بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম র-। এগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
আমরা এটিকে আরবী কুরআন হিসাবে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।
আমরা তোমার প্রতি এই কুরআন প্রত্যাদেশ করার মাধ্যমে তোমার নিকট সুন্দরতম কাহিনী বর্ণনা করব। যদিও ইতিপূর্বে তুমি (এ বিষয়ে) অনবহিত ছিলে।
যখন ইউসুফ তার পিতা ইয়াকূবকে বলল, আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, এগারোটি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চন্দ্র আমাকে সিজদা করছে।
পিতা বললেন, হে বৎস! তোমার ভাইদের কাছে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহ’লে ওরা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
আর এমনিভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে স্বপ্ন সমূহের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন। আর তিনি পূর্ণ করবেন স্বীয় অনুগ্রহ (নবুঅত) তোমার প্রতি ও ইয়াকূব-পরিবারের প্রতি, যেমন তিনি পূর্ণ করেছেন ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাক-এর প্রতি। নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তা সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
নিশ্চয় ইউসুফ ও তার ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্য নিদর্শন সমূহ রয়েছে।
যখন তারা বলল, অবশ্যই ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চাইতে অধিক প্রিয়। অথচ আমরা একটা দল। নিশ্চয়ই আমাদের পিতা স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে আছেন।
অতএব তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোথাও ফেলে এস। এতে কেবল তোমাদের প্রতিই তোমাদের পিতার মনোযোগ নিবিষ্ট হবে এবং তার পরে তোমরাই (পিতার নিকটে) ভাল হয়ে থাকবে।
তখন তাদের একজন বলে উঠল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না, বরং তাকে অন্ধকূপে নিক্ষেপ কর, যাতে কোন পথিক দল এসে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যদি একান্তই তোমরা কিছু করতে চাও।
তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আপনার কি হ’ল যে, ইউসুফের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিশ্চিন্ত হ’তে পারছেন না? অথচ আমরা তার হিতাকাংখী।
আপনি তাকে আগামীকাল আমাদের সাথে প্রেরণ করুন। সে খুশীমনে খাবে ও খেলাধুলা করবে। আর আমরা অবশ্যই তার দেখাশুনা করব।
পিতা বললেন, আমাকে এটি অবশ্যই কষ্ট দিবে যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমার ভয় হয়, তোমাদের এক অসতর্ক মুহূর্তে নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে ফেলবে।
তারা বলল, আমরা একটা দল থাকতেও যদি তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে, তাহ’লে তো আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হব।
অতঃপর যখন তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকে অন্ধকূপে নিক্ষেপ করতে একমত হ’ল, তখন আমি তাকে (ইউসুফকে) ইলহাম করলাম যে, অবশ্যই তুমি তাদেরকে একদিন তাদের এই অপকর্মের কথা অবহিত করবে। অথচ তারা তোমাকে চিনতে পারবে না।
অতঃপর তারা রাতের বেলায় কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকটে এল।
তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মাল-পত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম। এমন সময় একটি নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে ফেলেছে। আপনি তো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী।
এ সময় তারা তার মিথ্যা রক্তমাখানো জামা হাযির করল। তা দেখে পিতা বলল, বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটা কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে। অতএব এখন ধৈর্যধারণই উত্তম। আর তোমরা যা কিছু বললে সে ব্যাপারে আমি আল্লাহ্র নিকটেই সাহায্যপ্রার্থী।
অতঃপর একটা কাফেলা এল এবং তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে পাঠালো। সে কূয়াতে বালতি ফেলল। অতঃপর বলে উঠল, কি খুশীর কথা! এ যে একটি বালক! অতঃপর তারা তাকে পণ্য হিসাবে লুকিয়ে ফেলল। অথচ তারা যা করছিল আল্লাহ তা ভালভাবে অবগত ছিলেন।
অতঃপর ইউসুফের ভাইয়েরা তাকে সস্তা মূল্যে বিক্রয় করে দিল গণা কয়েকটি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে। এ সময় তারা ছিল তার ব্যাপারে নিরাসক্ত।
অতঃপর মিসরে যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করল, সে তার স্ত্রীকে বলল, একে সম্মানজনকভাবে থাকার ব্যবস্থা কর। অবশ্যই সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করে নেব। এভাবে আমরা ইউসুফকে সেদেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম। যাতে আমরা তাকে স্বপ্ন সমূহের ব্যাখ্যাদান শিক্ষা দিতে পারি। বস্ত্তত আল্লাহ স্বীয় কর্ম সম্পাদনে বিজয়ী। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
অতঃপর যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌঁছে গেল, তখন আমরা তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। আমরা এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আর সে যে মহিলার বাড়ীতে থাকত, ঐ মহিলা তাকে প্ররোচিত করতে চাইল এবং (একদিন) দরজা সমূহ বন্ধ করে তাকে বলল, কাছে এসো! ইউসুফ বলল, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করুন! তিনি (অর্থাৎ আপনার স্বামী) আমার মনিব। তিনি আমার উত্তম বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীরা সফলকাম হয় না।
আর নিশ্চয় উক্ত মহিলা তার বিষয়ে অন্যায় সংকল্প করেছিল এবং সেও তার প্রতি সংকল্প করত যদি না সে স্বীয় প্রতিপালকের প্রমাণ অবলোকন করত। আর এভাবেই (আল্লাহ করে থাকেন)। এটা এজন্য যাতে আমরা তার থেকে মন্দ ও অশ্লীল বিষয় সমূহ ফিরিয়ে দেই। নিশ্চয়ই সে ছিল আমাদের মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর তারা উভয়ে ছুটে দরজার দিকে গেল এবং মহিলাটি ইউসুফের জামা পিছন দিক থেকে ছিঁড়ে ফেলল। আর উভয়ে মহিলার স্বামীকে দরজার মুখে পেল। তখন মহিলাটি তাকে বলল, যে ব্যক্তি তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে অন্যায় কামনা করে, তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা অথবা (অন্য কোন) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেওয়া ব্যতীত আর কি সাজা হ’তে পারে?
ইউসুফ বলল, সেই-ই আমার প্রতি অন্যায় কামনা করেছে। তখন মহিলার পরিবারের জনৈক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল, যদি ইউসুফের জামা সামনের দিকে ছেঁড়া থাকে, তাহ’লে মহিলা সত্য বলেছে এবং ইউসুফ মিথ্যাবাদী।
আর যদি তার জামা পিছন দিকে ছেঁড়া থাকে, তবে মহিলা মিথ্যা বলেছে এবং ইউসুফ সত্যবাদী।
অতঃপর গৃহস্বামী যখন দেখল যে, ইউসুফের জামা পিছন দিকে ছেঁড়া, তখন সে (স্ত্রীকে) বলল, এটা তোমাদের ছলনা মাত্র। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্মক।
(অতঃপর তিনি বললেন,) ইউসুফ! এ প্রসঙ্গ ছাড়। আর হে মহিলা! তুমি তোমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চিতভাবে তুমিই দোষী।
নগরীর মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, আযীযের স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুকর্মে ফুসলিয়েছে। তার প্রতি আসক্তি তাকে পাগল করে ফেলেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য ভ্রষ্টতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।
অতঃপর মহিলাটি যখন তাদের চক্রান্তের কথা শুনল, তখন তাদের জন্য একটা ভোজসভার আয়োজন করল এবং তাদের প্রত্যেককে একটা করে (ফল কাটার) ছুরি দিল। অতঃপর ইউসুফকে বলল, এদের সামনে বেরিয়ে এস। অতঃপর যখন তারা তাকে দেখল, তখন তারা হতভম্ব হয়ে গেল এবং (ভুলক্রমে) নিজেদের হাত কেটে ফেলল। তারা বলে উঠল, হায় আল্লাহ! এ তো মানুষ নয়। এ যে মর্যাদাবান ফেরেশতা!
তখন আযীযের স্ত্রী বলল, এই হ’ল সেই যুবক, যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করেছ। আমি তাকে প্ররোচিত করেছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে সংযত রেখেছে। এক্ষণে আমি তাকে যা আদেশ করব, তা যদি সে পালন না করে, তাহ’লে সে অবশ্যই কারাগারে নিক্ষিপ্ত হবে এবং সে অবশ্যই লাঞ্ছিত হবে।
ইউসুফ বলল, হে আমার পালনকর্তা! এরা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করছে, তার চাইতে কারাগারই আমার নিকটে অধিক প্রিয়। (হে আল্লাহ!) যদি তুমি এদের চক্রান্তকে আমার থেকে ফিরিয়ে না নাও, তবে আমি (হয়ত) তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
অতঃপর তার পালনকর্তা তার প্রার্থনা কবুল করলেন ও তার থেকে তাদের চক্রান্ত ফিরিয়ে নিলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
অতঃপর (সততার) এসব নিদর্শন দেখার পর তাদের নিকট স্পষ্ট হ’ল যে, ইউসুফকে কিছুদিনের জন্য কারাগারে রাখতেই হবে।
আর ইউসুফের সাথে কারাগারে দু’জন যুবক প্রবেশ করল। তাদের একজন বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মদ তৈরী করছি। অপরজন বলল, আমি দেখলাম যে, আমি মাথায় করে রুটি বহন করছি। আর তা থেকে পাখিরা খেয়ে নিচ্ছে। আমাদেরকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দিন। কেননা আমরা আপনাকে সৎকর্মশীল বলে মনে করছি।
ইউসুফ বলল, যে খাদ্য তোমাদের খেতে দেওয়া হয়, তা তোমাদের কাছে এসে পৌঁছার আগেই আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দেব। এ জ্ঞান আমার পালনকর্তা আমাকে দান করেছেন। আমি ঐসব লোকদের ধর্ম ত্যাগ করেছি, যারা আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস পোষণ করেনা এবং যারা আখেরাতকে অস্বীকার করে।
আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের ধর্ম অনুসরণ করি। আমাদের জন্য শোভা পায় না যে, কোন বস্ত্তকে আল্লাহ্র সাথে শরীক করি। এটা আমাদের প্রতি ও মানুষের প্রতি আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
হে কারাগারের সাথীদ্বয়! পৃথক পৃথক উপাস্য উত্তম, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ উত্তম?
তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলি নামের পূজা করে থাক। যে নামগুলি তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছ। যেসবের বিষয়ে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। আদেশ দানের ক্ষমতা আল্লাহ ব্যতীত কারু নেই। তিনি আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ব্যতীত তোমরা অন্য কারু ইবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
হে কারাগারের সাথীদ্বয়! তোমাদের একজন তার মনিবকে মদ্যপান করাবে। অতঃপর অন্যজন, তাকে শূলে চড়ানো হবে। অতঃপর পাখি তার মাথা থেকে (ঘিলু) খেয়ে নিবে। তোমরা যে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলে, (এভাবে) তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
অতঃপর যে ব্যক্তি সম্পর্কে সে ধারণা করেছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে দিল যে, তুমি তোমার মনিবের কাছে (অর্থাৎ বাদশাহ্র কাছে) গিয়ে আমার (মুক্তির) বিষয়ে আলোচনা করবে। কিন্তু শয়তান তাকে তার মনিবের কাছে বলার বিষয়টি ভুলিয়ে দেয়। ফলে তাকে কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হয়।
বাদশাহ বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটা-তাজা গাভী। তাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী খেয়ে ফেলছে এবং সাতটি সবুজ শিষ ও অন্যগুলি শুষ্ক। হে পারিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও, যদি তোমরা স্বপ্ন ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক।
তারা বলল, এটি কল্পনা প্রসূত স্বপ্ন মাত্র। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের জানা নেই।
তখন দু’জন কারাসাথীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, কিছুকাল পরে তার (ইউসুফের কথা) স্মরণ হ’ল এবং বলল, আমি আপনাদেরকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দেব। আপনারা আমাকে (কারাগারে) পাঠিয়ে দিন।
অতঃপর সে কারাগারে পৌঁছে বলল, ইউসুফ হে আমার সত্যবাদী বন্ধু! (বাদশাহ স্বপ্ন দেখেছেন যে,) সাতটি মোটাতাজা গাভী, তাদেরকে খেয়ে ফেলছে সাতটি শীর্ণকায় গাভী এবং সাতটি সবুজ শিষ ও অন্যগুলি শুষ্ক। তুমি আমাদেরকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও, যাতে আমি লোকদের কাছে ফিরে গেলে তারা তা জানতে পারে।
সে বলল, তোমরা একটানা সাত বছর চাষাবাদ করবে। আর যখন ফসল কাটবে, তখন খোরাকি বাদে বাকী ফসল শিষ সমেত রেখে দিবে।
এরপর আসবে সাতটি দুর্ভিক্ষের বছর। তখন তোমরা খাবে ইতিপূর্বে যা রেখে দিয়েছিলে, তবে কিছু পরিমাণ ব্যতীত যা তোমরা (বীজ হিসাবে) সংরক্ষণ করবে।
এরপর আসবে এক বছর, যাতে লোকদের উপরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং সে বছর তারা (আঙ্গুরের) রস নিঙড়াবে (অর্থাৎ উদ্বৃত্ত ফসল হবে)।
বাদশাহ বললেন, তুমি ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এস। অতঃপর যখন বাদশাহ্র দূত তার কাছে পৌঁছলো, তখন ইউসুফ তাকে বলল, তুমি তোমার মনিবের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস কর যে, নগরীর সেই মহিলাদের খবর কি? যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন।
বাদশাহ (মহিলাদের ডেকে) বললেন, তোমাদের খবর কি যখন তোমরা ইউসুফকে অন্যায়কর্মে প্ররোচিত করেছিলে? তারা বলল, আল্লাহ পবিত্র। আমরা তার সম্পর্কে মন্দ কিছুই জানি না। তখন আযীয-পত্নী বলে উঠল, এখন সত্য প্রকাশিত হ’ল। আমিই তাকে প্ররোচিত করেছিলাম এবং সে ছিল সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
এটা এজন্য বলছি, যাতে তিনি (গৃহস্বামী) জানতে পারেন যে, তার অগোচরে আমি তার প্রতি কোনরূপ বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। বস্ত্তত আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না।
আর আমি (আযীয-পত্নী) নিজেকে নির্দোষ বলতে চাই না। নিশ্চয়ই মানুষের প্রবৃত্তি মন্দের প্ররোচনা দেয়। কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
বাদশাহ বললেন, তাকে তোমরা আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে আমার নিজের জন্য একান্ত সহচর করে নেব। অতঃপর যখন বাদশাহ ইউসুফের সাথে কথা বললেন, তখন তাকে বললেন, নিশ্চয়ই তুমি আজ থেকে আমাদের নিকট মর্যাদাবান ও বিশ্বস্ত।
ইউসুফ বলল, আপনি আমাকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন। নিশ্চয়ই আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও বিজ্ঞ।
আর এভাবেই আমরা ইউসুফকে সেদেশে প্রতিষ্ঠা দান করি। সে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতে পারত। বস্ত্তত আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে আমাদের অনুগ্রহ পৌঁছে দিয়ে থাকি। আর আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।
বস্ত্তত যারা ঈমান আনে ও আল্লাহভীরু হয়, তাদের জন্য আখেরাতের পুরস্কারই উত্তম।
আর ইউসুফের ভাইয়েরা (মিসরে) আগমন করল এবং তার কাছে উপস্থিত হ’ল। ইউসুফ তাদেরকে চিনতে পারল। কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারেনি।
অতঃপর ইউসুফ যখন তাদের জন্য পণ্য সম্ভার প্রস্ত্তত করে দিল, তখন বলল, তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখছ না যে, আমি মাপ পূর্ণমাত্রায় দিয়ে থাকি এবং মেহমানদের উত্তমভাবে সমাদর করি?
কিন্তু যদি তোমরা তাকে না আনো, তবে আমার কাছে তোমাদের কোন বরাদ্দ থাকবে না এবং তোমরা আমার নিকটে পৌঁছতে পারবে না।
ভাইয়েরা বলল, আমরা তার বিষয়ে তার পিতাকে রাযী করার চেষ্টা করব এবং আমরা একাজ অবশ্যই করতে পারব।
ইউসুফ তার কর্মচারীদের বলল, তাদের পণ্যমূল্য তাদের মাল-পত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে তারা গৃহে পেঁŠছে তা চিনতে পারে। সম্ভবত তারা পুনরায় ফিরে আসবে।
অতঃপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে গেল, তখন বলল, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য খাদ্যশস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব আপনি আমাদের সাথে আমাদের (ছোট) ভাইকে প্রেরণ করুন, যাতে আমরা খাদ্যশস্যের বরাদ্দ আনতে পারি। আমরা অবশ্যই তাকে হেফাযত করব।
পিতা বললেন, আমি কি তার সম্পর্কে তোমাদের উপর সেইরূপ বিশ্বাস করব, যেরূপ বিশ্বাস ইতিপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে করেছিলাম? অতএব আল্লাহ্ই উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই সর্বাধিক দয়ালু।
অতঃপর যখন তারা পণ্য সম্ভার খুলল, তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পণ্যমূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা (খুশীতে) বলে উঠলো, হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি চাইতে পারি? এইতো আমাদের দেওয়া পণ্যমূল্য আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের পরিবারের জন্য খাদ্যশস্য আনব। আমরা আমাদের ভাইয়ের হেফাযত করব এবং এক উট খাদ্যশস্য বেশী আনতে পারব। (আর যেটা এনেছি) সে বরাদ্দটা তো অপ্রতুল।
পিতা বললেন, তাকে তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আমার নিকটে আল্লাহ্র নামে দৃঢ় অঙ্গীকার করবে যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। অবশ্য যদি তোমরা একান্তভাবেই অসহায় হয়ে পড় (তবে সেকথা স্বতন্ত্র)। অতঃপর যখন সবাই তাকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিল, তখন তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যে কথা হ’ল, সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।
আর পিতা বললেন, হে আমার সন্তানেরা! তোমরা শহরের এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না। পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ কর। তবে আল্লাহ থেকে আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারি না। আল্লাহ ব্যতীত কারো হুকুম চলে না। তাঁর উপরেই আমি ভরসা করি এবং তাঁর উপরেই ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।
তারা যখন তাদের পিতার নির্দেশনা মতে (বিভিন্ন দরজা দিয়ে) শহরে প্রবেশ করল, তখন আল্লাহ্র বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদেরকে বাঁচাতে পারল না। কেবল ইয়াকূবের একটি প্রয়োজন (অর্থাৎ ছেলেদেরকে পরামর্শ দানের প্রয়োজন) যা তার মনের মধ্যে ছিল, তা সে পূর্ণ করেছিল। নিশ্চয়ই সে ছিল একজন জ্ঞানী, যা আমরা তাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
অতঃপর যখন তারা ইউসুফের নিকটে উপস্থিত হ’ল, তখন সে তার ভাই (বেনিয়ামীন)-কে নিজের কাছে রেখে দিল এবং বলল, আমিই তোমার (সহোদর) ভাই। অতএব তারা যা করেছে, তাতে তুমি দুঃখ করো না।
অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের জন্য খাদ্য সম্ভার প্রস্ত্তত করে দিচ্ছিল, তখন ওযনের পাত্রটি তার (সহোদর) ভাইয়ের বরাদ্দের মধ্যে রেখে দিল। অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বলল, হে কাফেলার লোকজন! তোমরা অবশ্যই চোর।
একথা শুনে তারা ওদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, তোমাদের কি হারিয়েছে?
তারা বলল, আমরা বাদশাহ্র ওযনপাত্র হারিয়েছি। যে কেউ এটা এনে দিবে, সে এক উট বোঝাই মাল পুরস্কার পাবে এবং আমিই এটার যামিন।
তারা বলল, আল্লাহ্র কসম! তোমরা তো জানো যে, আমরা এদেশে কোনরূপ অনর্থ সৃষ্টি করতে আসিনি এবং আমরা চোর নই।
বাদশাহ্র লোকেরা বলল, ‘যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও তবে যে চুরি করেছে, তার শাস্তি কি হবে?
তারা বলল, এর শাস্তি হ’ল, যার খাদ্যশস্যের বস্তা থেকে এটা পাওয়া যাবে, শাস্তি স্বরূপ সে (মালিকের) গোলাম হবে। আমরা যালেমদেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
অতঃপর তার ভাইয়ের বস্তার পূর্বে (ঘোষক) অন্য ভাইদের বস্তা তল্লাশি শুরু করল। অবশেষে সেই পাত্রটি তার (সহোদর) ভাইয়ের বস্তা থেকে বের করল। এমনিভাবে আমরা ইউসুফকে কৌশল শিক্ষা দিয়েছিলাম। সে বাদশাহ্র (প্রচলিত) আইনে আপন ভাইকে কখনো নিজ অধিকারে নিতে পারত না আল্লাহ্র ইচ্ছা ব্যতীত। আমরা যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। বস্ত্তত প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে জ্ঞানী থাকেন।
তারা বলতে লাগল, যদি সে চুরি করে থাকে, তবে তার এক ভাইও ইতিপূর্বে চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনের মধ্যে গোপন রাখল, তাদেরকে প্রকাশ করল না। (মনে মনে) সে বলল, তোমরা লোক হিসাবে খুবই মন্দ অবস্থানে আছ। আর আল্লাহ সে বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত, যে বিষয়ে তোমরা বলছ।
তারা বলতে লাগল, হে আযীয (অর্থাৎ ইউসুফ)! তার পিতা বেঁচে আছেন অতিশয় বৃদ্ধ। অতএব আপনি আমাদের একজনকে তার বদলে রেখে দিন। আমরা তো আপনাকে একজন মহানুভব ব্যক্তি হিসাবে দেখতে পাচ্ছি।
সে বলল, আল্লাহ রক্ষা করুন! যার কাছে আমরা আমাদের মাল পেয়েছি, তাকে ছেড়ে অন্যকে গ্রেফতার করব? তাহ’লে তো আমরা নিশ্চিতভাবে অত্যাচারী হয়ে যাব।
অতঃপর যখন তারা তার কাছ থেকে নিরাশ হয়ে গেল, তখন তারা একান্তে পরামর্শে বসল। তাদের বড় ভাই বলল, তোমরা কি জানো না যে, পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহ্র নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং ইতিপূর্বে ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা অন্যায় করেছ? অতএব আমি কিছুতেই এদেশ ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা আল্লাহ আমার কোন ফায়ছালা করেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ ফায়ছালাকারী।
তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বল, হে পিতা! আপনার ছেলে চুরি করেছে। আমরা যা জানি, কেবল তারই সাক্ষ্য দিলাম এবং কোন অদৃশ্য বিষয়ে আমরা অবহিত নই।
(হে পিতা!) আপনি জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের লোকদের, যেখানে আমরা ছিলাম এবং (জিজ্ঞেস করুন) ঐসব কাফেলাকে যাদের সাথে আমরা এসেছি। আর নিশ্চিতভাবেই আমরা সত্য বলছি।
ইয়াকূব বলল, বরং তোমাদের জন্য তোমাদের মন একটি কথা বানিয়ে দিয়েছে। এখন ধৈর্যধারণই উত্তম। অবশ্যই আল্লাহ তাদের সবাইকে একসঙ্গে আমার কাছে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয়ই তিনি বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
অতঃপর সে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, হায় আফসোস ইউসুফের জন্য! (আল্লাহ বলেন,) এভাবে দুঃখে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গিয়েছিল এবং সে ছিল শোক সম্বরণকারী।
ছেলেরা তখন তাকে বলতে লাগল, আল্লাহ্র কসম! আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত্ত হবেন না, যে পর্যন্ত না আপনি মরণাপন্ন হন অথবা মৃত্যুবরণ করেন।
সে বলল, আমি তো আমার দুঃখ ও বেদনা কেবল আল্লাহ্র কাছেই পেশ করি। আর আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।
হে আমার পুত্রগণ! যাও ইউসুফ ও তার ভাইকে ভালভাবে সন্ধান কর এবং আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ব্যতীত।
অতঃপর যখন তারা ইউসুফের নিকট উপস্থিত হ’ল, তখন বলল, হে আযীয! আমরা ও আমাদের পরিবারবর্গ কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি এবং আমরা সামান্য পুঁজি নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদেরকে পূর্ণরূপে বরাদ্দ দিন এবং অতিরিক্ত দিন। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাতাদের পুরস্কার দিয়ে থাকেন।
সে বলল, তোমরা কি জানো ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে তোমরা কিরূপ আচরণ করেছিলে? যখন তোমরা (পরিণাম সম্পর্কে) অজ্ঞ ছিলে।
তারা বলল, তবে কি তুমিই ইউসুফ? সে বলল, আমিই ইউসুফ; আর এ হ’ল আমার (সহোদর) ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহভীরু হয় ও ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ এরূপ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।
তারা বলল, আল্লাহ্র কসম! আমাদের উপর আল্লাহ তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং নিশ্চিতভাবে আমরাই ছিলাম অপরাধী।
ইউসুফ বলল, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আর তিনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও। এটি আমার পিতার চেহারার উপর রেখো। এতে তিনি দৃষ্টি সম্পন্ন হয়ে যাবেন। আর তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গের সবাইকে নিয়ে আমার কাছে এসো।
অতঃপর (মিসর থেকে) কাফেলা যখন রওয়ানা হ’ল, তখন (কেন‘আনে) তাদের পিতা বলল, যদি তোমরা আমাকে বোকা না ভাবো, তবে বলব যে, আমি নিশ্চিতভাবেই ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।
পরিবারের লোকেরা বলল, আল্লাহ্র কসম! আপনি তো আপনার সেই পুরানো ভ্রান্তির মধ্যেই পড়ে আছেন।
অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা (বড় ভাই) এসে পৌঁছল এবং সে জামাটি তার (পিতার) চেহারার উপরে রাখল, সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুনরায় দৃষ্টি সম্পন্ন হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যা জানি তোমরা তা জানো না?
তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমাদের অপরাধ মার্জনার জন্য আপনি আল্লাহ্র নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চিতভাবেই আমরা অপরাধী ছিলাম।
পিতা বললেন, সত্বর আমি আমার পালনকর্তার নিকটে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
অতঃপর যখন তারা ইউসুফের নিকট উপস্থিত হ’ল, তখন ইউসুফ তার পিতা-মাতাকে নিজের কাছে নিয়ে নিল এবং (অন্যদের) বলল, তোমরা সবাই আল্লাহ্র ইচ্ছায় নিরাপদে শহরে প্রবেশ কর।
অতঃপর সে তার পিতা-মাতাকে সিংহাসনে বসালো এবং তারা সবাই তার সম্মুখে সিজদায় পড়ে গেল। সে বলল, হে পিতা! এটিই হ’ল আমার ইতিপূর্বে দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা। আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন। তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে কারাগার থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে (কেন‘আনের) গ্রাম থেকে (মিসরে) নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেওয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, সূক্ষ্ম কৌশলে তা সম্পন্ন করেন। নিশ্চয়ই তিনি বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতা দান করেছ এবং আমাকে স্বপ্নসমূহ ব্যাখ্যাদানের শিক্ষা প্রদান করেছ। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের হে সৃষ্টিকর্তা! দুনিয়া ও আখেরাতে তুমিই আমার অভিভাবক। তুমি আমাকে ‘মুসলিম’ হিসাবে মৃত্যু দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিত কর।
এটি অদৃশ্য খবর সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা আমরা তোমার প্রতি অহি করলাম। কেননা তুমি তখন তাদের কাছে ছিলেনা, যখন তারা একত্রে ষড়যন্ত্র করেছিল।
আর তুমি যতই আকাংখা করোনা কেন অধিকাংশ লোক ঈমানদার হবে না।
অথচ তুমি তো এর বিনিময়ে তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাও না। বস্ত্তত এটি বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ ব্যতীত নয়।
আর নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে কতই না নিদর্শন রয়েছে, যেগুলি তারা অতিক্রম করে। অথচ সেগুলিকে তারা এড়িয়ে যায়।
তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে। অথচ তারা শিরক করে।
তবে কি তারা আল্লাহ্র সর্বগ্রাসী শাস্তি হ’তে কিংবা তাদের অজ্ঞাতসারে ক্বিয়ামতের আকস্মিক উপস্থিতি হ’তে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে?
তুমি বল এটাই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহ্র দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র। আর আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
তোমার পূর্বে আমরা জনপদ বাসীদের মধ্য হ’তে কেবল পুরুষদেরকেই নবী করে পাঠিয়েছি, যাদের কাছে আমরা ‘অহি’ প্রেরণ করতাম। তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? যাতে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্বেকার (অবিশ্বাসী) লোকদের পরিণতি কেমন হয়েছিল? আর আল্লাহভীরুদের জন্য অবশ্যই আখেরাতের গৃহ উত্তম। তোমরা কি বুঝ না?
অবশেষে যখন রাসূলগণ সম্প্রদায়ের লোকদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হ’ল এবং ধারণা করল যে, তারা লোকদের কাছে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়েছে, তখন তাদের নিকট আমাদের সাহায্য (শাস্তি) এসে গেল। অতঃপর মুক্তি পেল আমরা যাকে ইচ্ছা করলাম। বস্ত্তত পাপী সম্প্রদায় হ’তে আমাদের শাস্তি ফিরিয়ে নেওয়া হয় না।
নিশ্চয়ই নবীদের কাহিনীতে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষণীয় রয়েছে। এগুলি কোন বানোয়াট রচনা নয়। বরং এগুলিতে রয়েছে পূর্বেকার ইলাহী কেতাব সমূহের সত্যায়ন ও (মানুষের প্রয়োজনীয়) সকল বস্ত্তর বিশদ বিবরণ এবং রয়েছে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য সুপথ প্রদর্শন ও আল্লাহ্র অনুগ্রহ।