بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
সেদিন তার সংঘটিত হওয়াকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।
যা নীচু করবে ও উঁচু করবে।
যেদিন পৃথিবী প্রবলভাবে কম্পিত হবে
এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
অতঃপর সেগুলি উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
আর সেদিন তোমরা তিন ভাগে বিভক্ত হবে।
অতঃপর ডান পাশের লোকেরা। কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের লোকেরা!
এবং বাম পাশের লোকেরা। কতই না হতভাগা বাম পাশের লোকেরা!
আর অগ্রভাগের লোকেরা। তারা তো অগ্রবর্তীই।
তারাই হ’ল নৈকট্যশীল।
তারা থাকবে নে‘মতপূর্ণ জান্নাত সমূহে।
এক দল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হ’তে
এবং কম সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হ’তে।
(তারা বসবে) স্বর্ণখচিত আসন সমূহে।
তারা তাতে ঠেস দিয়ে বসবে পরস্পরে মুখোমুখি হয়ে।
তাদের সেবায় চলাচল করবে চির কিশোরগণ।
গ্লাস ও জগ নিয়ে এবং ঝর্ণা নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে।
যা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবেনা বা তারা মাতাল হবেনা।
(কিশোররা থাকবে) ফলমূল নিয়ে যা তারা পসন্দ করবে।
এবং পাখির গোশত নিয়ে যা তারা কামনা করবে।
(আর তাদের জন্য থাকবে) আনতনয়না হূরগণ।
সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ।
তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।
সেখানে তারা শুনবেনা কোন অনর্থক কথা বা কোন পাপের কথা।
শান্তি আর শান্তির কথা ব্যতীত।
আর ডান পাশের দল। কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের দল!
(তারা থাকবে) কাঁটাবিহীন কুল বাগানে
এবং কাঁদি ভরা কলা বাগানে।
তারা থাকবে প্রলম্বিত ছায়াতলে।
সদা বহমান পানির মধ্যে।
থাকবে প্রচুর ফলমূলের মধ্যে।
যা শেষ হবে না, নিষিদ্ধও হবে না।
তারা থাকবে সমুচ্চ শয্যাসমূহে।
আমরা তাদেরকে (অর্থাৎ জান্নাতী রমনীদের) সৃষ্টি করেছি বিশেষ রূপে।
অতঃপর আমরা তাদেরকে করেছি কুমারী।
সদা সোহাগিনী, সমবয়সী।
(এ সবই থাকবে) ডান পাশের লোকদের জন্য।
যাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হ’তে।
আরেক দল হবে পরবর্তীদের মধ্য হ’তে।
আর বাম পাশের দল। কতই না হতভাগ্য তারা!
তারা থাকবে উত্তপ্ত বায়ু ও ফুটন্ত পানির মধ্যে।
থাকবে ঘোরকৃষ্ণ ধূম্রকুন্ডলীর ছায়াতলে।
যা শীতল নয় বা শান্তিদায়ক নয়।
ইতিপূর্বে তারা ছিল ভোগ-বিলাসে মত্ত।
আর তারা ঘোরতর পাপে ডুবে থাকত।
তারা বলত, যখন আমরা মরে যাব এবং মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব, তখন কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
এমনকি আমাদের পূর্ব পুরুষেরাও?
বলে দাও! নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীগণ ও পরবর্তীগণ,
অবশ্যই সকলে সমবেত হবে একটি নির্ধারিত দিনের সুনির্দিষ্ট সময়ে (অর্থাৎ ক্বিয়ামত দিবসে)।
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীরা!
তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কূম বৃক্ষ থেকে।
অতঃপর তা দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে।
তার উপর তোমরা পান করবে ফুটন্ত পানি।
পান করবে তোমরা তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায়।
ক্বিয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
আমরাই তোমাদের সৃষ্টি করেছি। অথচ কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করছ না?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে?
ওটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি?
আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমরা মোটেই অক্ষম নই-
এ ব্যাপারে যে, আমরা তোমাদের বদলে অন্যদের নিয়ে আসব এবং তোমাদের সৃষ্টি করব এমন ভাবে, যে বিষয়ে তোমরা জানো না।
আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জানো। তাহ’লে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না?
তোমরা যে শস্যবীজ বপন কর, সে বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি?
তোমরা কি ওটা উৎপন্ন কর, না আমরা উৎপন্ন করি?
যদি আমরা চাই তবে অবশ্যই ওটাকে খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি। তখন তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে।
(তখন তোমরা বলবে) আমরা তো নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়ে গেলাম।
বরং আমরা তো বঞ্চিত হয়ে গেলাম।
তোমরা যে পানি পান কর, সে বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি?
তোমরা কি মেঘ থেকে ওটা বর্ষণ কর, না আমরা বর্ষণ করি?
যদি আমরা চাইতাম, তাহ’লে ওটাকে তিক্ত বানাতে পারতাম। অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর না?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও, সে বিষয়ে ভেবেছ কি?
তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি?
আমরা একে (আগুনকে) সৃষ্টি করেছি উপদেশ স্বরূপ এবং পথিকদের জন্য কল্যাণ স্বরূপ।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা বর্ণনা কর।
অতঃপর আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচল সমূহের।
অবশ্যই এটি একটি মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে।
নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন।
যা ছিল সুরক্ষিত কিতাবে।
পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ একে স্পর্শ করেনি।
এটি জগত সমূহের প্রতিপালকের নিকট হ’তে অবতীর্ণ।
তবুও কি তোমরা এই বাণীর সাথে অবহেলা প্রদর্শন করবে?
এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের উপজীব্য করে নিবে?
বেশ তাহ’লে কেন তোমরা ফিরাতে পারো না যখন তোমাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হয়?
আর তখন তোমরা কেবল তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ।
অথচ আমরা তোমাদের চাইতে তার অধিক নিকটবর্তী থাকি। কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাওনা।
বেশ যদি তোমরা এগুলি মান্যকারী না হও।
তাহ’লে তোমরা রূহটিকে ফিরিয়ে নাও যদি তোমরা (তোমাদের অবিশ্বাসে) সত্যবাদী হও।
এক্ষণে যদি ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্র নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তাহ’লে তার জন্য রয়েছে শান্তি ও সুগন্ধি এবং নে‘মতপূর্ণ জান্নাত।
আর যদি সে ডান পাশের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
(তাহ’লে বলা হবে) তোমার জন্য ‘সালাম’, হে ডান পাশের লোক!
কিন্তু যদি সে মিথ্যারোপকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
তাহ’লে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি
এবং জাহান্নামে প্রবেশ।
অবশ্যই এটি নিশ্চিতভাবে সত্য।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা বর্ণনা কর।