بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
এই কিতাব পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে।
আমরা তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি সত্য সহকারে। অতএব তুমি আল্লাহ্র ইবাদত কর তার প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য সহকারে।
মনে রেখ, একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহ্রই প্রাপ্য। আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে (তারা বলে) আমরা তো এদের পূজা কেবল এজন্যেই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহ্র নিকটবর্তী করে দিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দিবেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফিরকে সরল পথে পরিচালিত করেন না।
যদি আল্লাহ সন্তান গ্রহণের ইচ্ছা করতেন, তাহ’লে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য হ’তে যাকে খুশী বেছে নিতেন, (কিন্তু) তিনি (এসব থেকে) পবিত্র। তিনি আল্লাহ। তিনি এক ও পরাক্রমশালী।
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিবস দ্বারা এবং দিবসকে আচ্ছাদিত করেন রাত্রি দ্বারা। আর তিনি অনুগত করেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে। প্রত্যেকেই চালিত হবে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। জেনে রেখ, তিনি মহা পরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল।
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন ব্যক্তি (আদম) থেকে। অতঃপর তার থেকে তার জোড়া (হাওয়াকে) সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন আট প্রকার গবাদিপশু। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে ত্রিবিধ অন্ধকারে একটার পর একটা সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনিই আল্লাহ। তিনি তোমাদের পালনকর্তা। তারই জন্য সকল রাজত্ব। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছ?
যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী। আর তিনি তার বান্দাদের অকৃতজ্ঞতায় খুশী হন না। কিন্তু যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তাহ’লে তিনি তাতে খুশী হবেন। আর (মনে রেখ) একজনের পাপের বোঝা অন্যজন বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের অন্তর্যামী।
আর যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি নিজের পক্ষ হ’তে তাকে কিছু অনুগ্রহ প্রদান করেন, তখন সে তার কষ্টের কথা ভুলে যায়, যার জন্য সে ইতিপূর্বে তাঁকে ডেকেছিল। আর সে তখন আল্লাহ্র সাথে অন্যকে শরীক সাব্যস্ত করে, যাতে সে আল্লাহ্র পথ থেকে লোকদের বিচ্যুত করতে পারে। বলে দাও, তুমি তোমার কুফরীকে কিছু দিন উপভোগ কর। নিশ্চয়ই তুমি তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
(বল, শিরককারী উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি উত্তম) যে রাত্রিকালে সিজদা ও ক্বিয়ামের মাধ্যমে একনিষ্ঠভাবে ছালাত আদায় করে? যখন সে আখেরাতকে ভয় করে ও তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনা করে। তুমি বল, যারা বিজ্ঞ এবং যারা অজ্ঞ, তারা কি সমান? বস্ত্তত জ্ঞানীরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
বল, হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। (মনে রেখ,) যারা এ দুনিয়ায় সৎকাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে পুণ্যফল। আর আল্লাহ্র যমীন প্রশস্ত। নিঃসন্দেহে ধৈর্যশীলগণ তাদের পুরস্কার পাবে অপরিমিতভাবে।
বল, আমি আদিষ্ট হয়েছি, যেন আমি আল্লাহ্র ইবাদত করি একনিষ্ঠভাবে তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য সহকারে।
আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের প্রথম হই।
বল, যদি আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তবে আমি ভয়ংকর দিবসের শাস্তিকে ভয় করি।
বল, আমি আল্লাহ্র ইবাদত করি তাঁর জন্য আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে।
অতএব তোমরা তাঁকে ছেড়ে যাকে খুশী ইবাদত কর। তুমি বলে দাও নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা নিজেদের ও নিজেদের পরিবারবর্গের সর্বনাশ করে ক্বিয়ামতের দিন। মনে রেখ, সেটাই হ’ল সুস্পষ্ট সর্বনাশ।
তাদের উপরে ও নীচে থাকবে আগুনের আচ্ছাদন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তার বান্দাদের ভীত করেন। অতএব হে আমার বান্দারা! তোমরা আমাকে ভয় কর।
আর যারা তাগূতের পূজা হ’তে বিরত হয় এবং আল্লাহ্র দিকে রুজূ হয়, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদের,
যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে, অতঃপর তার মধ্যে উত্তমটির অনুসরণ করে। তাদেরকে আল্লাহ সুপথে পরিচালিত করেন এবং তারাই হ’ল জ্ঞানী।
তাহ’লে যার উপর দন্ডাদেশ অবধারিত হয়ে গেছে, তাকে কি তুমি মুক্ত করতে পারবে যে জাহান্নামে আছে?
কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে স্তরের উপর স্তর বিশিষ্ট সুউচ্চ প্রাসাদ। যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। এটাই আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি। আর আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন। অতঃপর সে পানি পৃথিবীতে ঝর্ণারূপে প্রবাহিত করেন। অতঃপর তা দিয়ে নানা বর্ণের শস্যাদি উৎপন্ন করেন। অতঃপর তা শুকিয়ে যায়। যাকে তুমি হলুদ বর্ণের দেখতে পাও। অতঃপর আল্লাহ তাকে শুকনা খড়-কুটায় পরিণত করেন, নিশ্চয়ই এর মধ্যে উপদেশ রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য।
ঐ ব্যক্তি যার বক্ষকে আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আর সে তার প্রতিপালকের দেওয়া জ্যোতির মধ্যে রয়েছে, (সে কি অন্যের মত হ’তে পারে?)। অতএব দুর্ভোগ ঐসব লোকদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহ্র স্মরণ থেকে কঠিন হয়ে গেছে। তারা সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।
আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব নাযিল করেছেন, যা পরস্পরে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং (যার উপদেশ সমূহ) পুনঃ পুনঃ বর্ণিত। যার (ধমকের আয়াত সমূহ) পাঠে তাদের দেহচর্ম ভয়ে শিহরিত হয় যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে। অতঃপর যার (রহমতের আয়াত সমূহ) পাঠে তাদের দেহ-মন আল্লাহ্র স্মরণে বিনীত হয়। এটা হ’ল আল্লাহ্র পথপ্রদর্শন। এর মাধ্যমে তিনি যাকে চান পথপ্রদর্শন করেন। আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখাবার কেউ নেই।
যে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন তার চেহারাকে নিকৃষ্ট শাস্তি থেকে বাঁচাতে চায় (সেকি জান্নাতীদের সমান হ’তে পারে?)। আর যালেমদের বলা হবে, তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করো।
তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে তাদের অজান্তেই আযাব এসে তাদের গ্রাস করেছিল।
অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করালেন। আর আখেরাতের শাস্তি তো আরও ভয়াবহ। যদি তারা জানত।
আমরা এই কুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আরবী কুরআনে, যা বক্রতামুক্ত। যাতে তারা সতর্ক হয়।
আল্লাহ (তোমাদের জন্য) একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন। (যেমন) একটি গোলামের মালিক অনেকজন, যারা নানা মতের। আরেকটি গোলামের মালিক মাত্র একজন। এই দুই গোলামের অবস্থা কি সমান? আল্লাহ্র জন্যই সকল প্রশংসা। কিন্তু তাদের অধিকাংশ এটা জানেনা।
নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।
অতঃপর তোমরা ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের প্রতিপালকের সামনে পরস্পরে ঝগড়া করবে।
অতএব তার চাইতে বড় যালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে এবং সত্যকে (কুরআনকে) মিথ্যা সাব্যস্ত করে যখন সেটি তার নিকট আসে? বস্ত্তত অবিশ্বাসীদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?
আর যে ব্যক্তি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ) সত্যসহ (কুরআন সহ) আগমন করেছে এবং যে ব্যক্তি তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই তো আল্লাহভীরু।
তাদের জন্য সবকিছু মওজূদ রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট যা তারা চাইবে। আর সেটাই হ’ল সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
যাতে আল্লাহ তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং সৎকর্ম সমূহের সর্বোত্তম প্রতিদান দিতে পারেন।
আল্লাহ কি স্বীয় বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহ্র পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখাবার কেউ নেই।
আর আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। আল্লাহ কি মহা পরাক্রান্ত ও প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?
যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! তুমি বল তাহ’লে তোমরা কি ভেবে দেখছ, যদি আল্লাহ আমার কোন অনিষ্ট করতে চান, তাহ’লে আল্লাহ্র পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাক, তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? আর যদি তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান, তাহ’লে তারা কি সেই অনুগ্রহ ঠেকাতে পারবে? সুতরাং বলে দাও, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর তাঁর উপরেই ভরসাকারীরা ভরসা করে থাকে।
তুমি বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব অবস্থানে আমল কর। আমিও আমল করছি। অতঃপর শীঘ্র তোমরা জানতে পারবে,
কার উপর আসবে (দুনিয়াতে) আল্লাহ্র শাস্তি, যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কার উপর আপতিত হবে (আখেরাতের) স্থায়ী শাস্তি।
আমরা তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি মানব জাতির কল্যাণের জন্য। অতঃপর যে ব্যক্তি সুপথ অবলম্বন করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই সেটা করে। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে তার নিজের উপর ভ্রষ্টতা ডেকে আনে। আর তুমি তো তাদের উপর যিম্মাদার নও।
আল্লাহ প্রাণীজগতের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুকালে এবং যে মরেনা তার নিদ্রাকালে। অতঃপর তিনি যার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন, তার প্রাণ আটকে দেন এবং অন্যগুলিকে ছেড়ে দেন নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। অবশ্যই এতে আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহ রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
তবে কি তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে সুফারিশকারী হিসাবে গ্রহণ করেছে? বল, যদিও তারা কোন কিছুর ক্ষমতা রাখেনা বা কোন কিছুর জ্ঞান রাখেনা, তবুও?
তুমি বল, সকল প্রকার সুফারিশ কেবল আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। তারই জন্য নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। অতঃপর তাঁর নিকটেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করেনা, তাদের সামনে যখন এককভাবে কেবল আল্লাহ্র কথা বলা হয়, তখন তাদের অন্তরগুলো ভয়ে সংকুচিত হয়ে যায়। আর যখন তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের কথা বলা হয়, তখন তারা উল্লসিত হয়।
তুমি বল, হে আল্লাহ! তুমি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টিকর্তা। তুমি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুই অবগত। তুমিই তোমার বান্দাদের মধ্যে ফায়ছালা কর, যেসব বিষয়ে তারা মতভেদ করে।
আর যদি যালেমদের নিকট পৃথিবীর সকল সম্পদ থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তথাপি তারা ক্বিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি হ’তে বাঁচার জন্য মুক্তিপণ হিসাবে তা অবশ্যই দিয়ে দিবে। অথচ সেদিন আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে তাদের জন্য এমন শাস্তি প্রকাশিত হবে, যা তারা কল্পনাও করেনি।
আর তাদের মন্দকর্ম গুলি তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যেসব বিষয় নিয়ে তারা উপহাস করত, সেগুলি সেদিন তাদেরকে বেষ্টন করে ফেলবে।
অতঃপর যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের ডাকে। অতঃপর যখন আমরা তাকে আমাদের পক্ষ হ’তে কিছু অনুগ্রহ প্রদান করি, তখন সে বলে, এটি তো আমি আমার জ্ঞানের মাধ্যমেই প্রাপ্ত হয়েছি। বরং এটি তার জন্য পরীক্ষা। কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানেনা।
তাদের পূর্ববর্তীরাও এরূপ বলত। কিন্তু তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসেনি।
ফলে তাদের কৃতকর্মের মন্দফল গুলি তাদের গ্রাস করে। আর তাদের মধ্যে যারা যালেম, তাদেরও কৃতকর্মের মন্দফল গুলি তাদের সত্বর গ্রাস করবে এবং তারা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না।
তারা কি জানেনা যে, আল্লাহ যাকে চান তার রিযিক প্রশস্ত করেন ও সংকুচিত করেন? নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে।
বল, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন। নিশ্চয় তিনিই তো ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও তোমাদের নিকট শাস্তি আসার পূর্বেই। অতঃপর তোমরা আর সাহায্য প্রাপ্ত হবেনা।
আর তোমরা অনুসরণ কর তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে অবতীর্ণ সর্বোত্তম বস্ত্তর (কুরআনের), তোমাদের নিকট হঠাৎ শাস্তি এসে যাবার পূর্বে। অথচ তোমরা বুঝতেও পারবে না।
যাতে (ক্বিয়ামতের দিন) কেউ না বলে যে, হায়! আমি আল্লাহ্র আনুগত্যে অবহেলা করেছিলাম এবং আমি বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
অথবা একথা না বলে, যদি আল্লাহ আমাকে সুপথ প্রদর্শন করতেন, তাহ’লে অবশ্যই আমি আল্লাহভীরুদের অন্তর্ভুক্ত হ’তাম।
অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করে বলে, যদি আমার একটিবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হ’ত, তা’হলে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হ’তাম।
হ্যাঁ, অবশ্যই আমার নিদর্শন সমূহ তোমার কাছে এসেছিল। কিন্তু সেগুলিকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে ও অহংকার করেছিলে এবং তুমি তো অবিশ্বাসীদের দলভুক্ত ছিলে।
আর যারা আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে, ক্বিয়ামতের দিন তুমি তাদের চেহারা কালিমালিপ্ত দেখবে। বস্ত্তত দাম্ভিকদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?
আর যারা আল্লাহভীরু তাদেরকে আল্লাহ নাজাত দিবেন তাদের সাফল্যগাথা সহ। কোন মন্দই তাদের স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।
আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই সবকিছুর উপরে কর্মবিধায়ক।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের চাবিসমূহ তাঁরই নিকটে। বস্ত্তত যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে, তারাই হ’ল ক্ষতিগ্রস্ত।
বল, হে মূর্খরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে বলছ?
অথচ (হে নবী!) নিশ্চিতভাবে তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তী (নবীদের) প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়েছিল, যদি তুমি শিরক কর, তাহ’লে অবশ্যই তোমার সমস্ত আমল বিফলে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
বরং তুমি স্রেফ আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।
বস্ত্তত তারা আল্লাহ্র মর্যাদা যথার্থভাবে উপলব্ধি করেনি। অথচ ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবীকে আমি হাতের মুঠোয় নেব এবং আকাশমন্ডলী থাকবে তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায়। তিনি মহা পবিত্র এবং যাদেরকে তারা শরীক করে, তাদের থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
আর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। অতঃপর আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই মারা পড়বে, তবে যাকে আল্লাহ চাইবেন। অতঃপর শিঙ্গায় আরেকটি ফুঁক দেওয়া হবে। তখন তারা সবাই দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।
পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে এবং (বান্দার) আমলনামা পেশ করা হবে। নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে হাযির করা হবে। অতঃপর তাদের মধ্যে সঠিক ফায়ছালা করা হবে এবং তারা অত্যাচারিত হবেনা।
প্রত্যেকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফলাফল প্রাপ্ত হবে। আর তিনিই তো তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।
আর অবিশ্বাসীদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার দাররক্ষীরা তাদের বলবে, তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হ’তে রাসূলগণ আসেননি? যারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত সমূহ পাঠ করতেন এবং তোমাদেরকে এদিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে সতর্ক করতেন? তারা বলবে, হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের উপর শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়ে গেছে।
বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে প্রবেশ কর সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। আর দাম্ভিকদের জন্য সেটা কতই না নিকৃষ্ট ঠিকানা!
আর যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত, তাদেরকে দলে দলে নিয়ে যাওয়া হবে জান্নাতের দিকে। অবশেষে যখন তারা সেখানে উপস্থিত হবে ও তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে, তখন তার দাররক্ষীরা তাদের বলবে, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হৌক, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর চিরকাল বসবাসের জন্য।
তখন তারা বলবে, আল্লাহ্র জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে জান্নাতের এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা এই জান্নাতের যেখানে খুশী বসবাস করব। কতই না সুন্দর পুরস্কার সৎকর্মশীলদের জন্য!
আর তুমি তখন ফেরেশতাদের দেখবে, আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করছে। আর তাদের মাঝে ফায়ছালা হবে ন্যায্যভাবে। এ সময় বলা হবে, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য। যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।