১৩

সূরাঃ রা‘দ (বজ্র)

মাদানীমোট আয়াত ৪৩ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

الٓـمّٓرٰ تِلۡكَ اٰيٰتُ الۡكِتٰبِؕ وَالَّذِىۡۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ مِنۡ رَّبِّكَ الۡحَـقُّ وَلٰـكِنَّ اَكۡثَرَ النَّاسِ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ‏

আলিফ লাম মীম র-। এগুলি কুরআনের আয়াত। যা কিছু তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে তা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এতে বিশ্বাস স্থাপন করে না।

اَللّٰهُ الَّذِىۡ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَيۡرِ عَمَدٍ تَرَوۡنَهَا​ ثُمَّ اسۡتَوٰى عَلَى الۡعَرۡشِ​ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَؕ كُلٌّ يَّجۡرِىۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّىؕ يُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ يُفَصِّلُ الۡاٰيٰتِ لَعَلَّكُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّكُمۡ تُوۡقِنُوۡنَ‏ 

তিনিই আল্লাহ, যিনি কোন স্তম্ভ ছাড়াই আকাশমন্ডলীকে ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাও। অতঃপর তিনি আরশে উন্নীত হয়েছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে অনুগত করেছেন। প্রতিটিই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সন্তরণ করে চলেছে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তিনি নিদর্শন সমূহ ব্যাখ্যা করেন যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী হ’তে পার।

وَهُوَ الَّذِىۡ مَدَّ الۡاَرۡضَ وَجَعَلَ فِيۡهَا رَوَاسِىَ وَاَنۡهٰرًاؕ وَمِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِيۡهَا زَوۡجَيۡنِ اثۡنَيۡنِ​ يُغۡشِى الَّيۡلَ النَّهَارَؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ لِّـقَوۡمٍ يَّتَفَكَّرُوۡنَ‏

তিনিই পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পাহাড়-পর্বত ও নদী-নালা স্থাপন করেছেন। তিনি প্রত্যেক ফলকে দু’প্রকারে সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত্রি দ্বারা দিবসকে আচ্ছন্ন করেন। নিশ্চয়ই এ সবের মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

وَ فِى الۡاَرۡضِ قِطَعٌ مُّتَجٰوِرٰتٌ وَّجَنّٰتٌ مِّنۡ اَعۡنَابٍ وَّزَرۡعٌ وَّنَخِيۡلٌ صِنۡوَانٌ وَّغَيۡرُ صِنۡوَانٍ يُّسۡقٰى بِمَآءٍ وَّاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعۡضَهَا عَلٰى بَعۡضٍ فِى الۡاُكُلِؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ لِّـقَوۡمٍ يَّعۡقِلُوۡنَ‏ 

আর পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পরে সংলগ্ন ভূখন্ডসমূহ এবং রয়েছে আঙ্গুরের বাগিচা সমূহ, রয়েছে শস্যক্ষেত ও খেজুরের বাগান। যার কিছু রয়েছে সমমূল বিশিষ্ট এবং কিছু রয়েছে অসমমূল বিশিষ্ট, যা একই পানিতে সিঞ্চিত হয়। আর সেগুলিকে আমরা স্বাদে একটির উপর অপরটিকে শ্রেষ্ঠ করেছি। নিশ্চয়ই জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এসবের মধ্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে।

وَ اِنۡ تَعۡجَبۡ فَعَجَبٌ قَوۡلُهُمۡ ءَاِذَا كُنَّا تُرٰبًا ءَاِنَّا لَفِىۡ خَلۡقٍ جَدِيۡدٍؕ اُولٰۤٮِٕكَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا بِرَبِّهِمۡۚ وَاُولٰۤٮِٕكَ الۡاَغۡلٰلُ فِىۡۤ اَعۡنَاقِهِمۡۚ وَاُولٰۤٮِٕكَ اَصۡحٰبُ النَّارِۚ هُمۡ فِيۡهَا خٰلِدُوۡنَ‏

যদি তুমি বিস্মিত হও, তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হ’ল তাদের এই কথা যে, যখন আমরা মরে মাটি হয়ে যাব, তখনও কি ফের নতুনভাবে সৃষ্ট হব? ওরা ওদের প্রতিপালককে অস্বীকার করেছে। আর ওদেরই গলদেশে থাকবে বেড়ীবদ্ধ হস্তদ্বয়। ওরা হ’ল জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

وَيَسۡتَعۡجِلُوۡنَكَ بِالسَّيِّئَةِ قَبۡلَ الۡحَسَنَةِ وَقَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِمُ الۡمَثُلٰتُؕ وَاِنَّ رَبَّكَ لَذُوۡ مَغۡفِرَةٍ لِّـلنَّاسِ عَلٰى ظُلۡمِهِمۡۚ وَاِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيۡدُ الۡعِقَابِ‏

আর ওরা (ঈমান আনার) কল্যাণের পূর্বেই তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার দাবী জানায়। অথচ তাদের পূর্বে বহু শাস্তির দৃষ্টান্ত গত হয়েছে। নানাবিধ অনাচার সত্ত্বেও তোমার পালনকর্তা মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আর তোমার প্রতিপালক অবশ্যই শাস্তিদানে কঠোর।

وَيَقُوۡلُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَيۡهِ اٰيَةٌ مِّنۡ رَّبِّهٖؕ اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُنۡذِرٌ​ وَّ لِكُلِّ قَوۡمٍ هَادٍ‏

কাফেররা বলে, কেন তার উপর তার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না? অথচ তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে পথ প্রদর্শক।

اَللّٰهُ يَعۡلَمُ مَا تَحۡمِلُ كُلُّ اُنۡثٰى وَمَا تَغِيۡضُ الۡاَرۡحَامُ وَمَا تَزۡدَادُؕ وَكُلُّ شَىۡءٍ عِنۡدَهٗ بِمِقۡدَارٍ‏

আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং যা তার গর্ভাশয়ে সংকুচিত হয় ও বর্ধিত হয়। আর তাঁর নিকটে রয়েছে প্রত্যেক বস্ত্তর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ।

عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ الۡكَبِيۡرُ الۡمُتَعَالِ‏

অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুই তিনি অবগত। তিনি সবার চেয়ে বড় ও সর্বোচ্চ।

سَوَآءٌ مِّنۡكُمۡ مَّنۡ اَسَرَّ الۡقَوۡلَ وَ مَنۡ جَهَرَ بِهٖ وَمَنۡ هُوَ مُسۡتَخۡفٍۢ بِالَّيۡلِ وَسَارِبٌۢ بِالنَّهَارِ‏

তোমাদের মধ্যে কেউ কথা গোপনে বলুক বা প্রকাশ্যে বলুক, রাত্রিতে আত্মগোপন করুক বা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বিচরণ করুক, সবাই তাঁর নিকটে সমান।

لَهٗ مُعَقِّبٰتٌ مِّنۡۢ بَيۡنِ يَدَيۡهِ وَمِنۡ خَلۡفِهٖ يَحۡفَظُوۡنَهٗ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰهِؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰى يُغَيِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِهِمۡؕ وَاِذَاۤ اَرَادَ اللّٰهُ بِقَوۡمٍ سُوۡۤءًا فَلَا مَرَدَّ لَهٗۚ وَمَا لَهُمۡ مِّنۡ دُوۡنِهٖ مِنۡ وَّالٍ‏

প্রত্যেক মানুষের জন্য তার সামনে ও পিছনে পরপর আগত পাহারাদার ফেরেশতারা রয়েছে। যারা তাকে হেফাযত করে আল্লাহ্র হুকুমে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর আল্লাহ যখন কোন জাতির প্রতি মন্দ ইচ্ছা করেন, তখন তাকে রদ করার কেউ নেই। আর আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক নেই।

هُوَ الَّذِىۡ يُرِيۡكُمُ الۡبَرۡقَ خَوۡفًا وَّطَمَعًا وَّيُنۡشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَۚ

তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ দেখান ভয় ও আকাংখার সাথে এবং তিনিই সৃষ্টি করেন ঘন মেঘমালা।

​وَيُسَبِّحُ الرَّعۡدُ بِحَمۡدِهٖ وَالۡمَلٰۤـٮِٕكَةُ مِنۡ خِيۡفَتِهٖۚ وَيُرۡسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيۡبُ بِهَا مَنۡ يَّشَآءُ وَهُمۡ يُجَادِلُوۡنَ فِى اللّٰهۚ ِ وَهُوَ شَدِيۡدُ الۡمِحَالِؕ

আর তাঁর ভয়ে পবিত্রতা বর্ণনা করে বজ্র ও ফেরেশতামন্ডলী এবং তিনি বজ্র প্রেরণ করেন ও যাকে ইচ্ছা ওটা দ্বারা আঘাত করেন। আর ওরা আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে। অথচ তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।

لَهٗ دَعۡوَةُ الۡحَـقِّؕ وَالَّذِيۡنَ يَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِهٖ لَا يَسۡتَجِيۡبُوۡنَ لَهُمۡ بِشَىۡءٍ اِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيۡهِ اِلَى الۡمَآءِ لِيَبۡلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِـغِهٖؕ وَمَا دُعَآءُ الۡكٰفِرِيۡنَ اِلَّا فِىۡ ضَلٰلٍ‏

সত্যের আহবান কেবল তাঁরই। তাঁকে ছেড়ে যাদেরকে ওরা আহবান করে, তারা ওদের প্রতি কোনরূপ সাড়া দেয় না। ওরা হ’ল ঐ ব্যক্তির মত যে (দূর থেকে) তার দু’হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ তা তার কাছে পৌঁছে না। বস্ত্তত (আল্লাহকে ছেড়ে) কাফেরদের প্রার্থনা কেবলই বৃথা।

وَلِلّٰهِ يَسۡجُدُ مَنۡ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ طَوۡعًا وَّكَرۡهًا وَّظِلٰلُهُمۡ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ۩

আর আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং তাদের ছায়াসমূহ সকালে ও সন্ধ্যায়, ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায়। (সিজদা-২)

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ قُلِ اللّٰهُؕ قُلۡ اَفَاتَّخَذۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِهٖۤ اَوۡلِيَآءَ لَا يَمۡلِكُوۡنَ لِاَنۡفُسِهِمۡ نَفۡعًا وَّلَا ضَرًّاؕ قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِى الۡاَعۡمٰى وَالۡبَصِيۡرُۙ  اَمۡ هَلۡ تَسۡتَوِى الظُّلُمٰتُ وَالنُّوۡرُ ۚ اَمۡ جَعَلُوۡا لِلّٰهِ شُرَكَآءَ خَلَقُوۡا كَخَلۡقِهٖ فَتَشَابَهَ الۡخَـلۡقُ عَلَيۡهِمۡؕ قُلِ اللّٰهُ خَالِـقُ كُلِّ شَىۡءٍ وَّهُوَ الۡوَاحِدُ الۡقَهَّارُ‏ 

বল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা কে? বল, আল্লাহ। বল, তাহ’লে কি তোমরা তাকে বাদ দিয়ে এমন সব অভিভাবক গ্রহণ করেছ যারা নিজেদেরই কোন উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না? বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান? অথবা অন্ধকার ও আলো কি এক? অথবা তারা কি আল্লাহ্র জন্য এমন সব শরীক নির্ধারণ করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির মত সৃষ্টি করেছে? যে কারণে ঐ সব সৃষ্টি তাদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে? বলে দাও, আল্লাহ সকল বস্ত্তর সৃষ্টিকর্তা। তিনি এক ও পরাক্রান্ত।

اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتۡ اَوۡدِيَةٌۢ بِقَدَرِهَا فَاحۡتَمَلَ السَّيۡلُ زَبَدًا رَّابِيًاؕ وَمِمَّا يُوۡقِدُوۡنَ عَلَيۡهِ فِى النَّارِ ابۡتِغَآءَ حِلۡيَةٍ اَوۡ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثۡلُهٗؕ كَذٰلِكَ يَضۡرِبُ اللّٰهُ الۡحَـقَّ وَالۡبَاطِلَؕ   فَاَمَّا الزَّبَدُ فَيَذۡهَبُ جُفَآءًۚ وَاَمَّا مَا يَنۡفَعُ النَّاسَ فَيَمۡكُثُ فِى الۡاَرۡضِؕ كَذٰلِكَ يَضۡرِبُ اللّٰهُ الۡاَمۡثَالَؕ

তিনি আকাশ হ’তে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর নদী-নালাসমূহ স্ব স্ব পরিমাণ অনুযায়ী প্রবাহিত হয়। অতঃপর বেগবান স্রোত তার উপরিস্থিত ফেনারাশি বহন করে। আর অলংকার ও তৈজসপত্র তৈরীর জন্য (সোনা-রোপা ইত্যাদি) পোড়ানোর বর্জ্য বহন করে (যা কোন কাজে লাগে না)। এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। অতঃপর যা ফেনা তাতো শুকিয়ে যায়। আর যা মানুষের উপকারে লাগে, তা মাটিতে থেকে যায়। এভাবেই আল্লাহ উপমা সমূহ বর্ণনা করেন।

لِلَّذِيۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِرَبِّهِمُ الۡحُسۡنٰىؕ وَالَّذِيۡنَ لَمۡ يَسۡتَجِيۡبُوۡا لَهٗ لَوۡ اَنَّ لَهُمۡ مَّا فِى الۡاَرۡضِ جَمِيۡعًا وَّمِثۡلَهٗ مَعَهٗ لَافۡتَدَوۡا بِهٖؕ اُولٰۤٮِٕكَ لَهُمۡ سُوۡۤءُ الۡحِسَابِۙ وَمَاۡوٰٮهُمۡ جَهَـنَّمُؕ وَبِئۡسَ الۡمِهَادُ‏

যারা তাদের প্রতিপালকের আদেশ পালন করে, কল্যাণ তো কেবল তাদেরই জন্য। আর যারা তাঁর আদেশ পালন করেনা, তাদের কাছে যদি পৃথিবীর সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তাহ’লেও তারা সবকিছু (পরকালে) মুক্তিপণ স্বরূপ দিত। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ হিসাব। আর তাদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম। বস্ত্তত সেটা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল!

اَفَمَنۡ يَّعۡلَمُ اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ مِنۡ رَّبِّكَ الۡحَـقُّ كَمَنۡ هُوَ اَعۡمٰىؕ اِنَّمَا يَتَذَكَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِۙ

যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু তোমার পালনকর্তার পক্ষ হ’তে তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে তা সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? বস্ত্তত জ্ঞানীরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।

الَّذِيۡنَ يُوۡفُوۡنَ بِعَهۡدِ اللّٰهِ وَلَا يَنۡقُضُوۡنَ الۡمِيۡثَاقَۙ

যারা আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না।

وَالَّذِيۡنَ يَصِلُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنۡ يُّوۡصَلَ وَيَخۡشَوۡنَ رَبَّهُمۡ وَ يَخَافُوۡنَ سُوۡۤءَ الۡحِسَابِؕ

আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখতে বলেছেন তা যারা অটুট রাখে এবং ভয় করে তাদের পালনকর্তাকে ও ভয় করে মন্দ হিসাবকে।

وَالَّذِيۡنَ صَبَرُوا ابۡتِغَآءَ وَجۡهِ رَبِّهِمۡ وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِيَةً وَّيَدۡرَءُوۡنَ بِالۡحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ اُولٰۤٮِٕكَ لَهُمۡ عُقۡبَى الدَّارِۙ

আর যারা তাদের প্রতিপালকের চেহারা কামনায় ধৈর্যধারণ করে ও ছালাত কায়েম করে এবং আমরা তাদের যে রূযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে। আর যারা ভাল দ্বারা মন্দকে প্রতিরোধ করে, তাদের জন্যই রয়েছে পরকালের গৃহ।

جَنّٰتُ عَدۡنٍ يَّدۡخُلُوۡنَهَا وَمَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآٮِٕهِمۡ وَاَزۡوَاجِهِمۡ وَذُرِّيّٰتِهِمۡ​ وَالۡمَلٰٓٮِٕكَةُ يَدۡخُلُوۡنَ عَلَيۡهِمۡ مِّنۡ كُلِّ بَابٍۚ ‏ 

তা হ’ল স্থায়ী বসবাসের জান্নাত। যেখানে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। ফেরেশতারা তাদের নিকট প্রবেশ করবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে।

سَلٰمٌ عَلَيۡكُمۡ بِمَا صَبَرۡتُمۡ​ فَنِعۡمَ عُقۡبَى الدَّارِؕ

তারা বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক! তোমাদের ধৈর্যধারণের ফল স্বরূপ। কতই না সুন্দর তোমাদের এই পরিণাম গৃহ!

وَالَّذِيۡنَ يَنۡقُضُوۡنَ عَهۡدَ اللّٰهِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِيۡثَاقِهٖ وَيَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنۡ يُّوۡصَلَ وَيُفۡسِدُوۡنَ فِى الۡاَرۡضِۙ اُولٰۤٮِٕكَ لَهُمُ اللَّعۡنَةُ وَلَهُمۡ سُوۡۤءُ الدَّارِ‏

পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ্র সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক অটুট রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে ও পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের জন্য রয়েছে অভিসম্পাৎ এবং তাদের জন্য রয়েছে মন্দ আবাস।

اَللّٰهُ يَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ يَّشَآءُ وَيَقۡدِرُؕ وَفَرِحُوۡا بِالۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاؕ وَمَا الۡحَيٰوةُ الدُّنۡيَا فِى الۡاٰخِرَةِ اِلَّا مَتَاعٌ‏

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রূযী প্রশস্ত করেন ও সংকুচিত করেন। কিন্তু তারা পার্থিব জীবন নিয়েই উল্লসিত। অথচ পার্থিব জীবন পরকালের তুলনায় তুচ্ছ ভোগ্যবস্ত্ত ছাড়া কিছুই নয়।

وَيَقُوۡلُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَيۡهِ اٰيَةٌ مِّنۡ رَّبِّهٖؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰهَ يُضِلُّ مَنۡ يَّشَآءُ وَيَهۡدِىۡۤ اِلَيۡهِ مَنۡ اَنَابَۖۚ ‏ 

আর অবিশ্বাসীরা বলে, তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন? বলে দাও, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং তিনি তার দিকে পথ প্রদর্শন করেন যে তাঁর অভিমুখী হয়।

اَلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَتَطۡمَٮِٕنُّ قُلُوۡبُهُمۡ بِذِكۡرِ اللّٰهِؕ اَلَا بِذِكۡرِ اللّٰهِ تَطۡمَٮِٕنُّ الۡقُلُوۡبُؕ

যারা আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহকে স্মরণ করলে যাদের অন্তরে প্রশান্তি আসে। মনে রেখ, আল্লাহ্র স্মরণেই কেবল হৃদয় প্রশান্ত হয়।

اَلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ طُوۡبٰى لَهُمۡ وَحُسۡنُ مَاٰبٍ‏ 

যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ ও সুন্দর পরিণাম।

كَذٰلِكَ اَرۡسَلۡنٰكَ فِىۡۤ اُمَّةٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهَاۤ اُمَمٌ لِّـتَتۡلُوَا۟ عَلَيۡهِمُ الَّذِىۡۤ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡكَ وَ هُمۡ يَكۡفُرُوۡنَ بِالرَّحۡمٰنِؕ قُلۡ هُوَ رَبِّىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَاِلَيۡهِ مَتَابِ‏ 

এভাবে আমরা তোমাকে একটি উম্মতের নিকট প্রেরণ করেছি। যাদের পূর্বে অনেক উম্মত গত হয়েছে। যাতে তুমি তাদের নিকট পাঠ করে শুনাও ঐসব বিষয় যা আমরা তোমার প্রতি অহি করেছি। আর ওরা ‘রহমান’-কে অস্বীকার করে। বলে দাও, তিনি আমার প্রতিপালক। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁর উপরেই আমি ভরসা করি এবং তাঁর নিকটেই আমার প্রত্যাবর্তন।

وَلَوۡ اَنَّ قُرۡاٰنًا سُيِّرَتۡ بِهِ الۡجِبَالُ اَوۡ قُطِّعَتۡ بِهِ الۡاَرۡضُ اَوۡ كُلِّمَ بِهِ الۡمَوۡتٰىؕ بَلْ لِّلّٰهِ الۡاَمۡرُ جَمِيۡعًاؕ اَفَلَمۡ يَايۡــَٔسِ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ لَّوۡ يَشَآءُ اللّٰهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيۡعًاؕ وَلَا يَزَالُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا تُصِيۡبُهُمۡ بِمَا صَنَعُوۡا قَارِعَةٌ اَوۡ تَحُلُّ قَرِيۡبًا مِّنۡ دَارِهِمۡ حَتّٰى يَاۡتِىَ وَعۡدُ اللّٰهِؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُخۡلِفُ الۡمِيۡعَادَ‏

যদি কুরআন এমন হ’ত যার দ্বারা পাহাড় চলমান হ’ত ও যমীন ফেটে যেত অথবা মৃতরা কথা বলত, (তবে তাতে কি তারা ঈমান আনত?)। বরং সকল কিছুই তো আল্লাহ্র হাতে। ঈমানদাররা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, যদি আল্লাহ চাইতেন তাহ’লে তিনি সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? বস্ত্তত কাফেররা তাদের কৃতকর্মের দরুণ সর্বদা আঘাত পেতেই থাকবে। অথবা তাদের গৃহের সন্নিকটেই তা আপতিত হবে যতক্ষণ না আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি এসে পড়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।

وَلَـقَدِ اسۡتُهۡزِئَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِكَ فَاَمۡلَيۡتُ لِلَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا ثُمَّ اَخَذۡتُهُمۡ​ فَكَيۡفَ كَانَ عِقَابِ‏

তোমার পূর্বে বহু রাসূলকে উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর আমি কাফেরদের অবকাশ দিয়েছিলাম। তারপর আমি তাদের পাকড়াও করেছিলাম। অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি?

اَفَمَنۡ هُوَ قَآٮِٕمٌ عَلٰى كُلِّ نَفۡسٍۢ بِمَا كَسَبَتۡۚ وَجَعَلُوۡالِلّٰهِ شُرَكَآءَؕ قُلۡ سَمُّوۡهُمۡؕ اَمۡ تُنَـبِّـئُــوْنَهٗ بِمَا لَا يَعۡلَمُ فِى الۡاَرۡضِ اَمۡ بِظَاهِرٍ مِّنَ الۡقَوۡلِؕ بَلۡ زُيِّنَ لِلَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مَكۡرُهُمۡ وَصُدُّوۡا عَنِ السَّبِيۡلِؕ وَمَنۡ يُّضۡلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنۡ هَادٍ‏

তবে কি যিনি প্রত্যেক মানুষের কৃতকর্মের উপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক, (তিনি কি তাদের শরীকদের মত উদাসীন?) অথচ তারা আল্লাহ্র জন্য বহু শরীক নির্ধারণ করেছে। বলে দাও, তোমরা তাদের নাম বল! নাকি তোমরা তাকে পৃথিবীর ঐসব বিষয় জানাতে চাও যা তিনি জানেন না। নাকি তোমাদের এসব দাবী স্রেফ কথার কথা মাত্র! বরং অবিশ্বাসীদের জন্য তাদের অভিসন্ধিগুলিকে শোভনীয় করা হয়েছে। আর সেমতে তারা সুপথ থেকে বিরত থাকে। বস্ত্তত যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন, তাকে সুপথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।

لَهُمۡ عَذَابٌ فِى الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَا​ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَةِ اَشَقُّۚ وَمَا لَهُمۡ مِّنَ اللّٰهِ مِنۡ وَّاقٍ‏

তাদের জন্য পার্থিব জীবনে রয়েছে শাস্তি এবং পরকালীন শাস্তি তো আরও গুরুতর। আর তাদেরকে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে বাঁচাবার কেউ নেই।

مَثَلُ الۡجَـنَّةِ الَّتِىۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَؕ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُؕ اُكُلُهَا دَآٮِٕمٌ وَّظِلُّهَاؕ تِلۡكَ عُقۡبَى الَّذِيۡنَ اتَّقَوْاۖ  وَّعُقۡبَى الۡكٰفِرِيۡنَ النَّارُ‏

আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে, তার উপমা হ’ল, তার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। যার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটি হ’ল মুত্তাক্বীদের জন্য শুভ পরিণাম। আর কাফেরদের পরিণাম হ’ল জাহান্নাম।

وَالَّذِيۡنَ اٰتَيۡنٰهُمُ الۡكِتٰبَ يَفۡرَحُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ​ وَمِنَ الۡاَحۡزَابِ مَنۡ يُّـنۡكِرُ بَعۡضَهٗؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰهَ وَلَاۤ اُشۡرِكَ بِهٖؕ اِلَيۡهِ اَدۡعُوۡا وَاِلَيۡهِ مَاٰبِ‏

আর যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে খুশী হয় এবং কোন কোন দল এর কিছু অংশ অস্বীকার করে। তুমি বল, আমি তো কেবল আদিষ্ট হয়েছি যে আমি আল্লাহ্র ইবাদত করব এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না। তাঁর দিকেই আমি আহবান করি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন।

وَكَذٰلِكَ اَنۡزَلۡنٰهُ حُكۡمًا عَرَبِيًّاؕ وَلَٮِٕنِ اتَّبَعۡتَ اَهۡوَآءَهُمۡ بَعۡدَمَا جَآءَكَ مِنَ الۡعِلۡمِۙ مَا لَـكَ مِنَ اللّٰهِ مِنۡ وَّلِىٍّ وَّلَا وَاقٍ‏ 

এমনিভাবে আমরা এ কুরআনকে আরবী ভাষায় বিধানগ্রন্থ হিসাবে নাযিল করেছি। অতএব তোমার নিকট নিশ্চিত জ্ঞান এসে যাবার পরেও যদি তুমি লোকদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তাহ’লে আল্লাহ্র মুকাবিলায় তোমার কোন বন্ধু বা রক্ষাকারী থাকবে না।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلًا مِّنۡ قَبۡلِكَ وَ جَعَلۡنَا لَهُمۡ اَزۡوَاجًا وَّذُرِّيَّةًؕ وَمَا كَانَ لِرَسُوۡلٍ اَنۡ يَّاۡتِىَ بِاٰيَةٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰهِؕ لِكُلِّ اَجَلٍ كِتَابٌ‏

তোমার পূর্বেও আমরা অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তানাদি দিয়েছি। সেইসব রাসূলের কারু এমন সাধ্য ছিল না যে, আল্লাহ্র নির্দেশ ছাড়া তারা কোন নিদর্শন উপস্থিত করে। আর প্রত্যেক বস্ত্তর মেয়াদ লিপিবদ্ধ।

يَمۡحُوۡا اللّٰهُ مَا يَشَآءُ وَيُثۡبِتُۖۚ وَعِنۡدَهٗۤ اُمُّ الۡكِتٰبِ‏ 

আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন। আর তাঁর নিকটেই রয়েছে মূল কিতাব।

وَاِنۡ مَّا نُرِيَـنَّكَ بَعۡضَ الَّذِىۡ نَعِدُهُمۡ اَوۡ نَـتَوَفَّيَنَّكَ فَاِنَّمَا عَلَيۡكَ الۡبَلٰغُ وَعَلَيۡنَا الۡحِسَابُ‏

আমরা তাদেরকে যে (শাস্তির) ওয়াদা করেছি, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) যদি তোমার মৃত্যু ঘটাই, সর্বাবস্থায় তোমার দায়িত্ব কেবল (তাওহীদের দাওয়াত) পৌঁছে দেওয়া। আর আমাদের দায়িত্ব হিসাব নেওয়া।

اَوَلَمۡ يَرَوۡا اَنَّا نَاۡتِى الۡاَرۡضَ نَـنۡقُصُهَا مِنۡ اَطۡرَافِهَاؕ ​ وَاللّٰهُ يَحۡكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكۡمِهٖؕ وَهُوَ سَرِيۡعُ الۡحِسَابِ‏

তারা কি দেখে না যে, আমরা পৃথিবীকে চারদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি? বস্ত্তত আল্লাহ নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পিছনে নিক্ষেপ করার কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

وَقَدۡ مَكَرَ الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ فَلِلّٰهِ الۡمَكۡرُ جَمِيۡعًاؕ يَعۡلَمُ مَا تَكۡسِبُ كُلُّ نَفۡسٍؕ وَسَيَـعۡلَمُ الۡـكُفّٰرُ لِمَنۡ عُقۡبَى الدَّارِ‏

তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করেছিল। অথচ সকল কৌশল তো আল্লাহ্রই নিয়ন্ত্রণে। তিনি জানেন প্রত্যেক মানুষ যা অর্জন করে। আর কাফেররা সত্বর জানবে পরকালের গৃহ কাদের জন্য নির্ধারিত?

وَيَقُوۡلُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لَسۡتَ مُرۡسَلًاؕ قُلۡ كَفٰى بِاللّٰهِ شَهِيۡدًۢا بَيۡنِىۡ وَبَيۡنَكُمۡۙ وَمَنۡ عِنۡدَهٗ عِلۡمُ الۡكِتٰبِ‏

আর কাফেররা বলে তুমি আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল নও। বলে দাও, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং ঐ ব্যক্তি যার নিকটে রয়েছে কিতাবের (তাওরাতের) জ্ঞান।