بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
যখন তোমার কাছে মুনাফিকরা আসে, তখন বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহ্র রাসূল। অথচ আল্লাহ জানেন যে, তুমি নিশ্চয়ই তাঁর রাসূল। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
তারা তাদের শপথগুলিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা (এর মাধ্যমে) মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে বাধা দেয়। নিশ্চয়ই তারা যা করে, তা খুবই মন্দ।
এটা এজন্যে যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে। অতএব তারা (হক) বুঝে না।
আর যখন তুমি তাদের দেখবে তখন তাদের দেহসৌষ্ঠব তোমাকে প্রীত করবে। আর যদি তারা কথা বলে, তুমি তাদের কথা শুনবে। যেন ওরা দেওয়ালে লাগানো কাঠের ন্যায়। প্রত্যেক শোরগোলকে তারা তাদের বিরুদ্ধে মনে করে। ওরা (তোমাদের) শত্রু। অতএব ওদের বিষয়ে সাবধান থাক। আল্লাহ ওদের ধ্বংস করুন! ওরা কোথায় দিশেহারা হয়ে ঘুরছে?
যখন তাদের বলা হয়, তোমরা এস আল্লাহ্র রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। তখন তারা মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর তুমি তাদের দেখবে, তারা দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর, দু’টিই সমান। আল্লাহ কখনোই ওদের ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন পাপাচারী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
ওরা তো তারাই যারা বলে, আল্লাহ্র রাসূলের নিকট যারা থাকে, তাদের জন্য কিছু ব্যয় করোনা যতক্ষণ না তারা সেখান থেকে চলে যায়। অথচ আসমান ও যমীনের ধন-ভান্ডার আল্লাহ্রই অধিকারে। কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।
তারা বলে, আমরা যদি মদীনায় ফিরতে পারি, তাহ’লে নিশ্চয়ই সম্মানিতরা সেখান থেকে নিকৃষ্টদের বের করে দেবে। অথচ সম্মান তো কেবল আল্লাহ্র জন্য এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনদের জন্য। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।
হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ্র স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। যারা এরূপ করবে (অর্থাৎ উদাসীন হবে), তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
আর আমরা তোমাদেরকে যে রূযী দিয়েছি তা থেকে তোমরা (আল্লাহ্র পথে) ব্যয় কর তোমাদের কারু মৃত্যু আসার আগেই। অতঃপর সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! যদি তুমি আমাকে স্বল্পকাল অবকাশ দিতে, তাহ’লে আমি ছাদাক্বা করতাম ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হ’তাম।
আর আল্লাহ কখনোই কাউকে অবকাশ দিবেন না যখন তার নির্ধারিত সময়কাল এসে যাবে। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম বিষয়ে খবর রাখেন।