بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বরকতময় তিনি, যাঁর হাতেই সকল রাজত্ব। আর তিনি সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
যিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর আমল করে? আর তিনি মহাপরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল।
যিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে। দয়াময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোন ত্রুটি দেখতে পাবেনা। পুনরায় দৃষ্টি ফিরাও! তুমি কোন ফাটল দেখতে পাও কি?
অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও! যা ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকেই ফিরে আসবে।
আমরা দুনিয়ার আকাশকে প্রদীপমালা দিয়ে সুশোভিত করেছি এবং ওগুলিকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপক বানিয়েছি। আর তাদের জন্য আমরা প্রস্ত্তত করে রেখেছি প্রচন্ড আগুনের শাস্তি।
আর যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। আর কতই না মন্দ সেই ঠিকানা!
যখন তারা তাতে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তারা তার গর্জন শুনতে পাবে। ওটা তখন টগবগ করে ফুটবে।
ক্রোধে যেন তা ফেটে পড়ার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোন একটি দল নিক্ষিপ্ত হবে, তখনই রক্ষীরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসেননি?
তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিলেন। কিন্তু আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। বরং তোমরাই মহা ভ্রান্তিতে আছ।
তারা আরও বলবে, যদি আমরা সেদিন (নবীদের কথা) শুনতাম ও তা অনুধাবন করতাম, তাহ’লে আমরা আজ জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হ’তাম না।
অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। সুতরাং দূর হও জাহান্নামবাসীরা!
নিশ্চয়ই যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।
আর তোমরা তোমাদের কথাগুলি চুপে চুপে বল বা প্রকাশ্যে বল, নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের অন্তরের কথা জানেন।
তিনি কি জানবেন না, যিনি সৃষ্টি করেছেন? বস্ত্তত তিনি অতীব সূক্ষ্মদর্শী ও সবকিছু সম্যক অবহিত।
তিনিই তো পৃথিবীকে তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা তার দিকে দিকে বিচরণ কর এবং আল্লাহ্র দেওয়া রিযিক ভক্ষণ করে থাক। আর তাঁর দিকেই হবে তোমাদের পুনরুত্থান।
তোমরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আসমানে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দিবেন না? যখন তা হঠাৎ প্রকম্পিত হবে।
অথবা তোমরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আসমানে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝাবায়ু প্রেরণ করবেন না? আর তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী!
আর নিশ্চিতভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর কেমন ছিল আমার শাস্তি?
তারা কি দেখেনা তাদের উপর উড়ন্ত পাখিগুলোর দিকে? যারা তাদের ডানাসমূহ বিস্তৃত করে ও সংকুচিত করে। তাদেরকে শূন্যে ধরে রাখেন কেবল দয়াময় (আল্লাহ)। নিশ্চয়ই তিনি সকল বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।
তোমাদের কোন্ সেই সেনাদল, যারা দয়াময়ের (আল্লাহ্র) শাস্তি থেকে বাঁচাতে তোমাদের সাহায্য করবে? বস্ত্তত অবিশ্বাসীরা তো কেবল ধোঁকার মধ্যেই পড়ে আছে।
কোন সে ব্যক্তি, যে তোমাদের রিযিক দান করবে, যদি তিনি রিযিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অবাধ্যতায় ও সত্যবিমুখতায় অটল রয়েছে।
অতঃপর যে ব্যক্তি মুখের উপর ভর দিয়ে চলে, সেই-ই কি সুপথপ্রাপ্ত, নাকি যে সরল পথের উপর সোজা হয়ে চলে (সেই-ই সুপথপ্রাপ্ত)?
বল, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়। কিন্তু তোমরা কমই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।
বল, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের একত্রিত করা হবে।
অবিশ্বাসীরা বলে, ক্বিয়ামতের এই প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়িত হবে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
বল, এ জ্ঞান তো কেবল আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে। আর আমি তো প্রকাশ্য সতর্ককারী বৈ কিছু নই।
অতঃপর যেদিন তারা ওটাকে নিকটেই দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। আর তাদের বলা হবে, এতো সেটাই যার দাবী তোমরা করতে।
বল, তোমরা কি ভেবে দেখেছ? যদি আল্লাহ আমাকে ও আমার সাথীদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, যেকোন অবস্থায় যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে অবিশ্বাসীদের কে রক্ষা করবে?
বল, তিনিই দয়াময়, তার প্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তার উপরে আমরা ভরসা করেছি। অতঃপর অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে রয়েছে?
বল, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের তলদেশে চলে যায়, তাহ’লে কে তোমাদের এনে দিবে প্রবহমান মিষ্ট পানি?