بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
ক্বা-ফ। শপথ মর্যাদাপূর্ণ কুরআনের।
বরং তারা বিস্ময় বোধ করে যে, তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী আগমন করেছেন। অতঃপর অবিশ্বাসীরা বলে, এটাতো আশ্চর্যের ব্যাপার!
যখন আমরা মরে যাব ও মাটি হয়ে যাব (অতঃপর পুনরুত্থিত হব) সেটাতো দূরতম বিষয়।
নিশ্চয়ই আমরা ভালভাবেই জানি, মাটি তাদের দেহের কতটুকু গ্রাস করে। আর আমাদের কাছে রয়েছে সুরক্ষিত কিতাব।
বরং তারা সত্য আসার পর তাতে মিথ্যারোপ করেছে। ফলে তারা সন্দেহে পতিত হয়েছে।
তারা কি তাদের উপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনা কিভাবে আমরা সেটি নির্মাণ করেছি ও তাকে সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনরূপ ফাটল নেই?
আর পৃথিবীকে আমরা বিস্তৃত করেছি এবং তাতে পাহাড় সমূহ স্থাপন করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি সকলপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদরাজি।
প্রত্যেক বিনীত ব্যক্তির জন্য যা চাক্ষুষ জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ।
আর আমরা আকাশ থেকে বরকতময় বৃষ্টি বর্ষণ করি। অতঃপর তার মাধ্যমে বাগান ও শস্যবীজ উদ্গত করি।
এবং দীর্ঘ খর্জুর বৃক্ষসমূহ, যাতে থাকে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুরের মোচা,
বান্দাদের জীবিকা স্বরূপ। আর আমরা এর দ্বারা জীবিত করি মৃত জনপদকে। আর এভাবেই হবে পুনরুত্থান।
তাদের পূর্বে মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, কূয়াবাসীরা ও ছামূদ সম্প্রদায়
এবং ‘আদ, ফেরাঊন ও লূতের সম্প্রদায়
এবং জঙ্গলবাসীরা ও তুববা‘ সম্প্রদায়। তাদের প্রত্যেকে রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি অবধারিত হয়েছিল।
তাহ’লে কি আমরা প্রথমবার সৃষ্টি করেই অক্ষম হয়ে পড়েছি? বরং ওরা নতুন সৃষ্টির ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হয়েছে।
নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং আমরা জানি তার অন্তর তাকে যেসব কুমন্ত্রণা দেয়। বস্ত্তত আমরা তার গর্দানের প্রাণশিরার চাইতেও নিকটে থাকি।
যখন দু’জন ফেরেশতা ডাইনে ও বামে বসে তার আমলনামা লিপিবদ্ধ করে।
সে যে কথাই বলে, তা গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্ত্তত প্রহরী থাকে।
আর মৃত্যুযন্ত্রণা আসবেই নিশ্চিতভাবে। যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।
আর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। সেটা হবে প্রতিশ্রুত দিবস।
যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে; সঙ্গে থাকবে একজন চালক ও একজন সাক্ষী।
নিশ্চয়ই তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। অতঃপর আমরা তোমার সম্মুখ থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজকে তোমার দৃষ্টি প্রখর।
আর তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবে, এই তো আমার নিকট আমলনামা প্রস্ত্তত।
(বলা হবে) তোমরা জাহান্নামে নিক্ষেপ কর প্রত্যেক অবিশ্বাসী ও উদ্ধতকে।
কল্যাণকর্মে বাধা দানকারী, সীমালংঘনকারী ও সন্দেহ পোষণকারীকে।
যে আল্লাহ্র সাথে অন্যকে উপাস্য রূপে গ্রহণ করত। অতএব তোমরা উভয়ে ওকে কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ কর।
তার সহচর (শয়তান) বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমি তাকে অবাধ্য করিনি। বরং সে ছিল দূরতম ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।
(আল্লাহ বলবেন,) তোমরা আমার নিকট ঝগড়া করো না। আমি তো পূর্বেই তোমাদেরকে সাবধান করেছিলাম।
আমার নিকট কথার কোন রদবদল হয় না। আর আমি আমার বান্দাদের উপর অত্যাচারী নই।
সেদিন আমরা জাহান্নামকে বলব, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে বলবে, আরও কি আছে?
আর জান্নাতকে আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে, দূরবর্তী নয়।
এটা হ’ল সেই প্রতিদান যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল প্রত্যেক তওবাকারী ও (আল্লাহ্র বিধানের) হেফাযতকারীর জন্য।
যে ব্যক্তি দয়াময় (আল্লাহ)-কে না দেখে ভয় করেছে এবং বিনীত হৃদয়ে আগমন করেছে।
তোমরা এতে প্রবেশ কর শান্তির সাথে। আর এটা হ’ল চিরস্থায়ী হবার দিন।
সেখানে তারা যা চাইবে তাই পাবে এবং আমাদের নিকট রয়েছে অতিরিক্ত আরও কিছু।
আর আমরা তাদের পূর্বেকার বহু যুগ-সমাজকে ধ্বংস করেছি, যারা ছিল তাদের চাইতে শক্তিতে অনেক প্রবল। তারা দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে ফিরত। কিন্তু তাদের পালাবার কোন পথ ছিল কি?
নিশ্চয়ই এর মধ্যে উপদেশ রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যার মধ্যে অনুধাবন করার মত হৃদয় রয়েছে এবং যে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে।
আর নিশ্চয়ই আমরা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ দু’য়ের মধ্যেকার সবকিছুকে সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে। অথচ এতে আমাদের কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।
অতএব তারা যা বলে তুমি তাতে ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা সহ তার পবিত্রতা বর্ণনা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে।
আর পবিত্রতা বর্ণনা কর রাত্রির কিছু অংশে এবং সিজদাসমূহের শেষে।
আর তুমি মনোযোগ দিয়ে শোন! যেদিন আহবানকারী নিকটবর্তী স্থান থেকে আহবান করবে।
যেদিন মানুষ নিশ্চিতভাবে সেই ভয়ংকর নিনাদ শুনতে পাবে; সেদিনই হবে পুনরুত্থান দিবস।
আমরাই জীবন দান করি ও মৃত্যু দান করি এবং আমাদের দিকেই হবে সকলের প্রত্যাবর্তন।
যেদিন পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে মানুষ দ্রুত ছুটে আসবে। আর এভাবে জমা করা আমাদের জন্য খুবই সহজ।
আমরা ভালভাবে জানি যা তারা বলে। আর তুমি তাদের উপর যবরদস্তিকারী নও। অতএব তুমি উপদেশ দাও কুরআন দ্বারা, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে।