بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
অবশ্যই আল্লাহ শুনেছেন ঐ মহিলার কথা যে তোমার সঙ্গে ঝগড়া করেছে তার স্বামী সম্পর্কে এবং অভিযোগ পেশ করেছে আল্লাহ্র নিকটে। আল্লাহ তোমাদের উভয়ের বাদানুবাদ শুনেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও দেখেন।
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে ‘যিহার’ করে (অর্থাৎ নিজ স্ত্রীকে ‘মায়ের পিঠের মত’ বলে), তারা তাদের মা নয়। নিশ্চয়ই তাদের মা হ’ল তারাই যারা তাদের প্রসব করেছে। অবশ্যই তারা ঘৃণ্য ও মিথ্যা কথা বলে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী ও ক্ষমাশীল।
যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে ‘যিহার’ করে এবং পরে তাদের কথা প্রত্যাহার করে নেয়, তারা তাদের স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করবে। এর দ্বারা তোমাদের উপদেশ দেওয়া হ’ল। বস্ত্তত তোমরা যা কর, আল্লাহ সবই খবর রাখেন।
কিন্তু যারা এর সামর্থ্য রাখে না, তারা পরস্পরে স্পর্শ করার পূর্বে একটানা দু’মাস ছিয়াম রাখবে। আর তাতে অক্ষম হ’লে ষাটজন মিসকীন খাওয়াবে। এটা এজন্য (যাতে ঐ বাজে কথা হ’তে তওবা করে) তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর (পুরোপুরি) ঈমান আনতে পার। আর এটি হ’ল আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা। একে প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা লাঞ্ছিত হয়, যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। অথচ আমরা সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে হীনকর শাস্তি।
যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। আল্লাহ তাদের কর্মের হিসাব রেখেছেন। অথচ তারা তা ভুলে গেছে। বস্ত্তত আল্লাহ সবকিছুর উপরে সাক্ষী থাকেন।
তুমি কি বুঝ না যে, নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ জানেন? তোমাদের তিনজনের গোপন আলাপেও তিনি থাকেন চতুর্থ এবং পাঁচজনে তিনি থাকেন ষষ্ঠ। তার চাইতে সংখ্যায় তারা কম হৌক বা বেশী হৌক, সর্বদা তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যেখানেই তারা থাকুক না কেন। অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে বিজ্ঞ।
তুমি কি তাদের দেখ না যাদেরকে কানাঘুষা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। অতঃপর তারা সেই নিষিদ্ধ কাজেরই পুনরাবৃত্তি করে। আর পাপাচার, সীমালংঘন ও রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়েই তারা কানাঘুষা করে। তারা যখন তোমার কাছে আসে, তখন তারা এমন ভাষায় অভিবাদন করে, যে ভাষায় আল্লাহ তোমাকে সম্ভাষণ জানাননি। আর তারা মনে মনে বলে, আমরা যা বলি, সেজন্য আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের জন্য যথেষ্ট। তারা তাতে প্রবেশ করবে। কতই না নিকৃষ্ট সেই ঠিকানা।
হে মুমিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, তখন পাপ, সীমালংঘন ও রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে শলা-পরামর্শ করো না। বরং তোমরা কল্যাণ কর্মে ও আল্লাহভীরুতার কাজে শলা-পরামর্শ কর। আর আল্লাহকে ভয় কর যার নিকটেই তোমাদের একত্রিত করা হবে।
ঐ কানাঘুষা শয়তানের কাজ বৈ তো নয়, যা মুমিনদের দুঃখ দেওয়ার জন্য করা হয়। অথচ তা তাদের কোনই ক্ষতি করতে পারে না আল্লাহ্র অনুমতি ব্যতীত। অতএব মুমিনদের উচিত আল্লাহ্র উপর ভরসা করা।
হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয় মজলিস প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা সেটি কর। আল্লাহ তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দিবেন। আর যখন বলা হয়, উঠে যাও, তখন উঠে যাও। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তা ভালভাবে খবর রাখেন।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা রাসূলের সঙ্গে একান্তে কথা বলবে, তখন কথা বলার পূর্বে ছাদাক্বা পেশ কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম ও পবিত্রতর। আর যদি তোমরা সেটা না পার, তাহ’লে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তোমরা কি (রাসূলের সঙ্গে) একান্তে আলাপকালে ছাদাক্বা পেশ করতে ভয় পাচ্ছ? এক্ষণে যখন সেটা তোমরা করলে না এবং আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিলেন, তখন তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
তুমি কি তাদের দেখ না যারা আল্লাহ্র অভিশপ্ত সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে? ওরা তোমাদের দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও দলভুক্ত নয়। আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যা শপথ করে।
আল্লাহ তাদের জন্য কঠোর শাস্তি প্রস্ত্তত রেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা যা করে তা কতই না মন্দ!
তারা তাদের শপথগুলিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। আর এগুলির মাধ্যমে তারা মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিরত রাখে। ফলে তাদের জন্য রয়েছে হীনকর শাস্তি।
তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদেরকে আল্লাহ্র কবল থেকে বাঁচাতে পারবে না। ওরা হ’ল জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন তারা আল্লাহ্র সামনে শপথ করবে। যেমন তারা তোমাদের সামনে শপথ করে এবং তারা ধারণা করে যে, তারা যথেষ্ট হেদায়াতের উপর রয়েছে। সাবধান ওরাই হ’ল মিথ্যাবাদী।
শয়তান তাদের উপর বিজয়ী হয়েছে। ফলে সে তাদেরকে আল্লাহ্র স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। ওরা হ’ল শয়তানের দল। জেনে রেখ, নিশ্চয় শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেছেন যে, অবশ্যই আমি ও আমার রাসূলগণ বিজয়ী হব। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিধর ও মহাপরাক্রান্ত।
আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়কে তুমি পাবে না, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ কারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে। যদিও তারা তাদের বাপ-দাদা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বেরাদর বা আত্মীয়-স্বজন হৌক! আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ঈমানকে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তার পক্ষ থেকে জিব্রীলকে দিয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। আর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। এরা হ’ল আল্লাহ্র দল। জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ্র দলই সফলকাম।