ জান্নাত সমূহের দিকে পরিচালিত করেন। যেসবের তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত।
সেখানে তাদের প্রার্থনা হবে, ‘মহা পবিত্র তুমি হে আল্লাহ’ এবং পরস্পরের সম্ভাষণ হবে ‘সালাম’। আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হবে ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বচরাচরের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য’।
আর যদি আল্লাহ মানুষের প্রতি অকল্যাণকে ত্বরান্বিত করতেন, যেমনটি তারা কল্যাণকে দ্রুত চায়, তাহ’লে অবশ্যই তাদের আয়ুষ্কালের ফায়ছালা হয়ে যেত। সেকারণ যারা আমাদের সাক্ষাৎ কামনা করেনা তাদেরকে আমরা তাদের অবাধ্যতায় ছেড়ে দেই, যার মধ্যে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকে।
আর যখন মানুষকে কোন কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাদের ডাকতে থাকে। অতঃপর যখন আমরা তার কষ্ট দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলে যেন সে কখনোই কোন কষ্টের কারণে আমাদের ডাকেনি যা তাকে স্পর্শ করেছিল। এভাবেই সীমালংঘনকারীদের নিকট তাদের কৃতকর্মকে শোভনীয় করে দেওয়া হয়।
নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের পূর্বের বহু জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা সীমালংঘন করেছিল। অথচ তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন সমূহ নিয়ে তাদের রাসূলগণ এসেছিল। কিন্তু তারা ঈমান আনার মত লোক ছিল না। এভাবেই আমরা অপরাধী সম্প্রদায়কে বদলা দিয়ে থাকি।
অতঃপর আমরা তোমাদেরকে তাদের পরে যমীনে স্থলাভিষিক্ত করলাম। যাতে দেখতে পারি তোমরা কিভাবে কাজ কর।
আর যখন তাদের উপর আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করে না তারা বলে, এটা বাদ দিয়ে অন্য কুরআন নিয়ে এস অথবা এটাকে পরিবর্তন করে আনো। তুমি বল, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তন করা আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার নিকট অহি করা হয়। আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তাহ’লে আমি এক ভয়াবহ দিবসের শাস্তির ভয় করি।
তুমি বল, যদি আল্লাহ চাইতেন তাহ’লে না আমি তোমাদের নিকট এটি পাঠ করতাম, না তিনি তোমাদেরকে এটি (আমার মাধ্যমে) জানাতেন। তাছাড়া ইতিপূর্বে আমি তোমাদের নিকট জীবনের একটা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি। এরপরেও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?
অতএব তার চেয়ে বড় যালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ্র উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং তাঁর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে? নিশ্চয়ই পাপীরা সফলকাম হয় না।
আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন সব বস্ত্তর উপাসনা করে, যা তাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না। অথচ তারা বলে এরা আল্লাহ্র নিকট আমাদের জন্য সুফারিশকারী। বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহকে আসমান ও যমীনের সেইসব বিষয় জানাতে চাও, যা তিনি জানেন না? তারা যেসব বস্ত্তকে শরীক করে, সেসব থেকে তিনি পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে।
আর সকল মানুষ এক উম্মত ব্যতীত ছিল না। অতঃপর তারা মতভেদ করে। অতএব যদি তোমার প্রভুর বাণী পূর্ব থেকেই নির্ধারিত না থাকত, তাহ’লে অবশ্যই তাদের মধ্যে ফায়ছালা হয়ে যেত যেসব বিষয়ে তারা মতভেদ করে।
আর তারা বলে কেন তার উপরে তার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না। বলে দাও, অদৃশ্য বিষয় তো কেবল আল্লাহ্রই অধিকারে। অতএব তোমরা অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
আর যখন আমরা মানুষকে কষ্টের পর রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা আমাদের আয়াতসমূহে চক্রান্ত শুরু করে। বলে দাও, আল্লাহ আরও দ্রুত তোমাদের চক্রান্তের বদলা নিতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা তোমাদের সমস্ত চক্রান্ত লিপিবদ্ধ করছে।
তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে ভ্রমণ করান। এভাবে যখন তোমরা নৌযানে থাক এবং অনুকূল আবহাওয়ায় সেগুলি তাদের নিয়ে চলতে থাকে ও তারা তাতে উৎফুল্ল হয়, হঠাৎ প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবায়ু তাদের গ্রাস করে ও চারিদিক থেকে বড় বড় ঢেউ আসতে থাকে। আর তারা ধারণা করে যে, তারা ঢেউয়ের দ্বারা বেষ্টিত হয়ে গেছে, তখন তারা একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে আল্লাহকে ডাকতে থাকে; যদি তুমি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার কর, তাহ’লে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।
অতঃপর যখন আল্লাহ তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখন তারা জনপদে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ শুরু করে দেয়। অথচ হে মানুষ! তোমাদের বিদ্রোহ তোমাদের জন্যই ক্ষতিকর। যা কেবল পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্ত্ত। অতঃপর আমাদের কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমরা তোমাদেরকে তোমাদের সকল কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করব।
পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির পানির মত বৈ কিছু নয়, যা আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি। অতঃপর যমীনের উদ্ভিদ সমূহ তার সাথে মিশ্রিত হয়, যা থেকে মানুষ ও গবাদিপশু ভক্ষণ করে। অবশেষে যখন যমীন শস্য-শ্যামল ও সুশোভিত হয় এবং ক্ষেতের মালিক মনে করে যে, এবার তারা ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবে, এমন সময় হঠাৎ রাত্রিতে বা দিনের বেলায় ঐ ক্ষেতের উপর আমাদের (শাস্তির) নির্দেশ এসে যায়। অতঃপর সেটিকে আমরা খড়-কুটোয় পরিণত করে ফেলি। যেন গতকাল সেখানে কিছুই ছিল না। এভাবে আমরা আয়াতসমূহকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
আল্লাহ শান্তি নিবাসের (জান্নাতের) দিকে আহবান জানান। আর তিনি যাকে চান সরল পথ প্রদর্শন করেন।
যারা সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত ও আরও কিছু অতিরিক্ত। তাদের চেহারা সমূহকে মলিনতা ও হীনতা আচ্ছন্ন করবে না। তারা হ’ল জান্নাতের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
পক্ষান্তরে যারা মন্দ কাজ করে, তাদের মন্দের পরিণাম তদ্রুপই হবে। অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহ্র শাস্তি থেকে তাদের বাঁচাবার কেউ নেই। যেন তাদের চেহারা সমূহকে ঘোর অন্ধকার রাত্রির টুকরা দিয়ে আচ্ছন্ন করে ফেলা হয়েছে। এরা হ’ল জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।
আর (স্মরণ কর,) যেদিন আমরা তাদের সবাইকে একত্রিত করব। অতঃপর মুশরিকদের বলব, তোমরা ও তোমাদের শরীকরা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করো। অতঃপর আমরা তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক ছিন্ন করে দেব। তখন তাদের শরীকরা বলবে, তোমরা তো আমাদের পূজা করতে না।
আর এ ব্যাপারে আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট যে, আমরা তোমাদের পূজা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
সেখানে তারা প্রত্যেকে যাচাই করবে তাদের পূর্বে কৃত আমল সমূহ। অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ্র নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর যেসব মিথ্যা উপাস্য তারা সাব্যস্ত করেছিল সবই তাদের থেকে হারিয়ে যাবে।
তুমি বল, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক পৌঁছে দেন। কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? কে জীবিতকে মৃত হ’তে এবং মৃতকে জীবিত হ’তে বের করে আনেন? আর কে সবকিছু পরিচালনা করেন? তখন নিশ্চয়ই তারা বলবে, আল্লাহ। অতএব তুমি বল, এর পরেও কি তোমরা তাঁকে ভয় করবে না?
সুতরাং তিনিই আল্লাহ; তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। এক্ষণে সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কি থাকে? অতঃপর তোমরা (আল্লাহকে ছেড়ে) কোথায় চালিত হচ্ছ?
এইভাবে অবাধ্যদের ব্যাপারে তোমার প্রভুর বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
বল, তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে প্রথমবার সৃষ্টি করতে পারে? অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করতে পারে? বল, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন। অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন। অতএব তোমরা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছ?
বল, তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে সত্যের পথ প্রদর্শন করতে পারে? বলে দাও, আল্লাহই সত্যের পথ প্রদর্শন করেন। অতএব যিনি সত্যের দিকে পরিচালিত করেন তিনি অনুসরণযোগ্য, নাকি যে অন্যের পথ দেখানো ছাড়া নিজে পথ খুঁজে পায় না, সেই-ই অনুসরণযোগ্য? অতঃপর তোমাদের কি হ’ল? তোমরা কিরূপ সিদ্ধান্ত নিচ্ছ?
ওদের অধিকাংশ কেবল ধারণার অনুসরণ করে। অথচ সত্যের মুকাবিলায় ধারণা কোন কাজে আসে না। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ সবকিছু জানেন।
আর এই কুরআন এমন নয় যে, তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারু কাছ থেকে রচিত হয়েছে। বরং এটি পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী এবং বিধান সমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দানকারী। যাতে কোন সন্দেহ নেই। যা বিশ্ব চরাচরের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে আগত।
তারা কি বলে যে, এটি সে (মুহাম্মাদ) নিজেই রচনা করেছে? তুমি বল, বেশ তাহ’লে তোমরা এর মত একটি সূরা তৈরী করে আনো। আর আল্লাহ ব্যতীত যাকে পারো ডেকে নিয়ে আস। যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্যবাদী হও। (চ্যালেঞ্জ-২)
বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, যে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং যার কোন ব্যাখ্যাও তাদের কাছে আসেনি। এমনিভাবে তাদের পূর্বের লোকেরাও মিথ্যারোপ করেছিল। অতএব তুমি দেখ ঐসব যালেমদের পরিণতি কিরূপ হয়েছিল।
আর ওদের মধ্যে কেউ এর (কুরআনের) প্রতি ঈমান আনবে, কেউ আনবে না। বস্ত্তত তোমার প্রতিপালক বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালভাবে জানেন।
আর যদি ওরা তোমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে তাহ’লে তুমি বল, আমার কর্ম আমার এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের। আমি যা করি তা থেকে তোমরা দায়মুক্ত। আর তোমরা যা কর, তা থেকে আমি দায়মুক্ত।
তাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা তোমার কথা কান লাগিয়ে শোনে (কিন্তু মানে না)। তাহ’লে তুমি কি বধিরকে শোনাবে, যদিও তারা কিছুই না বুঝে?
তাদের মধ্যে অনেকে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাহ’লে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে, যদিও তারা না দেখে?
বস্ত্তত আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনরূপ যুলুম করেন না। কিন্তু মানুষ নিজেরা নিজেদের উপর যুলুম করে।
আর যেদিন তিনি তাদের একত্রিত করবেন (সেদিন তারা মনে করবে), যেন তারা পৃথিবীতে কেবল দিনের একটা মুহূর্ত অবস্থান করেছিল। সেদিন তারা পরস্পরকে চিনবে। নিশ্চয়ই সেদিন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা আল্লাহ্র সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলেছিল এবং যারা সুপথপ্রাপ্ত ছিল না।
আর আমরা তাদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা করেছি, তার কিয়দংশ যদি (দুনিয়াতে) তোমাকে দেখাই অথবা তোমাকে (তাদের পূর্বে) মৃত্যু দান করি, উভয় অবস্থাতেই তাদেরকে আমাদের কাছে ফিরে আসতে হবে। এরপরেও আল্লাহ থাকবেন তাদের সকল কৃতকর্মের সাক্ষী।
প্রত্যেক উম্মতের জন্য রাসূল আছে। অতঃপর যখন (ক্বিয়ামতের দিন) তাদের সেই রাসূল এসে যাবে, তখন তাদের মধ্যে ন্যায্য ফায়ছালা করা হবে এবং তারা আদৌ অত্যাচারিত হবে না।
আর তারা বলে, কখন সেই ওয়াদা (ক্বিয়ামত) আসবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও!
বল, আমি আমার নিজের ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই, যতটুকু আল্লাহ চান ততটুকু ব্যতীত। প্রত্যেক উম্মতের একটা মেয়াদ আছে। যখন তাদের সেই মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা তাকে এক মুহূর্ত পিছাতেও পারবে না, আগাতেও পারবে না।
বলে দাও, তোমরা কি মনে কর, যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের নিকট রাত্রিতে বা দিনের বেলায় এসে পড়ে, তাতে পাপীদের ব্যস্ত হবার কি আছে?
তাহ’লে কি পরে যখন শাস্তি এসে পড়বে তখন তোমরা নবীর উপরে ঈমান আনবে? আর বলা হবে, এখন? অথচ তোমরা এই শাস্তির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলে।
অতঃপর কাফেরদের বলা হবে, চিরস্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো। তোমরা তো কেবল তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করছ।
তারা তোমার কাছে জানতে চায় (ক্বিয়ামতের) ঐ শাস্তি কি সত্য? তুমি বল, হ্যাঁ; আমার প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই ওটা সত্য। আর তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না।
আর যদি প্রত্যেক যালেমের নিকট দুনিয়া ভর্তি সম্পদ থাকে। তবে অবশ্যই সে তার বিনিময়ে নিজেকে বাঁচাতে চাইবে। আর যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা (অবিশ্বাসের) লজ্জা গোপন করতে চাইবে। নিঃসন্দেহে তাদের ন্যায্য ফায়ছালা করা হবে এবং তারা আদৌ অত্যাচারিত হবে না।
মনে রেখ, নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্র। মনে রেখ, আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানে না।
তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন এবং তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
হে মানবজাতি! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে এসে গেছে উপদেশবাণী (কুরআন) এবং অন্তরের ব্যাধিসমূহের উপশম। আর বিশ্বাসীদের জন্য পথ প্রদর্শক ও রহমত।
বল, আল্লাহ্র এই দান ও তার অনুগ্রহের কারণে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। এটি সবকিছু থেকে উত্তম যা তারা সঞ্চয় করে।
তুমি বল, এ বিষয়ে তোমাদের বক্তব্য কি, যেসব জীবিকা আল্লাহ তোমাদের জন্য নাযিল করেছেন, তোমরা তাতে হারাম ও হালাল নির্ধারণ করেছ। তুমি বল, এটা করার জন্য কি আল্লাহ তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করছ?
আর যারা আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে, পুনরুত্থান দিবস সম্পর্কে তাদের ধারণা কি? বাস্তবিকই আল্লাহ মানুষের প্রতি অতীব অনুগ্রহপরায়ণ। কিন্তু তাদের অধিকাংশ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
আর যে অবস্থায় তুমি থাক না কেন, কিংবা যে প্রেক্ষিতে তুমি কুরআনের কোন অংশ পাঠ কর না কেন এবং যে কাজই তোমরা কর না কেন, আমরা সেখানে হাযির থাকি যখন তোমরা সে কাজে রত হও। বস্ত্তত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের এক কণা পরিমাণও তোমার প্রতিপালকের অগোচরে নেই। তার চাইতে ছোট বা বড় সকল বস্ত্তই স্পষ্ট কিতাবে (লওহে মাহফূযে) লিপিবদ্ধ রয়েছে।
মনে রেখ (আখেরাতে) আল্লাহ্র বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
যারা ঈমান আনে ও সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে।
তাদের জন্যই সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহ্র বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই। আর (মুমিনের জন্য) এটাই হ’ল বড় সফলতা।
তাদের কথাসমূহ যেন তোমাকে দুঃখিত না করে। নিশ্চয়ই সকল সম্মান কেবল আল্লাহ্রই জন্য। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন।
মনে রেখ, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ্র। আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে শরীকদের আহবান করে, তারা কিছুরই অনুসরণ করে না। তারা কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।
তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য রাত্রি সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পার এবং দিবস সৃষ্টি করেছেন আলোকিত রূপে। এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে তাদের জন্য, যারা (মন দিয়ে) কথা শোনে।
তারা বলে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, (অথচ এসব থেকে) তিনি পবিত্র। তিনি অভাবমুক্ত। আসমান ও যমীনের সবকিছু তাঁরই। তাঁর সন্তান গ্রহণের বিষয়ে তোমাদের নিকট কোন প্রমাণ আছে কি? নাকি তোমরা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে এমন কথা বলছ, যে বিষয়ে তোমরা জানো না।
তুমি বল, যারা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যারোপ করে, তারা সফলকাম হবে না।
এসব দুনিয়ার ভোগ্যবস্ত্ত মাত্র। অতঃপর আমাদের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তাদের কুফরীর বদলা হিসাবে আমরা তাদেরকে কঠিন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো।
আর তুমি তাদের নিকট নূহের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, হে আমার জাতি! যদি তোমাদের কাছে আমার অবস্থান ও আল্লাহ্র আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান ভারী মনে হয়, তাহ’লে আমি আল্লাহ্র উপর ভরসা করলাম। এখন তোমরা তোমাদের সকল শক্তি এবং তোমাদের শরীকদের একত্রিত কর। যাতে তোমাদের সেই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের কারু কাছে কোনরূপ অস্পষ্টতা না থাকে। অতঃপর তোমরা আমার ব্যাপারে ফায়ছালা করে ফেল এবং আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না।
এরপরেও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহ’লে মনে রেখ, আমি তোমাদের কাছে কোনরূপ বিনিময় চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহ্র নিকটেই রয়েছে। আর আমি তো আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।
এরপরেও তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ফলে আমরা তাকে ও তার সাথে যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে (প্লাবনের গযব থেকে) উদ্ধার করলাম ও তাদেরকে (ধ্বংসপ্রাপ্তদের) স্থলাভিষিক্ত করলাম। আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছিল, তাদেরকে আমরা ডুবিয়ে মারলাম। অতএব তুমি দেখ তাদের পরিণতি কেমন হয়েছিল যাদেরকে (আগেই) সতর্ক করা হয়েছিল।
অতঃপর আমরা তার পরে অন্যান্য নবীদের স্ব স্ব কওমের প্রতি প্রেরণ করলাম। তারা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল। কিন্তু তারা এমন ছিলনা যে, বিশ্বাস স্থাপন করবে, যে বিষয়ে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল। এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দেই।
অতঃপর আমরা তাদের পরে মূসা ও হারূণকে আমাদের নিদর্শনাবলীসহ ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরণ করি। কিন্তু তারা দম্ভ করল। বস্ত্তত তারা ছিল পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়।
অতঃপর যখন তাদের নিকট আমাদের পক্ষ হ’তে সত্য সমাগত হ’ল, তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই এটি প্রকাশ্য জাদু।
মূসা বলল, তোমাদের কাছে যখন সত্য এসে গেল, তখন তোমরা সে বিষয়ে এরূপ কথা বললে? এটা কি জাদু? অথচ জাদুকররা কখনো সফলকাম হয় না।
তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে আমাদের বাপ-দাদাদের রীতি থেকে সরিয়ে নেবার জন্য এসেছ? যাতে এদেশে তোমাদের দু’ভাইয়ের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা তোমাদের দু’জনের প্রতি কখনো বিশ্বাস স্থাপন করব না।
আর ফেরাঊন বলল, তোমরা আমার কাছে সমস্ত বিজ্ঞ জাদুকরদের হাযির কর।
অতঃপর যখন জাদুকররা এল, তখন মূসা তাদের বলল, তোমরা নিক্ষেপ কর যা তোমরা নিক্ষেপ করতে চাও।
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বলল, তোমরা যা এনেছ সবই তো জাদু। নিশ্চয়ই আল্লাহ এখুনি একে বাতিল করে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কোন কাজ সুসম্পন্ন হ’তে দেন না।
আর আল্লাহ স্বীয় নির্দেশ দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। যদিও পাপীরা তা অপসন্দ করে।
বস্ত্তত ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গের নির্যাতনের ভয়ে তার (ফেরাঊনের) সম্প্রদায়ের কিছু লোক ব্যতীত কেউ মূসার প্রতি (প্রকাশ্যে) ঈমান আনেনি। আর ফেরাঊন তার দেশে ছিল পরাক্রান্ত এবং সে ছিল সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আর মূসা বলল, হে আমার কওম! যদি তোমরা আল্লাহ্র উপর ঈমান এনে থাক, তাহ’লে তার উপরেই তোমরা ভরসা কর। যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হয়ে থাক।
তারা বলল, আললাহ্র উপরে আমরা ভরসা করলাম হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে এই অত্যাচারী সম্প্রদায়ের ফিৎনায় নিক্ষেপ করো না।
এবং আমাদেরকে তোমার অনুগ্রহে অবিশ্বাসী সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দাও।
আর আমরা মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি নির্দেশ পাঠালাম যে, তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিসরের বাসস্থানগুলি আঁকড়ে থাক এবং তোমাদের গৃহগুলিকে ক্বিবলা বানাও ও সেখানে ছালাত আদায় কর। আর তুমি মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
মূসা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনের জাঁকজমক ও সম্পদরাজি দান করেছ, হে আমাদের প্রতিপালক! যা দিয়ে তারা লোকদেরকে তোমার রাস্তা থেকে বিচ্যুত করে। অতএব হে আমাদের প্রভু! তুমি ওদের সম্পদরাজি ধ্বংস করে দাও এবং ওদের অন্তরগুলিকে শক্ত করে দাও যাতে ওরা ঈমান আনতে না পারে যতক্ষণ না ওরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
আল্লাহ বললেন, তোমাদের উভয়ের প্রার্থনা কবুল করা হ’ল। অতএব তোমরা অবিচল থাকো এবং অবশ্যই তোমরা অজ্ঞদের পথে চলো না।
আর আমরা বনু ইস্রাঈলদের সাগর পার করে দিলাম। অতঃপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল ফেরাঊন ও তার সেনাবাহিনী হঠকারিতা ও বাড়াবাড়ি বশে। তারপর যখন সে ডুবতে লাগল তখন বলে উঠল, আমি ঈমান আনলাম যে, কোন উপাস্য নেই তিনি ব্যতীত যার উপরে বনু ইস্রাঈলরা ঈমান এনেছে। আর আমি তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
(আল্লাহ বললেন) এখন! অথচ ইতিপূর্বে তুমি অবাধ্যতা করেছিলে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
অতএব আজ আমরা তোমার দেহকে (বিনষ্ট হওয়া থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম। যাতে তোমার পরবর্তীদের জন্য তুমি নিদর্শন হ’তে পার। বস্ত্তত বহু লোক এমন রয়েছে যারা আমাদের নিদর্শন সমূহের ব্যাপারে উদাসীন।
বস্ত্তত আমরা বনু ইস্রাঈলদের উত্তম বাসস্থান দিয়েছিলাম ও পবিত্র বস্ত্ত সমূহ দ্বারা রিযিক প্রদান করেছিলাম। কিন্তু তারা মতভেদ করেনি, যতক্ষণ না তাদের কাছে ইলম (কুরআন) এসে গেল। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ক্বিয়ামত দিবসে তাদের মতভেদের বিষয়ে ফায়ছালা করবেন।
অতঃপর যদি তুমি সন্দেহে পতিত হও যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, তাহ’লে তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর যারা তোমার পূর্বেকার কিতাব পাঠ করে। নিঃসন্দেহে তোমার নিকট তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে সত্য এসে গেছে। অতএব তুমি অবশ্যই সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আর তুমি ঐসব লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে। তাহ’লে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
নিশ্চয়ই যাদের ব্যাপারে তোমার প্রতিপালকের বাণী নির্ধারিত হয়ে গেছে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
যদিও তাদের নিকট সমস্ত নিদর্শন এসে যায়। এমনকি যদি তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিও প্রত্যক্ষ করে।
অতএব কোন জনপদ কেন এমনটি হ’ল না, যারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো ইউনুসের সম্প্রদায়ের মতো? যখন তারা ঈমান আনল, তখন আমরা তাদের উপর থেকে পার্থিব জীবনের লাঞ্ছনাকর শাস্তি উঠিয়ে নিলাম এবং তাদেরকে আমরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগের সুযোগ দিলাম।
যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন, তাহ’লে পৃথিবীর সকল মানুষই ঈমান আনত। তবে কি তুমি লোকদের উপর যবরদস্তি করতে চাও যাতে তারা সবাই ঈমানদার হয়?
বস্ত্তত আল্লাহ্র হুকুম ব্যতীত কেউ ঈমান আনতে পারে না। আর তিনি (কুফরীর) অপবিত্রতা আরোপ করেন ঐসব লোকদের উপর যারা নির্বোধ।
বলে দাও, তোমরা দেখ নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আল্লাহ্র কত নিদর্শন রয়েছে। বস্ত্তত অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন ও সতর্কবাণী সমূহ কোন কাজে আসে না।
তবে তারা কি এখন (শাস্তির) অপেক্ষায় আছে তাদের পূর্বেকার লোকদের মন্দ পরিণতির ন্যায়? তুমি বলে দাও, তোমরা অপেক্ষায় থাক। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
অতঃপর যেভাবে আমরা রক্ষা করেছি আমাদের রাসূলদের ও মুমিনদের; সেভাবেই আমাদের কর্তব্য হ’ল মুমিনদের রক্ষা করা।
তুমি বল, হে লোকসকল! যদি তোমরা আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান থাক, তবে জেনে রাখ আমি তাদের ইবাদত করিনা তোমরা যাদের ইবাদত কর আল্লাহকে ছেড়ে। বরং আমি আল্লাহ্র ইবাদত করি যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।
আর তুমি তোমার চেহারাকে এই দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখ এবং তুমি অবশ্যই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আর তুমি আল্লাহকে ছেড়ে এমন কাউকে আহবান করো না, যে তোমার কোন উপকার করতে পারে না বা কোন ক্ষতি করতে পারে না। যদি তুমি এরূপ কর, তাহ’লে তখন তুমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন কষ্টে নিপতিত করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার কোন কল্যাণ করতে চান, তবে তার অনুগ্রহকে ফিরিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। তিনি স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে যা চান তা দান করেন। বস্ত্তত তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তুমি বলে দাও, হে মানবজাতি! তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে সত্য এসে গেছে। অতঃপর যে ব্যক্তি সুপথপ্রাপ্ত হয়, সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই সুপথপ্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, তার অকল্যাণ তার উপরেই পতিত হয়। বস্ত্তত আমি তোমাদের উপর কর্মবিধায়ক নই।
আর তুমি তোমার নিকট প্রেরিত অহি-র অনুসরণ কর এবং ধৈর্যধারণ কর যতদিন না আল্লাহ কোন ফায়ছালা করেন। বস্ত্তত তিনিই সর্বোত্তম ফায়ছালাকারী।