بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম র-। এগুলি আল্লাহ্র কিতাব ও সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত।
এক সময় কাফেররা আকাংখা করবে, যদি তারা মুসলিম হ’তো!
ছাড় ওদেরকে। ওরা খানা-পিনা করুক ও দুনিয়া উপভোগ করুক! আশার ছলনা ওদের ভুলিয়ে রাখুক! অতঃপর শীঘ্রই ওরা জানতে পারবে।
আমরা কোন জনপদকে ধ্বংস করি না যতক্ষণ না তার নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হয়।
কোন জাতি তার নির্দিষ্ট মেয়াদকে আগাতেও পারে না পিছাতেও পারে না।
আর তারা বলে, ওহে যার প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে, তুমি তো নিশ্চয়ই একজন পাগল।
তুমি সত্যবাদী হ’লে আমাদের নিকট ফেরেশতাদের নিয়ে আসোনা কেন?
অথচ আমরা (আযাবের) ফেরেশতাদের নাযিল করিনা চূড়ান্ত ফায়ছালা ব্যতীত। তখন আর তারা অবকাশ পাবে না।
আমরাই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরাই এর হেফাযতকারী।
তোমার আগে আমরা পূর্ববর্তী বহু সম্প্রদায়ের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছিলাম।
অথচ তাদের কাছে এমন কোন রাসূল আসেনি, যাকে তারা উপহাস করেনি।
এমনিভাবে; আমরা এরূপ আচরণ পাপীদের হৃদয়ে বদ্ধমূল করে দেই।
ওরা কুরআনের উপর ঈমান আনবে না। আর পূর্ববর্তীদের রীতি এভাবেই গত হয়েছে।
যদি আমরা তাদের সামনে আকাশের কোন একটি দুয়ার খুলে দেই, আর তারা ঊর্ধ্বে আরোহণ করতেই থাকে-
তবুও তারা বলবে যে, আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটানো হয়েছে। বরং আমরা জাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।
আর অবশ্যই আমরা আকাশে নক্ষত্র রাজিকে স্থাপন করেছি এবং দর্শকদের জন্য তা সুশোভিত করেছি।
আর আমরা আকাশকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে নিরাপদ করেছি।
তবে যদি কোন (জিন শয়তান) (অহি-র) কালাম চুরি করে শুনতে চায়, তাহ’লে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
আর পৃথিবীকে আমরা বিস্তৃত করেছি এবং তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি। আর সেখানে আমরা প্রত্যেক বস্ত্ত উৎপন্ন করেছি পরিমিতভাবে।
তাতে আমরা জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্য এবং তাদের জন্য যাদের রিযিক দানকারী তোমরা নও।
আমাদের কাছেই রয়েছে প্রত্যেক বস্ত্তর ভান্ডার এবং আমরা নির্দিষ্ট পরিমাণেই তা নাযিল করি।
আর আমরা বৃষ্টিভরা বায়ু প্রেরণ করি। অতঃপর আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করি। অতঃপর তা তোমাদেরকে পান করাই। অথচ তোমরা এটির সঞ্চয়কারী নও।
আমরাই জীবন দান করি ও মৃত্যু দান করি এবং আমরাই সবকিছুর অধিকারী।
তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে আমরা জানি এবং তোমাদের পরে যারা আসবে তাদেরকেও আমরা জানি।
আর নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকই তাদের একত্রিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ।
আর অবশ্যই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি পচা কাদার শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হ’তে।
এর পূর্বে আমরা জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হ’তে।
আর (স্মরণ কর) যখন তোমার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বলেন, আমি পচা কাদার শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করব।
অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি (সম্মানের) সিজদায় পড়ে যেয়ো।
তখন ফেরেশতারা সবাই একত্রে সিজদা করল-
ইবলীস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হ’তে অস্বীকার করল।
আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস তোমার কি হ’ল যে, তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হ’লে না?
সে বলল, আমি এমন নই যে, মানুষকে সিজদা করব। যাকে আপনি পচা কাদার শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ বললেন, বেশ তাহ’লে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। কারণ তুমি অভিশপ্ত।
আর তোমার উপর অভিশাপ রইল বিচার দিবস পর্যন্ত।
সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তাহ’লে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।
আল্লাহ বললেন, তোমাকে অবকাশ দেওয়া হ’ল-
অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।
সে বলল, হে আমার পালনকর্তা। যেহেতু তুমি আমাকে বিপথগামী করেছ, সেহেতু আমিও পৃথিবীতে তাদের নিকট পাপকর্মকে শোভনীয় করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব।
তবে তাদের মধ্য থেকে তোমার খাঁটি বান্দারা ব্যতীত।
আল্লাহ বললেন, এটাই আমার নিকট পৌঁছার সরল পথ।
নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। তবে বিপথগামীদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ব্যতীত।
আর নিশ্চয়ই তাদের সবার নির্ধারিত ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম।
যার সাতটি দরজা রয়েছে। প্রত্যেক দরজার জন্য রয়েছে এক একটি নির্দিষ্ট দল।
নিশ্চয়ই মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে ও ঝর্ণাসমূহের মধ্যে।
(বলা হবে) তোমরা এর মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ কর।
(দুনিয়াতে) তাদের পরস্পরের অন্তরে যে বিদ্বেষ ছিল তা আমরা দূর করে দেব। ফলে তারা ভাই ভাই হয়ে পরস্পরে মুখোমুখি আসনে বসবে।
সেখানে তাদের কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না।
তুমি আমার বান্দাদের জানিয়ে দাও যে, অবশ্যই আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর আমার শাস্তি, সেটাও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
আর তাদেরকে জানিয়ে দাও ইব্রাহীমের মেহমানদের খবর।
যখন তারা তার নিকট প্রবেশ করল এবং বলল ‘সালাম’। ইব্রাহীম বলল, আমরা তোমাদের থেকে ভীত।
তারা বলল, ভয় পাবেন না। আমরা আপনাকে একটি বিজ্ঞ পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি।
ইব্রাহীম বলল, তোমরা আমাকে (সন্তানের) সুসংবাদ দিচ্ছ, অথচ আমাকে বার্ধক্য স্পর্শ করেছে, তাহ’লে তোমরা আমাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ?
তারা বলল, আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদ দিচ্ছি। অতএব আপনি হতাশ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
ইব্রাহীম বলল, পথভ্রষ্টরা ব্যতীত কে তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়?
অতঃপর সে বলল, হে দূতগণ! তোমাদের এখন প্রধান উদ্দেশ্য কি?
তারা বলল, আমরা একটি অপরাধী সম্প্রদায়ের দিকে প্রেরিত হয়েছি।
তবে লূতের পরিবার ব্যতীত। আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে বাঁচিয়ে নেব।
কেবল তার স্ত্রী ব্যতীত। আমরা (আল্লাহ্র নিকট থেকে জেনে) সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সে পশ্চাদ্বতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
অতঃপর যখন দূতেরা লূতের পরিবারের নিকট আসল।
সে বলল, তোমরা তো অপরিচিত লোক।
তারা বলল, বরং তারা যে (শাস্তির) বিষয়ে সন্দেহ করত, আমরা সেটা নিয়েই আপনার নিকট আগমন করেছি।
আমরা আপনার নিকট সত্য সংবাদ নিয়ে এসেছি। আর আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।
অতএব আপনি পরিবারসহ রাত্রির কিছু অংশ বাকী থাকতে বেরিয়ে পড়ুন এবং আপনি সবার পিছনে থাকুন (যাতে কেউ পিছনে থেকে না যায়)। আর আপনাদের কেউ যেন পিছন ফিরে না তাকায়। অতএব আপনারা চলে যান যেখানে আপনারা যেতে আদিষ্ট হয়েছেন।
আর আমরা লূতকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলাম যে, সকাল হ’তেই এদেরকে সমূলে ধ্বংস করা হবে।
এদিকে নগরীর (দুষ্টু) লোকেরা উল্লসিত হয়ে চলে এল।
লূত বলল, এঁরা আমার মেহমান। অতএব তোমরা আমাকে লজ্জিত করো না।
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে অপদস্ত করো না।
তারা বলল, আমরা কি তোমাকে অপরিচিত মেহমান থেকে নিষেধ করিনি?
সে বলল, ঐ যে আমাদের মেয়েরা (অর্থাৎ তোমাদের স্ত্রীরা) আছে সেখানে যাও যদি তোমরা একান্তই কিছু করতে চাও।
(আল্লাহ বলেন,) তোমার জীবনের কসম! ওরা নেশায় উদভ্রান্ত।
অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় এক বিকট নিনাদ তাদেরকে পাকড়াও করল।
অতঃপর আমরা উক্ত নগরীকে উপরে তুলে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর মেটেল পাথরের খন্ডসমূহ বর্ষণ করলাম।
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন সমূহ রয়েছে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য।
আর ওটা এখনও স্থায়ী সড়কের পাশে বিদ্যমান রয়েছে।
নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আর নিশ্চয়ই (মাদিয়ানের) আইকা বাসীরা সীমালংঘনকারী ছিল।
আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। আর তাদের ধ্বংসস্থল দু’টি প্রকাশ্য রাস্তার পাশে অবস্থিত।
আর নিশ্চয়ই হিজরবাসীরা রাসূলদের উপর মিথ্যারোপ করেছিল।
আমরা তাদেরকে আমাদের নিদর্শন সমূহ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছিল।
তারা পাহাড় খোদাই করে নিরাপদ গৃহসমূহ নির্মাণ করত।
অতঃপর প্রত্যুষে এক প্রচন্ড নিনাদ তাদের পাকড়াও করল।
তখন তাদের কোনই কাজে আসল না যা কিছু তারা অর্জন করেছিল।
নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুকে আমরা যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছি। আর ক্বিয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব তুমি ওদের সুন্দরভাবে মার্জনা কর।
নিশ্চয় তোমার পালনকর্তাই হ’লেন মহা স্রষ্টা ও মহা জ্ঞানী।
আর আমরা তোমাকে দান করেছি বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত ও মহিমান্বিত কুরআন।
আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে যে সুখ-সম্ভার দান করেছি, তুমি অবশ্যই সেদিকে চোখ উঠিয়ে দেখবে না। আর তাদের ব্যাপারে তুমি চিন্তিত হবে না। (বরং) ঈমানদারগণের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।
আর তুমি বল, আমি তো কেবল প্রকাশ্য সতর্ককারী মাত্র।
যেমন ইতিপূর্বে আমরা (আযাব) নাযিল করেছিলাম (আল্লাহ্র কিতাবে) বিভক্তি সৃষ্টিকারীদের উপর।
যারা কুরআনকে বিভিন্ন রূপে বিভক্ত করেছে।
অতএব তোমার প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই আমরা তাদের সকলকে প্রশ্ন করব-
সেই সব বিষয়ে যা তারা করত।
অতএব তুমি যেসব বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছ, তা তুমি প্রকাশ্যে প্রচার কর এবং মুশরিকদের উপেক্ষা কর।
ব্যঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আমরাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
যারা আল্লাহ্র সাথে অন্যকে উপাস্য সাব্যস্ত করেছে, সত্বর তারা (পরিণাম) জানতে পারবে।
আর আমরা ভালভাবে জানি ওরা যেসব কথা বলে তাতে তোমার হৃদয় সংকুচিত হয়।
অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা কর এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
আর তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর, যতক্ষণ না তোমার নিকট নিশ্চিত বিষয়টি (মৃত্যু) এসে যায়।