২৫

সূরাঃ ফুরক্বান (পার্থক্যকারী)

মাক্কীমোট আয়াত ৭৭ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

تَبٰـرَكَ الَّذِىۡ نَزَّلَ الۡـفُرۡقَانَ عَلٰى عَبۡدِهٖ لِيَكُوۡنَ لِلۡعٰلَمِيۡنَ نَذِيۡرَاۙ

মহা পবিত্র তিনি যিনি স্বীয় বান্দার প্রতি ফায়ছালাকারী গ্রন্থ নাযিল করেছেন পর্যায়ক্রমে। যাতে সে জগদ্বাসীর জন্য সতর্ককারী হ’তে পারে।

اۨلَّذِىۡ لَهٗ مُلۡكُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ شَرِيۡكٌ فِى الۡمُلۡكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَىۡءٍ فَقَدَّرَهٗ تَقۡدِيۡرًا‏ 

যাঁর হাতে রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন না এবং তাঁর রাজত্বে কোন শরীক নেই। যিনি সমস্ত বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে যথাযথ পরিমিতি দান করেছেন।

وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اٰلِهَةً لَّا يَخۡلُقُوۡنَ شَيۡـًٔـا وَّهُمۡ يُخۡلَقُوۡنَ وَلَا يَمۡلِكُوۡنَ لِاَنۡفُسِهِمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا وَّلَا يَمۡلِكُوۡنَ مَوۡتًا وَّلَا حَيٰوةً وَّلَا نُشُوۡرًا‏

অবিশ্বাসীরা তাঁকে ছেড়ে অন্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে। যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। বরং তারাই সৃষ্ট। আর তারা নিজেদের ভাল-মন্দ কিছুই করতে পারেনা এবং তারা মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থান কোনটারই মালিক নয়।

وَقَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡۤا اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفۡكٌ اۨفۡتَـرٰٮهُ وَاَعَانَهٗ عَلَيۡهِ قَوۡمٌ اٰخَرُوۡنَۛۚ فَقَدۡ جَآءُوۡ ظُلۡمًا وَّزُوۡرًاۛۚ

অবিশ্বাসীরা বলে এ কুরআন মিথ্যা। যা সে (মুহাম্মাদ) উদ্ভাবন করেছে এবং তাকে (এটি রচনায়) সাহায্য করেছে অন্যেরা। এর ফলে তারা অবশ্যই অন্যায় ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।

وَقَالُوۡۤا اَسَاطِيۡرُ الۡاَوَّلِيۡنَ اكۡتَتَبَهَا فَهِىَ تُمۡلٰى عَلَيۡهِ بُكۡرَةً وَّاَصِيۡلًا‏

তারা বলে, এগুলি তো পুরাকালের কাহিনী, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে। যেগুলি সকাল-সন্ধ্যায় তার উপর আবৃত্তি করা হয়।

قُلۡ اَنۡزَلَهُ الَّذِىۡ يَعۡلَمُ السِّرَّ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ اِنَّهٗ كَانَ غَفُوۡرًا رَّحِيۡمًا‏

তুমি বল, এটি তিনিই নাযিল করেছেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য অবগত আছেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

وَقَالُوۡا مَالِ هٰذَا الرَّسُوۡلِ يَاۡكُلُ الطَّعَامَ وَيَمۡشِىۡ فِى الۡاَسۡوَاقِؕ لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡهِ مَلَكٌ فَيَكُوۡنَ مَعَهٗ نَذِيۡرًاۙ

তারা বলে, এ কেমন রাসূল যে, খাদ্য ভক্ষণ করে ও হাট-বাজারে যাতায়াত করে? কেন তার কাছে একজন ফেরেশতা নাযিল করা হ’ল না, যে তার সাথে থাকত সতর্ককারী রূপে?

اَوۡ يُلۡقٰٓى اِلَيۡهِ كَنۡزٌ اَوۡ تَكُوۡنُ لَهٗ جَنَّةٌ يَّاۡكُلُ مِنۡهَاؕ وَقَالَ الظّٰلِمُوۡنَ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسۡحُوۡرًا‏

অথবা কেন তাকে ধন-ভান্ডার নিক্ষেপ করা হ’ল না অথবা তাকে বাগিচা দান করা হ’ল না, যা থেকে তিনি ভক্ষণ করতেন? আর যালেমরা বলে, তোমরা তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ মাত্র।

اُنْظُرۡ كَيۡفَ ضَرَبُوۡا لَـكَ الۡاَمۡثَالَ فَضَلُّوۡا فَلَا يَسۡتَطِيۡعُوۡنَ سَبِيۡلاً‏

দেখ, তারা তোমার জন্য কত উপমাই না দিয়ে থাকে! অতএব তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। ফলে তারা আর সুপথ পেতে সক্ষম হবে না।

تَبٰـرَكَ الَّذِىۡۤ اِنۡ شَآءَ جَعَلَ لَكَ خَيۡرًا مِّنۡ ذٰ لِكَ جَنّٰتٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُۙ وَيَجۡعَلْ لَّكَ قُصُوۡرًا‏

বরকতময় তিনি, যিনি চাইলে তোমাকে ঐসবের চাইতে উত্তম বস্ত্ত দান করবেন। আর তা হ’ল জান্নাত। যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং তোমাকে দান করবেন প্রাসাদ সমূহ।

بَلۡ كَذَّبُوۡا بِالسَّاعَةِ​ وَاَعۡتَدۡنَا لِمَنۡ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيۡرًاۚ

বরং তারা ক্বিয়ামতকে অস্বীকার করে। আর যারা ক্বিয়ামতে মিথ্যারোপ করে, আমরা তাদের জন্য জ্বলন্ত হুতাশন প্রস্ত্তত করে রেখেছি।

اِذَا رَاَتۡهُمۡ مِّنۡ مَّكَانٍۢ بَعِيۡدٍ سَمِعُوۡا لَهَا تَغَيُّظًا وَّزَفِيۡرًا‏ 

যখন দূর থেকে জাহান্নাম তাদের দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে এর ক্রুদ্ধ গর্জন ও হুংকার।

وَاِذَاۤ اُلۡقُوۡا مِنۡهَا مَكَانًـا ضَيِّقًا مُّقَرَّنِيۡنَ دَعَوۡا هُنَالِكَ ثُبُوۡرًاؕ

আর যখন তাদেরকে বেড়ীবদ্ধ অবস্থায় ওর একটি সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, সেখানে তারা নিজেদের ধ্বংসকে আহবান করবে।

لَا تَدۡعُوا الۡيَوۡمَ ثُبُوۡرًا وَّاحِدًا وَّادۡعُوۡا ثُبُوۡرًا كَثِيۡرًا‏ 

(বলা হবে) আজ তোমরা কেবল একবার ধ্বংসকে আহবান করোনা, বরং বহুবার ধ্বংসকে আহবান করো।

قُلۡ اَذٰ لِكَ خَيۡرٌ اَمۡ جَنَّةُ الۡخُـلۡدِ الَّتِىۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَؕ كَانَتۡ لَهُمۡ جَزَآءً وَّمَصِيۡرًا‏

তুমি বল, ওটাই উত্তম না চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত উত্তম, যার ওয়াদা মুত্তাক্বীদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই হবে তাদের জন্য প্রতিদান ও ঠিকানা।

لَّهُمۡ فِيۡهَا مَا يَشَآءُوۡنَ خٰلِدِيۡنَؕ كَانَ عَلٰى رَبِّكَ وَعۡدًا مَّسۡـــُٔوۡلًا‏

সেখানে তারা যা চাইবে তাই পাবে চিরকাল। প্রার্থিত এই ওয়াদা পূরণ করা তোমার প্রতিপালকের উপর দায়িত্ব।

وَيَوۡمَ يَحۡشُرُهُمۡ وَمَا يَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ فَيَقُوۡلُ ءَاَنۡـتُمۡ اَضۡلَلۡـتُمۡ عِبَادِىۡ هٰٓؤُلَاۤءِ اَمۡ هُمۡ ضَلُّوا السَّبِيۡلَؕ

আর যেদিন আল্লাহ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তারা পূজা করত তাদেরকে। অতঃপর তিনি বলবেন, তোমরাই কি আমার এই বান্দাদের পথভ্রষ্ট করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছিল?

قَالُوۡا سُبۡحٰنَكَ مَا كَانَ يَنۢۡبَغِىۡ لَنَاۤ اَنۡ نَّـتَّخِذَ مِنۡ دُوۡنِكَ مِنۡ اَوۡلِيَآءَ وَ لٰـكِنۡ مَّتَّعۡتَهُمۡ وَاٰبَآءَهُمۡ حَتّٰى نَسُوا الذِّكۡرَۚ وَكَانُوۡا قَوۡمًۢا بُوۡرًا‏

তারা বলবে, আপনি পবিত্র। আপনাকে ছেড়ে অন্যকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা আমাদের জন্য উচিৎ ছিল না। কিন্তু আপনি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে ভোগ সম্ভার দান করেছিলেন। ফলে তারা আপনার স্মরণ ভুলে গিয়েছিল এবং তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়েছিল।

فَقَدۡ كَذَّبُوۡكُمۡ بِمَا تَقُوۡلُوۡنَۙ فَمَا تَسۡتَطِيۡعُوۡنَ صَرۡفًا وَّلَا نَـصۡرًاۚ وَمَنۡ يَّظۡلِمۡ مِّنۡكُمۡ نُذِقۡهُ عَذَابًا كَبِيۡرًا‏

অতঃপর (বলা হবে) তোমরা যা বলতে তোমাদের উপাস্যরা তাকে মিথ্যা বলছে। অতএব এখন তোমরা শাস্তি ঠেকাতে সক্ষম হবেনা এবং সাহায্যও পাবেনা। বস্ত্তত তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সীমালংঘন করবে, তাকে আমরা গুরুতর শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَكَ مِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَ اِلَّاۤ اِنَّهُمۡ لَيَاۡكُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَيَمۡشُوۡنَ فِى الۡاَسۡوَاقِؕ وَجَعَلۡنَا بَعۡضَكُمۡ لِبَعۡضٍ فِتۡنَةًؕ اَتَصۡبِرُوۡنَۚ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيۡرًا‏

তোমার পূর্বে আমরা এমন কোন রাসূল পাঠাইনি, যারা খাদ্য ভক্ষণ করেনি বা হাট-বাজারে যাতায়াত করেনি। আর আমরা তোমাদেরকে পরস্পরের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা ধৈর্যধারণ করবে কি? বস্ত্তত তোমার প্রতিপালক সবকিছু দেখছেন।

وَقَالَ الَّذِيۡنَ لَا يَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَيۡنَا الۡمَلٰٓٮِٕكَةُ اَوۡ نَرٰى رَبَّنَاؕ لَـقَدِ اسۡتَكۡبَرُوۡا فِىۡۤ اَنۡفُسِهِمۡ وَعَتَوۡ عُتُوًّا كَبِيۡرًا‏

আর যারা আমাদের সাক্ষাৎ কামনা করেনা তারা বলে, কেন আমাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল করা হয়না অথবা কেন আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখিনা? বস্ত্তত তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার লুকিয়ে রাখে এবং তারা গুরুতর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়।

يَوۡمَ يَرَوۡنَ الۡمَلٰٓٮِٕكَةَ لَا بُشۡرٰى يَوۡمَٮِٕذٍ لِّـلۡمُجۡرِمِيۡنَ وَ يَقُوۡلُوۡنَ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا‏

যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন পাপীদের জন্য কোন সুসংবাদ থাকবে না। আর তারা বলবে, বাঁচাও বাঁচাও!

وَقَدِمۡنَاۤ اِلٰى مَا عَمِلُوۡا مِنۡ عَمَلٍ فَجَعَلۡنٰهُ هَبَآءً مَّنۡثُوۡرًا‏ 

আর আমরা সেদিন তাদের কৃতকর্ম সমূহের দিকে মনোনিবেশ করব। অতঃপর সেগুলিকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।

اَصۡحٰبُ الۡجَنَّةِ يَوۡمَٮِٕذٍ خَيۡرٌ مُّسۡتَقَرًّا وَّاَحۡسَنُ مَقِيۡلًا‏ 

সেদিন জান্নাতীদের আবাসস্থল হবে উত্তম এবং বিশ্রামস্থল হবে অতীব মনোরম।

وَيَوۡمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالۡـغَمَامِ وَنُزِّلَ الۡمَلٰٓٮِٕكَةُ تَنۡزِيۡلًا‏ 

সেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের পর্যায়ক্রমে নামিয়ে দেওয়া হবে।

اَلۡمُلۡكُ يَوۡمَٮِٕذِ اۨلۡحَـقُّ لِلرَّحۡمٰنِؕ وَكَانَ يَوۡمًا عَلَى الۡكٰفِرِيۡنَ عَسِيۡرًا‏

সেদিন সত্যিকারের রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহ্র এবং অবিশ্বাসীদের জন্য দিনটি হবে বড়ই কঠিন।

وَيَوۡمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰى يَدَيۡهِ يَقُوۡلُ يٰلَيۡتَنِى اتَّخَذۡتُ مَعَ الرَّسُوۡلِ سَبِيۡلًا‏

যালেম সেদিন নিজের দু’হাত কামড়ে বলবে, হায়! যদি আমি (দুনিয়াতে) রাসূলের পথ অবলম্বন করতাম!

يٰوَيۡلَتٰى لَيۡتَنِىۡ لَمۡ اَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِيۡلًا‏

হায় দুর্ভোগ আমার! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!

لَقَدۡ اَضَلَّنِىۡ عَنِ الذِّكۡرِ بَعۡدَ اِذۡ جَآءَنِىۡؕ وَكَانَ الشَّيۡطٰنُ لِلۡاِنۡسَانِ خَذُوۡلًا‏

আমার কাছে উপদেশ (কুরআন) আসার পর সে আমাকে পথভ্রষ্ট করেছিল। বস্ত্তত শয়তান হ’ল মানুষের জন্য সত্যচ্যুতকারী।

وَقَالَ الرَّسُوۡلُ يٰرَبِّ اِنَّ قَوۡمِى اتَّخَذُوۡا هٰذَا الۡقُرۡاٰنَ مَهۡجُوۡرًا‏ 

সেদিন রাসূল বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার উম্মত এই কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।

وَكَذٰلِكَ جَعَلۡنَا لِكُلِّ نَبِىٍّ عَدُوًّا مِّنَ الۡمُجۡرِمِيۡنَؕ وَكَفٰى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَّنَصِيۡرًا‏

এভাবেই আমরা প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু নির্ধারণ করেছি। আর তোমার জন্য পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসাবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।

وَقَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَيۡهِ الۡـقُرۡاٰنُ جُمۡلَةً وَّاحِدَةًۛۚ كَذٰلِكَۛۚ لِنُثَبِّتَ بِهٖ فُـؤَادَكَ​ وَرَتَّلۡنٰهُ تَرۡتِيۡلًا‏ 

অবিশ্বাসীরা বলে, তার প্রতি কুরআন একসাথে নাযিল হ’ল না কেন? (হ্যাঁ) এভাবেই হয়েছে এবং আমরা তোমার উপর ধীরে ধীরে কুরআন নাযিল করেছি, যাতে তোমার হৃদয়কে আমরা এর মাধ্যমে অবিচল রাখতে পারি।

وَلَا يَاۡتُوۡنَكَ بِمَثَلٍ اِلَّا جِئۡنٰكَ بِالۡحَـقِّ وَاَحۡسَنَ تَفۡسِيۡرًاؕ

তারা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থাপন করেনি, যার সঠিক সমাধান ও সুন্দরতম ব্যাখ্যা আমরা তোমাকে দান করিনি।

اَلَّذِيۡنَ يُحۡشَرُوۡنَ عَلٰى وُجُوۡهِهِمۡ اِلٰى جَهَـنَّمَۙ اُولٰٓٮِٕكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضَلُّ سَبِيۡلًا‏

যাদেরকে মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামে একত্রিত করা হবে। তাদেরই আবাসস্থল সর্বাধিক নিকৃষ্ট এবং তারাই সর্বাধিক পথভ্রষ্ট।

وَلَقَدۡ اٰتَيۡنَا مُوۡسَى الۡكِتٰبَ وَجَعَلۡنَا مَعَهٗۤ اَخَاهُ هٰرُوۡنَ وَزِيۡرًاۖ ۚ

আর নিশ্চয়ই আমরা মূসাকে কিতাব (তাওরাত) প্রদান করেছিলাম এবং তার ভাই হারূণকে তার সাহায্যকারী করেছিলাম।

فَقُلۡنَا اذۡهَبَاۤ اِلَى الۡقَوۡمِ الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَاؕ فَدَمَّرۡنٰهُمۡ تَدۡمِيۡرًاؕ

অতঃপর তাদের বলেছিলাম, তোমরা সেই (ফেরাঊনী) সম্প্রদায়ের কাছে যাও, যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে। অতঃপর আমরা তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

وَقَوۡمَ نُوۡحٍ لَّمَّا كَذَّبُوا الرُّسُلَ اَغۡرَقۡنٰهُمۡ وَجَعَلۡنٰهُمۡ لِلنَّاسِ اٰيَةًؕ وَاَعۡتَدۡنَا لِلظّٰلِمِيۡنَ عَذَابًا اَ لِيۡمًاۖ ۚ

আর (স্মরণ কর) নূহের সম্প্রদায়ের কথা, যখন তারা রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করল, তখন আমরা তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম এবং তাদেরকে মানবজাতির জন্য নিদর্শন করে রাখলাম। আর আমরা যালেমদের জন্য (পরকালে) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্ত্তত করে রেখেছি।

وَّعَادًا وَّثَمُوۡدَا۟ وَ اَصۡحٰبَ الرَّسِّ وَقُرُوۡنًۢا بَيۡنَ ذٰ لِكَ كَثِيۡرًا‏ 

এবং ‘আদ, ছামূদ, কূয়াবাসীগণ এবং তাদের মধ্যবর্তী বহু যুগ-সমাজকে।

وَكُلًّا ضَرَبۡنَا لَهُ الۡاَمۡثَالَ​ وَكُلًّا تَبَّـرۡنَا تَـتۡبِيۡرًا‏ 

তাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেছিলাম। কিন্তু (অবাধ্যতার কারণে) তাদের সবাইকে আমরা পুরাপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

وَلَقَدۡ اَتَوۡا عَلَى الۡقَرۡيَةِ الَّتِىۡۤ اُمۡطِرَتۡ مَطَرَ السَّوۡءِؕ اَفَلَمۡ يَكُوۡنُوۡا يَرَوۡنَهَاۚ بَلۡ كَانُوۡا لَا يَرۡجُوۡنَ نُشُوۡرًا‏

তারা তো (কুরায়েশরা) সেই জনপদের (লূতের) উপর দিয়েই যাতায়াত করে যার উপর বর্ষিত হয়েছিল অকল্যাণের বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুত্থানের আশাই করেনা।

وَاِذَا رَاَوۡكَ اِنۡ يَّتَّخِذُوۡنَكَ اِلَّا هُزُوًاؕ اَهٰذَا الَّذِىۡ بَعَثَ اللّٰهُ رَسُوۡلًا‏

আর যখন তারা (মক্কার নেতারা) তোমাকে দেখে, তখন তোমাকে কেবল ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করে বলে, এই কি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন?

اِنۡ كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنۡ اٰلِهَـتِنَا لَوۡ لَاۤ اَنۡ صَبَـرۡنَا عَلَيۡهَاؕ وَسَوۡفَ يَعۡلَمُوۡنَ حِيۡنَ يَرَوۡنَ الۡعَذَابَ مَنۡ اَضَلُّ سَبِيۡلًا‏

সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে সরিয়েই দিত, যদি না আমরা তাদেরকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকতাম। বস্ত্তত যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট।

اَرَءَيۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰهَهٗ هَوٰٮهُؕ اَفَاَنۡتَ تَكُوۡنُ عَلَيۡهِ وَكِيۡلًاۙ

তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি তার যিম্মাদার হবে?

اَمۡ تَحۡسَبُ اَنَّ اَكۡثَرَهُمۡ يَسۡمَعُوۡنَ اَوۡ يَعۡقِلُوۡنَؕ اِنۡ هُمۡ اِلَّا كَالۡاَنۡعَامِ​ بَلۡ هُمۡ اَضَلُّ سَبِيۡلًا‏

তুমি কি মনে কর ওদের অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়। বরং তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট।

اَلَمۡ تَرَ اِلٰى رَبِّكَ كَيۡفَ مَدَّ الظِّلَّۚ وَلَوۡ شَآءَ لَجَـعَلَهٗ سَاكِنًاۚ ثُمَّ جَعَلۡنَا الشَّمۡسَ عَلَيۡهِ دَلِيۡلًاۙ

তুমি কি তোমার প্রতিপালককে দেখনা কিভাবে তিনি ছায়াকে প্রসারিত করেন? তিনি চাইলে এটাকে স্থির রাখতে পারতেন। অতঃপর আমরা সূর্যকে করেছি এর প্রমাণ স্বরূপ।

ثُمَّ قَبَضۡنٰهُ اِلَـيۡنَا قَبۡضًا يَّسِيۡرًا‏

অতঃপর আমরা একে আমাদের দিকে (অর্থাৎ চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকে) ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি।

وَهُوَ الَّذِىۡ جَعَلَ لَـكُمُ الَّيۡلَ لِبَاسًا وَّالنَّوۡمَ سُبَاتًا وَّجَعَلَ النَّهَارَ نُشُوۡرًا‏

তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য রাত্রিকে করেছেন আবরণ ও নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিবসকে করেছেন উত্থানের সময়।

وَهُوَ الَّذِىۡۤ اَرۡسَلَ الرِّيٰحَ بُشۡرًۢا بَيۡنَ يَدَىۡ رَحۡمَتِهٖۚ وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً طَهُوۡرًاۙ

আর তিনিই তাঁর রহমতের (বৃষ্টিমেঘের) পূর্বে ঠান্ডা বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদবাহী রূপে এবং আমরা আকাশ থেকে বিশুদ্ধকারী বৃষ্টি বর্ষণ করি।

لِّـنُحْیِۦَ بِهٖ بَلۡدَةً مَّيۡتًا وَّنُسۡقِيَهٗ مِمَّا خَلَقۡنَاۤ اَنۡعَامًا وَّاَنَاسِىَّ كَثِيۡرًا‏

যার দ্বারা আমরা মৃত ভূখন্ডকে জীবিত করি এবং আমাদের সৃষ্ট বহু জীব-জন্তু ও মানুষকে তা পান করাই।

وَلَـقَدۡ صَرَّفۡنٰهُ بَيۡنَهُمۡ لِيَذَّكَّرُوْاۖ ا فَاَبٰٓى اَكۡثَرُ النَّاسِ اِلَّا كُفُوۡرًا‏

নিশ্চয়ই আমরা বৃষ্টিকে তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেই, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কেবল অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করে।

وَلَوۡ شِئۡنَا لَبَـعَثۡنَا فِىۡ كُلِّ قَرۡيَةٍ نَّذِيۡرًاۖ ‏

আর আমরা চাইলে প্রত্যেক জনপদে একজন করে সতর্ককারী (রাসূল) প্রেরণ করতাম।

فَلَا تُطِعِ الۡكٰفِرِيۡنَ وَ جَاهِدۡهُمۡ بِهٖ جِهَادًا كَبِيۡرًا‏

অতএব তুমি কাফেরদের অনুসরণ করো না। আর তুমি তাদের বিরুদ্ধে এর (কুরআনের) সাহায্যে কঠোর সংগ্রাম কর।

وَهُوَ الَّذِىۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَيۡنِ هٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّهٰذَا مِلۡحٌ​ اُجَاجٌۚ وَجَعَلَ بَيۡنَهُمَا بَرۡزَخًا وَّحِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا‏

আর তিনিই দুই সমুদ্রকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেন। একটি মিষ্ট সুপেয়, অপরটি লবণাক্ত তিক্ত এবং দু’টির মাঝে রেখেছেন পর্দা ও দুর্ভেদ্য অন্তরায়।

وَهُوَ الَّذِىۡ خَلَقَ مِنَ الۡمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَهٗ نَسَبًا وَّ صِهۡرًاؕ وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيۡرًا‏

তিনিই মানুষকে পানি হ’তে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বিবাহগত সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন। বস্ত্তত তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।

وَيَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَا لَا يَنۡفَعُهُمۡ وَلَا يَضُرُّهُمۡؕ وَكَانَ الۡـكَافِرُ عَلٰى رَبِّهٖ ظَهِيۡرًا‏

আর তারা আল্লাহ্র পরিবর্তে এমন কিছুর উপাসনা করে, যা না তাদের কোন উপকার করতে পারে, না তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে। আর কাফের তো তার প্রতিপালকের বিরুদ্ধে শয়তানের সাহায্যকারী।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّنَذِيۡرًا‏

আর আমরা তো তোমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দানকারী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী ব্যতীত প্রেরণ করিনি।

قُلۡ مَاۤ اَسۡــَٔـلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اَنۡ يَّـتَّخِذَ اِلٰى رَبِّهٖ سَبِيۡلًا‏

বল, আমি তোমাদের নিকট এই দাওয়াতের বিনিময়ে কোন প্রতিদান চাইনা। তবে যে কেউ চাইলে তার প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) পথ অবলম্বন করতে পারে।

وَتَوَكَّلۡ عَلَى الۡحَـىِّ الَّذِىۡ لَا يَمُوۡتُ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِهٖؕ وَكَفٰى بِهٖ بِذُنُوۡبِ عِبَادِهٖ خَبِيۡرَ اۛۚۙ

আর তুমি ভরসা কর সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর, যাঁর মৃত্যু নেই। তুমি তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা কর। বস্ত্তত স্বীয় বান্দাদের পাপসমূহের খবর রাখার ব্যাপারে তিনিই যথেষ্ট।

اۨلَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا فِىۡ سِتَّةِ اَيَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰى عَلَى الۡعَرۡشِۛۚ اَلرَّحۡمٰنُ فَسۡـَٔـــلۡ بِهٖ خَبِيۡرًا‏

তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশে উন্নীত হয়েছেন। তিনি দয়াময়। অতএব এ বিষয়ে তুমি বিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস কর।

وَاِذَا قِيۡلَ لَهُمُ اسۡجُدُوۡا لِلرَّحۡمٰنِ قَالُوۡا وَمَا الرَّحۡمٰنُ اَنَسۡجُدُ لِمَا تَاۡمُرُنَا وَزَادَهُمۡ نُفُوۡرًا۩ ‏

তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘রহমান’-কে সিজদা কর। তখন তারা বলে ‘রহমান’ আবার কে? তুমি কাউকে সিজদা করতে বললেই কি আমরা তাকে সিজদা করব? ফলে তাদের বিমুখতাই কেবল বৃদ্ধি পায়। (সিজদা-৮)‏

تَبٰـرَكَ الَّذِىۡ جَعَلَ فِى السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّجَعَلَ فِيۡهَا سِرٰجًا وَّقَمَرًا مُّنِيۡرًا‏

বরকতময় তিনি, যিনি মহাকাশে বড় বড় নক্ষত্ররাজি স্থাপন করেছেন এবং সেখানে স্থাপন করেছেন প্রদীপ (সূর্য) ও জ্যোতির্ময় চন্দ্র।

وَهُوَ الَّذِىۡ جَعَلَ الَّيۡلَ وَالنَّهَارَ خِلۡفَةً لِّمَنۡ اَرَادَ اَنۡ يَّذَّكَّرَ اَوۡ اَرَادَ شُكُوۡرًا‏

যিনি রাত্রি ও দিবসকে পরস্পরের অনুগামী করেছেন সেই ব্যক্তির জন্য শিক্ষণীয় হিসাবে, যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায় এবং যে (আল্লাহ্র প্রতি) কৃতজ্ঞ হ’তে চায়।

وَعِبَادُ الرَّحۡمٰنِ الَّذِيۡنَ يَمۡشُوۡنَ عَلَى الۡاَرۡضِ هَوۡنًا وَّاِذَا خَاطَبَهُمُ الۡجٰهِلُوۡنَ قَالُوۡا سَلٰمًا‏

‘রহমান’ (দয়াময়)-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদেরকে যখন অজ্ঞ লোকেরা (বাজে) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে ‘সালাম’।

وَالَّذِيۡنَ يَبِيۡتُوۡنَ لِرَبِّهِمۡ سُجَّدًا وَّقِيَامًا‏

যারা রাত্রি অতিবাহিত করে তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদা করে ও (ছালাতে) দন্ডায়মান থেকে।

وَالَّذِيۡنَ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَـنَّمَۖ  اِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًاۖ ‏

যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি সরিয়ে নাও। নিশ্চয়ই এর শাস্তি তো অবিচ্ছেদ্য।

اِنَّهَا سَآءَتۡ مُسۡتَقَرًّا وَّمُقَامًا‏

নিশ্চয়ই সেটি আশ্রয়স্থল ও আবাসস্থল হিসাবে কতই না মন্দ!

وَالَّذِيۡنَ اِذَاۤ اَنۡفَقُوۡا لَمۡ يُسۡرِفُوۡا وَلَمۡ يَقۡتُرُوۡا وَكَانَ بَيۡنَ ذٰلِكَ قَوَامًا‏

আর যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করেনা বা কৃপণতা করেনা। বরং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করে।

وَالَّذِيۡنَ لَا يَدۡعُوۡنَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ وَلَا يَقۡتُلُوۡنَ النَّفۡسَ الَّتِىۡ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالۡحَـقِّ وَلَا يَزۡنُوۡنَۚ وَمَنۡ يَّفۡعَلۡ ذٰ لِكَ يَلۡقَ اَثَامًاۙ

যারা আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করেনা। আর যারা আল্লাহ যাকে নিষিদ্ধ করেছেন তাকে সঙ্গত কারণ ব্যতীত হত্যা করেনা এবং যারা ব্যভিচার করেনা। যারা এগুলি করবে তারা শাস্তি ভোগ করবে।

يُضٰعَفۡ لَهُ الۡعَذَابُ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ وَيَخۡلُدۡ فِيۡهٖ مُهَانًاۖ ‏ 

ক্বিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে।

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًاصَالِحًـا فَاُولٰٓٮِٕكَ يُبَدِّلُ اللّٰهُ سَيِّاٰتِهِمۡ حَسَنٰتٍؕ وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوۡرًا رَّحِيۡمًا‏

তবে তারা ব্যতীত, যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

وَمَنۡ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًـا فَاِنَّهٗ يَتُوۡبُ اِلَى اللّٰهِ مَتَابًا‏ 

আর যে ব্যক্তি তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসে।

وَالَّذِيۡنَ لَا يَشۡهَدُوۡنَ الزُّوۡرَۙ وَ اِذَا مَرُّوۡا بِاللَّغۡوِ مَرُّوۡا كِرَامًا‏

আর যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং যখন তারা অসার ক্রিয়া-কর্মের সম্মুখীন হয়, তখন ভদ্রভাবে সে স্থান অতিক্রম করে।

وَالَّذِيۡنَ اِذَا ذُكِّرُوۡا بِاٰيٰتِ رَبِّهِمۡ لَمۡ يَخِرُّوۡا عَلَيۡهَا صُمًّا وَّعُمۡيَانًا‏

যাদেরকে তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দিলে তারা বধির ও অন্ধের মত আচরণ করেনা।

وَالَّذِيۡنَ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا هَبۡ لَـنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعۡيُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِيۡنَ اِمَامًا‏

আর যারা এই বলে প্রার্থনা করে যে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের মাধ্যমে চক্ষু শীতলকারী বংশধারা দান কর এবং আমাদেরকে আল্লাহভীরুদের নেতা বানাও।

اُولٰٓٮِٕكَ يُجۡزَوۡنَ الۡغُرۡفَةَ بِمَا صَبَرُوۡا وَيُلَقَّوۡنَ فِيۡهَا تَحِيَّةً وَّسَلٰمًاۙ

তাদেরকে তাদের ধৈর্যের প্রতিদান স্বরূপ জান্নাতের কক্ষ দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সেখানে অভ্যর্থনা দেওয়া হবে অভিবাদন ও সালাম দ্বারা।

خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَاؕ حَسُنَتۡ مُسۡتَقَرًّا وَّمُقَامًا‏

সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কতই না সুন্দর সেই আশ্রয়স্থল ও আবাসস্থল!

قُلۡ مَا يَعۡبَـؤُا بِكُمۡ رَبِّىۡ لَوۡلَا دُعَآؤُكُمۡۚ فَقَدۡ كَذَّبۡتُمۡ فَسَوۡفَ يَكُوۡنُ لِزَامًا‏

বলে দাও, আমার পালনকর্তা কোনই পরওয়া করেন না যদি তোমরা তাঁকে আহবান না করো। (এর ফলে) তোমরা তাঁকে মিথ্যারোপ করেছ। অতএব অচিরে তোমাদের উপর নেমে আসবে অনিবার্য প্রতিশোধ।