بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
এই সূরা যা আমরা নাযিল করেছি ও এর বিধানসমূহকে অবশ্য পালনীয় করেছি এবং এতে আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
(অবিবাহিত) ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী প্রত্যেককে তোমরা একশ’ বেত্রাঘাত কর। আল্লাহ্র এই বিধান বাস্তবায়নে তাদের প্রতি কোনরূপ দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে; যদি তোমরা আল্লাহ্র প্রতি ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের এই শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
ব্যভিচারী বিয়ে করবে না ব্যভিচারিণী বা মুশরিক নারীকে ব্যতীত। আর ব্যভিচারিণীকে বিয়ে করবে না ব্যভিচারী বা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত। আর মুমিনদের উপর এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আর যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়। অথচ চারজন (প্রত্যক্ষদর্শী) সাক্ষী উপস্থিত করতে পারে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর। আর তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। বস্ত্তত এরাই হ’ল পাপাচারী।
তবে যদি এরপর তারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, তাহ’লে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর যারা তাদের স্ত্রীদের উপর অপবাদ দেয় এবং তাদের কোন সাক্ষী নেই নিজেরা ব্যতীত। সে অবস্থায় সে আল্লাহ্র নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।
আর পঞ্চমবারে বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহ্র লা‘নত বর্ষিত হৌক!
আর স্ত্রীর উপর থেকে শাস্তি রহিত হবে, যদি সে চারবার আল্লাহ্র নামে শপথ করে বলে যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
অতঃপর পঞ্চমবারে বলবে যে, তার স্বামী সত্যবাদী হ’লে তার নিজের উপর আল্লাহ্র লা‘নত বর্ষিত হৌক!
আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ না থাকত (তাহ’লে তোমরা কেউ অব্যাহতি পেতে না)। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও প্রজ্ঞাময়।
নিশ্চয়ই যারা এই মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে তারা তোমাদেরই একটি দল। এটাকে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না। বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের যে যতটুকু পাপ করেছে তার জন্য ততটুকু ফলাফল রয়েছে। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
যখন তোমরা এরূপ অপবাদ শুনলে তখন মুমিন পুরুষ ও নারীগণ কেন তাদের নিজেদের মানুষদের সম্পর্কে উত্তম ধারণা পোষণ করল না? এবং কেন বলল না যে, এটি একটি সুস্পষ্ট অপবাদ মাত্র?
কেন তারা এ বিষয়ে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, সেহেতু তারাই আল্লাহ্র নিকটে মিথ্যাবাদী।
যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ না থাকত, তাহ’লে তোমরা যাতে লিপ্ত ছিলে তার জন্য কঠিন শাস্তি তোমাদের স্পর্শ করত।
যখন তোমরা মুখে মুখে বিষয়টি ছড়িয়ে দিচ্ছিলে এবং যবান দিয়ে এমন বিষয় উদ্ভাবন করছিলে যে বিষয়ে তোমাদের কিছুই জানা ছিল না। আর এটাকে তোমরা তুচ্ছ বিষয় মনে করেছিলে, অথচ তা আল্লাহ্র নিকটে ছিল গুরুতর বিষয়।
আর যখন তোমরা এ অপবাদ শুনেছিলে তখন তোমরা কেন একথা বলোনি যে, এ বিষয়ে আমাদের কিছুই বলা উচিৎ নয়। আল্লাহ পবিত্র। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ!
আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা এরূপ অন্যায় আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না যদি তোমরা মুমিন হও।
আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াতসমূহকে বিশদভাবে বর্ণনা করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে ইহকালে ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। বস্ত্তত আল্লাহ জানেন। কিন্তু তোমরা জানো না।
আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ না থাকত (তাহ’লে তোমরা কেউ অব্যাহতি পেতে না)। বস্ত্তত আল্লাহ স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। যে ব্যক্তি শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে, সে তো তাকে নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়। যদি তোমাদের উপর আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ না থাকত, তাহ’লে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র হ’তে পারত না। তবে আল্লাহ যাকে চান তাকে পবিত্র করেন এবং আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।
তোমাদের মধ্যে যারা সম্পদ ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্তদেরকে এবং আল্লাহ্র পথে যারা গৃহত্যাগ করেছে, তাদেরকে কিছুই দিবে না। তারা যেন তাদের মার্জনা করে ও দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
যারা সতী-সাধ্বী, সরলা ঈমানদার নারীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়, তারা ইহকালে ও পরকালে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে তাদের যবান ও হাত-পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।
সেদিন আল্লাহ তাদের প্রাপ্য কর্মফল পূর্ণভাবে দিবেন এবং তারা জানবে যে, আল্লাহ্ই সত্য এবং (ভাল-মন্দ) স্পষ্টকারী।
মন্দ নারীরা মন্দ পুরুষদের জন্য এবং মন্দ পুরুষেরা মন্দ নারীদের জন্য। আর পবিত্রা নারীগণ পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্রা নারীদের জন্য। লোকেরা যেসব কথা বলে, সেসব থেকে তারা মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও (জান্নাতের) উত্তম জীবিকা।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্যদের গৃহে প্রবেশ করো না। যতক্ষণ না তোমরা তাদের অনুমতি নাও এবং গৃহবাসীদের প্রতি সালাম কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। সম্ভবত তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে (তা মেনে চলার মাধ্যমে)।
যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তাহ’লে সেখানে প্রবেশ করোনা তোমাদেরকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি তোমাদের বলা হয় ফিরে যাও, তাহ’লে তোমরা ফিরে এসো। এটাই তোমাদের জন্য পবিত্রতর। আর আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
যে গৃহে কেউ বসবাস করেনা, সেখানে তোমাদের মাল-সম্পদ থাকলে তাতে প্রবেশে তোমাদের কোন দোষ নেই। বস্ত্তত আল্লাহ জানেন যা তোমরা প্রকাশ কর এবং যা তোমরা গোপন কর।
তুমি মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতর। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে ভালভাবে খবর রাখেন।
আর তুমি মুমিন নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহের হেফাযত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে কেবল যেটুকু প্রকাশ পায় সেটুকু ব্যতীত। আর তারা যেন তাদের (মাথা সহ) বুকের উপর ওড়না রাখে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজ পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনীপুত্র, নিজেদের বিশ্বস্ত নারী, মালিকানাধীন দাস-দাসী, কামনামুক্ত অধীনস্ত পুরুষ এবং শিশু যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তারা ব্যতীত। আর তারা যেন এমনভাবে চলাফেরা না করে যাতে তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকট হয়ে পড়ে। আর হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্র দিকে ফিরে যাও, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।
আর তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তোমরা তাদের বিবাহ করিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদেরও। যদি তারা নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
আর যাদের বিবাহের সঙ্গতি নেই, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। আর তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর, যদি তাদের মধ্যে কোন কল্যাণ আছে বলে তোমরা জানতে পার। আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদের দান কর। আর তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের কিছু সম্পদের লোভে তাদেরকে ব্যভিচারিণী হ’তে বাধ্য করোনা। যদি কেউ তাদের উপর যবরদস্তি করে, তাহ’লে উক্ত যবরদস্তির পর তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
বস্ত্তত আমরা তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, তোমাদের পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ।
আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি। তাঁর জ্যোতির উপমা একটি তাক-এর ন্যায় (অর্থাৎ মুমিনের হৃদয়)। যাতে রয়েছে একটি প্রদীপ (ঈমানের জ্যোতি)। যা রয়েছে একটি কাঁচ পাত্রের মধ্যে। পাত্রটি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়। যা প্রজ্বলিত করা হয় বরকতময় যয়তুন বৃক্ষের তৈল দ্বারা। যে বৃক্ষ (সূর্যের) পূর্বমুখীও নয় পশ্চিমমুখীও নয় (বরং খোলা ময়দানের)। আগুন স্পর্শ না করলেও ঐ তৈল যেন স্বচ্ছ আলো। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা স্বীয় জ্যোতির দিকে পরিচালিত করেন। আল্লাহ মানুষের জন্য উপমাসমূহ বর্ণনা করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত।
(জ্যোতিগুলি থাকে) ঐসব গৃহে (মসজিদে) যেগুলিকে আল্লাহ উচ্চ মর্যাদা দানের এবং যেখানে আল্লাহ্র নাম স্মরণের ও সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর গুণগানের আদেশ দিয়েছেন।
(মসজিদ আবাদকারী) ঐ লোকগুলি হ’ল তারাই, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্র স্মরণ থেকে এবং ছালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান থেকে উদাসীন করতে পারে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন বহু হৃদয় ও চক্ষু ভয়ে বিপর্যস্ত হবে।
যাতে আল্লাহ তাদের কৃতকর্ম সমূহের উত্তম পুরস্কার দান করতে পারেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশী দান করতে পারেন। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে চান তাকে অপরিমেয় রিযিক প্রদান করে থাকেন।
আর যারা অবিশ্বাসী, তাদের কর্মসমূহ মরুভূমির বুকে মরীচিকার ন্যায়। তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে। অবশেষে যখন সে তার নিকটে আসে, তখন সেখানে কিছুই পায় না, কেবল আল্লাহকে পায়। অতঃপর আল্লাহ তার পূর্ণ কর্মফল দিয়ে দেন। বস্ত্তত আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
অথবা (তাদের কর্মসমূহ) গভীর সমুদ্রের ঘন অন্ধকারের ন্যায়। ঢেউয়ের উপর ঢেউ যাকে আচ্ছন্ন করে এবং যার ঊর্ধ্বে থাকে কালো মেঘের ঘনঘটা। একটির উপর একটি অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন শত চেষ্টায়ও তা দেখতে পায় না। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতি নেই।
তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা আছে তারা এবং সারিবদ্ধভাবে উড়ন্ত পক্ষীকুল আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা করে? প্রত্যেকেই স্ব স্ব দো‘আ ও তাসবীহ জানে। আর তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।
আর আল্লাহ্রই জন্য নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব এবং আল্লাহ্র দিকেই সকলের প্রত্যাবর্তন।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন? অতঃপর তাকে একত্রিত করেন। অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন। অতঃপর তুমি দেখতে পাও যে, ওর মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। আর তিনি আকাশের শিলা পর্বত সমূহ থেকে শিলা বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে তিনি যাকে চান আঘাত করেন ও যাকে চান তার থেকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। মেঘের বিদ্যুতের চমক যেন চক্ষুসমূহ অন্ধ করে দেয়।
আল্লাহ রাত্রি ও দিবসের পরিবর্তন ঘটান। নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষণীয় রয়েছে চক্ষুষ্মানদের জন্য।
আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে। অতঃপর তাদের কেউ বুকে ভর দিয়ে চলে। কেউ দু’পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কেউ চারপায়ে ভর দিয়ে চলে। আল্লাহ যা চান তাই সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
নিশ্চয়ই আমরা তো সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে চান সরল পথ প্রদর্শন করেন।
আর তারা বলে, আমরা আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান এনেছি ও তাদের আনুগত্য করি। অতঃপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। বস্ত্তত ওরা মুমিন নয়।
যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তাদের মধ্যে ফায়ছালা করার জন্য, তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আর যদি সেখানে তাদের কোন স্বার্থ থাকে, তাহ’লে তারা তাঁর কাছে ছুটে আসে বিনীতভাবে।
তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না তারা সন্দেহে পতিত হয়েছে, নাকি ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের উপর যুলুম করবেন? বরং তারাই তো যালেম।
অথচ মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই হ’তে পারে যে, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দেওয়ার জন্য, তখন তারা বলবে আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম। আর এরাই হ’ল সফলকাম।
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর অবাধ্যতা হ’তে বেঁচে থাকে, তারাই হ’ল সফলকাম।
আর তারা আল্লাহ্র নামে দৃঢ়ভাবে শপথ করে বলে, যদি তুমি তাদের নির্দেশ দাও, তবে তারা অবশ্যই (জিহাদে) বের হবে। বল, তোমরা শপথ করো না। তোমাদের আনুগত্য সুবিদিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
বল, তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহ’লে রাসূলের দায়িত্বের জন্য তিনি দায়ী হবেন এবং তোমাদের দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী হবে। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর, তাহ’লে তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হবে। বস্ত্তত রাসূলের উপর দায়িত্ব হ’ল কেবল সুস্পষ্টভাবে (আল্লাহ্র বাণী) পৌঁছে দেওয়া।
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদের ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন ক্ষমতা প্রদান করবেন, যেমন তিনি দান করেছিলেন পূর্ববর্তীদেরকে। আর তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের ভয়-ভীতিকে নিরাপত্তায় বদলে দিবেন। (শর্ত হ’ল) তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপরে যারা অবাধ্য হবে তারাই হবে পাপাচারী।
তোমরা ছালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং (আল্লাহ্র) রাসূলের আনুগত্য কর। যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হ’তে পার।
তুমি অবশ্যই ধারণা করোনা যে, কাফেররা মুমিনদেরকে পৃথিবীতে অক্ষম করে ফেলবে। ওদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই ঠিকানা!
হে মুমিনগণ! তোমাদের দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে আসতে অনুমতি নেয়। ফজরের ছালাতের পূর্বে, দুপুরের বিশ্রামকালে যখন তোমরা কাপড় ছেড়ে রাখ এবং এশার ছালাতের পর। এ তিনটি তোমাদের জন্য গোপনীয়তার সময়। এর পরে তোমাদের ও তাদের উপর কোন দোষ নেই। (কেননা) তোমরা পরস্পরের কাছে বারবার যাতায়াত করে থাক। এভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আর তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হ’লে তারাও যেন অনুমতি গ্রহণ করে পূর্ববর্তীদের ন্যায়। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
আর বৃদ্ধা নারী যারা বিবাহের কামনা রাখে না, তারা যদি সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের পোষাক নামিয়ে রাখে, তাতে তাদের কোন দোষ হবে না। তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম হবে। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।
অন্ধ, খোঁড়া ও রোগীর কোন দোষ নেই এবং তোমাদের নিজেদেরও কোন দোষ নেই যে, তোমরা আহার কর তোমাদের নিজেদের গৃহে, পিতাদের গৃহে, মাতাদের গৃহে, ভাইদের গৃহে, বোনদের গৃহে, চাচাদের গৃহে, ফুফুদের গৃহে, মামুদের গৃহে, খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে যার চাবিসমূহের মালিকানা তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর বা পৃথকভাবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা পরস্পরে সালাম দিবে, যা আল্লাহ্র নিকট হ’তে প্রদত্ত বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন। যাতে তোমরা অনুধাবন কর।
মুমিন তো কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং যখন তারা তার সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে সঙ্গী হয়, তখন তারা চলে যায় না যতক্ষণ না তার কাছ থেকে অনুমতি নেয়। নিশ্চয়ই যারা তোমার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসী। অতএব তারা তাদের কোন কাজে তোমার নিকট অনুমতি চাইলে তুমি তাদের অনুমতি দাও যাকে তুমি চাও। আর তাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তোমরা রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের প্রতি আহবানের ন্যায় গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন যারা তোমাদের মধ্য থেকে চুপিসারে চলে যায়। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সাবধান হৌক যে, ফিৎনা তাদেরকে গ্রাস করবে অথবা মর্মন্তুদ শাস্তি তাদের উপর আপতিত হবে।
জেনে রেখ, নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ্র। তোমরা যে যে অবস্থার উপর আছ, তা তিনি অবশ্যই জানেন। আর যেদিন তারা তাঁর নিকটে ফিরে যাবে, সেদিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত।