بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হা-মীম।
শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
আমরা এটাকে আরবী কুরআন হিসাবে নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।
আর এটি ছিল লওহে মাহফূযে। যা আমাদের নিকট অবশ্যই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাময়।
আমরা কি তাহ’লে তোমাদের কাছ থেকে কুরআনকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেব একারণে যে তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
আর পূর্ববর্তীদের নিকট আমরা কত নবী প্রেরণ করেছিলাম।
অথচ যখনই তাদের নিকট কোন নবী এসেছে, তখনই তারা তার সাথে উপহাস করেছে।
ফলে আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা এদের (কুরায়েশদের) চাইতে অনেক বেশী শক্তিশালী ছিল। আর পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত গত হয়ে গেছে।
অথচ যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলি সৃষ্টি করেছেন মহা পরাক্রান্ত ও সর্বজ্ঞ সত্তা (আল্লাহ)।
যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ করেছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য রাস্তা সমূহ করে দিয়েছেন। যাতে তোমরা গন্তব্যে পৌঁছতে পার।
আর যিনি আকাশ হ’তে বৃষ্টি বর্ষণ করেন পরিমাণ মত। অতঃপর আমরা তার মাধ্যমে জীবিত করি মৃত ভূখন্ডকে। এভাবেই তোমরা (ক্বিয়ামতের দিন) পুনরুত্থিত হবে।
আর যিনি সকল জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও গবাদি পশু সমূহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ করে থাক।
যাতে তোমরা ওদের পিঠের উপর স্থির হয়ে বসতে পার। অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নে‘মতের কথা স্মরণ করবে, যখন তোমরা তার উপর স্থির হয়ে বসবে ও বলবে, মহাপবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে বশীভূত করতে পারতাম না।
আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাব।
অথচ তারা আল্লাহ্র সৃষ্টি সমূহের মধ্য থেকে তাঁর জন্য অংশ সাব্যস্ত করেছে। নিশ্চয়ই মানুষ স্পষ্টত অকৃতজ্ঞ।
তিনি কি তাঁর সৃষ্টি থেকে (কেবল) কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন পুত্র সন্তান?
দয়াময় আল্লাহ্র জন্য তারা যে উপমা বর্ণনা করে, সেই (কন্যা সন্তান) জন্মের সংবাদ যখন তাদের কাউকে দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে মর্মাহত হয়।
তারা কি আল্লাহ্র জন্য নির্ধারণ করে এমন সন্তান, যে অলংকারে লালিত-পালিত হয় এবং বিতর্ক কালে স্পষ্টভাবে বক্তব্য উপস্থাপনে অক্ষম হয়?
আর তারা ফেরেশতাদের নারী গণ্য করে, যারা দয়াময়ের বান্দা। তবে কি তারা তাদের সৃষ্টির সময় উপস্থিত ছিল? তাদের (এখনকার) সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং (ক্বিয়ামতের দিন) তারা জিজ্ঞাসিত হবে।
তারা বলে দয়াময় ইচ্ছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না। (অথচ) এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা তো স্রেফ অনুমানভিত্তিক কথা বলে।
অথবা আমরা কি তাদেরকে এর পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছিলাম, যা তারা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে?
বরং তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের এই রীতির উপরে পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পথে চলি।
এমনিভাবে তোমার পূর্বে যখনই আমরা কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের সমৃদ্ধিশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি এক রীতির উপর এবং আমরা তাদের রীতির অনুসরণ করি।
সে (সতর্ককারী) বলত, যদি আমি তোমাদের নিকট তার চেয়েও উত্তম পথনির্দেশ নিয়ে আসি, যার উপরে তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছ তার পরেও কি? তখন তারা বলত, তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
অতঃপর আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। অতএব দেখ মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল!
আর (স্মরণ কর) যখন ইব্রাহীম তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যে সবের পূজা কর, আমি সেসব থেকে মুক্ত
তিনি ব্যতীত, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি আমাকে অবশ্যই পথপ্রদর্শন করবেন।
আর সে তার তাওহীদের কালেমাকে তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে স্থায়ীভাবে রেখে গেছে। যাতে তারা (সেদিকে) প্রত্যাবর্তন করে।
বরং আমিই তাদেরকে ও তাদের পূর্ব পুরুষদেরকে জীবন উপভোগের সুযোগ দিয়েছিলাম। অবশেষে তাদের নিকট সত্য (কুরআন) এবং তার ব্যাখ্যাকারী রাসূল (মুহাম্মাদ) আগমন করেছে।
আর যখন তাদের নিকট সত্য এসে গেল, তখন তারা বলল, এটি জাদু। আমরা একে প্রত্যাখ্যান করি।
তারা বলল, কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোন একজন প্রধানের উপর নাযিল হ’ল না?
তবে কি তারা তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করবে? আমিই তো তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি তাদের পার্থিব জীবনে এবং তাদেরকে পরস্পরে মর্যাদায় উন্নত করি। যাতে তারা পরস্পরে কাজ নিতে পারে। বস্ত্তত তারা যা সঞ্চয় করে তা থেকে তোমার প্রতিপালকের রহমত অনেক উত্তম।
যদি (দুনিয়ার মোহে) সকল মানুষ (কুফরীতে) একদল ভুক্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তাহ’লে যারা দয়াময়কে অস্বীকার করে, তাদেরকে আমরা তাদের গৃহের জন্য দিতাম রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি, যার উপরে তারা আরোহণ করত।
আর তাদের গৃহের জন্য দিতাম দরজা ও (বিশ্রামের জন্য) খাট-পালংক, যাতে তারা ঠেস দিয়ে বসত।
আর দিতাম স্বর্ণখচিত আসবাব পত্র। অথচ এগুলি সব পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্ত্ত বৈ কিছুই নয়। আর তোমার প্রতিপালকের নিকট আখেরাত (অর্থাৎ এর জাঁকজমক) কেবল আল্লাহভীরুদের জন্যই।
যে ব্যক্তি দয়াময়ের স্মরণ থেকে অন্ধ হয়, আমরা তার জন্য এক শয়তানকে নিযুক্ত করি। যে তার সাথী হয়।
তারা মানুষকে সুপথ থেকে বিরত রাখে। অথচ তারা ধারণা করে যে, তারা সঠিক পথে পরিচালিত।
অবশেষে যখন সে আমাদের নিকট উপস্থিত হয়, তখন বলে, হায়! যদি আমার ও তোমার মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিমের ন্যায় দূরত্ব থাকত! অতঃপর কতই না নিকৃষ্ট সাথী ছিল সে!
আর আজ তোমাদের (এই অনুতাপ) তোমাদের কোনই উপকারে আসবে না। কেননা তোমরা যুলুম করেছিলে। তোমরা (আজ) সবাই শাস্তিতে পরস্পরে শরীক।
অতঃপর তুমি কি শুনাতে পারবে কোন বধিরকে অথবা পথ দেখাতে পারবে কোন অন্ধকে, আর তাকে যে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে আছে?
অতঃপর যদি আমরা তোমাকে (মক্কা থেকে) নিয়েও যাই, তথাপি আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নেবই।
অথবা যে বিষয়টি আমরা তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেটি আমরা তোমাকে প্রত্যক্ষ করাই (যেমন বদরের যুদ্ধে করিয়েছি), তবে তাদের উপর তো আমরা সর্বদা ক্ষমতাশালী।
অতএব তুমি দৃঢ়ভাবে ধারণ কর যা তোমার প্রতি অহি করা হয়। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।
আর এই কুরআন তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য মর্যাদার প্রতীক এবং তোমরা সত্বর এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।
আর তুমি জিজ্ঞেস কর ঐসব রাসূলকে, যাদেরকে আমরা তোমার পূর্বে প্রেরণ করেছিলাম, আমরা কি দয়াময় (আল্লাহ) ব্যতীত অন্যদের উপাস্য নির্ধারণ করেছিলাম, যাদের ইবাদত করা যায়?
আর নিশ্চয়ই আমরা মূসাকে আমাদের নিদর্শনাবলী সহ ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর সে (তাকে) বলল, আমি জগৎসমূহের প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল।
অতঃপর সে যখন তাদের নিকট আমাদের নিদর্শনাবলী নিয়ে উপস্থিত হ’ল, তখন তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা শুরু করল।
অথচ আমরা তাদেরকে এমন কোন নিদর্শন দেখাইনি, যা তার অনুরূপ নিদর্শনের চাইতে শ্রেষ্ঠ ছিলনা। এভাবে আমরা তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা (আল্লাহ্র দিকে) ফিরে আসে।
আর তারা (মূসাকে) বলত, হে জাদুকর! তুমি আমাদের জন্য তোমার প্রভুর নিকটে প্রার্থনা কর যার ওয়াদা তিনি তোমাকে দিয়েছেন। আমরা অবশ্যই তোমার পথ অবলম্বন করব।
অতঃপর যখন আমরা তাদের উপর থেকে গযব উঠিয়ে নিতাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করত।
আর ফেরাঊন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! মিসরের এই রাজত্ব এবং আমার রাজ্যে প্রবাহিত এই নদীগুলি কি আমার নয়? তোমরা কি দেখো না?
বরং আমিই শ্রেষ্ঠ এই নীচু ব্যক্তির চাইতে, যে স্পষ্টভাবে কথা বলতেও পারে না।
অতঃপর কেন তাকে স্বর্ণকংকন সমূহ পরানো হ’ল না অথবা কেন তার সাথে দলবদ্ধভাবে ফেরেশতারা এলো না?
এভাবে সে তার কওমকে হতবুদ্ধি করে ফেলল এবং তারা তার কথা মেনে নিল। বস্ত্তত তারা ছিল অবাধ্য সম্প্রদায়।
অতঃপর যখন তারা আমাদের ক্রুদ্ধ করল, তখন আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদের সবাইকে ডুবিয়ে মারলাম।
এভাবে আমরা তাদেরকে পরবর্তীদের জন্য করে রাখলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত।
আর যখন তাদের নিকট মরিয়াম-পুত্রের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হ’ল, তখন তোমার সম্প্রদায় তাতে শোরগোল শুরু করে দিল।
তারা বলল, আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা তোমাকে এরূপ কথা বলে কেবল ঝগড়ার জন্য। বরং তারা হ’ল কলহপরায়ণ জাতি।
সে আমার একজন বান্দা বৈ কিছুই ছিলনা। যাকে আমরা অনুগ্রহ করেছিলাম এবং তাকে আমরা বনু ইস্রাঈলদের জন্য দৃষ্টান্ত করেছিলাম।
আমরা চাইলে তোমাদের বদলে ফেরেশতা দিয়ে পৃথিবী আবাদ করতাম। যারা পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত হ’ত।
আর নিশ্চয়ই সে তো ক্বিয়ামতের নিদর্শন। সুতরাং তোমরা ক্বিয়ামতে সন্দেহ পোষণ করোনা। আর তোমরা আমাকে অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।
আর শয়তান যেন তোমাদেরকে বিরত না রাখে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আর ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এল এবং (তার কওমকে) বলল, আমি তোমাদের নিকট এসেছি প্রজ্ঞা (নবুঅত) নিয়ে এবং যেসব বিষয়ে তোমরা মতভেদ কর, সেসবের কিছু তোমাদের নিকট স্পষ্ট করার জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমার আনুগত্য কর।
নিশ্চয় আল্লাহই আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তার ইবাদত কর। এটাই হ’ল সরল পথ।
অতঃপর তাদের কয়েকটি দল মতভেদ করল। সুতরাং যালেমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক দিবসের শাস্তির দুর্ভোগ।
তারা তো কেবল ক্বিয়ামতেরই অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে হঠাৎ পাকড়াও করবে। অথচ তারা বুঝতেও পারবে না।
বন্ধুরা সেদিন পরস্পরে শত্রু হবে মুত্তাক্বীরা ব্যতীত।
(আল্লাহ বলবেন) হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিত হবে না।
যারা আমাদের আয়াত সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আজ্ঞাবহ ছিল।
তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।
তাদের নিকট পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র সমূহ। যাতে তাদের জন্য থাকবে যা তাদের মন চাইবে ও চক্ষু শীতল হবে। আর তোমরা সেখানে চিরকাল থাকবে।
আর এটাই হ’ল জান্নাত, যার উত্তরাধিকারী তোমাদের করা হয়েছে তোমাদের কৃতকর্মের ফল হিসাবে।
তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে নানা প্রকার ফলমূল। যেখান থেকে তোমরা ভক্ষণ করবে।
নিশ্চয়ই অপরাধীরা চিরকাল জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে থাকবে।
তাদের থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তারা তাতেই থাকবে হতাশ অবস্থায়।
আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি। বরং তারাই ছিল নিজেদের উপর অত্যাচারী।
সেদিন তারা চিৎকার দিয়ে বলবে হে ‘মালেক’ ফেরেশতা! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের ব্যাপারটা শেষ করে দেন। সে বলবে, তোমরা তো এভাবেই থাকবে।
(আল্লাহ বলবেন,) আমরা (নবীদের মাধ্যমে) তোমাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তোমাদের অধিকাংশ ছিলে সত্য গ্রহণে অনিচ্ছুক।
তবে কি তারা কোন বিষয় চূড়ান্ত করে ফেলেছে? বেশ তাহ’লে আমরাও চূড়ান্ত করলাম।
তারা কি মনে করে যে, আমরা তাদের গোপন কথা ও শলা-পরামর্শগুলি শুনিনা? অবশ্যই শুনি। আমাদের দূতেরা তাদের নিকট সবই লিপিবদ্ধ করে।
তুমি বল, যদি দয়াময়ের কোন সন্তান থাকত, তাহ’লে আমিই হ’তাম তার প্রথম উপাসক।
তারা যেসব মিথ্যা বলে সেসব থেকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অধিপতি ও আরশের অধিপতি মহা পবিত্র।
অতএব তুমি ওদের ছেড়ে দাও ওরা বিতর্ক করুক ও খেল-তামাশায় মত্ত থাকুক যতদিন না ওরা সাক্ষাৎ পায় সেই দিনের, যেদিনের প্রতিশ্রুতি ওদের দেওয়া হয়েছে।
আর তিনিই উপাস্য নভোমন্ডলে এবং তিনিই উপাস্য ভূমন্ডলে। তিনিই প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ।
আর বরকতময় তিনি, যার জন্যই রাজত্ব নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুতে। তাঁর নিকটেই রয়েছে ক্বিয়ামতের জ্ঞান। আর তাঁর দিকেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর তাঁকে ব্যতীত যাদেরকে ওরা আহবান করে, তারা ঐদিন সুফারিশের অধিকারী হবেনা। কেবল তারা ব্যতীত যারা জেনে বুঝে সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে।
যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর, কে তাদের সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্লাহ’। এরপরেও তারা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে?
আর তার উক্তি, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় এই সম্প্রদায় তো ঈমান আনবে না।
তাহ’লে তুমি তাদের উপেক্ষা কর এবং বল ‘সালাম’। অতঃপর শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।