১৭

সূরাঃ বনু ইস্রাঈল (ইস্রাঈল জাতি)

মাক্কীমোট আয়াত ১১১ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

سُبۡحٰنَ الَّذِىۡۤ اَسۡرٰى بِعَبۡدِهٖ لَيۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَـرَامِ اِلَى الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِىۡ بٰرَكۡنَا حَوۡلَهٗ لِنُرِيَهٗ مِنۡ اٰيٰتِنَاؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِيۡعُ الۡبَصِيۡرُ‏

মহাপবিত্র তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আক্বছা পর্যন্ত, যার চতুস্পার্শ্বকে আমরা বরকতমন্ডিত করেছি, তাকে আমাদের নিদর্শনসমূহ দেখাবার জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

وَاٰتَيۡنَا مُوۡسَى الۡـكِتٰبَ وَ جَعَلۡنٰهُ هُدًى لِّبَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَ اَلَّا تَتَّخِذُوۡا مِنۡ دُوۡنِىۡ وَكِيۡلًاؕ

আর আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং সেটিকে বনু ইস্রাঈলের জন্য পথ প্রদর্শক করেছিলাম। যাতে তারা আমাকে ছেড়ে অন্যকে কর্মবিধায়ক হিসাবে গ্রহণ না করে।

ذُرِّيَّةَ مَنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوۡحٍؕ اِنَّهٗ كَانَ عَبۡدًا شَكُوۡرًا‏

(হে মানবজাতি!) তোমরা তো তাদের সন্তান, যাদেরকে আমরা নূহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই সে ছিল একজন কৃতজ্ঞ বান্দা।

وَقَضَيۡنَاۤ اِلٰى بَنِىۡۤ اِسۡرَاۤءِيۡلَ فِى الۡكِتٰبِ لَـتُفۡسِدُنَّ فِى الۡاَرۡضِ مَرَّتَيۡنِ وَلَتَعۡلُنَّ عُلُوًّا كَبِيۡرًا‏

আর আমরা কিতাবে ফায়ছালা করে রেখেছিলাম যে, তোমরা জনপদে (শামে) দু’বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমরা অত্যন্ত বড় ধরনের বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হবে।

فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ اُوۡلٰٮهُمَا بَعَثۡنَا عَلَيۡكُمۡ عِبَادًا لَّنَاۤ اُولِىۡ بَاۡسٍ شَدِيۡدٍ فَجَاسُوۡا خِلٰلَ الدِّيَارِؕ وَكَانَ وَعۡدًا مَّفۡعُوۡلًا‏

অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে আমাদের একদল বান্দাকে প্রেরণ করলাম, যারা ছিল কঠোর যোদ্ধা। অতঃপর তারা জনপদের ঘরে-ঘরে ঢুকে ধ্বংসযজ্ঞ চালালো। আর এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ারই ছিল।

ثُمَّ رَدَدۡنَا لَـكُمُ الۡكَرَّةَ عَلَيۡهِمۡ وَاَمۡدَدۡنٰـكُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّبَنِيۡنَ وَجَعَلۡنٰكُمۡ اَكۡثَرَ نَفِيۡرًا‏

অতঃপর আমরা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের পালা ঘুরিয়ে দিলাম এবং তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করলাম। আর তোমাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে পরিণত করলাম।

اِنۡ اَحۡسَنۡتُمۡ اَحۡسَنۡتُمۡ لِاَنۡفُسِكُمۡ​وَاِنۡ اَسَاۡتُمۡ فَلَهَاؕ فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ الۡاٰخِرَةِ لِيَسُـوْۤءا وُجُوۡهَكُمۡ وَلِيَدۡخُلُوا الۡمَسۡجِدَ كَمَا دَخَلُوۡهُ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّلِيُتَبِّرُوۡا مَا عَلَوۡا تَتۡبِيۡرًا‏

তোমরা সৎকর্ম করলে নিজেদের জন্যেই সেটা করবে। আর মন্দকর্ম করলে সেটাও নিজেদের জন্য। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত দ্বিতীয় সময়টি এসে গেল, (তখন আমরা অন্য বান্দাদের প্রেরণ করলাম) যাতে তারা তোমাদের মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে দেয় এবং যাতে তারা মসজিদে (বায়তুল মুক্বাদ্দাসে) প্রবেশ করে। যেমন তারা সেখানে প্রথমবার প্রবেশ করেছিল এবং যেখানেই তারা জয়ী হবে সেখানেই যাতে পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

عَسٰى رَبُّكُمۡ اَنۡ يَّرۡحَمَكُمۡۚ وَاِنۡ عُدْتُّمۡ عُدۡنَاۘ وَجَعَلۡنَا جَهَنَّمَ لِلۡكٰفِرِيۡنَ حَصِيۡرًا‏

অবশ্যই তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি তোমরা (যুলুমের) পুনরাবৃত্তি কর, তাহ’লে আমরাও (শাস্তির) পুনরাবৃত্তি করব। আর জাহান্নামকে আমরা অবিশ্বাসীদের জন্য কারাগার স্বরূপ বানিয়েছি।

اِنَّ هٰذَا الۡقُرۡاٰنَ يَهۡدِىۡ لِلَّتِىۡ هِىَ اَقۡوَمُ وَ يُبَشِّرُ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ الَّذِيۡنَ يَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمۡ اَجۡرًا كَبِيۡرًاۙ

নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের নির্দেশনা দেয় যা সবচাইতে সরল। আর তা সৎকর্মশীল মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।

وَّاَنَّ الَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَةِ اَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابًا اَلِيۡمًا‏

পক্ষান্তরে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমরা প্রস্ত্তত করে রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

وَيَدۡعُ الۡاِنۡسَانُ بِالشَّرِّ دُعَآءَهٗ بِالۡخَيۡرِؕ وَكَانَ الۡاِنۡسَانُ عَجُوۡلًا‏

আর মানুষ যেভাবে মন্দের দো‘আ করে, সেভাবেই কল্যাণের দো‘আ করে। বস্ত্তত মানুষ বড়ই দ্রুততা প্রিয়।

وَجَعَلۡنَا الَّيۡلَ وَالنَّهَارَ اٰيَتَيۡنِ​ فَمَحَوۡنَاۤ اٰيَةَ الَّيۡلِ وَجَعَلۡنَاۤ اٰيَةَ النَّهَارِ مُبۡصِرَةً لِّتَبۡتَغُوۡا فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّكُمۡ وَلِتَعۡلَمُوۡا عَدَدَ السِّنِيۡنَ وَالۡحِسَابَؕ وَكُلَّ شَىۡءٍ فَصَّلۡنٰهُ تَفۡصِيۡلًا‏ 

আমরা রাত্রি ও দিবসকে দু’টি নিদর্শন রূপে নির্ধারণ করেছি। অতঃপর রাত্রির নিদর্শনকে করেছি নিষ্প্রভ এবং দিবসের নিদর্শনকে করেছি আলোকময়। যাতে তোমরা (তাতে) তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। আর যাতে তোমরা বছর সমূহের গণনা ও হিসাব জানতে পার। বস্ত্তত আমরা সকল বিষয় বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে দেই।

وَكُلَّ اِنۡسَانٍ اَلۡزَمۡنٰهُ طٰۤٮِٕرَهٗ فِىۡ عُنُقِهٖؕ وَنُخۡرِجُ لَهٗ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ كِتٰبًا يَّلۡقٰٮهُ مَنۡشُوۡرًا‏

প্রত্যেক মানুষের কৃতকর্মকে আমরা তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। আর ক্বিয়ামতের দিন আমরা তাকে বের করে দেখাব একটি আমলনামা, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।

اِقۡرَاۡ كِتٰبَك َؕ كَفٰى بِنَفۡسِكَ الۡيَوۡمَ عَلَيۡكَ حَسِيۡبًاؕ

(সেদিন আমরা বলব,) তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর। আজ তুমি নিজেই নিজের হিসাবের জন্য যথেষ্ট।

مَنِ اهۡتَدٰى فَاِنَّمَا يَهۡتَدِىۡ لِنَفۡسِهٖۚ وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيۡهَاؕ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰىؕ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِيۡنَ حَتّٰى نَبۡعَثَ رَسُوۡلًا‏

যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করে, সে তার নিজের কল্যাণের জন্যেই সেটা করে। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে তার নিজের ধ্বংসের জন্যেই সেটা হয়। বস্ত্তত একের বোঝা অন্যে বহন করবে না। আর আমরা রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না।

وَاِذَاۤ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نُّهۡلِكَ قَرۡيَةً اَمَرۡنَا مُتۡرَفِيۡهَا فَفَسَقُوۡا فِيۡهَا فَحَقَّ عَلَيۡهَا الۡقَوۡلُ فَدَمَّرۡنٰهَا تَدۡمِيۡرًا‏

যখন আমরা কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন আমরা সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নির্দেশ দেই। তখন তারা সেখানে পাপাচারে মেতে ওঠে। ফলে তার উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমরা ওটাকে পুরাপুরি বিধ্বস্ত করে দেই।

وَكَمۡ اَهۡلَكۡنَا مِنَ الۡقُرُوۡنِ مِنۡۢ بَعۡدِ نُوۡحٍؕ وَكَفٰى بِرَبِّكَ بِذُنُوۡبِ عِبَادِهٖ خَبِيۡرًۢا بَصِيۡرًا‏

আর নূহের পরের যুগ সমূহে আমরা বহু জনপদকে ধ্বংস করেছি। বস্ত্তত তোমার পালনকর্তাই তার বান্দাদের পাপাচার সমূহের খবর জানা ও দেখার জন্য যথেষ্ট।

مَنۡ كَانَ يُرِيۡدُ الۡعَاجِلَةَ عَجَّلۡنَا لَهٗ فِيۡهَا مَا نَشَآءُ لِمَنۡ نُّرِيۡدُ ثُمَّ جَعَلۡنَا لَهٗ جَهَنَّمَۚ يَصۡلٰٮهَا مَذۡمُوۡمًا مَّدۡحُوۡرًا‏ 

যে ব্যক্তি দুনিয়া কামনা করে, আমরা সেখানে যাকে চাই তাকে যতটুকু ইচ্ছা দ্রুত দিয়ে দেই। পরে তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করি। সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত ও অনুগ্রহ বঞ্চিত অবস্থায়।

وَمَنۡ اَرَادَ الۡاٰخِرَةَ وَسَعٰى لَهَا سَعۡيَهَا وَهُوَ مُؤۡمِنٌ فَاُولٰۤٮِٕكَ كَانَ سَعۡيُهُمۡ مَّشۡكُوۡرًا‏

আর যে ব্যক্তি আখেরাত কামনা করে এবং সেখানে ছওয়াব লাভে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে তার জন্য যথার্থভাবে চেষ্টা করে, তাদের সেই চেষ্টা গৃহীত হয়।

كُلًّا نُّمِدُّ هٰٓؤُلَاۤءِ وَهٰٓؤُلَاۤءِ مِنۡ عَطَآءِ رَبِّكَؕ وَمَا كَانَ عَطَآءُ رَبِّكَ مَحۡظُوۡرًا‏

ওদের এবং এদের সবাইকে আমরা তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ (রিযিক) দ্বারা সাহায্য করে থাকি। আর তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ কারু জন্য নিষিদ্ধ নয়।

اُنْظُرۡ كَيۡفَ فَضَّلۡنَا بَعۡضَهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍؕ وَلَـلۡاٰخِرَةُ اَكۡبَرُ دَرَجٰتٍ وَّاَكۡبَرُ تَفۡضِيۡلًا‏

তুমি দেখ, কিভাবে আমরা তাদেরকে পরস্পরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর (দুনিয়ার মোকাবেলায়) আখেরাত অবশ্যই মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং প্রাচুর্যে শ্রেষ্ঠ।

لَا تَجۡعَلۡ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَتَقۡعُدَ مَذۡمُوۡمًا مَّخۡذُوۡلًا‏ 

তুমি আল্লাহ্র সাথে কাউকে উপাস্য নির্ধারণ করো না। তাহ’লে তুমি নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে পড়ে থাকবে।

وَقَضٰى رَبُّكَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِيَّاهُ وَبِالۡوَالِدَيۡنِ اِحۡسَانًاؕ اِمَّا يَـبۡلُغَنَّ عِنۡدَكَ الۡكِبَرَ اَحَدُهُمَاۤ اَوۡ كِلٰهُمَا فَلَا تَقُلْ لَّهُمَاۤ اُفٍّ وَّلَا تَنۡهَرۡهُمَا وَقُلْ لَّهُمَا قَوۡلًا كَرِيۡمًا‏

আর তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারু উপাসনা করো না এবং তোমরা তোমাদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহ’লে তুমি তাদের প্রতি উহ্ শব্দটিও উচ্চারণ করো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না। আর তুমি তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল।

وَاخۡفِضۡ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحۡمَةِ وَقُلْ رَّبِّ ارۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيٰنِىۡ صَغِيۡرًاؕ

আর তুমি তাদের প্রতি মমতাবশে বিনয়াবনত থাক এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছিলেন।

رَّبُّكُمۡ اَعۡلَمُ بِمَا فِىۡ نُفُوۡسِكُمۡؕ اِنۡ تَكُوۡنُوۡا صٰلِحِيۡنَ فَاِنَّهٗ كَانَ لِلۡاَوَّابِيۡنَ غَفُوۡرًا‏

তোমাদের প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন তোমাদের অন্তরে যা আছে। যদি তোমরা সৎকর্মশীল হও, তবে তিনি সর্বদা তওবাকারীদের জন্য ক্ষমাশীল।

وَاٰتِ ذَا الۡقُرۡبٰى حَقَّهٗ وَالۡمِسۡكِيۡنَ وَابۡنَ السَّبِيۡلِ وَلَا تُبَذِّرۡ تَبۡذِيۡرًا‏

তুমি নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর তুমি মোটেই অপচয় করো না।

اِنَّ الۡمُبَذِّرِيۡنَ كَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّيٰطِيۡنِؕ وَكَانَ الشَّيۡطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوۡرًا‏

নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ।

وَاِمَّا تُعۡرِضَنَّ عَنۡهُمُ ابۡتِغَآءَ رَحۡمَةٍ مِّنۡ رَّبِّكَ تَرۡجُوۡهَا فَقُلْ لَّهُمۡ قَوۡلًا مَّيۡسُوۡرًا‏

আর তোমার প্রতিপালকের দয়া প্রত্যাশী থাকা অবস্থায় যদি কখনো তাদের (অর্থাৎ অভাবগ্রস্তদের) বিমুখ করতেই হয়, তাহ’লে তুমি তাদের প্রতি নম্রভাবে কথা বলো।

وَلَا تَجۡعَلۡ يَدَكَ مَغۡلُوۡلَةً اِلٰى عُنُقِكَ وَلَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا‏

তুমি তোমার হাতকে গুটিয়ে গ্রীবালগ্ন করে রেখ না এবং তাকে একেবারে মুক্ত করে দিয়ো না। তাহ’লে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে।

اِنَّ رَبَّكَ يَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ يَّشَآءُ وَيَقۡدِرُؕ اِنَّهٗ كَانَ بِعِبَادِهٖ خَبِيۡرًۢا بَصِيۡرًا‏

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যাকে ইচ্ছা রূযী প্রশস্ত করেন ও সংকুচিত করেন। নিঃসন্দেহে তিনি তাঁর বান্দাদের সবকিছু জানেন ও দেখেন।

وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَكُمۡ خَشۡيَةَ اِمۡلَاقٍؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُهُمۡ وَاِيَّاكُمۡؕ اِنَّ قَتۡلَهُمۡ كَانَ خِطۡاً كَبِيۡرًا‏

তোমরা দরিদ্রতার ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমরা তাদের ও তোমাদের রূযী দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।

وَلَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰٓى اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَةًؕ وَسَآءَ سَبِيۡلًا‏ 

তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।

وَلَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِىۡ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالۡحَـقِّؕ وَمَنۡ قُتِلَ مَظۡلُوۡمًا فَقَدۡ جَعَلۡنَا لِـوَلِيِّهٖ سُلۡطٰنًا فَلَا يُسۡرِفْ فِّى الۡقَتۡلِؕ اِنَّهٗ كَانَ مَنۡصُوۡرًا‏

আর আল্লাহ যাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন, তোমরা তাকে হত্যা করো না ন্যায্য কারণ ব্যতীত। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, তার উত্তরাধিকারীকে আমরা অধিকার দিয়েছি। অতএব সে যেন হত্যার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্য প্রাপ্ত হবে।

وَلَا تَقۡرَبُوۡا مَالَ الۡيَتِيۡمِ اِلَّا بِالَّتِىۡ هِىَ اَحۡسَنُ حَتّٰى يَبۡلُغَ اَشُدَّهٗ​ وَاَوۡفُوۡا بِالۡعَهۡدِۚ اِنَّ الۡعَهۡدَ كَانَ مَسۡـــُٔوۡلًا‏ 

তোমরা ইয়াতীমের মালের নিকটবর্তী হয়ো না উত্তম পন্থায় ব্যতীত, যতদিন না সে যোগ্য বয়সে উপনীত হয়। আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে।

وَاَوۡفُوا الۡـكَيۡلَ اِذَا كِلۡتُمۡ وَزِنُوۡا بِالۡقِسۡطَاسِ الۡمُسۡتَقِيۡمِؕ ذٰ لِكَ خَيۡرٌ وَّاَحۡسَنُ تَاۡوِيۡلًا‏

তোমরা মাপের সময় পূর্ণভাবে মেপে দাও এবং তুলাদন্ডে সঠিকভাবে ওযন কর। এটাই হ’ল উত্তম ও পরিণামে কল্যাণকর।

وَلَا تَقۡفُ مَا لَـيۡسَ لَـكَ بِهٖ عِلۡمٌؕ اِنَّ السَّمۡعَ وَالۡبَصَرَ وَالۡفُؤَادَ كُلُّ اُولٰۤٮِٕكَ كَانَ عَنۡهُ مَسۡـُٔوۡلًا‏

আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পিছে পড়ো না। নিশ্চয় তোমার কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় প্রতিটিই (ক্বিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসিত হবে।

وَلَا تَمۡشِ فِى الۡاَرۡضِ مَرَحًاۚ اِنَّكَ لَنۡ تَخۡرِقَ الۡاَرۡضَ وَلَنۡ تَبۡلُغَ الۡجِبَالَ طُوۡلًا‏

আর তুমি জনপদে দম্ভভরে বিচরণ করো না। নিশ্চয়ই তুমি ভূ-পৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছতে পারবে না।

كُلُّ ذٰ لِكَ كَانَ سَيِّئُهٗ عِنۡدَ رَبِّكَ مَكۡرُوۡهًا‏

বর্ণিত বিষয়গুলির মধ্যে যেগুলি মন্দ, সেগুলি তোমার প্রতিপালকের নিকট অপসন্দনীয়।

ذٰ لِكَ مِمَّاۤ اَوۡحٰۤى اِلَيۡكَ رَبُّكَ مِنَ الۡحِكۡمَةِؕ وَلَا تَجۡعَلۡ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَتُلۡقٰى فِىۡ جَهَنَّمَ مَلُوۡمًا مَّدۡحُوۡرًا‏

এগুলি হ’ল ঐ প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, যা তোমার প্রতিপালক তোমাকে অহি করেছেন। অতএব তুমি আল্লাহ্র সাথে অন্যকে উপাস্য নির্ধারণ করো না। তাহ’লে তুমি নিন্দিত ও অনুগ্রহ বঞ্চিত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

اَفَاَصۡفٰٮكُمۡ رَبُّكُمۡ بِالۡبَـنِيۡنَ وَ اتَّخَذَ مِنَ الۡمَلٰۤٮِٕكَةِ اِنَاثًاؕ اِنَّكُمۡ لَتَقُوۡلُوۡنَ قَوۡلًا عَظِيۡمًا‏

তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান নির্ধারণ করেছেন এবং নিজের জন্য ফেরেশতাদের কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয়ই তোমরা ভয়ানক কথা বলে থাক।

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا فِىۡ هٰذَا الۡقُرۡاٰنِ لِيَذَّكَّرُوۡاؕ وَمَا يَزِيۡدُهُمۡ اِلَّا نُفُوۡرًا‏

আমরা এই কুরআনে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। কিন্তু তাতে কেবল তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।

قُلْ لَّوۡ كَانَ مَعَهٗۤ اٰلِهَةٌ كَمَا يَقُوۡلُوۡنَ اِذًا لَّابۡتَغَوۡا اِلٰى ذِى الۡعَرۡشِ سَبِيۡلًا‏

তুমি বল, যদি তাদের কথা মত তাঁর সাথে অন্য কোন উপাস্য থাকত, তাহ’লে তারা অবশ্যই আরশের মালিকের নৈকট্য হাছিলের পথ তালাশ করত।

سُبۡحٰنَهٗ وَتَعٰلٰى عَمَّا يَقُوۡلُوۡنَ عُلُوًّا كَبِيۡرًا‏

তিনি (শরীক থেকে) পবিত্র এবং তারা যেসব কথা বলে সেসব থেকে বহু ঊর্ধ্বে।

تُسَبِّحُ لَهُ السَّمٰوٰتُ السَّبۡعُ وَالۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِيۡهِنَّؕ وَاِنۡ مِّنۡ شَىۡءٍ اِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمۡدِهٖ وَلٰـكِنۡ لَّا تَفۡقَهُوۡنَ تَسۡبِيۡحَهُمۡؕ اِنَّهٗ كَانَ حَلِيۡمًا غَفُوۡرًا‏

সাত আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যেকার সবকিছু তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর এমন কিছু নেই যা তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা বর্ণনা তোমরা বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অতীব সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণ।

وَاِذَا قَرَاۡتَ الۡقُرۡاٰنَ جَعَلۡنَا بَيۡنَكَ وَبَيۡنَ الَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَةِ حِجَابًا مَّسۡتُوۡرًاۙ

যখন তুমি কুরআন পাঠ কর, তখন আমরা তোমার ও যারা পরকালে বিশ্বাস করেনা তাদের মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন পর্দা ফেলে দেই।

وَّجَعَلۡنَا عَلٰى قُلُوۡبِهِمۡ اَكِنَّةً اَنۡ يَّفۡقَهُوۡهُ وَفِىۡۤ اٰذَانِهِمۡ وَقۡرًاؕ وَاِذَا ذَكَرۡتَ رَبَّكَ فِى الۡقُرۡاٰنِ وَحۡدَهٗ وَلَّوۡا عَلٰٓى اَدۡبَارِهِمۡ نُفُوۡرًا‏

আর আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ টেনে দেই যেন তারা অনুধাবন করতে না পারে এবং তাদের কানে বধিরতা এনে দেই। যখন তুমি কুরআনে তোমার একমাত্র প্রতিপালককে স্মরণ কর, তখন তারা পিঠ ফিরে চলে যায়।

نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا يَسۡتَمِعُوۡنَ بِهٖۤ اِذۡ يَسۡتَمِعُوۡنَ اِلَيۡكَ وَاِذۡ هُمۡ نَجۡوٰٓى اِذۡ يَقُوۡلُ الظّٰلِمُوۡنَ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسۡحُوۡرًا‏ 

আমরা ভালভাবে জানি যখন তারা কান পেতে তোমার কথা শোনে, তখন তারা কেন তা মন দিয়ে শোনে এবং (এটাও জানি) যখন গোপনে আলোচনাকালে যালেমরা বলে, তোমরা তো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছ।

اُنْظُرۡ كَيۡفَ ضَرَبُوۡا لَكَ الۡاَمۡثَالَ فَضَلُّوۡا فَلَا يَسۡتَطِيۡعُوۡنَ سَبِيۡلًا‏

দেখ, তারা তোমার ব্যাপারে কতসব উপমা দিচ্ছে। ওরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। অতএব ওরা আর সুপথ পেতে সক্ষম হবে না।

وَقَالُوۡۤا ءَاِذَا كُنَّا عِظَامًا وَّرُفَاتًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ خَلۡقًا جَدِيۡدًا‏

তারা বলে, যখন আমরা হাড়-হাড্ডি হব ও মাটি হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?

قُلۡ كُوۡنُوۡا حِجَارَةً اَوۡ حَدِيۡدًا‏

বলে দাও, তোমরা পাথর হও বা লোহা হও;

اَوۡ خَلۡقًا مِّمَّا يَكۡبُرُ فِىۡ صُدُوۡرِكُمۡۚ فَسَيَـقُوۡلُوۡنَ مَنۡ يُّعِيۡدُنَاؕ قُلِ الَّذِىۡ فَطَرَكُمۡ اَوَّلَ مَرَّةٍۚ فَسَيُنۡغِضُوۡنَ اِلَيۡكَ رُءُوۡسَهُمۡ وَيَقُوۡلُوۡنَ مَتٰى هُوَؕ قُلۡ عَسٰٓى اَنۡ يَّكُوۡنَ قَرِيۡبًا‏

অথবা এমন সৃষ্টি হও যা তোমাদের ধারণায় খুবই বড়। তখনও তারা বলবে, কে আমাদের পুনরায় সৃষ্টি করবে? বলে দাও, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন (তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন)। এরপরেও ওরা তোমার সামনে মাথা নাড়বে আর বলবে, কবে সেটা হবে? বল, অবশ্যই সেটা নিকটবর্তী।

يَوۡمَ يَدۡعُوۡكُمۡ فَتَسۡتَجِيۡبُوۡنَ بِحَمۡدِهٖ وَتَظُنُّوۡنَ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا قَلِيۡلًا‏

যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন। অতঃপর তোমরা (পুনর্জন্মের খুশীতে) প্রশংসার সাথে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে এবং ভাববে যে, স্বল্পকালই তোমরা (দুনিয়ায় বা কবরে) অবস্থান করেছিলে।

وَقُلْ لِّعِبَادِىۡ يَقُوۡلُوا الَّتِىۡ هِىَ اَحۡسَنُؕ اِنَّ الشَّيۡطٰنَ يَنۡزَغُ بَيۡنَهُمۡؕ اِنَّ الشَّيۡطٰنَ كَانَ لِلۡاِنۡسَانِ عَدُوًّا مُّبِيۡنًا‏ 

(হে নবী!) তুমি আমার বান্দাদের বল, তারা যেন (পরস্পরে) উত্তম কথা বলে। (কেননা) শয়তান সর্বদা তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।

رَبُّكُمۡ اَعۡلَمُ بِكُمۡؕ اِنۡ يَّشَاۡ يَرۡحَمۡكُمۡ اَوۡ اِنۡ يَّشَاۡ يُعَذِّبۡكُمۡؕ وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ عَلَيۡهِمۡ وَكِيۡلًا‏

তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবেই জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করবেন এবং চাইলে তোমাদের শাস্তি দিবেন। আর আমরা তোমাকে তাদের উপর কর্মবিধায়ক করে পাঠাইনি।

وَرَبُّكَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ وَلَقَدۡ فَضَّلۡنَا بَعۡضَ النَّبِيّٖنَ عَلٰى بَعۡضٍ​ وَّاٰتَيۡنَا دَاوٗدَ زَبُوۡرًا‏

আর তোমার প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। আর আমরা নবীদের কাউকে কারুর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি এবং দাঊদকে ‘যবূর’ দান করেছি।

قُلِ ادۡعُوا الَّذِيۡنَ زَعَمۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِهٖ فَلَا يَمۡلِكُوۡنَ كَشۡفَ الضُّرِّ عَنۡكُمۡ وَلَا تَحۡوِيۡلًا‏

বল, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে উপাস্য ধারণা কর তাদেরকে আহবান কর। দেখবে তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার সামান্য ক্ষমতাও তারা রাখে না।

اُولٰۤٮِٕكَ الَّذِيۡنَ يَدۡعُوۡنَ يَبۡتَغُوۡنَ اِلٰى رَبِّهِمُ الۡوَسِيۡلَةَ اَيُّهُمۡ اَقۡرَبُ وَيَرۡجُوۡنَ رَحۡمَتَهٗ وَيَخَافُوۡنَ عَذَابَهٗؕ اِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحۡذُوۡرًا‏

তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, কে আল্লাহ্র অধিকতর নিকটবর্তী। তারা তাঁর অনুগ্রহ কামনা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি অতীব ভয়াবহ।

وَاِنۡ مِّنۡ قَرۡيَةٍ اِلَّا نَحۡنُ مُهۡلِكُوۡهَا قَبۡلَ يَوۡمِ الۡقِيٰمَةِ اَوۡ مُعَذِّبُوۡهَا عَذَابًا شَدِيۡدًاؕ كَانَ ذٰ لِكَ فِى الۡـكِتٰبِ مَسۡطُوۡرًا‏ 

এমন কোন জনপদ নেই যা আমরা ক্বিয়ামতের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটাই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।

وَمَا مَنَعَنَاۤ اَنۡ نُّرۡسِلَ بِالۡاٰيٰتِ اِلَّاۤ اَنۡ كَذَّبَ بِهَا الۡاَوَّلُوۡنَؕ وَاٰتَيۡنَا ثَمُوۡدَ النَّاقَةَ مُبۡصِرَةً فَظَلَمُوۡا بِهَاؕ وَمَا نُرۡسِلُ بِالۡاٰيٰتِ اِلَّا تَخۡوِيۡفًا‏

পূর্ববর্তীগণ নিদর্শন সমূহে মিথ্যারোপ করার কারণেই আমাদেরকে (তোমাদের প্রতি) নিদর্শন সমূহ প্রেরণে বিরত রেখেছে। আমরা ছামূদ জাতির নিকট প্রকাশ্য নিদর্শন স্বরূপ উষ্ট্রী পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তার প্রতি অত্যাচার করেছিল। বস্ত্তত আমরা কেবল ভয় প্রদর্শনের জন্যেই নিদর্শন সমূহ প্রেরণ করে থাকি।

وَاِذۡ قُلۡنَا لَـكَ اِنَّ رَبَّكَ اَحَاطَ بِالنَّاسِؕ وَمَا جَعَلۡنَا الرُّءۡيَا الَّتِىۡۤ اَرَيۡنٰكَ اِلَّا فِتۡنَةً لِّلنَّاسِ وَ الشَّجَرَةَ الۡمَلۡعُوۡنَةَ فِى الۡقُرۡاٰنِؕ وَنُخَوِّفُهُمۡۙ فَمَا يَزِيۡدُهُمۡ اِلَّا طُغۡيَانًا كَبِيۡرًا‏ 

আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাকে বলেছিলাম যে, তোমার প্রতিপালক মানুষকে বেষ্টন করে আছেন। আর আমরা তোমাকে (মে‘রাজের রাতে) যে দৃশ্য দেখিয়েছি এবং কুরআনে বর্ণিত যে অভিশপ্ত (যাক্কুম) বৃক্ষ দেখিয়েছি, তা ছিল কেবল মানুষের (ঈমান) পরীক্ষার জন্য। আমরা তাদের ভীতি প্রদর্শন করি। অথচ এটি তাদের কিছুই বৃদ্ধি করেনি বড় ধরনের অবাধ্যতা ব্যতীত।

وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰۤٮِٕكَةِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِيۡسَ قَالَ ءَاَسۡجُدُ لِمَنۡ خَلَقۡتَ طِيۡنًاۚ

আর (স্মরণ কর) যখন আমরা ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। তখন সবাই সিজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে বলল, আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?

قَالَ اَرَءَيۡتَكَ هٰذَا الَّذِىۡ كَرَّمۡتَ عَلَىَّ لَٮِٕنۡ اَخَّرۡتَنِ اِلٰى يَوۡمِ الۡقِيٰمَةِ لَاَحۡتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهٗۤ اِلَّا قَلِيۡلًا‏

সে বলল, আপনি তো দেখছেন যে, আপনি একে আমার উপরে মর্যাদা দিয়েছেন! এক্ষণে যদি আপনি আমাকে ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দেন, তাহ’লে তার বংশধর সবাইকে আমি পথভ্রষ্ট করে ফেলব কিছু সংখ্যক ব্যতীত।

قَالَ اذۡهَبۡ فَمَنۡ تَبِعَكَ مِنۡهُمۡ فَاِنَّ جَهَـنَّمَ جَزَآؤُكُمۡ جَزَآءً مَّوۡفُوۡرًا‏

আল্লাহ বললেন, যাও (তোমাকে অবকাশ দিলাম)। অতঃপর ওদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয় জাহান্নামই হবে তোমাদের জন্য পূর্ণ ফলাফল।

وَاسۡتَفۡزِزۡ مَنِ اسۡتَطَعۡتَ مِنۡهُمۡ بِصَوۡتِكَ وَاَجۡلِبۡ عَلَيۡهِمۡ بِخَيۡلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكۡهُمۡ فِى الۡاَمۡوَالِ وَالۡاَوۡلَادِ وَعِدۡهُمۡؕ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيۡطٰنُ اِلَّا غُرُوۡرًا‏

আর তাদের মধ্য থেকে যাকে পার তুমি সত্যচ্যুত কর তোমার আহবান দ্বারা এবং তুমি তাদের উপর হামলা কর তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা। আর তুমি শরীক হয়ে যাও তাদের ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। বস্ত্তত শয়তান তাদেরকে মিথ্যা ব্যতীত কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।

اِنَّ عِبَادِىۡ لَـيۡسَ لَـكَ عَلَيۡهِمۡ سُلۡطٰنٌؕ وَكَفٰى بِرَبِّكَ وَكِيۡلًا‏ 

নিশ্চয়ই আমার (অনুগত) বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। আর কর্মবিধায়ক হিসাবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।

رَبُّكُمُ الَّذِىۡ يُزۡجِىۡ لَـكُمُ الۡفُلۡكَ فِى الۡبَحۡرِ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِهٖؕ اِنَّهٗ كَانَ بِكُمۡ رَحِيۡمًا‏

তোমাদের প্রতিপালক তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে নৌযান পরিচালনা করেন, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের প্রতি অসীম দয়ালু।

وَاِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فِى الۡبَحۡرِ ضَلَّ مَنۡ تَدۡعُوۡنَ اِلَّاۤ اِيَّاهُۚ فَلَمَّا نَجّٰٮكُمۡ اِلَى الۡبَرِّ اَعۡرَضۡتُمۡؕ وَكَانَ الۡاِنۡسَانُ كَفُوۡرًا‏ 

আর সমুদ্রে যখন তোমাদের কোন বিপদ আসে, তখন যাদেরকে তোমরা আহবান করতে, তারা হারিয়ে যায় কেবল আল্লাহ ব্যতীত। অতঃপর যখন তিনি তোমাদের উদ্ধার করে তীরে পেঁŠছে দেন, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। বস্ত্তত মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।

اَفَاَمِنۡتُمۡ اَنۡ يَّخۡسِفَ بِكُمۡ جَانِبَ الۡبَرِّ اَوۡ يُرۡسِلَ عَلَيۡكُمۡ حَاصِبًا ثُمَّ لَا تَجِدُوۡالَـكُمۡ وَكِيۡلًاۙ

তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ভূ-ভাগের কোন এক প্রান্তে ধ্বসিয়ে দিবেন না? অথবা তোমাদের উপর (বৃষ্টির সাথে) কংকর বর্ষণ করবেন না? অতঃপর তোমরা তোমাদের জন্য কোন কর্মবিধায়ক পাবে না।

اَمۡ اَمِنۡتُمۡ اَنۡ يُّعِيۡدَكُمۡ فِيۡهِ تَارَةً اُخۡرٰى فَيُرۡسِلَ عَلَيۡكُمۡ قَاصِفًا مِّنَ الرِّيۡحِ فَيُغۡرِقَكُمۡ بِمَا كَفَرۡتُمۡۙ ثُمَّ لَا تَجِدُوۡا لَـكُمۡ عَلَيۡنَا بِهٖ تَبِيۡعًا‏

অথবা তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি পুনরায় তোমাদেরকে সমুদ্রে নিয়ে যাবেন না। অতঃপর তোমাদের উপর সামুদ্রিক ঝড় পাঠাবেন না এবং তোমাদের কুফরীর বদলা হিসাবে তোমাদেরকে ডুবিয়ে মারবেন না? অতঃপর তোমরা এ বিষয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কোন সাহায্যকারী পাবে না।

وَلَـقَدۡ كَرَّمۡنَا بَنِىۡۤ اٰدَمَ وَحَمَلۡنٰهُمۡ فِى الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ وَرَزَقۡنٰهُمۡ مِّنَ الطَّيِّبٰتِ وَفَضَّلۡنٰهُمۡ عَلٰى كَثِيۡرٍ مِّمَّنۡ خَلَقۡنَا تَفۡضِيۡلًا‏

আর নিশ্চয়ই আমরা আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি। আর আমরা তাদেরকে পবিত্র রূযী দান করেছি এবং আমরা তাদেরকে আমাদের অনেক সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।

يَوۡمَ نَدۡعُوۡا كُلَّ اُنَاسٍۢ بِاِمَامِهِمۡۚ فَمَنۡ اُوۡتِىَ كِتٰبَهٗ بِيَمِيۡنِهٖ فَاُولٰۤٮِٕكَ يَقۡرَءُوۡنَ كِتٰبَهُمۡ وَلَا يُظۡلَمُوۡنَ فَتِيۡلًا‏

(স্মরণ কর) যেদিন আমরা প্রত্যেক জাতিকে তাদের আমলনামা সহ আহবান করব। অতঃপর যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা তাদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্যতম অবিচার করা হবে না।

وَمَنۡ كَانَ فِىۡ هٰذِهٖۤ اَعۡمٰى فَهُوَ فِى الۡاٰخِرَةِ اَعۡمٰى وَاَضَلُّ سَبِيۡلًا‏

বস্ত্তত যে ব্যক্তি ইহকালে অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট।

وَاِنۡ كَادُوۡا لَيَـفۡتِنُوۡنَكَ عَنِ الَّذِىۡۤ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡكَ لِتَفۡتَرِىَ عَلَيۡنَا غَيۡرَهٗۖ  وَاِذًا لَّاتَّخَذُوۡكَ خَلِيۡلًا‏

আর আমরা তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি, তা থেকে ওরা নিশ্চিতভাবে তোমাকে ফিৎনায় ফেলার উপক্রম করেছিল, যাতে তুমি আমাদের বিরুদ্ধে ওর বিপরীত কিছু উদ্ভাবন কর। আর তখন ওরা নিশ্চিতভাবে তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।

وَلَوۡلَاۤ اَنۡ ثَبَّتۡنٰكَ لَقَدۡ كِدْتَّ تَرۡكَنُ اِلَيۡهِمۡ شَيۡــًٔـا قَلِيۡلًا ۙ

যদি আমরা তোমাকে দৃঢ়চিত্ত না রাখতাম, তাহ’লে তুমি অবশ্যই তাদের প্রতি কিছুটা হ’লেও ঝুঁকে পড়তে।

اِذًا لَّاَذَقۡنٰكَ ضِعۡفَ الۡحَيٰوةِ وَضِعۡفَ الۡمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَـكَ عَلَيۡنَا نَصِيۡرًا‏

আর তখন অবশ্যই আমরা তোমাকে ইহকালে ও পরকালে দ্বিগুণ শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতাম। অতঃপর তখন তুমি তোমার জন্য আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যকারী পেতে না।

وَاِنۡ كَادُوۡا لَيَسۡتَفِزُّوۡنَكَ مِنَ الۡاَرۡضِ لِيُخۡرِجُوۡكَ مِنۡهَا​ وَاِذًا لَّا يَلۡبَـثُوۡنَ خِلٰفَكَ اِلَّا قَلِيۡلًا‏

আর দেশ (মক্কা) থেকে বহিষ্কারের জন্য তারা তোমাকে ঘাবড়ে দেবার উপক্রম করেছিল। সেটি হলে তোমার পরে তারা সেখানে অল্পকালই মাত্র টিকে থাকত।

سُنَّةَ مَنۡ قَدۡ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَكَ مِنۡ رُّسُلِنَا​ وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحۡوِيۡلًا‏

আমাদের রাসূলগণের মধ্যে যাদেরকে আমরা তোমার পূর্বে প্রেরণ করেছিলাম, তাদের ক্ষেত্রেও এরূপ (শাস্তিদানের) রীতি ছিল এবং আমাদের এ নিয়মের কোন ব্যতিক্রম তুমি দেখতে পাবে না।

اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِدُلُوۡكِ الشَّمۡسِ اِلٰى غَسَقِ الَّيۡلِ وَقُرۡاٰنَ الۡـفَجۡرِؕ اِنَّ قُرۡاٰنَ الۡـفَجۡرِ كَانَ مَشۡهُوۡدًا‏

সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত তুমি ছালাত কায়েম কর এবং ফজরের ছালাত আদায় কর। নিশ্চয়ই ফজরের ছালাত সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়।

وَمِنَ الَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهٖ نَافِلَةً لَّكَۖ  عَسٰۤى اَنۡ يَّبۡعَـثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحۡمُوۡدًا‏

আর তুমি রাত্রির কিছু অংশে (শেষ রাতে) তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় কর। এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত। অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উঠাবেন।

وَقُلْ رَّبِّ اَدۡخِلۡنِىۡ مُدۡخَلَ صِدۡقٍ وَّ اَخۡرِجۡنِىۡ مُخۡرَجَ صِدۡقٍ وَّاجۡعَلْ لِّىۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ سُلۡطٰنًا نَّصِيۡرًا‏

আর তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে প্রবেশ করাও যথার্থভাবে এবং বের কর যথার্থভাবে। আর আমাকে তোমার পক্ষ হ’তে সাহায্যকারী শক্তি দাও।

وَقُلۡ جَآءَ الۡحَـقُّ وَزَهَقَ الۡبَاطِلُؕ اِنَّ الۡبَاطِلَ كَانَ زَهُوۡقًا‏ 

আর বল, সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েই থাকে।

وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡـقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَةٌ لِّـلۡمُؤۡمِنِيۡنَۙ وَلَا يَزِيۡدُ الظّٰلِمِيۡنَ اِلَّا خَسَارًا‏

আর আমরা কুরআন নাযিল করেছি, যা বিশ্বাসীদের জন্য আরোগ্য ও অনুগ্রহ স্বরূপ। কিন্তু যালেমদের জন্য তা কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।

وَاِذَاۤ اَنۡعَمۡنَا عَلَى الۡاِنۡسَانِ اَعۡرَضَ وَنَاٰ بِجَانِبِهٖۚ وَاِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ يَــُٔوۡسًا‏

যখন আমরা মানুষের উপর অনুগ্রহ করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও অহংকারে দূরে সরে যায়। আর যখন তাকে মন্দ স্পর্শ করে, তখন সে হতাশ হয়ে পড়ে।

قُلۡ كُلٌّ يَّعۡمَلُ عَلٰى شَاكِلَتِهٖؕ فَرَبُّكُمۡ اَعۡلَمُ بِمَنۡ هُوَ اَهۡدٰى سَبِيۡلًا‏

বল, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধারণামতে কাজ করে। অথচ তোমাদের প্রতিপালকই সবচেয়ে ভাল জানেন কে সর্বাধিক সঠিক পথে আছে।

وَيَسۡـــَٔلُوۡنَكَ عَنِ الرُّوۡحِؕ قُلِ الرُّوۡحُ مِنۡ اَمۡرِ رَبِّىۡ وَمَاۤ اُوۡتِيۡتُمۡ مِّنَ الۡعِلۡمِ اِلَّا قَلِيۡلًا‏

আর ওরা তোমাকে প্রশ্ন করছে ‘রূহ’ সম্পর্কে। তুমি বল, রূহ আমার প্রতিপালকের একটি আদেশ মাত্র। আর এ বিষয়ে তোমাদের অতি সামান্যই জ্ঞান দান করা হয়েছে।

وَلَٮِٕنۡ شِئۡنَا لَنَذۡهَبَنَّ بِالَّذِىۡۤ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَـكَ بِهٖ عَلَيۡنَا وَكِيۡلًاۙ

আর যদি আমরা চাইতাম, তাহ’লে তোমার প্রতি (কুরআনের) যা কিছু আমরা অহি করেছি, সবই প্রত্যাহার করে নিতাম। তখন তুমি সেগুলি ফেরৎ নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের বিরুদ্ধে কাউকে কর্মবিধায়ক রূপে পেতে না-

اِلَّا رَحۡمَةً مِّنۡ رَّبِّكَؕ اِنَّ فَضۡلَهٗ كَانَ عَلَيۡكَ كَبِيۡرًا‏ 

তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার উপর রয়েছে তাঁর মহা অনুগ্রহ।

قُلْ لَّٮِٕنِ اجۡتَمَعَتِ الۡاِنۡسُ وَالۡجِنُّ عَلٰٓى اَنۡ يَّاۡتُوۡا بِمِثۡلِ هٰذَا الۡقُرۡاٰنِ لَا يَاۡتُوۡنَ بِمِثۡلِهٖ وَلَوۡ كَانَ بَعۡضُهُمۡ لِبَعۡضٍ ظَهِيۡرًا‏ 

তুমি বল, যদি মানুষ ও জিন জাতি এই কুরআনের ন্যায় আরেকটি কুরআন আনার জন্য একত্রিত হয়, তবু তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না। যদিও তারা পরস্পরে সাহায্যকারী হয়। (চ্যালেঞ্জ-৪)

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا لِلنَّاسِ فِىۡ هٰذَا الۡقُرۡاٰنِ مِنۡ كُلِّ مَثَلٍ فَاَبٰٓى اَكۡثَرُ النَّاسِ اِلَّا كُفُوۡرًا‏

আমরা মানুষের জন্য এই কুরআনে বিভিন্ন উপমা দিয়ে বিশদ বর্ণনা দান করেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা প্রত্যাখ্যান ব্যতীত কিছুই করেনি।

وَقَالُوۡا لَنۡ نُّـؤۡمِنَ لَـكَ حَتّٰى تَفۡجُرَ لَنَا مِنَ الۡاَرۡضِ يَنۡۢبُوۡعًاۙ

আর তারা বলে, আমরা কখনোই তোমার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে ঝর্ণাধারা বের করে আনবে।

اَوۡ تَكُوۡنَ لَـكَ جَنَّةٌ مِّنۡ نَّخِيۡلٍ وَّعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الۡاَنۡهٰرَ خِلٰلَهَا تَفۡجِيۡرًاۙ

অথবা তোমার জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগিচা হবে। যার মধ্যে তুমি ব্যাপকভাবে নদী-নালা প্রবাহিত করাবে।

اَوۡ تُسۡقِطَ السَّمَآءَ كَمَا زَعَمۡتَ عَلَيۡنَا كِسَفًا اَوۡ تَاۡتِىَ بِاللّٰهِ وَالۡمَلٰۤٮِٕكَةِ قَبِيۡلًاۙ

অথবা আকাশকে টুকরা টুকরা করে আমাদের উপরে ফেলবে যেমন তুমি আমাদের নিকট ধারণা ব্যক্ত করে থাক। অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে সম্মুখে এনে হাযির করবে।

اَوۡ يَكُوۡنَ لَـكَ بَيۡتٌ مِّنۡ زُخۡرُفٍ اَوۡ تَرۡقٰى فِى السَّمَآءِؕ وَلَنۡ نُّـؤۡمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتّٰى تُنَزِّلَ عَلَيۡنَا كِتٰبًا نَّـقۡرَؤُهٗؕ قُلۡ سُبۡحَانَ رَبِّىۡ هَلۡ كُنۡتُ اِلَّا بَشَرًا رَّسُوۡلًا‏

অথবা তোমার জন্য একটি স্বর্ণের প্রাসাদ হবে। অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে। অবশ্য আমরা তোমার আকাশে আরোহণে বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না তুমি সেখান থেকে (তোমার সত্যায়নে) কোন কিতাব নাযিল করাবে। যা আমরা পড়ে দেখব। তুমি বল, আমার প্রতিপালক (এসব থেকে) পবিত্র। আর আমি একজন মানুষ ও রাসূল বৈ কিছু নই।

وَمَا مَنَعَ النَّاسَ اَنۡ يُّؤۡمِنُوۡۤا اِذۡ جَآءَهُمُ الۡهُدٰٓى اِلَّاۤ اَنۡ قَالُـوۡۤا اَبَعَثَ اللّٰهُ بَشَرًا رَّسُوۡلًا‏

বস্ত্তত যখন মানুষের কাছে হেদায়াত (রাসূল) আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা হ’তে বিরত রাখে তাদের এই উক্তি যে, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’

قُلْ لَّوۡ كَانَ فِى الۡاَرۡضِ مَلٰۤٮِٕكَةٌ يَّمۡشُوۡنَ مُطۡمَٮِٕنِّيۡنَ لَـنَزَّلۡنَا عَلَيۡهِمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَلَـكًا رَّسُوۡلًا‏

তুমি বল, যদি ফেরেশতারা পৃথিবীতে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করত, তাহ’লে আমরা আকাশ থেকে নিশ্চয়ই তাদের নিকট কোন ফেরেশতাকে রাসূল করে পাঠাতাম।

قُلۡ كَفٰى بِاللّٰهِ شَهِيۡدًۢا بَيۡنِىۡ وَبَيۡنَكُمۡؕ اِنَّهٗ كَانَ بِعِبَادِهٖ خَبِيۡرًۢا بَصِيۡرًا‏

বল, আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। অবশ্যই তিনি স্বীয় বান্দাদের ভালভাবে জানেন ও দেখেন।

وَمَنۡ يَّهۡدِ اللّٰهُ فَهُوَ الۡمُهۡتَدِۚ وَمَنۡ يُّضۡلِلۡ فَلَنۡ تَجِدَ لَهُمۡ اَوۡلِيَآءَ مِنۡ دُوۡنِهٖؕ وَنَحۡشُرُهُمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ عَلٰى وُجُوۡهِهِمۡ عُمۡيًا وَّبُكۡمًا وَّصُمًّاؕ مَاۡوٰٮهُمۡ جَهَـنَّمُؕ كُلَّمَا خَبَتۡ زِدۡنٰهُمۡ سَعِيۡرًا‏

আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই-ই সুপথ প্রাপ্ত হয়। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তাদের জন্য তাঁকে ব্যতীত কাউকে বন্ধু হিসাবে পাবে না। আমরা তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন সমবেত করব মুখের উপর ভর দিয়ে চলা অবস্থায় অন্ধ, বোবা ও বধির করে। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। যখনই তা স্তিমিত হবে, তখনই আমরা তাদের উপর অগ্নি বৃদ্ধি করে দেব।

ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمۡ بِاَنَّهُمۡ كَفَرُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَقَالُوۡۤا ءَاِذَا كُنَّا عِظَامًا وَّرُفَاتًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ خَلۡقًا جَدِيۡدًا‏

এটাই তাদের প্রতিফল। কারণ তারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল, যখন আমরা হাড়-হাড্ডিতে পরিণত হব ও মাটি হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?

اَوَلَمۡ يَرَوۡا اَنَّ اللّٰهَ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ قَادِرٌ عَلٰٓى اَنۡ يَّخۡلُقَ مِثۡلَهُمۡ وَجَعَلَ لَهُمۡ اَجَلًا لَّا رَيۡبَ فِيۡهِؕ فَاَبَى الظّٰلِمُوۡنَ اِلَّا كُفُوۡرًا‏

তারা কি দেখেনা, যে আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের মত (মানুষকে) সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্য একটি মেয়াদ নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যালেমরা সত্য প্রত্যাখ্যান ব্যতীত আর কিছুই করে না।

قُلْ لَّوۡ اَنۡـتُمۡ تَمۡلِكُوۡنَ خَزَآٮِٕنَ رَحۡمَةِ رَبِّىۡۤ اِذًا لَّاَمۡسَكۡتُمۡ خَشۡيَةَ الۡاِنۡفَاقِؕ وَكَانَ الۡاِنۡسَانُ قَتُوۡرًا‏

বল, যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের দয়ার ভান্ডারের অধিকারী হ’তে, তবুও তোমরা তা ধরে রাখতে ব্যয় হয়ে যাবার ভয়ে। বস্ত্তত মানুষ অতিশয় কৃপণ।

وَلَقَدۡ اٰتَيۡنَا مُوۡسٰى تِسۡعَ اٰيٰتٍۢ بَيِّنٰتٍ​ فَسۡـــَٔلۡ بَنِىۡۤ اِسۡرَاۤءِيۡلَ اِذۡ جَآءَهُمۡ فَقَالَ لَهٗ فِرۡعَوۡنُ اِنِّىۡ لَاَظُنُّكَ يٰمُوۡسٰى مَسۡحُوۡرًا‏ 

আর নিশ্চয়ই আমরা মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম। অতএব তুমি বনু ইস্রাঈলদের জিজ্ঞেস কর, যখন সে তাদের কাছে এসেছিল, তখন ফেরাঊন তাকে বলেছিল, আমি ধারণা করি হে মূসা! তুমি অবশ্যই একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি।

قَالَ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَاۤ اَنۡزَلَ هٰٓؤُلَاۤءِ اِلَّا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ بَصَآٮِٕرَۚ وَاِنِّىۡ لَاَظُنُّكَ يٰفِرۡعَوۡنُ مَثۡبُوۡرًا‏

মূসা বলল (হে ফেরাঊন!) তুমি তো জানো যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তাই এসব নাযিল করেছেন প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ। আর আমি হে ফেরাঊন! তোমাকে ধারণা করছি যে তুমি অবশ্যই ধ্বংস হ’তে চলেছ।

فَاَرَادَ اَنۡ يَّسۡتَفِزَّهُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ فَاَغۡرَقۡنٰهُ وَ مَنۡ مَّعَهٗ جَمِيۡعًاۙ

অতঃপর ফেরাঊন তাদেরকে (অর্থাৎ বনু ইস্রাঈলকে) দেশ থেকে উচ্ছেদ করার সংকল্প করল। ফলে আমরা তাকে ও তার সাথী সবাইকে (সাগরে) ডুবিয়ে মারলাম।

وَّقُلۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِهٖ لِبَنِىۡۤ اِسۡرَاۤءِيۡلَ اسۡكُنُوا الۡاَرۡضَ فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ الۡاٰخِرَةِ جِئۡنَا بِكُمۡ لَفِيۡفًاؕ

এরপর আমরা বনু ইস্রাঈলকে বললাম, তোমরা দেশে বসবাস কর। অতঃপর যখন ক্বিয়ামতের প্রতিশ্রুতি এসে যাবে, তখন আমরা তোমাদের (শত্রু-মিত্র) সবাইকে মিলিত করব।

وَبِالۡحَـقِّ اَنۡزَلۡنٰهُ وَبِالۡحَـقِّ نَزَلَؕ وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّنَذِيۡرًاۘ

আর সত্যসহ আমরা কুরআন নাযিল করেছি এবং সত্যসহ তা নাযিল হয়েছে। আর আমরা তোমাকে প্রেরণ করেছি কেবল (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নামের) ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।

وَقُرۡاٰنًا فَرَقۡنٰهُ لِتَقۡرَاَهٗ عَلَى النَّاسِ عَلٰى مُكۡثٍ وَّنَزَّلۡنٰهُ تَنۡزِيۡلًا‏

আর আমরা কুরআন নাযিল করেছি খন্ড খন্ডভাবে। যাতে তুমি থেমে থেমে তা লোকদের নিকট পাঠ করতে পার। আর আমরা একে নাযিল করেছি পর্যায়ক্রমে।

قُلۡ اٰمِنُوۡا بِهٖۤ اَوۡ لَا تُؤۡمِنُوۡٓاؕ اِنَّ الَّذِيۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ مِنۡ قَبۡلِهٖۤ اِذَا يُتۡلٰى عَلَيۡهِمۡ يَخِرُّوۡنَ لِلۡاَذۡقَانِ سُجَّدًاۙ

তুমি বল, তোমরা কুরআনে বিশ্বাস করো বা না করো (এটি নিশ্চিতভাবে সত্য)। যাদেরকে ইতিপূর্বে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের (অর্থাৎ আহলে কিতাবদের) উপর যখনই এটি পাঠ করা হয়েছে, তখনই তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়েছে।

وَّيَقُوۡلُوۡنَ سُبۡحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنۡ كَانَ وَعۡدُ رَبِّنَا لَمَفۡعُوۡلًا‏ 

আর তারা বলে, মহাপবিত্র আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই কার্যকর হয়ে থাকে।

وَيَخِرُّوۡنَ لِلۡاَذۡقَانِ يَبۡكُوۡنَ وَيَزِيۡدُهُمۡ خُشُوۡعًا۩

আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয় আরও বৃদ্ধি পায়। (সিজদা-৪)

قُلِ ادۡعُوا اللّٰهَ اَوِ ادۡعُوا الرَّحۡمٰنَؕ اَ يًّا مَّا تَدۡعُوۡا فَلَهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰىۚ وَلَا تَجۡهَرۡ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتۡ بِهَا وَابۡتَغِ بَيۡنَ ذٰ لِكَ سَبِيۡلًا‏

বল, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাক বা ‘রহমান’ নামে ডাক, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সকল সুন্দর নাম তো কেবল তাঁরই জন্য। আর তুমি তোমার ছালাতে ক্বিরাআতের স্বর অধিক উঁচু করোনা বা একেবারে নীচু করোনা। বরং দু’য়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন কর।

وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ لَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ شَرِيۡكٌ فِى الۡمُلۡكِ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ وَلِىٌّ مِّنَ الذُّلِّ​ وَكَبِّرۡهُ تَكۡبِيۡرًا‏ 

আর তুমি বল, সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহ্রই জন্য। যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন না এবং যার রাজত্বে কোন শরীক নেই। যিনি কোন দুর্দশায় পড়েন না যে, তাঁর কোন সাহায্যকারী প্রয়োজন হয়। আর তুমি যথার্থভাবে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা কর।