৪৬

সূরাঃ আহক্বাফ ()

মাক্কীমোট আয়াত ৩৫ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

حٰمٓ‏

হা-মীম।

تَنۡزِيۡلُ الۡكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الۡعَزِيۡزِ الۡحَكِيۡمِ‏

এই কিতাব মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ।

مَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّىؕ وَالَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا عَمَّاۤ اُنۡذِرُوۡا مُعۡرِضُوۡنَ‏

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আমরা সৃষ্টি করেছি যথার্থভাবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। বস্ত্তত যা থেকে তাদের সতর্ক করা হয়, তা থেকে অবিশ্বাসীরা মুখ ফিরিয়ে নেয় (অর্থাৎ ক্বিয়ামত থেকে)।

قُلۡ اَرَءَيۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اَرُوۡنِىۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَهُمۡ شِرۡكٌ فِى السَّمٰوٰتِؕ اِیْتُوۡنِىۡ بِكِتٰبٍ مِّنۡ قَبۡلِ هٰذَاۤ اَوۡ اَثٰرَةٍ مِّنۡ عِلۡمٍ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِيۡنَ‏

বল, তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের আহবান কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? আমাকে দেখাও তারা পৃথিবীতে কোন বস্ত্ত সৃষ্টি করেছে? অথবা আকাশ সমূহ সৃষ্টিতে তাদের কি কোন অংশ আছে? এ ব্যাপারে বিগত কোন কিতাব থাকলে অথবা জ্ঞানের অবশিষ্টাংশ কিছু থাকলে সেটি আমার কাছে নিয়ে এস, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

وَمَنۡ اَضَلُّ مِمَّنۡ يَّدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَنۡ لَّا يَسۡتَجِيۡبُ لَهٗۤ اِلٰى يَوۡمِ الۡقِيٰمَةِ وَهُمۡ عَنۡ دُعَآٮِٕهِمۡ غٰفِلُوۡنَ‏

তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে আল্লাহকে ছেড়ে এমন বস্ত্তকে ডাকে, যে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না? আর তারাও তাদের আহবান সম্পর্কে কিছুই জানবে না।

وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوۡا لَهُمۡ اَعۡدَآءً وَّ كَانُوۡا بِعِبَادَتِهِمۡ كٰفِرِيۡنَ‏

যেদিন মানুষকে সমবেত করা হবে, সেদিন এইসব উপাস্যরা তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের পূজার বিষয়টি অস্বীকার করবে।

وَاِذَا تُتۡلٰى عَلَيۡهِمۡ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ قَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لِلۡحَقِّ لَـمَّا جَآءَهُمۡۙ هٰذَا سِحۡرٌ مُّبِيۡنٌؕ

যখন তাদের নিকট আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন সত্য এসে যাওয়ার পরেও অবিশ্বাসীরা বলে, এটাতো প্রকাশ্য জাদু।

اَمۡ يَقُوۡلُوۡنَ افۡتَـرٰٮهُؕ قُلۡ اِنِ افۡتَـرَيۡتُهٗ فَلَا تَمۡلِكُوۡنَ لِىۡ مِنَ اللّٰهِ شَيـــًٔاؕ هُوَ اَعۡلَمُ بِمَا تُفِيۡضُوۡنَ فِيۡهِؕ كَفٰى بِهٖ شَهِيۡدًاۢ بَيۡنِىۡ وَبَيۡنَكُمۡؕ وَهُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِيۡمُ‏

অথবা তারা বলে যে, এটি (কুরআন) তার বানানো। বল, যদি এটি আমি বানিয়ে থাকি, তাহ’লে তোমরা তো আমাকে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে বাঁচাবার কিছুমাত্র ক্ষমতা রাখো না। তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন, এ বিষয়ে তোমরা যেসব বানোয়াট কথা বলছ। আমার ও তোমাদের মধ্যে তিনিই বড় সাক্ষী। আর তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

قُلۡ مَا كُنۡتُ بِدۡعًا مِّنَ الرُّسُلِ وَمَاۤ اَدۡرِىۡ مَا يُفۡعَلُ بِىۡ وَلَا بِكُمۡؕ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا يُوۡحٰٓى اِلَىَّ وَمَاۤ اَنَا اِلَّا نَذِيۡرٌ مُّبِيۡنٌ‏

বল, আমি তো নতুন কোন রাসূল নই। আর আমি জানিনা আমার ও তোমাদের সাথে কি আচরণ করা হবে। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি অহি করা হয়। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী বৈ কিছুই নই।

قُلۡ اَرَءَيۡتُمۡ اِنۡ كَانَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰهِ وَكَفَرۡتُمۡ بِهٖ وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنۡۢ بَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَ عَلٰى مِثۡلِهٖ فَاٰمَنَ وَاسۡتَكۡبَرۡتُمۡؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يَهۡدِى الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِيۡنَ‏

বল, তোমাদের ধারণা কি, যদি এটি (কুরআন) আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হয়, আর যদি তোমরা তা অস্বীকার কর; অথচ বনু ইস্রাঈলের জনৈক সাক্ষ্যদাতা এরূপ একটি কিতাবের (তওরাতের) পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিল। অতঃপর সে তার উপর ঈমান এনেছিল, কিন্তু তোমরা অহংকার করলে। (মনে রেখ) নিশ্চয়ই আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।

وَقَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لِلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا لَوۡ كَانَ خَيۡرًا مَّا سَبَقُوۡنَاۤ اِلَيۡهِؕ وَاِذۡ لَمۡ يَهۡتَدُوۡا بِهٖ فَسَيَقُوۡلُوۡنَ هٰذَاۤ اِفۡكٌ قَدِيۡمٌ‏

আর কাফেররা মুমিনদের বলে, যদি এটা উত্তম হ’ত, তাহ’লে আমাদের আগে তারা এটা কবুল করতে পারত না। (আল্লাহ বলেন,) যেহেতু তারা এর মাধ্যমে সুপথ পায়নি, সেহেতু ওরা এখন বলবে, এটা সেই পুরানো মিথ্যা।

وَمِنۡ قَبۡلِهٖ كِتٰبُ مُوۡسٰٓى اِمَامًا وَّرَحۡمَةًؕ وَهٰذَا كِتٰبٌ مُّصَدِّقٌ لِّسَانًا عَرَبِيًّا لِّيُنۡذِرَ الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡاۖ  وَبُشۡرٰى لِلۡمُحۡسِنِيۡنَۚ ‏ 

এর পূর্বে ছিল মূসার কিতাব (তাওরাত), যা ছিল পথপ্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ। আর এ কিতাব (কুরআন) হ’ল তার সত্যায়নকারী ও আরবী ভাষায় অবতীর্ণ। যাতে তা সীমালংঘনকারীদের সতর্ক করতে পারে। আর এটি হ’ল সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদ।

اِنَّ الَّذِيۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُوۡنَۚ

যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। অতঃপর একথার উপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।

اُولٰٓٮِٕكَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّةِ خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَاۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوۡا يَعۡمَلُوۡنَ‏

তারা হবে জান্নাতের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এটা হবে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান।

وَوَصَّيۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَيۡهِ اِحۡسَانًاؕ حَمَلَـتۡهُ اُمُّهٗ كُرۡهًا وَّوَضَعَتۡهُ كُرۡهًاؕ وَحَمۡلُهٗ وَفِصٰلُهٗ ثَلٰـثُوۡنَ شَهۡرًاؕ حَتّٰٓى اِذَا بَلَغَ اَشُدَّهٗ وَبَلَغَ اَرۡبَعِيۡنَ سَنَةًۙ قَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِىۡۤ اَنۡ اَشۡكُرَ نِعۡمَتَكَ الَّتِىۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وَالِدَىَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰٮهُ وَاَصۡلِحۡ لِىۡ فِىۡ ذُرِّيَّتِىۡؕۚ اِنِّىۡ تُبۡتُ اِلَيۡكَ وَاِنِّىۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِيۡنَ‏

আর আমরা মানুষকে আদেশ দিয়েছি তাদের পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের জন্য। তার মা তাকে কষ্টের সাথে গর্ভে ধারণ করেছে ও কষ্টের সাথে প্রসব করেছে। আর তাকে গর্ভে ধারণ ও দুধ ছাড়াতে সময় লেগেছে ত্রিশ মাস। অতঃপর যখন সে পূর্ণ শক্তির বয়সে উপনীত হয় ও চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছে যায়, তখন বলে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে শক্তি দাও যাতে আমি তোমার নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ। আর আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি যা তুমি পসন্দ কর। আর তুমি আমার জন্য আমার সন্তানদের মধ্যে কল্যাণ দান কর। আমি তোমার দিকে ফিরে গেলাম এবং আমি তোমার আজ্ঞাবহদের অন্তর্ভুক্ত।

اُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ نَـتَقَبَّلُ عَنۡهُمۡ اَحۡسَنَ مَا عَمِلُوۡا وَنَـتَجَاوَزُ عَنۡ سَيِّاٰتِهِمۡ فِىۡۤ اَصۡحٰبِ الۡجَنَّةِؕ وَعۡدَ الصِّدۡقِ الَّذِىۡ كَانُوۡا يُوۡعَدُوۡنَ‏

এরাই তো তারা যাদের উত্তম আমলগুলি আমরা কবুল করি এবং মন্দকর্ম গুলি মার্জনা করি। এরা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য, যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছে।

وَالَّذِىۡ قَالَ لِـوَالِدَيۡهِ اُفٍّ لَّكُمَاۤ اَتَعِدٰنِنِىۡۤ اَنۡ اُخۡرَجَ وَقَدۡ خَلَتِ الۡقُرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلِىۡۚ وَهُمَا يَسۡتَغِيۡثٰنِ اللّٰهَ وَيۡلَكَ اٰمِنۡۖ  اِنَّ وَعۡدَ اللّٰهِ حَقٌّۖۚ فَيَقُوۡلُ مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيۡرُ الۡاَوَّلِيۡنَ‏

আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বলে, ধিক তোমাদের জন্য! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব? অথচ আমার পূর্বে বহু জাতি গত হয়ে গেছে। একথা শুনে তার পিতা-মাতা দু’জনে আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ করে বলে, তোমার ধ্বংস হৌক! তুমি ঈমান আনো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য। (জবাবে) সে বলে, এটাতো পুরাকালের উপকথা মাত্র।

اُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ حَقَّ عَلَيۡهِمُ الۡقَوۡلُ فِىۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِؕ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا خٰسِرِيۡنَ‏

এরাই তো তারা যাদের উপর শাস্তি অবধারিত হয়েছিল জিন ও ইনসানের মধ্যে যেসব জাতি তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

وَلِكُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوۡاۚ وَلِيُوَفِّيَهُمۡ اَعۡمَالَهُمۡ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُوۡنَ‏

প্রত্যেকের জন্য মর্যাদার স্তর রয়েছে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী। যাতে তাদের কৃতকর্মের পূর্ণ ফলাফল তিনি তাদের দিতে পারেন এবং তারা অত্যাচারিত না হয়।

وَيَوۡمَ يُعۡرَضُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا عَلَى النَّارِؕ اَذۡهَبۡتُمۡ طَيِّبٰـتِكُمۡ فِىۡ حَيَاتِكُمُ الدُّنۡيَا وَاسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِهَاۚ فَالۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡهُوۡنِ بِمَا كُنۡـتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُوۡنَ فِى الۡاَرۡضِ بِغَيۡرِ الۡحَقِّ وَبِمَا كُنۡتُمۡ تَفۡسُقُوۡنَ‏

আর (স্মরণ কর,) যেদিন অবিশ্বাসীদের জাহান্নামের নিকট উপস্থিত করা হবে (এবং বলা হবে) তোমরা তো পার্থিব জীবনে সব সুখ-শান্তি নিঃশেষ করেছ এবং তা পূর্ণভাবে ভোগ করেছ। সুতরাং আজ তোমাদেরকে হীনকর শাস্তির বদলা দেওয়া হবে এ কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করতে এবং তোমরা পাপাচার করতে।

وَاذۡكُرۡ اَخَا عَادٍؕ اِذۡ اَنۡذَرَ قَوۡمَهٗ بِالۡاَحۡقَافِ وَقَدۡ خَلَتِ النُّذُرُ مِنۡۢ بَيۡنِ يَدَيۡهِ وَمِنۡ خَلۡفِهٖۤ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰهَؕ اِنِّىۡۤ اَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍ‏

আর তুমি স্মরণ কর ‘আদ সম্প্রদায়ের ভাই (হূদ)-এর কথা। যখন সে তার আহক্বাফবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল এবং তার পূর্বে ও পরে অনেক সতর্ককারী গত হয়ে গিয়েছে- এই দাওয়াত দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারু ইবাদত করো না। আমি তোমাদের উপর ভয়ংকর দিবসের শাস্তির আশংকা করছি।

قَالُـوۡۤا اَجِئۡتَـنَا لِتَاۡفِكَنَا عَنۡ اٰلِهَـتِنَاۚ فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِيۡنَ‏

তারা (হূদকে) বলল, তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্য সমূহ থেকে ফিরিয়ে রাখতে আগমন করেছ? যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহ’লে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে আস।

قَالَ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰهِۖ  وَاُبَلِّغُكُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِهٖ وَلٰـكِنِّىۡۤ اَرٰٮكُمۡ قَوۡمًا تَجۡهَلُوۡنَ‏

হূদ বলল, এ জ্ঞান তো কেবল আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে। আর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তাই তোমাদের নিকট প্রচার করে থাকি। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এক মূর্খ সম্প্রদায়।

فَلَمَّا رَاَوۡهُ عَارِضًا مُّسۡتَقۡبِلَ اَوۡدِيَتِهِمۡۙ قَالُوۡا هٰذَا عَارِضٌ مُّمۡطِرُنَاؕ بَلۡ هُوَ مَا اسۡتَعۡجَلۡتُمۡ بِهٖۚ رِيۡحٌ فِيۡهَا عَذَابٌ اَ لِيۡمٌۙ

অতঃপর যখন তারা শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা সমূহের দিকে আসতে দেখল, তখন বলল, এইতো এসে গেছে মেঘ, যা আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। তখন (হূদ বলল) বরং এটা সেই বস্ত্ত, যার জন্য তোমরা ব্যস্ততা দেখাচ্ছিলে। এটা এমন বায়ু, যার মধ্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

تُدَمِّرُ كُلَّ شَىۡءٍ ۭ بِاَمۡرِ رَبِّهَا فَاَصۡبَحُوۡا لَا يُرٰٓى اِلَّا مَسٰكِنُهُمۡؕ كَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡقَوۡمَ الۡمُجۡرِمِيۡنَ‏

সে তার প্রতিপালকের আদেশে সবকিছুকে ধ্বংস করে দিবে। অতঃপর তারা এমন অবস্থা প্রাপ্ত হ’ল যে, শূন্য বাসস্থানগুলি ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। আমরা অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনি করেই শাস্তি দিয়ে থাকি।

وَلَقَدۡ مَكَّنّٰهُمۡ فِيۡمَاۤ اِنۡ مَّكَّنّٰكُمۡ فِيۡهِ وَجَعَلۡنَا لَهُمۡ سَمۡعًا وَّاَبۡصَارًا وَّاَفۡـِٕدَةًۖ  فَمَاۤ اَغۡنٰى عَنۡهُمۡ سَمۡعُهُمۡ وَلَاۤ اَبۡصَارُهُمۡ وَلَاۤ اَفۡـِٕدَتُهُمۡ مِّنۡ شَىۡءٍ اِذۡ كَانُوۡا يَجۡحَدُوۡنَۙ بِاٰيٰتِ اللّٰهِ وَحَاقَ بِهِمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ يَسۡتَهۡزِءُوۡنَ‏

আমরা তাদেরকে এমন সব বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যেসব বিষয়ে তোমাদের ক্ষমতা দেইনি। আমরা তাদের দিয়েছিলাম কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়। কিন্তু সেসব কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহকে অস্বীকার করল এবং সেই শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল, যা নিয়ে তারা উপহাস করত।

وَلَقَدۡ اَهۡلَكۡنَا مَا حَوۡلَـكُمۡ مِّنَ الۡقُرٰى وَصَرَّفۡنَا الۡاٰيٰتِ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُوۡنَ‏

আর আমরা তো তোমাদের আশপাশের জনপদ সমূহকে ধ্বংস করেছিলাম এবং বারবার তাদেরকে আয়াত সমূহ শুনিয়েছিলাম যাতে তারা ফিরে আসে।

فَلَوۡلَا نَصَرَهُمُ الَّذِيۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ قُرۡبَانًا اٰلِهَةًؕ بَلۡ ضَلُّوۡا عَنۡهُمۡۚ وَذٰلِكَ اِفۡكُهُمۡ وَمَا كَانُوۡا يَفۡتَرُوۡنَ‏ 

তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদের সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের থেকে উধাও হয়ে গেল। আর এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম।

وَاِذۡ صَرَفۡنَاۤ اِلَيۡكَ نَفَرًا مِّنَ الۡجِنِّ يَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَۚ فَلَمَّا حَضَرُوۡهُ قَالُوۡۤا اَنۡصِتُوۡاۚ فَلَمَّا قُضِىَ وَلَّوۡا اِلٰى قَوۡمِهِمۡ مُّنۡذِرِيۡنَ‏

আর (স্মরণ কর) যখন আমরা একদল জিনকে তোমার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, যারা মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনছিল। অতঃপর যখন তারা সেখানে উপস্থিত হ’ল, তখন পরস্পরকে বলল, চুপ থাক। তারপর যখন তেলাওয়াত শেষ হ’ল, তখন তারা তাদের কওমের নিকট ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে।

قَالُوۡا يٰقَوۡمَنَاۤ اِنَّا سَمِعۡنَا كِتٰبًا اُنۡزِلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مُوۡسٰى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ يَهۡدِىۡۤ اِلَى الۡحَقِّ وَاِلٰى طَرِيۡقٍ مُّسۡتَقِيۡمٍ‏ 

তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা মূসার পরে নাযিল হয়েছে। যা পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়ন করে। যা সত্যের দিকে ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে।

يٰقَوۡمَنَاۤ اَجِيۡبُوۡا دَاعِىَ اللّٰهِ وَاٰمِنُوۡا بِهٖ يَغۡفِرۡ لَـكُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِكُمۡ وَيُجِرۡكُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ اَ لِيۡمٍ‏

হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র পথে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হ’তে রক্ষা করবেন।

وَمَنۡ لَّا يُجِبۡ دَاعِىَ اللّٰهِ فَلَيۡسَ بِمُعۡجِزٍ فِى الۡاَرۡضِ وَلَيۡسَ لَهٗ مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اَوۡلِيَآءُؕ اُولٰٓٮِٕكَ فِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍ‏

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র পথে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে (প্রতিশোধ গ্রহণে) অক্ষম করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না। ওরা স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।

اَوَلَمۡ يَرَوۡا اَنَّ اللّٰهَ اۨلَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَلَمۡ يَعۡىَ بِخَلۡقِهِنَّ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ يُّحۡیِۦَ الۡمَوۡتٰىؕ بَلٰٓى اِنَّهٗ عَلٰى كُلِّ شَىۡءٍ قَدِيۡرٌ‏‏

তারা কি বুঝে না যে, আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে অপারগ হননি, তিনি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

وَيَوۡمَ يُعۡرَضُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا عَلَى النَّارِؕ اَلَيۡسَ هٰذَا بِالۡحَقِّؕ قَالُوۡا بَلٰى وَرَبِّنَاؕ قَالَ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا كُنۡـتُمۡ تَكۡفُرُوۡنَ‏ 

আর যেদিন কাফেরদের জাহান্নামের কিনারে নেওয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এটা কি বাস্তব নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ। আমাদের প্রতিপালকের শপথ! আল্লাহ বলবেন, অতএব তোমরা এখন তোমাদের অবিশ্বাসের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।

فَاصۡبِرۡ كَمَا صَبَرَ اُولُوا الۡعَزۡمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسۡتَعۡجِلْ لَّهُمۡؕ كَاَنَّهُمۡ يَوۡمَ يَرَوۡن مَا يُوۡعَدُوۡنَۙ لَمۡ يَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا سَاعَةً مِّنۡ نَّهَارٍؕ بَلٰغٌۚ فَهَلۡ يُهۡلَكُ اِلَّا الۡقَوۡمُ الۡفٰسِقُوۡنَ‏ 

অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ। আর ওদের (শাস্তির) জন্য ব্যস্ত হয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত (শাস্তির) বিষয়টি প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দিনের একটা মুহূর্ত ব্যতীত (দুনিয়াতে) অবস্থান করেনি। এটা সতর্কবাণী মাত্র। অতঃপর পাপাচারী সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় কি?