بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের প্রকম্পন অতীব ভয়াবহ বিষয়।
যেদিন তোমরা দেখবে দুগ্ধদায়িনী মা তার স্তন্যপায়ী সন্তানকে ভুলে যাবে এবং গর্ভবতীর গর্ভ খালাস হয়ে যাবে। আর তোমরা মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ। অথচ তারা মাতাল নয়। বস্ত্তত আল্লাহ্র শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।
কিছু মানুষ অজ্ঞতাবশে আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে এবং অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।
শয়তান সম্পর্কে একথাই বিধিবদ্ধ হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হও, তবে (ভেবে দেখ) আমরা তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর (পিতা-মাতার মিশ্রিত) জনন কোষ হ’তে; অতঃপর জমাট রক্তপিন্ড হ’তে; অতঃপর পূর্ণাকৃতি বা অপূর্ণাকৃতির মাংসপিন্ড হ’তে; যাতে আমরা তোমাদেরকে (আমার সৃষ্টিক্ষমতা) বুঝিয়ে দিতে পারি। অতঃপর আমরা তা মাতৃগর্ভে রেখে দেই নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত যতদিন আমরা ইচ্ছা করি। অতঃপর আমরা তোমাদেরকে বের করি শিশুরূপে। যাতে তোমরা পরিণত বয়সে পৌঁছতে পার। অতঃপর তোমাদের কাউকে মৃত্যু ঘটানো হয় ও কাউকে জীর্ণ বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। যখন সে তার জানা বিষয়ও স্মরণ রাখতে পারেনা। অন্যদিকে তুমি যমীনকে দেখ শুষ্ক বিরানভূমি। অতঃপর যখন আমরা তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা স্পন্দিত হয় ও স্ফীত হয় এবং তা থেকে উদ্গত হয় নানা প্রকার চোখ জুড়ানো উদ্ভিদ।
এগুলিই হ’ল প্রমাণ যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনিই সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
আর নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত আসবে। এতে কোনই সন্দেহ নেই। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন যারা কবরে আছে।
অথচ কিছু মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে কোনরূপ জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই-
হঠকারিতা বশে; যাতে তারা আল্লাহ্র পথ থেকে লোকদের বিচ্যুত করতে পারে। তার জন্য লাঞ্ছনা রয়েছে দুনিয়াতে এবং ক্বিয়ামতের দিন আমরা তাকে আস্বাদন করাবো জ্বলন্ত অগ্নির স্বাদ।
(বলা হবে) এটা তোমার কৃতকর্মের ফল, যা তোমার দু’হাত অগ্রিম প্রেরণ করেছে। আর আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি যুলুমকারী নন।
লোকদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ্র ইবাদত করে দ্বিধার সাথে। তাকে কল্যাণ স্পর্শ করলে শান্ত হয় এবং পরীক্ষা স্পর্শ করলে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সেটাই হ’ল সুস্পষ্ট ক্ষতি।
সে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুকে আহবান করে, যে তার না কোন ক্ষতি করতে পারে, না কোন উপকার করতে পারে। আর সেটাই হ’ল (তার) দূরতম ভ্রষ্টতা।
সে আহবান করে এমন কিছুকে, যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা অধিক নিকটবর্তী। কতই না মন্দ ঐ বন্ধু এবং কতই না মন্দ ঐ সহচর!
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান তাই-ই করেন।
যে ব্যক্তি মনে করে যে, আল্লাহ তাকে (কখনোই) দুনিয়া ও আখেরাতে সাহায্য করবেন না, সে ব্যক্তি আকাশ পর্যন্ত একটা রশি টেনে দিক। অতঃপর সেটা ছিন্ন করুক। অতঃপর সে দেখুক তার এই কৌশল (মুহাম্মাদের ব্যাপারে) তার আক্রোশ দূর করে কি-না।
এভাবেই আমরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী রূপে এই কুরআন নাযিল করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সুপথ প্রদর্শন করেন।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহূদী, ছাবেঈ, নাছারা, মজূসী ও মুশরিক হয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ তাদের মধ্যে ক্বিয়ামতের দিন ফায়ছালা করে দিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ (বান্দার) সকল কাজের উপর সাক্ষী রয়েছেন।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীব-জন্তু ও বহু মানুষ? আর বহু মানুষ আছে তাদের উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে সম্মান দেওয়ার কেউ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান তাই-ই করেন। (সিজদা-৬)
এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ। যারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতন্ডা করে। অতঃপর যারা কুফরী করে, তাদের জন্য প্রস্ত্তত করা হয়েছে আগুনের পোষাক। তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি।
যার ফলে তাদের পেটের মধ্যেকার সবকিছু এবং দেহচর্ম সমূহ বিগলিত হবে।
আর তাদের জন্য থাকবে লোহার মুগুর সমূহ।
যখনই তারা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হ’তে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং (বলা হবে) দহন জ্বালার শাস্তি ভোগ কর।
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ-কংকন ও মণি-মুক্তা খচিত অলংকারে ভূষিত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোষাক হবে রেশমের।
বস্ত্তত তারা পরিচালিত হয়েছিল পবিত্র বাক্যের দিকে এবং তারা পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত পথের দিকে।
যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহ্র পথ থেকে ও মাসজিদুল হারাম থেকে মানুষকে বাধা দেয়, যাকে আমরা প্রস্ত্তত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্য সমভাবে। বস্ত্তত যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সেখানে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করতে চাইবে, আমরা তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো।
আর (স্মরণ কর) যখন আমরা ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহ্র স্থান নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছিলাম যে, তুমি আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর আমার এ গৃহকে তাওয়াফকারীদের জন্য, (কা‘বা ও বাইরের) ছালাত আদায়কারীদের এবং রুকূ ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।
আর তুমি লোকদের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হ’তে।
যাতে তারা তাদের কল্যাণের জন্য সেখানে উপস্থিত হ’তে পারে এবং রিযিক হিসাবে তাদের দেওয়া গবাদিপশু সমূহ যবেহ করার সময় নির্দিষ্ট দিনগুলিতে তাদের উপর আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ ও অভাবগ্রস্তদের খাওয়াও।
অতঃপর তারা যেন তাদের দেহের ময়লা দূর করে এবং তাদের মানত সমূহ পূর্ণ করে ও প্রাচীন গৃহের (কা‘বার) তাওয়াফ করে।
বর্ণিত (হজ্জের) বিধান সমূহ পালন করা ছাড়াও যে ব্যক্তি আল্লাহকৃত হারাম সমূহকে সম্মান করবে, সেটি তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য উত্তম হবে। আর তোমাদের জন্য সকল গবাদিপশু হালাল করা হয়েছে সেগুলি ব্যতীত যেগুলির বিষয়ে তোমাদের উপর পাঠ করা হয়েছে (যেমন শূকরের মাংস)। অতএব তোমরা মূর্তিপূজার কলুষ এবং মিথ্যা কথা হ’তে দূরে থাক-
আল্লাহ্র প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তার সাথে কাউকে শরীক না করে। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্যকে শরীক করে সে যেন আকাশ হ’তে ছিটকে পড়ল। অতঃপর (মৃতভোজী কোন) পক্ষী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বায়ু প্রবাহ তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।
এগুলি (আল্লাহ্র নির্দেশ)। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে, নিশ্চয়ই সেটি তার হৃদয়ের আল্লাহভীতির বহিঃপ্রকাশ।
উক্ত পশুগুলিতে তোমাদের জন্য কল্যাণ লাভের সুযোগ রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। অতঃপর ওগুলির কুরবানীর স্থান হ’ল প্রাচীন গৃহের (কা‘বার) নিকটে।
প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা কুরবানীর বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা যবহ করার সময় আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করে এজন্য যে, তিনি চতুষ্পদ গবাদিপশু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন। আর তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতএব তাঁর নিকটে তোমরা আত্মসমর্পণ কর এবং তুমি বিনয়ীদের সুসংবাদ দাও।
আল্লাহ্র নাম স্মরণ করা হ’লে যাদের হৃদয় ভীত হয়, যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করে, ছালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহ্র পথে) ব্যয় করে।
আর কুরবানীর উটকে আমরা তোমাদের জন্য আল্লাহ্র অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় নহর করার সময় তোমরা তাদের উপর আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ কর। অতঃপর যখন ওরা কাত হয়ে পড়ে যায়, তখন তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আহার করাও যারা চায় না তাদেরকে ও যারা চায় তাদেরকে। এভাবে আমরা ওদেরকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
ওগুলির গোশত ও রক্ত আল্লাহ্র নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকট পৌঁছে তোমাদের আল্লাহভীতি। এভাবে ওগুলিকে আল্লাহ তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। যাতে তোমরা আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করেছেন। অতএব তুমি সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দাও।
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের পক্ষে শত্রুদের প্রতিহত করেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞকে ভালবাসেন না।
যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হ’ল তাদেরকে, যারা আক্রান্ত হয়েছে। কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম।
যারা তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত হয়েছে এজন্য যে, তারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। বস্ত্তত আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে আরেক দলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তাহ’লে (খৃষ্টানদের) উপাসনালয় ও বড় গীর্জা সমূহ, (ইহূদীদের) উপাসনালয় ও (মুসলমানদের) মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত; যেখানে আল্লাহ্র নাম অধিকহারে স্মরণ করা হয়। আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও মহা পরাক্রান্ত।
তারা এমন লোক, যাদেরকে আমরা যদি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি, তাহ’লে তারা ছালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে। বস্ত্তত আল্লাহ্র অধিকারেই রয়েছে সকল কাজের পরিণাম।
আর যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের পূর্বেকার নূহ, ‘আদ ও ছামূদ জাতিও তাদের স্ব স্ব নবীকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।
আর ইব্রাহীম ও লূতের সম্প্রদায়-
এবং মাদিয়ানবাসীরা। আর মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল মূসাকে। অতঃপর আমরা অবিশ্বাসীদের অবকাশ দিয়েছিলাম। এরপর তাদের পাকড়াও করেছিলাম। অতঃপর কেমন ছিল আমার শাস্তি?
অতঃপর কত জনপদকে আমরা ধ্বংস করেছি যারা অত্যাচারী ছিল। এইসব জনপদ এখন তাদের ঘরের ছাদসহ ভূপাতিত। আর কত কূয়া এবং সুউচ্চ প্রাসাদ এখন পরিত্যক্ত।
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? তাহ’লে তাদের হৃদয়গুলি হ’ত তা থেকে জ্ঞান অর্জনকারী এবং কানগুলি হ’ত তা থেকে যথার্থ শ্রবণকারী। কেননা চক্ষু অন্ধ হয়না, বরং অন্ধ হয় হৃদয়। যা থাকে বুকের মধ্যে।
তারা তোমাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনো তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের কাছে একটি দিন তোমাদের গণনার এক হাযার বছরের সমান।
আর কত জনপদকে আমরা অবকাশ দিয়েছি, যারা অত্যাচারী ছিল। অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করেছি। বস্ত্তত আমার কাছেই হবে সকলের প্রত্যাবর্তন।
বল, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী বৈ কিছু নই।
অতএব যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা (অর্থাৎ জান্নাত)।
আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেবার চেষ্টা করে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
আমরা তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল ও নবী প্রেরণ করিনি যে, তারা যখনই কিছু পাঠ করেছে, তখনই শয়তান উক্ত পাঠে কিছু মিশিয়ে দেয়নি। তখন আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশিয়ে দেয়। অতঃপর আল্লাহ স্বীয় আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
এটা এ জন্য যে, শয়তান যা মিশায়, তিনি তা পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা পাষাণ হৃদয়। বস্ত্তত অত্যাচারীরা দূরতম হঠকারিতার মধ্যে রয়েছে।
আর এ জন্য যে, জ্ঞানীরা যেন জানে যে, এটা (কুরআন) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে প্রেরিত সত্য। অতএব তারা যেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন এর প্রতি নিশ্চিন্ত হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।
আর অবিশ্বাসীরা সর্বদা এতে (কুরআনে) সন্দেহ পোষণ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে ক্বিয়ামত এসে পড়বে আকস্মিকভাবে অথবা এসে পড়বে কঠিনতম দিনের শাস্তি।
রাজত্ব হবে সেদিন কেবল আল্লাহ্রই জন্য। তিনিই তাদের মধ্যে ফায়ছালা করবেন। অতঃপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করবে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করবে তারা নে‘মতপূর্ণ জান্নাতে থাকবে।
আর যারা অবিশ্বাস করবে ও আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করবে, তাদের জন্য থাকবে হীনকর শাস্তি।
আর যারা আল্লাহ্র পথে হিজরত করেছে ও নিহত হয়েছে কিংবা মৃত্যুবরণ করেছে, আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই (জান্নাতে) উত্তম রিযিক দান করবেন। আর আল্লাহ, নিশ্চয় তিনিই তো শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
অবশ্যই তিনি তাদেরকে এমন স্থানে প্রবেশ করাবেন, যাকে তারা পসন্দ করবে। আর আল্লাহ, তিনিই তো বিজ্ঞ ও সহনশীল।
এটাই হ’ল ফলাফল। আর যে ব্যক্তি প্রতিশোধ গ্রহণ করে যে পরিমাণ তার উপর নির্যাতন করা হয়েছে, অতঃপর সে পুনরায় অত্যাচারিত হয়, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী ও ক্ষমাশীল।
এটা এজন্য যে, আল্লাহ প্রবেশ করান রাত্রিকে দিবসের মধ্যে এবং প্রবেশ করান দিবসকে রাত্রির মধ্যে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও দেখেন।
এটা একারণেও যে, কেবলমাত্র আল্লাহই সত্য এবং তিনি ব্যতীত যাকে তারা ডাকে সবই মিথ্যা। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোচ্চ ও মহিয়ান।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন। অতঃপর পৃথিবী সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে? নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী ও সকল বিষয়ে অবগত।
তারই জন্য সবকিছু, যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুকে এবং তাঁর নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযান সমূহকে? আর তিনি আকাশকে ধরে রেখেছেন যেন তা পৃথিবীর উপর পতিত না হয় তাঁর অনুমতি ব্যতীত। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
আর তিনিই তো সেই সত্তা যিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। অতঃপর তোমাদের মৃত্যু দান করবেন। অতঃপর পুনরায় তোমাদের জীবিত করবেন। বস্ত্তত মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।
প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা ইবাদতের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে থাকে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে তোমার সাথে বিতন্ডা না করে। আর তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহবান কর। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।
আর যদি তারা তোমার সাথে ঝগড়া করে, তবে বলে দাও যে, তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।
যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ, সে বিষয়ে আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দিবেন।
তুমি কি জানোনা যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহ জানেন? সবই লিপিবদ্ধ আছে এক কিতাবে। আর এটা আল্লাহ্র নিকটে খুবই সহজ।
আর তারা আল্লাহ্র পরিবর্তে এমন কিছুর পূজা করে, যে বিষয়ে তিনি কোন প্রমাণ নাযিল করেননি এবং যার সম্বন্ধে তাদের কোন জ্ঞান নেই। বস্ত্তত সীমালংঘনকারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।
যখন তাদের উপর আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তুমি অবিশ্বাসীদের চেহারায় অসন্তোষ দেখতে পাবে। যারা তাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করে, তাদের উপর তারা হামলা করতে উদ্যত হয়। তুমি বল, তবে কি আমি তোমাদেরকে এর চাইতে মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? আর তা হ’ল ‘আগুন’। আল্লাহ যার ওয়াদা করেছেন অবিশ্বাসীদের জন্য। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই ঠিকানা!
হে মানুষ! একটা উপমা দেওয়া হচ্ছে, তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোন। আল্লাহ্র পরিবর্তে তোমরা যাদের পূজা কর, তারা কখনো একটা মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না, যদিও তারা সকলে এজন্য একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবুও তারা তার কাছ থেকে সেটা উদ্ধার করতে পারে না। পূজারী ও পূজ্য, উভয়েই দুর্বল।
তারা আল্লাহ্র যথার্থ মর্যাদা বুঝে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান ও পরাক্রান্ত।
আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও দেখেন।
তাদের সামনে বা পিছনে যা কিছু আছে, সবই তিনি জানেন এবং আল্লাহ্র দিকেই সবকিছু প্রত্যাবর্তিত হবে।
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ কর, সিজদা কর ও তোমাদের পালনকর্তার ইবাদত কর। আর তোমরা সৎকর্ম কর যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার। (সিজদা-৭)
আর তোমরা আল্লাহ্র পথে জিহাদ কর যথার্থ জিহাদ। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। আর তিনি তোমাদের উপর দ্বীনের মধ্যে কোনরূপ সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মের উপর (তোমরা দৃঢ় থাক)। তিনি (আল্লাহ) তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ ইতিপূর্বে এবং এই কিতাবে। যাতে রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষ্যদাতা হন এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবজাতির উপর। অতএব তোমরা ছালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহকে মযবুতভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। কতই না উত্তম অভিভাবক তিনি এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী তিনি!