بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
নিশ্চয়ই সফলকাম হবে মুমিনগণ।
যারা তাদের ছালাতে মনোযোগী।
যারা অনর্থক কাজ হ’তে বিরত।
যারা যাকাত আদায়ে সচেষ্ট।
যারা তাদের যৌনাঙ্গ ব্যবহারে সংযত।
তবে তাদের স্ত্রীগণ ও মালিকানাধীন দাসীরা ব্যতীত। কেননা এতে তারা হবে না নিন্দিত।
অতঃপর যারা কামনা করবে এদের বাইরে কাউকে, তারা হবে সীমালংঘনকারী।
আর যারা তাদের আমানত সমূহ এবং অঙ্গীকার সমূহ রক্ষায় সচেষ্ট-
এবং যারা তাদের ছালাত সমূহের হেফাযতকারী।
তারাই হবে উত্তরাধিকারী।
যারা উত্তরাধিকারী হবে জান্নাতুল ফেরদৌসের। যেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির নির্যাস থেকে।
অতঃপর আমরা তাকে (পিতা-মাতার মিশ্রিত) জনন কোষরূপে (মায়ের গর্ভে) নিরাপদ আধারে সংরক্ষণ করি।
অতঃপর উক্ত জননকোষকে আমরা পরিণত করি জমাট রক্তে। তারপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে। অতঃপর মাংসপিন্ডকে অস্থিতে। অতঃপর অস্থিসমূহকে ঢেকে দেই মাংস দিয়ে। অতঃপর আমরা ওকে একটি নতুন সৃষ্টিরূপে পয়দা করি। অতএব বরকতময় আল্লাহ কতই না সুন্দর সৃষ্টিকারী!
এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে।
অতঃপর তোমরা ক্বিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে।
আর আমরা তোমাদের উপরে সৃষ্টি করেছি সপ্ত আকাশ। বস্ত্তত আমরা সৃষ্টির ব্যাপারে আদৌ উদাসীন নই।
আর আমরা আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করি পরিমাণমত। অতঃপর তা যমীনে সঞ্চিত করি। আর আমরা ওটাকে সরিয়ে নিতেও সক্ষম।
অতঃপর তা দিয়ে আমরা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি। তোমাদের জন্য সেখানে থাকে প্রচুর ফল-ফলাদি এবং তোমরা তা থেকে ভক্ষণ করে থাক।
আর আমরা সৃষ্টি করেছি বৃক্ষ। যা সিনাই পর্বতে জন্মায়। যা থেকে উৎপন্ন হয় ‘তৈল’ এবং ভক্ষণকারীদের জন্য খাদ্য।
আর তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় রয়েছে গবাদিপশু সমূহের মধ্যে। আমরা তোমাদেরকে ওদের পেটে যা আছে, তা থেকে পান করাই। আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে রয়েছে বহু উপকারিতা এবং তোমরা তাদের থেকে ভক্ষণ করে থাক।
আর তাদের পিঠে ও নৌযানে তোমরা আরোহণ করে থাক।
আমরা নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। এরপরেও কি তোমরা সতর্ক হবে না?
জবাবে তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী নেতারা বলেছিল, এ ব্যক্তি তোমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত নয়। সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়। যদি আল্লাহ (নবী পাঠাতে) চাইতেন, তাহ’লে ফেরেশতা নাযিল করতেন। আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ খবর তো আমরা কখনো শুনিনি।
এ লোকটা পাগল ছাড়া কিছু নয়। অতএব তার ব্যাপারে তোমরা কিছু দিন অপেক্ষা কর।
নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর। কেননা এরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
অতঃপর আমরা তার নিকটে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি আমাদের সম্মুখে ও আমাদের নির্দেশনা মতে নৌকা তৈরী কর। অতঃপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে যাবে ও চুলা উথলে উঠবে, তখন তুমি নৌকায় তুলে নিবে প্রত্যেক প্রাণীর এক এক জোড়া (নর ও মাদী) এবং তোমার পরিবারবর্গকে। তবে তাদের মধ্যে যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তারা ব্যতীত। আর তুমি যালেমদের বিষয়ে আমাকে কিছু বলোনা। ওদের ডুবিয়ে মারা হবে।
অতঃপর যখন তুমি ও তোমার সাথীরা নৌকায় আরোহণ করবে তখন বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদেরকে যালেম সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
আরও বলবে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একটি বরকতমন্ডিত স্থানে অবতরণ করাও। আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।
নিশ্চয়ই উক্ত ঘটনায় নির্দশন সমূহ রয়েছে। আর আমরা তো পরীক্ষাকারী মাত্র।
অতঃপর আমরা তাদের পরে অন্য এক যুগ-সম্প্রদায়কে (‘আদ কওমকে) সৃষ্টি করলাম।
অতঃপর তাদের মধ্যকার একজনকে আমরা তাদের মধ্যে রাসূলরূপে প্রেরণ করলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন উপাস্য নেই। তবুও কি তোমরা সতর্ক হবে না?
তার সম্প্রদায়ের নেতারা যারা অবিশ্বাসী ছিল ও আখেরাতে আল্লাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমরা পার্থিব জীবনে সুখ-সম্ভার দিয়েছিলাম, তারা বলল, এ ব্যক্তি তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায়। তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে।
তোমরা যদি তোমাদেরই মত একজন মানুষের অনুসারী হও, তাহ’লে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সে কি তোমাদের এই প্রতিশ্রুতি শুনায় যে, তোমরা মরে মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাবে, আবার তোমরা পুনরুত্থিত হবে?
হায়! হায়! কি প্রতিশ্রুতিই না তোমাদের দেওয়া হয়!
পার্থিব জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। এখানেই আমরা মরি ও বাঁচি। আর আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবো না।
ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করছে মাত্র। আর আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।
সে (হূদ) বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর। কেননা এরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
আল্লাহ বললেন, অচিরেই তারা লজ্জিত হবে।
অতঃপর যথার্থভাবেই এক ভয়ংকর নিনাদ তাদেরকে পাকড়াও করল। ফলে আমরা তাদেরকে বর্জ্যে পরিণত করে দিলাম। অতএব ধ্বংস হৌক যালেম সম্প্রদায়!
অতঃপর তাদের পরে আমরা বহু যুগ- সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছি।
কোন জাতিই তার জন্য নির্ধারিত সময়কালের আগেও বাড়তে পারবে না এবং পিছেও থাকতে পারবে না।
অতঃপর আমরা আমাদের রাসূলদের প্রেরণ করেছি ধারাবাহিকভাবে। যখনই কোন উম্মতের নিকট তাদের রাসূল আগমন করেছে, তখনই তাদের (অধিকাংশ) তাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। ফলে আমরা তাদেরকে একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীতে পরিণত করেছি। অতএব ধ্বংস হৌক অবিশ্বাসী সম্প্রদায়!
অতঃপর আমরা মূসা ও তার ভাই হারূণকে পাঠালাম আমাদের নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ-
ফেরাঊন ও তার সভাসদগণের নিকট। কিন্তু তারা অহংকার করল। বস্ত্তত তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।
তারা বলল, আমরা কি আমাদের মত দু’ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব? অথচ তাদের সম্প্রদায় (বনু ইস্রাঈল) আমাদের দাসত্ব করে।
অতঃপর তারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল, ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হ’ল।
আর নিশ্চয়ই আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়।
আর আমরা মারিয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন স্বরূপ করেছিলাম এবং তাদেরকে একটি বৃক্ষশোভিত ও স্বচ্ছ পানির প্রবাহ বিশিষ্ট সমতল টিলায় (বায়তুল মুক্বাদ্দাসে) আশ্রয় দিয়েছিলাম।
হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত হ’তে ভক্ষণ কর এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সবই আমি অবগত।
আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই দ্বীন একই দ্বীন এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক। অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।
কিন্তু তারা তাদের দ্বীনকে বহু ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। আর প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে, তাই নিয়ে আনন্দিত।
অতএব ওদেরকে ভ্রষ্টতার অন্ধকারে ডুবে থাকতে দাও অবধারিত সময়কাল পর্যন্ত।
তারা কি ধারণা করে যে, আমরা তাদেরকে সাহায্য করছি ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে-
এবং (এর দ্বারা) তাদেরকে দ্রুত নিয়ে যাচ্ছি কল্যাণ সমূহের দিকে? বরং ওরা বুঝতে পারেনা।
নিশ্চয়ই যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে ভীত-
এবং যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে-
এবং যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করে না-
এবং যারা তাদেরকে যা (রিযিক) দেওয়া হয়েছে তা থেকে (আল্লাহ্র পথে) দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে এজন্য যে, তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাবে।
তারাই দ্রুত কল্যাণ কর্মে অগ্রসর হয় এবং তার প্রতি অগ্রগামী হয়।
বস্ত্তত আমরা কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেই না। আর আমাদের নিকট রয়েছে তার আমলনামা, যা সত্য ব্যক্ত করে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করা হবে না।
বরং এ বিষয়ে তাদের অন্তরগুলি মূর্খতায় আচ্ছন্ন। এছাড়াও তাদের আরও মন্দকর্ম সমূহ রয়েছে যা তারা করে থাকে।
অবশেষে যখন আমরা তাদের বিলাসী নেতাদের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করি, তখন তারা আর্তনাদ করে ওঠে।
(বলা হবে) তোমরা আজ আর্তনাদ করো না। নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের পক্ষ থেকে কোনরূপ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
আমার আয়াতসমূহ তোমাদের পাঠ করে শুনানো হ’ত। কিন্তু তোমরা উল্টা ফিরে যেতে-
তা থেকে দম্ভ করে। (আর) রাতের মজলিসে নিকৃষ্ট মন্তব্যসমূহ করতে।
তবে কি তারা এই বাণী অনুধাবন করে না? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু (প্রতিশ্রুতি) এসেছে, যা তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে আসেনি?
নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করে?
অথবা তারা কি বলে যে, সে পাগল? বরং সে তাদের নিকট সত্যসহ আগমন করেছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক সত্যকে অপসন্দ করে।
বস্ত্তত সত্য যদি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসারী হ’ত, তাহ’লে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেত। বরং আমরা তাদেরকে উপদেশ (কুরআন) দিয়েছি। কিন্তু তারা তাদের উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
অথবা তুমি কি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? বস্ত্তত তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই উত্তম এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
আর নিঃসন্দেহে তুমি তাদেরকে সরল পথের দিকে আহবান করে থাক।
বস্ত্তত যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত।
যদি আমরা তাদের উপর দয়া করি এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেই, তথাপি তারা অবশ্যই তাদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরবে।
আমরা তাদেরকে আযাব দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি নত হয়নি এবং তারা মিনতিও করেনি।
অবশেষে যখন আমরা তাদের উপর কঠিন শাস্তির কোন দুয়ার খুলে দেই, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।
আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের একত্রিত করা হবে।
তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন এবং তাঁর কর্তৃত্বে রয়েছে রাত্রি ও দিনের আগমন-নির্গমন। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
বরং তারা বলে যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা বলত।
তারা বলে, যখন আমরা মরে যাব এবং মাটি ও হাড়-হাড্ডিতে পরিণত হব, এরপরেও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
ইতিপূর্বেও আমাদের ও আমাদের বাপ-দাদাদের একই ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল। অতএব এগুলি স্রেফ পুরাকালের কাহিনী ব্যতীত কিছুই নয়।
তুমি ওদের জিজ্ঞেস কর, এই পৃথিবী ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলি কার, যদি তোমরা জানো?
অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ্র। বল, এরপরেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
জিজ্ঞেস কর, সাত আসমান ও মহান আরশের মালিক কে?
অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ। বল, তবুও কি তোমরা সতর্ক হবে না?
তুমি বল, সবকিছুর রাজত্ব কার হাতে? যিনি আশ্রয় দেন ও যার বিরুদ্ধে আশ্রয়দাতা কেউ নেই, যদি তোমরা জানো?
অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ্র হাতে। বল, তাহ’লে কিভাবে তোমরা মোহগ্রস্ত হচ্ছ?
বরং তাদের কাছে আমরা সত্য পৌঁছে দিয়েছি। আর নিঃসন্দেহে তারা হ’ল মিথ্যাবাদী।
না আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেছেন, না তাঁর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে। যদি তাই থাকত, তাহ’লে প্রত্যেক উপাস্য তার সৃষ্টিকুল নিয়ে পৃথক থাকত এবং তারা পরস্পরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। অতএব তারা যেসব কথা বলে, সেসব থেকে আল্লাহ পবিত্র।
তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছু জানেন। অতএব তারা যেসব বস্ত্তকে তাঁর সাথে শরীক করে, তিনি সেসবের ঊর্ধ্বে।
বল, হে আমার প্রতিপালক! যে (শাস্তির) ওয়াদা তাদের দেওয়া হয়েছে, তা যদি আমাকে দেখাতে,
তথাপি হে প্রভু! তুমি যেন আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।
বস্ত্তত আমরা তাদেরকে যে (শাস্তির) ওয়াদা দিয়েছি, তা অবশ্যই তোমাকে দেখাতে সক্ষম।
অতএব তুমি মন্দকে উত্তম দ্বারা প্রতিহত কর। আর তারা যেসব কথা বলে তা আমরা ভালভাবেই জানি।
বল, হে আমার প্রতিপালক! শয়তানদের কুমন্ত্রণা সমূহ থেকে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আর যেন ওরা আমার নিকট উপস্থিত হ’তে না পারে, সেজন্য হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি।
অবশেষে যখন তাদের কারু কাছে মৃত্যু এসে যায়, তখন সে বলে হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) ফেরত পাঠাও।
যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি যা আমি করিনি। কখনই নয়। এটা তো তার একটি (বৃথা) উক্তি মাত্র যা সে বলে। বরং তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।
অতঃপর যেদিন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং কেউ কারু খোঁজ নিবে না।
অতঃপর যাদের (সৎকর্মের) পাল্লা ভারী হবে, তারা সফলকাম হবে।
আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা হ’ল তারাই, যারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করেছে। তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।
আগুন তাদের মুখমন্ডল ঝলসে দিবে এবং তাতে তারা বীভৎস রূপ ধারণ করবে।
(তাদের বলা হবে) তোমাদের সামনে কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হ’ত না? অতঃপর তোমরা তাতে মিথ্যারোপ করতে?
তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদের উপর চেপে বসেছিল। আর আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট জাতি।
হে আমাদের পালনকর্তা! এই আযাব থেকে আমাদের বের করে নাও। এরপর যদি আমরা পুনরায় কুফরী করি, তাহ’লে আমরাই তো সীমালংঘনকারী হয়ে যাব।
আল্লাহ বলবেন, এখানেই তোমরা লাঞ্ছিত অবস্থায় পড়ে থাক এবং আমার সাথে তোমরা কোন কথা বলো না।
নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব তুমি আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ কর। আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
অথচ তোমরা তাদের ঠাট্টার পাত্র রূপে গ্রহণ করেছিলে। এমনকি তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর তোমরা তাদেরকে নিয়ে সর্বদা হাসি-ঠাট্টা করতে।
আমি তাদেরকে আজ তাদের ধৈর্য্যের প্রতিদান দিলাম এমনভাবে যে, তারাই হয়ে গেল সফলকাম।
আল্লাহ বলবেন, বছরের হিসাবে তোমরা পৃথিবীতে কতদিন ছিলে?
তারা বলবে, ছিলাম একদিন বা তার কিছু অংশ। অতএব গণনাকারীদের (ফেরেশতাদের) জিজ্ঞেস করুন!
আল্লাহ বলবেন, তোমরা সেখানে ছিলে মাত্র অল্প সময়। যদি তোমরা জানতে।
তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে বৃথা সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমাদের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?
অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ যিনি সত্যিকারের অধিপতি। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি মহান আরশের মালিক।
বস্ত্তত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করে, সে বিষয়ে তার নিকট কোন প্রমাণ নেই। তার হিসাব তো তার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীরা সফলকাম হবে না।
আর তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর। বস্ত্তত তুমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।