بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম র-। এই কিতাব আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে বের করে আনতে পার অন্ধকার হ’তে আলোর পথে, তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। মহা পরাক্রান্ত ও মহা প্রশংসিত আল্লাহ্র পথে।
যার মালিকানায় রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সবকিছু। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির দুর্ভোগ।
যারা আখেরাতের উপর দুনিয়াবী জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আল্লাহ্র পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় ও সেখানে বক্রতা তালাশ করে, তারা দূরবর্তী ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।
আর আমরা কোন রাসূলকে পাঠাইনি স্বজাতির ভাষায় ব্যতীত, যাতে তারা তাদের কাছে (আমার দ্বীন) ব্যাখ্যা করে দিতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন ও যাকে চান পথপ্রদর্শন করেন। তিনি মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আমরা মূসাকে আমাদের নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করেছিলাম এই মর্মে যে, তুমি তোমার সম্প্রদায়কে অন্ধকার হ’তে আলোর পথে বের করে আনো এবং তাদেরকে আল্লাহ্র দিবস সমূহ স্মরণ করিয়ে দাও। নিশ্চয়ই তাতে নিদর্শনসমূহ রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ বান্দার জন্য।
যখন মূসা তার জাতিকে বলল, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহকে স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাঊন সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দেন। তারা তোমাদের নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করত ও কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখত। এতে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে মহা পরীক্ষা নিহিত ছিল।
আর (স্মরণ কর) যখন তোমাদের প্রতিপালক জানিয়ে দেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তাহ’লে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বেশী বেশী দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহ’লে (মনে রেখ) নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।
আর মূসা বলল, যদি তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই অকৃতজ্ঞ হও, (তবে মনে রেখ) আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।
তোমাদের কাছে কি খবর পৌঁছেনি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, ‘আদ ও ছামূদের ও তাদের পরবর্তীদের? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনাবলী সহ তাদের রাসূলগণ এসেছিলেন। কিন্তু তারা তাদের মুখে হাত দিয়ে রেখেছিল এবং বলেছিল, তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি এবং তোমরা আমাদের যেদিকে আহবান করছ, সে বিষয়ে আমরা ঘোরতর সন্দেহে রয়েছি।
তখন তাদের রাসূলগণ বলেছিলেন, আল্লাহ্র ব্যাপারে সন্দেহ? যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টিকর্তা! যিনি তোমাদেরকে আহবান করছেন তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করার জন্য এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের অবকাশ দেয়ার জন্য। তারা বলেছিল, তোমরা তো আমাদের মত মানুষ বৈ কিছু নও। তোমরা আমাদেরকে ঐসব উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যাদের উপাসনা আমাদের বাপ-দাদারা করত? অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসো।
তাদের রাসূলগণ তাদের বলেছিলেন, আমরা তোমাদের মত মানুষ ব্যতীত নই। কিন্তু আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করে থাকেন। আল্লাহ্র অনুমতি ব্যতীত তোমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অতএব আল্লাহ্র উপরে ভরসা করাই মুমিনদের কর্তব্য।
কেন আমরা আল্লাহ্র উপর ভরসা করব না? অথচ তিনিই আমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা আমাদের যে কষ্ট দিচ্ছ, তাতে অবশ্যই আমরা ধৈর্যধারণ করব। আর কেবলমাত্র আল্লাহ্র উপরেই ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।
আর কাফেররা তাদের রাসূলদের বলেছিল, অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেব, অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে। তখন তাদের নিকট তাদের প্রতিপালক অহি করলেন যে, আমরা অবশ্যই যালেমদের ধ্বংস করে দেব।
তাদের পরে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করব। এটা তাদের জন্য যারা আমার সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে এবং আমার শাস্তিকে ভয় করে।
নবীরা বিজয়ের প্রার্থনা করেছিল এবং উদ্ধত ও হঠকারীরা ব্যর্থকাম হয়েছিল।
তাদের প্রত্যেকের পরিণামে রয়েছে জাহান্নাম এবং তাদেরকে পান করানো হবে গলিত পুঁজ-রক্তের পানি।
সে বারবার ঢোক গিলতে চাইবে। কিন্তু গিলতে পারবে না। চারদিক থেকে মৃত্যু তাকে ঘিরে ধরবে। অথচ সে মরবে না। এরপরেও থাকবে তার জন্য কঠোর শাস্তি।
যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করে, তাদের সৎকর্ম সমূহ ভস্মস্তূপের ন্যায়। ঝড়ের দিন প্রচন্ড বায়ু যাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। তারা যা উপার্জন করে তা থেকে কিছু্ই তারা কাজে লাগাতে সক্ষম হয় না। আর এটাই হ’ল তাদের দূরতম ভ্রষ্টতা।
তুমি কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে? তিনি চাইলে তোমাদেরকে সরিয়ে দিবেন ও নতুন সৃষ্টিকে আনয়ন করবেন।
আর সেটা আল্লাহ্র উপর কোন কঠিন বিষয় নয়।
আর তারা সবাই আল্লাহ্র সামনে দন্ডায়মান হবে। সেদিন দুর্বলেরা ক্ষমতাশালীদের বলবে, আমরা (দুনিয়াতে) তোমাদের অনুসারী ছিলাম। এখন তোমরা কি আমাদেরকে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে কিছুটা রেহাই দিতে পারবে? তারা বলবে, আল্লাহ আমাদের সুপথ দেখালে আমরাও তোমাদের সুপথ দেখাতাম। এখন আমরা দিশেহারা হই বা ধৈর্যধারণ করি সবই সমান। আমাদের বাঁচার কোন পথ নেই।
যখন সবকিছুর ফায়ছালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন। আর আমি তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলাম। যা আমি ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর আমার তো কোন আধিপত্য ছিল না কেবল এতটুকু যে, আমি তোমাদের ডেকেছিলাম আর তোমরা তাতে সাড়া দিয়েছিলে। অতএব তোমরা আমাকে দোষারোপ করো না, বরং তোমরা নিজেদেরকে দোষারোপ করো। আমি তোমাদের উদ্ধার করতে পারব না, তোমরাও আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না। তোমরা যে ইতিপূর্বে আল্লাহ্র সাথে আমাকে শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয়ই যালেমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদেরকে প্রবেশ করানো হবে জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। সেখানে তাদের সম্ভাষণ হবে ‘সালাম’।
তুমি কি দেখ না কিভাবে আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন? পবিত্র বাক্য হ’ল পবিত্র বৃক্ষের মতো। যার কান্ড সুদৃঢ় এবং শাখা আকাশে উত্থিত।
যা সর্বদা ফল দান করে তার প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত সমূহ বর্ণনা করেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আর নাপাক বাক্যের দৃষ্টান্ত হ’ল নাপাক বৃক্ষের মতো। যাকে মাটির উপর থেকে উপড়ে নেওয়া হয়, যার কোন স্থায়িত্ব নেই।
আল্লাহ মুমিনদের দৃঢ় বাক্য দ্বারা দৃঢ় রাখেন ইহকালীন জীবনে ও পরকালে এবং যালেমদের পথভ্রষ্ট করেন। বস্ত্তত আল্লাহ যা চান তাই করেন।
তুমি কি তাদের দেখনি যারা আল্লাহ্র নে‘মতকে কুফরীতে পরিবর্তন করেছে এবং তাদের সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ করেছে ধ্বংসস্থলে?
(অর্থাৎ) জাহান্নামে। সেখানে তারা প্রবেশ করবে। আর কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল সেটি!
আর তারা আল্লাহ্র জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করে যাতে তারা আল্লাহ্র পথ থেকে লোকদের বিচ্যুত করতে পারে। বল, কিছুদিন জীবন উপভোগ করে নাও। কেননা তোমাদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম।
তুমি আমার বিশ্বাসী বান্দাদের বলে দাও, তারা যেন ছালাত কায়েম করে এবং আমাদের দেওয়া রূযী থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে সেই দিন আসার পূর্বে, যেদিন কোন বেচা-কেনা বা বন্ধুত্ব থাকবে না।
তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা থেকে তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-শস্যাদি উৎপাদন করেন। আর নৌযানকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন যাতে তাঁর নির্দেশে ওটা সাগরে বিচরণ করে এবং তিনি নদী সমূহকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন।
তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের (মঙ্গলের) জন্য বশীভূত করেছেন সর্বদা একই নিয়মে গতিশীল রাখার মাধ্যমে এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি ও দিবসকে।
আর তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন যা কিছু তোমরা চেয়েছ। যদি তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ সমূহ গণনা কর, তবে তোমরা তা গণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ বড়ই যালেম ও অকৃতজ্ঞ।
আর (স্মরণ কর) যখন ইব্রাহীম বলেছিল, হে আমার পালনকর্তা, এ শহর (মক্কা)-কে তুমি শান্তিময় কর এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের তুমি মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ।
হে আমার প্রতিপালক! এই মূর্তিগুলি বহু মানুষকে বিপথগামী করেছে। অতএব যে আমার অনুগামী হবে, সে আমার দলভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্য হবে, সে অবস্থায় নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার এক সন্তানকে তোমার এ পবিত্র (কা‘বা) গৃহের নিকটে অনাবাদী উপত্যকায় আবাদ করেছি, হে আমাদের পালনকর্তা যেন তারা ছালাত কায়েম করে। অতএব কিছু মানুষের অন্তরকে তুমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দাও এবং তাদেরকে ফল-ফলাদি দ্বারা রূযী প্রদান কর। যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি জান যা কিছু আমরা গোপন করি ও যা কিছু আমরা প্রকাশ করি। বস্ত্তত যমীন ও আসমানের কোন কিছুই আল্লাহ্র নিকটে গোপন থাকে না।
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাকে বার্ধক্য সত্ত্বেও ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অবশ্যই দো‘আ শ্রবণকারী।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ছালাত কায়েমকারী বানাও এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা! আমার দো‘আ কবুল কর!
হে আমাদের প্রভু! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল ঈমানদারকে ক্ষমা কর যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে।
তুমি অবশ্যই একথা ভেবো না যে, যালেমরা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তবে তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চক্ষুসমূহ বিস্ফারিত হবে।
যেদিন ভীত-বিহবল অবস্থায় তারা দৌড়াতে থাকবে। নিজেদের দিকে দৃষ্টি ফেরাবার অবকাশ তাদের থাকবে না। আর তাদের হৃদয়গুলি হবে শূন্য।
তুমি মানুষকে ঐদিনের ভয় দেখাও, যেদিন তাদের কাছে আযাব এসে যাবে। আর যালেমরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের অল্প কিছু দিন সময় দাও। আমরা তোমার আহবানে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। অথচ তোমরা কি ইতিপূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবে না।
আর তোমরা তাদের আবাসভূমিতেই বসবাস করতে, যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছিল। আর তাদের সাথে আমরা কি আচরণ করেছিলাম সেটাও তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা তোমাদের নিকট তাদের দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেছিলাম।
তারা ভীষণ চক্রান্ত করেছিল। আর তাদের চক্রান্তসমূহ আল্লাহ্র নিকট ভালভাবেই জানা ছিল। যদিও তাদের চক্রান্ত এমন ছিল না, যার দ্বারা পাহাড়গুলি অপসারিত হয়ে যায়।
অতএব তুমি অবশ্যই ভেবোনা যে আল্লাহ স্বীয় রাসূলগণের নিকট প্রদত্ত ওয়াদা ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত ও প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং (পরিবর্তিত হবে) আকাশমন্ডলী। আর মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহ্র সম্মুখে যিনি এক ও মহা পরাক্রমশালী।
আর তুমি পাপীদেরকে দেখবে শৃংখলিত অবস্থায়।
সেদিন তাদের পোষাক হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের চেহারাগুলিকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে।
যাতে আল্লাহ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফলাফল দিতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
এটা মানুষের জন্য একটি বার্তা। যাতে এর মাধ্যমে তারা সতর্ক হয় এবং জানতে পারে যে, তিনিই একমাত্র উপাস্য। আর যাতে জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।