بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম মীম।
রোমকরা পরাজিত হয়েছে।
নিকটবর্তী অঞ্চলে (শামে)। আর তারা তাদের এই পরাজয়ের পর সত্বর বিজয়ী হবে,
কয়েক বছরের মধ্যেই। আল্লাহ্রই কাছে সিদ্ধান্ত পূর্বের ও পরের। আর সেদিন মুমিনরা খুশী হবে,
আল্লাহ্র সাহায্যে। তিনি যাকে চান সাহায্য করেন। আর তিনি মহাপরাক্রান্ত ও পরম দয়ালু।
এটি আল্লাহ্র ওয়াদা। আর আল্লাহ তার ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
তারা তো পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকের সামান্য কিছু জানে। আর আখেরাত বিষয়ে তারা অজ্ঞ।
তারা কি নিজেদের অন্তরে চিন্তা করে না যে, আল্লাহ নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য? কিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, অতঃপর দেখে না যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কিরূপ হয়েছে? তারা ছিল তাদের চাইতে অধিক শক্তিশালী। তারা যমীনে চাষাবাদ করত এবং তাতে আবাদ করত যা এরা আবাদ করে তার চাইতে বেশী। তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে। অতঃপর আল্লাহ তাদের শাস্তি দিতে চাননি। কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
অতঃপর যারা মন্দকর্ম করত, তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ। কারণ তারা আল্লাহ্র আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করত এবং তা নিয়ে উপহাস করত।
আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। অতঃপর তোমরা সবাই তাঁর নিকটে প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হবে।
তাদের শরীকদের মধ্যে কেউ তাদের জন্য সুফারিশ করবে না। বরং তারাই তাদের শরীকদের অস্বীকার করবে।
যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মানুষ (মুমিন ও কাফেরে) বিভক্ত হয়ে পড়বে।
অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করেছিল, তারা জান্নাতে আনন্দে থাকবে।
আর যারা অবিশ্বাসী ছিল এবং আমাদের আয়াত সমূহে ও পরকালের সাক্ষাৎকারে মিথ্যারোপ করেছিল, তারা শাস্তির মধ্যে একত্রিত হবে।
অতএব তোমরা আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা কর সন্ধ্যায় ও প্রভাতে।
আর তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং অপরাহ্নে (আছরে) ও যোহরে।
তিনি জীবিতকে মৃত থেকে ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন এবং মৃত্যুর পর যমীনকে পুনর্জীবিত করেন। আর এভাবেই তোমরা পুনরুত্থিত হবে।
তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম হ’ল, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর এখন তোমরা (জীবন্ত) মানুষ হিসাবে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছ।
তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম হ’ল, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হ’তেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের স্ত্রীদের, যাতে তোমরা তাদের নিকট স্বস্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের উভয়ের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া । নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম হ’ল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য সৃষ্টি। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য।
তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম হ’ল, রাত্রিতে ও দিবসে তোমাদের নিদ্রা ও তার মধ্যে আল্লাহ্র অনুগ্রহ সন্ধান। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে শ্রবণকারী সম্প্রদায়ের জন্য।
তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম হ’ল, তিনি তোমাদেরকে বিদ্যুতের চমক দেখান ভয় ও আকাংখারূপে। আর তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তার মাধ্যমে যমীনকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে অনুধাবনকারী সম্প্রদায়ের জন্য।
তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম হ’ল, আকাশ ও পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে তাঁর নির্দেশে। অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে ডাক দিবেন, তখন তোমরা মাটি থেকে বেরিয়ে আসবে।
আর তারই জন্য সবকিছু, যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। সবই তার অনুগত।
আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটি তার জন্য খুবই সহজ। বস্ত্তত আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ বিশেষণ তাঁরই। তিনি মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন। আমরা তোমাদেরকে যে রূযী দান করেছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের কেউ কি তাতে শরীক আছে? তোমরা কি তাতে সমান? তোমরা কি তাদের ভয় কর যেরূপ তোমরা পরস্পরকে ভয় কর? এভাবেই আমরা জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন সমূহ ব্যাখ্যা করে থাকি।
বরং সীমালংঘনকারীরা অজ্ঞতাবশে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। সুতরাং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখাবে কে? আর তাদের তো কোন সাহায্যকারী নেই।
অতএব তুমি নিজেকে একনিষ্ঠভাবে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। আল্লাহ্র ধর্ম, যার উপরে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্র সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
আর তোমরা তাকে ভয় কর তার প্রতি বিনীত হয়ে। তোমরা ছালাত কায়েম কর এবং তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
যারা তাদের ধর্মে মতভেদ করেছে এবং নানা দলে বিভক্ত হয়েছে। বস্ত্তত প্রত্যেক দলই নিজ নিজ যুক্তি নিয়ে উল্লসিত।
আর মানুষকে যখন কোন কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তারা বিশুদ্ধ চিত্তে তাদের প্রতিপালককে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাঁর পক্ষ হ’তে তাদেরকে কিছু অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদের একটি দল তাদের প্রতিপালকের সাথে অন্যকে শরীক করে।
যাতে যে অনুগ্রহ আমরা তাদের প্রদান করেছি, তারা তা অস্বীকার করে। বেশ তোমরা উপভোগ করতে থাক। সত্বর এর পরিণাম তোমরা জানতে পারবে।
আমরা কি তাদের নিকট এমন কোন প্রমাণ নাযিল করেছি, যা তাদেরকে আমার সাথে অন্যকে শরীক করতে বলে?
আর যখন আমরা মানুষকে কোন অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা তাতে উৎফুল্ল হয়। পক্ষান্তরে তাদের কৃতকর্মের দরুণ যদি তাদের কোন মন্দ স্পর্শ করে, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যাকে চান রিযিক বাড়িয়ে দেন ও কমিয়ে দেন? নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহ রয়েছে।
অতএব নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও (দুস্থ) মুসাফিরকে। এটা তাদের জন্য উত্তম, যারা (পরকালে) আল্লাহ্র চেহারা কামনা করে। আর তারাই হ’ল সফলকাম।
লোকদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে মনে করে তোমরা যে সূদ প্রদান করে থাক, আল্লাহ্র নিকটে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহ্র চেহারা কামনায় তোমরা যে ছাদাক্বা দিয়ে থাক, তারা তার বহুগুণ বেশী লাভ করে থাকে।
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদেরকে রূযী দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। অতঃপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এসবের কিছুই করতে পারে? বস্ত্তত তারা যাদেরকে শরীক করে, আল্লাহ তাদের থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে।
মানুষের কৃতকর্মের ফলে স্থলে ও জলে সর্বত্র বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের কিছু কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা (আল্লাহ্র দিকে) ফিরে আসে।
তুমি বল, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ তোমাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
অতএব তুমি তোমার চেহারাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ সরল ধর্মের উপর সেদিন আসার পূর্বে, আল্লাহ থেকে যেদিনের কোন প্রত্যাবর্তন নেই। যেদিন মানুষ (মুমিন ও কাফেরে) বিভক্ত হয়ে পড়বে।
যে ব্যক্তি অবিশ্বাস করে, তার অবিশ্বাসের ফল তার উপরেই বর্তায়। আর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, তারা তো নিজেদের জন্য (জান্নাতের) বিছানা প্রস্ত্তত করে।
যাতে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে পুরস্কার দিতে পারেন ঐসব লোকদের, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে। নিশ্চয়ই তিনি অবিশ্বাসীদের ভালবাসেন না।
তাঁর নিদর্শন সমূহের অন্যতম হ’ল, তিনি (বৃষ্টির পূর্বে) সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন। যাতে তিনি তাঁর অনুগ্রহের কিছু স্বাদ তোমাদের আস্বাদন করাতে পারেন এবং যাতে তাঁর নির্দেশক্রমে নৌযান সমূহ চলাচল করতে পারে। যাতে তোমরা তাঁর কিছু অনুগ্রহ (জীবিকা) সন্ধান করতে পার ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
বস্ত্তত আমরা তোমার পূর্বে রাসূলগণকে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছি। তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ (মু‘জেযা) নিয়ে আগমন করেছিল। অতঃপর যারা পাপাচারী ছিল আমরা তাদের বদলা নিয়েছি। আর আমাদের উপর দায়িত্ব হ’ল বিশ্বাসীদের সাহায্য করা।
তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ুপ্রবাহ প্রেরণ করেন। অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর আল্লাহ তাকে আকাশে বিস্তৃত করেন যেভাবে তিনি চান। অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত কালো মেঘে পরিণত করেন। অতঃপর তুমি দেখতে পাও বারিধারা যা তার মধ্য থেকে নির্গত হয়। অতঃপর যখন তিনি যাকে চান তার বান্দাদের মধ্যে এটি পৌঁছে দেন, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
যদিও তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে তারা ছিল হতাশাগ্রস্ত।
অতঃপর তুমি আল্লাহ্র রহমতের নিদর্শনাবলীর দিকে লক্ষ্য কর ও দেখ, কিভাবে তিনি মৃত যমীনকে জীবিত করেন। এভাবেই তিনি মৃতদের জীবিত করবেন। আর তিনি সকল বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
আর যদি আমরা এমন বায়ু প্রেরণ করি, যাতে তারা তাদের শস্যক্ষেত হলুদ হ’তে দেখে, তখন তারা খুশীতে (আল্লাহ্র অনুগ্রহকে) অস্বীকার করে।
অতএব (হে রাসূল!) তুমি তোমার আহবান শুনাতে পারবে না মৃতদের এবং শুনাতে পারবে না বধিরকে, যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।
আর তুমি অন্ধকে তাদের পথভ্রষ্টতা হ’তে ফিরাতে পারবে না। তুমি কেবল শুনাতে পারবে তাদের, যারা আমাদের আয়াত সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে। অতঃপর তারা হয় আজ্ঞাবহ।
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন দুর্বলরূপে। অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তি দান করেন। অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করেন। তিনিই সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান।
আর যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মুশরিকরা শপথ করে বলবে যে, তারা (দুনিয়ায়) এক মুহূর্তের বেশী ছিলনা। এভাবেই তারা সত্যবিমুখ হ’ত।
আর যাদের জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহ্র নির্ধারণ মতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেছিলে। আর এটাই তো সেই পুনরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা তা জানতে না (বরং অস্বীকার করতে)।
অতঃপর সেদিন যালেমদের ওযর-আপত্তি কোন কাজে আসবে না এবং তারা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে না।
আর আমরা মানুষের জন্য এই কুরআনে সকল প্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। এক্ষণে তুমি যদি তাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে উপস্থিত হও, তাহ’লে অবিশ্বাসীরা বলবে, তোমরা তো বাতিলপন্থী।
এমনিভাবে আল্লাহ অজ্ঞদের অন্তর সমূহে মোহর মেরে দিয়েছেন।
অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। আর যারা (ক্বিয়ামতে) দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, তারা যেন তোমাকে বিচলিত না করে।