৩৭

সূরাঃ ছা-ফফা-ত ()

মাক্কীমোট আয়াত ১৮২ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّاۙ

শপথ সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান ফেরেশতাদের।

فَالزّٰجِرٰتِ زَجۡرًاۙ

শপথ হাঁকিয়ে নেওয়া ফেরেশতাদের।

فَالتّٰلِيٰتِ ذِكۡرًاۙ

শপথ আল্লাহ্র যিকরে রত ফেরেশতাদের।

اِنَّ اِلٰهَكُمۡ لَوَاحِدٌؕ

নিশ্চয়ই তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন।

رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَرَبُّ الۡمَشَارِقِؕ

যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক এবং প্রতিপালক উদয়াচল সমূহের।

اِنَّا زَيَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡيَا بِزِيۡنَةِ اۨلۡكَوَاكِبِۙ

নিশ্চয়ই আমরা নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্য দ্বারা সুশোভিত করেছি।

وَحِفۡظًا مِّنۡ كُلِّ شَيۡطٰنٍ مَّارِدٍۚ

এবং তাকে নিরাপদ করেছি সকল অবাধ্য শয়তান হ’তে।

لَّا يَسَّمَّعُوۡنَ اِلَى الۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰى وَيُقۡذَفُوۡنَ مِنۡ كُلِّ جَانِبٍۖ ‏

ওরা ঊর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শুনতে পারে না। আর চার দিক থেকে ওদের প্রতি (উল্কা) নিক্ষেপ করা হয়,

دُحُوۡرًا  وَّلَهُمۡ عَذَابٌ وَّاصِبٌۙ

ওদেরকে তাড়ানোর জন্য। আর ওদের জন্য রয়েছে বিরতিহীন শাস্তি।

اِلَّا مَنۡ خَطِفَ الۡخَطۡفَةَ فَاَتۡبَعَهٗ شِهَابٌ ثَاقِبٌ‏

তবে কেউ ঢুঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।

فَاسۡتَفۡتِهِمۡ اَهُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَاؕ اِنَّا خَلَقۡنٰهُمۡ مِّنۡ طِيۡنٍ لَّازِبٍ‏

অতএব তুমি অবিশ্বাসীদের জিজ্ঞেস কর তাদের সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না এইসব যা আমরা সৃষ্টি করেছি, এগুলি সৃষ্টি করা অধিক কঠিন? বস্ত্তত আমরা তাদের সৃষ্টি করেছি আঁঠাল মাটি দিয়ে।

بَلۡ عَجِبۡتَ وَيَسۡخَرُوۡنَ‏

বরং (তাদের অস্বীকারে) তুমি তো বিস্ময় বোধ করছ। আর তারা বিদ্রুপ করছে।

وَاِذَا ذُكِّرُوۡا لَا يَذۡكُرُوۡنَ‏

যখন তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়, তারা তা গ্রহণ করে না।

وَاِذَا رَاَوۡا اٰيَةً يَّسۡتَسۡخِرُوۡنَ‏

আর যখন তারা কোন নিদর্শন (মু‘জেযা) দেখে, তখন উপহাস করে।

وَقَالُوۡۤا اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِيۡنٌۖ ۚ

এবং বলে যে, এগুলি স্পষ্ট জাদু ব্যতীত কিছু নয়।

ءَاِذَا مِتۡنَا وَكُـنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَۙ ‏ 

আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?

اَوَاٰبَآؤُنَا الۡاَوَّلُوۡنَؕ

আর আমাদের পূর্ব পুরুষেরাও?

قُلۡ نَعَمۡ وَاَنۡـتُمۡ دٰخِرُوۡنَۚ

তুমি বল, হ্যাঁ। আর তোমরা উঠবে লাঞ্ছিত অবস্থায়।

فَاِنَّمَا هِىَ زَجۡرَةٌ وَّاحِدَةٌ فَاِذَا هُمۡ يَنۡظُرُوۡنَ‏

আর সেটি একটি নিনাদ বৈ কিছুই নয়। আর তখনই তারা সব প্রত্যক্ষ করবে।

وَقَالُوۡا يٰوَيۡلَنَا هٰذَا يَوۡمُ الدِّيۡنِ‏

এবং বলবে, হায় দুর্ভোগ আমাদের! এটাই তো সেই কর্মফল দিবস।

هٰذَا يَوۡمُ الۡفَصۡلِ الَّذِىۡ كُنۡتُمۡ بِهٖ تُكَذِّبُوۡنَ‏

(বলা হবে, হ্যাঁ) এটাই সেই ফায়ছালার দিন। যাতে তোমরা মিথ্যারোপ করতে।

اُحۡشُرُوا الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡا وَاَزۡوَاجَهُمۡ وَمَا كَانُوۡا يَعۡبُدُوۡنَۙ ‏ 

(ফেরেশতাদের বলা হবে) তোমরা জমা কর যালেমদের ও তাদের সাথীদের এবং যাদের ওরা পূজা করত-

مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ فَاهۡدُوۡهُمۡ اِلٰى صِرَاطِ الۡجَحِيۡمِ‏

আল্লাহ্র পরিবর্তে। আর তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের পথে।

وَقِفُوۡهُمۡ​ اِنَّهُمۡ مَّسْـُٔـوۡلُوۡنَۙ

আর থামাও ওদেরকে। নিশ্চয়ই ওরা জিজ্ঞাসিত হবে।

مَا لَـكُمۡ لَا تَنَاصَرُوۡنَ‏

তোমাদের কি হ’ল যে, তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করছ না?

بَلۡ هُمُ الۡيَوۡمَ مُسۡتَسۡلِمُوۡنَ‏

বরং তারা সেদিন সকলে আজ্ঞাবহ হবে।

وَاَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍ يَّتَسَآءَلُوۡنَ‏

এবং তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

قَالُوۡۤا اِنَّكُمۡ كُنۡتُمۡ تَاۡتُوۡنَنَا عَنِ الۡيَمِيۡنِ‏

তারা বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে (প্রবলভাবে) আসতে (পথভ্রষ্ট করার জন্য)।

قَالُوۡا بَلْ لَّمۡ تَكُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِيۡنَۚ

তারা বলবে, বরং তোমরাই তো বিশ্বাসী ছিলে না।

وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيۡكُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنِۚ بَلۡ كُنۡتُمۡ قَوۡمًا طٰغِيۡنَ‏ 

আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না। বরং তোমরাই ছিলে অবাধ্য সম্প্রদায়।

فَحَقَّ عَلَيۡنَا قَوۡلُ رَبِّنَآۖ  اِنَّا لَذَآٮِٕقُوۡنَ‏

অতঃপর আমাদের উপর আমাদের প্রতিপালকের কথাই সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

فَاَغۡوَيۡنٰكُمۡ اِنَّا كُنَّا غٰوِيۡنَ‏

আমরা তোমাদেরকে বিপথগামী করেছিলাম। কারণ আমরাই ছিলাম পথভ্রষ্ট।

فَاِنَّهُمۡ يَوۡمَٮِٕذٍ فِى الۡعَذَابِ مُشۡتَرِكُوۡنَ‏

ফলে সেদিন (নেতা-কর্মী) সবাই শাস্তির মধ্যে পরস্পরে শরীক হবে।

اِنَّا كَذٰلِكَ نَفۡعَلُ بِالۡمُجۡرِمِيۡنَ‏

অপরাধীদের সাথে আমরা এরূপই আচরণ করে থাকি।

اِنَّهُمۡ كَانُوۡۤا اِذَا قِيۡلَ لَهُمۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُۙ يَسۡتَكۡبِرُوۡنَۙ ‏ 

যখন তাদেরকে বলা হ’ত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তখন তারা দম্ভ করত।

وَيَقُوۡلُوۡنَ اَٮِٕنَّا لَتٰرِكُوۡۤا اٰلِهَـتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجۡـنُوۡنٍؕ

আর বলত, আমরা কি একজন উন্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?

بَلۡ جَآءَ بِالۡحَقِّ وَصَدَّقَ الۡمُرۡسَلِيۡنَ‏

(আল্লাহ বলেন) বরং সে তো সত্যসহ আগমন করেছে এবং সে পূর্বেকার রাসূলদের সত্যায়ন করেছে।

اِنَّكُمۡ لَذَآٮِٕقُوا الۡعَذَابِ الۡاَلِيۡمِۚ

অতএব (অবিশ্বাসের বদলা হিসাবে) তোমরা অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে।

وَمَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَۙ

এবং তোমরা অবশ্যই তোমাদের কর্মফল প্রাপ্ত হবে।

اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ‏

তবে তারা নয়, যারা আল্লাহ্র একনিষ্ঠ বান্দা।

اُولٰٓٮِٕكَ لَهُمۡ رِزۡقٌ مَّعۡلُوۡمٌۙ

তাদের জন্য রয়েছে (জান্নাতের) সুবিদিত রিযিক-

فَوَاكِهُۚ وَهُمۡ مُّكۡرَمُوۡنَۙ

নানা প্রকার ফলমূল এবং তারা হবে সম্মানিত।

فِىۡ جَنّٰتِ النَّعِيۡمِۙ

তারা থাকবে নে‘মতপূর্ণ জান্নাতে।

عَلٰى سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِيۡنَ‏

মুখোমুখি আসন সমূহে উপবিষ্ট হয়ে।

يُطَافُ عَلَيۡهِمۡ بِكَاۡسٍ مِّنۡ مَّعِيۡنٍۢۙ

প্রবহমান বিশুদ্ধ শরাবের পাত্র তাদেরকে পরিবেশন করা হবে।

بَيۡضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشّٰرِبِيۡنَۖ ۚ

যা স্বচ্ছ এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।

لَا فِيۡهَا غَوۡلٌ وَّلَا هُمۡ عَنۡهَا يُنۡزَفُوۡنَ‏

তাতে কোন অনিষ্টকারিতা থাকবে না বা তারা জ্ঞান হারাবে না।

وَعِنۡدَهُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ عِيۡنٌۙ

আর তাদের নিকট থাকবে আনত নয়না হূরগণ।

كَاَنَّهُنَّ بَيۡضٌ مَّكۡنُوۡنٌ‏

তারা হবে সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ।

فَاَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍ يَّتَسَآءَلُوۡنَ‏

তারা পরস্পরে মুখোমুখি হয়ে কুশল বিনিময় করবে।

قَالَ قَآٮِٕلٌ مِّنۡهُمۡ اِنِّىۡ كَانَ لِىۡ قَرِيۡنٌۙ

তাদের মধ্যে কেউ বলবে, আমার এক (মন্দ) সাথী ছিল-

يَقُوۡلُ اَءِ نَّكَ لَمِنَ الۡمُصَدِّقِيۡنَ‏

সে বলত, তুমি কি তবে এতে বিশ্বাসী যে,

ءَاِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَدِيۡنُوۡنَ‏

আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব, তখনও কি আমরা কর্মফল প্রাপ্ত হব?

قَالَ هَلۡ اَنۡتُمۡ مُّطَّلِعُوۡنَ‏

এ সময় (জান্নাতী ব্যক্তি তার সাথীদের) বলবে, তোমরা কি (ঐ মন্দ সাথীকে) উঁকি মেরে দেখবে?

فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِىۡ سَوَآءِ الۡجَحِيۡمِ‏

অতঃপর সে উঁকি মারবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।

قَالَ تَاللّٰهِ اِنۡ كِدْتَّ لَـتُرۡدِيۡنِۙ

তখন সে তাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, আল্লাহ্র কসম! দুনিয়ায় তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে ফেলেছিলে?

وَلَوۡلَا نِعۡمَةُ رَبِّىۡ لَـكُنۡتُ مِنَ الۡمُحۡضَرِيۡنَ‏

যদি আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকত, তাহ’লে তো অবশ্যই আমি জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হ’তাম!

اَفَمَا نَحۡنُ بِمَيِّتِيۡنَۙ

এখন আর আমাদের মৃত্যু হবে না-

اِلَّا مَوۡتَتَـنَا الۡاُوۡلٰى وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِيۡنَ‏

আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত। আর আমরা শাস্তিও প্রাপ্ত হবনা।

اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِيۡمُ‏

নিশ্চয়ই এটি মহা সাফল্য।

لِمِثۡلِ هٰذَا فَلۡيَعۡمَلِ الۡعٰمِلُوۡنَ‏

এরূপ সাফল্যের জন্যই (দুনিয়াতে) আমলকারীদের আমল করা উচিৎ।

اَذٰ لِكَ خَيۡرٌ نُّزُلًا اَمۡ شَجَرَةُ الزَّقُّوۡمِ‏

আপ্যায়নের জন্য এটাই কি উত্তম, নাকি যাক্কূম বৃক্ষ?

اِنَّا جَعَلۡنٰهَا فِتۡنَةً لِّلظّٰلِمِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই এটা আমরা যালেমদের জন্য সৃষ্টি করেছি পরীক্ষা স্বরূপ।

اِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخۡرُجُ فِىۡۤ اَصۡلِ الۡجَحِيۡمِۙ

এটি এমন বৃক্ষ, যা উদ্গত হয়েছে জাহান্নামের তলদেশ থেকে।

طَلۡعُهَا كَاَنَّهٗ رُءُوۡسُ الشَّيٰطِيۡنِ‏

এর শীর্ষভাগ যেন শয়তানের মাথা।

فَاِنَّهُمۡ لَاٰكِلُوۡنَ مِنۡهَا فَمٰلِــُٔــوۡنَ مِنۡهَا الۡبُطُوۡنَؕ ‏ 

এ থেকে তারা ভক্ষণ করবে। অতঃপর এ দিয়েই তারা পেট ভরবে।

ثُمَّ اِنَّ لَهُمۡ عَلَيۡهَا لَشَوۡبًا مِّنۡ حَمِيۡمٍۚ

অধিকন্তু তাদের জন্য তাতে থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।

ثُمَّ اِنَّ مَرۡجِعَهُمۡ لَا۟اِلَى الۡجَحِيۡمِ‏

অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে অবশ্যই জাহান্নামের দিকে।

اِنَّهُمۡ اَلۡفَوۡا اٰبَآءَهُمۡ ضَآلِّيۡنَۙ

তারা তাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছিল পথভ্রষ্ট রূপে।

فَهُمۡ عَلٰٓى اٰثٰرِهِمۡ يُهۡرَعُوۡنَ‏

ফলে তারা তাদের পদাংক অনুসরণের প্রতি দ্রুত ধাবিত হয়েছিল।

وَلَـقَدۡ ضَلَّ قَبۡلَهُمۡ اَكۡثَرُ الۡاَوَّلِيۡنَۙ

বস্ত্তত তাদের আগেও পূর্ববর্তীদের অধিকাংশ পথভ্রষ্ট হয়েছিল।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا فِيۡهِمۡ مُّنۡذِرِيۡنَ‏

আর আমরা তাদের মধ্যেও সতর্ককারী প্রেরণ করেছিলাম।

فَانْظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُنۡذَرِيۡنَۙ

সুতরাং তুমি দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।

اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ‏

তবে আল্লাহ্র একনিষ্ঠ বান্দাগণ ব্যতীত।

وَلَقَدۡ نَادٰٮنَا نُوۡحٌ فَلَنِعۡمَ الۡمُجِيۡبُوۡنَۖ

আর নিশ্চয়ই নূহ আমাদের নিকট (সাহায্যের জন্য) আহবান করেছিল। অতঃপর কত উত্তমভাবেই না আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম!

وَنَجَّيۡنٰهُ وَاَهۡلَهٗ مِنَ الۡكَرۡبِ الۡعَظِيۡمِۖ

আমরা তাকে ও তার (ঈমানদার) সাথীদের মহাবিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম।

وَجَعَلۡنَا ذُرِّيَّتَهٗ هُمُ الۡبٰقِيۡنَۖ

এবং তার বংশধরগণকেই কেবল আমরা অবশিষ্ট রেখেছিলাম।

وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِى الۡاٰخِرِيۡنَۖ

আর পরবর্তীদের মধ্যে আমরা তার প্রশংসাবাণী অব্যাহত রেখেছি।

سَلٰمٌ عَلٰى نُوۡحٍ فِى الۡعٰلَمِيۡنَ‏

বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক!

اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই সে ছিল আমাদের বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِيۡنَ‏

আর আমরা অন্যদেরকে ডুবিয়ে মেরেছিলাম।

وَاِنَّ مِنۡ شِيۡعَتِهٖ لَاِبۡرٰهِيۡمَۘ

আর নিশ্চয়ই নূহের দ্বীনভুক্ত ছিল ইব্রাহীম।

اِذۡ جَآءَ رَبَّهٗ بِقَلۡبٍ سَلِيۡمٍ‏

যখন সে তার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ চিত্তে।

اِذۡ قَالَ لِاَبِيۡهِ وَقَوۡمِهٖ مَاذَا تَعۡبُدُوۡنَۚ

যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিল তোমরা কিসের পূজা কর?

اَٮِٕفۡكًا اٰلِهَةً دُوۡنَ اللّٰهِ تُرِيۡدُوۡنَؕ

তোমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে মিথ্যা উপাস্যদের কামনা করছ?

فَمَا ظَنُّكُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏

তাহ’লে জগত সমূহের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?

فَنَظَرَ نَظۡرَةً فِى النُّجُوۡمِۙ

অতঃপর সে একবার নক্ষত্ররাজির দিকে তাকালো।

فَقَالَ اِنِّىۡ سَقِيۡمٌ‏

অতঃপর বলল, আমি অসুস্থ।

فَتَوَلَّوۡا عَنۡهُ مُدۡبِرِيۡنَ‏

ফলে তারা তার থেকে পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল।

فَرَاغَ اِلٰٓى اٰلِهَتِهِمۡ فَقَالَ اَلَا تَاۡكُلُوۡنَۚ

পরে সে তাদের দেবতাগুলির নিকটে গেল এবং বলল, তোমরা কি খাবে না?

مَا لَـكُمۡ لَا تَنۡطِقُوۡنَ‏

তোমাদের কি হয়েছে যে কথা বলছ না?

فَرَاغَ عَلَيۡهِمۡ ضَرۡبًۢا بِالۡيَمِيۡنِ‏

অতঃপর সে তাদের উপর প্রবল বেগে আঘাত করল।

فَاَقۡبَلُوۡۤا اِلَيۡهِ يَزِفُّوۡنَ‏

অতঃপর সম্প্রদায়ের লোকেরা তার নিকট দ্রুত ছুটে এল।

قَالَ اَتَعۡبُدُوۡنَ مَا تَنۡحِتُوۡنَۙ

সে বলল, তোমরা তোমাদের হাতেগড়া মূর্তির পূজা করছ?

وَاللّٰهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُوۡنَ‏

অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে ও তোমাদের কর্ম সমূহকে সৃষ্টি করেছেন।

قَالُوا ابۡنُوۡا لَهٗ بُنۡيَانًا فَاَلۡقُوۡهُ فِى الۡجَحِيۡمِ‏

তারা বলল, এর জন্য একটা উঁচু চার দেওয়াল নির্মাণ কর। অতঃপর তার মধ্যে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে ওকে নিক্ষেপ কর।

فَاَرَادُوۡا بِهٖ كَيۡدًا فَجَعَلۡنٰهُمُ الۡاَسۡفَلِيۡنَ‏

এর মাধ্যমে তারা (ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে) মহা চক্রান্তের সংকল্প করল। তখন আমরা তাদেরকে ব্যর্থ করে দিলাম।

وَقَالَ اِنِّىۡ ذَاهِبٌ اِلٰى رَبِّىۡ سَيَهۡدِيۡنِ‏

অতঃপর ইব্রাহীম বলল, আমি চললাম আমার প্রতিপালকের দিকে। তিনি অবশ্যই আমাকে সুপথ প্রদর্শন করবেন।

رَبِّ هَبۡ لِىۡ مِنَ الصّٰلِحِيۡنَ‏

(সে প্রার্থনা করল,) হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে একটি সুসন্তান দান কর।

فَبَشَّرۡنٰهُ بِغُلٰمٍ حَلِيۡمٍ‏

অতঃপর আমরা তাকে একটি সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعۡىَ قَالَ يٰبُنَىَّ اِنِّىۡۤ اَرٰى فِى الۡمَنَامِ اَنِّىۡۤ اَذۡبَحُكَ فَانْظُرۡ مَاذَا تَرٰىؕ قَالَ يٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ​ سَتَجِدُنِىۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِيۡنَ‏

অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরার বয়সে উপনীত হ’ল, তখন ইব্রাহীম তাকে বলল, হে আমার পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবহ করছি। এখন ভেবে দেখ তোমার অভিমত কি? সে বলল, হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।

فَلَمَّاۤ اَسۡلَمَا وَتَلَّهٗ لِلۡجَبِيۡنِۚ

অতঃপর পিতা-পুত্র উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং পিতা পুত্রকে উপুড় করে ফেলল।

وَنَادَيۡنٰهُ اَنۡ يّٰۤاِبۡرٰهِيۡمُۙ

তখন আমরা তাকে ডাক দিলাম হে ইব্রাহীম!

قَدۡ صَدَّقۡتَ الرُّءۡيَاۚ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

অবশ্যই তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الۡبَلٰٓؤُا الۡمُبِيۡنُ‏

নিশ্চয়ই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা।

وَفَدَيۡنٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِيۡمٍ‏

আর আমরা তার বিনিময়ে তাকে দান করলাম একটি মহান কুরবানী।

وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِى الۡاٰخِرِيۡنَۖ

এবং আমরা তার প্রশংসাবাণী অব্যাহত রাখলাম পরবর্তীদের মধ্যে।

سَلٰمٌ عَلٰٓى اِبۡرٰهِيۡمَ‏

ইব্রাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক!

كَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই সে ছিল আমাদের বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

وَبَشَّرۡنٰهُ بِاِسۡحٰقَ نَبِيًّا مِّنَ الصّٰلِحِيۡنَ‏

আর আমরা তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের। সে ছিল নবী ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

وَبٰرَكۡنَا عَلَيۡهِ وَعَلٰٓى اِسۡحٰقَؕ وَ مِنۡ ذُرِّيَّتِهِمَا مُحۡسِنٌ وَّظَالِمٌ لِّنَفۡسِهٖ مُبِيۡنٌ​‏

আমরা তার উপর ও ইসহাকের উপর বরকত দান করেছি। আর উভয়ের বংশধরগণের মধ্যে কিছু ছিল সৎকর্মশীল ও কিছু ছিল নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী।

وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلٰى مُوۡسٰى وَهٰرُوۡنَۚ

আর নিশ্চয়ই আমরা অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারূণের উপর।

وَنَجَّيۡنٰهُمَا وَقَوۡمَهُمَا مِنَ الۡكَرۡبِ الۡعَظِيۡمِۚ

তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে আমরা রক্ষা করেছিলাম মহাবিপদ থেকে।

وَنَصَرۡنٰهُمۡ فَكَانُوۡا هُمُ الۡغٰلِبِيۡنَۚ

আমরা তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম। ফলে তারাই হয়েছিল বিজয়ী।

وَاٰتَيۡنٰهُمَا الۡكِتٰبَ الۡمُسۡتَبِيۡنَۚ

আর আমরা উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব (তওরাত)।

وَهَدَيۡنٰهُمَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۚ

এবং উভয়কে আমরা সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম।

وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِمَا فِى الۡاٰخِرِيۡنَۙ

আর উভয়ের সুখ্যাতি আমরা পরবর্তীদের মধ্যে অব্যাহত রেখেছি।

سَلٰمٌ عَلٰى مُوۡسٰى وَهٰرُوۡنَ‏

মূসা ও হারূণের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক!

اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

اِنَّهُمَا مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

তারা উভয়ে ছিল আমাদের বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

وَاِنَّ اِلۡيَاسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ

আর নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রাসূলগণের অন্যতম।

اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهٖۤ اَلَا تَتَّقُوۡنَ‏

(স্মরণ কর) যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না?

اَتَدۡعُوۡنَ بَعۡلًا وَّتَذَرُوۡنَ اَحۡسَنَ الۡخٰلِقِيۡنَۙ

তোমরা কি বা‘আল দেবতাকে ডাকবে আর পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম স্রষ্টাকে?

اللّٰهَ رَبَّكُمۡ وَرَبَّ اٰبَآٮِٕكُمُ الۡاَوَّلِيۡنَ‏

আল্লাহকে, তোমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের প্রতিপালককে?

فَكَذَّبُوۡهُ فَاِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَۙ

তখন তারা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করল। ফলে তাদেরকে অবশ্যই (শাস্তির জন্য) উপস্থিত করা হবে।

اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ‏

তবে আল্লাহ্র একনিষ্ঠ বান্দাগণ ব্যতীত।

وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِى الۡاٰخِرِيۡنَۙ

আমরা তার সুখ্যাতি পরবর্তীদের মধ্যে অব্যাহত রেখেছি।

سَلٰمٌ عَلٰٓى اِلۡ يَاسِيۡنَ‏

শান্তি বর্ষিত হৌক ইলিয়াসের উপর!

اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

আমরা এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই সে ছিল আমাদের বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

وَاِنَّ لُوۡطًا لَّمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ

আর লূত ছিল রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।

اِذۡ نَجَّيۡنٰهُ وَاَهۡلَهٗۤ اَجۡمَعِيۡنَۙ

আমরা তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম।

اِلَّا عَجُوۡزًا فِى الۡغٰبِرِيۡنَ‏

একজন বৃদ্ধা ব্যতীত; সে ছিল অবশিষ্টদের (অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্তদের) অন্তর্ভুক্ত।

ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِيۡنَ‏

অতঃপর অন্যদের আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

وَاِنَّكُمۡ لَتَمُرُّوۡنَ عَلَيۡهِمۡ مُّصۡبِحِيۡنَۙ

আর তোমরা তো তাদের (ধ্বংসাবশেষের) উপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক সকালে-

وَبِالَّيۡلِؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ​‏

ও সন্ধ্যায়। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?

وَاِنَّ يُوۡنُسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ

আর নিশ্চয়ই ইউনুস ছিল রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।

اِذۡ اَبَقَ اِلَى الۡفُلۡكِ الۡمَشۡحُوۡنِۙ

যখন সে পালিয়ে গিয়ে একটি ভরা নৌকায় পৌঁছেছিল।

فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الۡمُدۡحَضِيۡنَۚ

অতঃপর সে লটারীতে অংশ নিল এবং পরাভূত হ’ল।

فَالۡتَقَمَهُ الۡحُوۡتُ وَهُوَ مُلِيۡمٌ‏

তখন (নদীতে নিক্ষিপ্ত হ’লে) একটি মাছ তাকে গিলে ফেলল। এমতাবস্থায় সে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিল।

فَلَوۡلَاۤ اَنَّهٗ كَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِيۡنَۙ

যদি সে এ সময় আল্লাহ্র গুণগানকারী না হ’ত,

لَلَبِثَ فِىۡ بَطۡنِهٖۤ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَۚ

তাহ’লে সে তার পেটে অবস্থান করত পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।

فَنَبَذۡنٰهُ بِالۡعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيۡمٌۚ

অতঃপর আমরা তাকে নিক্ষেপ করলাম (নদী তীরের) উন্মুক্ত স্থানে অসুস্থ অবস্থায়।

وَاَنۡۢبَتۡنَا عَلَيۡهِ شَجَرَةً مِّنۡ يَّقۡطِيۡنٍۚ

আর আমরা তার উপর উৎপন্ন করলাম একপ্রকার লতাজাতীয় বৃক্ষ।

وَاَرۡسَلۡنٰهُ اِلٰى مِائَةِ اَلۡفٍ اَوۡ يَزِيۡدُوۡنَۚ

অতঃপর আমরা তাকে এক লাখ বা তার বেশী লোকদের প্রতি প্রেরণ করলাম।

فَاٰمَنُوۡا فَمَتَّعۡنٰهُمۡ اِلٰى حِيۡنٍؕ

ফলে তারা ঈমান আনল। অতঃপর আমরা তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগের সুযোগ দিলাম।

فَاسۡتَفۡتِهِمۡ اَلِرَبِّكَ الۡبَنَاتُ وَلَهُمُ الۡبَنُوۡنَۙ

এখন তুমি কাফেরদের জিজ্ঞেস কর, তাহ’লে কি তোমার প্রতিপালকের জন্য কন্যা সন্তান ও তাদের জন্য পুত্র সন্তান?

اَمۡ خَلَقۡنَا الۡمَلٰٓٮِٕكَةَ اِنَاثًا وَّهُمۡ شٰهِدُوۡنَ‏

নাকি আমরা তাদের উপস্থিতিতে ফেরেশতাদের নারীরূপে সৃষ্টি করেছি?

اَلَاۤ اِنَّهُمۡ مِّنۡ اِفۡكِهِمۡ لَيَقُوۡلُوۡنَۙ

সাবধান! তারা নিকৃষ্টতম মিথ্যা বলে,

وَلَدَ اللّٰهُۙ وَاِنَّهُمۡ لَـكٰذِبُوۡنَ‏

(এই মর্মে যে,) আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

اَصۡطَفَى الۡبَنَاتِ عَلَى الۡبَنِيۡنَؕ

তিনি কি পুত্র সন্তানের উপর কন্যা সন্তানকে বেছে নিয়েছেন?

مَا لَـكُمۡ كَيۡفَ تَحۡكُمُوۡنَ‏

তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা কেমন বিচার করছ?

اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَۚ

তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

اَمۡ لَـكُمۡ سُلۡطٰنٌ مُّبِيۡنٌۙ

নাকি তোমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ আছে?

فَاۡتُوۡا بِكِتٰبِكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِيۡنَ‏

তাহ’লে তোমাদের সেই কিতাব নিয়ে এস যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

وَجَعَلُوۡا بَيۡنَهٗ وَبَيۡنَ الۡجِنَّةِ نَسَبًاؕ ​ وَلَقَدۡ عَلِمَتِ الۡجِنَّةُ اِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَۙ

তারা আল্লাহ ও জিনদের মধ্যে বংশধারা সাব্যস্ত করেছে। অথচ জিনেরা জানে যে, তাদেরকে অবশ্যই হাযির করা হবে (শাস্তির জন্য)।

سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يَصِفُوۡنَۙ

বস্ত্তত তারা যেসব কথা বলে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।

اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ‏

তবে আল্লাহ্র একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।

فَاِنَّكُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَۙ

কেননা তোমরা এবং তোমরা যাদের পূজা কর,

مَاۤ اَنۡـتُمۡ عَلَيۡهِ بِفٰتِنِيۡنَۙ

কেউই (তাদের) ফিৎনায় ফেলতে পারবে না।

اِلَّا مَنۡ هُوَ صَالِ الۡجَحِيۡمِ‏

কেবল জাহান্নামে প্রবেশকারীকে ব্যতীত।

وَمَا مِنَّاۤ اِلَّا لَهٗ مَقَامٌ مَّعۡلُوۡمٌۙ

আর আমাদের (ফেরেশতাদের) প্রত্যেকের জন্য রয়েছে ইবাদতের নির্দিষ্ট স্থান।

وَّاِنَّا لَـنَحۡنُ الصَّآفُّوۡنَۚ

(তারা বলে) আমরা তো সারিবদ্ধভাবে (আল্লাহ্র সম্মুখে) দন্ডায়মান থাকি।

وَاِنَّا لَـنَحۡنُ الۡمُسَبِّحُوۡنَ‏

এবং আমরা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি।

وَاِنۡ كَانُوۡا لَيَقُوۡلُوۡنَۙ

আর তারা (কাফেররা) তো বলত-

لَوۡ اَنَّ عِنۡدَنَا ذِكۡرًا مِّنَ الۡاَوَّلِيۡنَۙ

যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের ন্যায় কোন কিতাব থাকত-

لَـكُنَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ‏

তাহ’লে অবশ্যই আমরা আল্লাহ্র একনিষ্ঠ বান্দা হ’তাম।

فَكَفَرُوۡا بِهٖ​ فَسَوۡفَ يَعۡلَمُوۡنَ‏

অতঃপর তারা কুরআনকে অস্বীকার করল। অতএব সত্বর তারা জানতে পারবে।

وَلَقَدۡ سَبَقَتۡ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الۡمُرۡسَلِيۡنَۖ ۚ

আর রাসূল হিসাবে প্রেরিত আমাদের বান্দাদের সম্পর্কে আমাদের বাক্য পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে আছে যে,

اِنَّهُمۡ لَهُمُ الۡمَنۡصُوۡرُوۡنَ ‏

নিশ্চয় তারাই হবে সাহায্যপ্রাপ্ত।-

وَاِنَّ جُنۡدَنَا لَهُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ‏

এবং নিশ্চয় আমাদের বাহিনীই হবে বিজয়ী।

فَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتّٰى حِيۡنٍۙ

অতএব তুমি কিছু সময়ের জন্য ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাক

وَاَبۡصِرۡهُمۡ فَسَوۡفَ يُبۡصِرُوۡنَ‏

এবং ওদের পর্যবেক্ষণ করতে থাক। শীঘ্রই ওরা ওদের পরিণাম দেখতে পাবে।

اَفَبِعَذَابِنَا يَسۡتَعۡجِلُوۡنَ‏

ওরা কি তাহ’লে আমাদের শাস্তি দ্রুত কামনা করে?

فَاِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمۡ فَسَآءَ صَبَاحُ الۡمُنۡذَرِيۡنَ‏

অতঃপর যখন তাদের আঙিনায় শাস্তি নেমে আসবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের জন্য সেটি হবে খুবই মন্দ প্রভাত।

وَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتّٰى حِيۡنٍۙ

অতএব কিছু সময়ের জন্য ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাক-

وَّاَبۡصِرۡ فَسَوۡفَ يُبۡصِرُوۡنَ‏

এবং ওদের পর্যবেক্ষণ করতে থাক। শীঘ্রই ওরা ওদের পরিণাম দেখতে পাবে।

سُبۡحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الۡعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوۡنَۚ

তারা যেসব (মিথ্যা) কথা বলে, সে সব থেকে তোমার প্রতিপালক মহা পবিত্র, যিনি সকল সম্মানের মালিক।

وَسَلٰمٌ عَلَى الۡمُرۡسَلِيۡنَۚ

আর রাসূলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হৌক!

وَالۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ​‏

আর যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি জগত সমূহের প্রতিপালক।