بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
শপথ নক্ষত্ররাজির যখন তা অস্তমিত হয়।
তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি বা বিভ্রান্ত হননি।
তিনি নিজ খেয়াল-খুশীমত কোন কথা বলেন না।
(যা বলেন) সেটি অহি ব্যতীত নয়, যা তার নিকট প্রত্যাদেশ করা হয়।
তাকে শিক্ষাদান করে মহা শক্তিশালী (একজন ফেরেশতা)।
মহা শক্তিধর। অতঃপর সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল।
তখন সে সর্বোচ্চ দিগন্তে ছিল।
অতঃপর সে নিকটবর্তী হ’ল। তারপর আরও কাছাকাছি হ’ল।
ফলে তাদের মাঝে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল বা তারও কম।
অতঃপর আল্লাহ (জিব্রীলের মাধ্যমে) তার বান্দার নিকট যা অহি করার তা করলেন।
তার হৃদয় মিথ্যা বলেনি, যা সে দেখেছে।
তাহ’লে তোমরা কি এ বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?
নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল।
সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে।
তার নিকটে আছে জান্নাতুল মাওয়া।
যখন বৃক্ষটিকে আচ্ছাদিত করে রেখেছিল যা তাকে আচ্ছাদিত করে।
এতে তার দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেনি বা তা সীমালংঘনও করেনি।
অবশ্যই সে তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শন সমূহ থেকে কিছু দেখেছিল।
তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে?
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্পর্কে?
তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান, আর আল্লাহ্র জন্য কন্যা সন্তান?
তাহ’লে এটি তো হবে অন্যায় বণ্টন?
এগুলি স্রেফ কিছু নাম ব্যতীত নয়। যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা রেখেছ। এর পক্ষে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং যা তাদের মনে আসে তাই করে। অথচ তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের হেদায়াত এসে গেছে।
নাকি মানুষ যা চায় তাই সে পায়?
অতএব আল্লাহ্র জন্যই পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সবকিছু।
আর আকাশসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে। তাদের সুফারিশ কোন কাজে আসবে না যতক্ষণ না আল্লাহ যাকে চান ও যার উপর সন্তুষ্ট হন তাকে অনুমতি দেন।
যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল ধারণার অনুসরণ করে। আর সত্যের মুকাবিলায় ধারণার কোন মূল্য নেই।
অতএব তুমি তাকে এড়িয়ে চল যে আমাদের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং যে পার্থিব জীবন ছাড়া কিছুই কামনা করে না।
ঐ পর্যন্তই তাদের জ্ঞানের সীমা। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালভাবে জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কে সুপথপ্রাপ্ত।
নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্র। যাতে তিনি অসৎ কর্মীদের প্রতিফল এবং সৎকর্মীদের উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন।
যারা বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কর্ম সমূহ হ’তে বেঁচে থাকে ছোটখাট পাপ ব্যতীত, (সে সকল তওবাকারীর জন্য) তোমার প্রতিপালক প্রশস্ত ক্ষমার অধিকারী। তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন মাটি থেকে এবং যখন তোমরা তোমাদের মায়ের গর্ভে ছিলে বাচ্চা হিসাবে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনি সর্বাধিক অবগত কে আল্লাহকে ভয় করে।
তুমি কি দেখেছ ঐ ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
আর দান করে সামান্য এবং তা বন্ধ করে দেয়।
তার নিকটে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, যা সে দেখে?
তাকে কি জানানো হয়নি যা মূসার কিতাবে ছিল?
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে তার দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করেছিল?
আর তা এই যে, একের বোঝা অন্যে বহন করবে না।
আর মানুষ কিছুই পায় না তার চেষ্টা ব্যতীত।
আর তার কর্ম অচিরেই দেখা হবে।
অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।
আর তোমার পালনকর্তার নিকটেই রয়েছে সবকিছুর সমাপ্তি।
আর তিনিই হাসান ও তিনিই কাঁদান।
এবং তিনিই মারেন ও তিনিই বাঁচান।
আর তিনিই সৃষ্টি করেন পুরুষ ও নারী জোড়ায় জোড়ায়।
জনন কোষ হ’তে, যখন তা (মায়ের গর্ভে) নিক্ষিপ্ত হয়।
আর পুনরায় জীবিত করার দায়িত্ব তাঁরই।
তিনি ধনশালী করেন ও ধনের মুখাপেক্ষী করেন।
আর তিনিই শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।
আর তিনিই ধ্বংস করেছেন প্রথম ‘আদের কওমকে
এবং ছামূদের কওমকেও। তাদের কাউকে তিনি অবশিষ্ট রাখেননি।
আর এদের পূর্বে ছিল নূহের সম্প্রদায়। তারা সীমালংঘন করেছিল ও অবাধ্যতা করেছিল।
আর ছিল বস্তী উল্টানো সম্প্রদায়। যাদের আবাসভূমিকে তিনি উপরে উঠিয়ে উল্টে নিক্ষেপ করেছিলেন।
অতঃপর সেটিকে গ্রাস করল এক সর্বব্যাপী গ্রাস।
এখন তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন কোন অনুগ্রহে সন্দেহ পোষণ করবে?
এই সতর্ককারী পূর্বেকার সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত।
ক্বিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে।
আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
তাহ’লে তোমরা কি এই বাণী থেকে বিস্মিত হচ্ছ?
আর হাসছ অথচ কাঁদছ না?
বস্ত্তত তোমরা উদাসীন।
সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে সিজদা কর এবং তাঁর ইবাদত কর। (সিজদা-১৩; রুকূ ৩-৩০-৭)