بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আগে বেড়োনা। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।
হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বরকে উঁচু করো না এবং তোমরা পরস্পরে যেভাবে উঁচুস্বরে কথা বল, তার সাথে সেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্মফল সমূহ বিনষ্ট হবে। অথচ তোমরা বুঝতে পারবে না।
যারা আল্লাহ্র রাসূলের নিকট তাদের কণ্ঠস্বর নীচু করে, আল্লাহ তাদের হৃদয়কে তাক্বওয়ার জন্য পরিশুদ্ধ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।
নিশ্চয়ই যারা কক্ষসমূহের পিছন থেকে তোমাকে উচ্চ স্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশ নির্বোধ।
যদি তারা ধৈর্য ধারণ করত যতক্ষণ না তুমি তাদের নিকট বেরিয়ে আস, তাহ’লে সেটাই তাদের জন্য উত্তম হ’ত। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
হে মুমিনগণ! যদি কোন ফাসেক তোমাদের নিকটে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তাহ’লে তোমরা সেটা যাচাই কর, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশে কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধন না কর। অতঃপর নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও।
আর তোমরা জেনে রেখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্র রাসূল রয়েছেন। যদি তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নেন, তাহ’লে তোমরাই কষ্টে পতিত হবে। বরং আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তোমাদের অন্তরে একে সুশোভিত করেছেন। আর কুফরী, ফাসেকী ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। বস্ত্তত এরাই হ’ল সুপথ প্রাপ্ত।
এটা আল্লাহ্র দান ও অনুগ্রহ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
যদি মুমিনদের দুই দল পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহ’লে তোমরা তাদের মধ্যে সন্ধি করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর সীমালংঘন করে, তাহ’লে তোমরা ঐ দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যে দল সীমালংঘন করে। যতক্ষণ না তারা আল্লাহ্র নির্দেশের (সন্ধির) দিকে ফিরে আসে। অতঃপর যদি তারা ফিরে আসে, তাহ’লে তোমরা উভয় দলের মধ্যে ন্যায়ানুগভাবে মীমাংসা করে দাও এবং ন্যায়বিচার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালবাসেন।
মুমিনগণ পরস্পরে ভাই ব্যতীত নয়। অতএব তোমরা তোমাদের দু’ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।
হে বিশ্বাসীগণ! কোন সম্প্রদায় যেন কোন সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে। হ’তে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। আর নারীরা যেন নারীদের বিদ্রুপ না করে। হ’তে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। তোমরা পরস্পরের দোষ বর্ণনা করোনা এবং পরস্পরকে মন্দ লকবে ডেকোনা। বস্ত্তত ঈমান আনার পর তাকে মন্দ নামে ডাকা হ’ল ফাসেকী কাজ। যারা এ থেকে তওবা করে না, তারা সীমালংঘনকারী।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করোনা এবং পরস্পরের পিছনে গীবত করোনা। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পসন্দ করে? বস্ত্তত তোমরা সেটি অপসন্দ করে থাক। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
হে মানবজাতি! আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রী হ’তে (অর্থাৎ আদম ও হাওয়া হ’তে)। অতঃপর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হ’তে পার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক সম্মানিত ঐ ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন ও খবর রাখেন।
মরুবাসীরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বল তোমরা ঈমান আনোনি। বরং বল আমরা ইসলাম কবুল করেছি। এখনও তোমাদের হৃদয়ে ঈমান প্রবেশ করেনি। বস্ত্তত যদি তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর, তাতে তোমাদের কর্মফলে কোন কমতি করা হবেনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
তারা ব্যতীত মুমিন নয়, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। অতঃপর তাতে সন্দেহ পোষণ করেনা এবং আল্লাহ্র পথে তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে। তারাই হ’ল (ঈমানের দাবীতে) সত্যবাদী।
বল, তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে অবহিত করতে চাও? অথচ আল্লাহ সবই জানেন যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে। বস্ত্তত আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত।
তারা ইসলাম কবুল করেছে বলে তোমাকে ধন্য করতে চায়। বল, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ বলে মনে করো না। বরং তোমাদেরকে ঈমানের পথ দেখিয়ে আল্লাহ তোমাদের ধন্য করেছেন। যদি তোমরা (ঈমানের দাবীতে) সত্যবাদী হয়ে থাক।
নিশ্চয়ই আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়সমূহ জানেন। আর তোমরা যা কর সবই আল্লাহ দেখেন।