بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হা-মীম।
এই কিতাব মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ।
নিশ্চয়ই নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে নিদর্শনাবলী রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য।
আর তোমাদের সৃষ্টিতে ও জীব-জন্তুর বিস্তারে নিদর্শনাবলী রয়েছে দৃঢ় বিশ্বাসীদের জন্য।
আর রাত্রি ও দিবসের আগমন-নির্গমনে এবং আকাশ থেকে আল্লাহ যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন ও তার মাধ্যমে যমীনকে যে তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন এবং বায়ু প্রবাহের উত্থান-পতনে নিদর্শনাবলী রয়েছে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।
এগুলি আল্লাহ্র আয়াত। যা আমরা পাঠ করছি তোমার উপর যথার্থভাবে। অতএব আল্লাহ ও তার আয়াত সমূহের পর তারা আর কোন্ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করবে?
দুর্ভোগ প্রত্যেক মিথ্যারোপকারী মহাপাপীর জন্য।
যে আল্লাহ্র আয়াত সমূহ শোনে যা তার উপর পাঠ করা হয়। অতঃপর সে দম্ভে অটল থাকে, যেন সে তা শুনতেই পায়নি। সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
যখন সে আমাদের কোন আয়াতের কিছুটা জানতে পাবে, তখন সে সেটিকে ঠাট্টার উপকরণ হিসাবে গ্রহণ করে। এদের জন্য রয়েছে হীনকর শাস্তি।
তাদের সম্মুখে রয়েছে জাহান্নাম। তাদের কৃতকর্ম (সেদিন) কোনই কাজে আসবে না এবং যাদেরকে তারা আল্লাহ্র পরিবর্তে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছিল তারাও নয়। বস্ত্তত তাদের জন্য রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি।
এটি হ’ল পথপ্রদর্শক। আর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে অনুগত করে দিয়েছেন তাঁর আদেশক্রমে। যাতে সেখানে নৌযান সমূহ চলাচল করতে পারে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহরাজি সন্ধান করতে পার ও তাঁর কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আর তিনি তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে সবকিছুকে তাঁর পক্ষ হ’তে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন সমূহ রয়েছে।
তুমি মুমিনদের বলে দাও, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে, যারা আল্লাহ্র দিবসগুলিকে কামনা করে না (অর্থাৎ বিগত উম্মত সমূহের শাস্তির দিবসগুলিকে)। যাতে তিনি এক দলকে (অর্থাৎ মুশরিকদেরকে) তাদের কৃতকর্মের বদলা দিতে পারেন।
যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, সে তার নিজের জন্যই সেটা করে। আর যে ব্যক্তি মন্দকর্ম করে, তার শাস্তি তার উপরেই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর নিশ্চয়ই আমরা বনু ইস্রাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুঅত দান করেছিলাম। আমরা তাদেরকে পবিত্র জীবিকা প্রদান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।
আর আমরা তাদেরকে দ্বীনের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দান করেছিলাম। অতঃপর তারা মতভেদ করল তাদের নিকট ইলম (কুরআন) এসে যাওয়ার পর পারস্পরিক হঠকারিতা বশে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দিবেন ক্বিয়ামতের দিন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত।
অতঃপর আমরা তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির উপর। অতএব তুমি তার অনুসরণ কর এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করোনা।
নিশ্চয়ই তারা তোমাকে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে আদৌ বাঁচাতে পারবে না। আর নিশ্চয়ই যালেমরা পরস্পরের বন্ধু। অথচ আল্লাহ হ’লেন মুত্তাক্বীদের বন্ধু।
এটি মানব জাতির জন্য জ্ঞানভান্ডার এবং দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়াত ও রহমত।
যারা মন্দকর্মে লিপ্ত, তারা কি ভেবেছে যে, আমরা তাদের বাঁচা ও মরাকে তাদের সমান গণ্য করব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে? কতই না মন্দ সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে থাকে!
বস্ত্তত আললাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে। যাতে প্রত্যেককে তার কৃতকর্ম অনুযায়ী ফলাফল দেওয়া যায়। আর তারা অত্যাচারিত হবেনা।
তুমি কি দেখেছ তাকে, যে তার খেয়াল-খুশীকে তার উপাস্য বানিয়েছে? আর আল্লাহ তাকে জেনে-শুনেই পথভ্রষ্ট করেছেন। তার কানে ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর আবরণ টেনে দিয়েছেন। অতএব আল্লাহ্র পরে কে তাকে সুপথ প্রদর্শন করবে? এরপরেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
আর তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবন ছাড়া অন্য কিছু নেই। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। কালের আবর্তনই আমাদেরকে ধ্বংস করে। অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোনই জ্ঞান নেই। তারা তো স্রেফ ধারণা ভিত্তিক কথা বলে।
আর যখন তাদের নিকট আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন একথা বলা ছাড়া তাদের কোন যুক্তিই থাকেনা যে, তোমরা সত্যবাদী হ’লে আমাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ে এসো!
বলে দাও যে, আল্লাহই তোমাদের জীবন দান করেন। অতঃপর মৃত্যু দান করেন। অতঃপর তিনিই তোমাদের ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন যাতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা।
আর আল্লাহ্র জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। বস্ত্তত যেদিন ক্বিয়ামত হবে, সেদিন বাতিলপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আর যেদিন তুমি প্রত্যেক দলকে দেখবে নতজানু অবস্থায়। আর প্রত্যেক দলকে স্ব স্ব আমলনামার প্রতি আহবান করা হবে (এবং বলা হবে) আজ তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফলাফল প্রাপ্ত হবে।
এই যে আমাদের আমলনামা, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য সাক্ষ্য দিবে! আমরা তোমাদের কৃতকর্মসমূহ লিপিবদ্ধ করিয়েছিলাম।
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালক স্বীয় রহমতের মধ্যে প্রবেশ করাবেন। আর এটাই হ’ল সুস্পষ্ট সফলতা।
অতঃপর যারা অবিশ্বাস করে (তাদেরকে সেদিন বলা হবে,) তোমাদের উপর কি আমাদের আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা অহংকার করেছিলে এবং তোমরা ছিলে অপরাধী সম্প্রদায়।
যখন বলা হয়, আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য এবং ক্বিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলে থাক, আমরা জানি না ক্বিয়ামত কি? আমরা ধারণা করি মাত্র। এ বিষয়ে আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী নই।
আর (সেদিন) তাদের মন্দ কর্মগুলি তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করত, তা তাদেরকে বেষ্টন করবে।
আর সেদিন তাদের বলা হবে, আজ আমরা তোমাদের ভুলে গেলাম যেমন তোমরা এদিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে। আর তোমাদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
এটা এজন্য যে, তোমরা আল্লাহ্র আয়াত সমূহকে ঠাট্টাচ্ছলে গ্রহণ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। অতএব আজকের দিনে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবেনা এবং তারা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবেনা।
অতএব আল্লাহ্র জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। যিনি নভোমন্ডলের পালনকর্তা ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা এবং জগত সমূহের পালনকর্তা।
আর তাঁরই জন্য সকল বড়ত্ব নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। আর তিনিই মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।