২৩

সূরাঃ মুমিনূন (ঈমানদারগণ)

মাক্কীমোট আয়াত ১১৮ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَۙ

নিশ্চয়ই সফলকাম হবে মুমিনগণ।

الَّذِيۡنَ هُمۡ فِىۡ صَلَاتِهِمۡ خَاشِعُوۡنَۙ

যারা তাদের ছালাতে মনোযোগী।

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَۙ

যারা অনর্থক কাজ হ’তে বিরত।

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِلزَّكٰوةِ فَاعِلُوۡنَۙ

যারা যাকাত আদায়ে সচেষ্ট।

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِفُرُوۡجِهِمۡ حٰفِظُوۡنَۙ

যারা তাদের যৌনাঙ্গ ব্যবহারে সংযত।

اِلَّا عَلٰٓى اَزۡوَاجِهِمۡ اَوۡ مَا مَلَـكَتۡ اَيۡمَانُهُمۡ فَاِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُوۡمِيۡنَۚ

তবে তাদের স্ত্রীগণ ও মালিকানাধীন দাসীরা ব্যতীত। কেননা এতে তারা হবে না নিন্দিত।

فَمَنِ ابۡتَغٰى وَرَآءَ ذٰ لِكَ فَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡعٰدُوۡنَۚ

অতঃপর যারা কামনা করবে এদের বাইরে কাউকে, তারা হবে সীমালংঘনকারী।

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِاَمٰنٰتِهِمۡ وَعَهۡدِهِمۡ رَاعُوۡنَۙ

আর যারা তাদের আমানত সমূহ এবং অঙ্গীকার সমূহ রক্ষায় সচেষ্ট-

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ عَلٰى صَلَوٰتِهِمۡ يُحَافِظُوۡنَۘ

এবং যারা তাদের ছালাত সমূহের হেফাযতকারী।

اُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡوَارِثُوۡنَۙ

তারাই হবে উত্তরাধিকারী।

الَّذِيۡنَ يَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَؕ هُمۡ فِيۡهَا خٰلِدُوۡنَ‏

যারা উত্তরাধিকারী হবে জান্নাতুল ফেরদৌসের। যেখানে তারা থাকবে চিরকাল।

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ سُلٰلَةٍ مِّنۡ طِيۡنٍۚ

নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির নির্যাস থেকে।

ثُمَّ جَعَلۡنٰهُ نُطۡفَةً فِىۡ قَرَارٍ مَّكِيۡنٍ‏

অতঃপর আমরা তাকে (পিতা-মাতার মিশ্রিত) জনন কোষরূপে (মায়ের গর্ভে) নিরাপদ আধারে সংরক্ষণ করি।

ثُمَّ خَلَقۡنَا النُّطۡفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقۡنَا الۡعَلَقَةَ مُضۡغَةً فَخَلَقۡنَا الۡمُضۡغَةَ عِظٰمًا فَكَسَوۡنَا الۡعِظٰمَ لَحۡمًا ثُمَّ اَنۡشَاۡنٰهُ خَلۡقًا اٰخَرَؕ فَتَبٰـرَكَ اللّٰهُ اَحۡسَنُ الۡخٰلِقِيۡنَؕ

অতঃপর উক্ত জননকোষকে আমরা পরিণত করি জমাট রক্তে। তারপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে। অতঃপর মাংসপিন্ডকে অস্থিতে। অতঃপর অস্থিসমূহকে ঢেকে দেই মাংস দিয়ে। অতঃপর আমরা ওকে একটি নতুন সৃষ্টিরূপে পয়দা করি। অতএব বরকতময় আল্লাহ কতই না সুন্দর সৃষ্টিকারী!

ثُمَّ اِنَّكُمۡ بَعۡدَ ذٰلِكَ لَمَيِّتُوۡنَؕ

এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে।

ثُمَّ اِنَّكُمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ تُبۡعَثُوۡنَ‏

অতঃপর তোমরা ক্বিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে।

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا فَوۡقَكُمۡ سَبۡعَ طَرَآٮِٕقَۖ  وَمَا كُنَّا عَنِ الۡخَـلۡقِ غٰفِلِيۡنَ‏

আর আমরা তোমাদের উপরে সৃষ্টি করেছি সপ্ত আকাশ। বস্ত্তত আমরা সৃষ্টির ব্যাপারে আদৌ উদাসীন নই।

وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡكَنّٰهُ فِى الۡاَرۡضِۖ  وَاِنَّا عَلٰى ذَهَابٍۢ بِهٖ لَقٰدِرُوۡنَۚ

আর আমরা আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করি পরিমাণমত। অতঃপর তা যমীনে সঞ্চিত করি। আর আমরা ওটাকে সরিয়ে নিতেও সক্ষম।

فَاَنۡشَاۡنَا لَـكُمۡ بِهٖ جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِيۡلٍ وَّ اَعۡنَابٍۘ لَـكُمۡ فِيۡهَا فَوَاكِهُ كَثِيۡرَةٌ وَّمِنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَۙ

অতঃপর তা দিয়ে আমরা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি। তোমাদের জন্য সেখানে থাকে প্রচুর ফল-ফলাদি এবং তোমরা তা থেকে ভক্ষণ করে থাক।

وَشَجَرَةً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَيۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّهۡنِ وَصِبۡغٍ لِّلۡاٰكِلِيۡنَ‏

আর আমরা সৃষ্টি করেছি বৃক্ষ। যা সিনাই পর্বতে জন্মায়। যা থেকে উৎপন্ন হয় ‘তৈল’ এবং ভক্ষণকারীদের জন্য খাদ্য।

وَ اِنَّ لَـكُمۡ فِى الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَةًؕ نُسۡقِيۡكُمۡ مِّمَّا فِىۡ بُطُوۡنِهَا وَلَـكُمۡ فِيۡهَا مَنَافِعُ كَثِيۡرَةٌ وَّمِنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَۙ

আর তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় রয়েছে গবাদিপশু সমূহের মধ্যে। আমরা তোমাদেরকে ওদের পেটে যা আছে, তা থেকে পান করাই। আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে রয়েছে বহু উপকারিতা এবং তোমরা তাদের থেকে ভক্ষণ করে থাক।

وَعَلَيۡهَا وَعَلَى الۡـفُلۡكِ تُحۡمَلُوۡنَ‏

আর তাদের পিঠে ও নৌযানে তোমরা আরোহণ করে থাক।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰى قَوۡمِهٖ فَقَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ‏

আমরা নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। এরপরেও কি তোমরা সতর্ক হবে না?

فَقَالَ الۡمَلَؤُا الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُكُمۡۙ يُرِيۡدُ اَنۡ يَّـتَفَضَّلَ عَلَيۡكُمۡؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰهُ لَاَنۡزَلَ مَلٰٓٮِٕكَةًۖۚ مَّا سَمِعۡنَا بِهٰذَا فِىۡۤ اٰبَآٮِٕنَا الۡاَوَّلِيۡنَۚ

জবাবে তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী নেতারা বলেছিল, এ ব্যক্তি তোমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত নয়। সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়। যদি আল্লাহ (নবী পাঠাতে) চাইতেন, তাহ’লে ফেরেশতা নাযিল করতেন। আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ খবর তো আমরা কখনো শুনিনি।

اِنۡ هُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِهٖ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوۡا بِهٖ حَتّٰى حِيۡنٍ‏

এ লোকটা পাগল ছাড়া কিছু নয়। অতএব তার ব্যাপারে তোমরা কিছু দিন অপেক্ষা কর।

قَالَ رَبِّ انْصُرۡنِىۡ بِمَا كَذَّبُوۡنِ‏

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর। কেননা এরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।

فَاَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡهِ اَنِ اصۡنَعِ الۡفُلۡكَ بِاَعۡيُنِنَا وَ وَحۡيِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّـنُّوۡرُۙ فَاسۡلُكۡ فِيۡهَا مِنۡ كُلٍّ زَوۡجَيۡنِ اثۡنَيۡنِ وَاَهۡلَكَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَيۡهِ الۡقَوۡلُ مِنۡهُمۡۚ وَلَا تُخَاطِبۡنِىۡ فِى الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡاۚ اِنَّهُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ‏

অতঃপর আমরা তার নিকটে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি আমাদের সম্মুখে ও আমাদের নির্দেশনা মতে নৌকা তৈরী কর। অতঃপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে যাবে ও চুলা উথলে উঠবে, তখন তুমি নৌকায় তুলে নিবে প্রত্যেক প্রাণীর এক এক জোড়া (নর ও মাদী) এবং তোমার পরিবারবর্গকে। তবে তাদের মধ্যে যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তারা ব্যতীত। আর তুমি যালেমদের বিষয়ে আমাকে কিছু বলোনা। ওদের ডুবিয়ে মারা হবে।

فَاِذَا اسۡتَوَيۡتَ اَنۡتَ وَمَنۡ مَّعَكَ عَلَى الۡـفُلۡكِ فَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ نَجّٰٮنَا مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ‏

অতঃপর যখন তুমি ও তোমার সাথীরা নৌকায় আরোহণ করবে তখন বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদেরকে যালেম সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

وَقُلْ رَّبِّ اَنۡزِلۡنِىۡ مُنۡزَلًا مُّبٰـرَكًا وَّاَنۡتَ خَيۡرُ الۡمُنۡزِلِيۡنَ‏ 

আরও বলবে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একটি বরকতমন্ডিত স্থানে অবতরণ করাও। আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।

اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيٰتٍ وَّاِنۡ كُنَّا لَمُبۡتَلِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই উক্ত ঘটনায় নির্দশন সমূহ রয়েছে। আর আমরা তো পরীক্ষাকারী মাত্র।

ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ قَرۡنًا اٰخَرِيۡنَۚ

অতঃপর আমরা তাদের পরে অন্য এক যুগ-সম্প্রদায়কে (‘আদ কওমকে) সৃষ্টি করলাম।

فَاَرۡسَلۡنَا فِيۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ‏

অতঃপর তাদের মধ্যকার একজনকে আমরা তাদের মধ্যে রাসূলরূপে প্রেরণ করলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন উপাস্য নেই। তবুও কি তোমরা সতর্ক হবে না?

وَقَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِهِ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا وَكَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ الۡاٰخِرَةِ وَاَتۡرَفۡنٰهُمۡ فِى الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاۙ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُكُمۡۙ يَاۡكُلُ مِمَّا تَاۡكُلُوۡنَ مِنۡهُ وَيَشۡرَبُ مِمَّا تَشۡرَبُوۡنَۙ

তার সম্প্রদায়ের নেতারা যারা অবিশ্বাসী ছিল ও আখেরাতে আল্লাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমরা পার্থিব জীবনে সুখ-সম্ভার দিয়েছিলাম, তারা বলল, এ ব্যক্তি তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায়। তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে।

وَلَٮِٕنۡ اَطَعۡتُمۡ بَشَرًا مِّثۡلَـكُمۡ اِنَّكُمۡ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَۙ ‏ 

তোমরা যদি তোমাদেরই মত একজন মানুষের অনুসারী হও, তাহ’লে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

اَيَعِدُكُمۡ اَنَّكُمۡ اِذَا مِتُّمۡ وَكُنۡتُمۡ تُرَابًا وَّعِظَامًا اَنَّكُمۡ مُّخۡرَجُوۡنَۙ

সে কি তোমাদের এই প্রতিশ্রুতি শুনায় যে, তোমরা মরে মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাবে, আবার তোমরা পুনরুত্থিত হবে?

هَيۡهَاتَ هَيۡهَاتَ لِمَا تُوۡعَدُوۡنَۙ

হায়! হায়! কি প্রতিশ্রুতিই না তোমাদের দেওয়া হয়!

اِنۡ هِىَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنۡيَا نَمُوۡتُ وَنَحۡيَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِيۡنَۙ

পার্থিব জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। এখানেই আমরা মরি ও বাঁচি। আর আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবো না।

اِنۡ هُوَ اِلَّا رَجُلُ اۨفۡتَـرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا وَّمَا نَحۡنُ لَهٗ بِمُؤۡمِنِيۡنَ‏

ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করছে মাত্র। আর আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।

قَالَ رَبِّ انْصُرۡنِىۡ بِمَا كَذَّبُوۡنِ‏

সে (হূদ) বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর। কেননা এরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।

قَالَ عَمَّا قَلِيۡلٍ لَّيُصۡبِحُنَّ نٰدِمِيۡنَۚ

আল্লাহ বললেন, অচিরেই তারা লজ্জিত হবে।

فَاَخَذَتۡهُمُ الصَّيۡحَةُ بِالۡحَـقِّ فَجَعَلۡنٰهُمۡ غُثَآءًۚ فَبُعۡدًا لِّـلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ‏

অতঃপর যথার্থভাবেই এক ভয়ংকর নিনাদ তাদেরকে পাকড়াও করল। ফলে আমরা তাদেরকে বর্জ্যে পরিণত করে দিলাম। অতএব ধ্বংস হৌক যালেম সম্প্রদায়!

ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ قُرُوۡنًا اٰخَرِيۡنَؕ

অতঃপর তাদের পরে আমরা বহু যুগ- সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছি।

مَا تَسۡبِقُ مِنۡ اُمَّةٍ اَجَلَهَا وَمَا يَسۡتَـاۡخِرُوۡنَؕ

কোন জাতিই তার জন্য নির্ধারিত সময়কালের আগেও বাড়তে পারবে না এবং পিছেও থাকতে পারবে না।

ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا تَتۡـرَاؕ كُلَّ مَا جَآءَ اُمَّةً رَّسُوۡلُهَا كَذَّبُوۡهُ​ فَاَتۡبَـعۡنَا بَعۡـضَهُمۡ بَعۡـضًا وَّجَعَلۡنٰهُمۡ اَحَادِيۡثَۚ فَبُـعۡدًا لِّـقَوۡمٍ لَّا يُؤۡمِنُوۡنَ‏

অতঃপর আমরা আমাদের রাসূলদের প্রেরণ করেছি ধারাবাহিকভাবে। যখনই কোন উম্মতের নিকট তাদের রাসূল আগমন করেছে, তখনই তাদের (অধিকাংশ) তাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। ফলে আমরা তাদেরকে একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীতে পরিণত করেছি। অতএব ধ্বংস হৌক অবিশ্বাসী সম্প্রদায়!

ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰى وَاَخَاهُ هٰرُوۡنَۙ بِاٰيٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِيۡنٍۙ ‏ 

অতঃপর আমরা মূসা ও তার ভাই হারূণকে পাঠালাম আমাদের নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ-

اِلٰى فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۟ٮِٕهٖ فَاسۡتَكۡبَرُوۡا وَكَانُوۡا قَوۡمًا عٰلِيۡنَۚ

ফেরাঊন ও তার সভাসদগণের নিকট। কিন্তু তারা অহংকার করল। বস্ত্তত তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।

فَقَالُـوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لِبَشَرَيۡنِ مِثۡلِنَا وَقَوۡمُهُمَا لَـنَا عٰبِدُوۡنَۚ ‏ 

তারা বলল, আমরা কি আমাদের মত দু’ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব? অথচ তাদের সম্প্রদায় (বনু ইস্রাঈল) আমাদের দাসত্ব করে।

فَكَذَّبُوۡهُمَا فَكَانُوۡا مِنَ الۡمُهۡلَـكِيۡنَ‏

অতঃপর তারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল, ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হ’ল।

وَلَـقَدۡ اٰتَيۡنَا مُوۡسَى الۡـكِتٰبَ لَعَلَّهُمۡ يَهۡتَدُوۡنَ‏

আর নিশ্চয়ই আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়।

وَجَعَلۡنَا ابۡنَ مَرۡيَمَ وَاُمَّهٗۤ اٰيَةً وَّاٰوَيۡنٰهُمَاۤ اِلٰى رَبۡوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَّمَعِيۡنٍ‏

আর আমরা মারিয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন স্বরূপ করেছিলাম এবং তাদেরকে একটি বৃক্ষশোভিত ও স্বচ্ছ পানির প্রবাহ বিশিষ্ট সমতল টিলায় (বায়তুল মুক্বাদ্দাসে) আশ্রয় দিয়েছিলাম।

يٰۤـاَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوۡا مِنَ الطَّيِّبٰتِ وَاعۡمَلُوْا صَالِحًـاؕ اِنِّىۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِيۡمٌؕ

হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত হ’তে ভক্ষণ কর এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সবই আমি অবগত।

وَاِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمۡ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّاَنَا رَبُّكُمۡ فَاتَّقُوۡنِ‏ 

আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই দ্বীন একই দ্বীন এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক। অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।

فَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَهُمۡ بَيۡنَهُمۡ زُبُرًاؕ كُلُّ حِزۡبٍۢ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُوۡنَ‏

কিন্তু তারা তাদের দ্বীনকে বহু ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। আর প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে, তাই নিয়ে আনন্দিত।

فَذَرۡهُمۡ فِىۡ غَمۡرَتِهِمۡ حَتّٰى حِيۡنٍ‏

অতএব ওদেরকে ভ্রষ্টতার অন্ধকারে ডুবে থাকতে দাও অবধারিত সময়কাল পর্যন্ত।

اَيَحۡسَبُوۡنَ اَنَّمَا نُمِدُّهُمۡ بِهٖ مِنۡ مَّالٍ وَّبَنِيۡنَۙ

তারা কি ধারণা করে যে, আমরা তাদেরকে সাহায্য করছি ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে-

نُسَارِعُ لَهُمۡ فِى الۡخَيۡـرٰتِؕ بَلْ لَّا يَشۡعُرُوۡنَ‏

এবং (এর দ্বারা) তাদেরকে দ্রুত নিয়ে যাচ্ছি কল্যাণ সমূহের দিকে? বরং ওরা বুঝতে পারেনা।

اِنَّ الَّذِيۡنَ هُمۡ مِّنۡ خَشۡيَةِ رَبِّهِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَۙ

নিশ্চয়ই যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে ভীত-

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ بِاٰيٰتِ رَبِّهِمۡ يُؤۡمِنُوۡنَۙ

এবং যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে-

وَالَّذِيۡنَ هُمۡ بِرَبِّهِمۡ لَا يُشۡرِكُوۡنَۙ

এবং যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করে না-

وَالَّذِيۡنَ يُؤۡتُوۡنَ مَاۤ اٰتَوْا وَّ قُلُوۡبُهُمۡ وَجِلَةٌ اَنَّهُمۡ اِلٰى رَبِّهِمۡ رٰجِعُوۡنَۙ

এবং যারা তাদেরকে যা (রিযিক) দেওয়া হয়েছে তা থেকে (আল্লাহ্র পথে) দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে এজন্য যে, তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাবে।

اُولٰٓٮِٕكَ يُسَارِعُوۡنَ فِىۡ الۡخَيۡـرٰتِ وَهُمۡ لَهَا سٰبِقُوۡنَ‏ 

তারাই দ্রুত কল্যাণ কর্মে অগ্রসর হয় এবং তার প্রতি অগ্রগামী হয়।

وَلَا نُـكَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا​ وَلَدَيۡنَا كِتٰبٌ يَّـنۡطِقُ بِالۡحَـقِّ​ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُوۡنَ‏

বস্ত্তত আমরা কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেই না। আর আমাদের নিকট রয়েছে তার আমলনামা, যা সত্য ব্যক্ত করে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করা হবে না।

بَلۡ قُلُوۡبُهُمۡ فِىۡ غَمۡرَةٍ مِّنۡ هٰذَا وَلَهُمۡ اَعۡمَالٌ مِّنۡ دُوۡنِ ذٰلِكَ هُمۡ لَهَا عٰمِلُوۡنَ‏

বরং এ বিষয়ে তাদের অন্তরগুলি মূর্খতায় আচ্ছন্ন। এছাড়াও তাদের আরও মন্দকর্ম সমূহ রয়েছে যা তারা করে থাকে।

حَتّٰۤى اِذَاۤ اَخَذۡنَا مُتۡـرَفِيۡهِمۡ بِالۡعَذَابِ اِذَا هُمۡ يَجۡـــَٔرُوۡنَؕ ‏ 

অবশেষে যখন আমরা তাদের বিলাসী নেতাদের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করি, তখন তারা আর্তনাদ করে ওঠে।

لَا تَجۡـــَٔرُوا الۡيَوۡمَ​ اِنَّكُمۡ مِّنَّا لَا تُنۡصَرُوۡنَ‏

(বলা হবে) তোমরা আজ আর্তনাদ করো না। নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের পক্ষ থেকে কোনরূপ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।

قَدۡ كَانَتۡ اٰيٰتِىۡ تُتۡلٰى عَلَيۡكُمۡ فَـكُنۡتُمۡ عَلٰٓى اَعۡقَابِكُمۡ تَـنۡكِصُوۡنَۙ

আমার আয়াতসমূহ তোমাদের পাঠ করে শুনানো হ’ত। কিন্তু তোমরা উল্টা ফিরে যেতে-

مُسۡتَكۡبِرِيۡنَۖ  بِهٖ سٰمِرًا تَهۡجُرُوۡنَ‏

তা থেকে দম্ভ করে। (আর) রাতের মজলিসে নিকৃষ্ট মন্তব্যসমূহ করতে।

اَفَلَمۡ يَدَّبَّرُوا الۡقَوۡلَ اَمۡ جَآءَهُمۡ مَّا لَمۡ يَاۡتِ اٰبَآءَهُمُ الۡاَوَّلِيۡنَ‏

তবে কি তারা এই বাণী অনুধাবন করে না? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু (প্রতিশ্রুতি) এসেছে, যা তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে আসেনি?

اَمۡ لَمۡ يَعۡرِفُوۡا رَسُوۡلَهُمۡ فَهُمۡ لَهٗ مُنۡكِرُوۡنَ‏

নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করে?

اَمۡ يَـقُوۡلُوۡنَ بِهٖ جِنَّةٌؕ بَلۡ جَآءَهُمۡ بِالۡحَـقِّ وَاَكۡثَرُهُمۡ لِلۡحَقِّ كٰرِهُوۡنَ‏

অথবা তারা কি বলে যে, সে পাগল? বরং সে তাদের নিকট সত্যসহ আগমন করেছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক সত্যকে অপসন্দ করে।

وَلَوِ اتَّبَعَ الۡحَـقُّ اَهۡوَآءَهُمۡ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِيۡهِنَّؕ بَلۡ اَتَيۡنٰهُمۡ بِذِكۡرِهِمۡ فَهُمۡ عَنۡ ذِكۡرِهِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَؕ ‏ 

বস্ত্তত সত্য যদি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসারী হ’ত, তাহ’লে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেত। বরং আমরা তাদেরকে উপদেশ (কুরআন) দিয়েছি। কিন্তু তারা তাদের উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

اَمۡ تَسۡــَٔـلُهُمۡ خَرۡجًا فَخَرٰجُ رَبِّكَ خَيۡرٌۖ  وَّهُوَ خَيۡرُ الرّٰزِقِيۡنَ‏

অথবা তুমি কি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? বস্ত্তত তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই উত্তম এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

وَاِنَّكَ لَـتَدۡعُوۡهُمۡ اِلٰى صِرَاطٍ مُّسۡتَقِيۡمٍ‏

আর নিঃসন্দেহে তুমি তাদেরকে সরল পথের দিকে আহবান করে থাক।

وَاِنَّ الَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَـنٰكِبُوۡنَ‏ 

বস্ত্তত যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত।

وَلَوۡ رَحِمۡنٰهُمۡ وَكَشَفۡنَا مَا بِهِمۡ مِّنۡ ضُرٍّ لَّـلَجُّوۡا فِىۡ طُغۡيَانِهِمۡ يَعۡمَهُوۡنَ‏

যদি আমরা তাদের উপর দয়া করি এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেই, তথাপি তারা অবশ্যই তাদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরবে।

وَلَقَدۡ اَخَذۡنٰهُمۡ بِالۡعَذَابِ فَمَا اسۡتَكَانُوۡا لِرَبِّهِمۡ وَمَا يَتَضَرَّعُوۡنَ‏ 

আমরা তাদেরকে আযাব দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি নত হয়নি এবং তারা মিনতিও করেনি।

حَتّٰٓى اِذَا فَتَحۡنَا عَلَيۡهِمۡ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِيۡدٍ اِذَا هُمۡ فِيۡهِ مُبۡلِسُوۡنَ‏

অবশেষে যখন আমরা তাদের উপর কঠিন শাস্তির কোন দুয়ার খুলে দেই, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।

وَهُوَ الَّذِىۡۤ اَنۡشَاَ لَـكُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَةَؕ قَلِيۡلًا مَّا تَشۡكُرُوۡنَ‏

তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।

وَهُوَ الَّذِىۡ ذَرَاَكُمۡ فِى الۡاَرۡضِ وَاِلَيۡهِ تُحۡشَرُوۡنَ‏

আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের একত্রিত করা হবে।

وَهُوَ الَّذِىۡ يُحۡىٖ وَيُمِيۡتُ وَلَـهُ اخۡتِلَافُ الَّيۡلِ وَالنَّهَارِؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ‏

তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন এবং তাঁর কর্তৃত্বে রয়েছে রাত্রি ও দিনের আগমন-নির্গমন। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?

بَلۡ قَالُوۡا مِثۡلَ مَا قَالَ الۡاَوَّلُوۡنَ‏

বরং তারা বলে যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা বলত।

قَالُوۡۤا ءَاِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ‏ 

তারা বলে, যখন আমরা মরে যাব এবং মাটি ও হাড়-হাড্ডিতে পরিণত হব, এরপরেও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?

لَـقَدۡ وُعِدۡنَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا هٰذَا مِنۡ قَبۡلُ اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيۡرُ الۡاَوَّلِيۡنَ‏

ইতিপূর্বেও আমাদের ও আমাদের বাপ-দাদাদের একই ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল। অতএব এগুলি স্রেফ পুরাকালের কাহিনী ব্যতীত কিছুই নয়।

قُلْ لِّمَنِ الۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِيۡهَاۤ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ‏

তুমি ওদের জিজ্ঞেস কর, এই পৃথিবী ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলি কার, যদি তোমরা জানো?

سَيَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰهِؕ قُلۡ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ‏

অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ্র। বল, এরপরেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ السَّبۡعِ وَرَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِيۡمِ‏ 

জিজ্ঞেস কর, সাত আসমান ও মহান আরশের মালিক কে?

سَيَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰهِؕ قُلۡ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ‏

অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ। বল, তবুও কি তোমরা সতর্ক হবে না?

قُلۡ مَنۡۢ بِيَدِهٖ مَلَكُوۡتُ كُلِّ شَىۡءٍ وَّهُوَ يُجِيۡرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيۡهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ‏

তুমি বল, সবকিছুর রাজত্ব কার হাতে? যিনি আশ্রয় দেন ও যার বিরুদ্ধে আশ্রয়দাতা কেউ নেই, যদি তোমরা জানো?

سَيَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰهِؕ قُلۡ فَاَنّٰى تُسۡحَرُوۡنَ‏

অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ্র হাতে। বল, তাহ’লে কিভাবে তোমরা মোহগ্রস্ত হচ্ছ?

بَلۡ اَتَيۡنٰهُمۡ بِالۡحَـقِّ وَاِنَّهُمۡ لَكٰذِبُوۡنَ‏

বরং তাদের কাছে আমরা সত্য পৌঁছে দিয়েছি। আর নিঃসন্দেহে তারা হ’ল মিথ্যাবাদী।

مَا اتَّخَذَ اللّٰهُ مِنۡ وَّلَدٍ وَّمَا كَانَ مَعَهٗ مِنۡ اِلٰهٍ​ اِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ اِلٰهٍۢ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يَصِفُوۡنَۙ

না আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেছেন, না তাঁর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে। যদি তাই থাকত, তাহ’লে প্রত্যেক উপাস্য তার সৃষ্টিকুল নিয়ে পৃথক থাকত এবং তারা পরস্পরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। অতএব তারা যেসব কথা বলে, সেসব থেকে আল্লাহ পবিত্র।

عٰلِمِ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعٰلٰى عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏

তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছু জানেন। অতএব তারা যেসব বস্ত্তকে তাঁর সাথে শরীক করে, তিনি সেসবের ঊর্ধ্বে।

قُل رَّبِّ اِمَّا تُرِيَنِّىۡ مَا يُوۡعَدُوۡنَۙ

বল, হে আমার প্রতিপালক! যে (শাস্তির) ওয়াদা তাদের দেওয়া হয়েছে, তা যদি আমাকে দেখাতে,

رَبِّ فَلَا تَجۡعَلۡنِىۡ فِى الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ‏

তথাপি হে প্রভু! তুমি যেন আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।

وَاِنَّا عَلٰٓى اَنۡ نُّرِيَكَ مَا نَعِدُهُمۡ لَقٰدِرُوۡنَ‏

বস্ত্তত আমরা তাদেরকে যে (শাস্তির) ওয়াদা দিয়েছি, তা অবশ্যই তোমাকে দেখাতে সক্ষম।

اِدۡفَعۡ بِالَّتِىۡ هِىَ اَحۡسَنُ السَّيِّئَةَؕ نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا يَصِفُوۡنَ‏ 

অতএব তুমি মন্দকে উত্তম দ্বারা প্রতিহত কর। আর তারা যেসব কথা বলে তা আমরা ভালভাবেই জানি।

وَقُلْ رَّبِّ اَعُوۡذُ بِكَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّيٰطِيۡنِۙ

বল, হে আমার প্রতিপালক! শয়তানদের কুমন্ত্রণা সমূহ থেকে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

وَاَعُوۡذُ بِكَ رَبِّ اَنۡ يَّحۡضُرُوۡنِ‏

আর যেন ওরা আমার নিকট উপস্থিত হ’তে না পারে, সেজন্য হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি।

حَتّٰٓى اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ارۡجِعُوۡنِۙ

অবশেষে যখন তাদের কারু কাছে মৃত্যু এসে যায়, তখন সে বলে হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) ফেরত পাঠাও।

لَعَلِّىۡۤ اَعۡمَلُ صَالِحًـا فِيۡمَا تَرَكۡتُؕ كَلَّاؕ اِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآٮِٕلُهَاؕ وَمِنۡ وَّرَآٮِٕهِمۡ بَرۡزَخٌ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَ‏

যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি যা আমি করিনি। কখনই নয়। এটা তো তার একটি (বৃথা) উক্তি মাত্র যা সে বলে। বরং তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।

فَاِذَا نُفِخَ فِى الصُّوۡرِ فَلَاۤ اَنۡسَابَ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَٮِٕذٍ وَّلَا يَتَسَآءَلُوۡنَ‏

অতঃপর যেদিন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং কেউ কারু খোঁজ নিবে না।

فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِيۡنُهٗ فَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ‏

অতঃপর যাদের (সৎকর্মের) পাল্লা ভারী হবে, তারা সফলকাম হবে।

وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِيۡنُهٗ فَاُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ فِىۡ جَهَـنَّمَ خٰلِدُوۡنَۚ

আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা হ’ল তারাই, যারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করেছে। তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।

تَلۡفَحُ وُجُوۡهَهُمُ النَّارُ وَهُمۡ فِيۡهَا كٰلِحُوۡنَ‏

আগুন তাদের মুখমন্ডল ঝলসে দিবে এবং তাতে তারা বীভৎস রূপ ধারণ করবে।

اَلَمۡ تَكُنۡ اٰيٰتِىۡ تُتۡلٰى عَلَيۡكُمۡ فَكُنۡتُمۡ بِهَا تُكَذِّبُوۡنَ‏ 

(তাদের বলা হবে) তোমাদের সামনে কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হ’ত না? অতঃপর তোমরা তাতে মিথ্যারোপ করতে?

قَالُوۡا رَبَّنَا غَلَبَتۡ عَلَيۡنَا شِقۡوَتُنَا وَكُنَّا قَوۡمًا ضَآلِّيۡنَ‏ 

তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদের উপর চেপে বসেছিল। আর আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট জাতি।

رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا مِنۡهَا فَاِنۡ عُدۡنَا فَاِنَّا ظٰلِمُوۡنَ‏

হে আমাদের পালনকর্তা! এই আযাব থেকে আমাদের বের করে নাও। এরপর যদি আমরা পুনরায় কুফরী করি, তাহ’লে আমরাই তো সীমালংঘনকারী হয়ে যাব।

قَالَ اخۡسَـُٔـوۡا فِيۡهَا وَلَا تُكَلِّمُوۡنِ‏

আল্লাহ বলবেন, এখানেই তোমরা লাঞ্ছিত অবস্থায় পড়ে থাক এবং আমার সাথে তোমরা কোন কথা বলো না।

اِنَّهٗ كَانَ فَرِيۡقٌ مِّنۡ عِبَادِىۡ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَـنَا وَارۡحَمۡنَا وَاَنۡتَ خَيۡرُ الرّٰحِمِيۡنَۖ ۚ

নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব তুমি আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ কর। আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

فَاتَّخَذۡتُمُوۡهُمۡ سِخۡرِيًّا حَتّٰٓى اَنۡسَوۡكُمۡ ذِكۡرِىۡ وَكُنۡتُمۡ مِّنۡهُمۡ تَضۡحَكُوۡنَ‏

অথচ তোমরা তাদের ঠাট্টার পাত্র রূপে গ্রহণ করেছিলে। এমনকি তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর তোমরা তাদেরকে নিয়ে সর্বদা হাসি-ঠাট্টা করতে।

اِنِّىۡ جَزَيۡتُهُمُ الۡيَوۡمَ بِمَا صَبَرُوۡۤاۙ اَنَّهُمۡ هُمُ الۡفَآٮِٕزُوۡنَ‏ 

আমি তাদেরকে আজ তাদের ধৈর্য্যের প্রতিদান দিলাম এমনভাবে যে, তারাই হয়ে গেল সফলকাম।

قٰلَ كَمۡ لَبِثۡتُمۡ فِى الۡاَرۡضِ عَدَدَ سِنِيۡنَ‏

আল্লাহ বলবেন, বছরের হিসাবে তোমরা পৃথিবীতে কতদিন ছিলে?

قَالُوۡا لَبِثۡنَا يَوۡمًا اَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٍ فَسۡــَٔـلِ الۡعَآدِّيۡنَ‏ 

তারা বলবে, ছিলাম একদিন বা তার কিছু অংশ। অতএব গণনাকারীদের (ফেরেশতাদের) জিজ্ঞেস করুন!

قٰلَ اِنۡ لَّبِثۡـتُمۡ اِلَّا قَلِيۡلًا لَّوۡ اَنَّكُمۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ‏ 

আল্লাহ বলবেন, তোমরা সেখানে ছিলে মাত্র অল্প সময়। যদি তোমরা জানতে।

اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰكُمۡ عَبَثًا وَّاَنَّكُمۡ اِلَيۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ‏ 

তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে বৃথা সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমাদের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?

فَتَعٰلَى اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَـقُّۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡـكَرِيۡمِ‏

অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ যিনি সত্যিকারের অধিপতি। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি মহান আরশের মালিক।

وَمَنۡ يَّدۡعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَۙ لَا بُرۡهَانَ لَهٗ بِهٖۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنۡدَ رَبِّهٖؕ اِنَّهٗ لَا يُفۡلِحُ الۡـكٰفِرُوۡنَ‏

বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করে, সে বিষয়ে তার নিকট কোন প্রমাণ নেই। তার হিসাব তো তার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীরা সফলকাম হবে না।

وَقُلْ رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَيۡرُ الرّٰحِمِيۡنَ‏

আর তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর। বস্ত্তত তুমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।