بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলিফ লাম মীম।
মানুষ কি মনে করে যে, তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে কেবল এতটুকু বললেই যে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অথচ তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না?
আমরা তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি। অতএব আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই জেনে নিবেন কারা মিথ্যাবাদী।
যারা মন্দকর্ম করে তারা কি মনে করে যে, আমাদের আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে? কতই না মন্দ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা!
যে ব্যক্তি আল্লাহ্র দীদার কামনা করে (তার জানা উচিৎ যে,) আল্লাহ্র নির্ধারিত সময়টি আসবেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আর যে ব্যক্তি (আল্লাহ্র পথে) সর্বাত্মক চেষ্টা করে সে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যই সেটা করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে অভাবমুক্ত।
আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে আমরা অবশ্যই তাদের মন্দকর্মগুলি মিটিয়ে দেব এবং তাদের কাজের সর্বোত্তম ফলাফল দান করব।
আর আমরা মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছি তাদের পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য। তবে যদি পিতা-মাতা তোমাকে আমার সাথে শরীক করার জন্য চাপ দেয়, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, সে অবস্থায় তুমি তাদের আনুগত্য করো না। আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। অতঃপর আমি তোমাদের কৃতকর্ম সমূহ জানিয়ে দেব।
বস্ত্তত যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে তাদেরকে আমরা অবশ্যই সৎকর্মশীলদের মধ্যে প্রবেশ করাবো।
আর লোকদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। কিন্তু যখন তারা আল্লাহ্র জন্য নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহ্র গযবের মতই মনে করে। আর যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য আসে, তখন তারা অবশ্যই বলবে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। অথচ বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা সর্বাধিক অবগত নন?
আর অবশ্যই আল্লাহ (প্রমাণ সহ) জেনে নিবেন কারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং অবশ্যই জেনে নিবেন কপট বিশ্বাসীদের।
কাফেররা মুমিনদের বলে তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ কর। আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব। অথচ তারা তাদের পাপভার কিছুই বহন করবে না। ওরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
তারা অবশ্যই নিজেদের পাপভার বহন করবে এবং সেই সাথে অন্যদের পাপভার। আর তারা যেসব মিথ্যারোপ করে, সে বিষয়ে ক্বিয়ামতের দিন তারা অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।
আর আমরা নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিল পঞ্চাশ কম এক হাযার বছর। অতঃপর মহাপ্লাবন তাদেরকে গ্রাস করে। এমতাবস্থায় তারা ছিল সীমালংঘনকারী।
অতঃপর আমরা তাকে এবং (তার অনুসারী) যারা নৌকায় আরোহণ করেছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম। আর বিশ্ববাসীর জন্য এটিকে নিদর্শনে পরিণত করলাম।
আর (স্মরণ কর) ইব্রাহীমের কথা। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর ও তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে।
(সে বলল,) তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিপূজা করছ এবং মিথ্যা (উপাস্যসমূহ) উদ্ভাবন করছ। অথচ আল্লাহ্র পরিবর্তে তোমরা যাদের পূজা কর তারা তোমাদের রূযীর মালিক নয়। অতএব তোমরা আল্লাহ্র নিকট রূযী চাও। আর তোমরা তাঁরই ইবাদত কর এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (মনে রেখ) তার নিকটেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর তোমরা যদি আমাকে মিথ্যাবাদী বল, তাহ’লে তোমাদের পূর্বে বহু জাতি তাদের নবীদের মিথ্যা বলেছে। বস্ত্তত সুস্পষ্টভাবে দাওয়াত পৌঁছানো ব্যতীত রাসূলের উপর অন্য কোন দায়িত্ব নেই।
তারা কি দেখে না কিভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেন? অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই সেটা আল্লাহ্র জন্য খুবই সহজ।
তুমি বল, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ কিভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন পুনরায় সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বস্ত্তর উপরে সর্বশক্তিমান।
তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন ও যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আর তাঁর দিকেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
আর না পৃথিবীতে এবং না আকাশে কোথাও তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। বস্ত্তত আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং কোন সাহায্যকারী নেই।
যারা আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহকে ও তার সঙ্গে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করে, তারা (ক্বিয়ামতের দিন) আমার অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হবে এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
অতঃপর তার কওমের কোন জবাব ছিলনা কেবল এতটুকু বলা ছাড়া যে, তোমরা ওকে হত্যা কর অথবা আগুনে পুড়িয়ে মার। অতঃপর আল্লাহ তাকে অগ্নিকুন্ড থেকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে।
আর ইব্রাহীম বলল, (হে আমার কওম!) তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিগুলিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছ পার্থিব জীবনে পারস্পরিক বন্ধুত্ব রক্ষার খাতিরে। অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তোমরা পরস্পরকে অস্বীকার করবে এবং পরস্পরকে অভিশাপ দিবে। আর তোমাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।
অতঃপর (ভাতিজা) লূত তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করল। ইব্রাহীম বলল, আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করছি। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আর আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকূবকে এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে রেখে দিলাম নবুঅত ও কিতাবকে। আমরা তাকে এর পুরস্কার দিলাম দুনিয়াতে। আর নিশ্চয়ই সে আখেরাতে হবে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
আর তুমি (স্মরণ কর) লূতের কথা। যখন সে তার কওমকে বলল, তোমরা এমন অশ্লীল কর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীতে কেউ করেনি।
তোমরা কি এভাবেই পুংমৈথুনে লিপ্ত থাকবে ও বংশ বৃদ্ধির রাস্তা কর্তন করবে এবং প্রকাশ্য মজলিসে গর্হিত কর্মে লিপ্ত হবে? জবাবে তার কওম কেবল একথাই বলল যে, তুমি আমাদের উপর আল্লাহ্র গযব নিয়ে এসো যদি তুমি সত্যবাদী হও।
তখন সে (নিরাশ হয়ে) বলল, হে আমার পালনকর্তা! বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাকে সাহায্য কর।
আর (স্মরণ কর) যখন আমাদের প্রেরিত দূতেরা (ইসহাক জন্মের) সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের নিকট এল, তখন তারা বলল, আমরা এই (লূতের) জনপদের অধিবাসীদের ধ্বংস করে দেব। নিশ্চয়ই এর অধিবাসীরা সীমালংঘনকারী।
ইব্রাহীম বলল, ঐ জনপদে তো লূত আছে! তারা বলল, সেখানে কারা আছে তা আমরা ভালভাবেই জানি। আমরা অবশ্যই তাকে ও তার পরিবারকে রক্ষা করব। তবে তার স্ত্রী ব্যতীত। সে তো অবশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর যখন আমাদের প্রেরিত দূতেরা লূতের কাছে এল, তখন সে (তাদের মানুষ ভেবে) বিব্রত হয়ে পড়ল এবং তাদের বাঁচাতে নিজেকে অক্ষম মনে করল। তখন দূতেরা বলল, ভীত হবেন না চিন্তিত হবেন না। আমরা আপনাকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করব, তবে আপনার স্ত্রী ব্যতীত। তিনি অবশিষ্টদের (অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্তদের) অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আমরা (আল্লাহ্র হুকুমে) এই জনপদের অধিবাসীদের উপর আকাশ থেকে শাস্তি নাযিল করব তাদের পাপাচারের কারণে।
নিশ্চয়ই এর মধ্যে আমরা জ্ঞানীদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শন রেখেছি।
আর আমরা মাদিয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শো‘আয়েবকে প্রেরণ করেছিলাম। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং বিচার দিবসের (প্রতিদান) কামনা কর। আর তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না।
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করল। অতঃপর তারা স্ব স্ব গৃহে মরে পড়ে রইল।
আর আমরা ‘আদ ও ছামূদ জাতিকে ধ্বংস করেছি। তাদের পরিত্যক্ত বাড়ী সমূহ তোমাদের জন্য এর সুস্পষ্ট প্রমাণ। তাদের অপকর্মগুলিকে শয়তান তাদের নিকট শোভনীয় করেছিল। অতঃপর তাদেরকে আল্লাহ্র পথ থেকে বাধা দিয়েছিল। অথচ তারা ছিল বিচক্ষণ ব্যক্তি।
আর (আমরা ধ্বংস করেছি) ক্বারূণ, ফেরাঊন ও হামানকে। মূসা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিল। তখন তারা যমীনে দম্ভ করতে থাকে। কিন্তু তারা (আমাদের শাস্তিকে) অতিক্রম করতে পারেনি।
অতঃপর তাদের প্রত্যেককে আমরা তাদের পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম। ফলে তাদের কারু প্রতি আমরা প্রেরণ করেছিলাম প্রবল শিলাঝড়। কাউকে পাকড়াও করেছে প্রচন্ড নিনাদ। কাউকে আমরা ধ্বসিয়ে দিয়েছি ভূগর্ভে। কাউকে ডুবিয়ে মেরেছি। বস্ত্তত আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম করেননি। বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার ন্যায়। সে (নিজের নিরাপত্তার জন্য) ঘর তৈরী করে। অথচ ঘর সমূহের মধ্যে মাকড়সার ঘরই তো সবচেয়ে দুর্বল। যদি তারা জানত।
আল্লাহকে ছেড়ে তারা যা কিছুকে আহবান করে, আল্লাহ তা সবই জানেন। তিনি মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
এসব দৃষ্টান্ত আমরা বর্ণনা করি মানুষের জন্য। অথচ তা কেউ অনুধাবন করে না জ্ঞানীরা ব্যতীত।
আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য।
তোমার প্রতি যে কিতাব অহি করা হয়েছে, তুমি তা পাঠ কর এবং ছালাত কায়েম কর। নিশ্চয়ই ছালাত যাবতীয় অশ্লীলতা ও গর্হিত কর্ম হ’তে বিরত রাখে। আর আল্লাহ্র স্মরণই সবচেয়ে বড় কাজ। বস্ত্তত আল্লাহ জানেন যা কিছু তোমরা করে থাক।
আর কিতাবধারীদের সাথে তোমরা বিতর্ক করোনা উত্তম পন্থায় ব্যতীত। তবে তাদের মধ্যে যারা (তোমাদের উপর) যুলুম করে (তারা ব্যতীত)। আর তোমরা বল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা নাযিল হয়েছে আমাদের উপর এবং যা নাযিল হয়েছে তোমাদের উপর। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই। আর আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ।
একইভাবে আমরা তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছি। অতএব যাদের প্রতি আমরা (ইতিপূর্বে) কিতাব নাযিল করেছিলাম, তারা এই কিতাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং এদের (অর্থাৎ কুরায়েশদের) মধ্যেও অনেকে, যারা এতে বিশ্বাস স্থাপন করে। বস্ত্তত কাফেররা ব্যতীত কেউ আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে না।
তুমি তো ইতিপূর্বে কোন কিতাব পাঠ করোনি বা তোমার ডান হাত দিয়ে তুমি কিছু লেখনি। যাতে মিথ্যারোপকারীরা সন্দেহ পোষণ করতে পারে।
বরং যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের হৃদয়ে এটি (কুরআন) স্পষ্ট নিদর্শন। বস্ত্তত যালেমরা ব্যতীত কেউ আমাদের আয়াত সমূহকে অস্বীকার করেনা।
তারা বলে, কেন তার উপরে তার প্রভুর পক্ষ হ’তে নিদর্শন সমূহ নাযিল হয় না? বল, নিদর্শন সমূহ তো কেবল আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। আর আমি তো একজন প্রকাশ্য সতর্ককারী বৈ কিছু নই।
এটাই কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমরা তোমার উপর কুরআন নাযিল করেছি। যা তাদের উপর পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে অনুগ্রহ ও উপদেশ।
তুমি বল, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তিনি জানেন। আর যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
ওরা তোমার নিকট শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ যদি নির্ধারিত সময়কাল না থাকত, তাহ’লে অবশ্যই তাদের উপর আযাব এসে যেত। নিশ্চয়ই তাদের উপর শাস্তি এসে যাবে আকস্মিকভাবে। অথচ তারা বুঝতেও পারবে না।
তারা তোমার নিকট শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ জাহান্নাম তো কাফেরদের বেষ্টন করবেই।
যেদিন (জাহান্নামের) শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে তাদের উপর থেকে ও তাদের পায়ের নীচ থেকে এবং তিনি বলবেন, তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন কর।
হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা! আমার যমীন প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই ইবাদত কর।
প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমাদের নিকটেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
যারা ঈমান আনে ও সে অনুযায়ী সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে স্থান দেব। যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কতই না উত্তম প্রতিদান সৎকর্মশীলদের জন্য!
যারা ধৈর্যধারণ করে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে।
আর এমন বহু প্রাণী আছে যারা তাদের রূযী বহন করেনা। আল্লাহ তাদের রূযী দেন এবং তোমাদেরকেও দেন। বস্ত্তত তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন।
যদি তুমি ওদের জিজ্ঞেস কর আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন এবং কে সূর্য ও চন্দ্রকে অনুগত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তাহ’লে তারা (আল্লাহকে ছেড়ে) কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে?
আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে চান রিযিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত।
যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর, কে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দিয়ে মৃত যমীনকে জীবিত করেন? নিশ্চয়ই তারা বলবে, আল্লাহ। তুমি বল, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশ অনুধাবন করেনা।
এই পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা ব্যতীত কিছু নয়। আর পরকালীন জীবন হ’ল চিরস্থায়ী যদি তারা জানত!
যখন তারা নৌযানে আরোহণ করে, তখন বিশুদ্ধ চিত্তে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর যখন আল্লাহ তাদেরকে উদ্ধার করে স্থলভাগে পৌঁছে দেন, তখন তারা অন্যকে শরীক সাব্যস্ত করে।
ফলে তাদের প্রতি আমাদের অনুগ্রহকে তারা অস্বীকার করে এবং দুনিয়া ভোগে মত্ত হয়। অতএব অচিরেই তারা জানতে পারবে।
তারা কি দেখে না যে, আমরা হারামকে (মক্কাকে) নিরাপদ করেছি। অথচ তার (বাইরে) চতুষ্পার্শ্বে যারা আছে, তারা উৎখাত হয়। তাহ’লে কি তারা মিথ্যার উপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহ্র নে‘মতকে অস্বীকার করবে?
তার চাইতে বড় যালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে অথবা তার কাছে সত্য এসে যাওয়ার পরেও তাকে মিথ্যা বলে? অতঃপর জাহান্নামেই কি অবিশ্বাসীদের ঠিকানা নয়?
আর যারা আমাদের রাস্তায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের রাস্তা সমূহের দিকে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে থাকেন।