بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম মীম।
এগুলি প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত।
যা সৎকর্মশীলদের জন্য পথ প্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ।
যারা ছালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে এবং আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে।
তারাই তাদের প্রতিপালকের পথের উপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।
লোকদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা অজ্ঞতা বশে বাজে কথা খরীদ করে মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিচ্যুৎ করার জন্য এবং তারা আল্লাহ্র পথকে ঠাট্টার বস্ত্তরূপে গ্রহণ করে। এদের জন্য রয়েছে হীনকর শাস্তি।
আর যখন তার সামনে আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে শুনতেই পায়নি। যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে। অতএব তুমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদের জন্য রয়েছে নে‘মতপূর্ণ জান্নাত।
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। তিনিই মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
তিনি কোন স্তম্ভ ছাড়াই আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন, যা তোমরা দেখছ। আর পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা যাতে তা তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে এবং এর মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জীব-জন্তু। আর আমরা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি। অতঃপর এতে উৎপন্ন করি সকল প্রকার সুন্দর উদ্ভিদরাজি।
এটা হ’ল আল্লাহ্র সৃষ্টি। অতঃপর তোমরা আমাকে দেখাও অন্যেরা কি সৃষ্টি করেছে? বরং মুশরিকরা স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।
আর নিশ্চয়ই আমরা লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছিলাম যে, তুমি আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞ হও। কেননা যে কৃতজ্ঞ হয়, সে কেবল নিজের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয় (সে জানুক যে,) আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।
আর (স্মরণ কর,) যখন লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেছিল, হে বৎস! আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহাপাপ।
(আল্লাহ বলেন,) আর আমরা মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে। অতএব তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (মনে রেখ,) আমার নিকটেই তোমার প্রত্যাবর্তন।
কিন্তু যদি তোমার পিতা-মাতা তোমাকে চাপ দেয় আমার সাথে কাউকে শরীক করার জন্য, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহ’লে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না। তবে পার্থিব জীবনে তুমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে যাবে। আর যে ব্যক্তি আমার অভিমুখী হয়েছে, তুমি তার পথ অবলম্বন কর। অতঃপর আমার নিকটেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর আমি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করব।
(লোকমান বলল,) হে বৎস! যদি তোমার পাপ-পুণ্য সরিষাদানা পরিমাণও হয়, আর যদি তা প্রস্তরগর্ভে বা আকাশে বা ভূগর্ভে থাকে, আল্লাহ সেটি উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী ও সকল বিষয়ে খবর রাখেন।
হে বৎস! ছালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও ও অসৎকাজে নিষেধ কর এবং বিপদে ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ।
আর তুমি অহংকারবশে মানুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না এবং উদ্ধতভাবে যমীনে বিচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালবাসেন না।
তুমি তোমার পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং তোমার কণ্ঠস্বর নীচু রাখ। নিশ্চয়ই সবচাইতে কর্কশ স্বর হ’ল গাধার কণ্ঠস্বর।
তোমরা কি দেখ না, নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে সবকিছুকে আল্লাহ তোমাদের বশীভূত করেছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন নে’মত সমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? অথচ লোকদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা কোনরূপ জ্ঞান, পথনির্দেশ বা উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে।
যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার অনুসরণ কর। তখন তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। অথচ শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি তারা এটা বলবে?
আর যে ব্যক্তি তার চেহারাকে সমর্পণ করল আল্লাহ্র দিকে সৎকর্মশীল (মুমিন) অবস্থায়, সে দৃঢ়ভাবে ধারণ করল এক মযবুত হাতল। বস্ত্তত আল্লাহ্রই দিকে সকল কর্মের পরিণাম।
আর যে ব্যক্তি অবিশ্বাস করল, তার অবিশ্বাস যেন তোমাকে দুঃখিত না করে। আমাদেরই নিকট তাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমরা তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকলের অন্তর্যামী।
আমরা তাদেরকে স্বল্পকাল উপভোগের সুযোগ দেব। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগে বাধ্য করব।
আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্লাহ’। তুমি বল, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশই এ বিষয়ে জানেনা।
আল্লাহ্রই জন্য সব কিছু, যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।
আর যদি পৃথিবীর বৃক্ষরাজি সব কলম হয় এবং বর্তমান (সাত) সমুদ্রের সাথে আরও সাত সমুদ্র কালি হয়, তবুও আল্লাহ্র প্রশংসাবাণী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান ব্যতীত নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে রাত্রির মধ্যে প্রবেশ করান? আর তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের বশীভূত করেছেন। প্রতিটিই নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চলমান থাকবে। আর আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম সম্পর্কে ভালভাবে খবর রাখেন।
এগুলিই প্রমাণ যে, আল্লাহই সত্য এবং তাকে ছেড়ে ওরা যাদের আহবান করে, সবই মিথ্যা। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোচ্চ ও মহিয়ান।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ্র অনুগ্রহে নৌযানগুলি সমূদ্রবক্ষে চলাচল করে। যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলীর কিছু দেখাতে পারেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।
আর যখন সমুদ্র তরঙ্গ তাদেরকে ঘন মেঘপুঞ্জের ন্যায় আচ্ছন্ন করে, তখন তারা বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে উদ্ধার করে স্থলভাগে পৌঁছে দেন, তখন তাদের কেউ কেউ আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয়ে যায়। বস্ত্তত আমাদের নিদর্শন সমূহ কেউ অস্বীকার করেনা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া।
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর এবং ভয় কর সেই দিনকে, যেদিন পিতা তার পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্র তার পিতার কোন কাজে আসবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। অতএব পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং শয়তান যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।
নিশ্চয় আল্লাহ্র নিকটেই রয়েছে ক্বিয়ামতের জ্ঞান। আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন মায়ের গর্ভাশয়ে কি আছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন মাটিতে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সকল বিষয়ে খবর রাখেন।