২৭

সূরাঃ নমল (পিঁপড়া)

মাক্কীমোট আয়াত ৯৩ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

طٰسٓ​ تِلۡكَ اٰيٰتُ الۡقُرۡاٰنِ وَكِتَابٍ مُّبِيۡنٍۙ

ত্বোয়া সীন। এগুলি কুরআনের ও স্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

هُدًى وَّبُشۡرٰى لِلۡمُؤۡمِنِيۡنَۙ

এগুলি বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও জান্নাতের সুসংবাদ।

الَّذِيۡنَ يُقِيۡمُوۡنَ الصَّلٰوةَ وَيُؤۡتُوۡنَ الزَّكٰوةَ وَ هُمۡ بِالۡاٰخِرَةِ هُمۡ يُوۡقِنُوۡنَ‏

যারা ছালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে এবং আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করে।

اِنَّ الَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَةِ زَيَّـنَّا لَهُمۡ اَعۡمَالَهُمۡ فَهُمۡ يَعۡمَهُوۡنَؕ

যারা আখেরাতে বিশ্বাস করেনা, তাদের জন্য তাদের কর্মসমূহকে আমরা শোভনীয় করে দেই। ফলে তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

اُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ لَهُمۡ سُوۡٓءُ الۡعَذَابِ وَهُمۡ فِى الۡاٰخِرَةِ هُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ‏

এদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

وَاِنَّكَ لَـتُلَـقَّى الۡقُرۡاٰنَ مِنۡ لَّدُنۡ حَكِيۡمٍ عَلِيۡمٍ‏

আর নিশ্চয়ই তুমি কুরআন প্রাপ্ত হচ্ছ প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার নিকট থেকে।

اِذۡ قَالَ مُوۡسٰى لِاَهۡلِهٖۤ اِنِّىۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًاؕ سَاٰتِيۡكُمۡ مِّنۡهَا بِخَبَرٍ اَوۡ اٰتِيۡكُمۡ بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ‏

(স্মরণ কর) যখন মূসা তার পরিবারকে বলল, আমি একটা আগুন দেখেছি। সত্বর আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য (পথের) সন্ধান নিয়ে আসতে পারব। অথবা জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।

فَلَمَّا جَآءَهَا نُوۡدِىَ اَنۡۢ بُوۡرِكَ مَنۡ فِى النَّارِ وَ مَنۡ حَوۡلَهَاؕ وَسُبۡحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏

অতঃপর যখন মূসা তার নিকটে উপস্থিত হ’ল, তখন আহবান এল, বরকত মন্ডিত হয়েছে সে, যে আগুনের নিকটবর্তী হয়েছে এবং যারা আছে তার চতুষ্পার্শ্বে। বস্ত্তত বিশ্বপালক আল্লাহ মহা পবিত্র।

يٰمُوۡسٰۤى اِنَّـهٗۤ اَنَا اللّٰهُ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُۙ

হে মূসা! নিশ্চয়ই আহবানকারী আমি। আমিই আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।

وَاَ لۡقِ عَصَاكَؕ فَلَمَّا رَاٰهَا تَهۡتَزُّ كَاَنَّهَا جَآنٌّ وَّلّٰى مُدۡبِرًا وَّلَمۡ يُعَقِّبۡؕ يٰمُوۡسٰى لَا تَخَفۡ اِنِّىۡ لَا يَخَافُ لَدَىَّ الۡمُرۡسَلُوۡنَۖ ‏

তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন সে তাকে সাপের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখল, তখন (ভয়ে) পিছন দিকে ছুট দিল এমনভাবে যে পিঠ ফিরে তাকাল না। (আমরা বললাম) হে মূসা! ভয় পেয়োনা। নিশ্চয় আমি, আমার নিকটে নবীরা ভয় পায় না।

اِلَّا مَنۡ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسۡنًۢا بَعۡدَ سُوۡٓءٍ فَاِنِّىۡ غَفُوۡرٌ رَّحِيۡمٌ‏

কিন্তু যদি কেউ সীমালংঘন করে। অতঃপর অসৎকর্মের বদলে সৎকর্ম করে। তাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

وَاَدۡخِلۡ يَدَكَ فِىۡ جَيۡبِكَ تَخۡرُجۡ بَيۡضَآءَ مِنۡ غَيۡرِ سُوۡٓءٍ​ فِىۡ تِسۡعِ اٰيٰتٍ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ وَقَوۡمِهٖؕ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِيۡنَ‏ 

আর তুমি তোমার হাত বগলে প্রবেশ করাও। যা বেরিয়ে আসবে উজ্জ্বল ও নির্মল অবস্থায়। এগুলি ফেরাঊন ও তার জাতির নিকট আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয়ই তারা হ’ল পাপাচারী সম্প্রদায়।

فَلَمَّا جَآءَتۡهُمۡ اٰيٰتُنَا مُبۡصِرَةً قَالُوۡا هٰذَا سِحۡرٌ مُّبِيۡنٌۚ ‏ 

অতঃপর যখন তাদের নিকট আমাদের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ এসে গেল, তখন তারা বলল, এটি তো সুস্পষ্ট জাদু।

وَجَحَدُوۡا بِهَا وَاسۡتَيۡقَنَـتۡهَاۤ اَنۡفُسُهُمۡ ظُلۡمًا وَّعُلُوًّاؕ فَانْظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُفۡسِدِيۡنَ‏

আর তারা সেগুলিকে অন্যায় ও ঔদ্ধত্যবশে প্রত্যাখ্যান করল। যদিও তাদের অন্তর সেগুলিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখ অনর্থ সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল!

وَلَـقَدۡ اٰتَيۡنَا دَاوٗدَ وَ سُلَيۡمٰنَ عِلۡمًاۚ وَقَالَا الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ فَضَّلَنَا عَلٰى كَثِيۡرٍ مِّنۡ عِبَادِهِ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

আর আমরা দাঊদ ও সুলায়মানকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছিলাম। ফলে তারা বলেছিল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। যিনি আমাদেরকে তাঁর বহু মুমিন বান্দার উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

وَوَرِثَ سُلَيۡمٰنُ دَاوٗدَ​ وَقَالَ يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمۡنَا مَنۡطِقَ الطَّيۡرِ وَاُوۡتِيۡنَا مِنۡ كُلِّ شَىۡءٍؕ ​ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الۡفَضۡلُ الۡمُبِيۡنُ‏ 

আর সুলায়মান দাঊদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল। সে বলেছিল, হে লোকসকল! আমাদেরকে পাখির ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে (প্রয়োজনীয়) সবকিছু দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি (আমাদের প্রতি) সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।

وَحُشِرَ لِسُلَيۡمٰنَ جُنُوۡدُهٗ مِنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ وَالطَّيۡرِ فَهُمۡ يُوۡزَعُوۡنَ‏

আর সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হ’ল তার বাহিনীকে জিন, ইনসান ও পক্ষীকুলের মধ্য হ’তে। অতঃপর তাদেরকে হাঁকিয়ে নেওয়া হ’ল।

حَتّٰٓى اِذَاۤ اَتَوۡا عَلٰى وَادِ النَّمۡلِۙ قَالَتۡ نَمۡلَةٌ يّٰۤاَيُّهَا النَّمۡلُ ادۡخُلُوۡا مَسٰكِنَكُمۡۚ لَا يَحۡطِمَنَّكُمۡ سُلَيۡمٰنُ وَجُنُوۡدُهٗۙ وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُوۡنَ‏

অবশেষে যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছল, তখন একটি পিঁপড়া বলল, হে পিঁপড়ার দল! তোমরা তোমাদের নিজ নিজ গৃহে প্রবেশ কর। যেন সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পায়ের তলে পিষে না ফেলে।

فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّنۡ قَوۡلِهَا وَقَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِىۡۤ اَنۡ اَشۡكُرَ نِعۡمَتَكَ الَّتِىۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وَالِدَىَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًـا تَرۡضٰٮهُ وَاَدۡخِلۡنِىۡ بِرَحۡمَتِكَ فِىۡ عِبَادِكَ الصّٰلِحِيۡنَ‏

তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসল এবং বলল, হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমাকে শক্তি দাও, যাতে আমি তোমার নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ। আর যাতে আমি এমন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পসন্দ কর এবং আমাকে তোমার অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।

وَتَفَقَّدَ الطَّيۡرَ فَقَالَ مَا لِىَ لَاۤ اَرَى الۡهُدۡهُدَۖ  اَمۡ كَانَ مِنَ الۡغَآٮِٕبِيۡنَ‏

অতঃপর সুলায়মান পাখিদের খোঁজ-খবর নিল এবং বলল, কি ব্যাপার! হুদহুদকে দেখছি না যে? সে কি উধাও হয়ে গেল?

لَاُعَذِّبَـنَّهٗ عَذَابًا شَدِيۡدًا اَوۡ لَا۟اَذۡبَحَنَّهٗۤ اَوۡ لَيَاۡتِيَنِّىۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِيۡنٍ‏

আমি তাকে অবশ্যই কঠিন শাস্তি দেব অথবা যবহ করব। অথবা সে উপযুক্ত কারণসহ আমার কাছে আসবে।

فَمَكَثَ غَيۡرَ بَعِيۡدٍ فَقَالَ اَحَطْتُّ بِمَا لَمۡ تُحِطۡ بِهٖ وَ جِئۡتُكَ مِنۡ سَبَاٍۢ بِنَبَاٍ يَّقِيۡنٍ‏

কিছুক্ষণ পরেই হুদহুদ এসে বলল, আপনি যা জানেন না, আমি তা জেনেছি এবং আপনার নিকট ‘সাবা’ থেকে নিশ্চিত খবর এনেছি।

اِنِّىۡ وَجَدتُّ امۡرَاَةً تَمۡلِكُهُمۡ وَاُوۡتِيَتۡ مِنۡ كُلِّ شَىۡءٍ وَّلَهَا عَرۡشٌ عَظِيۡمٌ‏

আমি একজন মহিলাকে তাদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছু দেওয়া হয়েছে এবং তার আছে একটি বিরাট সিংহাসন।

وَجَدْتُّهَا وَقَوۡمَهَا يَسۡجُدُوۡنَ لِلشَّمۡسِ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيۡطٰنُ اَعۡمَالَهُمۡ فَصَدَّهُمۡ عَنِ السَّبِيۡلِ فَهُمۡ لَا يَهۡتَدُوۡنَۙ ‏ 

আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম, তারা আল্লাহকে ছেড়ে সূর্যের পূজা করছে। শয়তান তাদের কর্মসমূহকে তাদের নিকট শোভনীয় করে দিয়েছে এবং তাদেরকে (আল্লাহ্র) পথ থেকে বিরত রেখেছে। ফলে তারা সুপথপ্রাপ্ত হয় না।

اَلَّا يَسۡجُدُوۡا لِلّٰهِ الَّذِىۡ يُخۡرِجُ الۡخَبۡءَ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَيَعۡلَمُ مَا تُخۡفُوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ‏

যাতে তারা আল্লাহকে সিজদা না করে। যিনি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন বস্ত্তসমূহ প্রকাশ করেন। আর তিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা তোমরা প্রকাশ কর।

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِيۡمِ۩

আল্লাহ! যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি মহান আরশের মালিক। ‏ (সিজদা-৯)

قَالَ سَنَـنۡظُرُ اَصَدَقۡتَ اَمۡ كُنۡتَ مِنَ الۡكٰذِبِيۡنَ‏

সুলায়মান বলল, এখন আমরা দেখব তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যাবাদী?

اِذۡهَبْ بِّكِتٰبِىۡ هٰذَا فَاَلۡقِهۡ اِلَيۡهِمۡ ثُمَّ تَوَلَّ عَنۡهُمۡ فَانْظُرۡ مَاذَا يَرۡجِعُوۡنَ‏

তুমি আমার এই পত্রটি নিয়ে যাও এবং তাদের কাছে এটা অর্পণ কর। অতঃপর তাদের থেকে ফিরে এস এবং দেখতে থাক তাদের প্রতিক্রিয়া কি হয়।

قَالَتۡ يٰۤاَيُّهَا الۡمَلَؤُا اِنِّىۡۤ اُلۡقِىَ اِلَىَّ كِتٰبٌ كَرِيۡمٌ‏ 

রাণী বলল, হে আমার সভাসদবৃন্দ! আমার নিকটে একটি মহান পত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

اِنَّهٗ مِنۡ سُلَيۡمٰنَ وَاِنَّهٗ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ ‏ 

যা এসেছে সুলায়মানের নিকট থেকে। আর তা হ’ল, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে (শুরু করছি)।-

اَلَّا تَعۡلُوۡا عَلَىَّ وَاۡتُوۡنِىۡ مُسۡلِمِيۡنَ‏

তোমরা আমার বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়ো না। বরং অনুগত হয়ে আমার নিকট চলে এস।

قَالَتۡ يٰۤاَيُّهَا الۡمَلَؤُا اَفۡتُوۡنِىۡ فِىۡۤ اَمۡرِىۡۚ مَا كُنۡتُ قَاطِعَةً اَمۡرًا حَتّٰى تَشۡهَدُوۡنِ‏

রাণী বলল, হে সভাসদবর্গ! আমাকে এ ব্যাপারে পরামর্শ দাও। (কেননা) তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত আমি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।

قَالُوۡا نَحۡنُ اُولُوۡا قُوَّةٍ وَّاُولُوۡا بَاۡسٍ شَدِيۡدٍۙ وَّالۡاَمۡرُ اِلَيۡكِ فَانْظُرِىۡ مَاذَا تَاۡمُرِيۡنَ‏

তারা বলল, আমরা তো শক্তিশালী ও দুর্ধর্ষ যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত আপনার কাছে। অতএব ভেবে দেখুন কি নির্দেশ দিবেন?

قَالَتۡ اِنَّ الۡمُلُوۡكَ اِذَا دَخَلُوۡا قَرۡيَةً اَفۡسَدُوۡهَا وَجَعَلُوۡۤا اَعِزَّةَ اَهۡلِهَاۤ اَذِلَّةًۚ وَكَذٰلِكَ يَفۡعَلُوۡنَ‏

রাণী বলল, রাজা-বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তা ধ্বংস করে ফেলে। আর সেখানকার সম্মানিত ব্যক্তিদের অসম্মানিত করে। অতএব তারাও এরূপ করবে।

وَاِنِّىۡ مُرۡسِلَةٌ اِلَيۡهِمۡ بِهَدِيَّةٍ فَنٰظِرَةٌۢ بِمَ يَرۡجِعُ الۡمُرۡسَلُوۡنَ‏ 

আমি তাদের নিকট উপঢৌকন সহ লোক পাঠাই। দেখি প্রেরিত দূতেরা কি খবর নিয়ে আসে!

فَلَمَّا جَآءَ سُلَيۡمٰنَ قَالَ اَتُمِدُّوۡنَنِ بِمَالٍ فَمَاۤ اٰتٰٮنِۦَ اللّٰهُ خَيۡرٌ مِّمَّاۤ اٰتٰٮكُمۡۚ بَلۡ اَنۡـتُمۡ بِهَدِيَّتِكُمۡ تَفۡرَحُوۡنَ‏ 

অতঃপর যখন দূতেরা সুলায়মানের দরবারে উপস্থিত হ’ল, তখন সে বলল, তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও? অথচ আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার চেয়ে অনেক উত্তম। বরং তোমরা তোমাদের উপঢৌকন নিয়েই খুশী থাক।

اِرۡجِعۡ اِلَيۡهِمۡ فَلَنَاۡتِيَنَّهُمۡ بِجُنُوۡدٍ لَّا قِبَلَ لَهُمۡ بِهَا وَلَـنُخۡرِجَنَّهُمۡ مِّنۡهَاۤ اَذِلَّةً وَّهُمۡ صٰغِرُوۡنَ‏

দূতকে সুলায়মান বলল, তুমি ফিরে যাও তাদের কাছে। অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে সেনাদল নিয়ে আসছি। যার মুকাবিলা করার শক্তি তাদের নেই। আর আমরা অবশ্যই তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করব লাঞ্ছিত অবস্থায় এবং তারা হবে অপমানিত।

قَالَ يٰۤاَيُّهَا الۡمَلَؤُا اَيُّكُمۡ يَاۡتِيۡنِىۡ بِعَرۡشِهَا قَبۡلَ اَنۡ يَّاۡتُوۡنِىۡ مُسۡلِمِيۡنَ‏

সুলায়মান বলল, হে আমার সভাসদবর্গ! তোমাদের মধ্যে কে আছ যে আমার কাছে রাণীর সিংহাসনটা নিয়ে আসবে, তারা আত্মসমর্পণ করে আমার নিকট উপস্থিত হওয়ার আগেই?

قَالَ عِفۡرِيۡتٌ مِّنَ الۡجِنِّ اَنَا اٰتِيۡكَ بِهٖ قَبۡلَ اَنۡ تَقُوۡمَ مِنۡ مَّقَامِكَۚ وَاِنِّىۡ عَلَيۡهِ لَـقَوِىٌّ اَمِيۡنٌ‏

তখন শক্তিশালী এক জিন নেতা বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার পূর্বেই আমি ওটা আপনার কাছে এনে দিব। আর আমি এ ব্যাপারে অবশ্যই ক্ষমতাশালী ও বিশ্বস্ত।

قَالَ الَّذِىۡ عِنۡدَهٗ عِلۡمٌ مِّنَ الۡـكِتٰبِ اَنَا اٰتِيۡكَ بِهٖ قَبۡلَ اَنۡ يَّرۡتَدَّ اِلَيۡكَ طَرۡفُكَؕ فَلَمَّا رَاٰهُ مُسۡتَقِرًّا عِنۡدَهٗ قَالَ هٰذَا مِنۡ فَضۡلِ رَبِّىۡۖ  لِيَبۡلُوَنِىۡٓ ءَاَشۡكُرُ اَمۡ اَكۡفُرُؕ وَمَنۡ شَكَرَ فَاِنَّمَا يَشۡكُرُ لِنَفۡسِهٖۚ وَمَنۡ كَفَرَ فَاِنَّ رَبِّىۡ غَنِىٌّ كَرِيۡمٌ‏ 

(অন্যদিকে) কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, তুমি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি ওটা তোমার কাছে এনে দিব। অতঃপর সুলায়মান যখন সেটিকে তার সামনে স্থির হ’তে দেখল, তখন বলল, এটি আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই সেটা করে। আর যে ব্যক্তি অকৃতজ্ঞ হয়, সে জেনে রাখুক যে, আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত ও মহান।

قَالَ نَكِّرُوۡا لَهَا عَرۡشَهَا نَـنۡظُرۡ اَتَهۡتَدِىۡۤ اَمۡ تَكُوۡنُ مِنَ الَّذِيۡنَ لَا يَهۡتَدُوۡنَ‏

সুলায়মান বলল, তার সিংহাসনের কিছু বৈশিষ্ট্য পাল্টে দাও। দেখি সে চিনতে পারে, না কি সে বিভ্রান্ত হয়!

فَلَمَّا جَآءَتۡ قِيۡلَ اَهٰكَذَا عَرۡشُكِؕ قَالَتۡ كَاَنَّهٗ هُوَۚ وَاُوۡتِيۡنَا الۡعِلۡمَ مِنۡ قَبۡلِهَا وَ كُنَّا مُسۡلِمِيۡنَ‏

অতঃপর যখন রাণী এল, তখন তাকে বলা হ’ল, দেখুন তো আপনার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আর আমরা পূর্বেই সবকিছু অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহ হয়ে গেছি।

وَصَدَّهَا مَا كَانَتۡ تَّعۡبُدُ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِؕ اِنَّهَا كَانَتۡ مِنۡ قَوۡمٍ كٰفِرِيۡنَ‏

বস্ত্তত আল্লাহ্র পরিবর্তে সে যার পূজা করত, সেই-ই তাকে ঈমান থেকে বিরত রেখেছিল। কেননা সে ছিল কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

قِيۡلَ لَهَا ادۡخُلِى الصَّرۡحَۚ فَلَمَّا رَاَتۡهُ حَسِبَـتۡهُ لُـجَّةً وَّكَشَفَتۡ عَنۡ سَاقَيۡهَاؕ قَالَ اِنَّهٗ صَرۡحٌ مُّمَرَّدٌ مِّنۡ قَوَارِيۡرَۙ ​قَالَتۡ رَبِّ اِنِّىۡ ظَلَمۡتُ نَـفۡسِىۡ وَ اَسۡلَمۡتُ مَعَ سُلَيۡمٰنَ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏ 

তাকে বলা হ’ল প্রাসাদে প্রবেশ করুন! অতঃপর যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল, তখন সে (আঙিনাকে) ধারণা করল পানি এবং সে তার দু’পায়ের গোছা উন্মুক্ত করল। তখন সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ কাঁচ নির্মিত প্রাসাদ। রাণী বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের প্রতি যুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে জগত সমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্র প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰى ثَمُوۡدَ اَخَاهُمۡ صٰلِحًا اَنِ اعۡبُدُوۡا اللّٰهَ فَاِذَا هُمۡ فَرِيۡقٰنِ يَخۡتَصِمُوۡنَ‏

আর আমরা ছামূদ জাতির নিকট তাদের ভাই ছালেহকে পাঠিয়েছিলাম এই দাওয়াত নিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। অথচ তারা (মুমিন ও কাফের) দু’দলে ঝগড়ায় লিপ্ত হ’ল।

قَالَ يٰقَوۡمِ لِمَ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِالسَّيِّئَةِ قَبۡلَ الۡحَسَنَةِۚ لَوۡلَا تَسۡتَغۡفِرُوۡنَ اللّٰهَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ‏

সে বলল, হে আমার জাতি! তোমরা কেন কল্যাণের আগেই অকল্যাণের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে? কেন তোমরা আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছনা? যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হ’তে পার।

قَالُوا اطَّيَّرۡنَا بِكَ وَبِمَنۡ مَّعَكَؕ قَالَ طٰٓٮِٕرُكُمۡ عِنۡدَ اللّٰهِ​ بَلۡ اَنۡـتُمۡ قَوۡمٌ تُفۡتَـنُوۡنَ‏

তারা বলল, আমরা তোমাকে ও তোমার সাথীদেরকে ‘অশুভ’ মনে করি। ছালেহ বলল, তোমাদের শুভাশুভ আল্লাহ্র হাতে। বরং তোমরা একটা ফিৎনাগ্রস্থ জাতি।

وَكَانَ فِى الۡمَدِيۡنَةِ تِسۡعَةُ رَهۡطٍ يُّفۡسِدُوۡنَ فِى الۡاَرۡضِ وَلَا يُصۡلِحُوۡنَ‏

আর শহরে নয়জন ব্যক্তি ছিল, যারা জনপদে অনর্থ সৃষ্টি করত এবং সৎকর্ম করত না।

قَالُوۡا تَقَاسَمُوۡا بِاللّٰهِ لَـنُبَيِّتَـنَّهٗ وَ اَهۡلَهٗ ثُمَّ لَـنَقُوۡلَنَّ لِوَلِيِّهٖ مَا شَهِدۡنَا مَهۡلِكَ اَهۡلِهٖ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ‏

তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহ্র নামে কসম কর যে, আমরা রাত্রিকালে ছালেহ ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার রক্তের দাবীদারদের বলব, তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা স্বচক্ষে দেখিনি এবং আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।

وَمَكَرُوۡا مَكۡرًا وَّمَكَرۡنَا مَكۡرًا وَّهُمۡ لَا يَشۡعُرُوۡنَ‏

তারা ভয়ংকর চক্রান্ত করেছিল এবং আমরাও কৌশল করেছিলাম। অথচ তারা তা বুঝতে পারেনি।

فَانْظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكۡرِهِمۡۙ اَنَّا دَمَّرۡنٰهُمۡ وَقَوۡمَهُمۡ اَجۡمَعِيۡنَ‏

অতএব দেখ তাদের চক্রান্তের পরিণাম কি হয়েছিল। আমরা তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছি।

فَتِلۡكَ بُيُوۡتُهُمۡ خَاوِيَةً ۢ بِمَا ظَلَمُوۡاؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيَةً لِّـقَوۡمٍ يَّعۡلَمُوۡنَ‏

ঐ তো তাদের বাড়ী-ঘর জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে তাদের যুলুমের পরিণামে। এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।

وَاَنۡجَيۡنَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَكَانُوۡا يَتَّقُوۡنَ‏

আর যারা ঈমান এনেছিল ও আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে আমরা রক্ষা করেছিলাম।

وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡـفَاحِشَةَ وَاَنۡـتُمۡ تُبۡصِرُوۡنَ‏ 

আর (স্মরণ কর) লূত-এর কথা। যখন সে তার কওমকে বলেছিল, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ কর? অথচ এর মন্দ পরিণাম তোমরা ভালভাবেই বুঝতে পারছ।

اَٮِٕنَّكُمۡ لَـتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَهۡوَةً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِؕ بَلۡ اَنۡـتُمۡ قَوۡمٌ تَجۡهَلُوۡنَ‏

তোমরা কি যৌন তৃপ্তির জন্য নারীকে ছেড়ে পুরুষের কাছে আসবে? বরং তোমরা তো স্রেফ একটা মূর্খ সম্প্রদায়।

فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوۡمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُـوۡۤا اَخۡرِجُوۡۤا اٰلَ لُوۡطٍ مِّنۡ قَرۡيَتِكُمۡۚ اِنَّهُمۡ اُنَاسٌ يَّتَطَهَّرُوۡنَ‏

এতে তার সম্প্রদায়ের কোন জবাব ছিল না কেবল একটাই যে, তোমরা লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয়ই এ মানুষগুলি পবিত্র থাকতে চায়।

فَاَنۡجَيۡنٰهُ وَ اَهۡلَهٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَهٗ قَدَّرۡنٰهَا مِنَ الۡغٰبِرِيۡنَ‏ 

অতঃপর আমরা তাকে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করলাম তার স্ত্রী ব্যতীত। কেননা তাকে আমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে নির্ধারণ করেছিলাম।

وَاَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِمۡ مَّطَرًاۚ فَسَآءَ مَطَرُ الۡمُنۡذَرِيۡنَ‏

আমরা তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের উপর এই বর্ষণ কতই না মন্দ ছিল!

قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ وَسَلٰمٌ عَلٰى عِبَادِهِ الَّذِيۡنَ اصۡطَفٰىؕ ءٰۤللّٰهُ خَيۡرٌ اَمَّا يُشۡرِكُوۡنَؕ

তুমি বল, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। আর শান্তি (বর্ষিত হৌক) তার মনোনীত বান্দাগণের উপর! (বল), আল্লাহ শ্রেষ্ঠ না যাদেরকে ওরা শরীক করে, (তারাই শ্রেষ্ঠ)?

اَمَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَاَنۡزَلَ لَـكُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءًۚ فَاَنۡۢبَتۡنَا بِهٖ حَدَآٮِٕقَ ذَاتَ بَهۡجَةٍۚ مَا كَانَ لَـكُمۡ اَنۡ تُـنۡۢبِتُوۡا شَجَرَهَاؕ ءَاِلٰـهٌ مَّعَ اللّٰهِؕ بَلۡ هُمۡ قَوۡمٌ يَّعۡدِلُوۡنَؕ

কে তিনি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন? অতঃপর তা দিয়ে আমরা সৃষ্টি করি মনোরম বাগানসমূহ। (অথচ) সেখানে বৃক্ষ-লতা উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। সেই আল্লাহ্র সাথে কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা হ’ল সত্যবিমুখ জাতি।

اَمَّنۡ جَعَلَ الۡاَرۡضَ قَرَارًا وَّجَعَلَ خِلٰلَهَاۤ اَنۡهٰرًا وَّجَعَلَ لَهَا رَوَاسِىَ وَجَعَلَ بَيۡنَ الۡبَحۡرَيۡنِ حَاجِزًاؕ ءَاِلٰـهٌ مَّعَ اللّٰهِؕ بَلۡ اَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡلَمُوۡنَؕ

কে তিনি, যিনি (তোমাদের জন্য) পৃথিবীকে আবাসস্থল করেছেন এবং তার মধ্যে নদী-নালা সৃষ্টি করেছেন? আর সেখানে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন? তাহ’লে আল্লাহ্র সাথে কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ।

اَمَّنۡ يُّجِيۡبُ الۡمُضۡطَرَّ اِذَا دَعَاهُ وَيَكۡشِفُ السُّوۡٓءَ وَيَجۡعَلُكُمۡ خُلَفَآءَ الۡاَرۡضِؕ ءَاِلٰـهٌ مَّعَ اللّٰهِؕ قَلِيۡلًا مَّا تَذَكَّرُوۡنَؕ

কে তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন, যখন সে তাকে ডাকে এবং তার কষ্ট দূর করে দেন? আর যিনি তোমাদেরকে জনপদে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। সেই আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বস্ত্তত তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।

اَمَّنۡ يَّهۡدِيۡكُمۡ فِىۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَ الۡبَحۡرِ وَمَنۡ يُّرۡسِلُ الرِّيٰحَ بُشۡرًۢا بَيۡنَ يَدَىۡ رَحۡمَتِهٖؕ ءَاِلٰـهٌ مَّعَ اللّٰهِؕ تَعٰلَى اللّٰهُ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَؕ

কে তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ প্রদর্শন করেন এবং কে বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে সুসংবাদবাহী (শীতল) বায়ু প্রেরণ করেন? সেই আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বস্ত্তত তারা যাদের শরীক করে তাদের থেকে আল্লাহ বহু ঊর্ধ্বে।

اَمَّنۡ يَّبۡدَؤُا الۡخَـلۡقَ ثُمَّ يُعِيۡدُهٗ وَمَنۡ يَّرۡزُقُكُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِؕ ءَاِلٰـهٌ مَّعَ اللّٰهِؕ قُلۡ هَاتُوۡا بُرۡهَانَكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِيۡنَ‏

কে তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন? আর কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক প্রদান করেন। সেই আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তুমি বল, তোমরা (শিরকের পক্ষে) তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এস, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।

قُلْ لَّا يَعۡلَمُ مَنۡ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الۡغَيۡبَ اِلَّا اللّٰهُؕ وَمَا يَشۡعُرُوۡنَ اَيَّانَ يُبۡعَثُوۡنَ‏

তুমি বল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্যের খবর কেউ রাখেনা আল্লাহ ব্যতীত। আর তারা বুঝতেই পারবে না কখন তারা পুনরুত্থিত হবে।

بَلِ ادّٰرَكَ عِلۡمُهُمۡ فِى الۡاٰخِرَةِ​ بَلۡ هُمۡ فِىۡ شَكٍّ مِّنۡهَا  بَلۡ هُمۡ مِّنۡهَا عَمُوۡنَ‏

বরং আখেরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান শেষ হয়ে গেছে। বস্ত্তত তারা এবিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। বরং তারা এবিষয়ে অন্ধ।

وَقَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡۤا ءَاِذَا كُنَّا تُرٰبًا وَّاٰبَآؤُنَاۤ اَٮِٕنَّا لَمُخۡرَجُوۡنَ‏

অবিশ্বাসীরা বলে, যখন আমরা মাটি হয়ে যাব এবং আমাদের বাপ-দাদারাও, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?

لَـقَدۡ وُعِدۡنَا هٰذَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا مِنۡ قَبۡلُۙ اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيۡرُ الۡاَوَّلِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে এবিষয়ে আমাদের ও আমাদের বাপ-দাদাদের ভয় দেখানো হয়েছিল। এটাতো পূর্ববর্তীদের উপকথা ভিন্ন কিছুই নয়।

قُلۡ سِيۡرُوۡا فِى الۡاَرۡضِ فَانْظُرُوۡا كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُجۡرِمِيۡنَ‏ 

বল, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কেমন হয়েছে?

وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَيۡهِمۡ وَلَا تَكُنۡ فِىۡ ضَيۡقٍ مِّمَّا يَمۡكُرُوۡنَ‏

তুমি তাদের উপর দুঃখিত হয়ো না এবং তারা যেসব চক্রান্ত করে, সে বিষয়ে মনঃক্ষুণ্ণ হয়ো না।

وَيَقُوۡلُوۡنَ مَتٰى هٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِيۡنَ‏

আর তারা বলে, (ক্বিয়ামতের) এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

قُلۡ عَسٰٓى اَنۡ يَّكُوۡنَ رَدِفَ لَـكُمۡ بَعۡضُ الَّذِىۡ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ‏ 

বলে দাও, তোমরা যে বিষয়ে ব্যস্ত হচ্ছ, তার কিছু অংশ অবশ্যই তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছে।

وَاِنَّ رَبَّكَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَى النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكۡثَرَهُمۡ لَا يَشۡكُرُوۡنَ‏ 

আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল। কিন্তু তাদের অধিকাংশ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।

وَاِنَّ رَبَّكَ لَيَـعۡلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُوۡرُهُمۡ وَمَا يُعۡلِنُوۡنَ‏

তোমার প্রতিপালক অবশ্যই জানেন যা তাদের অন্তরসমূহ গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে।

وَمَا مِنۡ غَآٮِٕبَةٍ فِى السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّا فِىۡ كِتٰبٍ مُّبِيۡنٍ‏ 

আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন বিষয় নেই, যা স্পষ্ট কিতাবে (লিপিবদ্ধ) নেই।

اِنَّ هٰذَا الۡقُرۡاٰنَ يَقُصُّ عَلٰى بَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَ اَكۡثَرَ الَّذِىۡ هُمۡ فِيۡهِ يَخۡتَلِفُوۡنَ‏

নিশ্চয় এই কুরআন অধিকাংশ বিষয়ে বর্ণনা করে দিয়েছে যেগুলিতে বনু ইস্রাঈল মতভেদ করে।

وَاِنَّهٗ لَهُدًى وَّرَحۡمَةٌ لِّلۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বাসীদের জন্য পথ প্রদর্শক ও রহমত।

اِنَّ رَبَّكَ يَقۡضِىۡ بَيۡنَهُمۡ بِحُكۡمِهٖۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡعَلِيۡمُۙ ۚ

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক স্বীয় নির্দেশ দ্বারা তাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দিবেন। তিনিই মহা পরাক্রান্ত ও সর্বজ্ঞ।

فَتَوَكَّلۡ عَلَى اللّٰهِؕ اِنَّكَ عَلَى الۡحَـقِّ الۡمُبِيۡنِ‏

অতএব তুমি আল্লাহ্র উপর ভরসা কর। তুমি তো স্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

اِنَّكَ لَا تُسۡمِعُ الۡمَوۡتٰى وَلَا تُسۡمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوۡا مُدۡبِرِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই তুমি শুনাতে পারো না কোন মৃতকে এবং শুনাতে পারো না কোন বধিরকে, যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।

وَمَاۤ اَنۡتَ بِهٰدِى الۡعُمۡىِ عَنۡ ضَلٰلَتِهِمۡؕ اِنۡ تُسۡمِعُ اِلَّا مَنۡ يُّؤۡمِنُ بِاٰيٰتِنَا فَهُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ‏

আর তুমি অন্ধদেরকে তাদের ভ্রষ্টতা হ’তে সুপথে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবে, যারা আমাদের আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে। অতঃপর তারা হয় আজ্ঞাবহ।

وَ اِذَا وَقَعَ الۡقَوۡلُ عَلَيۡهِمۡ اَخۡرَجۡنَا لَهُمۡ دَآبَّةً مِّنَ الۡاَرۡضِ تُكَلِّمُهُمۡۙ اَنَّ النَّاسَ كَانُوۡا بِاٰيٰتِنَا لَا يُوۡقِنُوۡنَ‏

আর যখন তাদের উপর ক্বিয়ামতের শাস্তি অবধারিত হয়ে যাবে, তার প্রাক্কালে আমরা তাদের জন্য ভূগর্ভ থেকে একটা জীব বের করে আনব। সে তাদের সাথে (পুনরুত্থান বিষয়ে) কথা বলবে। একারণে যে, মানুষ আমাদের আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করত না।

وَ يَوۡمَ نَحۡشُرُ مِنۡ كُلِّ اُمَّةٍ فَوۡجًا مِّمَّنۡ يُّكَذِّبُ بِاٰيٰتِنَا فَهُمۡ يُوۡزَعُوۡنَ‏

যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে এক একটি দলকে সমবেত করব যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করত। অতঃপর তাদেরকে (হিসাব স্থলের দিকে) হাঁকিয়ে নেওয়া হবে।

حَتّٰٓى اِذَا جَآءُوۡ قَالَ اَكَذَّبۡتُمۡ بِاٰيٰتِىۡ وَلَمۡ تُحِيۡطُوۡا بِهَا عِلۡمًا اَمَّاذَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ‏

অবশেষে যখন তারা সেখানে উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করতে? অতঃপর সেগুলি তোমরা পূর্ণরূপে জ্ঞানায়ত্ত করতে পারোনি, নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?

وَوَقَعَ الۡقَوۡلُ عَلَيۡهِمۡ بِمَا ظَلَمُوۡا فَهُمۡ لَا يَنۡطِقُوۡنَ‏

অতঃপর তাদের উপর শাস্তি পতিত হবে তাদের সীমালংঘনের কারণে। তখন তারা কোন কথাই বলতে পারবে না।

اَلَمۡ يَرَوۡا اَنَّا جَعَلۡنَا الَّيۡلَ لِيَسۡكُنُوۡا فِيۡهِ وَالنَّهَارَ مُبۡصِرًاؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ لِّـقَوۡمٍ يُّؤۡمِنُوۡنَ‏

তারা কি দেখেনা যে, আমরা রাত্রি সৃষ্টি করেছি যাতে তারা তাতে বিশ্রাম নিতে পারে এবং দিবসকে সৃষ্টি করেছি আলোকময়? নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন সমূহ রয়েছে।

وَيَوۡمَ يُنۡفَخُ فِىۡ الصُّوۡرِ فَفَزِعَ مَنۡ فِىۡ السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِى الۡاَرۡضِ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اللّٰهُؕ وَكُلٌّ اَتَوۡهُ دٰخِرِيۡنَ‏

আর যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা আছে সবাই ভীত-বিহবল হয়ে পড়বে কেবল তারা ব্যতীত যাদেরকে আল্লাহ চাইবেন। আর সবাই তার কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়।

وَتَرَى الۡجِبَالَ تَحۡسَبُهَا جَامِدَةً وَّهِىَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِؕ صُنۡعَ اللّٰهِ الَّذِىۡۤ اَتۡقَنَ كُلَّ شَىۡءٍؕ اِنَّهٗ خَبِيۡرٌۢ بِمَا تَفۡعَلُوۡنَ‏ 

তুমি পর্বতমালাকে দেখে অটল মনে কর। অথচ সেদিন এগুলি মেঘের ন্যায় চলমান হবে। এটা আল্লাহ্র সৃষ্টি-মহিমা। যিনি সবকিছুকে সুসংবদ্ধ করেছেন। আর তোমরা যা কিছু কর নিশ্চয়ই তিনি তা সম্যক অবহিত।

مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَةِ فَلَهٗ خَيۡرٌ مِّنۡهَاۚ وَهُمۡ مِّنۡ فَزَعٍ يَّوۡمَٮِٕذٍ اٰمِنُوۡنَ‏

যে ব্যক্তি সৎকর্ম নিয়ে (আমার কাছে) আসবে, সে তার চাইতে উত্তম প্রতিদান পাবে। আর তারা সেদিনের সকল ভীতি হ’তে নিরাপদ থাকবে।

وَمَنۡ جَآءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتۡ وُجُوۡهُهُمۡ فِى النَّارِؕ هَلۡ تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ‏

আর যে ব্যক্তি মন্দকর্ম নিয়ে আসবে, তাকে মুখে ভর দেওয়া অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তোমাদের কৃতকর্মের ফল ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান কি তোমরা প্রাপ্ত হবে?

اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ رَبَّ هٰذِهِ الۡبَلۡدَةِ الَّذِىۡ حَرَّمَهَا وَلَهٗ كُلُّ شَىۡءٍ​ وَّاُمِرۡتُ اَنۡ اَكُوۡنَ مِنَ الۡمُسۡلِمِيۡنَۙ

আমি তো কেবল এই (মক্কা) নগরীর প্রতিপালকের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি। যিনি একে সম্মানিত করেছেন এবং তারই জন্য সবকিছু। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আজ্ঞাবহদের অন্তর্ভুক্ত হই।

وَاَنۡ اَتۡلُوَا الۡقُرۡاٰنَۚ فَمَنِ اهۡتَدٰى فَاِنَّمَا يَهۡتَدِىۡ لِنَفۡسِهٖۚ وَمَنۡ ضَلَّ فَقُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُنۡذِرِيۡنَ‏

আর আমি (আদিষ্ট হয়েছি) যেন আমি কুরআন পাঠ করি। অতঃপর যে ব্যক্তি তা দ্বারা সুপথপ্রাপ্ত হয়, সে নিজের কল্যাণের জন্যই সেটা হয়। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে অবস্থায় তুমি বল, আমি একজন সতর্ককারী বৈ কিছু নই।

وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ سَيُرِيۡكُمۡ اٰيٰتِهٖ فَتَعۡرِفُوۡنَهَاؕ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ‏

আর তুমি বল, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। সত্বর তিনি তোমাদেরকে তার নিদর্শনসমূহ দেখাবেন। তখন তোমরা সব বুঝতে পারবে। বস্ত্তত তোমরা যা কর সে বিষয়ে তোমার প্রতিপালক উদাসীন নন।