৬৬

সূরাঃ তাহরীম (নিষিদ্ধ করণ)

মাদানীমোট আয়াত ১২ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

يٰۤاَيُّهَا النَّبِىُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰهُ لَـكَۚ تَبۡتَغِىۡ مَرۡضَاتَ اَزۡوَاجِكَؕ وَاللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِيۡمٌ‏

হে নবী! কেন তুমি হারাম করছ যা আল্লাহ তোমার জন্য হালাল করেছেন? তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছ। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

قَدۡ فَرَضَ اللّٰهُ لَـكُمۡ تَحِلَّةَ اَيۡمَانِكُمۡؕ وَاللّٰهُ مَوۡلٰٮكُمۡۚ وَهُوَ الۡعَلِيۡمُ الۡحَكِيۡمُ‏

আল্লাহ তোমাদের জন্য শপথ থেকে মুক্তি লাভের বিধান দিয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক। তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

وَاِذۡ اَسَرَّ النَّبِىُّ اِلٰى بَعۡضِ اَزۡوَاجِهٖ حَدِيۡثًاۚ فَلَمَّا نَـبَّاَتۡ بِهٖ وَاَظۡهَرَهُ اللّٰهُ عَلَيۡهِ عَرَّفَ بَعۡضَهٗ وَاَعۡرَضَ عَنۡۢ بَعۡضٍۚ فَلَمَّا نَـبَّاَهَا بِهٖ قَالَتۡ مَنۡ اَنۡۢبَاَكَ هٰذَاؕ قَالَ نَـبَّاَنِىَ الۡعَلِيۡمُ الۡخَبِیْرُ‏

আর (স্মরণ কর) যখন নবী তার কোন একজন স্ত্রীকে (হাফছাকে) গোপনে কিছু বলেছিল। অতঃপর সে যখন সেটি অন্যকে (আয়েশাকে) বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ সেটি নবীকে জানিয়ে দেন, তখন সে তাকে (হাফছাকে) উক্ত বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিল ও কিছু এড়িয়ে গেল। অতঃপর যখন সে তাকে (হাফছাকে) বিষয়টি জানায়, তখন সে বলে কে আপনাকে এটি জানালো? সে বলল, আমাকে জানিয়েছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ ও সবকিছু খবর রাখেন।

اِنۡ تَتُوۡبَاۤ اِلَى اللّٰهِ فَقَدۡ صَغَتۡ قُلُوۡبُكُمَاۚ وَاِنۡ تَظٰهَرَا عَلَيۡهِ فَاِنَّ اللّٰهَ هُوَ مَوۡلٰٮهُ وَجِبۡرِيۡلُ وَصَالِحُ الۡمُؤۡمِنِيۡنَۚ وَالۡمَلٰٓٮِٕكَةُ بَعۡدَ ذٰلِكَ ظَهِيۡرٌ‏

যদি তোমরা উভয়ে (হাফছা ও আয়েশা) আল্লাহ্র দিকে ফিরে যাও, যেহেতু তোমাদের হৃদয়গুলি (তওবার দিকে) ঝুঁকে পড়েছে (তাহ’লে তোমাদের ভাল হবে)। আর যদি তোমরা নবীর বিরুদ্ধে পরস্পরকে সাহায্য কর, তবে (জেনে রেখ যে,) আল্লাহ তার অভিভাবক এবং জিব্রীল ও সৎকর্মশীল মুমিনগণ। এরপরেও ফেরেশতাগণ তার সাহায্যকারী।

عَسٰى رَبُّهٗۤ اِنۡ طَلَّقَكُنَّ اَنۡ يُّبۡدِلَهٗۤ اَزۡوَاجًا خَيۡرًا مِّنۡكُنَّ مُسۡلِمٰتٍ مُّؤۡمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓٮِٕبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓٮِٕحٰتٍ ثَيِّبٰتٍ وَّاَبۡكَارًا‏ 

যদি নবী তোমাদের তালাক দেন, তাহ’লে তার প্রতিপালক তাকে দিতে পারেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, বিনয়ী, তওবাকারিণী, ইবাদতকারিণী, ছিয়াম পালনকারিণী, অকুমারী ও কুমারী।

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ وَاَهۡلِيۡكُمۡ نَارًا وَّقُوۡدُهَا النَّاسُ وَالۡحِجَارَةُ عَلَيۡهَا مَلٰٓٮِٕكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعۡصُوۡنَ اللّٰهَ مَاۤ اَمَرَهُمۡ وَيَفۡعَلُوۡنَ مَا يُؤۡمَرُوۡنَ‏

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যার উপর নিযুক্ত রয়েছে পাষাণ হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ। যারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয়, তারা তাই করে।

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لَا تَعۡتَذِرُوا الۡيَوۡمَؕ اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ‏

হে কাফেরগণ! আজ তোমরা কোন ওযর পেশ করো না। তোমরা যেসব কাজ করতে তারই প্রতিফল তোমরা প্রাপ্ত হবে।

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَى اللّٰهِ تَوۡبَةً نَّصُوۡحًاؕ عَسٰى رَبُّكُمۡ اَنۡ يُّكَفِّرَ عَنۡكُمۡ سَيِّاٰتِكُمۡ وَيُدۡخِلَـكُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُۙ يَوۡمَ لَا يُخۡزِى اللّٰهُ النَّبِىَّ وَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗۚ نُوۡرُهُمۡ يَسۡعٰى بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَبِاَيۡمَانِهِمۡ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اَ تۡمِمۡ لَـنَا نُوۡرَنَا وَاغۡفِرۡ لَـنَاۚ اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَىۡءٍ قَدِيۡرٌ‏

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্র নিকট তওবা কর বিশুদ্ধ তওবা। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। যেদিন আল্লাহ স্বীয় নবী ও তার ঈমানদার সাথীদের লজ্জিত করবেন না। তাদের জ্যোতি তাদের সামনে ও ডাইনে ছুটাছুটি করবে। তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

يٰۤاَيُّهَا النَّبِىُّ جَاهِدِ الۡكُفَّارَ وَالۡمُنٰفِقِيۡنَ وَاغۡلُظۡ عَلَيۡهِمۡؕ وَمَاۡوٰٮهُمۡ جَهَنَّمُؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِيۡرُ‏

হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই ঠিকানা।

ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا لِّـلَّذِيۡنَ كَفَرُوا امۡرَاَتَ نُوۡحٍ وَّ امۡرَاَتَ لُوۡطٍؕ كَانَـتَا تَحۡتَ عَبۡدَيۡنِ مِنۡ عِبَادِنَا صَالِحَـيۡنِ فَخَانَتٰهُمَا فَلَمۡ يُغۡنِيَا عَنۡهُمَا مِنَ اللّٰهِ شَيۡــًٔا وَّقِيۡلَ ادۡخُلَا النَّارَ مَعَ الدّٰخِلِيۡنَ‏

আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন। তারা ছিল আমাদের দু’জন সৎকর্মশীল বান্দার অধীনস্ত। অতঃপর তারা তাদের সাথে খেয়ানত করল। ফলে ঐ দু’জন তাদেরকে আল্লাহ্র কবল থেকে বাঁচাতে পারল না। আর তাদেরকে বলা হ’ল, তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ কর প্রবেশকারীদের সাথে।

وَضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا لِّـلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا امۡرَاَتَ فِرۡعَوۡنَۘ اِذۡ قَالَتۡ رَبِّ ابۡنِ لِىۡ عِنۡدَكَ بَيۡتًا فِى الۡجَـنَّةِ وَنَجِّنِىۡ مِنۡ فِرۡعَوۡنَ وَعَمَلِهٖ وَنَجِّنِىۡ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَۙ

আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফেরাঊনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন। যখন সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য তোমার নিকট জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে ফেরাঊন ও তার দুষ্কৃতি থেকে মুক্তি দাও। আর আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার কর।

وَمَرۡيَمَ ابۡنَتَ عِمۡرٰنَ الَّتِىۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَهَا فَنَفَخۡنَا فِيۡهِ مِنۡ رُّوۡحِنَا وَصَدَّقَتۡ بِكَلِمٰتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهٖ وَكَانَتۡ مِنَ الۡقٰنِتِيۡنَ‏ 

আর (বর্ণনা করছেন) ইমরান কন্যা মারিয়ামের দৃষ্টান্ত। যে তার সতীত্বের হেফাযত করেছিল। অতঃপর আমরা তার মধ্যে আমাদের রূহ থেকে ফুঁকে দিলাম। সে তার প্রতিপালকের বাণীসমূহ ও কিতাব সমূহকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল এবং সে ছিল বিনীতদের অন্তর্ভুক্ত।