بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
যারা কুফরী করে ও আল্লাহ্র পথে বাধা সৃষ্টি করে, তিনি তাদের কর্মসমূহ নিস্ফল করে দেন।
আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে এবং মুহাম্মাদের উপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে যে সত্য পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে; আল্লাহ তাদের মন্দকর্ম সমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দেন।
এটা এজন্য যে, যারা কুফরী করে তারা মিথ্যার অনুসরণ করে। আর যারা ঈমান আনে তারা তাদের প্রভুর পক্ষ হ’তে আগত সত্যের অনুসরণ করে। এভাবে আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত সমূহ পেশ করেন।
অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দান মারো। অবশেষে যখন তোমরা তাদের পুরাপুরি পরাজিত করবে, তখন তাদেরকে শক্তভাবে বেঁধে ফেল। তারপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, নয় তাদের থেকে মুক্তিপণ নাও যতক্ষণ না যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। এটাই বিধান। বস্ত্তত আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে একে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। আর যারা আল্লাহ্র পথে নিহত হয়, তিনি কখনোই তাদের কর্ম সমূহ নিস্ফল করবেন না।
সত্বর তিনি তাদের পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করবেন।
অতঃপর তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।
হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তাহ’লে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পাগুলিকে দৃঢ় করবেন।
আর যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ এবং তিনি তাদের কর্মগুলি নিস্ফল করে দিবেন।
এটা এজন্য যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা অপসন্দ করে। ফলে তিনি তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি এবং দেখেনি যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে একই পরিণাম।
এটা এজন্য যে, আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক এবং অবিশ্বাসীদের কোন অভিভাবক নেই।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদেরকে আল্লাহ প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাসী, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মত ভক্ষণ করে। আর জাহান্নাম হ’ল তাদের ঠিকানা।
তোমার যে জনপদ থেকে তারা তোমাকে বিতাড়িত করেছে, তার চাইতে বহুগুণ শক্তিশালী অনেক জনপদ ছিল, যাদেরকে আমরা ধ্বংস করেছি। অথচ তাদের সাহায্য করার মত কেউ ছিলনা।
যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি ঐ ব্যক্তির মত হ’তে পারে, যার নিকট তার মন্দ কর্মগুলিকে শোভনীয় করা হয়েছে এবং যারা তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে?
জান্নাতের দৃষ্টান্ত যার ওয়াদা মুত্তাক্বীদের দেওয়া হয়েছে, সেখানে থাকবে বিশুদ্ধ পানির নদী সমূহ এবং দুধের নদী সমূহ, যার স্বাদ থাকবে অপরিবর্তিত। আর থাকবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নদী ও পরিচ্ছন্ন মধুর নদী সমূহ। আর সেখানে থাকবে তাদের জন্য বিবিধ ফল-মূল ও তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা। অতএব মুত্তাক্বীরা কি তাদের ন্যায় হ’তে পারে, যারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করানো হবে ফুটন্ত পানি, যা তাদের নাড়ি-ভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন করে দিবে?
আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা তোমার কথা কান পেতে শোনে। তারপর তোমার কাছ থেকে বেরিয়ে জ্ঞানীদের কাছে গিয়ে বলে, এইমাত্র উনি কি বললেন? ওরা হ’ল সেই সব লোক যাদের অন্তর সমূহে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।
আর যারা সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদেরকে আল্লাহভীরুতা দান করেন।
তারা কি তাহ’লে ক্বিয়ামতের অপেক্ষা করছে যে, সেটি তাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়ুক! অথচ তার নিদর্শনসমূহ এসে গেছে। এক্ষণে যদি সেটি এসেই পড়ে, তাহ’লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কখন?
অতএব তুমি জানো যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আর তোমার পাপের জন্য ও মুমিন নর-নারীদের পাপের জন্য তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর। আল্লাহ তোমাদের কর্মতৎপরতা ও অবস্থানস্থল সম্পর্কে অবগত আছেন।
আর যারা ঈমান এনেছে তারা বলে, (জিহাদের ব্যাপারে) কোন সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন সুস্পষ্ট অর্থ বিশিষ্ট কোন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জিহাদের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন তুমি দেখবে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তারা তোমার দিকে তাকাচ্ছে মৃত্যুভয়ে বিহবল ব্যক্তির মত। সুতরাং দুর্ভোগ ওদের জন্য!
(তাদের জন্য উত্তম ছিল) আনুগত্য করা ও সঙ্গত কথা বলা। অতঃপর যখন (জিহাদের) সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তখন যদি তারা আল্লাহ্র সাথে সততা রক্ষা করে, তবে সেটি তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহ’লে অবশ্যই তোমরা জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাৎ করেন। অতঃপর তাদেরকে তিনি বধির করেন ও তাদের চক্ষুগুলিকে অন্ধ করে দেন।
তবে কি তারা কুরআন অনুধাবন করে না? নাকি তাদের হৃদয়গুলি তালাবদ্ধ?
যারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়, তাদের নিকট হেদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পরেও; শয়তান তাদের (মন্দকর্মগুলিকে) শোভনীয় করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়।
এটা এজন্য যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা যারা অপসন্দ করে, তাদেরকে তারা বলে, সত্বর আমরা কোন কোন কাজে তোমাদের আনুগত্য করব। অথচ আল্লাহ তাদের (এইসব) গোপন কথা ভালভাবে জানেন।
অতঃপর তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করবে?
এটা এজন্য যে, যে কাজ আল্লাহকে ক্রুদ্ধ করে, তারা সেই কাজের অনুসরণ করে। আর তারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টিকে অপসন্দ করে। ফলে তিনি তাদের সকল কর্ম নিষ্ফল করে দেন।
যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ তাদের চেপে রাখা বিদ্বেষ কখনই প্রকাশ করে দিবেন না?
আমরা ইচ্ছা করলে তোমাকে তাদের দেখিয়ে দিতাম। অতঃপর তুমি তাদের চেহারা দেখে অবশ্যই চিনে নিতে পারতে। তবে নিশ্চয়ই তুমি তাদের চিনতে পারবে তাদের কথার ভঙ্গিতে। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের সকল কর্ম সম্পর্কে জানেন।
আর আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না আমরা (প্রমাণসহ) জানতে পারি তোমাদের মধ্যকার সত্যিকারের মুজাহিদ ও দৃঢ়চিত্তদের এবং পরীক্ষা নেই তোমাদের গোপন খবর সমূহের।
নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে ও মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিরত রাখে এবং তাদের নিকট হেদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাবার পরেও রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা কখনোই আল্লাহ্র কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সত্বর তাদের সকল কর্ম নিষ্ফল করে দিবেন।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্র ও আনুগত্য কর তার রাসূলের। আর তোমরা তোমাদের আমলগুলিকে বিনষ্ট করোনা।
নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে ও মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না।
অতএব তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির আহবান জানাইয়ো না, যখন তোমরা প্রবল থাকবে। আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি কখনোই তোমাদের কর্মসমূহ বিনষ্ট করবেন না।
পার্থিব জীবন খেল-তামাশা বৈ কিছু নয়। তবে যদি তোমরা ঈমান আনো ও আল্লাহভীরু হও, তাহ’লে তিনি তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দিবেন। আর তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চান না।
যদি তিনি তোমাদের নিকট ছাদাক্বা চান ও বারবার তাগাদা করেন, তাহ’লে তোমরা কার্পণ্য করবে এবং তিনি তোমাদের মনের সংকীর্ণতা প্রকাশ করে দিবেন।
দেখ, তোমরাই তো তারা যাদেরকে আল্লাহ্র পথে ব্যয় করার আহবান জানানো হচ্ছে। অথচ তোমাদের মধ্যে অনেকে কৃপণতা করছে। বস্ত্তত যারা কৃপণতা করে, তারা তো নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবী। এক্ষণে যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহ’লে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। অতঃপর তারা তোমাদের মত হবে না।