بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা করে। তিনি মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
তিনিই আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে প্রথমবারের মত একত্রিতভাবে বহিষ্কার করেছেন। তোমরা ধারণা করোনি যে, তারা বের হয়ে যাবে। আর তারা ভেবেছিল যে, তাদের দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ্র কবল থেকে রক্ষা করবে। অতঃপর আল্লাহ্র শাস্তি তাদের নিকটে এমন দিক থেকে আসলো যে, তারা কল্পনাও করেনি। আর আল্লাহ তাদের অন্তরে এমন ভীতি সঞ্চার করে দিলেন যে, তারা তাদের বাড়ী-ঘর নিজেদের হাতে ও মুসলমানদের হাতে ধ্বংস করতে লাগল। অতএব হে দূরদর্শী ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ হাছিল কর।
যদি আল্লাহ তাদের জন্য নির্বাসনের ফায়ছালা না করতেন, তাহ’লে তাদেরকে অবশ্যই দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জানা উচিৎ যে, আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।
তোমরা যে কিছু খেজুর গাছ কেটেছ এবং কিছু স্ব স্ব কান্ডের উপর দন্ডায়মান রেখেছ, সেটা তো আল্লাহ্রই অনুমতিক্রমে। আর এটা এজন্য, যাতে তিনি অবাধ্যদের লাঞ্ছিত করতে পারেন।
আল্লাহ শত্রুদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যে ‘ফাই’ তার রাসূলকে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা কোন ঘোড়া বা উট হাঁকিয়ে যুদ্ধ করোনি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে যার উপরে চান বিজয়ী করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী।
আল্লাহ জনপদবাসীদের নিকট থেকে স্বীয় রাসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহ্র জন্য ও রাসূলের জন্য এবং তার নিকটাত্মীয়দের ও ইয়াতীম-মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য। যাতে সম্পদ কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত হও। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।
(ফাই-এর সম্পদ) অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য। যারা তাদের ঘর-বাড়ি ও মাল-সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। যারা আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। এরাই হ’ল সত্যবাদী।
আর যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে এ নগরীতে বসবাস করত এবং ঈমান এনেছিল। যারা মুহাজিরদের ভালবাসে এবং তাদেরকে (ফাই থেকে) যা দেওয়া হয়েছে, তাতে তারা নিজেদের মনে কোনরূপ আকাংখা পোষণ করে না। আর তারা নিজেদের উপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তাদেরই রয়েছে অভাব। বস্ত্তত যারা হৃদয়ের কার্পণ্য হ’তে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
আর (এই সম্পদ তাদের জন্য) যারা তাদের পরে এসেছে। যারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের ভাইদের ক্ষমা কর, যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে। আর ঈমানদারগণের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
তুমি কি মুনাফিকদের দেখনি, যারা কিতাবধারীদের মধ্যকার তাদের কাফের ভাইদের বলে, যদি তোমরা বহিষ্কৃত হও, তবে আমরাও তোমাদের সাথে অবশ্যই বেরিয়ে যাব। আর তোমাদের স্বার্থের বিপরীতে আমরা কখনোই কারু কোন কথা মানবো না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাহায্য করব। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, ওরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
যদি ইহূদীরা বহিষ্কৃত হয়, তাহ’লে মুনাফিকরা তাদের সাথে বেরিয়ে যাবে না। আর তারা আক্রান্ত হ’লে এরা তাদের কোন সাহায্য করবে না। আর যদি তারা সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পিঠ ফিরে পালাবে। অতঃপর কাফেররা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
নিশ্চয়ই (হে মুমিনগণ!) তোমরা তাদের (অর্থাৎ কাফের ও মুনাফিকদের) অন্তরে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক ভীতিকর। এটা এজন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।
তারা সম্মিলিতভাবে তোমাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে আসবে না। কেবল সুরক্ষিত জনপদের মধ্যে অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়ালে থেকে ব্যতীত। তাদের পরস্পরের মধ্যে আভ্যন্তরীণ লড়াই প্রচন্ড। তুমি তাদেরকে মনে কর ঐক্যবদ্ধ। অথচ তাদের হৃদয়গুলি বিভক্ত। এটা এজন্য যে, ওরা হ’ল বেওকূফ সম্প্রদায়।
এরা হ’ল তাদের মত যারা মাত্র কিছুদিন পূর্বে তাদের অপকর্মের পরিণাম ভোগ করেছে। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
তাদের দৃষ্টান্ত শয়তানের মত, যে মানুষকে বলে কুফরী কর। অতঃপর যখন সে কুফরী করে, তখন বলে আমি তোমার থেকে মুক্ত। আমি বিশ্ব চরাচরের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।
অতঃপর উভয়ের পরিণতি হবে এই যে, তারা উভয়ে জাহান্নামে থাকবে চিরকাল। আর এটাই হ’ল যালেমদের কর্মফল।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর প্রত্যেক ব্যক্তির উচিৎ এ বিষয়ে ভেবে দেখা যে, সে আগামী দিনের জন্য কি অগ্রিম প্রেরণ করছে? আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
আর তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে আত্মভোলা করে দিয়েছেন। ওরাই হ’ল অবাধ্য।
জাহান্নামের অধিবাসী ও জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়। জান্নাতের অধিবাসীরাই সফলকাম।
যদি এই কুরআন আমরা কোন পাহাড়ের উপর নাযিল করতাম, তাহ’লে অবশ্যই তুমি তাকে দেখতে আল্লাহ্র ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হ’তে। আর আমরা এইসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ণনা করি যাতে তারা চিন্তা করে।
তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছু জানেন। যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি, নিরাপত্তা দানকারী, তত্ত্বাবধানকারী, পরাক্রমশালী, প্রতাপশালী, অহংকারের অধিকারী। লোকেরা যাদেরকে শরীক করে, তিনি তাদের থেকে পবিত্র।
তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকারী, আকৃতি দানকারী, তাঁরই জন্য সুন্দরতম নামসমূহ। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর গুণগান করে। আর তিনিই তো মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।