১৯

সূরাঃ মারিয়াম ()

মাক্কীমোট আয়াত ৯৮ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

كٓهٰيٰـعٓـصٓ​ۚ

কাফ হা ইয়া ‘আয়েন ছোয়াদ।

ذِكۡرُ رَحۡمَتِ رَبِّكَ عَـبۡدَهٗ زَكَرِيَّاۖۚ

এটি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি।

اِذۡ نَادٰى رَبَّهٗ نِدَآءً خَفِيًّا‏

যখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করেছিল চুপে চুপে।

قَالَ رَبِّ اِنِّىۡ وَهَنَ الۡعَظۡمُ مِنِّىۡ وَاشۡتَعَلَ الرَّاۡسُ شَيۡبًا وَّلَمۡ اَكُنۡۢ بِدُعَآٮِٕكَ رَبِّ شَقِيًّا‏

সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থি সমূহ দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যে মাথার চুল সাদা হয়ে গেছে। আর হে আমার প্রভু! তোমার কাছে দো‘আ করে আমি কখনো নিরাশ হইনি।

وَاِنِّىۡ خِفۡتُ الۡمَوَالِىَ مِنۡ وَّرَآءِىۡ وَكَانَتِ امۡرَاَتِىۡ عَاقِرًا فَهَبۡ لِىۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ وَلِيًّاۙ

আর আমি আমার পরবর্তী উত্তরাধিকারী নিয়ে ভয় পাচ্ছি। অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। অতএব তুমি তোমার পক্ষ হ’তে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান কর।

يَّرِثُنِىۡ وَيَرِثُ مِنۡ اٰلِ يَعۡقُوۡبَۖ ​ وَاجۡعَلۡهُ رَبِّ رَضِيًّا‏ 

যে আমার ওয়ারিছ হবে এবং ইয়াকূব বংশের ওয়ারিছ হবে। আর হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাকে (তোমার ও সকলের) সন্তোষ ভাজন কর।

يٰزَكَرِيَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلٰم اۨسۡمُهٗ يَحۡيٰىۙ لَمۡ نَجۡعَلْ لَّهٗ مِنۡ قَبۡلُ سَمِيًّا‏

(বললাম,) হে যাকারিয়া! আমরা তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহইয়া। এই নামে আমরা ইতিপূর্বে কারু নামকরণ করিনি।

قَالَ رَبِّ اَنّٰى يَكُوۡنُ لِىۡ غُلٰمٌ وَّكَانَتِ امۡرَاَتِىۡ عَاقِرًا وَّقَدۡ بَلَـغۡتُ مِنَ الۡـكِبَرِ عِتِيًّا‏

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে, অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা! আর আমি তো বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত হয়েছি।

قَالَ كَذٰلِكَۚ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌ وَّقَدۡ خَلَقۡتُكَ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ تَكُ شَيۡـًٔـا‏

(জিব্রীল) বলল, এভাবেই হবে। আপনার প্রতিপালক বলেছেন, এটা আমার জন্য খুবই সহজ। আর আমি তো ইতিপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি। যখন তুমি কিছুই ছিলে না।

قَالَ رَبِّ اجۡعَلْ لِّىۡۤ اٰيَةًؕ قَالَ اٰيَتُكَ اَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَيَالٍ سَوِيًّا‏

যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও পর পর তিন দিন লোকদের সাথে কথা বলতে পারবে না।

فَخَرَجَ عَلٰى قَوۡمِهٖ مِنَ الۡمِحۡرَابِ فَاَوۡحٰٓى اِلَيۡهِمۡ اَنۡ سَبِّحُوۡا بُكۡرَةً وَّعَشِيًّا‏

অতঃপর সে মেহরাব থেকে বেরিয়ে তার সম্প্রদায়ের নিকট গেল এবং ইশারা-ইঙ্গিতে তাদেরকে বলল যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ্র গুণগান করো।

يٰيَحۡيٰى خُذِ الۡكِتٰبَ بِقُوَّةٍؕ وَاٰتَيۡنٰهُ الۡحُكۡمَ صَبِيًّاۙ

আমি বললাম, হে ইয়াহইয়া! তুমি এই কিতাব (তাওরাত) দৃঢ়ভাবে ধারণ কর। বস্ত্তত আমরা তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করেছিলাম।

وَّحَنَانًـا مِّنۡ لَّدُنَّا وَزَكٰوةًؕ وَّكَانَ تَقِيًّاۙ

আর আমরা তাকে আমাদের পক্ষ হ’তে কোমলতা ও পবিত্রতা দান করেছিলাম এবং সে ছিল আল্লাহভীরু।

وَّبَرًّۢا بِوَالِدَيۡهِ وَلَمۡ يَكُنۡ جَبَّارًا عَصِيًّا‏

আর সে ছিল তার পিতা-মাতার প্রতি অনুগত এবং সে উদ্ধত ও অবাধ্য ছিল না।

وَسَلٰمٌ عَلَيۡهِ يَوۡمَ وُلِدَ وَيَوۡمَ يَمُوۡتُ وَيَوۡمَ يُبۡعَثُ حَيًّا‏ 

তার উপর শান্তি, যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে ও যেদিন সে মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন সে পুনর্জীবিত হয়ে উত্থিত হবে।

وَاذۡكُرۡ فِى الۡـكِتٰبِ مَرۡيَمَۘ اِذِ انْتَبَذَتۡ مِنۡ اَهۡلِهَا مَكَانًا شَرۡقِيًّاۙ

আর তুমি এই কিতাবে মারিয়ামের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। যখন সে তার পরিবার থেকে পৃথক হয়ে (বায়তুল মুক্বাদ্দাস-এর) পূর্বদিকে (নির্জন এলাকায়) আশ্রয় নিল।

فَاتَّخَذَتۡ مِنۡ دُوۡنِهِمۡ حِجَابًا فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَيۡهَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا‏

অতঃপর সে তাদের থেকে নিজেকে পর্দা করে নিল। তখন আমরা তার নিকট আমাদের ‘রূহ’ (জিব্রীল-কে) প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সম্মুখে পূর্ণাঙ্গ মানুষ রূপে আত্মপ্রকাশ করল।

قَالَتۡ اِنِّىۡۤ اَعُوۡذُ بِالرَّحۡمٰنِ مِنۡكَ اِنۡ كُنۡتَ تَقِيًّا‏

মারিয়াম বলল, আমি তোমার থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি আল্লাহভীরু হয়ে থাক।

​قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّكِۖ  لِاَهَبَ لَـكِ غُلٰمًا زَكِيًّا‏ 

(জিব্রীল) বলল, আমি তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত দূত ব্যতীত কিছু নই। (এসেছি) যাতে তোমাকে একটি নিষ্কলংক পুত্র সন্তান দান করতে পারি।

قَالَتۡ اَنّٰى يَكُوۡنُ لِىۡ غُلٰمٌ وَّلَمۡ يَمۡسَسۡنِىۡ بَشَرٌ وَّلَمۡ اَكُ بَغِيًّا‏

মারিয়াম বলল, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণী নই।

قَالَ كَذٰلِكِۚ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌۚ وَلِنَجۡعَلَهٗۤ اٰيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَةً مِّنَّاۚ وَكَانَ اَمۡرًا مَّقۡضِيًّا‏

(জিব্রীল) বলল, এভাবেই হবে। তোমার প্রতিপালক বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ। এটা এজন্য যে, তাকে আমরা মানবজাতির জন্য একটি নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ হ’তে একটি বিশেষ অনুগ্রহ স্বরূপ করব। আর এ বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত।

فَحَمَلَـتۡهُ فَانْتَبَذَتۡ بِهٖ مَكَانًا قَصِيًّا‏

অতঃপর সে গর্ভে সন্তান ধারণ করল এবং তাকে সহ সে একটি দূরবর্তী স্থানে চলে গেল।

فَاَجَآءَهَا الۡمَخَاضُ اِلٰى جِذۡعِ النَّخۡلَةِۚ قَالَتۡ يٰلَيۡتَنِىۡ مِتُّ قَبۡلَ هٰذَا وَكُنۡتُ نَسۡيًا مَّنۡسِيًّا‏

অতঃপর প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের গোড়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে বলল, হায়! যদি আমি এর আগেই মৃত্যুবরণ করতাম কিংবা যদি আমি বিস্মৃত বিষয় হয়ে যেতাম।

فَنَادٰٮهَا مِنۡ تَحۡتِهَاۤ اَلَّا تَحۡزَنِىۡ قَدۡ جَعَلَ رَبُّكِ تَحۡتَكِ سَرِيًّا‏

অতঃপর (জিব্রীল) তাকে নিম্নভূমি থেকে আওয়ায দিল যে, তুমি চিন্তা করোনা। তোমার প্রতিপালক তোমার পাদদেশে একটি ছোট নদী সৃষ্টি করেছেন।

وَهُزِّىۡۤ اِلَيۡكِ بِجِذۡعِ النَّخۡلَةِ تُسٰقِطۡ عَلَيۡكِ رُطَبًا جَنِيًّا‏ 

আর তুমি খেজুর গাছের গোড়া ধরে তোমার দিকে টানো। সেটি তোমার উপর পাকা খেজুর নিক্ষেপ করবে।

فَكُلِىۡ وَاشۡرَبِىۡ وَقَرِّىۡ عَيۡنًاۚ فَاِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الۡبَشَرِ اَحَدًاۙ فَقُوۡلِىۡۤ اِنِّىۡ نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمٰنِ صَوۡمًا فَلَنۡ اُكَلِّمَ الۡيَوۡمَ اِنۡسِيًّاۚ

অতএব তুমি খাও, পান করো ও চক্ষু শীতল করো। আর যদি তুমি কোন মানুষকে দেখ, তাহ’লে তাকে ইশারায় বলে দিয়ো যে, আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।

فَاَتَتۡ بِهٖ قَوۡمَهَا تَحۡمِلُهٗؕ قَالُوۡا يٰمَرۡيَمُ لَقَدۡ جِئۡتِ شَيۡـًٔـا فَرِيًّا‏

অতঃপর সে সন্তানকে বহন করে তার সম্প্রদায়ের কাছে এল। তারা বলল, হে মারিয়াম! তুমি তো একটা বিস্ময়কর বস্ত্ত নিয়ে আগমন করেছ।

يٰۤـاُخۡتَ هٰرُوۡنَ مَا كَانَ اَ بُوۡكِ امۡرَاَ سَوۡءٍ وَّمَا كَانَتۡ اُمُّكِ بَغِيًّاۖ ۚ

হে হারূণের বোন! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মা-ও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।

فَاَشَارَتۡ اِلَيۡهِؕ قَالُوۡا كَيۡفَ نُـكَلِّمُ مَنۡ كَانَ فِى الۡمَهۡدِ صَبِيًّا‏

তখন সে তার সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করল। তারা বলল, কোলের শিশুর সাথে কিভাবে আমরা কথা বলব?

قَالَ اِنِّىۡ عَبۡدُ اللّٰهِؕ اٰتٰٮنِىَ الۡكِتٰبَ وَجَعَلَنِىۡ نَبِيًّاۙ

শিশুটি বলে উঠল, আমি আল্লাহ্র দাস। তিনি আমাকে কিতাব (ইনজীল) দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

وَّجَعَلَنِىۡ مُبٰـرَكًا اَيۡنَ مَا كُنۡتُ وَاَوۡصٰنِىۡ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ مَا دُمۡتُ حَيًّاۖ ‏

আর তিনি আমাকে বরকতমন্ডিত করেছেন যেখানেই আমি থাকিনা কেন এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন ছালাতের ও যাকাতের যতদিন আমি বেঁচে থাকব।

وَّبَرًّۢابِوَالِدَتِىۡ وَلَمۡ يَجۡعَلۡنِىۡ جَبَّارًا شَقِيًّا‏

(এবং নির্দেশ দিয়েছেন) আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে। আর তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।

وَالسَّلٰمُ عَلَىَّ يَوۡمَ وُلِدْتُّ وَيَوۡمَ اَمُوۡتُ وَيَوۡمَ اُبۡعَثُ حَيًّا‏ 

আমার প্রতি নিরাপত্তা, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি ও যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।

ذٰ لِكَ عِيۡسَى ابۡنُ مَرۡيَمَۚ قَوۡلَ الۡحَـقِّ الَّذِىۡ فِيۡهِ يَمۡتَرُوۡنَ‏ 

এটাই হ’ল মারিয়াম-পুত্র ঈসার বৃত্তান্ত। এটাই হ’ল বাস্তব কথা। যে বিষয়ে তারা মতভেদ করে।

مَا كَانَ لِلّٰهِ اَنۡ يَّتَّخِذَ مِنۡ وَّلَدٍۙ سُبۡحٰنَهٗؕ اِذَا قَضٰٓى اَمۡرًا فَاِنَّمَا يَقُوۡلُ لَهٗ كُنۡ فَيَكُوۡنُؕ

আল্লাহ্র জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন। তিনি পবিত্র। তিনি যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেবল বলেন, হও! অতঃপর তা হয়ে যায়।

وَاِنَّ اللّٰهَ رَبِّىۡ وَرَبُّكُمۡ فَاعۡبُدُوۡهُؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِيۡمٌ‏ 

(ঈসা বলল) আর নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এটাই হ’ল সরল পথ।

فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَيۡنِهِمۡۚ فَوَيۡلٌ لِّـلَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ مَّشۡهَدِ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍ‏

অতঃপর দলগুলি নিজেদের মধ্যে মতভেদ করল। অতএব অবিশ্বাসীদের জন্য দুর্ভোগ সেই ভয়ংকর দিবস (ক্বিয়ামত) আগমনের দিন।

اَسۡمِعۡ بِهِمۡ وَاَبۡصِرۡۙ يَوۡمَ يَاۡتُوۡنَنَا​ لٰـكِنِ الظّٰلِمُوۡنَ الۡيَوۡمَ فِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍ‏

সেদিন তারা কত সুন্দরভাবেই না শুনবে ও দেখবে, যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে। অথচ যালেমরা আজ স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।

وَاَنۡذِرۡهُمۡ يَوۡمَ الۡحَسۡرَةِ اِذۡ قُضِىَ الۡاَمۡرُۘ وَهُمۡ فِىۡ غَفۡلَةٍ وَّهُمۡ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ‏

আর তুমি তাদেরকে অনুতাপের দিবস সম্পর্কে সতর্ক কর। যেদিন সব বিষয়ে ফায়ছালা হয়ে যাবে। অথচ তারা (এখন) উদাসীনতায় ডুবে আছে এবং বিশ্বাস স্থাপন করছে না।

اِنَّا نَحۡنُ نَرِثُ الۡاَرۡضَ وَمَنۡ عَلَيۡهَا وَاِلَـيۡنَا يُرۡجَعُوۡنَ‏ 

নিশ্চয়ই আমরা সেদিন পৃথিবীর ও এর উপরের সবকিছুর অধিকারী হব এবং আমাদের কাছেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

وَاذۡكُرۡ فِى الۡكِتٰبِ اِبۡرٰهِيۡمَۙ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّيۡقًا نَّبِيًّا‏ 

আর তুমি এই কিতাবে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। নিশ্চয়ই সে ছিল (কথায় ও কর্মে) সত্যনিষ্ঠ ও নবী।

اِذۡ قَالَ لِاَبِيۡهِ يٰۤـاَبَتِ لِمَ تَعۡبُدُ مَا لَا يَسۡمَعُ وَلَا يُبۡصِرُ وَ لَا يُغۡنِىۡ عَنۡكَ شَيۡــًٔـا‏

যখন সে তার পিতাকে বলল, হে পিতা! কেন তুমি ঐ বস্ত্তর পূজা কর যা শোনে না, দেখে না বা তোমার কোন কাজে আসে না?

يٰۤـاَبَتِ اِنِّىۡ قَدۡ جَآءَنِىۡ مِنَ الۡعِلۡمِ مَا لَمۡ يَاۡتِكَ فَاتَّبِعۡنِىۡۤ اَهۡدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا‏

হে আমার পিতা! আমার নিকটে এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। অতএব তুমি আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাকে সরল পথ প্রদর্শন করব।

يٰۤـاَبَتِ لَا تَعۡبُدِ الشَّيۡطٰنَؕ اِنَّ الشَّيۡطٰنَ كَانَ لِلرَّحۡمٰنِ عَصِيًّا‏

হে আমার পিতা! তুমি শয়তানের পূজা করো না। নিশ্চয়ই শয়তান হ’ল দয়াময়ের অবাধ্য।

يٰۤاَبَتِ اِنِّىۡۤ اَخَافُ اَنۡ يَّمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ فَتَكُوۡنَ لِلشَّيۡطٰنِ وَلِيًّا‏

হে আমার পিতা! আমার ভয় হয় যে, দয়াময়ের পক্ষ হ’তে কোন শাস্তি তোমাকে স্পর্শ করবে। আর তখন তুমি শয়তানের বন্ধু হয়ে পড়বে।

قَالَ اَرَاغِبٌ اَنۡتَ عَنۡ اٰلِهَتِىۡ يٰۤاِبۡرٰهِيۡمُۚ لَٮِٕنۡ لَّمۡ تَنۡتَهِ لَاَرۡجُمَنَّكَ​ وَاهۡجُرۡنِىۡ مَلِيًّا‏

পিতা বলল, হে ইব্রাহীম! তবে কি তুমি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাও? যদি তুমি এ থেকে বিরত না হও, তাহ’লে অবশ্যই আমি পাথর মেরে তোমার মস্তক চূর্ণ করে দেব। তুমি চিরদিনের মত আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও!

قَالَ سَلٰمٌ عَلَيۡكَۚ سَاَسۡتَغۡفِرُ لَـكَ رَبِّىۡؕ اِنَّهٗ كَانَ بِىۡ حَفِيًّا‏ 

ইব্রাহীম বলল, তোমার প্রতি সালাম। সত্বর আমি তোমার জন্য আমার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অধিক অনুগ্রহশীল।

وَ اَعۡتَزِلُـكُمۡ وَمَا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَاَدۡعُوۡا رَبِّىۡۖ  عَسٰٓى اَلَّاۤ اَكُوۡنَ بِدُعَآءِ رَبِّىۡ شَقِيًّا‏

আমি বর্জন করছি তোমাদের এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যাদের তোমরা পূজা কর তাদের। আর আমি আমার প্রতিপালককে আহবান করছি। আমি নিশ্চিত যে, আমার প্রতিপালককে আহবান করে আমি নিরাশ হবো না।

فَلَمَّا اعۡتَزَلَهُمۡ وَمَا يَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِۙ وَهَبۡنَا لَهٗۤ اِسۡحٰقَ وَيَعۡقُوۡبَؕ وَكُلًّا جَعَلۡنَا نَبِيًّا‏

অতঃপর যখন সে তাদেরকে ও আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তারা পূজা করত তাদেরকে বর্জন করল, তখন আমরা তাকে ইসহাক ও ইয়াকূবকে দান করলাম এবং তাদের প্রত্যেককে আমরা নবী করলাম।

وَوَهَبۡنَا لَهُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِنَا وَجَعَلۡنَا لَهُمۡ لِسَانَ صِدۡقٍ عَلِيًّا‏ 

আর আমরা তাদেরকে দান করলাম আমাদের অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সুউচ্চ খ্যাতি।

وَاذۡكُرۡ فِى الۡكِتٰبِ مُوۡسٰٓى​ اِنَّهٗ كَانَ مُخۡلَصًا وَّكَانَ رَسُوۡلًا نَّبِيًّا‏

তুমি এই কিতাবে মূসার বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। নিশ্চয়ই সে ছিল মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল ও নবী।

وَنَادَيۡنٰهُ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ الۡاَيۡمَنِ وَقَرَّبۡنٰهُ نَجِيًّا‏

আমরা তাকে তার ডাইনে তূর পাহাড়ের প্রান্ত থেকে আহবান করলাম এবং আমরা তাকে গোপনালাপের জন্য নিকটবর্তী করলাম।

وَ وَهَبۡنَا لَهٗ مِنۡ رَّحۡمَتِنَاۤ اَخَاهُ هٰرُوۡنَ نَبِيًّا‏

আর আমরা তাকে নিজ অনুগ্রহে দান করলাম তার ভাই হারূণকে নবী রূপে।

وَاذۡكُرۡ فِى الۡـكِتٰبِ اِسۡمٰعِيۡلَ​ اِنَّهٗ كَانَ صَادِقَ الۡوَعۡدِ وَكَانَ رَسُوۡلًا نَّبِيًّاۚ

আর এই কিতাবে তুমি ইসমাঈলের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। সে ছিল প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যবাদী এবং সে ছিল রাসূল ও নবী।

وَ كَانَ يَاۡمُرُ اَهۡلَهٗ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ وَكَانَ عِنۡدَ رَبِّهٖ مَرۡضِيًّا‏

সে তার পরিবারকে ছালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার প্রতিপালকের সন্তোষভাজন।

وَاذۡكُرۡ فِى الۡكِتٰبِ اِدۡرِيۡسَ​ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّيۡقًا نَّبِيًّاۙ ‏

আর এই কিতাবে তুমি ইদ্রীসের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। নিশ্চয়ই সে ছিল (কথায় ও কর্মে) সত্যনিষ্ঠ ও নবী।

وَّرَفَعۡنٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا‏

আমরা তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।

اُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَيۡهِمۡ مِّنَ النَّبِيّٖنَ مِنۡ ذُرِّيَّةِ اٰدَمَ وَمِمَّنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوۡحٍ وَّمِنۡ ذُرِّيَّةِ اِبۡرٰهِيۡمَ وَاِسۡرَآءِيۡلَ وَمِمَّنۡ هَدَيۡنَا وَاجۡتَبَيۡنَاؕ اِذَا تُتۡلٰى عَلَيۡهِمۡ اٰيٰتُ الرَّحۡمٰنِ خَرُّوۡا سُجَّدًا وَّبُكِيًّا۩

এরাই হ’ল তারা যাদেরকে আল্লাহ পুরস্কৃত করেছেন নবীগণের মধ্যে। যারা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমরা নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধর। তারা ইব্রাহীম ও ইস্রাঈল (ইয়াকূব)-এর বংশধর এবং যাদেরকে আমরা সুপথ প্রদর্শন করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম তাদের বংশধর। যখন তাদের নিকট দয়াময়ের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হ’ত, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত ক্রন্দনরত অবস্থায়। (সিজদা-৫)

فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوٰتِ​ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّاۙ

তাদের পরে এলো তাদের অপদার্থ উত্তরসূরীরা। তারা ছালাত বিনষ্ট করল ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। ফলে তারা অচিরেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًـا فَاُولٰٓٮِٕكَ يَدۡخُلُوۡنَ الۡجَـنَّةَ وَلَا يُظۡلَمُوۡنَ شَيۡــًٔـاۙ

কিন্তু তারা ব্যতীত যারা তওবা করে এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তারা আদৌ অত্যাচারিত হবে না।

جَنّٰتِ عَدۡنٍ اۨلَّتِىۡ وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ عِبَادَهٗ بِالۡغَيۡبِؕ اِنَّهٗ كَانَ وَعۡدُهٗ مَاۡتِيًّا‏

(সেটি হবে) স্থায়ী বসবাসের জান্নাত। যে অদৃশ্য বিষয়ের ওয়াদা করেছেন দয়াময় তার বান্দাদের নিকট। নিশ্চয়ই তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে।

لَّا يَسۡمَعُوۡنَ فِيۡهَا لَـغۡوًا اِلَّا سَلٰمًاؕ وَلَهُمۡ رِزۡقُهُمۡ فِيۡهَا بُكۡرَةً وَّعَشِيًّا‏

সেখানে তারা ‘সালাম’ (শান্তি) ব্যতীত কোন অনর্থক কথা শুনবে না। আর সেখানে তাদের জন্য রিযিক থাকবে সকাল-সন্ধ্যায়।

تِلۡكَ الۡجَـنَّةُ الَّتِىۡ نُوۡرِثُ مِنۡ عِبَادِنَا مَنۡ كَانَ تَقِيًّا‏ 

এটা সেই জান্নাত, যার অধিকারী করব আমরা আমাদের বান্দাদের মধ্যে যারা আল্লাহভীরু হবে।

وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمۡرِ رَبِّكَۚ لَهٗ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡنَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَيۡنَ ذٰ لِكَۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّاۚ

আর (জিব্রীল রাসূল (ছাঃ)-কে বলল,) আমরা আপনার প্রতিপালকের নির্দেশ ব্যতীত অবতরণ করিনা। তাঁরই অধিকারভুক্ত সবকিছু, যা রয়েছে আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে এবং এ দু’য়ের মধ্যস্থলে। আর আপনার প্রতিপালক ভুলকারী নন।

رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا فَاعۡبُدۡهُ وَاصۡطَبِرۡ لِـعِبَادَتِهٖؕ هَلۡ تَعۡلَمُ لَهٗ سَمِيًّا‏

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা। অতএব আপনি তাঁরই ইবাদত করুন ও তাঁরই ইবাদতে অবিচল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জানেন?

وَيَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ ءَاِذَا مَا مِتُّ لَسَوۡفَ اُخۡرَجُ حَيًّا‏

আর মানুষ (কাফের) বলে, যখন আমি মারা যাব, তখন কি পরে জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হবো?

اَوَلَا يَذۡكُرُ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰهُ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ يَكُ شَيۡـًٔـا‏ 

অথচ মানুষ কি একবার ভেবে দেখেনা যে, ইতিপূর্বে যখন আমরা তাকে সৃষ্টি করেছিলাম, তখন সে কিছুই ছিলনা?

فَوَرَبِّكَ لَـنَحۡشُرَنَّهُمۡ وَالشَّيٰطِيۡنَ ثُمَّ لَــنُحۡضِرَنَّهُمۡ حَوۡلَ جَهَـنَّمَ جِثِيًّاۚ

অতএব তোমার প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে ও তাদের (পথভ্রষ্টকারী) শয়তানদের একত্রিত করব। অতঃপর তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে হাযির করব।

ثُمَّ لَـنَنۡزِعَنَّ مِنۡ كُلِّ شِيۡعَةٍ اَيُّهُمۡ اَشَدُّ عَلَى الرَّحۡمٰنِ عِتِيًّاۚ

অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যে দয়াময়ের সবচেয়ে অবাধ্য, তাকে আমরা অবশ্যই টেনে বের করব।

ثُمَّ لَـنَحۡنُ اَعۡلَمُ بِالَّذِيۡنَ هُمۡ اَوۡلٰى بِهَا صِلِيًّا‏

তারপরেও আমরা তো তাদের বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত, যারা জাহান্নামে প্রবেশের সবচেয়ে যোগ্য।

وَاِنۡ مِّنْکُمْ اِلَّا وَارِدُهَاؕ كَانَ عَلٰى رَبِّكَ حَتۡمًا مَّقۡضِيًّاۚ

আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে সেখানে (পুলছেরাতে) পৌঁছবে না। এটা তোমার পালনকর্তার অমোঘ সিদ্ধান্ত।

ثُمَّ نُـنَجِّى الَّذِيۡنَ اتَّقَوْا وَّنَذَرُ الظّٰلِمِيۡنَ فِيۡهَا جِثِيًّا‏ 

অতঃপর আমরা আল্লাহভীরুদের মুক্তি দেব এবং সীমালংঘনকারীদের নতজানু অবস্থায় তার মধ্যে ছেড়ে দেব।

وَاِذَا تُتۡلٰى عَلَيۡهِمۡ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ قَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لِلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤاۙ اَىُّ الۡفَرِيۡقَيۡنِ خَيۡرٌ مَّقَامًا وَّاَحۡسَنُ نَدِيًّا‏ 

আর যখন তাদের নিকট আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদের বলে, দু’দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং সমাজে উত্তম?

وَكَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ هُمۡ اَحۡسَنُ اَثَاثًا وَّرِءۡيًا‏ 

তাদের পূর্বে কত দলকে আমরা ধ্বংস করেছি, যারা তাদের চাইতে সাজ-সরঞ্জামে ও জাঁকজমকে শ্রেষ্ঠ ছিল।

قُلۡ مَنۡ كَانَ فِى الضَّلٰلَةِ فَلۡيَمۡدُدۡ لَهُ الرَّحۡمٰنُ مَدًّاۚ ​ حَتّٰٓى اِذَا رَاَوۡا مَا يُوۡعَدُوۡنَ اِمَّا الۡعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَةَؕ فَسَيَـعۡلَمُوۡنَ مَنۡ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضۡعَفُ جُنۡدًا‏

বল, যারা ভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দিবেন, যতক্ষণ না তারা প্রত্যক্ষ করবে যে বিষয়ে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। চাই সেটা (দুনিয়াবী) শাস্তি হৌক বা ক্বিয়ামত হৌক। অতঃপর তারা সত্বর জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট এবং কে সেনাশক্তিতে সর্বাধিক দুর্বল।

وَيَزِيۡدُ اللّٰهُ الَّذِيۡنَ اهۡتَدَوۡا هُدًىؕ وَالۡبٰقِيٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَيۡرٌ عِنۡدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّخَيۡرٌ مَّرَدًّا‏

যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেন। আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার নিকটে পুরস্কারের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসাবেও শ্রেষ্ঠ।

اَفَرَءَيۡتَ الَّذِىۡ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَاُوۡتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًاؕ

তুমি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছ যে আমাদের আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে আর বলে, অবশ্যই আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে।

اَطَّلَعَ الۡغَيۡبَ اَمِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَهۡدًاۙ

সে কি অদৃশ্য বিষয় জেনে গেছে? নাকি দয়াময়ের কাছ থেকে সে কোন অঙ্গীকার পেয়েছে?

كَلَّاؕ سَنَكۡتُبُ مَا يَقُوۡلُ وَنَمُدُّ لَهٗ مِنَ الۡعَذَابِ مَدًّاۙ ‏ 

কখনোই না। সে যা বলে তা আমরা অবশ্যই লিখে রাখব এবং তার জন্য শাস্তি দীর্ঘায়িত করব।

وَّنَرِثُهٗ مَا يَقُوۡلُ وَيَاۡتِيۡنَا فَرۡدًا‏

যেসব বিষয়ে সে বলে, তার মৃত্যুর পরে আমরাই তার অধিকারী হব। আর সে আসবে আমাদের কাছে একাকী।

وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اٰلِهَةً لِّيَكُوۡنُوۡا لَهُمۡ عِزًّاۙ ‏ 

আর তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্য সাহায্যকারী হয়।

كَلَّاؕ سَيَكۡفُرُوۡنَ بِعِبَادَتِهِمۡ وَيَكُوۡنُوۡنَ عَلَيۡهِمۡ ضِدًّا‏ 

কখনই না। (সেদিন) তারা তাদের পূজাকে অস্বীকার করবে এবং তারা তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا الشَّيٰـطِيۡنَ عَلَى الۡكٰفِرِيۡنَ تَؤُزُّهُمۡ اَزًّاۙ

তুমি কি দেখোনা যে, আমরা কাফেরদের উপর শয়তানদের ছেড়ে রেখেছি। তারা তাদেরকে সর্বদা মন্দ কাজে প্রলুব্ধ করে?

فَلَا تَعۡجَلۡ عَلَيۡهِمۡؕ اِنَّمَا نَـعُدُّ لَهُمۡ عَدًّاۚ

অতএব তাদের বিষয়ে ব্যস্ত হয়ো না। আমরা তো তাদের জন্য কেবল নির্ধারিত সময়টি গণনা করছি।

يَوۡمَ نَحۡشُرُ الۡمُتَّقِيۡنَ اِلَى الرَّحۡمٰنِ وَفۡدًاۙ

সেদিন আমরা আল্লাহভীরুদেরকে দয়াময়ের নিকট মেহমানরূপে সমবেত করব।

وَّنَسُوۡقُ الۡمُجۡرِمِيۡنَ اِلٰى جَهَـنَّمَ وِرۡدًاۘ

আর পাপীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুপালের ন্যায় আমরা জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেব।

لَا يَمۡلِكُوۡنَ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَهۡدًاۘ

সেদিন কেউ সুফারিশ করার অধিকারী হবেনা কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

وَقَالُوۡا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًاؕ

আর তারা বলে, দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।

لَـقَدۡ جِئۡتُمۡ شَيۡــًٔـا اِدًّاۙ

নিশ্চয়ই তোমরা এক জঘন্য কথা বলেছ।

تَكَادُ السَّمٰوٰتُ يَتَفَطَّرۡنَ مِنۡهُ وَتَـنۡشَقُّ الۡاَرۡضُ وَتَخِرُّ الۡجِبَالُ هَدًّاۙ

এতে যেন নভোমন্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পাহাড়সমূহ প্রচন্ড শব্দে ধ্বসে পড়বে।

اَنۡ دَعَوۡا لِـلرَّحۡمٰنِ وَلَدًاۚ

কেননা তারা দয়াময়ের উপর সন্তান আরোপ করেছে।

وَمَا يَنۡۢبَـغِىۡ لِلرَّحۡمٰنِ اَنۡ يَّتَّخِذَ وَلَدًاؕ

অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য সমীচীন নয়।

اِنۡ كُلُّ مَنۡ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّاۤ اٰتِى الرَّحۡمٰنِ عَبۡدًاؕ

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের নিকটে উপস্থিত হবে না দাস রূপে ব্যতীত।

لَـقَدۡ اَحۡصٰٮهُمۡ وَعَدَّهُمۡ عَدًّا‏

তিনি তাদেরকে বেষ্টন করে আছেন এবং তাদেরকে ভালভাবে গণে রেখেছেন।

وَكُلُّهُمۡ اٰتِيۡهِ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ فَرۡدًا‏

আর ক্বিয়ামত দিবসে তাদের সবাই তাঁর নিকটে আসবে একাকী।

اِنَّ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَيَجۡعَلُ لَهُمُ الرَّحۡمٰنُ وُدًّا‏

নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদের জন্য দয়াময় সৃষ্টি করে দিবেন পরস্পরে ভালবাসা।

فَاِنَّمَا يَسَّرۡنٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الۡمُتَّقِيۡنَ وَتُنۡذِرَ بِهٖ قَوۡمًا لُّدًّا‏

আমরা তো কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি তার মাধ্যমে মুত্তাক্বীদের সুসংবাদ দিতে পার এবং কলহ পরায়ণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার।

وَكَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍؕ هَلۡ تُحِسُّ مِنۡهُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ اَوۡ تَسۡمَعُ لَهُمۡ رِكۡزًا‏

আর তাদের পূর্বে আমরা কত যুগ-সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি। তুমি কি তাদের কাউকে (এখন) দেখতে পাও কিংবা তাদের ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাও?