بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
ক্বিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।
তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তাহ’লে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত জাদু।
তারা মিথ্যারোপ করে ও নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। আর প্রতিটি কর্মই স্থিরীকৃত।
তাদের কাছে নিশ্চিতভাবে এসে গেছে কিছু খবর। যার মধ্যে রয়েছে সতর্কবাণী,
যা পরিপূর্ণ জ্ঞান। তবে এই সতর্কবাণী তাদের কোন কাজে আসেনি।
অতএব তুমি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। (আর অপেক্ষা কর সেদিনের) যেদিন আহবানকারী (ফেরেশতা) আহবান করবে এক ভয়ংকর বস্ত্তর দিকে।
যেদিন তারা অবনত দৃষ্টিতে কবরসমূহ থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মত।
আর ছুটতে থাকবে আহবানকারীর দিকে। সেদিন অবিশ্বাসীরা বলবে, আজ বড়ই কঠিন দিন।
এদের পূর্বে নূহের কওম মিথ্যারোপ করেছিল। তারা মিথ্যারোপ করেছিল আমাদের বান্দা (নূহের) প্রতি এবং বলেছিল ‘পাগল’। আর সে (তাদের কাছ থেকে) হুমকি পেয়েছিল।
তখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করে বলল যে, আমি অক্ষম। অতএব তুমি (ওদের থেকে) প্রতিশোধ নাও।
অতঃপর আমরা আকাশের দরজাসমূহ খুলে দিলাম মুষলধারে বৃষ্টিসহ।
আর যমীন থেকে উৎসারিত করলাম নদীসমূহ। অতঃপর সকল পানি মিলিত হ’ল পূর্ব নির্ধারিত এক ধ্বংস কর্মে।
আর আমরা নূহকে উঠালাম কাঠ ও পেরেক নির্মিত এক নৌযানে।
যা আমাদের চোখের সামনে চলতে থাকল। এটি ছিল বদলা ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে অস্বীকার করা হয়েছিল (অর্থাৎ নূহের জন্য)।
আর আমরা এটাকে একটা দৃষ্টান্ত হিসাবে রেখে দিলাম। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী?
আর আমরা কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
‘আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর কেমন ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী?
আমরা তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ু এক স্থায়ী মন্দ দিবসে।
যা মানুষকে টেনে-হিঁচড়ে নিচ্ছিল, যেন তারা উৎপাটিত খেজুর বৃক্ষের কান্ড।
অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী?
আর আমরা কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
ছামূদ জাতি সতর্কবাণী সমূহে মিথ্যারোপ করেছিল।
তারা বলেছিল, আমরা কি আমাদেরই মধ্যেকার একজন ব্যক্তির অনুসরণ করব? তাহ’লে তো আমরা অবশ্যই ভ্রষ্টতায় ও পাগলামীতে লিপ্ত হয়ে পড়ব।
আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তারই উপর অহি নাযিল হয়েছে? বরং সে মহা মিথ্যাবাদী ও মহা দাম্ভিক।
কালই তারা জানতে পারবে, কে মহা মিথ্যাবাদী ও মহা দাম্ভিক।
আমরা তাদের পরীক্ষার জন্য (তাদের দাবীমতে) উষ্ট্রী পাঠাব। অতঃপর তুমি তাদের (অবস্থা) পর্যবেক্ষণ কর ও (তাদের দেওয়া কষ্টে) ধৈর্যধারণ কর।
আর তাদের জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বণ্টন নির্ধারিত হয়েছে। অতএব তারা পালাক্রমে হাযির হবে।
তখন তারা তাদের লোকটিকে ডাকল। অতঃপর সে উষ্ট্রীকে ধরল ও হত্যা করল।
অতঃপর কেমন ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী?
আমরা তাদের উপর প্রেরণ করলাম একটি মাত্র নিনাদ। তাতেই তারা হয়ে গেল খোয়াড় মালিকের চূর্ণিত খড়-কুটোর মতো।
আমরা কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
লূতের সম্প্রদায় সতর্কবাণী সমূহে মিথ্যারোপ করেছিল।
আমরা তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম প্রস্তর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝাবায়ু। তবে লূতের পরিবার ব্যতীত। আমরা তাদেরকে শেষ রাতে উদ্ধার করেছিলাম-
আমাদের পক্ষ হ’তে অনুগ্রহ হিসাবে। এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করে থাকি কৃতজ্ঞ বান্দাদের।
অথচ লূত অবশ্যই তাদেরকে আমাদের কঠিন পাকড়াও সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা সেসব সতর্কবাণী সম্পর্কে বিতন্ডা করেছিল।
তারা লূতের নিকট তার মেহমানদের ব্যাপারে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। তখন আমরা তাদের চোখগুলিকে অন্ধ করে দিলাম। অতএব এখন তোমরা আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী সমূহের পরিণাম ভোগ কর।
আর প্রত্যুষে তাদের উপর নির্ধারিত শাস্তি আঘাত হেনেছিল।
অতএব তোমরা আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী সমূহের পরিণাম ভোগ কর।
আর আমরা কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
আর অবশ্যই ফেরাঊন সম্প্রদায়ের কাছে এসেছিল সতর্কবাণী সমূহ।
তারা আমাদের সকল নিদর্শনকে মিথ্যা বলেছিল। ফলে আমরা তাদেরকে পাকড়াও করলাম মহাপরাক্রান্ত ও সর্বশক্তিমানের পাকড়াওয়ের ন্যায়।
তোমাদের অবিশ্বাসীরা কি তাদের চাইতে বড়? নাকি তোমাদের জন্য অব্যাহতি রয়েছে আল্লাহ্র কিতাব সমূহে?
নাকি তারা বলে যে, আমরা এক অপরাজেয় দল?
শ্রীঘ্রই দলটি পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।
বরং ক্বিয়ামত হ’ল ওদের জন্য প্রতিশ্রুত সময়। আর ক্বিয়ামত হবে আরও ভয়ংকর ও আরও তিক্ততর।
নিশ্চয় পাপীরা ভ্রষ্টতায় ও উন্মত্ততায় লিপ্ত।
যেদিন তাদেরকে উপুড়মুখী করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের মধ্যে, (এবং বলা হবে) জাহান্নামের স্বাদ আস্বাদন কর।
আমরা সকল বস্ত্ত সৃষ্টি করেছি পরিমাণ মত।
আর আমাদের আদেশ হয় মাত্র একবার, চোখের পলকের মত।
আমরা তোমাদের মত লোকদের ধ্বংস করেছি। অতএব (সেখান থেকে) উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
আর তারা যা কিছু করেছে, সবই আমলনামায় রয়েছে।
আর ছোট ও বড় সবই রয়েছে লিপিবদ্ধ।
নিশ্চয়ই মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে ও নদী সমূহের মাঝে।
যথাযোগ্য আসনে সকল ক্ষমতার অধিকারী সর্বোচ্চ মালিকের সান্নিধ্যে।