بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি স্বীয় বান্দার উপর এই কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনরূপ অসঙ্গতি রাখেননি।
(তিনি এটি প্রেরণ করেছেন) সরল কিতাব হিসাবে। যাতে তিনি সতর্ক করতে পারেন তাঁর কঠিন শাস্তি থেকে এবং সুসংবাদ দিতে পারেন বিশ্বাসীদের যারা সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে; এই মর্মে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।
তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
আর ঐসব লোকদের সতর্ক করার জন্য যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে তাদের কোনই জ্ঞান নেই এবং তাদের বাপ-দাদাদেরও ছিল না। কতবড় মারাত্মক কথাই না তাদের মুখ দিয়ে বের হয়। তারা তো কেবল মিথ্যাই বলে।
তারা যদি এই বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন না করে, তাহ’লে তাদের পিছনে ঘুরে মনে হয় তুমি দুঃখে তোমার জীবন শেষ করে ফেলবে।
ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবকিছুকে আমরা তার শোভা বর্ধনের জন্য সৃষ্টি করেছি। যাতে আমরা মানুষের পরীক্ষা নিতে পারি, তাদের মধ্যে কে সবচেয়ে সুন্দর সৎকর্ম করে।
আর তার উপরে যা কিছু আছে, সবকিছুকে আমরা (ক্বিয়ামতের দিন) অবশ্যই উদ্ভিদশূন্য সমতল ভূমিতে পরিণত করব।
তুমি কি মনে কর যে, গুহাবাসীরা ও রাক্বীম-এর অধিবাসীরা আমাদের বিস্ময়কর কোন নিদর্শন ছিল?
যখন কয়েকজন যুবক একটি গুহায় আশ্রয় নিল। অতঃপর তারা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে নিজের পক্ষ হ’তে বিশেষ অনুগ্রহ দান কর এবং আমাদের কার্যাদি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দাও!
অতঃপর আমরা তাদেরকে উক্ত গুহায় বহু বছর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রাখলাম।
অতঃপর আমরা তাদেরকে ঘুম থেকে উঠালাম যাতে আমরা জেনে নেই যে, তাদের দু’দলের মধ্যে কোন দল সঠিকভাবে তাদের অবস্থানকালের মেয়াদ নির্ণয় করতে পারে।
আমরা তোমার কাছে তাদের সঠিক খবর বর্ণনা করব। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। যারা তাদের প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমরা তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম।
আর আমরা তাদের হৃদয় সমূহের বন্ধন সুদৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা (কওমের পূজার অনুষ্ঠান থেকে) উঠে দাঁড়ালো। অতঃপর (একে একে একস্থানে জমা হয়ে) বলল, আমাদের প্রভু হ’লেন তিনি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা। আমরা কখনোই তাঁকে ছেড়ে অন্যকে উপাস্য হিসাবে আহবান করব না। যদি তা করি, তবে সেটা হবে একেবারেই অনর্থক কাজ।
(তারা আরও বলল,) ওরা আমাদের স্বজাতি। আল্লাহকে ছেড়ে ওরা অন্যকে উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করেছে। তাহ’লে কেন তারা তাদের এসব উপাস্য বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না? আর তার চেয়ে বড় যালেম আর কে আছে যে আল্লাহ্র উপরে মিথ্যারোপ করে?
(অতঃপর আল্লাহ তাদের প্রতি ইলহাম করেন,) যখন তোমরা পৃথক হ’লে স্বজাতি থেকে এবং আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তারা উপাসনা করে তাদের থেকে, তখন তোমরা আশ্রয় গ্রহণ কর গিরিগুহায়, যেখানে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তার অনুগ্রহ প্রসারিত করবেন এবং তোমাদের জন্য কল্যাণের ব্যবস্থা করবেন।
আর তুমি সূর্যকে দেখবে যখন তা উদিত হয়, তখন তাদের গুহার ডান দিকে হেলে অতিক্রম করে এবং যখন তা অস্ত যায়, তখন বাম পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করে, এমতাবস্থায় তারা ভিতরের প্রশস্ত স্থানে অবস্থান করে। এটা আল্লাহ্র অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ যাকে সুপথ প্রদর্শন করেন, সেই-ই সুপথপ্রাপ্ত হয়। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কোন সুপথ প্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না।
তুমি তাদের মনে করবে জাগ্রত। অথচ তারা নিদ্রিত। আর আমরা তাদেরকে ডাইনে ও বামে পার্শ্ব পরিবর্তন করে দিতাম। এমতাবস্থায় তাদের কুকুরটি সম্মুখের দু’পা প্রসারিত করে (মাথা উঁচু করে) গুহা মুখে উপবিষ্ট থাকত। যদি তুমি উঁকি মেরে তাদেরকে দেখতে, তাহ’লে তুমি পিছন ফিরে পালাতে ও তাদের ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়তে।
আর আমরা তাদেরকে এমনভাবে (সুস্থহালে) জাগ্রত করলাম (যেভাবে তাদেরকে ঘুমিয়ে দিয়েছিলাম), যাতে তারা পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। (যেমন) তাদের একজন বলল, কতদিন এভাবে ছিলে? তারা বলল, একদিন বা তার কিছু অংশ। আরেকজন বলল, তোমাদের প্রতিপালকই ভাল জানেন কতকাল তোমরা এভাবে ছিলে। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ নগরে প্রেরণ কর যেন সে দেখে কোন খাদ্য উত্তম। অতঃপর তা থেকে যেন তোমাদের জন্য কিছু খাদ্য কিনে নিয়ে আসে। আর সে যেন নম্রতার সাথে কাজ করে এবং তোমাদের সম্পর্কে কাউকে কিছু বুঝতে না দেয়।
(কেননা) তারা যদি তোমাদের বিষয় জানতে পারে, তাহ’লে ওরা তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নিবে। আর সেক্ষেত্রে তোমরা কখনোই সফলকাম হ’তে পারবে না।
এভাবে আমরা তাদের বিষয়টি প্রকাশ করে দিলাম। যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য এবং ক্বিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। অতঃপর যখন লোকেরা তাদের করণীয় বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করল, তখন তারা বলল, তাদের গুহামুখে তোমরা একটা প্রাচীর নির্মাণ কর (যাতে ওটা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়)। কেননা তাদের বিষয়ে তাদের প্রতিপালকই ভাল জানেন। তবে তাদের সিদ্ধান্ত বিষয়ে যাদের মত প্রবল ছিল তারা বলল, অবশ্যই আমরা তাদের উপর একটা মসজিদ নির্মাণ করব।
(গুহাবাসী কতজন ছিল সেই) অজ্ঞাত বিষয়ে ধারণার ভিত্তিতে তারা এখন বলবে তিনজন, আর চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর। অথবা বলবে পাঁচজন, আর ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। অথবা বলবে সাতজন, আর অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। তুমি বল, আমার প্রতিপালকই সর্বাধিক জ্ঞাত তাদের সংখ্যা কত ছিল। তাদের সংখ্যা কেউ জানে না অল্প সংখ্যক ব্যতীত (যাদেরকে আল্লাহ জানান)। অতএব তাদের বিষয়ে তুমি বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না সাধারণ আলোচনা ব্যতীত। আর তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাও করো না।
আর তুমি কোন বিষয়ে বলো না যে, ওটা আমি আগামীকাল করব।-
‘যদি আল্লাহ চান’ বলা ব্যতীত। আর তুমি তোমার পালনকর্তাকে স্মরণ কর যখন তুমি ভুলে যাও এবং বল নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে এর চাইতে নিকটতম সত্যের দিকে পথপ্রদর্শন করবেন।
আর তারা তাদের গুহায় ছিল তিনশ’ বছর এবং তারা বৃদ্ধি করেছে আরও নয় বছর।
তুমি বলে দাও যে, আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত কতদিন তারা সেখানে ছিল। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সকল অদৃশ্য বিষয় তিনি জানেন। তিনি কতই না সুন্দর দ্রষ্টা ও কতই না সুন্দর শ্রোতা! তিনি ব্যতীত তাদের কোনই সাহায্যকারী নেই এবং তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না।
আর তুমি তোমার প্রতি তোমার প্রভুর কিতাব থেকে যা ‘অহি’ করা হয় তা পাঠ কর। তাঁর বাক্যসমূহের পরিবর্তনকারী কেউ নেই। আর তুমি কখনোই তাঁকে ব্যতীত অন্য কাউকে আশ্রয়স্থল হিসাবে পাবে না।
আর তুমি নিজেকে ধরে রাখো তাদের সাথে যারা তাদের প্রতিপালককে সকালে ও সন্ধ্যায় আহবান করে তাঁর চেহারা কামনায় এবং তুমি তাদের থেকে তোমার দু’চোখ ফিরিয়ে নিয়ো না পার্থিব জীবনের জৌলুশ কামনায়। আর তুমি ঐ ব্যক্তির আনুগত্য করোনা যার অন্তরকে আমরা আমাদের স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং সে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে ও তার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে গেছে।
আর তুমি বল, সত্য এসেছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে। অতএব যে চায় তাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক। আর যে চায় তাতে অবিশ্বাস করুক; আমরা সীমালংঘনকারীদের জন্য আগুন প্রস্ত্তত করে রেখেছি। যার বেষ্টনী তাদেরকে ঘিরে রাখবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয় (পুঁজ-রক্ত) দেয়া হবে। যা তাদের মুখমন্ডল ঝলসে দেবে। কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল।
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে (আমরা তাদের পুরস্কৃত করি)। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, আমরা তার পুরস্কার বিনষ্ট করি না।
তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত। যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ-কংকন দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং তারা মিহি ও মোটা রেশমী সূতার সবুজ পোষাক পরিধান করবে। তারা সেখানে সুসজ্জিত আসনে ঠেস দিয়ে বসবে। কতই না সুন্দর প্রতিদান ও কতই না সুন্দর আশ্রয়স্থল!
আর তুমি তাদের কাছে দু’জন ব্যক্তির (কাফের ও মুমিনের) উপমা পেশ কর। যাদের একজনকে আমরা দু’টি আঙ্গুর বাগান দিয়েছিলাম। যে দু’টির চারপাশ আমরা খেজুর গাছ দিয়ে ঘিরে দিয়েছিলাম। আর এ দু’য়ের মধ্যবর্তী ভূমিতে করেছিলাম শস্যক্ষেত।
দু’টি বাগানই ফল দান করত এবং তাতে কোন কমতি করত না। আর বাগান দু’টির মাঝ দিয়ে আমরা নদী প্রবাহিত করেছিলাম।
সে প্রচুর ফসল পেল। অতঃপর সে তার (মুমিন) বন্ধুকে গর্বভরে বলল, আমি তোমার চাইতে ধন-সম্পদে বেশী এবং জনবলে অধিক শক্তিশালী।
অতঃপর সে তার বাগানে প্রবেশ করল নিজের উপর যুলুম করা অবস্থায়। সে (বড়াই করে) বলল, আমি মনে করিনা যে, এটা কখনো ধ্বংস হবে।
আর আমি মনে করিনা যে, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। তবে যদি কখনো আমাকে আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়েও নেয়া হয়, তথাপি আমি অবশ্যই সেখানে এর চাইতে উত্তম প্রতিদান পাব।
(জবাবে) তার (মুমিন) বন্ধু তাকে বলল, তাহ’লে কি তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর (পিতা-মাতার মিশ্রিত) জনন কোষ থেকে। অতঃপর তোমাকে সুঠামদেহী করেছেন মানুষের আকৃতিতে?
আমরা কিন্তু বলি যে, আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি আমার প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করি না।
আর যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন তুমি কেন একথা বললে না যে, আল্লাহ যা চান তাই হয়। আল্লাহ্র সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই, যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখে থাকো।
অতএব হ’তে পারে আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার বাগানের চাইতে উত্তম কিছু (দুনিয়া বা আখেরাতে) দান করবেন এবং তোমার বাগানে আকাশ থেকে গযব প্রেরণ করবেন। অতঃপর তা শূন্য ময়দানে পরিণত হবে।
অথবা ওর পানি ভূগর্ভে শোষিত হবে। অতঃপর তুমি তা ফিরিয়ে আনার জন্য কোন কৌশল করতে সক্ষম হবে না।
অতঃপর তার ফল সব ধ্বংস হয়ে গেল। তখন সে তাতে যা ব্যয় করেছিল তার দুঃখে দু’হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। এমতাবস্থায় বাগানটি তার মাচানসমূহ নিয়ে পড়ে ছিল। তখন সে বলতে লাগল, হায়! যদি আমি আমার প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক না করতাম!!
এ সময় আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার মত কোন দল ছিল না এবং সে নিজেও নিজেকে রক্ষাকারী ছিল না।
সেখানে সাহায্য করার ক্ষমতা কেবল আল্লাহ্র, যিনি সত্য। তিনিই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দানে এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ পরিণাম নির্ধারণে।
তুমি তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা কর যে, এটি হ’ল বৃষ্টির পানির মত। যা আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি। অতঃপর তার মিশ্রণে উদ্ভিদসমূহ উৎপন্ন হয়। পরে তা এমন শুষ্ক হয় যে বায়ু প্রবাহ তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। বস্ত্তত আল্লাহ সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাবান।
ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য মাত্র। অথচ চিরস্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার প্রভুর নিকটে প্রতিদান হিসাবে উত্তম এবং কাংখিত হিসাবেও উত্তম।
আর যেদিন আমরা পাহাড় সমূহকে চালিত করব এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর হিসাবে। আর আমরা তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকে আমরা ছেড়ে দেব না।
আর তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের সম্মুখে হাযির করা হবে সারিবদ্ধভাবে (এবং বলা হবে) তোমরা আমাদের কাছে এসেছ সেভাবে, যেভাবে আমরা তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ধারণা করেছিলে যে, আমরা কখনোই তোমাদের জন্য প্রতিশ্রুত (পুনরুত্থানের) সময় নির্ধারণ করব না।
আর পেশ করা হবে আমলনামা। তখন তাতে যা আছে তার কারণে তুমি অপরাধীদের দেখবে আতংকগ্রস্ত। তারা বলবে, হায় দুর্ভোগ! এটা কেমন আমলনামা যে, ছোট-বড় কোন কিছুই গণনা করতে ছাড়েনি? আর তারা তাদের সকল কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে। বস্ত্তত তোমার প্রতিপালক কারু প্রতি অবিচার করেন না।
আর (স্মরণ কর) যেদিন আমরা ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। তখন তারা সবাই সিজদা করেছিল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর সে তার প্রভুর আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। বস্ত্তত সীমালংঘনকারীদের জন্য কতই না নিকৃষ্ট বিনিময়!
আমরা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিকালে তাদেরকে সাক্ষী রাখিনি এবং তাদের সৃষ্টিকালেও নয়। আর আমি তো বিভ্রান্তকারীদের সাহায্য গ্রহণকারী নই।
আর যেদিন মুশরিকদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলবেন, তোমরা ডাকো আমার শরীকদের, যাদেরকে তোমরা ধারণা করতে। অতঃপর তারা তাদের ডাকবে। কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না। আর আমরা তখন তাদের উভয়ের মাঝে রেখে দেব একটি ধ্বংস গহবর।
অপরাধীরা (সেদিন) আগুন দেখে নিশ্চিত হবে যে, তারা সেখানে পতিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় তারা সেখান থেকে বাঁচার কোন পথ খুঁজে পাবে না।
আমরা এই কুরআনে সব ধরনের উপমা দিয়ে বারবার ব্যাখ্যা করেছি মানুষের জন্য। কিন্তু মানুষ হ’ল সবচেয়ে বেশী ঝগড়া প্রিয়।
যখন তাদের নিকট হেদায়াত আসে, তখন মানুষকে ঈমান আনা থেকে এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে তারা বিরত রাখে কেবল একটাই দাবীতে যে, তাদের নিকট আসুক পূর্ববর্তীদের রীতি অনুযায়ী ধ্বংস অথবা সরাসরি নেমে আসুক আযাব।
অথচ আমরা রাসূলদের প্রেরণ করে থাকি কেবল জান্নাতের সুসংবাদ দাতা ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী রূপে। কিন্তু অবিশ্বাসীরা মিথ্যা দিয়ে ঝগড়া করে সত্যকে মিটিয়ে ফেলার জন্য এবং তারা আমার আয়াতসমূহকে ও যে শাস্তির ভয় তাদের দেখানো হয় তাকে তারা ঠাট্টার বস্ত্তরূপে গ্রহণ করে।
তার চাইতে অধিক যালেম আর কে আছে, যাকে তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সে তার কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়। আমরা তাদের হৃদয়সমূহের উপর আবরণ টেনে দিয়েছি, যেন তারা তা (কুরআন) বুঝতে না পারে এবং তাদের কানগুলিতে বধিরতা এনে দিয়েছি। ফলে যদি তুমি তাদেরকে সুপথের দিকে আহবান কর, তবু তারা কখনই সুপথ পাবে না।
আর তোমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়। যদি তিনি তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তাহ’লে তাদের জন্য শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন। কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যেখান থেকে বাঁচার কোন পথ তারা পাবে না।
আর (তোমাদের পূর্বেকার) জনপদ সমূহকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা সীমালংঘন করেছিল এবং আমরা তাদের ধ্বংসের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম।
আর (স্মরণ কর) যখন মূসা তার সাথী যুবককে বলল, দুই সাগরের মিলনস্থলে না পৌঁছা পর্যন্ত আমি থামবো না। নইলে আমি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকব।
অতঃপর তারা যখন দুই সাগরের মিলনস্থলে পৌঁছল, তখন তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেল। মাছটি সমুদ্রে স্পষ্ট জমাট বাঁধা রাস্তা তৈরী করে নেমে গেল।
অতঃপর তারা যখন স্থানটি অতিক্রম করে গেল, তখন মূসা তার যুবককে বলল, আমাদের পূর্বাহ্নের খাবার নিয়ে আস। সফরে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
যুবক বলল, আপনার কি খেয়াল পড়ে যখন আমরা একটি শিলাখন্ডের উপর বিশ্রাম নিয়েছিলাম? অতঃপর সেখানে আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে ওটির কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। সে বিস্ময়করভাবে নিজের পথ তৈরী করে সমুদ্রে নেমে গেল।
মূসা বলল, ওটাই তো সেই স্থান, যেটা আমরা খুঁজছি। অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে উল্টা ফিরে চলল।
অতঃপর তারা (সেখানে পৌঁছে) আমাদের বান্দাদের মধ্যেকার এক বান্দাকে পেল, যাকে আমরা আমাদের পক্ষ হ’তে অনুগ্রহ প্রদান করেছিলাম এবং তাকে আমরা আমাদের পক্ষ হ’তে বিশেষ জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলাম।
মূসা তাকে বলল, আমি কি আপনার অনুসরণ করতে পারি একথার উপর যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শিখানো হয়েছে, তা থেকে আপনি আমাকে কিছু শিক্ষা দিবেন?
সে বলল, আপনি তো আমার সাথে ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না।
আর যে বিষয়টি আপনার জ্ঞানের আয়ত্তাধীন নয়, সে বিষয়ে আপনি কিভাবে ধৈর্যধারণ করবেন?
মূসা বলল, আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না।
সে বলল, বেশ, যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি আপনাকে সে বিষয়ে কিছু বলি।
অতঃপর তারা উভয়ে চলতে শুরু করল। অবশেষে তারা (নদী পার হওয়ার জন্য) একটা নৌকায় আরোহণ করল। (ওপারে গিয়ে) সে নৌকাটি ছিদ্র করে দিল। মূসা বলল, আপনি কি আরোহীদের ডুবিয়ে মারার জন্য এটিকে ছিদ্র করে দিলেন? আপনি একটা গুরুতর অন্যায় করলেন।
সে বলল, আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কখনোই ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না?
মূসা বলল, যে বিষয়টি আমি ভুলে গেছি সেটির জন্য আপনি আমাকে দায়ী করবেন না এবং আমার (জ্ঞানার্জনের) কাজকে আমার জন্য কঠিন করে দিবেন না।
অতঃপর তারা (নদীতীর দিয়ে) চলতে থাকল। এমন সময় একটি বালকের দেখা পেল। কিন্তু সে তাকে ধরে হত্যা করে ফেলল। তখন মূসা বলল, কোন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই আপনি একটা নির্দোষ প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি তো এক ভয়ানক কাজ করলেন।
সে বলল, আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আমার সঙ্গে আপনি কখনোই ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না?
মূসা বলল, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন প্রশ্ন করি, তাহ’লে আপনি আর আমাকে সাথে নিবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে ওযর কবুলের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।
অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে তারা একটি লোকালয়ে পৌঁছে তাদের কাছে খাবার চাইল। কিন্তু তারা মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেল। সে সেটাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল। মূসা বলল, আপনি চাইলে এর বিনিময়ে কিছু পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।
তখন সে বলল, এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ হ’ল। এক্ষণে যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি, আমি আপনাকে সেসবের ব্যাখ্যা দিচ্ছি।
প্রথমে নৌকাটির ব্যাপার এই যে, ওটা ছিল কতিপয় মিসকীনের। যারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি চাইলাম যে, ওটাকে ত্রুটিযুক্ত করে দেই। কারণ ওদের পিছনে ছিল এক রাজা; সে জোর করে সকল নৌকা ছিনিয়ে নেয়।
আর বালকটির বিষয় এই যে, তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশংকা করলাম যে, (বড় হয়ে) সে অবাধ্যতা ও কুফরীর মাধ্যমে তাদের উপর যুলুম করবে।
ফলে আমরা চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক তাদেরকে তার পরিবর্তে একটি সন্তান দান করবেন, যে হবে চারিত্রিক পবিত্রতায় উত্তম ও পিতা-মাতার প্রতি অনুগ্রহে ঘনিষ্ঠতর।
অতঃপর ঐ প্রাচীরটি, যা ছিল শহরের দু’টি ইয়াতীম বালকের। ওটির নীচে ছিল ওদের জন্য কিছু গুপ্তধন। ওদের পিতা ছিলেন একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি। অতঃপর আপনার প্রতিপালক ইচ্ছা করলেন যে, বালক দু’টি যোগ্য বয়সে পৌঁছে যাক এবং তাদের গুপ্তধন তারা উদ্ধার করুক! আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহে। আর আমি নিজ ইচ্ছা মতে এগুলি করিনি। বস্ত্তত এটাই হ’ল ব্যাখ্যা ঐসব বিষয়ে, যাতে আপনি ধৈর্য ধারণে সক্ষম হননি।
আর তারা তোমাকে যুল-ক্বারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বল, সত্বর আমি তোমাদের নিকট তার সম্পর্কে বর্ণনা করব।
আমরা তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং তাকে প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করেছিলাম।
অতঃপর সে একটি পথ ধরে চলল।
অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে একটি পংকিল জলাশয়ে ডুবতে দেখল এবং সেখানে একটি সম্প্রদায়কে দেখতে পেল। আমরা বললাম, হে যুল-ক্বারনাইন! হয় তুমি তাদেরকে শাস্তি দেবে, নয় তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করবে।
সে বলল, যে কেউ সীমালংঘন করবে, তাকে আমরা শাস্তি দেব। অতঃপর সে তার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাবে। তখন তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন।
তবে যে ব্যক্তি ঈমান আনবে ও সৎকর্ম সম্পাদন করবে, তার জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। আর তার সাথে আচরণে আমরা নম্র কথা বলব।
অতঃপর সে আরেক পথ ধরল।
অবশেষে সূর্যোদয়ের স্থলে পৌঁছে গেল। সেখানে সে দেখল যে, সূর্য উদিত হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর যাদের জন্য সূর্যতাপ হ’তে বাঁচার মত কোন আচ্ছাদনের ব্যবস্থা আমরা করিনি।
ঘটনা এটাই। আর তার সকল বৃত্তান্ত আমরা সম্যকরূপে অবগত।
অতঃপর সে পুনরায় পথ চলতে থাকল।
অবশেষে সে দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী গিরিপথে পৌঁছল। সেখানে সে একটি সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ পেল, যারা তার কথা কিছুই বুঝতে পারছিল না।
তারা বলল, হে যুল-ক্বারনাইন! ইয়াজূজ ও মাজূজ এ জনপদে চরম অশান্তি সৃষ্টি করে। অতএব আমরা কি আপনাকে কর দিব যাতে আপনি আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেন?
সে বলল, আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন, সেটুকুই যথেষ্ট। অতএব তোমরা আমাকে কেবল শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।
তোমরা আমার নিকট লোহার বড় বড় পিন্ডসমূহ নিয়ে এসো। অতঃপর যখন গিরিপথটি ভরাট হয়ে দুই পাহাড়ের মাথা সমান হয়ে গেল, তখন সে বলল, তোমরা এতে আগুন ধরিয়ে দাও। অবশেষে যখন তা জ্বলন্ত হুতাশনে পরিণত হ’ল, তখন সে বলল, তোমরা আমার কাছে গলিত তামা নিয়ে এসো, আমি তা এর উপর ঢেলে দেব।
ফলে ইয়াজূজ-মাজূজ তা অতিক্রম করতে পারল না এবং তা ভেদ করতেও সক্ষম হ’ল না।
সে বলল, এটি আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ মাত্র। অতঃপর যখন আমার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় এসে যাবে, তিনি ওটাকে ধূলিসাৎ করে দিবেন। আর আমার প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য।
আর যেদিন আমরা তাদের কিছু অংশকে ছেড়ে দেব দলে দলে তরঙ্গের মত এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। অতঃপর আমরা তাদের সকলকে একত্রিত করব।
আর সেদিন আমরা জাহান্নামকে সরাসরি পেশ করব কাফেরদের সম্মুখে।
যাদের চক্ষুসমূহের উপর আমার স্মরণ থেকে পর্দা পড়ে গিয়েছিল এবং যারা (আমার কথা) শুনতেও সক্ষম ছিল না।
কাফেররা কি ধারণা করে যে, তারা আমাকে ছেড়ে আমার বান্দাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে? বেশ তাহ’লে আমরা জাহান্নামকে কাফেরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছি।
তুমি বল, আমরা কি তোমাদেরকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের বিষয়ে খবর দিব?
তারা হ’ল, যাদের সকল প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিফলে গেছে। অথচ তারা ভেবেছে যে, তারা সৎকর্ম করছে।
তারা হ’ল, যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহকে এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের সকল কর্ম নিস্ফল হয়ে যায়। ক্বিয়ামতের দিন আমরা তাদের জন্য মীযানের পাল্লা দাঁড় করাব না।
ঐ, (অর্থাৎ সকল কর্ম নিস্ফল হওয়ায়) তাদের পরিণাম হ’ল জাহান্নাম। কেননা তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে ও আমার রাসূলগণকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করেছে।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদের আপ্যায়ন হিসাবে জান্নাতুল ফেরদৌস প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে।
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং তারা সেখান থেকে অন্যত্র যেতে চাইবে না।
তুমি বল, যদি আমার প্রতিপালকের বাণী (মহিমা) সমূহ লিপিবদ্ধ করার জন্য গোটা সমুদ্র কালিতে পরিণত হয়, তবে আমার পালনকর্তার বাণীসমূহ শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমরা তার সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দেই।
তুমি বল, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষ বৈ কিছু নই। আমার নিকটে অহি করা হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতএব যে ব্যক্তি তার প্রভুর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।