৪৮

সূরাঃ ফাৎহ (বিজয়)

মাদানীমোট আয়াত ২৯ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اِنَّا فَتَحۡنَا لَكَ فَتۡحًا مُّبِيۡنًاۙ

নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে দান করেছি স্পষ্ট বিজয়।

لِّيَـغۡفِرَ لَكَ اللّٰهُ مَا تَقَدَّمَ مِنۡ ذَنۡۢبِكَ وَ مَا تَاَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعۡمَتَهٗ عَلَيۡكَ وَيَهۡدِيَكَ صِرَاطًا مُّسۡتَقِيۡمًاۙ

যাতে আল্লাহ তোমার আগে-পিছের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন। আর তোমার উপর তার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করেন ও তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

وَّ يَنۡصُرَكَ اللّٰهُ نَصۡرًا عَزِيۡزًا‏

এবং তোমাকে আল্লাহ অপ্রতিরোধ্য সাহায্য দান করেন।

هُوَ الَّذِىۡۤ اَنۡزَلَ السَّكِيۡنَةَ فِىۡ قُلُوۡبِ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ لِيَزۡدَادُوۡۤا اِيۡمَانًا مَّعَ اِيۡمَانِهِمۡؕ وَلِلّٰهِ جُنُوۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلِيۡمًا حَكِيۡمًاۙ

তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন। যাতে তাদের ঈমানের সাথে ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়। বস্ত্তত আল্লাহ্রই জন্য নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

لِّيُدۡخِلَ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَا وَيُكَفِّرَ عَنۡهُمۡ سَيِّاٰتِهِمۡؕ وَكَانَ ذٰ لِكَ عِنۡدَ اللّٰهِ فَوۡزًا عَظِيۡمًاۙ

এটা এজন্য যাতে তিনি মুমিন পুরুষ ও নারীদের জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন। যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর যাতে তিনি তাদের গোনাহসমূহ মার্জনা করতে পারেন। বস্ত্তত সেটাই হ’ল আল্লাহ্র নিকটে মহা সাফল্য।

وَّيُعَذِّبَ الۡمُنٰفِقِيۡنَ وَالۡمُنٰفِقٰتِ وَالۡمُشۡرِكِيۡنَ وَ الۡمُشۡرِكٰتِ الظَّآنِّيۡنَ بِاللّٰهِ ظَنَّ السَّوۡءِؕ عَلَيۡهِمۡ دَآٮِٕرَةُ السَّوۡءِۚ وَ غَضِبَ اللّٰهُ عَلَيۡهِمۡ وَلَعَنَهُمۡ وَاَعَدَّ لَهُمۡ جَهَنَّمَؕ وَسَآءَتۡ مَصِيۡرًا‏ 

আর যাতে তিনি শাস্তি দিতে পারেন মুনাফিক পুরুষ ও নারীদের এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদের, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে। তাদের উপর রয়েছে মন্দের বেষ্টনী। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন ও তাদের উপর লা‘নত করেছেন এবং তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্ত্তত রেখেছেন। আর কতই না মন্দ সেই ঠিকানা!

وَلِلّٰهِ جُنُوۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَزِيۡزًا حَكِيۡمًا‏ 

আর আল্লাহ্রই জন্য রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ। বস্ত্তত আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيۡرًاۙ

নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে।

لِّـتُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ وَتُعَزِّرُوۡهُ وَتُوَقِّرُوۡهُؕ وَتُسَبِّحُوۡهُ بُكۡرَةً وَّاَصِيۡلًا‏

যাতে তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর আল্লাহ্র উপরে ও তাঁর রাসূলের উপরে। আর তোমরা তাকে সাহায্য কর ও সম্মান কর এবং সকালে ও সন্ধ্যায় আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা কর।

اِنَّ الَّذِيۡنَ يُبَايِعُوۡنَكَ اِنَّمَا يُبَايِعُوۡنَ اللّٰهَؕ يَدُ اللّٰهِ فَوۡقَ اَيۡدِيۡهِمۡۚ فَمَنۡ نَّكَثَ فَاِنَّمَا يَنۡكُثُ عَلٰى نَفۡسِهٖۚ وَمَنۡ اَوۡفٰى بِمَا عٰهَدَ عَلَيۡهُ اللّٰهَ فَسَيُؤۡتِيۡهِ اَجۡرًا عَظِيۡمًا‏

নিশ্চয়ই যারা তোমার নিকটে আনুগত্যের বায়‘আত করে, তারা আল্লাহ্র নিকটেই বায়‘আত করে। আল্লাহ্র হাত তাদের হাতের উপর থাকে। অতঃপর যে ব্যক্তি বায়‘আত ভঙ্গ করে, সে তার নিজের ক্ষতির জন্যই সেটা করে। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মহা পুরস্কারে ভূষিত করবেন।

سَيَـقُوۡلُ لَكَ الۡمُخَلَّفُوۡنَ مِنَ الۡاَعۡرَابِ شَغَلَـتۡنَاۤ اَمۡوَالُـنَا وَاَهۡلُوۡنَا فَاسۡتَغۡفِرۡ لَـنَاۚ يَقُوۡلُوۡنَ بِاَلۡسِنَتِهِمۡ مَّا لَـيۡسَ فِىۡ قُلُوۡبِهِمۡؕ قُلۡ فَمَنۡ يَّمۡلِكُ لَـكُمۡ مِّنَ اللّٰهِ شَيۡـًٔــا اِنۡ اَرَادَ بِكُمۡ ضَرًّا اَوۡ اَرَادَ بِكُمۡ نَفۡعًاؕ بَلۡ كَانَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِيۡرًا‏

মরুবাসীদের মধ্যে যারা (হোদায়বিয়ার সফর থেকে) পিছনে রয়েছে, সত্বর তারা (ওযর পেশ করে) তোমাকে বলবে, আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল। অতএব আমাদের জন্য (আল্লাহ্র নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা এগুলি মুখে বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। তুমি বল, তোমাদের মধ্যে কার ক্ষমতা রয়েছে আল্লাহ্র কোন কিছুতে বাধা দেওয়ার, যদি তিনি তোমাদের কারু কোন ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন অথবা কোন উপকার করার ইচ্ছা করেন? বরং তোমরা যা কিছু কর, সবই আল্লাহ খবর রাখেন।

بَلۡ ظَنَـنۡـتُمۡ اَنۡ لَّنۡ يَّـنۡقَلِبَ الرَّسُوۡلُ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِلٰٓى اَهۡلِيۡهِمۡ اَبَدًا وَّزُيِّنَ ذٰ لِكَ فِىۡ قُلُوۡبِكُمۡ وَظَنَنۡتُمۡ ظَنَّ السَّوۡءِۖۚ وَكُنۡـتُمۡ قَوۡمًا ۢ بُوۡرًا‏

বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, রাসূল ও মুমিনগণ আর কখনোই তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসবে না। আর এই ধারণা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত ছিল এবং তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী ছিলে। আসলে তোমরা একটি ধ্বংসশীল সম্প্রদায়।

وَمَنۡ لَّمۡ يُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ فَاِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا لِلۡكٰفِرِيۡنَ سَعِيۡرًا‏

যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনেনা, আমরা সেই সব কাফিরদের জন্য জ্বলন্ত হুতাশন প্রস্ত্তত করে রেখেছি।

وَلِلّٰهِ مُلۡكُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ يَغۡفِرُ لِمَنۡ يَّشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَنۡ يَّشَآءُؕ وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوۡرًا رَّحِيۡمًا‏

আর আল্লাহ্রই জন্য নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। তিনি যাকে চান ক্ষমা করেন ও যাকে চান শাস্তি দেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

سَيَـقُوۡلُ الۡمُخَلَّفُوۡنَ اِذَا انْطَلَقۡتُمۡ اِلٰى مَغَانِمَ لِتَاۡخُذُوۡهَا ذَرُوۡنَا نَـتَّبِعۡكُمۡۚ يُرِيۡدُوۡنَ اَنۡ يُّبَدِّلُوۡا كَلٰمَ اللّٰهِؕ قُلْ لَّنۡ تَتَّبِعُوۡنَا كَذٰلِكُمۡ قَالَ اللّٰهُ مِنۡ قَبۡلُۚ فَسَيَقُوۡلُوۡنَ بَلۡ تَحۡسُدُوۡنَـنَاؕ بَلۡ كَانُوۡا لَا يَفۡقَهُوۡنَ اِلَّا قَلِيۡلًا‏

পিছিয়ে থাকা লোকগুলি সত্বর বলবে, যখন তোমরা গণীমত সংগ্রহের জন্য যাবে, ছাড় আমরাও তোমাদের সাথে যাব। (এর দ্বারা) তারা আল্লাহ্র ওয়াদাকে পরিবর্তন করতে চায়। বলে দাও তোমরা কখনোই আমাদের সাথে যেতে পারবে না। আল্লাহ আগে-ভাগেই সেকথা আমাদের বলে দিয়েছেন। তখন তারা বলবে, বরং তোমরা আমাদের সাথে হিংসা করছ। আসলে ওরা খুব কমই বুঝে।

قُلْ لِّلۡمُخَلَّفِيۡنَ مِنَ الۡاَعۡرَابِ سَتُدۡعَوۡنَ اِلٰى قَوۡمٍ اُولِىۡ بَاۡسٍ شَدِيۡدٍ تُقَاتِلُوۡنَهُمۡ اَوۡ يُسۡلِمُوۡنَۚ فَاِنۡ تُطِيۡـعُوۡا يُـؤۡتِكُمُ اللّٰهُ اَجۡرًا حَسَنًاۚ وَاِنۡ تَتَـوَلَّوۡا كَمَا تَوَلَّيۡـتُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ يُعَذِّبۡكُمۡ عَذَابًا اَ لِيۡمًا‏

তুমি পিছিয়ে থাকা বেদুঈনদের বল, শীঘ্রই তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধের জন্য আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা (বিনা যুদ্ধে) আত্মসমর্পণ করবে। তখন যদি তোমরা (যুদ্ধে গমনের) নির্দেশ পালন কর, তাহ’লে আল্লাহ তোমাদের উত্তম পুরস্কার দান করবেন। আর যদি তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর, যেমন ইতিপূর্বে (হোদায়বিয়ার সময়) করেছিলে, তাহ’লে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।

لَيۡسَ عَلَى الۡاَعۡمٰى حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الۡاَعۡرَجِ حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الۡمَرِيۡضِ حَرَجٌؕ وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ يُدۡخِلۡهُ جَنّٰتٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُۚ وَمَنۡ يَّتَوَلَّ يُعَذِّبۡهُ عَذَابًا اَلِيۡمًا‏ 

(পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে) অন্ধদের জন্য কোন দোষ নেই, ল্যাংড়াদের জন্য কোন দোষ নেই এবং পীড়িতদের জন্য কোন দোষ নেই। বস্ত্তত যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। আর যে ব্যক্তি পিঠ ফিরিয়ে নিবে, তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।

لَـقَدۡ رَضِىَ اللّٰهُ عَنِ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ اِذۡ يُبَايِعُوۡنَكَ تَحۡتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِىۡ قُلُوۡبِهِمۡ فَاَنۡزَلَ السَّكِيۡنَةَ عَلَيۡهِمۡ وَاَثَابَهُمۡ فَتۡحًا قَرِيۡبًاۙ

নিশ্চয়ই আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন মুমিনদের প্রতি, যখন তারা বৃক্ষের নীচে তোমার নিকট বায়‘আত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি তাদের অন্তরে যা ছিল তা জেনে নিলেন। ফলে তিনি তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয়।

وَّمَغَانِمَ كَثِيۡرَةً يَّاۡخُذُوۡنَهَاؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَزِيۡزًا حَكِيۡمًا‏ 

আর বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা তারা লাভ করবে। বস্ত্তত আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।

وَعَدَكُمُ اللّٰهُ مَغَانِمَ كَثِيۡرَةً تَاۡخُذُوۡنَهَا فَعَجَّلَ لَكُمۡ هٰذِهٖ وَكَفَّ اَيۡدِىَ النَّاسِ عَنۡكُمۡۚ وَلِتَكُوۡنَ اٰيَةً لِّلۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَيَهۡدِيَكُمۡ صِرَاطًا مُّسۡتَقِيۡمًاۙ

আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ গণীমতের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। অতঃপর এটি তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করলেন এবং তোমাদের থেকে শত্রুদের প্রতিহত করলেন। যাতে এটি মুমিনদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে যায় এবং যেন তিনি তোমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করতে পারেন।

وَّاُخۡرٰى لَمۡ تَقۡدِرُوۡا عَلَيۡهَا قَدۡ اَحَاطَ اللّٰهُ بِهَاؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰى كُلِّ شَىۡءٍ قَدِيۡرًا‏

আরও কিছু রয়েছে, যা তোমরা এখনও পেতে সক্ষম হওনি। আল্লাহ তা বেষ্টন করে আছেন। বস্ত্তত আল্লাহ সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী।

وَلَوۡ قَاتَلَـكُمُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لَوَلَّوُا الۡاَدۡبَارَ ثُمَّ لَا يَجِدُوۡنَ وَلِيًّا وَّلَا نَصِيۡرًا‏

যদি কাফেররা তোমাদের মুকাবিলা করত, তাহ’লে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করত। তখন তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পেত না।

سُنَّةَ اللّٰهِ الَّتِىۡ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلُۖۚ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللّٰهِ تَبۡدِيۡلًا‏

এটাই আল্লাহ্র রীতি, যা পূর্ব থেকেই চলে আসছে। আর তুমি আল্লাহ্র রীতিতে কোন ব্যত্যয় পাবে না।

وَهُوَ الَّذِىۡ كَفَّ اَيۡدِيَهُمۡ عَنۡكُمۡ وَاَيۡدِيَكُمۡ عَنۡهُمۡ بِبَطۡنِ مَكَّةَ مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ اَظۡفَرَكُمۡ عَلَيۡهِمۡؕ وَكَانَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِيۡرًا‏

তিনিই সেই সত্তা যিনি তাদেরকে তোমাদের থেকে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে বিরত রাখেন মক্কা উপত্যকায়, তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর। আর তোমরা যা করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন।

هُمُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا وَصَدُّوۡكُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَـرَامِ وَالۡهَدۡىَ مَعۡكُوۡفًا اَنۡ يَّبۡلُغَ مَحِلَّهٗؕ وَلَوۡلَا رِجَالٌ مُّؤۡمِنُوۡنَ وَنِسَآءٌ مُّؤۡمِنٰتٌ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡهُمۡ اَنۡ تَطَئُوْ هُمۡ فَتُصِيۡبَكُمۡ مِّنۡهُمۡ مَّعَرَّةٌ ۢ بِغَيۡرِ عِلۡمٍۚ ​لِيُدۡخِلَ اللّٰهُ فِىۡ رَحۡمَتِهٖ مَنۡ يَّشَآءُۚ لَوۡ تَزَيَّلُوۡا لَعَذَّبۡنَا الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡهُمۡ عَذَابًا اَ لِيۡمًا‏

তারাই তো কুফরী করেছিল এবং তোমাদেরকে মাসজিদুল হারাম থেকে ও কুরবানীর জন্য চিহ্নিত পশুগুলিকে যথাস্থানে পৌঁছতে বাধা দিয়েছিল। যদি (মক্কায়) কিছু সংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানো না, (যুদ্ধ হ’লে) যাদেরকে তোমরা পিষে ফেলতে। ফলে তাদের থেকে তোমরা অজ্ঞতাবশে (অনুতাপ ও রক্তমূল্য দেওয়ার) কষ্টে পতিত হ’তে। (আল্লাহ সন্ধির আদেশ দিলেন এজন্য) যাতে তিনি যাকে চান স্বীয় রহমতে (অর্থাৎ ইসলামে) প্রবেশ করাতে পারেন। এক্ষণে যদি তারা (মুমিন ও কাফের) পৃথক থাকতো, তাহ’লে আমরা তাদের মধ্যেকার কাফেরদের অবশ্যই (তোমাদের মাধ্যমে) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতাম।

اِذۡ جَعَلَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا فِىۡ قُلُوۡبِهِمُ الۡحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الۡجَـاهِلِيَّةِ فَاَنۡزَلَ اللّٰهُ سَكِيۡنَـتَهٗ عَلٰى رَسُوۡلِهٖ وَعَلَى الۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَاَلۡزَمَهُمۡ كَلِمَةَ التَّقۡوٰى وَ كَانُوۡۤا اَحَقَّ بِهَا وَاَهۡلَهَاؕ وَكَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَىۡءٍ عَلِيۡمًا‏

যখন কাফেরদের অন্তরে ছিল জাহেলিয়াতের উত্তেজনা, তখন আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্য তাক্বওয়ার কালেমা আবশ্যিক করে দিলেন। আর এজন্য তারাই ছিল অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে জ্ঞাত।

لَـقَدۡ صَدَقَ اللّٰهُ رَسُوۡلَهُ الرُّءۡيَا بِالۡحَـقِّۚ لَـتَدۡخُلُنَّ الۡمَسۡجِدَ الۡحَـرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ اٰمِنِيۡنَۙ مُحَلِّقِيۡنَ رُءُوۡسَكُمۡ وَمُقَصِّرِيۡنَۙ لَا تَخَافُوۡنَؕ فَعَلِمَ مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ دُوۡنِ ذٰلِكَ فَتۡحًا قَرِيۡبًا‏

নিশ্চয়ই আল্লাহ তার রাসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাইলে অবশ্যই তোমরা মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তক মুন্ডিত অবস্থায় অথবা চুলছাটা অবস্থায়। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জানোনা। এছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন আসন্ন বিজয়।

هُوَ الَّذِىۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَهٗ بِالۡهُدٰى وَدِيۡنِ الۡحَـقِّ لِيُظۡهِرَهٗ عَلَى الدِّيۡنِ كُلِّهٖؕ وَكَفٰى بِاللّٰهِ شَهِيۡدًاؕ

তিনিই স্বীয় রাসূলকে সরল পথ ও সত্যধর্ম সহ প্রেরণ করেছেন। যাতে তিনি একে অন্য সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করতে পারেন। আর এজন্য সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।

مُحَمَّدٌ رَّسُوۡلُ اللّٰهِؕ وَالَّذِيۡنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَى الۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡ ​ تَرٰٮهُمۡ رُكَّعًا سُجَّدًا يَّبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰهِ وَرِضۡوَانًا​سِيۡمَاهُمۡ فِىۡ وُجُوۡهِهِمۡ مِّنۡ اَثَرِ السُّجُوۡدِؕ ذٰ لِكَ مَثَلُهُمۡ فِى التَّوۡرٰٮةِۛۖۚ وَمَثَلُهُمۡ فِى الۡاِنۡجِيۡلِۛۚ  كَزَرۡعٍ اَخۡرَجَ شَطْئَـهٗ فَاٰزَرَهٗ فَاسۡتَغۡلَظَ فَاسۡتَوٰى عَلٰى سُوۡقِهٖ يُعۡجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَـغِيۡظَ بِهِمُ الۡكُفَّارَؕ وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنۡهُمۡ مَّغۡفِرَةً وَّاَجۡرًا عَظِيۡمًا‏

মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল। আর যারা তার সাথী, তারা অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে রহমদিল। তুমি তাদেরকে দেখবে আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় রুকূকারী ও সিজদাকারী। তাদের চেহারা সমূহে সিজদার চিহ্ন থাকবে। তাদের এরূপই নমুনা বর্ণিত হয়েছে তওরাতে ও ইনজীলে। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছের ন্যায়। প্রথমে যার কলি বের হয়। অতঃপর তা শক্ত হয় ও পুষ্ট হয়। অতঃপর তা নিজ কান্ডে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। যা কৃষককে আনন্দিত করে। যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।