২০

সূরাঃ ত্বোয়াহা (খন্ডবর্ণ)

মাক্কীমোট আয়াত ১৩৫ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

طٰهٰۚ

ত্বোয়াহা।

مَاۤ اَنۡزَلۡـنَا عَلَيۡكَ الۡـقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰٓىۙ

আমরা তোমার উপর কুরআন নাযিল করিনি তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।

اِلَّا تَذۡكِرَةً لِّمَنۡ يَّخۡشٰىۙ

বরং (নাযিল করেছি) তাদেরকে উপদেশ দানের জন্য যারা আল্লাহকে ভয় করে।

تَنۡزِيۡلًا مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَالسَّمٰوٰتِ الۡعُلَىؕ

এটি তাঁর নিকট থেকে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ। যিনি ভূমন্ডল ও সুউচ্চ নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন।

اَلرَّحۡمٰنُ عَلَى الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰى‏

দয়াময় আরশে উন্নীত।

لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَمَا تَحۡتَ الثَّرٰى‏

তাঁরই জন্য সবকিছু, যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং এ দু’য়ের মাঝে। আর যা আছে ভূগর্ভে।

وَاِنۡ تَجۡهَرۡ بِالۡقَوۡلِ فَاِنَّهٗ يَعۡلَمُ السِّرَّ وَاَخۡفٰى‏

যদি তুমি উচ্চস্বরে কথা বল, তথাপি তিনি তো গোপন ও অতি গোপন সবকিছু জানেন।

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَؕ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى‏

আল্লাহ। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দর নামসমূহ।

​وَهَلۡ اَتٰٮكَ حَدِيۡثُ مُوۡسٰىۘ

আর তোমার নিকটে মূসার বৃত্তান্তপৌঁছেছে কি?

اِذۡ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهۡلِهِ امۡكُثُوۡۤا اِنِّىۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّىۡۤ اٰتِيۡكُمۡ مِّنۡهَا بِقَبَسٍ اَوۡ اَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى‏

যখন সে আগুন দেখল, তখন তার পরিবারকে বলল, তোমরা এখানে থাক। আমি আগুন দেখেছি। আশা করি আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কিছু আগুন আনতে পারব অথবা আমি সেখানে গিয়ে পথের দিশা পাব।

فَلَمَّاۤ اَتٰٮهَا نُوۡدِىَ يٰمُوۡسٰىؕ

অতঃপর যখন সে আগুনের নিকটে আসল তখন তাকে আহবান করা হ’ল, হে মূসা!

اِنِّىۡۤ اَنَا رَبُّكَ فَاخۡلَعۡ نَـعۡلَيۡكَۚ اِنَّكَ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًىؕ

নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তুমি তোমার জুতা খুলে ফেল। কেননা তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ।

وَاَنَا اخۡتَرۡتُكَ فَاسۡتَمِعۡ لِمَا يُوۡحٰى‏

আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি। অতএব তুমি মনোযোগ দিয়ে শোন যা তোমাকে অহি করা হচ্ছে।

اِنَّنِىۡۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِىۡۙ وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكۡرِىۡ‏

নিশ্চয় আমিই আল্লাহ! আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব আমার ইবাদত কর এবং তুমি ছালাতে দন্ডায়মান হও আমার স্মরণে।

اِنَّ السَّاعَةَ اٰتِيَـةٌ اَكَادُ اُخۡفِيۡهَا لِتُجۡزٰى كُلُّ نَفۡسٍۢ بِمَا تَسۡعٰى‏

নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত আসবে। আমি সেটা গোপন রাখতে চাই। যাতে প্রত্যেকে স্ব স্ব কর্ম অনুযায়ী ফল লাভ করতে পারে।

فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنۡهَا مَنۡ لَّا يُؤۡمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوٰٮهُ فَتَرۡدٰى‏ 

সুতরাং যে ব্যক্তি ক্বিয়ামতে বিশ্বাস করেনা ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে উক্ত বিশ্বাস থেকে নিবৃত্ত না করে। তাহ’লে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

وَمَا تِلۡكَ بِيَمِيۡنِكَ يٰمُوۡسٰى‏

আর হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কি?

قَالَ هِىَ عَصَاىَۚ اَتَوَكَّؤُا عَلَيۡهَا وَاَهُشُّ بِهَا عَلٰى غَـنَمِىۡ وَلِىَ فِيۡهَا مَاٰرِبُ اُخۡرٰى‏

সে বলল, এটা আমার লাঠি। এতে আমি ভর দেই এবং এটা দিয়ে আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা পাড়ি। তাছাড়া এতে আমার অন্যান্য কাজও রয়েছে।

قَالَ اَلۡقِهَا يٰمُوۡسٰى‏

আল্লাহ বললেন হে মূসা! তুমি ওটা ফেলে দাও।

فَاَلۡقٰٮهَا فَاِذَا هِىَ حَيَّةٌ تَسۡعٰى‏

অতঃপর সে ওটা ফেলে দিল। অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল।

قَالَ خُذۡهَا وَلَا تَخَفۡ​ سَنُعِيۡدُهَا سِيۡرَتَهَا الۡاُوۡلٰى‏

তিনি বললেন, তুমি ওটাকে ধর। ভয় পেয়ো না। আমরা নিশ্চয়ই ওকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেব।

وَاضۡمُمۡ يَدَكَ اِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخۡرُجۡ بَيۡضَآءَ مِنۡ غَيۡرِ سُوۡٓءٍ اٰيَةً اُخۡرٰىۙ

আর তোমার হস্ততালুটি তোমার বগলে রাখ। দেখবে তা বেরিয়ে আসবে নির্মল প্রদীপ্ত অবস্থায় অন্য একটি নিদর্শন রূপে।

لِنُرِيَكَ مِنۡ اٰيٰتِنَا الۡـكُبۡـرٰىۚ

এটা এজন্য যে, আমরা তোমাকে আমাদের বড় বড় নিদর্শন সমূহ থেকে কিছু দেখিয়ে দেব।

اِذۡهَبۡ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰى‏

(এখন) তুমি ফেরাঊনের কাছে যাও। সে সীমালংঘন করেছে।

قَالَ رَبِّ اشۡرَحۡ لِىۡ صَدۡرِىْۙ

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রসারিত করে দাও!

وَيَسِّرۡ لِىۡۤ اَمۡرِىْۙ

আমার কাজ সহজ করে দাও!

وَاحۡلُلۡ عُقۡدَةً مِّنۡ لِّسَانِیْۙ

আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দাও!

يَفۡقَهُوۡا قَوۡلِیْ ‏

যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

وَاجۡعَلْ لِّىۡ وَزِيۡرًا مِّنۡ اَهۡلِىْۙ

আর আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দাও-

هٰرُوۡنَ اَخِىۙ

আমার ভাই হারূণকে।

اشۡدُدۡ بِهٖۤ اَزۡرِىْۙ

তার মাধ্যমে আমার শক্তিকে দৃঢ় কর।

وَاَشۡرِكۡهُ فِىۡۤ اَمۡرِىْۙ

এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করে দাও-

كَىۡ نُسَبِّحَكَ كَثِيۡرًاۙ

যাতে আমরা অধিকহারে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি-

وَّنَذۡكُرَكَ كَثِيۡرًاؕ

এবং অধিকহারে তোমাকে স্মরণ করতে পারি।

اِنَّكَ كُنۡتَ بِنَا بَصِيۡرًا‏

নিশ্চয়ই তুমি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছ।

قَالَ قَدۡ اُوۡتِيۡتَ سُؤۡلَـكَ يٰمُوۡسٰى‏

আল্লাহ বললেন, হে মূসা! তুমি যা চেয়েছ, সবই তোমাকে দেওয়া হ’ল।

وَلَـقَدۡ مَنَـنَّا عَلَيۡكَ مَرَّةً اُخۡرٰٓىۙ

(এছাড়া) তোমার প্রতি আমরা আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।

اِذۡ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰٓى اُمِّكَ مَا يُوۡحٰٓىۙ

যখন আমরা তোমার মায়ের কাছে ‘ইলহাম’ করেছিলাম যা করার ছিল।

اَنِ اقۡذِفِيۡهِ فِى التَّابُوۡتِ فَاقۡذِفِيۡهِ فِى الۡيَمِّ فَلۡيُلۡقِهِ الۡيَمُّ بِالسَّاحِلِ يَاۡخُذۡهُ عَدُوٌّ لِّىۡ وَعَدُوٌّ لَّهٗؕ وَاَلۡقَيۡتُ عَلَيۡكَ مَحَـبَّةً مِّنِّىۡۚ وَلِتُصۡنَعَ عَلٰى عَيۡنِىۡۘ

তা এই যে, তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে ভর। অতঃপর সিন্দুকটিকে নদীতে ভাসিয়ে দাও। যাতে নদী তাকে তীরে ঠেলে দেয়। তখন ওকে (তীরে) উঠিয়ে নেবে আমার শত্রু ও তার শত্রু। আর (হে মূসা) আমি তোমার উপর আমার পক্ষ হ’তে মহববত ঢেলে দিয়েছিলাম (যাতে তোমাকে দেখে শত্রু দুর্বল হয়ে পড়ে) এবং যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও।

اِذۡ تَمۡشِىۡۤ اُخۡتُكَ فَتَقُوۡلُ هَلۡ اَدُلُّـكُمۡ عَلٰى مَنۡ يَّكۡفُلُهٗؕ فَرَجَعۡنٰكَ اِلٰٓى اُمِّكَ كَىۡ تَقَرَّ عَيۡنُهَا وَلَا تَحۡزَنَؕ وَقَتَلۡتَ نَـفۡسًا فَنَجَّيۡنٰكَ مِنَ الۡغَمِّ وَفَتَـنّٰكَ فُتُوۡنًا فَلَبِثۡتَ سِنِيۡنَ فِىۡۤ اَهۡلِ مَدۡيَنَۙ ثُمَّ جِئۡتَ عَلٰى قَدَرٍ يّٰمُوۡسٰى‏

যখন তোমার বোন এসে বলল, আমি কি তোমাদের বলব, কে এই বাচ্চাকে লালন-পালনের ভার নিতে পারবে? এভাবে আমরা তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং সে চিন্তিত না হয়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে (ভুলক্রমে) হত্যা করেছিলে। অতঃপর আমরা তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। এভাবে আমরা তোমাকে অনেক পরীক্ষায় ফেলেছি। অতঃপর তুমি মাদিয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে। হে মূসা! অবশেষে তুমি নির্ধারিত সময়ে এসে উপস্থিত হয়েছ।

وَاصۡطَنَعۡتُكَ لِنَفۡسِىۚ

আর আমি তোমাকে আমার (রিসালাতের) জন্য প্রস্ত্তত করে নিয়েছি।

اِذۡهَبۡ اَنۡتَ وَاَخُوۡكَ بِاٰيٰتِىۡ وَلَا تَنِيَا فِىۡ ذِكۡرِىۚ

তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শন সমূহ নিয়ে যাও এবং আমার স্মরণে গাফলতি করো না।

اِذۡهَبَاۤ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰىۖۚ ​​​‏

তোমরা দু’জন ফেরাঊনের নিকটে যাও। নিশ্চয়ই সে সীমালংঘন করেছে।

فَقُوۡلَا لَهٗ قَوۡلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهٗ يَتَذَكَّرُ اَوۡ يَخۡشٰى‏

অতঃপর তার সাথে নম্রভাবে কথা বল। হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।

قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّـنَا نَخَافُ اَنۡ يَّفۡرُطَ عَلَيۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ يَّطۡغٰى‏ 

তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশংকা করছি যে, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা সীমালংঘন করবে।

قَالَ لَا تَخَافَآ​ اِنَّنِىۡ مَعَكُمَاۤ اَسۡمَعُ وَاَرٰى‏

আল্লাহ বললেন, তোমরা ভয় পেয়োনা। নিশ্চয়ই আমি (জ্ঞানের মাধ্যমে) তোমাদের সাথে আছি। আমি সবকিছু শুনি ও দেখি।

فَاۡتِيٰهُ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلَا رَبِّكَ فَاَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَۙ وَلَا تُعَذِّبۡهُمۡؕ قَدۡ جِئۡنٰكَ بِاٰيَةٍ مِّنۡ رَّبِّكَؕ وَالسَّلٰمُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الۡهُدٰى‏

অতএব তোমরা তার নিকটে যাও এবং বল, আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল। সুতরাং আমাদের সাথে বনু ইস্রাঈলদের যেতে দাও এবং তাদেরকে নির্যাতন করোনা। আমরা তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে এসেছি। আর শান্তি ঐ ব্যক্তির উপর যে সৎপথ অবলম্বন করে।

اِنَّا قَدۡ اُوۡحِىَ اِلَـيۡنَاۤ اَنَّ الۡعَذَابَ عَلٰى مَنۡ كَذَّبَ وَتَوَلّٰى‏ 

আর আমাদের নিকট অহি করা হয়েছে যে, শাস্তি আপতিত হবে ঐ ব্যক্তির উপর, যে মিথ্যারোপ করে ও (সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।

قَالَ فَمَنۡ رَّبُّكُمَا يٰمُوۡسٰى‏

ফেরাঊন বলল, কে তোমাদের প্রতিপালক হে মূসা!

قَالَ رَبُّنَا الَّذِىۡۤ اَعۡطٰـى كُلَّ شَىۡءٍ خَلۡقَهٗ ثُمَّ هَدٰى‏

মূসা বলল, আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্ত্তকে তার যথাযোগ্য আকৃতি দান করেছেন। অতঃপর তাকে পথ প্রদর্শন করেছেন।

قَالَ فَمَا بَالُ الۡقُرُوۡنِ الۡاُوۡلٰى‏

ফেরাঊন বলল, তাহ’লে বিগত যুগের লোকদের অবস্থা কি?

قَالَ عِلۡمُهَا عِنۡدَ رَبِّىۡ فِىۡ كِتٰبٍۚ لَا يَضِلُّ رَبِّىۡ وَلَا يَنۡسَى‏ 

মূসা বলল, তাদের খবর আমার প্রতিপালকের নিকট (লওহে মাহফূযে) লিপিবদ্ধ আছে। আমার প্রতিপালক ভুলে যান না এবং ভুলও করেন না।

الَّذِىۡ جَعَلَ لَـكُمُ الۡاَرۡضَ مَهۡدًا وَّسَلَكَ لَـكُمۡ فِيۡهَا سُبُلًا وَّ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًؕ فَاَخۡرَجۡنَا بِهٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡ نَّبَاتٍ شَتّٰى‏

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ করেছেন এবং তার মধ্যে তোমাদের জন্য রাস্তাসমূহ করে দিয়েছেন। আর তিনি আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন। (আল্লাহ বলেন) অতঃপর আমরা তার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।

كُلُوۡا وَارۡعَوۡا اَنۡعَامَكُمۡؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ لِّاُولِى الـنُّهٰى‏

তোমরা (তা থেকে) ভক্ষণ কর এবং (সেখানে) তোমাদের গবাদিপশু চরাও। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিবেকবানদের জন্য নিদর্শন সমূহ রয়েছে।

مِنۡهَا خَلَقۡنٰكُمۡ وَفِيۡهَا نُعِيۡدُكُمۡ وَمِنۡهَا نُخۡرِجُكُمۡ تَارَةً اُخۡرٰى‏

মাটি থেকেই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি এবং এ মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়ে নেব। অতঃপর তা থেকেই আমরা তোমাদের পুনরুত্থান ঘটাব।

وَلَـقَدۡ اَرَيۡنٰهُ اٰيٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَاَبٰى‏

আর আমরা তাকে (ফেরাঊনকে) সকল নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সে তাতে মিথ্যারোপ করে ও অস্বীকার করে।

قَالَ اَجِئۡتَنَا لِتُخۡرِجَنَا مِنۡ اَرۡضِنَا بِسِحۡرِكَ يٰمُوۡسٰى‏

সে বলল, হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ তোমার জাদু দিয়ে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেবার জন্য?

فَلَنَاۡتِيَنَّكَ بِسِحۡرٍ مِّثۡلِهٖ فَاجۡعَلۡ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكَ مَوۡعِدًا لَّا نُخۡلِفُهٗ نَحۡنُ وَلَاۤ اَنۡتَ مَكَانًـا سُوًى‏

তাহ’লে আমরাও তোমার নিকটে অনুরূপ জাদু উপস্থাপন করব। অতএব তুমি আমাদের ও তোমার মাঝে একটা দিন নির্ধারণ কর সমতল ভূমিতে, যার বরখেলাফ আমরাও করব না তুমিও করবে না।

قَالَ مَوۡعِدُكُمۡ يَوۡمُ الزِّيۡنَةِ وَاَنۡ يُّحۡشَرَ النَّاسُ ضُحًى‏

মূসা বলল, তোমাদের সাথে প্রতিশ্রুতি রইল উৎসবের দিন। যেদিন প্রথম প্রহরে লোকেরা সমবেত হবে।

فَتَوَلّٰى فِرۡعَوۡنُ فَجَمَعَ كَيۡدَهٗ ثُمَّ اَتٰى‏

অতঃপর ফেরাঊন উঠে গেল এবং তার কৌশল সমূহ একত্রিত করল। অতঃপর সে (প্রতিশ্রুত দিবসে) উপস্থিত হ’ল।

قَالَ لَهُمۡ مُّوۡسٰى وَيۡلَكُمۡ لَا تَفۡتَرُوۡا عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا فَيُسۡحِتَكُمۡ بِعَذَابٍۚ وَقَدۡ خَابَ مَنِ افۡتَرٰى‏

মূসা তাদের বলল, দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করো না। তাহ’লে তিনি তোমাদের আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিবেন। বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে, সে নিরাশ হয়।

فَتَنَازَعُوۡۤا اَمۡرَهُمۡ بَيۡنَهُمۡ وَاَسَرُّوا النَّجۡوٰى‏

অতঃপর তারা নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করল এবং গোপনে শলা-পরামর্শ করল।

قَالُوۡۤا اِنۡ هٰذٰٮنِ لَسٰحِرٰنِ يُرِيۡدٰنِ اَنۡ يُّخۡرِجٰكُمۡ مِّنۡ اَرۡضِكُمۡ بِسِحۡرِهِمَا وَيَذۡهَبَا بِطَرِيۡقَتِكُمُ الۡمُثۡلٰى‏

(অবশেষে তারা) বলল, এ দু’জন দুই জাদুকর। তারা তাদের জাদু দিয়ে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি বিনষ্ট করতে চায়।

فَاَجۡمِعُوۡا كَيۡدَكُمۡ ثُمَّ ائۡتُوۡا صَفًّاۚ وَقَدۡ اَفۡلَحَ الۡيَوۡمَ مَنِ اسۡتَعۡلٰى‏

অতএব তোমরা তোমাদের কলা-কৌশল সংহত কর। অতঃপর সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হও। নিশ্চয় সে-ই আজ সফলকাম হবে, যে বিজয়ী হবে।

قَالُوۡا يٰمُوۡسٰٓى اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِىَ وَاِمَّاۤ اَنۡ نَّكُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَلۡقٰى‏

জাদুকররা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি।

قَالَ بَلۡ اَلۡقُوۡاۚ فَاِذَا حِبَالُهُمۡ وَعِصِيُّهُمۡ يُخَيَّلُ اِلَيۡهِ مِنۡ سِحۡرِهِمۡ اَنَّهَا تَسۡعٰى‏

মূসা বলল, বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। অতঃপর তাদের জাদুর প্রভাবে তার মনে হ’ল যেন তাদের রশিগুলি ও লাঠিগুলি ছুটাছুটি করছে।

فَاَوۡجَسَ فِىۡ نَفۡسِهٖ خِيۡفَةً مُّوۡسٰى‏

এতে মূসার মনে কিছুটা ভীতির সঞ্চার হ’ল।

قُلۡنَا لَا تَخَفۡ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡاَعۡلٰى‏

আমরা বললাম, ভয় পেয়ো না। নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী।

وَاَ لۡقِ مَا فِىۡ يَمِيۡنِكَ تَلۡقَفۡ مَا صَنَعُوۡاؕ اِنَّمَا صَنَعُوۡا كَيۡدُ سٰحِرٍؕ وَلَا يُفۡلِحُ السّٰحِرُ حَيۡثُ اَتٰى‏

তোমার ডান হাতে যা আছে, তা নিক্ষেপ কর। এটা সবকিছু গ্রাস করে ফেলবে, যা তারা করেছে। তারা যা করেছে তা তো জাদুকরের কৌশল বৈ কিছু নয়। আর জাদুকর যেভাবেই আসুক তা সফল হবে না।

فَاُلۡقِىَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ هٰرُوۡنَ وَمُوۡسٰى‏ 

অতঃপর জাদুকররা সিজদায় পড়ে গেল এবং উঠে বলল, আমরা হারূণ ও মূসার রব-এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম।

قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَهٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَـكُمۡؕ اِنَّهٗ لَـكَبِيۡرُكُمُ الَّذِىۡ عَلَّمَكُمُ السِّحۡرَۚ فَلَاُقَطِّعَنَّ اَيۡدِيَكُمۡ وَاَرۡجُلَكُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّلَاُصَلِّبَـنَّكُمۡ فِىۡ جُذُوۡعِ النَّخۡلِ وَلَـتَعۡلَمُنَّ اَيُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّاَبۡقٰى‏

ফেরাঊন বলল, আমি অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তার উপর ঈমান আনলে? নিশ্চয় সেই-ই তোমাদের গুরু, যে তোমাদের জাদু শিখিয়েছে। অতএব আমি অবশ্যই তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে টুকরা টুকরা করে কাটবো এবং খেজুর গাছের কান্ড সমূহে বেঁধে শূলে চড়াব। আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার শাস্তি কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী।

قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡثِرَكَ عَلٰى مَا جَآءَنَا مِنَ الۡبَيِّنٰتِ وَالَّذِىۡ فَطَرَنَا​ فَاقۡضِ مَاۤ اَنۡتَ قَاضٍؕ اِنَّمَا تَقۡضِىۡ هٰذِهِ الۡحَيٰوةَ الدُّنۡيَاؕ

তারা বলল, আমাদের নিকট যে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসেছে তার উপর এবং আমাদের যিনি সৃষ্টি করেছেন তার উপর আমরা কখনোই আপনাকে প্রাধান্য দিব না। অতএব আপনি যা খুশী করুন। আর আপনি তো কেবল এই পার্থিব জীবনেই কিছু করবেন।

اِنَّاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَـغۡفِرَ لَـنَا خَطٰيٰنَا وَمَاۤ اَكۡرَهۡتَـنَا عَلَيۡهِ مِنَ السِّحۡرِؕ ​ وَاللّٰهُ خَيۡرٌ وَّاَبۡقٰى‏

আমরা আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি। যাতে তিনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং আপনি আমাদেরকে যে জাদু করতে বাধ্য করেছেন তা (মার্জনা করেন)। বস্ত্তত আল্লাহই শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।

اِنَّهٗ مَنۡ يَّاۡتِ رَبَّهٗ مُجۡرِمًا فَاِنَّ لَهٗ جَهَـنَّمَۚ لَا يَمُوۡتُ فِيۡهَا وَ لَا يَحۡيٰى‏

(আল্লাহ বলেন,) নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হবে অপরাধী হিসাবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।

وَمَنۡ يَّاۡتِهٖ مُؤۡمِنًا قَدۡ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓٮِٕكَ لَهُمُ الدَّرَجٰتُ الۡعُلٰىۙ

আর যে ব্যক্তি তাঁর নিকটে উপস্থিত হবে সৎকর্মশীল মুমিন হিসাবে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা সমূহ।

جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَاؕ وَذٰ لِكَ جَزَآءُ مَنۡ تَزَكّٰى‏

আর রয়েছে স্থায়ী বসবাসের জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটা কেবল তাদেরই প্রতিদান, যারা পরিশুদ্ধ হয়েছে।

وَلَقَدۡ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰى مُوۡسٰٓىۙ اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِىۡ فَاضۡرِبۡ لَهُمۡ طَرِيۡقًا فِى الۡبَحۡرِ يَبَسًاۙ لَّا تَخٰفُ دَرَكًا وَّلَا تَخۡشٰى‏

আর নিশ্চয়ই আমরা মূসার নিকট প্রত্যাদেশ করেছিলাম যে, তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতেই বেরিয়ে যাও। অতঃপর তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্যে শুষ্ক পথ অবলম্বন কর। ধরে ফেলার বা ডুবে যাবার ভয় করো না।

فَاَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُوۡدِهٖ فَغَشِيَهُمۡ مِّنَ الۡيَمِّ مَا غَشِيَهُمۡؕ ‏ 

অতঃপর ফেরাঊন তার সেনাবাহিনীসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। তখন সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করল।

وَاَضَلَّ فِرۡعَوۡنُ قَوۡمَهٗ وَمَا هَدٰى‏

বস্ত্তত ফেরাঊন তার কওমকে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সে তাদেরকে সৎপথ দেখায়নি।

يٰبَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَ قَدۡ اَنۡجَيۡنٰكُمۡ مِّنۡ عَدُوِّكُمۡ وَوٰعَدۡنٰكُمۡ جَانِبَ الطُّوۡرِ الۡاَيۡمَنَ وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكُمُ الۡمَنَّ وَالسَّلۡوٰى‏

হে ইস্রাঈল সন্তানগণ! আমরা তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করেছি এবং তূর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি। আর তোমাদের উপর মান্না ও সালওয়া নাযিল করেছি।

كُلُوۡا مِنۡ طَيِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰكُمۡ وَلَا تَطۡغَوۡا فِيۡهِ فَيَحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبِىۡۚ وَمَنۡ يَّحۡلِلۡ عَلَيۡهِ غَضَبِىۡ فَقَدۡ هَوٰى‏

(আর বলেছিলাম) তোমরা আমাদের দেওয়া পবিত্র রূযী সমূহ ভক্ষণ কর এবং এতে সীমালংঘন করো না। তাহ’লে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ অবধারিত হবে। বস্ত্তত যার উপর আমার ক্রোধ অবধারিত হয়, সে ধ্বংস হয়ে যায়।

وَاِنِّىۡ لَـغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًـا ثُمَّ اهۡتَدٰى‏ 

আর আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল ঐ ব্যক্তির প্রতি, যে তওবা করে এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। অতঃপর সৎপথে অবিচল থাকে।

وَمَاۤ اَعۡجَلَكَ عَنۡ قَوۡمِكَ يٰمُوۡسٰى‏

হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে আগে আসতে কোন্ বস্ত্ত তোমাকে ব্যস্ত করে তুলল?

قَالَ هُمۡ اُولَاۤءِ عَلٰٓى اَثَرِىۡ وَ عَجِلۡتُ اِلَيۡكَ رَبِّ لِتَرۡضٰى‏ 

সে বলল, এই তো তারা আমার পিছনেই আসছে। আর হে আমার প্রতিপালক! আমি দ্রুত তোমার কাছে চলে এলাম যাতে তুমি খুশী হও।

قَالَ فَاِنَّا قَدۡ فَتَـنَّا قَوۡمَكَ مِنۡۢ بَعۡدِكَ وَاَضَلَّهُمُ السَّامِرِىُّ‏ 

আল্লাহ বললেন, আমরা তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি তুমি চলে আসার পর। আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।

فَرَجَعَ مُوۡسَىٰۤ اِلٰى قَوۡمِهٖ غَضۡبَانَ اَسِفًاۙ قَالَ يٰقَوۡمِ اَلَمۡ يَعِدۡكُمۡ رَبُّكُمۡ وَعۡدًا حَسَنًاۙ اَفَطَالَ عَلَيۡكُمُ الۡعَهۡدُ اَمۡ اَرَدْتُّمۡ اَنۡ يَّحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ فَاَخۡلَفۡتُمۡ مَّوۡعِدِىْ‏

অতঃপর মূসা তার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল ভীষণ ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ অবস্থায়। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির সময়কাল তোমাদের নিকট দীর্ঘ হয়ে গেছে? না কি তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ অবধারিত হয়ে যাক। যে কারণে তোমরা আমার সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে?

قَالُوۡا مَاۤ اَخۡلَـفۡنَا مَوۡعِدَكَ بِمَلۡكِنَا وَلٰـكِنَّا حُمِّلۡنَاۤ اَوۡزَارًا مِّنۡ زِيۡنَةِ الۡقَوۡمِ فَقَذَفۡنٰهَا فَكَذٰلِكَ اَلۡقَى السَّامِرِىُّۙ

তারা বলল, আমরা আপনার নিকট কৃত অঙ্গীকার স্বেচছায় ভঙ্গ করিনি। কিন্তু আমাদের উপর কওমের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর আমরা তা (আগুনে) নিক্ষেপ করি। এমনিভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করে।

فَاَخۡرَجَ لَهُمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ فَقَالُوۡا هٰذَاۤ اِلٰهُكُمۡ وَاِلٰهُ مُوۡسٰى  فَنَسِىَ‏

অতঃপর সে তাদের জন্য (সেখান থেকে) একটা গো-বৎসের দেহ বের করে আনে, যাতে গরুর ডাকের মত একটা শব্দ ছিল। অতঃপর তারা বলল, এটি তোমাদের উপাস্য এবং মূসার উপাস্য। যা তিনি পরে ভুলে গেছেন।

اَفَلَا يَرَوۡنَ اَلَّا يَرۡجِعُ اِلَيۡهِمۡ قَوۡلًاۙ وَّلَا يَمۡلِكُ لَهُمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا‏

(আল্লাহ বলেন,) তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন কথার উত্তর দেয় না এবং তাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না।

وَلَـقَدۡ قَالَ لَهُمۡ هٰرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلُ يٰقَوۡمِ اِنَّمَا فُتِنۡتُمۡ بِهٖۚ وَاِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحۡمٰنُ فَاتَّبِعُوۡنِىۡ وَاَطِيۡعُوۡۤا اَمۡرِىْ‏

অবশ্য হারূণ তাদের আগেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! এর দ্বারা তোমরা একটা পরীক্ষায় পতিত হয়েছ। তোমাদের প্রতিপালক দয়াময়। অতএব তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল।

قَالُوۡا لَنۡ نَّبۡرَحَ عَلَيۡهِ عٰكِفِيۡنَ حَتّٰى يَرۡجِعَ اِلَيۡنَا مُوۡسٰى‏ 

তারা বলল, মূসা আমাদের নিকট. ২ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এর পূজাতেই লেগে থাকব।

قَالَ يٰهٰرُوۡنُ مَا مَنَعَكَ اِذۡ رَاَيۡتَهُمۡ ضَلُّوۡٓاۙ

(অতঃপর ফিরে এসে) মূসা বলল, হে হারূণ! তুমি যখন এদের পথভ্রষ্ট হ’তে দেখলে, তখন কোন বস্ত্ত তোমাকে বাধা দিয়েছিল-

اَلَّا تَتَّبِعَنِؕ اَفَعَصَيۡتَ اَمۡرِىْ‏

যে তুমি আমার অনুসরণ করলে না? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করেছ?

قَالَ يَابۡنَؤُمَّ لَا تَاۡخُذۡ بِلِحۡيَتِىۡ وَلَا بِرَاۡسِىۡۚ اِنِّىۡ خَشِيۡتُ اَنۡ تَقُوۡلَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِىْ‏ 

হারূণ বলল, হে আমার সহোদর ভাই! আমার দাড়ি ও মাথা ধরে টেনো না। আমি ভয় পেয়েছিলাম তুমি এসে বলবে যে, তুমি বনু ইস্রাঈলদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করোনি।

قَالَ فَمَا خَطۡبُكَ يٰسَامِرِىُّ‏

মূসা বলল, হে সামেরী! বল তোমার কৈফিয়ত কি!

قَالَ بَصُرۡتُ بِمَا لَمۡ يَـبۡصُرُوۡا بِهٖ فَقَبَـضۡتُ قَبۡضَةً مِّنۡ اَثَرِ الرَّسُوۡلِ فَنَبَذۡتُهَا وَكَذٰلِكَ سَوَّلَتۡ لِىۡ نَفۡسِى‏

সে বলল, আমি দেখেছিলাম যা অন্যেরা দেখেনি। ফলে আমি সেই প্রেরিত দূতের পদচিহ্ন স্থল হ’তে এক মুষ্টি মাটি নিয়েছিলাম। অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ করেছিলাম। আর আমার মন আমাকে এইরূপ কুমন্ত্রণা দিয়েছিল।

قَالَ فَاذۡهَبۡ فَاِنَّ لَـكَ فِى الۡحَيٰوةِ اَنۡ تَقُوۡلَ لَا مِسَاسَ​ وَاِنَّ لَـكَ مَوۡعِدًا لَّنۡ تُخۡلَفَهٗۚ وَانْظُرۡ اِلٰٓى اِلٰهِكَ الَّذِىۡ ظَلۡتَ عَلَيۡهِ عَاكِفًاؕ لَّـنُحَرِّقَنَّهٗ ثُمَّ لَـنَنۡسِفَنَّهٗ فِى الۡيَمِّ نَسۡفًا‏

মূসা বলল, দূর হও! তোমার জন্য সারা জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুমি বলবে, ‘আমি অস্পৃশ্য’। আর তোমার জন্য রইল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ। যার ব্যতিক্রম হবে না। তুমি তোমার সেই উপাস্যের (গো-বৎসের) প্রতি লক্ষ্য কর যাকে নিয়ে তুমি থাকতে। আমরা সেটিকে জ্বালিয়ে দেবই। অতঃপর ওটাকে ভস্ম করে সাগরে ছড়িয়ে দেবই।

اِنَّمَاۤ اِلٰهُكُمُ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰـهَ اِلَّا هُوَؕ وَسِعَ كُلَّ شَىۡءٍ عِلۡمًا‏

তোমাদের উপাস্য কেবলমাত্র আল্লাহ। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁর জ্ঞান সকল বিষয়ে পরিব্যপ্ত।

كَذٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ اَنْۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَۚ وَقَدۡ اٰتَيۡنٰكَ مِنۡ لَّدُنَّا ذِكۡرًاۖ ۚ

এভাবে আমরা অতীত কিছু বৃত্তান্ততোমাকে বর্ণনা করলাম। আর আমরা আমাদের পক্ষ হ’তে তোমাকে দান করেছি কুরআন।

مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡهُ فَاِنَّهٗ يَحۡمِلُ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ وِزۡرًاۙ

এটা থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে ক্বিয়ামতের দিন (কঠিন পাপের) বোঝা বহন করবে।

خٰلِدِيۡنَ فِيۡهِؕ وَسَآءَ لَهُمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ حِمۡلًاۙ

(দুনিয়াতে) ঐ পাপের মধ্যে তারা চিরকাল থাকবে। আর ক্বিয়ামতের দিন ঐ পাপের বোঝা তাদের জন্য ডেকে আনবে কতই না মন্দ পরিণতি!

يَّوۡمَ يُنۡفَخُ فِى الصُّوۡرِ​ وَنَحۡشُرُ الۡمُجۡرِمِيۡنَ يَوۡمَٮِٕذٍ زُرۡقًاۖۚ

যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন আমরা অপরাধীদের সমবেত করব নীলচক্ষু (দৃষ্টিহীন) অবস্থায়।

يَّتَخَافَـتُوۡنَ بَيۡنَهُمۡ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا عَشۡرًا‏

তারা (সেদিন) নিজেদের মধ্যে চুপে চুপে বলাবলি করবে, দুনিয়ায় তোমরা দশ দিন মাত্র অবস্থান করেছিলে।

نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا يَقُوۡلُوۡنَ اِذۡ يَقُوۡلُ اَمۡثَلُهُمۡ طَرِيۡقَةً اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا يَوۡمًا‏

(অথচ) আমরা ভালভাবেই জানি যখন তাদের জ্ঞানী ব্যক্তিটি বলবে, তোমরা (দুনিয়ায়) একদিনের বেশী অবস্থান করোনি।

وَيَسۡـــَٔلُوۡنَكَ عَنِ الۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنۡسِفُهَا رَبِّىۡ نَسۡفًاۙ ‏ 

আর তারা তোমাকে (ক্বিয়ামতের দিন) পাহাড় সমূহের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তুমি বল, আমার প্রতিপালক ওগুলি সমূলে উৎপাটিত করে (ধূলির মত) উড়িয়ে দিবেন।

فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفۡصَفًاۙ

অতঃপর তিনি পৃথিবীকে সমতল ভূমিতে পরিণত করবেন।

لَّا تَرٰى فِيۡهَا عِوَجًا وَّلَاۤ اَمۡتًاؕ

যেখানে তুমি কোনরূপ বক্রতা বা উচ্চতা (অর্থাৎ উঁচু-নীচু) দেখতে পাবে না।

يَوۡمَٮِٕذٍ يَّتَّبِعُوۡنَ الدَّاعِىَ لَا عِوَجَ لَهٗؕ وَخَشَعَتِ الۡاَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ اِلَّا هَمۡسًا‏

সেদিন তারা একজন আহবানকারীর (ইস্রাফীলের ফুঁকের) অনুসরণ করবে। যার অনুসরণ থেকে ডাইনে-বামে যাবার উপায় থাকবে না। দয়াময়ের সামনে সেদিন সমস্ত কলরব স্তব্ধ হয়ে যাবে। কেবল মৃদু শব্দ ব্যতীত তুমি কিছুই শুনতে পাবে না।

يَوۡمَٮِٕذٍ لَّا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَةُ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَـهُ الرَّحۡمٰنُ وَرَضِىَ لَـهٗ قَوۡلًا‏

সেদিন কারু সুফারিশ কোন কাজে আসবে না। দয়াময় যাকে অনুমতি দিবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, সে ব্যতীত।

يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِهٖ عِلۡمًا‏

তিনি তাদের অগ্র-প্রশ্চাৎ সবই জানেন। আর তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না।

وَعَنَتِ الۡوُجُوۡهُ لِلۡحَىِّ الۡقَيُّوۡمِؕ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمًا‏ 

আর চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক মহান সত্তার সম্মুখে (সেদিন) সকল চেহারা হবে অবনমিত। আর নিরাশ হবে যে ব্যক্তি যুলুমের বোঝা বহন করবে।

وَمَنۡ يَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَهُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا يَخٰفُ ظُلۡمًا وَّلَا هَضۡمًا‏

তবে যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, সে ব্যক্তি ঐদিন কোনরূপ অবিচার বা ক্ষতির ভয় করবে না।

وَكَذٰلِكَ اَنۡزَلۡنٰهُ قُرۡاٰنًا عَرَبِيًّا وَّ صَرَّفۡنَا فِيۡهِ مِنَ الۡوَعِيۡدِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُوۡنَ اَوۡ يُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرًا‏

আর এভাবেই আমরা আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং তাতে বিশদভাবে সতর্কবাণী বিবৃত করেছি, যাতে তারা সংযত হয় অথবা তাদের জন্য এটা উপদেশ হয়।

فَتَعٰلَى اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَـقُّۚ وَلَا تَعۡجَلۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ يُّقۡضٰٓى اِلَيۡكَ وَحۡيُهٗ​ وَقُلْ رَّبِّ زِدۡنِىۡ عِلۡمًا‏

অতএব আল্লাহ সর্বোচ্চ, তিনিই যথার্থ মালিক। আর তোমার প্রতি তাঁর অহি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি কুরআন মুখস্ত করার ব্যাপারে ব্যস্ততা প্রদর্শন করো না। আর বল, হে প্রভু! তুমি আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।

وَلَـقَدۡ عَهِدۡنَاۤ اِلٰٓى اٰدَمَ مِنۡ قَبۡلُ فَنَسِىَ وَلَمۡ نَجِدۡ لَهٗ عَزۡمًا‏

আর আমরা ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু সে তা ভুলে গেল এবং আমরা তার মধ্যে (সংকল্পের) দৃঢ়তা পাইনি।

وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓٮِٕكَةِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِيۡسَؕ اَبٰى‏

যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম তোমরা আদমকে সিজদা কর, তখন তারা সিজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে অস্বীকার করল।

فَقُلۡنَا يٰۤاٰدَمُ اِنَّ هٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوۡجِكَ فَلَا يُخۡرِجَنَّكُمَا مِنَ الۡجَـنَّةِ فَتَشۡقٰى‏

অতঃপর আমরা বললাম, হে আদম! এটি তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। অতএব সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের না করে দেয়। তাহ’লে তুমি কষ্টে পতিত হবে।

اِنَّ لَـكَ اَلَّا تَجُوۡعَ فِيۡهَا وَلَا تَعۡرٰىۙ

নিশ্চয়ই তোমার জন্য এটাই বিধান রইল যে, তুমি এখানে ক্ষুধার্ত হবেনা বা নগ্ন হবেনা।

وَاَنَّكَ لَا تَظۡمَؤُا فِيۡهَا وَلَا تَضۡحٰى‏

আর তুমি এখানে তৃষ্ণার্ত হবেনা বা রৌদ্র তাপ ভোগ করবেনা।

فَوَسۡوَسَ اِلَيۡهِ الشَّيۡطٰنُ قَالَ يٰۤاٰدَمُ هَلۡ اَدُلُّكَ عَلٰى شَجَرَةِ الۡخُلۡدِ وَمُلۡكٍ لَّا يَبۡلٰى‏

অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল। সে বলল, হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেব অনন্ত জীবন দানকারী এক বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর এক রাজত্বের কথা?

فَاَكَلَا مِنۡهَا فَبَدَتۡ لَهُمَا سَوۡاٰ تُہُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفٰنِ عَلَيۡهِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَـنَّةِ​ وَعَصٰۤى اٰدَمُ رَبَّهٗ فَغَوٰىۖ ‏

অতঃপর তারা উভয়ে উক্ত বৃক্ষের (ফল) ভক্ষণ করল। ফলে তাদের গুপ্তাঙ্গ প্রকাশিত হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষপত্রসমূহ দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগলো। এভাবে আদম (ভুলক্রমে) তার প্রতিপালকের নাফরমানী করল এবং পথ হারাল।

ثُمَّ اجۡتَبٰهُ رَبُّهٗ فَتَابَ عَلَيۡهِ وَهَدٰى‏

অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন। তার তওবা কবুল করলেন এবং তাকে সুপথ প্রদর্শন করলেন।

قَالَ اهۡبِطَا مِنۡهَا جَمِيۡعًا​ۢ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّۚ فَاِمَّا يَاۡتِيَنَّكُمۡ مِّنِّىۡ هُدًىۙ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَاىَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشۡقٰى‏ 

তিনি বললেন, তোমরা উভয়ে জান্নাত থেকে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যখন তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে হেদায়াত আসবে, তখন যে আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে, সে (দুনিয়াতে) পথভ্রষ্ট হবে না এবং (আখেরাতে) কষ্টে পতিত হবে না।

وَمَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِكۡرِىۡ فَاِنَّ لَـهٗ مَعِيۡشَةً ضَنۡكًا وَّنَحۡشُرُهٗ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ اَعۡمٰى‏

আর যে ব্যক্তি আমার কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তার জীবিকা হবে সংকুচিত এবং ক্বিয়ামতের দিন আমরা তাকে উঠাব অন্ধ অবস্থায়।

قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِىۡۤ اَعۡمٰى وَقَدۡ كُنۡتُ بَصِيۡرًا‏

সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেন তুমি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে? অথচ আমি তো (দুনিয়াতে) ছিলাম চক্ষুষ্মান।

قَالَ كَذٰلِكَ اَتَـتۡكَ اٰيٰتُنَا فَنَسِيۡتَهَاۚ وَكَذٰلِكَ الۡيَوۡمَ تُنۡسٰى‏ 

আল্লাহ বলবেন, এটাই তো বিধান। তোমার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ এসেছিল। অতঃপর তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আর সেভাবেই তুমি আজ উপেক্ষিত হ’লে।

وَكَذٰلِكَ نَجزِىۡ مَنۡ اَسۡرَفَ وَلَمۡ يُؤۡمِنۡۢ بِاٰيٰتِ رَبِّهٖؕ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَةِ اَشَدُّ وَاَبۡقٰى‏

আর এভাবেই আমরা তাকে প্রতিফল দেব, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার প্রতিপালকের আয়াত সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেনা। নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি অতীব কঠোর ও সর্বাধিক স্থায়ী।

اَفَلَمۡ يَهۡدِ لَهُمۡ كَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ يَمۡشُوۡنَ فِىۡ مَسٰكِنِهِمۡؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ لِّاُولِى النُّهٰى‏

এটা কি তাদের পথ দেখালো না যে, তাদের পূর্বেকার বহু যুগ-সম্প্রদায়কে আমরা ধ্বংস করেছি। যাদের আবাসভূমি গুলিতে এরা বিচরণ করে। নিশ্চয়ই এতে বিবেকবানদের জন্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে।

وَلَوۡلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّكَ لَــكَانَ لِزَامًا وَّاَجَلٌ مُّسَمًّىؕ ‏ 

যদি তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে একটা পূর্ব সিদ্ধান্ত এবং নির্দিষ্ট মেয়াদকাল না থাকত, তাহ’লে এদের উপর শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে যেত।

فَاصۡبِرۡ عَلٰى مَا يَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ غُرُوۡبِهَاۚ وَمِنۡ اٰنَآىٴِ الَّيۡلِ فَسَبِّحۡ وَاَطۡرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرۡضٰى‏

অতএব এরা যা কিছু বলে, তাতে ধৈর্যধারণ কর এবং তোমার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে। আর পবিত্রতা বর্ণনা কর রাত্রিকালে ও দিবসের প্রান্তসমূহে। সম্ভবত তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।

وَلَا تَمُدَّنَّ عَيۡنَيۡكَ اِلٰى مَا مَتَّعۡنَا بِهٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡهُمۡ زَهۡرَةَ الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاۙ لِنَفۡتِنَهُمۡ فِيۡهِؕ وَرِزۡقُ رَبِّكَ خَيۡرٌ وَّاَبۡقٰى‏

আর তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করো না ঐ সবের প্রতি, যা আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীর লোককে ভোগ্যবস্ত্ত রূপে দান করেছি পার্থিব জীবনের জাঁকজমক স্বরূপ। যাতে আমরা এর মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা নিতে পারি। বস্ত্তত তোমার প্রতিপালকের দেওয়া (আখেরাতের) রিযিক অধিক উত্তম ও সর্বাধিক স্থায়ী।

وَاۡمُرۡ اَهۡلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَاصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَاؕ لَا نَسۡـــَٔلُكَ رِزۡقًاؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُكَؕ وَالۡعَاقِبَةُ لِلتَّقۡوٰى‏

আর তুমি তোমার পরিবারকে ছালাতের আদেশ দাও এবং তুমি এর উপর অবিচল থাক। আমরা তোমার নিকট রূযী চাই না। আমরাই তোমাকে রূযী দিয়ে থাকি। আর (জান্নাতের) শুভ পরিণাম তো কেবল মুত্তাক্বীদের জন্যই নির্ধারিত।

وَقَالُوۡا لَوۡلَا يَاۡتِيۡنَا بِاٰيَةٍ مِّنۡ رَّبِّهٖؕ اَوَلَمۡ تَاۡتِہِمۡ بَيِّنَةُ مَا فِى الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰى‏

তারা বলে, সে আমাদের কাছে তার প্রতিপালকের নিকট থেকে কোন নিদর্শন কেন নিয়ে আসে না? অথচ তাদের নিকটে কি (কুরআনের) প্রমাণ আসেনি যা পূর্ববর্তী কিতাব সমূহে রয়েছে?

وَلَوۡ اَنَّاۤ اَهۡلَكۡنٰهُمۡ بِعَذَابٍ مِّنۡ قَبۡلِهٖ لَـقَالُوۡا رَبَّنَا لَوۡلَاۤ اَرۡسَلۡتَ اِلَـيۡنَا رَسُوۡلًا فَنَتَّبِعَ اٰيٰتِكَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّذِلَّ وَنَخۡزٰى‏

যদি আমরা এদেরকে ইতিপূর্বে কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তাহ’লে এরা বলত, হে আমাদের প্রতিপালক! কেন তুমি আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠালে না? তাতে আমরা (আজকে) লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার আগেই (দুনিয়াতে) তোমার আয়াতসমূহ মেনে চলতাম!

قُلۡ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوۡاۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَصۡحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِىِّ وَمَنِ اهۡتَدٰى‏

বলে দাও, প্রত্যেকেই অপেক্ষারত। তোমরাও অপেক্ষা কর। অতঃপর শীঘ্র তোমরা জানতে পারবে কারা সরল পথের অনুসারী এবং কারা সুপথপ্রাপ্ত।