৪২

সূরাঃ শূরা (পরামর্শ)

মাক্কীমোট আয়াত ৫৩ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

حٰمٓ‏

হা-মীম।

عٓسٓقٓ‏

‘আঈন সীন ক্বা-ফ।

كَذٰلِكَ يُوۡحِىۡۤ اِلَيۡكَ وَاِلَى الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِكَۙ اللّٰهُ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ‏

এভাবেই প্রত্যাদেশ করেন তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি আল্লাহ; যিনি মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।

لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِؕ وَهُوَ الۡعَلِىُّ الۡعَظِيۡمُ‏ 

তারই জন্য সবকিছু, যা আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। আর তিনিই সর্বোচ্চ ও মহিয়ান।

تَـكَادُ السَّمٰوٰتُ يَتَفَطَّرۡنَ مِنۡ فَوۡقِهِنَّ​ وَالۡمَلٰٓٮِٕكَةُ يُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡ وَيَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِمَنۡ فِى الۡاَرۡضِؕ اَلَاۤ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِيۡمُ‏

তাদের ঊর্ধ্বদেশে আকাশমন্ডলী যেন ফেটে পড়ার উপক্রম হয় (মুশরিকদের কথা শুনে)। আর তখন ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং যমীনবাসীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। মনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহই ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

وَالَّذِيۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اَوۡلِيَآءَ اللّٰهُ حَفِيۡظٌ عَلَيۡهِمۡۖ  وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَيۡهِمۡ بِوَكِيۡلٍ‏

আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আর তুমি তাদের উপর কর্মবিধায়ক নও।

وَكَذٰلِكَ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡكَ قُرۡاٰنًا عَرَبِيًّا لِّـتُـنۡذِرَ اُمَّ الۡقُرٰى وَمَنۡ حَوۡلَهَا وَتُنۡذِرَ يَوۡمَ الۡجَمۡعِ لَا رَيۡبَ فِيۡهِؕ فَرِيۡقٌ فِى الۡجَنَّةِ وَفَرِيۡقٌ فِى السَّعِيۡرِ‏

অনুরূপভাবে আমরা তোমার প্রতি আরবী কুরআন প্রত্যাদেশ করেছি, যাতে তুমি সতর্ক করতে পার মক্কা ও তার আশেপাশের লোকদের এবং সতর্ক করতে পার একত্রিত হওয়ার দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। সেদিন (বিচারের পর) একদল হবে জান্নাতী ও একদল হবে জাহান্নামী।

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَهُمۡ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّلٰـكِنۡ يُّدۡخِلُ مَنۡ يَّشَآءُ فِىۡ رَحۡمَتِهٖؕ وَالظّٰلِمُوۡنَ مَا لَهُمۡ مِّنۡ وَّلِىٍّ وَّلَا نَصِيۡرٍ‏

বস্ত্তত আল্লাহ চাইলে তাদের সবাইকে এক দলে পরিণত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান স্বীয় রহমতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর যালেমদের কোন বন্ধু নেই বা কোন সাহায্যকারী নেই।

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اَوۡلِيَآءَۚ فَاللّٰهُ هُوَ الۡوَلِىُّ وَهُوَ يُحۡىِ الۡمَوۡتٰى وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىۡءٍ قَدِيۡرٌ‏

নাকি তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে? অথচ আল্লাহই হ’লেন অভিভাবক। তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনিই সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

وَمَا اخۡتَلَـفۡتُمۡ فِيۡهِ مِنۡ شَىۡءٍ فَحُكۡمُهٗۤ اِلَى اللّٰهِؕ ذٰ لِكُمُ اللّٰهُ رَبِّىۡ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُۖ  وَاِلَيۡهِ اُنِيۡبُ‏

আর তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন, তার ফায়ছালা তো আল্লাহ্রই নিকটে। তিনি আল্লাহ, তিনিই আমার প্রতিপালক। তাঁর উপরেই আমি ভরসা করি ও তাঁর দিকেই ফিরে যাই।

فَاطِرُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ جَعَلَ لَـكُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِكُمۡ اَزۡوَاجًا وَّ مِنَ الۡاَنۡعَامِ اَزۡوَاجًاۚ يَذۡرَؤُكُمۡ فِيۡهِؕ لَيۡسَ كَمِثۡلِهٖ شَىۡءٌۚ وَهُوَ السَّمِيۡعُ الۡبَصِيۡرُ‏

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টিকর্তা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং গবাদিপশুর মধ্য থেকে তাদের জন্য জোড়া (সৃষ্টি করেছেন)। তিনি সেখানে তোমাদের বংশ বিস্তার করেছেন। তাঁর তুলনীয় কিছুই নেই। তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

لَهٗ مَقَالِيۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِۚ يَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ يَّشَآءُ وَيَقۡدِرُؕ اِنَّهٗ بِكُلِّ شَىۡءٍ عَلِيۡمٌ‏

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের চাবিসমূহ তাঁরই নিকটে। তিনি যাকে চান রূযী বৃদ্ধি করেন ও সংকুচিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল বিষয়ে বিজ্ঞ।

شَرَعَ لَـكُمۡ مِّنَ الدِّيۡنِ مَا وَصّٰى بِهٖ نُوۡحًا وَّالَّذِىۡۤ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡكَ وَمَا وَصَّيۡنَا بِهٖۤ اِبۡرٰهِيۡمَ وَمُوۡسٰى وَعِيۡسٰٓى اَنۡ اَقِيۡمُوا الدِّيۡنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوۡا فِيۡهِؕ كَبُـرَ عَلَى الۡمُشۡرِكِيۡنَ مَا تَدۡعُوۡهُمۡ اِلَيۡهِؕ اَللّٰهُ يَجۡتَبِىۡۤ اِلَيۡهِ مَنۡ يَّشَآءُ وَيَهۡدِىۡۤ اِلَيۡهِ مَنۡ يُّنِيۡبُ‏

তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সে পথই নির্ধারণ করেছেন, যার আদেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমরা প্রত্যাদেশ করেছি তোমার প্রতি ও যার আদেশ আমরা দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে, তোমরা তাওহীদকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং এতে মতভেদ করোনা। তুমি মুশরিকদের যে বিষয়ের দিকে আহবান কর, তা তাদের নিকট ভারী মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তিনি তাকে সুপথ প্রদর্শন করেন।

وَمَا تَفَرَّقُوۡۤا اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَهُمُ الۡعِلۡمُ بَغۡيًاۢ بَيۡنَهُمۡؕ وَلَوۡلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّكَ اِلٰٓى اَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِىَ بَيۡنَهُمۡؕ وَ اِنَّ الَّذِيۡنَ اُوۡرِثُوا الۡكِتٰبَ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ لَفِىۡ شَكٍّ مِّنۡهُ مُرِيۡبٍ‏

আর তারা দলে দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের নিকট জ্ঞান (কুরআন) এসে যাওয়ার পর স্রেফ পরস্পরে হঠকারিতাবশে। যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে তাদের নির্ধারিত সময়কাল পর্যন্ত অবকাশ দানের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তাহ’লে (দুনিয়াতেই) তাদের (ধ্বংসের) ফায়ছালা হয়ে যেত। বস্ত্তত তাদের পর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা তার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে দোদুল্যমান।

فَلِذٰلِكَ فَادۡعُۚ وَاسۡتَقِمۡ كَمَاۤ اُمِرۡتَۚ وَلَا تَتَّبِعۡ اَهۡوَآءَهُمۡۚ وَقُلۡ اٰمَنۡتُ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ مِنۡ كِتٰبٍۚ وَاُمِرۡتُ لِاَعۡدِلَ بَيۡنَكُمُؕ اَللّٰهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمۡؕ لَـنَاۤ اَعۡمَالُـنَا وَلَـكُمۡ اَعۡمَالُكُمۡۚ لَا حُجَّةَ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمُؕ اَللّٰهُ يَجۡمَعُ بَيۡنَنَاۚ وَاِلَيۡهِ الۡمَصِيۡرُؕ ‏ 

সুতরাং তাওহীদের দিকেই তুমি তাদের আহবান কর এবং তুমি অবিচল থাক যেভাবে তুমি আদিষ্ট হয়েছ। তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তুমি বল, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন তাতে আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক। আমাদের জন্য আমাদের কর্ম ও তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোন ঝগড়া নেই। আল্লাহ আমাদের একত্রিত করবেন। আর তাঁর দিকেই হবে সকলের প্রত্যাবর্তন।

وَالَّذِيۡنَ يُحَآجُّوۡنَ فِى اللّٰهِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا اسۡتُجِيۡبَ لَهٗ حُجَّتُهُمۡ دَاحِضَةٌ عِنۡدَ رَبِّهِمۡ وَعَلَيۡهِمۡ غَضَبٌ وَّلَهُمۡ عَذَابٌ شَدِيۡدٌ‏

আর যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে তাকে মেনে নেওয়ার পরেও, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার নিকট নিস্ফল। আর তাদের উপর আল্লাহ্র ক্রোধ ও তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

اَللّٰهُ الَّذِىۡۤ اَنۡزَلَ الۡكِتٰبَ بِالۡحَقِّ وَالۡمِيۡزَانَؕ وَمَا يُدۡرِيۡكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ قَرِيۡبٌ‏

আল্লাহ, যিনি সত্যসহ কিতাব ও তুলাদন্ড নাযিল করেছেন। আর কোন বস্ত্ত তোমাকে জানাবে যে, ক্বিয়ামত অবশ্যই নিকটবর্তী?

يَسۡتَعۡجِلُ بِهَا الَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ بِهَاۚ وَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا مُشۡفِقُوۡنَ مِنۡهَاۙ وَيَعۡلَمُوۡنَ اَنَّهَا الۡحَقُّؕ اَلَاۤ اِنَّ الَّذِيۡنَ يُمَارُوۡنَ فِى السَّاعَةِ لَفِىۡ ضَلٰلٍۢ بَعِيۡدٍ‏

যারা এতে বিশ্বাস করে না, তারাই এটির জন্য ব্যস্ততা দেখায়। আর যারা এতে বিশ্বাস করে, তারা একে ভয় করে এবং জানে যে, এটি সুনিশ্চিত। সাবধান! যারা ক্বিয়ামত বিষয়ে বিতর্ক করে, তারা দূরতম ভ্রষ্টতায় নিপতিত।

اَللّٰهُ لَطِيۡفٌۢ بِعِبَادِهٖ يَرۡزُقُ مَنۡ يَّشَآءُۚ وَهُوَ الۡقَوِىُّ الۡعَزِيۡزُ‏

আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়াশীল। তিনি যাকে চান রিযিক দান করেন। তিনিই শক্তিমান ও মহা পরাক্রান্ত।

مَنۡ كَانَ يُرِيۡدُ حَرۡثَ الۡاٰخِرَةِ نَزِدۡ لَهٗ فِىۡ حَرۡثِهٖۚ وَمَنۡ كَانَ يُرِيۡدُ حَرۡثَ الدُّنۡيَا نُؤۡتِهٖ مِنۡهَا وَمَا لَهٗ فِى الۡاٰخِرَةِ مِنۡ نَّصِيۡبٍ‏

যে ব্যক্তি আখেরাতের ফসল কামনা করে আমরা তার জন্য তার ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমরা তাকে তা থেকে কিছু দিয়ে থাকি। কিন্তু আখেরাতে তার কোন অংশ থাকে না।

اَمۡ لَهُمۡ شُرَكٰٓؤُا شَرَعُوۡا لَهُمۡ مِّنَ الدِّيۡنِ مَا لَمۡ يَاۡذَنۡۢ بِهِ اللّٰهُؕ وَلَوۡلَا كَلِمَةُ الۡفَصۡلِ لَقُضِىَ بَيۡنَهُمۡؕ وَاِنَّ الظّٰلِمِيۡنَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِيۡمٌ‏

তাদের কি এমন কোন শরীক আছে, যারা তাদের জন্য বিধান রচনা করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তাহ’লে তাদের ব্যাপারে ফায়ছালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই যালেমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

تَرَى الظّٰلِمِيۡنَ مُشۡفِقِيۡنَ مِمَّا كَسَبُوۡا وَهُوَ وَاقِعٌۢ بِهِمۡؕ وَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِىۡ رَوۡضَاتِ الۡجَـنّٰتِۚ لَهُمۡ مَّا يَشَآءُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّهِمۡؕ ذٰلِكَ هُوَ الۡفَضۡلُ الۡكَبِيۡرُ‏

তুমি যালেমদের সদা সন্ত্রস্ত দেখবে তাদের কৃতকর্মের কারণে। আর সেটি (শাস্তি) তাদের উপর আপতিত হবেই। পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল, তারা জান্নাতের বাগিচাসমূহে থাকবে। তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে যা তারা চাইবে। আর এটাই তো বড় অনুগ্রহ।

ذٰ لِكَ الَّذِىۡ يُبَشِّرُ اللّٰهُ عِبَادَهُ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِؕ قُلْ لَّاۤ اَسۡـَٔـــلُـكُمۡ عَلَيۡهِ اَجۡرًا اِلَّا الۡمَوَدَّةَ فِى الۡقُرۡبٰىؕ وَمَنۡ يَّقۡتَرِفۡ حَسَنَةً نَّزِدۡ لَهٗ فِيۡهَا حُسۡنًاؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ شَكُوۡرٌ‏

এই সুসংবাদই আল্লাহ দেন তার সেই সব বান্দাদের, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে। তুমি বল, আমি তোমাদের নিকট (কুরায়েশদের নিকট) কোন বিনিময় চাইনা কেবল আত্মীয়তার ভালবাসা ব্যতীত। বস্ততঃ যে ব্যক্তি পুণ্য অর্জন করে, আমরা তার জন্য ছওয়াব বৃদ্ধি করে দেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।

اَمۡ يَقُوۡلُوۡنَ افۡتَـرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًاۚ فَاِنۡ يَّشَاِ اللّٰهُ يَخۡتِمۡ عَلٰى قَلۡبِكَؕ وَيَمۡحُ اللّٰهُ الۡبَاطِلَ وَيُحِقُّ الۡحَقَّ بِكَلِمٰتِهٖۤؕ اِنَّهٗ عَلِيۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ‏

নাকি তারা বলে যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করছে? অথচ যদি আল্লাহ চাইতেন তাহ’লে (হে মুহাম্মাদ) তোমার অন্তরে মোহর মেরে দিতেন। বস্ত্তত আল্লাহ মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন ও নিজ কালেমাসমূহ (অর্থাৎ কুরআন) দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তর্যামী।

وَهُوَ الَّذِىۡ يَقۡبَلُ التَّوۡبَةَ عَنۡ عِبَادِهٖ وَيَعۡفُوۡا عَنِ السَّيِّاٰتِ وَيَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَۙ

তিনিই তার বান্দাদের তওবা কবুল করেন ও পাপ সমূহ মার্জনা করেন। আর তিনি জানেন যা তোমরা করে থাক।

وَيَسۡتَجِيۡبُ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَيَزِيۡدُهُمۡ مِّنۡ فَضۡلِهٖؕ وَالۡكٰفِرُوۡنَ لَهُمۡ عَذَابٌ شَدِيۡدٌ‏

আর তিনি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের আহবানে সাড়া দেন ও তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। বস্ত্তত অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

وَلَوۡ بَسَطَ اللّٰهُ الرِّزۡقَ لِعِبَادِهٖ لَبَغَوۡا فِى الۡاَرۡضِ وَلٰكِنۡ يُّنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا يَشَآءُؕ اِنَّهٗ بِعِبَادِهٖ خَبِيۡرٌۢ بَصِيۡرٌ‏

আর যদি আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য (প্রয়োজনের অতিরিক্ত) রূযী প্রশস্ত করে দিতেন, তাহ’লে তারা দুনিয়াতে সীমালংঘন করত। কিন্তু তিনি যতটুকু চান, ততটুকু রূযী নাযিল করে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি তার বান্দাদের সব খবর রাখেন ও তাদের সবকিছু দেখেন।

وَهُوَ الَّذِىۡ يُنَزِّلُ الۡغَيۡثَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا قَنَطُوۡا وَيَنۡشُرُ رَحۡمَتَهٗؕ وَهُوَ الۡوَلِىُّ الۡحَمِيۡدُ‏

তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন তারা নিরাশ হওয়ার পর এবং স্বীয় অনুগ্রহ ছড়িয়ে দেন। তিনিই অভিভাবক ও চির প্রশংসিত।

وَ مِنۡ اٰيٰتِهٖ خَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَثَّ فِيۡهِمَا مِنۡ دَآبَّةٍؕ وَهُوَ عَلٰى جَمۡعِهِمۡ اِذَا يَشَآءُ قَدِيۡرٌ‏

তাঁর নিদর্শন সমূহের অন্যতম হ’ল নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি এবং এ দু’য়ের মধ্যেকার জীব-জন্তু সমূহ, যা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তিনি যখনই চাইবেন এগুলিকে একত্রিত করতে সক্ষম।

وَمَاۤ اَصَابَكُمۡ مِّنۡ مُّصِيۡبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتۡ اَيۡدِيۡكُمۡ وَيَعۡفُوۡا عَنۡ كَثِيۡرٍؕ

তোমাদের যেসব বিপদাপদ হয়, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আর তিনি তোমাদের অনেক পাপই মার্জনা করে দেন।

وَمَاۤ اَنۡـتُمۡ بِمُعۡجِزِيۡنَ فِى الۡاَرۡضِۖۚ وَمَا لَـكُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مِنۡ وَّلِىٍّ وَّلَا نَصِيۡرٍ‏

তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে ব্যর্থ করতে পারবে না। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নেই ও সাহায্যকারী নেই।

وَمِنۡ اٰيٰتِهِ الۡجَوَارِ فِى الۡبَحۡرِ كَالۡاَعۡلَامِؕ

তাঁর নিদর্শন সমূহের অন্যতম হ’ল সাগরে চলমান পর্বতসমূহের ন্যায় উঁচু জাহায সমূহ।

اِنۡ يَّشَاۡ يُسۡكِنِ الرِّيۡحَ فَيَظۡلَلۡنَ رَوَاكِدَ عَلٰى ظَهۡرِهٖؕ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّـكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوۡرٍۙ

তিনি চাইলে বায়ুকে স্থির করে দিতে পারেন। তখন জাহাযগুলি অচল হয়ে থাকবে সমুদ্র পৃষ্ঠে। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন সমূহ রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।

اَوۡ يُوۡبِقۡهُنَّ بِمَا كَسَبُوۡا وَيَعۡفُ عَنۡ كَثِيۡرٍ‏

অথবা তিনি তাদের কৃতকর্মের ফলে সেগুলিকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং তিনি অনেককে মার্জনা করেন।

وَّيَعۡلَمَ الَّذِيۡنَ يُجَادِلُوۡنَ فِىۡۤ اٰيٰتِنَاؕ مَا لَهُمۡ مِّنۡ مَّحِيۡصٍ‏ 

আর তারা যেন একথা জেনে নেয় যে, যারা আমাদের নিদর্শন সমূহে বিতর্ক করে, তাদের পালাবার কোন পথ নেই।

فَمَاۤ اُوۡتِيۡتُمۡ مِّنۡ شَىۡءٍ فَمَتَاعُ الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاۚ وَمَا عِنۡدَ اللّٰهِ خَيۡرٌ وَّاَبۡقٰى لِلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَلٰى رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُوۡنَۚ ‏ 

অতঃপর তোমাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তা কেবল পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্ত্ত। আর আল্লাহ্র নিকটে যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী, তাদের জন্য যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।

وَالَّذِيۡنَ يَجۡتَنِبُوۡنَ كَبٰٓٮِٕرَ الۡاِثۡمِ وَالۡفَوَاحِشَ وَاِذَا مَا غَضِبُوۡا هُمۡ يَغۡفِرُوۡنَۚ

আর (তাদের জন্য) যারা কবীরা গোনাহ ও অশ্লীল কর্মসমূহ হ’তে বিরত থাকে এবং যখন তারা ক্রুদ্ধ হয় তখন ক্ষমা করে।

وَالَّذِيۡنَ اسۡتَجَابُوا لِرَبِّهِمۡ وَاَقَامُوۡا الصَّلٰوةَ وَاَمۡرُهُمۡ شُوۡرٰى بَيۡنَهُمۡ وَمِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ يُنۡفِقُوۡنَۚ

আর (তাদের জন্য) যারা তাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দেয়, ছালাত কায়েম করে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করে এবং তাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।

وَالَّذِيۡنَ اِذَاۤ اَصَابَهُمُ الۡبَغۡىُ هُمۡ يَنۡتَصِرُوۡنَ‏

আর (তাদের জন্য) যারা আক্রান্ত হ’লে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।

وَجَزٰٓؤُا سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثۡلُهَاۚ فَمَنۡ عَفَا وَاَصۡلَحَ فَاَجۡرُهٗ عَلَى اللّٰهِؕ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الظّٰلِمِيۡنَ‏

আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই হয়ে থাকে। অতঃপর যে ব্যক্তি ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার তো আল্লাহ্র নিকটেই রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি অত্যাচারীদের ভালবাসেন না।

وَلَمَنِ انْتَصَرَ بَعۡدَ ظُلۡمِهٖ فَاُولٰٓٮِٕكَ مَا عَلَيۡهِمۡ مِّنۡ سَبِيۡلٍؕ ‏ 

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন সুযোগ নেই।

اِنَّمَا السَّبِيۡلُ عَلَى الَّذِيۡنَ يَظۡلِمُوۡنَ النَّاسَ وَ يَبۡغُوۡنَ فِى الۡاَرۡضِ بِغَيۡرِ الۡحَقِّؕ اُولٰٓٮِٕكَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِيۡمٌ‏

অভিযোগ তো কেবল তাদেরই বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর যুলুম করে এবং জনপদে অন্যায়ভাবে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

وَلَمَنۡ صَبَرَ وَغَفَرَ اِنَّ ذٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ الۡاُمُوۡرِ‏

আর যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে ও ক্ষমা করে, নিশ্চয়ই সেটি হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।

وَمَنۡ يُّضۡلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنۡ وَّلِىٍّ مِّنۡۢ بَعۡدِهٖؕ وَتَرَى الظّٰلِمِيۡنَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ يَقُوۡلُوۡنَ هَلۡ اِلٰى مَرَدٍّ مِّنۡ سَبِيۡلٍۚ ‏ 

আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য তার পরে আর কোন অভিভাবক নেই। আর যখন যালেমরা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তুমি দেখবে যে, তারা বলবে, (দুনিয়ায়) ফিরে যাবার কোন পথ আছে কি?

وَتَرٰٮهُمۡ يُعۡرَضُوۡنَ عَلَيۡهَا خٰشِعِيۡنَ مِنَ الذُّلِّ يَنۡظُرُوۡنَ مِنۡ طَرۡفٍ خَفِىٍّؕ وَقَالَ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ الۡخٰسِرِيۡنَ الَّذِيۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ وَاَهۡلِيۡهِمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِؕ اَلَاۤ اِنَّ الظّٰلِمِيۡنَ فِىۡ عَذَابٍ مُّقِيۡمٍ‏

আর তুমি তাদের জাহান্নামের নিকট উপস্থিত করার সময় দেখবে, লাঞ্ছনায় অবনত মস্তক ও গোপন পলকে তাকানো অবস্থায়। তখন ঈমানদারগণ বলবে, নিশ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা ক্বিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনদের ক্ষতি সাধন করেছে। মনে রেখ যালেমরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে থাকবে।

وَمَا كَانَ لَهُمۡ مِّنۡ اَوۡلِيَآءَ يَنۡصُرُوۡنَهُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِؕ وَمَنۡ يُّضۡلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنۡ سَبِيۡلٍؕ

আর সেদিন আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবেনা। বস্ত্তত যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন, তার বাঁচার কোন পথ থাকে না।

اِسۡتَجِيۡبُوۡا لِرَبِّكُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ يَّاۡتِىَ يَوۡمٌ لَّا مَرَدَّ لَهٗ مِنَ اللّٰهِؕ مَا لَكُمۡ مِّنۡ مَّلۡجَاٍ يَّوۡمَٮِٕذٍ وَّمَا لَكُمۡ مِّنۡ نَّكِيۡرٍ‏

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দাও সেদিন আসার আগে, যেদিন আল্লাহ্র কবল থেকে ফিরে আসার কোন পথ পাবে না। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয় থাকবে না এবং তোমাদের পক্ষে আপত্তি করার কেউ থাকবে না।

فَاِنۡ اَعۡرَضُوۡا فَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيۡظًاؕ اِنۡ عَلَيۡكَ اِلَّا الۡبَلٰغُؕ وَاِنَّاۤ اِذَاۤ اَذَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنَّا رَحۡمَةً فَرِحَ بِهَاۚ وَاِنۡ تُصِبۡهُمۡ سَيِّئَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتۡ اَيۡدِيۡهِمۡ فَاِنَّ الۡاِنۡسَانَ كَفُوۡرٌ‏

অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমাকে আমরা তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাইনি। তোমার কাজ তো কেবল পৌঁছে দেওয়া। বস্ত্তত যখন আমরা মানুষকে আমাদের পক্ষ থেকে কিছু অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তাতে সে উৎফুল্ল হয়। আর যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন তাদের কোন অনিষ্ট হয়, তখন মানুষ হয়ে যায় অকৃতজ্ঞ।

لِّـلَّـهِ مُلۡكُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُؕ يَهَبُ لِمَنۡ يَّشَآءُ اِنَاثًا وَّيَهَبُ لِمَنۡ يَّشَآءُ الذُّكُوۡرَۙ

আল্লাহ্রই জন্য রাজত্ব নভোমন্ডলের ও ভূমন্ডলের। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে চান কন্যা সন্তান দান করেন ও যাকে চান পুত্র সন্তান দান করেন।

اَوۡ يُزَوِّجُهُمۡ ذُكۡرَانًا وَّاِنَاثًاۚ وَيَجۡعَلُ مَنۡ يَّشَآءُ عَقِيۡمًاؕ اِنَّهٗ عَلِيۡمٌ قَدِيۡرٌ‏

অথবা যাকে চান পুত্র ও কন্যা যমজ সন্তান দান করেন এবং যাকে চান বন্ধ্যা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান।

وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنۡ يُّكَلِّمَهُ اللّٰهُ اِلَّا وَحۡيًا اَوۡ مِنۡ وَّرَآىٴِ حِجَابٍ اَوۡ يُرۡسِلَ رَسُوۡلًا فَيُوۡحِىَ بِاِذۡنِهٖ مَا يَشَآءُؕ اِنَّهٗ عَلِىٌّ حَكِيۡمٌ‏

আর মানুষের জন্য সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন অহি-র মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত অথবা এমন দূত প্রেরণ ব্যতীত, যে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা-ই প্রত্যাদেশ করে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোচ্চ ও প্রজ্ঞাময়।

وَكَذٰلِكَ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلَيۡكَ رُوۡحًا مِّنۡ اَمۡرِنَاؕ مَا كُنۡتَ تَدۡرِىۡ مَا الۡكِتٰبُ وَلَا الۡاِيۡمَانُ وَلٰـكِنۡ جَعَلۡنٰهُ نُوۡرًا نَّهۡدِىۡ بِهٖ مَنۡ نَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِنَاؕ وَاِنَّكَ لَتَهۡدِىۡۤ اِلٰى صِرَاطٍ مُّسۡتَقِيۡمٍۙ ‏ 

আর এভাবেই আমরা তোমার নিকট প্রেরণ করেছি রূহ (কুরআন), আমাদের আদেশক্রমে। অথচ তুমি জানতে না কিতাব কি বা ঈমান কি? বস্ত্তত আমরা একে করেছি জ্যোতি। যার মাধ্যমে আমরা পথপ্রদর্শন করি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে আমরা চাই। আর নিশ্চয়ই তুমি প্রদর্শন করে থাক সরল পথ,

صِرَاطِ اللّٰهِ الَّذِىۡ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِؕ اَلَاۤ اِلَى اللّٰهِ تَصِيۡرُ الۡاُمُوۡرُ‏

যা আল্লাহ্র পথ। যারই অধিকারভুক্ত নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে। মনে রেখ, আল্লাহ্র দিকেই ফিরে যায় সব কিছু।