بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হা-মীম।
শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
আমরা এটি নাযিল করেছি এক বরকতময় রজনীতে। নিশ্চয়ই আমরা সতর্ককারী।
এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়,
আমাদের পক্ষ হ’তে নির্দেশক্রমে। আমরাই তো প্রেরণ করে থাকি।
যা তোমার পালনকর্তার পক্ষ হ’তে রহমত স্বরূপ। তিনিই তো সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হয়ে থাক।
তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। তিনি তোমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের প্রতিপালক।
বরং তারা সন্দেহের আবর্তে খেল-তামাশায় মত্ত।
অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়ায় পরিণত হবে।
যা মানুষকে আচ্ছন্ন করবে। এটা হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
(সেদিন অবিশ্বাসীরা বলবে) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে এই শাস্তি সরিয়ে নিন। আমরা ঈমান আনব।
(আল্লাহ বলেন,) কোথায় তাদের উপদেশ গ্রহণ? অথচ তাদের কাছে এসেছিল স্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী রাসূল!
অতঃপর তারা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং বলেছিল, (অন্যের কাছ থেকে) প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন পাগল।
(আল্লাহ বলেন,) এক্ষণে যদি আমরা কিছুকালের জন্য আযাব সরিয়ে নেই, তাহ’লে তো তোমরা পুনরায় আগের মতই করবে।
যেদিন আমরা প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমরা চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেব।
আর নিশ্চয়ই আমরা এদের পূর্বে ফেরাঊনের সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছিলাম। আর তাদের নিকট আগমন করেছিল একজন মহান রাসূল।
এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র বান্দাদেরকে (বনু ইস্রাঈলদেরকে) আমার নিকট অর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য প্রেরিত বিশ্বস্ত রাসূল।
আর এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়োনা। আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করব।
আর আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের। যাতে তোমরা আমাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে না পারো।
(এরপরেও) যদি তোমরা আমার উপর বিশ্বাস স্থাপন না কর, তাহ’লে তোমরা আমার থেকে দূরে থাক।
অতঃপর সে তার প্রতিপালকের নিকট দো‘আ করল যে, ওরা এক অপরাধী সম্প্রদায়।
তখন (আমরা বললাম,) তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতেই বেরিয়ে পড়। নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
আর নদীকে শুষ্ক ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই ওরা এমন এক বাহিনী, যারা নিমজ্জিত হবে।
তারা ছেড়ে গিয়েছিল কতই না বাগ-বাগিচা ও প্রস্রবণ।
কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য বাসভবন।
কত বিলাস উপকরণ, যার মধ্যে তারা মগ্ন থাকত।
এভাবেই আমরা করে থাকি। আর আমরা সেসবের মালিক করলাম অন্য এক সম্প্রদায়কে।
অতঃপর আকাশ ও পৃথিবী তাদের জন্য অশ্রুপাত করেনি এবং তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয়নি।
আর (এভাবে) আমরা বনু ইস্রাঈলকে হীনকর শাস্তি থেকে উদ্ধার করেছিলাম,
ফেরাঊনের কবল থেকে। সে ছিল সীমালংঘনকারীদের শীর্ষ।
আর আমরা জেনে-শুনেই তাদেরকে (বনু ইস্রাঈলদেরকে) বিশ্ববাসীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।
আর তাদেরকে দিয়েছিলাম নিদর্শনাবলী (যেমন লাঠি ও প্রদীপ্ত হস্ততালু), যাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
নিশ্চয়ই ওরা (কাফেররা) বলে থাকে,
আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নেই এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না।
অতএব তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহ’লে আমাদের বাপ-দাদাদের নিয়ে এসো।
তাহ’লে তারা কি শ্রেষ্ঠ, না তুববা‘ সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তীরা? তাদেরকে আমরা ধ্বংস করেছি। নিঃসন্দেহে তারা ছিল অপরাধী।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু‘য়ের মধ্যেকার কোন কিছুকেই আমরা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
আমরা এ দু’টিকে যথার্থভাবেই সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের অধিকাংশ এটা জানেনা।
নিশ্চয়ই বিচার দিবস হ’ল তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত সময়।
যেদিন কোন বন্ধু তার বন্ধুর উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবেনা।
কেবল আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করবেন সে ব্যতীত। নিশ্চয়ই তিনি মহা পরাক্রান্ত ও অসীম দয়ালু।
নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ,
পাপীদের খাদ্য।
গলিত তামার ন্যায়, যা পেটে ফুটতে থাকবে,
ফুটন্ত পানির ন্যায়।
(বলা হবে) ওকে ধর ও টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের মাঝখানে।
অতঃপর তার মাথায় ঢালো ফুটন্ত পানির শাস্তি।
(অতঃপর বলা হবে) স্বাদ গ্রহণ কর। তুমি তো ছিলে (দুনিয়ায়) পরাক্রান্ত ও সম্ভ্রান্ত।
এটাতো সেটাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ পোষণ করতে।
নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুরা থাকবে নিরাপদ স্থানে।
বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণা সমূহের মধ্যে।
তারা সেখানে পরিধান করবে মিহি ও মোটা রেশমের কাপড় সমূহ এবং বসবে মুখোমুখি হয়ে।
এটাই হবে সেদিনের বাস্তবতা। আর আমরা তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেব আনত নয়না হূরদের সাথে।
সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে।
তারা সেখানে আর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না, (দুনিয়ার) প্রথম মৃত্যু ব্যতীত। আর আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি হ’তে,
তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্বরূপ। সেটাই হবে মহা সফলতা।
আর আমরা তোমার ভাষায় একে (কুরআনকে) সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।
সুতরাং তুমি অপেক্ষায় থাক এবং তারাও অপেক্ষায় থাকুক।