৩৮

সূরাঃ ছোয়াদ ()

মাক্কীমোট আয়াত ৮৮ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

صٓ​ وَالۡقُرۡاٰنِ ذِى الذِّكۡرِؕ

ছোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের।

بَلِ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا فِىۡ عِزَّةٍ وَّشِقَاقٍ‏

বরং অবিশ্বাসীরা ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতায় লিপ্ত।

كَمۡ اَهۡلَـكۡنَا مِنۡ قَبۡلِهِمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ فَنَادَوْا وَّلَاتَ حِيۡنَ مَنَاصٍ‏

এদের পূর্বে আমরা কত যুগ-সমাজকে ধ্বংস করেছি। সে সময় তারা আর্তনাদ করেছে। কিন্তু তখন তাদের বাঁচার কোন উপায় ছিল না।

وَعَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَهُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡهُمۡ​ وَقَالَ الۡكٰفِرُوۡنَ هٰذَا سٰحِرٌ كَذَّابٌۖ ۚ

আর তারা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী আগমন করেছে। ফলে অবিশ্বাসীরা বলে, এ ব্যক্তি একজন জাদুকর ও মহা মিথ্যাবাদী।

اَجَعَلَ الۡاٰلِهَةَ اِلٰهًا وَّاحِدًاۖۚ اِنَّ هٰذَا لَشَىۡءٌ عُجَابٌ‏

সে কি বহু উপাস্যের বদলে একজন উপাস্য সাব্যস্ত করতে চায়? নিশ্চয়ই এটাতো এক বিস্ময়কর ব্যাপার।

وَانْطَلَقَ الۡمَلَاُ مِنۡهُمۡ اَنِ امۡشُوۡا وَاصۡبِرُوۡا عَلٰٓى اٰلِهَتِكُمۡۖۚ ​ اِنَّ هٰذَا لَشَىۡءٌ يُّرَادُۖ ۚ

তাদের নেতারা চলে যায় আর বলে যে, চলো তোমরা তোমাদের উপাস্যদের উপর অবিচল থাক। নিশ্চয় (তাওহীদের) এই দাওয়াতের মধ্যে কোন দূরভিসন্ধি আছে।

مَا سَمِعۡنَا بِهٰذَا فِى الۡمِلَّةِ الۡاٰخِرَةِۖۚ اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّا اخۡتِلَاقٌۖ ۚ

আমরা তো এ বিষয়ে আমাদের পূর্ববর্তী ধর্ম-সমাজে কিছুই শুনিনি। অতএব এগুলি বানোয়াট ছাড়া কিছুই নয়।

ءَاُنۡزِلَ عَلَيۡهِ الذِّكۡرُ مِنۡۢ بَيۡنِنَاؕ بَلۡ هُمۡ فِىۡ شَكٍّ مِّنۡ ذِكۡرِىۡۚ بَلْ لَّمَّا يَذُوۡقُوۡا عَذَابِؕ

আমাদের মধ্য থেকে কেবল তারই উপর কুরআন নাযিল হ’ল? বরং তারা তো আমার কুরআনেই সন্দিহান। পরন্তু ওরা তো এখনো আমার শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করেনি।

اَمۡ عِنۡدَهُمۡ خَزَآٮِٕنُ رَحۡمَةِ رَبِّكَ الۡعَزِيۡزِ الۡوَهَّابِۚ

নাকি তোমার মহা পরাক্রান্ত ও পরম দাতা প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভান্ডার তাদের কাছেই রয়েছে?

اَمۡ لَهُمۡ مُّلۡكُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا​فَلۡيَرۡتَقُوۡا فِى الۡاَسۡبَابِ‏

নাকি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর উপর তাদের রাজত্ব রয়েছে? তাহ’লে তারা রশি বেয়ে আকাশে উঠুক!

جُنۡدٌ مَّا هُنَالِكَ مَهۡزُوۡمٌ مِّنَ الۡاَحۡزَابِ‏

তাতে তারা বিগত বাহিনীগুলির মত এখানেও হবে একটি তুচ্ছ পরাজিত বাহিনী মাত্র।

كَذَّبَتۡ قَبۡلَهُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّعَادٌ وَّفِرۡعَوۡنُ ذُو الۡاَوۡتَادِۙ ‏ 

তাদের পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যা বলেছিল নূহ, ‘আদ ও বহু কীলকওয়ালা ফেরাঊনের সম্প্রদায়।

وَثَمُوۡدُ وَقَوۡمُ لُوۡطٍ وَّاَصۡحٰبُ لْئَیْكَةِؕ اُولٰٓٮِٕكَ الۡاَحۡزَابُ‏ 

আর ছিল ছামূদ, কওমে লূত ও জঙ্গলের শাস্তিপ্রাপ্ত লোকেরা। যারা ছিল বড় বড় বাহিনী।

اِنۡ كُلٌّ اِلَّا كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ‏

তাদের প্রত্যেকেই রাসূলদের মিথ্যা বলেছিল। ফলে তাদের উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়।

وَمَا يَنۡظُرُ هٰٓؤُلَاۤءِ اِلَّا صَيۡحَةً وَّاحِدَةً مَّا لَهَا مِنۡ فَوَاقٍ‏ 

আর অবিশ্বাসীরা তো কেবল একটা নিনাদের অপেক্ষায় আছে। যখন আর দম ফেলার সুযোগও থাকবে না।

وَقَالُوۡا رَبَّنَا عَجِّلْ لَّنَا قِطَّنَا قَبۡلَ يَوۡمِ الۡحِسَابِ‏

তারা (ব্যঙ্গ করে) বলে হে আমাদের পালনকর্তা! বিচার দিবসের পূর্বেই তুমি আমাদের শাস্তির অংশটুকু আমাদের দিয়ে দাও।

اِصۡبِرۡ عَلٰى مَا يَقُوۡلُوۡنَ وَاذۡكُرۡ عَبۡدَنَا دَاوٗدَ ذَا الۡاَيۡدِۚ اِنَّـهٗۤ اَوَّابٌ‏

তাদের এমন কথায় তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আর তুমি স্মরণ কর আমাদের শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা। সে ছিল অতীব অনুগত।

اِنَّا سَخَّرۡنَا الۡجِبَالَ مَعَهٗ يُسَبِّحۡنَ بِالۡعَشِىِّ وَالۡاِشۡرَاقِۙ ‏ 

আমরা পর্বতমালাকে তার বশীভূত করে দিয়েছিলাম। তারা তার সঙ্গে তাসবীহ পাঠ করত সন্ধ্যায় ও সকালে।

وَالطَّيۡرَ مَحۡشُوۡرَةًؕ كُلٌّ لَّـهٗۤ اَوَّابٌ‏

এবং পক্ষীকুলকেও, যারা সমবেত হ’ত। তারা সবাই ছিল তার অনুগত।

وَشَدَدۡنَا مُلۡكَهٗ وَاٰتَيۡنٰهُ الۡحِكۡمَةَ وَفَصۡلَ الۡخِطَابِ‏

আর আমরা তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও সারগর্ভ বাগ্মিতা।

وَهَلۡ اَتٰٮكَ نَبَؤُا الۡخَصۡمِۘ اِذۡ تَسَوَّرُوا الۡمِحۡرَابَۙ

তোমার নিকট বিবদমান ব্যক্তিদের খবর পৌঁছেছে কি? যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ইবাদতখানায় প্রবেশ করেছিল।

اِذۡ دَخَلُوۡا عَلٰى دَاوٗدَ فَفَزِعَ مِنۡهُمۡ​ قَالُوۡا لَا تَخَفۡۚ خَصۡمٰنِ بَغٰى بَعۡضُنَا عَلٰى بَعۡضٍ فَاحۡكُمۡ بَيۡنَنَا بِالۡحَقِّ وَلَا تُشۡطِطۡ وَاهۡدِنَاۤ اِلٰى سَوَآءِ الصِّرَاطِ‏

যখন তারা দাঊদের সামনে উপস্থিত হ’ল, তখন সে এদের থেকে ভীত হয়ে পড়ল। তারা বলল, ভয় পাবেন না। আমরা দুই বিবদমান পক্ষ, পরস্পরের উপর বাড়াবাড়ি করেছি। অতএব আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন, অবিচার করবেন না। আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন!

اِنَّ هٰذَاۤ اَخِىۡ لَهٗ تِسۡعٌ وَّتِسۡعُوۡنَ نَعۡجَةً وَّلِىَ نَعۡجَةٌ وَّاحِدَةٌ فَقَالَ اَكۡفِلۡنِيۡهَا وَعَزَّنِىۡ فِى الۡخِطَابِ‏

(তারা বলল,) নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি আমার ভাই। তার নিরানববইটি দুম্বা আছে। আর আমার আছে মাত্র একটি। তবুও সে বলে এটি আমার যিম্মায় দিয়ে দাও এবং সে আমার প্রতি কঠোর বাক্য প্রয়োগ করে।

قَالَ لَقَدۡ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعۡجَتِكَ اِلٰى نِعَاجِهٖؕ وَاِنَّ كَثِيۡرًا مِّنَ الۡخُلَـطَآءِ لَيَبۡغِىۡ بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍ اِلَّا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَقَلِيۡلٌ مَّا هُمۡؕ وَظَنَّ دَاوٗدُ اَنَّمَا فَتَنّٰهُ فَاسۡتَغۡفَرَ رَبَّهٗ وَخَرَّ رَاكِعًا وَّاَنَابَ‏

দাঊদ বলল, সে তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাদলের সাথে যুক্ত করার দাবী করে তোমার প্রতি যুলুম করেছে। শরীকদের অনেকেই পরস্পরের উপর যুলুম করে থাকে। তবে তারা ব্যতীত যারা আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে। আর তারা হ’ল সংখ্যায় কম। দাঊদ ধারণা করল যে, এর দ্বারা আমরা তাকে পরীক্ষা করেছি। ফলে সে তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং সিজদায় পড়ে গেল ও প্রণত হ’ল। (সিজদা-১১)

فَغَفَرۡنَا لَهٗ ذٰ لِكَؕ وَاِنَّ لَهٗ عِنۡدَنَا لَزُلۡفٰى وَحُسۡنَ مَاٰبٍ‏ 

অতঃপর আমরা তার ত্রুটি ক্ষমা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমাদের কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও সুন্দর ঠিকানা।

يٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلۡنٰكَ خَلِيۡفَةً فِى الۡاَرۡضِ فَاحۡكُمۡ بَيۡنَ النَّاسِ بِالۡحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الۡهَوٰى فَيُضِلَّكَ عَنۡ سَبِيۡلِ اللّٰهِؕ اِنَّ الَّذِيۡنَ يَضِلُّوۡنَ عَنۡ سَبِيۡلِ اللّٰهِ لَهُمۡ عَذَابٌ شَدِيۡدٌۢ بِمَا نَسُوۡا يَوۡمَ الۡحِسَابِ‏

হে দাঊদ! আমরা তোমাকে পৃথিবীতে শাসক নিযুক্ত করেছি। অতএব তুমি লোকদের মধ্যে ন্যায়বিচার কর। আর তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তাহ’লে তা তোমাকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা বিচার দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে আল্লাহ্র পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

وَمَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا بَاطِلًاؕ ذٰ لِكَ ظَنُّ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡاۚ فَوَيۡلٌ لِّلَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنَ النَّارِؕ

আমরা আকাশ, পৃথিবী ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী কোন কিছুকে বৃথা সৃষ্টি করিনি। এটি হ’ল অবিশ্বাসীদের ধারণা মাত্র। অতএব অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ!

اَمۡ نَجۡعَلُ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَالۡمُفۡسِدِيۡنَ فِى الۡاَرۡضِ اَمۡ نَجۡعَلُ الۡمُتَّقِيۡنَ كَالۡفُجَّارِ‏

আমরা কি তাহ’লে ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদেরকে জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ন্যায় গণ্য করব? নাকি আল্লাহভীরুদেরকে পাপাচারীদের ন্যায় গণ্য করব?

كِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ اِلَيۡكَ مُبٰرَكٌ لِّيَدَّبَّرُوۡۤا اٰيٰتِهٖ وَلِيَتَذَكَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ‏

এটি এক বরকতমন্ডিত কিতাব, যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি। যাতে লোকেরা এর আয়াত সমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।

وَوَهَبۡنَا لِدَاوٗدَ سُلَيۡمٰنَؕ نِعۡمَ الۡعَبۡدُؕ اِنَّـهٗۤ اَوَّابٌؕ

আর আমরা দাঊদকে দান করেছিলাম সুলায়মান। কতই না উত্তম বান্দা ছিল সে এবং সে ছিল অতীব অনুগত।

اِذۡ عُرِضَ عَلَيۡهِ بِالۡعَشِىِّ الصّٰفِنٰتُ الۡجِيَادُۙ

যখন অপরাহ্নে তার সম্মুখে দ্রুতগামী অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হ’ল।

فَقَالَ اِنِّىۡۤ اَحۡبَبۡتُ حُبَّ الۡخَيۡرِ عَنۡ ذِكۡرِ رَبِّىۡۚ حَتّٰى تَوَارَتۡ بِالۡحِجَابِ‏

তখন সে বলল, আমি তো আমার প্রভুর স্মরণের জন্যই ঘোড়াগুলিকে ভালবাসি। ইতিমধ্যে সেগুলি দৃষ্টির অন্তরালে চলে গেল।

رُدُّوۡهَا عَلَىَّؕ فَطَفِقَ مَسۡحًۢا بِالسُّوۡقِ وَ الۡاَعۡنَاقِ‏

অতঃপর সে বলল, তোমরা ওগুলিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। অতঃপর সে তাদের পা ও গলদেশে হাত বুলাতে লাগল।

وَلَقَدۡ فَتَنَّا سُلَيۡمٰنَ وَاَلۡقَيۡنَا عَلٰى كُرۡسِيِّهٖ جَسَدًا ثُمَّ اَنَابَ‏

আর আমরা পরীক্ষা করেছিলাম সুলায়মানকে এবং তার আসনের উপর রেখে দিলাম একটা দেহ। অতঃপর সে প্রণত হ’ল।

قَالَ رَبِّ اغۡفِرۡ لِىۡ وَهَبۡ لِىۡ مُلۡكًا لَّا يَنۡۢبَغِىۡ لِاَحَدٍ مِّنۡۢ بَعۡدِىۡۚ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡوَهَّابُ‏

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যা আমার পরে যেন আর কেউ না পায়। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।

فَسَخَّرۡنَا لَهُ الرِّيۡحَ تَجۡرِىۡ بِاَمۡرِهٖ رُخَآءً حَيۡثُ اَصَابَۙ ‏ 

অতঃপর আমরা বায়ুকে তার বশীভূত করে দিলাম। যা তার আদেশে প্রবাহিত হ’ত সহনীয় গতিতে যেখানে সে যেতে চাইত।

وَالشَّيٰطِيۡنَ كُلَّ بَنَّآءٍ وَّغَوَّاصٍۙ

এবং শয়তানদেরকে, যারা সবাই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী।

وَّاٰخَرِيۡنَ مُقَرَّنِيۡنَ فِىۡ الۡاَصۡفَادِ‏

এবং শৃংখলে আবদ্ধ আরও অনেক শয়তানকে।

هٰذَا عَطَآؤُنَا فَامۡنُنۡ اَوۡ اَمۡسِكۡ بِغَيۡرِ حِسَابٍ‏

এটি আমাদের অনুগ্রহ। এক্ষণে তুমি এ থেকে কিছু দান কর বা আটকিয়ে রাখ, তাতে তোমার কোন জওয়াবদিহি নেই।

وَاِنَّ لَهٗ عِنۡدَنَا لَزُلۡفٰى وَحُسۡنَ مَاٰبٍ‏

নিশ্চয়ই আমাদের নিকট তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও সুন্দর ঠিকানা।

وَاذۡكُرۡ عَبۡدَنَاۤ اَيُّوۡبَۘ اِذۡ نَادٰى رَبَّهٗۤ اَنِّىۡ مَسَّنِىَ الشَّيۡطٰنُ بِنُصۡبٍ وَّعَذَابٍؕ

আর (স্মরণ কর) আমার বান্দা আইয়ূবের কথা। যখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করে বলেছিল, শয়তান আমাকে কষ্টে ও যন্ত্রণায় ফেলেছে।

اُرۡكُضۡ بِرِجۡلِكَۚ هٰذَا مُغۡتَسَلٌ ۢ بَارِدٌ وَّشَرَابٌ‏

(আমরা বললাম) তুমি তোমার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত কর। অতঃপর দেখ এটি হ’ল তোমার (গোসলের) ঠান্ডা পানি এবং পানীয়।

وَوَهَبۡنَا لَهٗۤ اَهۡلَهٗ وَمِثۡلَهُمۡ مَّعَهُمۡ رَحۡمَةً مِّنَّا وَذِكۡرٰى لِاُولِى الۡاَلۡبَابِ‏

আর আমরা তাকে প্রদান করলাম তার পরিবারবর্গ ও তাদের সাথে সমপরিমাণ, আমাদের পক্ষ হ’তে রহমত স্বরূপ এবং জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ স্বরূপ।

وَخُذۡ بِيَدِكَ ضِغۡثًا فَاضۡرِبْ بِّهٖ وَلَا تَحۡنَثۡؕ اِنَّا وَجَدۡنٰهُ صَابِرًاؕ نِعۡمَ الۡعَبۡدُؕ اِنَّـهٗۤ اَوَّابٌ‏

আর বললাম, তুমি তোমার হাতে এক মুষ্টি তৃণশলা নাও ও তা দিয়ে (স্ত্রীকে) আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ করো না (বরং পূর্ণ কর)। আমরা তাকে পেলাম ধৈর্যশীল রূপে। কতই না চমৎকার বান্দা সে! নিশ্চয়ই সে ছিল অতীব অনুগত।

وَاذۡكُرۡ عِبٰدَنَاۤ اِبۡرٰهِيۡمَ وَاِسۡحٰقَ وَيَعۡقُوۡبَ اُولِى الۡاَيۡدِىۡ وَالۡاَبۡصَارِ‏

আর (স্মরণ কর) আমাদের বান্দা ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের কথা। যারা ছিল শক্তিশালী ও চক্ষুষ্মান।

اِنَّاۤ اَخۡلَصۡنٰهُمۡ بِخَالِصَةٍ ذِكۡرَى الدَّارِۚ

আমরা তাদেরকে স্বাতন্ত্র্য দান করেছিলাম পরকালকে স্মরণের এক বিশেষ গুণ দ্বারা।

وَاِنَّهُمۡ عِنۡدَنَا لَمِنَ الۡمُصۡطَفَيۡنَ الۡاَخۡيَارِؕ

তারা ছিল আমাদের কাছে মনোনীত ও উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

وَاذۡكُرۡ اِسۡمٰعِيۡلَ وَ الۡيَسَعَ وَذَا الۡكِفۡلِؕ وَكُلٌّ مِّنَ الۡاَخۡيَارِؕ ‏ 

আর (স্মরণ কর) ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘ ও যুল-কিফলের কথা। তাদের প্রত্যেকে ছিল উত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

هٰذَا ذِكۡرٌؕ وَاِنَّ لِلۡمُتَّقِيۡنَ لَحُسۡنَ مَاٰبٍۙ

এই কুরআন হ’ল উপদেশ। আর নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে সুন্দর আবাসস্থল,

جَنّٰتِ عَدۡنٍ مُّفَتَّحَةً لَّهُمُ الۡاَبۡوَابُۚ

চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত। যার দরজাসমূহ তাদের জন্য থাকবে অবারিত।

مُتَّكِـــِٕيۡنَ فِيۡهَا يَدۡعُوۡنَ فِيۡهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيۡرَةٍ وَّشَرَابٍ‏ 

তারা সেখানে ঠেস দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে নানাবিধ ফল-মূল ও পানীয়।

وَعِنۡدَهُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ اَتۡرَابٌ‏

আর তাদের নিকট থাকবে আনত নয়না সমবয়সী রমণীগণ।

هٰذَا مَا تُوۡعَدُوۡنَ لِيَوۡمِ الۡحِسَابِ‏

এটাই হিসাব দিবসের জন্য তোমাদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি।

اِنَّ هٰذَا لَرِزۡقُنَا مَا لَهٗ مِنۡ نَّـفَادٍۖۚ

নিশ্চয়ই এটা আমাদের দেওয়া এমন রিযিক, যার কোন শেষ নেই।

هٰذَاؕ وَاِنَّ لِلطّٰغِيۡنَ لَشَرَّ مَاٰبٍۙ

এটি হ’ল মুত্তাক্বীদের জন্য পুরস্কার। পক্ষান্তরে অবাধ্যদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট ঠিকানা,

جَهَـنَّمَۚ يَصۡلَوۡنَهَاۚ فَبِئۡسَ الۡمِهَادُ‏

জাহান্নাম। যেখানে তারা প্রবেশ করবে। অতঃপর কতই না মন্দ ঠিকানা সেটি!

هٰذَاۙ فَلۡيَذُوۡقُوۡهُ حَمِيۡمٌ وَّغَسَّاقٌۙ

এটি হ’ল ফুটন্ত পানি ও জাহান্নামবাসীদের দেহ নিঃসৃত পুঁজ-রক্ত। সুতরাং তারা এর স্বাদ গ্রহণ করুক!

وَّاٰخَرُ مِنۡ شَكۡلِهٖۤ اَزۡوَاجٌؕ

আরও আছে এ ধরনের নানাবিধ শাস্তি।

هٰذَا فَوۡجٌ مُّقۡتَحِمٌ مَّعَكُمۡۚ لَا مَرۡحَبًۢـا بِهِمۡؕ اِنَّهُمۡ صَالُوا النَّارِ‏

(জাহান্নামীরা পরস্পরে বলবে,) এই যে আরেকটি দল তোমাদের সাথে ঢুকে পড়ছে। ওদের প্রতি কোন অভিনন্দন নেই। কারণ ওরা তো জাহান্নামে প্রবেশকারী।

قَالُوۡا بَلۡ اَنۡتُمۡ لَا مَرۡحَبًۢـا بِكُمۡؕ اَنۡتُمۡ قَدَّمۡتُمُوۡهُ لَنَاۚ فَبِئۡسَ الۡقَرَارُ‏

জবাবে প্রবেশকারীরা বলবে বরং তোমরাই (এজন্য দায়ী)। তোমাদের প্রতি কোন অভিনন্দন নেই। তোমরাই তো আমাদেরকে এ বিপদের সম্মুখীন করেছ। অতঃপর কতই না মন্দ ঠিকানা এটি!

قَالُوۡا رَبَّنَا مَنۡ قَدَّمَ لَنَا هٰذَا فَزِدۡهُ عَذَابًا ضِعۡفًا فِى النَّارِ‏ 

তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! যারা আমাদেরকে এর সম্মুখীন করেছে, তুমি জাহান্নামে তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করে দাও।

وَقَالُوۡا مَا لَنَا لَا نَرٰى رِجَالًا كُنَّا نَـعُدُّهُمۡ مِّنَ الۡاَشۡرَارِؕ ‏ 

আর তারা বলবে, আমাদের কি হ’ল যে, সেই (মুমিন) লোকদের দেখছি না, যাদেরকে আমরা মন্দ লোকদের মধ্যে গণ্য করতাম!

اَ تَّخَذۡنٰهُمۡ سِخۡرِيًّا اَمۡ زَاغَتۡ عَنۡهُمُ الۡاَبۡصَارُ‏

তবে কি আমরা তাদের অহেতুক ঠাট্টার পাত্র বানিয়েছিলাম, নাকি তাদের থেকে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটল?

اِنَّ ذٰ لِكَ لَحَقّ ٌ تَخَاصُمُ اَهۡلِ النَّارِ‏

জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বাদানুবাদ অবশ্যই সত্য।

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مُنۡذِرٌۖ  وَّمَا مِنۡ اِلٰهٍ اِلَّا اللّٰهُ الۡوَاحِدُ الۡقَهَّارُۚ

তুমি বল, আমি একজন সতর্ককারী বৈ কিছু নই। আর আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি এক ও মহাপরাক্রমশালী।

رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا الۡعَزِيۡزُ الۡغَفَّارُ‏

তিনি আসমান-যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা। তিনি মহা পরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল।

قُلۡ هُوَ نَبَؤٌا عَظِيۡمٌۙ

বল, এটি একটি মহা সংবাদ।

اَنۡتُمۡ عَنۡهُ مُعۡرِضُوۡنَ‏

যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ।

مَا كَانَ لِىَ مِنۡ عِلۡمٍۢ بِالۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰٓى اِذۡ يَخۡتَصِمُوۡنَ‏ 

বস্ত্তত উচ্চ মর্যাদাশীল ফেরেশতাদের বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান ছিল না, যখন তারা বাদানুবাদ করেছিল।

اِنۡ يُّوۡحٰۤى اِلَىَّ اِلَّاۤ اَنَّمَاۤ اَنَا۟ نَذِيۡرٌ مُّبِيۡنٌ‏

আমার নিকটে তো কেবল এই প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী বৈ কিছু নই।

اِذۡ قَالَ رَبُّكَ لِلۡمَلٰٓٮِٕكَةِ اِنِّىۡ خَالِـقٌ ۢ بَشَرًا مِّنۡ طِيۡنٍ‏ 

(স্মরণ কর সেই সময়ের কথা) যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি মাটি থেকে একজন মানুষ সৃষ্টি করব।

فَاِذَا سَوَّيۡتُهٗ وَنَفَخۡتُ فِيۡهِ مِنۡ رُّوۡحِىۡ فَقَعُوۡا لَهٗ سٰجِدِيۡنَ‏ 

অতঃপর যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার সৃষ্ট রূহ ফুঁকে দিব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদা করো।

فَسَجَدَ الۡمَلٰٓٮِٕكَةُ كُلُّهُمۡ اَجۡمَعُوۡنَۙ

তখন ফেরেশতারা সবাই একযোগে সিজদা করল,

اِلَّاۤ اِبۡلِيۡسَؕ اِسۡتَكۡبَرَ وَكَانَ مِنَ الۡكٰفِرِيۡنَ‏

ইবলীস ব্যতীত। সে দম্ভ করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।

قَالَ يٰۤـاِبۡلِيۡسُ مَا مَنَعَكَ اَنۡ تَسۡجُدَ لِمَا خَلَقۡتُ بِيَدَىَّؕ اَسۡتَكۡبَرۡتَ اَمۡ كُنۡتَ مِنَ الۡعَالِيۡنَ‏

আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস! আমি যাকে আমার দু’হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে কোন বস্ত্ত তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহংকার করলে, নাকি তুমি তার চাইতে বড় হয়ে গেলে?

قَالَ اَنَا خَيۡرٌ مِّنۡهُؕ خَلَقۡتَنِىۡ مِنۡ نَّارٍ وَّخَلَقۡتَهٗ مِنۡ طِيۡنٍ‏

সে বলল, আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।

قَالَ فَاخۡرُجۡ مِنۡهَا فَاِنَّكَ رَجِيۡمٌۖ ۚ

আল্লাহ বললেন, তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও! কারণ তুমি বিতাড়িত।

وَّاِنَّ عَلَيۡكَ لَعۡنَتِىۡۤ اِلٰى يَوۡمِ الدِّيۡنِ‏

আর তোমার উপর আমার অভিশাপ রইল বিচার দিবস পর্যন্ত।

قَالَ رَبِّ فَاَنۡظِرۡنِىۡۤ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَ‏

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তাহ’লে আপনি আমাকে অবকাশ দিন পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।

قَالَ فَاِنَّكَ مِنَ الۡمُنۡظَرِيۡنَۙ

তিনি বললেন, বেশ! তোমাকে অবকাশ দেওয়া হ’ল,

اِلٰى يَوۡمِ الۡوَقۡتِ الۡمَعۡلُوۡمِ‏

অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।

قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَاُغۡوِيَنَّهُمۡ اَجۡمَعِيۡنَۙ

সে বলল, আপনার ইয্যতের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করব।

اِلَّا عِبَادَكَ مِنۡهُمُ الۡمُخۡلَصِيۡنَ‏

তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।

قَالَ فَالۡحَقُّ  وَالۡحَقَّ اَ قُوۡلُۚ

তিনি বললেন, হ্যাঁ, এটাই সত্য। আর সত্যই আমি বলে থাকি।-

لَاَمۡلَئَنَّ جَهَنَّمَ مِنۡكَ وَمِمَّنۡ تَبِعَكَ مِنۡهُمۡ اَجۡمَعِيۡنَ‏ 

অবশ্যই আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব তোমাকে দিয়ে ও তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে।

قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔــلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُتَكَلِّفِيۡنَ‏ 

(হে নবী!) তুমি বলে দাও যে, আমি তোমাদের নিকট কোনরূপ বিনিময় চাই না এবং আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।

اِنۡ هُوَ اِلَّا ذِكۡرٌ لِّلۡعٰلَمِيۡنَ‏

এ কুরআন তো জগদ্বাসীর জন্য উপদেশ মাত্র।

وَلَتَعۡلَمُنَّ نَبَاَهٗ بَعۡدَ حِيۡنِ‏

আর নিশ্চয়ই তোমরা কিছুকাল পরেই এর খবরের সত্যতা জানতে পারবে।