بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হা-মীম।
এই কিতাব পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে মহাপরাক্রান্ত ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে।
যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তি দানকারী ও প্রাচুর্যের অধিকারী। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তারই নিকটে সকলের প্রত্যাবর্তন।
আল্লাহ্র আয়াত সমূহে কেউ বিতর্ক করে না কেবল তারা ব্যতীত যারা এতে অবিশ্বাস করে। দেশ-বিদেশে এদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে।
তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও মিথ্যারোপ করেছিল। প্রত্যেক দল নিজ নিজ রাসূলদের পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল। তারা তাদের সাথে মিথ্যা দিয়ে বিতর্ক করেছিল তা দিয়ে সত্যকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম। তখন কেমন ছিল আমার শাস্তি?
আর এভাবেই তোমার প্রভুর বাণী অবধারিত হয়ে গেছে অবিশ্বাসীদের উপর যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।
যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার অনুগ্রহ ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব যারা তওবা করে ও তোমার রাস্তায় চলে তাদেরকে তুমি ক্ষমা করো এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে তাদের রক্ষা কর!
হে আমাদের প্রতিপালক! আর তুমি তাদের প্রবেশ করাও চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাতসমূহে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদের দান করেছ। আর তাদের বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয় তুমিই তো মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
আর তুমি তাদেরকে সকল মন্দ কাজ হ’তে রক্ষা কর। আর যাকে তুমি মন্দ কাজ সমূহ থেকে রক্ষা করবে তাকেই তো তুমি ক্বিয়ামতের দিন অনুগ্রহ করবে (জান্নাতে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে)। আর সেটাই তো মহা সফলতা।
যারা অবিশ্বাসী তাদেরকে সেদিন উচ্চ স্বরে ডেকে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি আজকের এ ক্ষোভের চাইতে আল্লাহ্র ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে (দুনিয়ায়) ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অথচ তোমরা কুফরী করেছিলে।
তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন ও দু’বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর আমাদের এখান থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি?
(বলা হবে) তোমাদের এই শাস্তি তো এ কারণে যে, যখন এককভাবে কেবল আল্লাহকে ডাকা হ’ত, তখন তোমরা তা অস্বীকার করতে। আর যদি তার সঙ্গে কাউকে শরীক করা হ’ত, তাহ’লে তোমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন হুকুম কেবল আল্লাহ্রই, যিনি সর্বোচ্চ ও মহান।
তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে রিযিক নাযিল করেন। বস্ত্তত উপদেশ গ্রহণ করে কেবল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ্র অভিমুখী হয়।
অতএব তোমরা আল্লাহকে ডাকো তার জন্য ইবাদতে একনিষ্ঠ হয়ে। যদিও কাফেররা এটা অপসন্দ করে।
তিনিই সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ও আরশের মালিক। তিনি স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অহি প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশ সহ। যাতে সে মানুষকে সাক্ষাতের দিবস সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে।
যেদিন তারা প্রকাশিত হয়ে পড়বে। আল্লাহ্র কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। (সেদিন তিনি বলবেন,) আজ রাজত্ব কার? কেবলমাত্র আল্লাহ্র। যিনি এক ও মহা পরক্রমশালী।
আজ প্রত্যেককে তার কর্মফল দেওয়া হবে (এবং বলা হবে) আজ কোন যুলুম নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
তুমি তাদেরকে আসন্ন দিবস সম্পর্কে সতর্ক কর। যেদিন দম বন্ধ হয়ে প্রাণসমূহ কণ্ঠাগত হবে। যেদিন যালেমদের কোন বন্ধু থাকবে না বা কোন সুফারিশকারী থাকবেনা, যাকে মান্য করা হবে।
তিনি জানেন তোমাদের চোখের চোরাচাহনি এবং অন্তর সমূহ যা লুকিয়ে রাখে।
আর আল্লাহ ফায়ছালা করেন যথার্থভাবে। কিন্তু ওরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের ডাকে, তারা কিছুই ফায়ছালা করতে পারেনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
তবে কি তারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তাহ’লে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্বসুরীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল। তারা পৃথিবীতে শক্তি ও কীর্তিতে তাদের চাইতে প্রবল ছিল। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেছিলেন। আর আল্লাহ্র শাস্তি থেকে তাদের রক্ষাকারী কেউ ছিল না।
সেটা এজন্য যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসতেন। কিন্তু তারা সেগুলি অবিশ্বাস করত। ফলে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তিনিই তো শক্তিমান ও কঠোর শাস্তিদাতা।
আর নিশ্চয়ই আমরা মূসাকে আমাদের নিদর্শনসমূহ এবং স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছিলাম,
ফেরাঊন, হামান ও ক্বারূণের নিকট। অতঃপর তারা তাকে বলেছিল জাদুকর ও মহা মিথ্যাবাদী।
অতঃপর মূসা যখন আমাদের পক্ষ থেকে সত্য সহ তাদের নিকট উপস্থিত হ’ল, তখন তারা বলল, যারা মূসার সাথে ঈমান এনেছে, তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা কর ও কন্যা সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখ। অথচ কাফিরদের চক্রান্ত কেবল ব্যর্থই হয়ে থাকে।
আর ফেরাঊন বলল, তোমরা আমাকে ছাড়, আমি মূসাকে হত্যা করব, আর সে ডাকুক তার প্রতিপালককে। আমি ভয় পাচ্ছি যে, সে তোমাদের দ্বীনকে পরিবর্তন করে ফেলবে এবং দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে।
মূসা বলল, আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক অহংকারী ব্যক্তি থেকে, যে হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না।
তখন ফেরাঊন গোত্রের জনৈক মুমিন, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি এমন একজন লোককে হত্যা করবে যে বলে আমার প্রতিপালক আল্লাহ? অথচ সে তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যা তার উপরেই বর্তাবে। আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর আসবেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
হে আমার সম্প্রদায়! আজ এদেশে তোমাদেরই রাজত্ব। দেশে তোমরাই প্রবল। কিন্তু আমাদের উপর যদি আল্লাহ্র শাস্তি এসে যায়, তবে কে আমাদের সাহায্য করবে? (জবাবে) ফেরাঊন বলল, আমি যা (ভাল) বুঝি তাই তোমাদের বলি। আর আমি তোমাদের কেবল সঠিক পথই দেখিয়ে থাকি।
এরপর মুমিন ব্যক্তিটি বলল, হে আমার জাতি! আমি তোমাদের উপর বিগত সম্প্রদায়গুলির ন্যায় ধ্বংসের আশংকা করছি।
যেমনটি অবস্থা হয়েছিল নূহের সম্প্রদায়ের এবং ‘আদ, ছামূদ ও তাদের পরবর্তীদের। অথচ আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি যুলুম করতে চান না।
হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য আশংকা করছি ক্বিয়ামত দিবসের।
যেদিন তোমরা পিছন ফিরে পালাবে। অথচ আল্লাহ থেকে তোমাদের বাঁচাবার কেউ থাকবে না। বস্ত্তত আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখাবার কেউ নেই।
ইতিপূর্বে তোমাদের নিকট ইউসুফ এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে। কিন্তু তোমরা তার আনীত বিষয়ে সর্বদা সন্দেহ পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বললে, আল্লাহ তার পরে কখনোই আর কাউকে রাসূল হিসাবে পাঠাবেন না। আল্লাহ এমনিভাবে সীমালংঘনকারী ও সন্দেহবাদীদের পথভ্রষ্ট করে থাকেন।
যারা তাদের নিকট আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আগত কোন প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ্র আয়াতসমূহে বিতর্ক করে, তাদের একাজ আল্লাহ ও মুমিনদের নিকট বড়ই ক্রোধাত্মক। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তির হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।
ফেরাঊন বলল, হে হামান! তুমি আমার জন্য একটি (সুউচ্চ) প্রাসাদ নির্মাণ কর। যাতে আমি আকাশের দরজা সমূহে পৌঁছতে পারি।
আকাশ মন্ডলীর দরজা সমূহ। অতঃপর সেখান থেকে আমি মূসার উপাস্যকে উঁকি মেরে দেখব। আর আমি তো অবশ্যই তাকে একজন মিথ্যাবাদী মনে করি। এভাবেই ফেরাঊনের নিকট তার মন্দকর্মকে শোভনীয় করা হয়েছিল এবং সরল পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। আর ফেরাঊনের চক্রান্ত কেবল ব্যর্থই হয়েছিল।
আর যে ব্যক্তি (গোপনে) ঈমান এনেছিল সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদের সঠিক পথ দেখাব।
হে আমার সম্প্রদায়! দুনিয়ার এ জীবন সাময়িক ভোগ্যবস্ত্ত ছাড়া কিছুই নয়। আর নিশ্চয় আখেরাতই হ’ল চিরস্থায়ী নিবাস।
যে মন্দকর্ম করবে, সে তার অনুরূপ ফল ছাড়া পাবেনা। আর যে পুরুষ বা নারী সৎকর্ম করবে মুমিন অবস্থায়, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা সেখানে অপরিমিত রিযিক প্রাপ্ত হবে।
হে আমার সম্প্রদায়! এটা কেমন কথা যে, আমি তোমাদের আহবান করছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে আহবান করছ জাহান্নামের দিকে?
তোমরা আমাকে আহবান করছ যেন আমি আল্লাহকে অমান্য করি ও তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্ত্তর, যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। আর আমি তোমাদেরকে আহবান করছি মহাপরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল সত্তার দিকে।
নিঃসন্দেহে তোমরা আমাকে যার দিকে আহবান করছ, তার জন্য দুনিয়াতে বা আখেরাতে কোন আহবান নেই। আর আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহ্র নিকটেই। আর সীমালংঘনকারীরাই তো জাহান্নামী।
সুতরাং আমি তোমাদেরকে যা বলছি, সত্বর তোমরা তা স্মরণ করবে। আর আমি আমার বিষয়টি আল্লাহ্র নিকটে সমর্পণ করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।
অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্টসমূহ থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাঊনের লোকদের নিকৃষ্ট শাস্তি গ্রাস করল (অর্থাৎ তারা ডুবে মরল)।
তাদের উপর আগুনকে পেশ করা হবে সকালে ও সন্ধ্যায় এবং যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। (বলা হবে) তোমরা ফেরাঊন সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তির মধ্যে প্রবেশ করাও।
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হবে, তখন দুর্বলেরা প্রবলদের বলবে, আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম। অতএব তোমরা কি আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে কিছু অংশ বহন করবে?
প্রবলেরা বলবে, আমরা তো সবাই জাহান্নামে আছি। আর আল্লাহ তো তার বান্দাদের মধ্যে ফায়ছালা করেই দিয়েছেন।
তখন (নিরাশ হয়ে) জাহান্নামবাসীরা তাদের রক্ষীদের বলবে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট বল যেন তিনি (অন্ততঃ) একদিনের জন্য আমাদের থেকে শাস্তি লাঘব করে দেন।
তারা বলবে, তোমাদের নিকট কি প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেননি? তারা বলবে, হ্যাঁ। তখন রক্ষীরা বলবে, তাহ’লে তোমরাই প্রার্থনা কর! বস্ত্তত কাফেরদের প্রার্থনা তো ব্যর্থই হয়ে থাকে।
আমরা অবশ্যই সাহায্য করব আমাদের রাসূলদের ও মুমিনদের, যেদিন দন্ডায়মান হবে সাক্ষীগণ।
সেদিন যালেমদের আপত্তি তাদের কোন কাজে আসবেনা। আর তাদের জন্য থাকবে লা‘নত ও তাদের জন্য থাকবে নিকৃষ্ট আবাস।
আর আমরা মূসাকে দান করেছিলাম হেদায়াত (তওরাত) এবং বনু ইস্রাঈলকে সেই কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম।
(যা ছিল) জ্ঞানীদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ স্বরূপ।
অতএব তুমি (পূর্বের রাসূলদের ন্যায়) ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার গোনাহের জন্য ক্ষমা চাও এবং সন্ধ্যায় ও সকালে তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা কর।
নিশ্চয় যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহে বিতর্ক করে, নিজেদের কাছে কোন প্রমাণ না আসা সত্ত্বেও, তাদের অন্তরে রয়েছে কেবলি অহংকার; যাতে তারা কখনোই সফল হবে না। অতএব তুমি আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনিই তো সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীন সৃষ্টি অনেক বড় বিষয় মানুষ সৃষ্টির চাইতে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা।
বস্ত্তত সমান হয় না অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি এবং সৎকর্মশীল ঈমানদার ও দুষ্কর্মপরায়ণ ব্যক্তি। কিন্তু তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
নিশ্চয় ক্বিয়ামত আসবেই। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা বিশ্বাস করেনা।
আর তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদত থেকে (অর্থাৎ আমার নিকট দো‘আ করা থেকে) অহংকার প্রদর্শন করে, তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত অবস্থায়।
তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের জন্য রাত্রিকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা সেখানে বিশ্রাম নিতে পার এবং দিবসকে করেছেন আলোকিত (যাতে তোমরা তাতে চলতে পার)। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
তিনিই আল্লাহ। তোমাদের প্রতিপালক। সবকিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতঃপর তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে কোথায় ঘুরছ?
এভাবেই পথভ্রষ্ট হয়ে ঘুরে থাকে, যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে।
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন আবাসস্থল ও আকাশকে করেছেন ছাদ স্বরূপ। আর তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন। অতঃপর তোমাদের অবয়বকে সুন্দর করেছেন। আর তোমাদেরকে পবিত্র রূযী দান করেছেন। তিনিই আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা। অতএব আল্লাহ কতই না মহান! যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
তিনি চিরঞ্জীব। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা তাঁকে ডাক একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
তুমি বল, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে যখন আমার কাছে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসেছে, যেন আমি আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে ইবাদত না করি, যাদেরকে তোমরা আহবান করে থাক। আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি জগত সমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করি।
তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি হ’তে। অতঃপর (পিতা-মাতার মিশ্রিত) জনন কোষ হ’তে, অতঃপর জমাট রক্ত হ’তে, অতঃপর তোমাদেরকে তিনি বের করেন শিশুরূপে। যাতে তোমরা পৌঁছে যাও যৌবনে। অতঃপর তোমরা বৃদ্ধ হয়ে যাও। আর তোমাদের কারু এর পূর্বেই মৃত্যু হয়ে যায়। আবার তোমরা কেউ নির্ধারিত আয়ুষ্কাল পর্যন্ত পৌঁছে যাও। যাতে তোমরা অনুধাবন কর।
তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। যখন তিনি কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেবল বলেন, হও। অতঃপর তা হয়ে যায়।
তুমি কি ওদেরকে দেখোনি, যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহ নিয়ে বিতর্ক করে। ওরা কোথায় ঘুরছে?
যারা মিথ্যারোপ করে কিতাবের প্রতি এবং যা নিয়ে আমরা আমাদের রাসূলগণকে পাঠিয়েছি তার প্রতি। সত্বর তারা (এর পরিণতি) জানতে পারবে।
যখন তাদের গলদেশে বেড়ী এবং শৃংখল সমূহ পরানো হবে ও তাদেরকে উপুড়মুখী করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে,
ফুটন্ত পানিতে। অতঃপর সেখানে তাদেরকে আগুনে দগ্ধীভূত করা হবে।
অতঃপর তাদের বলা হবে, তারা এখন কোথায় যাদেরকে তোমরা শরীক করতে,
আল্লাহকে ছেড়ে? তারা বলবে, তারা এখন আমাদের থেকে হারিয়ে গেছে। বরং ইতিপূর্বে আমরা কোনকিছুর পূজাই করতাম না। এভাবেই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের পথভ্রষ্ট করে থাকেন।
এটা একারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা দম্ভ করতে।
অতএব তোমরা জাহান্নামের দরজা সমূহ দিয়ে প্রবেশ কর সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না মন্দ!
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। এক্ষণে আমরা অবিশ্বাসীদের যে শাস্তির ওয়াদা দিয়েছি, তার কিছু অংশ যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই (তাতে কিছুই যায় আসে না)। অবশেষে তারা তো আমাদের কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর অবশ্যই আমরা তোমার পূর্বে বহু রাসূল প্রেরণ করেছি। যাদের কারু কারু কথা তোমাকে বর্ণনা করেছি, কারু কারু কথা বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহ্র অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রাসূলের কাজ নয়। বস্ত্তত যখন আল্লাহ্র আদেশ এসে যাবে, তখন যথার্থ ফায়ছালা হয়ে যাবে। আর মিথ্যাশ্রয়ীরা তখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আল্লাহ তোমাদের জন্য গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের মধ্য হ’তে কতগুলিতে আরোহণ করতে পার এবং কতগুলিকে ভক্ষণ করতে পার।
আর তোমাদের জন্য এসবের মধ্যে রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা। আর যাতে তোমরা সেগুলোতে আরোহণ করে তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। আর এদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদের বহন করা হয়।
আর তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন সমূহ দেখিয়ে থাকেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহ্র কোন্ কোন্ নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? তাহ’লে দেখত তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণতি হয়েছে? তারা ছিল এদের চাইতে শক্তি ও কীর্তিতে অধিক ও প্রবল। কিন্তু এইসব অর্জন তাদের কোন কাজে আসেনি।
যখন তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ প্রমাণাদি সহ আসতেন, তখন তারা নিজেদের জ্ঞান-গরিমার বড়াই করত। ফলে যা নিয়ে তারা উপহাস করত, তাই-ই তাদেরকে গ্রাস করেছিল।
অতঃপর যখন তারা আমাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং তাঁর সাথে যাদের শরীক করতাম, তাদের প্রত্যাখ্যান করলাম।
অতঃপর কোনই উপকারে আসেনি তাদের এই ঈমান আমাদের শাস্তি দেখার পর। আল্লাহ্র এই রীতি তার বান্দাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই চলে আসছে। আর সেখানে অবিশ্বাসীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।