بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আল্লাহ্র নির্দেশ (ক্বিয়ামত) আসবেই। অতএব ওটার জন্য তোমরা ব্যস্ত হয়ো না। আর তারা যাদেরকে শরীক করে, তাদের থেকে তিনি পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে।
তিনি অহি সহ ফেরেশতা (জিব্রীলকে) নাযিল করেন বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি চান এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা মানুষকে সতর্ক কর যে আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে। আর তারা যেসবকে শরীক করে, সেসব থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন (পিতা-মাতার মিশ্রিত) জনন কোষ থেকে। অথচ সে এখন প্রকাশ্যে বিতন্ডাকারী।
তিনি গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন। তাতে তোমাদের জন্য শীত নিবারণের উপকরণ ও অন্যান্য কল্যাণ রয়েছে এবং সেসব থেকে তোমরা ভক্ষণ করে থাকো।
আর তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে, যখন তোমরা ওদেরকে সন্ধ্যাবেলা চারণ ভূমি থেকে ঘরে নিয়ে আসো এবং সকালবেলা চারণ ভূমিতে নিয়ে যাও।
আবার ওরাই তোমাদের ভার বহন করে নিয়ে যায় দূর দেশে যেখানে তোমরা প্রাণান্ত পরিশ্রম ব্যতীত পৌঁছতে পারতে না। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক পরম স্নেহশীল ও অসীম দয়ালু।
আর তোমাদের বাহন ও শোভা হিসাবে তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা এবং তিনি সৃষ্টি করেছেন এমন বহু কিছু যা তোমরা জানোনা।
আর আল্লাহ্র উপরেই দায়িত্ব সরল পথ বর্ণনার। আর পথ সমূহের মধ্যে সত্যচ্যুত পথও রয়েছে। বস্ত্তত তিনি চাইলে তোমাদের সবাইকে অবশ্যই সুপথে পরিচালিত করতে পারতেন।
তিনিই আকাশ হ’তে বারি বর্ষণ করেন। যাতে তোমাদের জন্য রয়েছে পানীয় এবং তা থেকে জন্মায় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা পশুচারণ করে থাক।
যা দিয়ে তিনি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, যয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সর্ববিধ ফলের বৃক্ষ। এর মধ্যে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
তিনি তোমাদের (কল্যাণের) জন্য নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য ও চন্দ্রকে। আর নক্ষত্ররাজিও অনুগত তাঁরই হুকুমে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন সমূহ রয়েছে।
আর তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে নানা রঙয়ের বৈচিত্র্যময় বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তাতে নিদর্শন রয়েছে উপদেশ গ্রহণকারী সম্প্রদায়ের জন্য।
তিনিই সমুদ্রকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা সেখান থেকে তাযা মাংস (মাছ) ভক্ষণ করতে পার এবং সেখান থেকে তোমাদের পরিধেয় রত্নালংকার আহরণ করতে পার। তুমি তার বুক চিরে নৌযান সমূহ চলতে দেখ, যাতে তোমরা সেখান থেকে তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে টলে না পড়ে এবং স্থাপন করেছেন নদী-নালা ও রাস্তাসমূহ যাতে তোমরা গন্তব্যে পৌঁছতে পার।
আর (সৃষ্টি করেছেন) পথনির্দেশক বস্ত্ত সমূহ; তাছাড়া ওরা নক্ষত্রের সাহায্যেও পথের দিশা পায়।
অতএব যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তার সমান হ’তে পারেন, যে সৃষ্টি করে না? এরপরেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
যদি তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ সমূহ গণনা কর, তবে তা গণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর আল্লাহ জানেন, যা তোমরা গোপন কর ও যা তোমরা প্রকাশ কর।
বস্ত্তত যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে আহবান করে, তারা কিছুই সৃষ্টি করে না। বরং তারাই সৃষ্ট।
ওরা মৃত, প্রাণহীন। পুনরুত্থান কবে হবে সে বিষয়ে ওদের কোন অনুভূতি নেই।
তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতঃপর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর হয় সত্যবিমুখ এবং তারা হয় অহংকারী।
এতে সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে। নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীদের ভালবাসেন না।
যখন তাদের বলা হয়, তোমাদের প্রতিপালক কি নাযিল করেছেন? তারা বলে, পূর্ববর্তীদের উপকথা সমূহ।
ফলে ক্বিয়ামতের দিন ওরা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে ওদের পাপভার এবং যাদেরকে ওরা অজ্ঞতা বশে বিভ্রান্ত করেছে তাদের পাপভার। দেখ কতই না নিকৃষ্ট ভার, যা তারা বহন করবে।
তাদের পূর্ববর্তীরা চক্রান্ত করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের চক্রান্তের ইমারতগুলি ভিত্তি সহ ধ্বংস করে দেন। ফলে উপর থেকে ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ে। আর তাদের উপর শাস্তি নেমে আসে এমনসব স্থান থেকে যে বিষয়ে তাদের কোন ধারণাও ছিল না।
অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন, কোথায় আমার শরীকরা যাদের কারণে তোমরা (আমার নবীদের সাথে) শত্রুতা করতে? তখন জ্ঞানীরা বলবে, নিশ্চয়ই আজ সকল লাঞ্ছনা ও অকল্যাণ কেবল কাফেরদের জন্যই।
নিজেদের উপর যুলুম করা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায়, তারা (মৃত্যুকালে) আত্মসমর্পণ করে বলে, আমরা তো কোন অন্যায় কাজ করতাম না। (তখন ফেরেশতারা তাদের বলবে) হ্যাঁ! তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আল্লাহ ভালভাবে অবগত আছেন।
অতএব তোমরা জাহান্নামের দরজা সমূহ দিয়ে প্রবেশ কর সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট!
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহভীরু ছিল তাদের যখন বলা হ’ত, তোমাদের প্রতিপালক কি নাযিল করেছেন? তারা বলত, উত্তম বস্ত্ত। বাস্তবিকই যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য ইহকালে রয়েছে কল্যাণ এবং তাদের পরকালের গৃহ অবশ্যই উৎকৃষ্ট। আর আল্লাহভীরুদের আবাসস্থল কতই না উত্তম!
‘আদন’ নামক স্থায়ী বসবাসের জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে। যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তাদের জন্য সবকিছু থাকবে যা তারা চাইবে। এভাবেই আল্লাহ মুত্তাক্বীদের পুরস্কৃত করবেন।
পক্ষান্তরে (শিরকমুক্ত) পবিত্র জীবন যাপনকারীদের যখন ফেরেশতারা মৃত্যু ঘটায়, তখন তারা বলে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক! তোমরা যে সৎকর্ম করতে তার পুরস্কার স্বরূপ তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।
কাফেররা কি তাহ’লে অপেক্ষা করছে কখন তাদের কাছে (মৃত্যুর) ফেরেশতা আসবে অথবা তোমার প্রতিপালকের (শাস্তির) আদেশ এসে পৌঁছবে? তাদের পূর্ববর্তী কাফেররা এরূপই করত। বস্ত্তত আল্লাহ তাদের উপর যুলুম করেননি। বরং তারাই নিজেদের উপর যুলুম করত।
ফলে তাদের মন্দকর্মের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল। আর তাদেরকে বেষ্টন করেছিল সেই শাস্তি, যা নিয়ে তারা (নবীদের) উপহাস করত।
আর মুশরিকরা বলে, যদি আল্লাহ চাইতেন, তাহ’লে আমরা বা আমাদের বাপ-দাদারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে পূজা করত না এবং তাঁর নির্দেশ ব্যতীত আমরা কোন কিছুই নিষিদ্ধ করতাম না। তাদের পূর্ববর্তীরা এরূপই (কুটতর্ক) করত। অতএব আল্লাহ্র বাণী সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া ব্যতীত রাসূলগণের উপর অন্য কোন দায়িত্ব আছে কি?
আর নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র দাসত্ব কর এবং ত্বাগূত থেকে বিরত হও। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু লোককে আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করেন এবং কিছু লোকের উপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে যায়। অতএব তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি কিরূপ হয়েছিল।
তুমি তাদের হেদায়াতের আকাংখী হ’লেও আল্লাহ তাকে হেদায়াত করেন না যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন। আর ওদের কোন সাহায্যকারী নেই।
তারা আল্লাহ্র নামে দৃঢ় শপথ করে বলে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুত্থিত করবেন না। হ্যাঁ, তার ওয়াদা সাব্যস্ত হয়েই গেছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
যাতে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল তা তাদের নিকট প্রকাশিত হয়ে যায় এবং যাতে কাফেররা জেনে নেয় যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।
আমরা যখন কোন কিছু করার ইচ্ছা করি, তখন কেবল বলি, হয়ে যাও। অতঃপর তা হয়ে যায়।
আর যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর আল্লাহ্র পথে হিজরত করেছে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়ায় উত্তম আবাস দান করব। আর আখেরাতের পুরস্কারই তো শ্রেষ্ঠ, যদি তারা জানত।
যারা ধৈর্যধারণ করে ও তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।
আর আমরা তোমার পূর্বে অহি সহ কেবল পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম। যদি তোমরা না জানো, তাহ’লে (আহলে কিতাবদের) জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর।
(তাদের প্রেরণ করেছিলাম) সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও কিতাব সমূহ নিয়ে। আর আমরা তোমার নিকটে কুরআন নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের নিকট বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে দাও যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।
যারা মন্দকর্মের চক্রান্ত করে, তারা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দিবেন না বা তাদের প্রতি এমন দিক দিয়ে শাস্তি আসবে না, যা তাদের ধারণাতীত?
অথবা তিনি তাদেরকে চলাফেরা অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? অতঃপর তারা তা ঠেকাতে সক্ষম হবে না।
অথবা তিনি তাদেরকে ভীত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক অতীব স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
তারা কি আল্লাহ্র সৃষ্ট বস্ত্তসমূহের প্রতি লক্ষ্য করেনা যে, তাদের ছায়া সমূহ (সকালে ও সন্ধ্যায়) ডাইনে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহ্র প্রতি সিজদাবনত হয় বিনীত অবস্থায়?
আসমান ও যমীনে যত প্রাণী আছে, সবই আল্লাহকে সিজদা করে এবং ফেরেশতাগণ। আর তারা অহংকার করে না।
তারা তাদের উপর তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয় তারা তা পালন করে। (সিজদা-৩)
আর আল্লাহ বললেন, তোমরা দুই উপাস্য গ্রহণ করো না। উপাস্য তো কেবল একজনই। অতএব আমাকেই তোমরা ভয় কর।
আর তারই জন্য সবকিছু, যা রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং কেবল তাঁরই প্রাপ্য নিরবচ্ছিন্ন আনুগত্য। এরপরেও কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ভয় করবে?
আর তোমাদের কাছে যত নে‘মত আছে, সবই আল্লাহ প্রদত্ত। অতঃপর যখন কোন অনিষ্ট তোমাদের স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই কাছে কান্নাকাটি কর।
এরপর যখন তিনি তোমাদের থেকে কষ্ট দূর করে দেন, তখন তোমাদের একটি দল তাদের প্রতিপালকের সাথে অন্যকে শরীক করে।
যাতে তারা ঐসব নে‘মতকে অস্বীকার করতে পারে যা আমরা তাদের দান করেছি। অতএব তোমরা দুনিয়া উপভোগ করে নাও। অচিরেই তোমরা (পরিণতি) জানতে পারবে।
আমরা তাদের যে রিযিক দান করেছি, সেখান থেকে একটা অংশ তারা নির্ধারিত করে (তাদের মিথ্যা উপাস্যের জন্য), যাদের সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না। আল্লাহ্র কসম! তোমরা যেসব মিথ্যা উদ্ভাবন কর, সেসব বিষয়ে তোমরা অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।
তারা আল্লাহ্র জন্য কন্যা সন্তান নির্ধারণ করে। অথচ এসব থেকে তিনি পবিত্র। আর তাদের জন্য ওটাই (অর্থাৎ পুত্র সন্তান) যা তারা কামনা করে।
তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের সংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে পড়ে।
প্রাপ্ত সংবাদের দুঃখে সে সম্প্রদায়ের লোকদের থেকে আত্মগোপন করে। সে ভাবতে থাকে, গ্লানি সত্ত্বেও সে কন্যাটিকে রেখে দিবে, না তাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় তা কতই না নিকৃষ্ট!
যারা আখেরাতে বিশ্বাস করেনা, তাদের জন্য রয়েছে মন্দ উপমা। পক্ষান্তরে আল্লাহ্র জন্য রয়েছে সর্বোত্তম উপমা। তিনিই পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের সীমালংঘনের জন্য পাকড়াও করতেন, তাহ’লে পৃথিবীতে কোন প্রাণীকেই তিনি ছাড়তেন না। কিন্তু একটি নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তিনি তাদের অবকাশ দেন। অতঃপর যখন সেই মেয়াদকাল এসে যায়, তখন তারা সেখান থেকে এক মুহূর্ত পিছাতেও পারে না, আগাতেও পারে না।
আর তারা আল্লাহ্র জন্য সেটাই নির্ধারণ করে, যা তারা অপসন্দ করে (অর্থাৎ কন্যা সন্তান) এবং তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (অর্থাৎ পুত্র সন্তান)। না, বরং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম এবং তারাই সেখানে সর্বাগ্রে নিক্ষিপ্ত হবে।
আল্লাহ্র কসম! আমরা তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকটে রাসূল প্রেরণ করেছি। অতঃপর শয়তান তাদের মন্দকর্ম সমূহকে শোভনীয় করে দেখিয়েছিল। সে আজ তাদের অভিভাবক। আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
আমরা তোমার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি কেবল এজন্য যে, তুমি তাদেরকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে দিবে যেসব বিষয়ে তারা মতভেদ করে এবং (এটি নাযিল করেছি) মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত স্বরূপ।
আর আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন। অতঃপর তার মাধ্যমে যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে ঐ লোকদের জন্য যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে।
আর নিশ্চয়ই গবাদিপশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় রয়েছে। আমরা তোমাদেরকে তাদের পেট থেকে বিশুদ্ধ দুধ পান করাই যা পানকারীদের জন্য অতীব উপাদেয়। যা নিঃসৃত হয় উক্ত পশুর গোবর ও রক্তের মধ্য দিয়ে।
আর খেজুর ও আঙ্গুর গাছের ফল সমূহ থেকে তোমরা শরাব ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাক। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।
আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ করলেন যে, তুমি তোমার গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, গাছে ও যেখানে মানুষ মাচান নির্মাণ করে।
অতঃপর তুমি সর্বপ্রকার ফল-মূল হ’তে ভক্ষণ কর। এরপর তোমার প্রভুর দেখানো পথ সমূহে প্রবেশ কর বিনীত ভাবে। তার পেট থেকে নির্গত হয় নানা রংয়ের পানীয়। যার মধ্যে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেন। অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান। আর তোমাদের মধ্যে কেউ পৌঁছে যায় জ্বরাগ্রস্ত বয়সে। যখন তার জানা বিষয়গুলি অজানা হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ তোমাদেরকে একে অপরের উপর জীবিকায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অতঃপর যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা নিজেদের জীবিকা হ’তে তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদেরকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা জীবিকায় তাদের সমান হয়ে যায়। এরপরেও কি তারা আল্লাহ্র নে‘মতকে অস্বীকার করবে?
আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের সন্তান-সন্ততি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র বস্ত্তসমূহ থেকে রূযী দান করেছেন। এরপরেও কি তারা মিথ্যায় বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?
তারা আল্লাহকে ছেড়ে এমন বস্ত্তর পূজা করে যা তাদের জন্য আসমান ও যমীন থেকে কোনই রূযীর ব্যবস্থা করার ক্ষমতা রাখে না এবং তারা এতে সক্ষম নয়।
সুতরাং তোমরা আল্লাহ্র জন্য কোন উপমা সাব্যস্ত করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না।
আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন একজন ক্রীতদাসের, যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখেনা এবং একজন ব্যক্তির, যাকে আমরা আমাদের পক্ষ হ’তে উত্তম জীবনোকরণ দান করেছি। সে তা থেকে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে। তারা কি পরস্পরে সমান? যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। বরং অধিকাংশ মানুষ জানেনা।
আল্লাহ আরও দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন দু’জন ব্যক্তির। যাদের একজন বোবা, কোন কিছুরই ক্ষমতা রাখে না। সে তার অভিভাবকের উপর বোঝা স্বরূপ। যেখানেই তাকে পাঠানো হয়, ভাল কিছুই সে আনতে পারে না। সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায়ের আদেশ দেয় ও সরল পথের উপর দন্ডায়মান থাকে?
কেবল আল্লাহ্র জন্যই রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য জ্ঞান। আর ক্বিয়ামতের ব্যাপারটি তো চোখের পলকের ন্যায় বা তার চেয়ে দ্রুত। নিশ্চয় আল্লাহ সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করে এনেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
তারা কি পক্ষীকুলের দিকে তাকিয়ে দেখে না, যারা অনুগত হয়ে আকাশের বায়ুমন্ডলে সন্তরণশীল থাকে? একমাত্র আল্লাহ-ই ওদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেন। অবশ্যই এতে নিদর্শন সমূহ রয়েছে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য।
আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের গৃহকে করেছেন আবাসস্থল এবং পশুচর্ম দ্বারা তোমাদের জন্য করেছেন তাঁবুর ব্যবস্থা। যা তোমরা সফরকালে সহজে বহন করতে পার এবং অবস্থানকালে সহজে ব্যবহার করতে পার। আর এগুলির পশম, লোম ও চুল দ্বারা তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেছেন গৃহ সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র, কিছু কালের জন্য ভোগ্যবস্ত্ত হিসাবে।
আর আল্লাহ নিজ সৃষ্টির মধ্যে কতকগুলিকে করেছেন ছায়াদার এবং পাহাড় সমূহকে করেছেন তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল। আর তিনি তোমাদের জন্য এক প্রকার পোষাকের ব্যবস্থা করেছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্মের খরতাপ হ’তে এবং আরেক প্রকার পোষাক যা তোমাদেরকে যুদ্ধে রক্ষা করে। এভাবে তিনি তোমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহকে পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা (আল্লাহ্র প্রতি) আত্মসমর্পণ কর।
এরপরেও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে তোমার দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেওয়া।
তারা আল্লাহ্র অনুগ্রহ সম্পর্কে জানে। অতঃপর তা অস্বীকার করে। বস্ত্তত তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।
আর যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন করে সাক্ষী উত্থিত করব। অতঃপর সেদিন কাফেরদের কথা বলার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদের নিকটে কৈফিয়ত তলব করা হবে না।
যখন যালেমরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। অতঃপর তাদের থেকে শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোনরূপ অবকাশ দেওয়া হবে না।
আর সেদিন মুশরিকরা যখন তাদের শরীকদের দেখবে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! ওরাই আমাদের শরীক, যাদেরকে আমরা আহবান করতাম তোমাকে ছেড়ে। তখন ঐ শরীকরা এদের দিকে কথা ছুঁড়ে দিয়ে বলবে, তোমরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
আর সেদিন তারা আল্লাহ্র নিকটে আত্মসমর্পণ করবে এবং তাদের থেকে হারিয়ে যাবে যেসব মিথ্যা উদ্ভাবন তারা করত।
যারা কুফরী করে ও আল্লাহ্র পথে বাধা দেয়, আমরা তাদের শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করব। কারণ তারা (পৃথিবীতে) অশান্তি সৃষ্টি করত।
আর সেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মতের মধ্য হ’তে তাদের উপর একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাব এবং তোমাকে আনব তাদের সকলের উপর সাক্ষী হিসাবে। আর আমরা তোমার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি সকল কিছুর বিশদ ব্যাখ্যা, পথনির্দেশ, অনুগ্রহ এবং মুসলমানদের জন্য সুসংবাদ হিসাবে।
নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অন্যায় ও অবাধ্যতা হ’তে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।
আর তোমরা আল্লাহ্র নামে অঙ্গীকারের পর তা পূর্ণ কর এবং শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করোনা। কেননা তোমরা তোমাদের শপথে আল্লাহকে যামিন করেছ। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।
আর তোমরা সেই নারীর মত হয়ো না, যে তার সূতা শক্তভাবে পাকানোর পর তা খুলে নষ্ট করে দেয়। তোমরা পরস্পরকে প্রবঞ্চনা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের শপথগুলিকে ব্যবহার করে থাক, যাতে তোমাদের একদল অন্যদল অপেক্ষা অধিক লাভবান হ’তে পারে। আল্লাহ তো এর দ্বারা তোমাদের (সততা) পরীক্ষা করেন মাত্র। ফলে তোমরা যেসব বিষয়ে মতভেদ করতে, সেসব বিষয়ে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ অবশ্যই বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে দিবেন।
বস্ত্তত যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তোমাদের সবাইকে এক জাতি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন ও যাকে চান সুপথ প্রদর্শন করেন। আর তোমরা অবশ্যই তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
আর তোমরা পরস্পরকে প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্যে তোমাদের শপথগুলিকে ব্যবহার করো না। তাতে তোমাদের পা দৃঢ় হওয়ার পর পিছলে যাবে এবং আল্লাহ্র পথে বাধা দেওয়ার কারণে তোমরা কঠোর শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে। আর তোমাদের জন্য থাকবে গুরুতর শাস্তি।
আর তোমরা আল্লাহ্র নামে অঙ্গীকারের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র কাছে যা আছে তাই-ই তোমাদের জন্য উত্তম; যদি তোমরা জানতে।
যা তোমাদের কাছে আছে তা শেষ হয়ে যাবে। আর যা আল্লাহ্র কাছে আছে তা বাকী থাকবে। যারা ধৈর্যধারণ করে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম অপেক্ষা অধিক উত্তম পুরস্কার দান করব।
পুরুষ হৌক বা নারী হৌক মুমিন অবস্থায় যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, আমরা তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম অপেক্ষা অধিক উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করব।
আর যখন তুমি কুরআন পাঠ কর, তখন (শুরুতে) বিতাড়িত শয়তান হ’তে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা কর।
নিশ্চয়ই শয়তানের কোন আধিপত্য চলে না তাদের উপর, যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।
তার আধিপত্য তো কেবল তাদের উপরেই চলে, যারা তাকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করে এবং যারা তার কারণে মুশরিক হয়েছে।
আমরা যখন এক আয়াত পরিবর্তন করে তার স্থলে অন্য আয়াত আনয়ন করি, আর আল্লাহ যা নাযিল করেন তিনিই তা ভাল জানেন, তখন তারা বলে, তুমি তো মনগড়া কথা বল। বরং তাদের অধিকাংশই (প্রকৃত বিষয়) জানে না।
বলে দাও, এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে পবিত্র রূহ (জিব্রীল) যথার্থভাবে নাযিল করেছেন। যাতে তিনি মুমিনদের দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এটি মুসলমানদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ স্বরূপ।
আর আমরা তো জানি যে, তারা বলে, তাকে শিক্ষা দেয় জনৈক ব্যক্তি। অথচ যার দিকে তারা ইঙ্গিত করে, সে তো একজন অনারব। অথচ এ কুরআন হ’ল পরিষ্কার আরবী ভাষায়।
যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহে বিশ্বাস করে না, তাদেরকে আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
মিথ্যা তো কেবল তারাই রচনা করে যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহে বিশ্বাস করেনা এবং তারাই হ’ল মিথ্যাবাদী।
যার উপরে (কুফরীর জন্য) যবরদস্তি করা হয়, অথচ তার হৃদয় ঈমানের উপর প্রশান্ত থাকে, সে ব্যতীত যে ব্যক্তি ঈমান আনার পরে কুফরী করে এবং কুফরীর জন্য হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেয়, তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহ্র গযব ও তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
এটা এজন্য যে, তারা আখেরাতের মোকাবেলায় পার্থিব জীবনকে প্রিয় মনে করে। আর নিশ্চয় আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
ওরাই হ’ল তারা যাদের হৃদয়, কর্ণ ও চক্ষু সমূহের উপর আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন। আর ওরাই হ’ল (সত্য থেকে) উদাসীন।
নিঃসন্দেহে ওরা হবে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত।
অতঃপর যারা (আল্লাহ্র পথে) নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করেছে। অতঃপর জিহাদ করেছে ও ধৈর্যধারণ করেছে, নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক এসবের পর তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
(স্মরণ কর) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দিতে (আল্লাহ্র সামনে) আসবে এবং প্রত্যেককে স্ব স্ব কৃতকর্মের ফল পূর্ণভাবে দেওয়া হবে এবং তারা কোনরূপ অত্যাচারিত হবে না।
আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন একটি জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও শান্ত। যেখানে প্রত্যেক স্থান থেকে আসত প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর তারা আল্লাহ্র নে‘মত সমূহের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। তখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ ক্ষুধা ও ভীতির দুরবস্থার স্বাদ আস্বাদন করালেন।
তাদের নিকট তো এসেছিল তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। কিন্তু তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে যালেম অবস্থাতেই তাদেরকে শাস্তি এসে গ্রাস করল।
অতএব আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছেন তার মধ্য থেকে তোমরা হালাল ও পবিত্র খাদ্য ভক্ষণ কর এবং আল্লাহ্র নে‘মতের শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাক।
নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবহ করা হয়েছে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ হারামের প্রতি ইচ্ছুক ও সীমালংঘনকারী না হয়ে তা খেতে বাধ্য হয়, তাহ’লে (সেক্ষেত্রে) নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তোমরা তোমাদের যবানে যেভাবে মিথ্যা বলে থাক, সেভাবে আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে বলো না যে, এটি হালাল ও এটি হারাম। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে, তারা সফলকাম হয় না।
(হারামের) সুখ-সম্ভোগ অতীব নগণ্য। অথচ (পরিণামে) তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
ইহূদীদের উপর আমরা কেবল তাই হারাম করেছিলাম, যা ইতিপূর্বে আমরা তোমার নিকট বর্ণনা করেছি। বস্ত্তত আমরা তাদের উপর যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের উপর যুলুম করেছিল।
অতঃপর যারা অজ্ঞতাবশে কোন অন্যায় করে, অতঃপর তওবা করে ও নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তোমার পালনকর্তা এসবের পরও তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
নিশ্চয়ই ইব্রাহীম ছিল একটি উম্মত। যে ছিল আল্লাহ্র প্রতি বিনীত ও একনিষ্ঠ এবং সে কখনোই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
সে ছিল আল্লাহ্র অনুগ্রহ সমূহের প্রতি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাকে মনোনীত করেন ও সরল পথে পরিচালিত করেন।
আমরা তাকে দুনিয়াতে মঙ্গল দিয়েছিলাম এবং আখেরাতেও সে হবে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর আমরা তোমার প্রতি অহি করেছি যে, তুমি একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের দ্বীনের অনুসারী হও। আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
শনিবারে ইবাদতের দিন নির্ধারণ কেবল তাদের জন্যই করা হয়েছিল, যারা এতে মতভেদ করেছিল। আর তোমার পালনকর্তা ক্বিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়ছালা করবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত।
তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দর পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভালভাবেই জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।
আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঐ পরিমাণ কর, যে পরিমাণ তোমাদের সাথে করা হয়েছে। অবশ্য যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর, তাহ’লে ধৈর্যশীলদের জন্য নিশ্চয়ই সেটি উত্তম।
তুমি ধৈর্যধারণ কর। আর তোমার ধৈর্যধারণ হবে কেবল আল্লাহ্র সাহায্যে। তাদের উপর দুঃখ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ো না।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন যারা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ।