بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
নূন। শপথ কলমের এবং যা কিছু তারা (ফেরেশতারা) লিপিবদ্ধ করে।
তোমার পালনকর্তার অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।
আর নিশ্চয়ই তোমার জন্য রয়েছে অবিচ্ছিন্ন পুরস্কার।
আর নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সত্বর তুমি দেখবে ও তারাও দেখবে-
কে তোমাদের মধ্যে ফিৎনাগ্রস্ত?
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বাধিক অবগত, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই সর্বাধিক অবগত সুপথপ্রাপ্তদের বিষয়ে।
অতএব তুমি মিথ্যারোপকারীদের কথা মেনে চলো না।
তারা চায় যদি তুমি নমনীয় হও, তবে তারাও নমনীয় হবে।
আর তুমি আনুগত্য করোনা অধিক শপথকারীর ও নীচাশয় কোন ব্যক্তির।
যে নিন্দাকারী এবং যে একের কথা অন্যের নিকট লাগিয়ে বেড়ায়।
যে সৎকর্মে বাধা প্রদানকারী, সীমালংঘনকারী ও পাপিষ্ঠ।
যে হঠকারী, তদুপরি কুখ্যাত।
কারণ সে ছিল অধিক ধন-সম্পদ ও অধিক পুত্র সন্তানের মালিক।
যখন তার নিকট আমাদের আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন সে বলে, এগুলিতো পুরাকালের কাহিনী মাত্র।
সত্বর আমরা তার নাসিকা দাগিয়ে দেব।
আমরা তাদের (মক্কাবাসীদের) পরীক্ষায় ফেলেছি, যেমন পরীক্ষায় ফেলেছিলাম বাগান মালিকদের। যখন তারা শপথ করেছিল যে, তারা খুব ভোরে অবশ্যই বাগানের ফল পেড়ে নিবে।
কিন্তু তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি।
অতঃপর তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে ঐ বাগিচার উপর এক আসমানী গযব আপতিত হ’ল, যখন তারা নিদ্রামগ্ন ছিল।
ফলে তা পুড়ে কালো ভস্মের ন্যায় হয়ে গেল।
অতঃপর তারা প্রত্যুষে উঠে পরস্পরকে ডেকে বলল,
যদি তোমরা ফল পাড়তে চাও, তবে সকাল সকাল বাগানে চল।
অতঃপর তারা চলল চুপিসারে কথা বলতে বলতে
যেন আজ বাগিচায় তোমাদের নিকট কোন অভাবগ্রস্ত প্রবেশ না করে।
অতঃপর তারা খুব ভোরে দ্রুতপায়ে যাত্রা করল।
কিন্তু যখন তারা বাগান দেখল, তখন বলল আমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট।
বরং আমরা বঞ্চিত।
তাদের জ্ঞানী ব্যক্তিটি বলল, আমি কি তোমাদের বলিনি, যদি না তোমরা আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা করতে (অর্থাৎ ইনশাআল্লাহ বলতে)!
তারা বলল, আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমরা নিশ্চিতভাবে সীমালংঘনকারী ছিলাম।
অতঃপর তারা পরস্পরে দোষারোপ করতে লাগল।
তারা বলল, হায় দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো অবাধ্য ছিলাম।
নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে এর বিনিময়ে উত্তম বদলা দান করবেন। আমরা আমাদের পালনকর্তার রহমতের আকাংখী।
এভাবেই আসে আযাব। আর পরকালের আযাব আরও ভয়াবহ; যদি তারা জানত।
নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে নে‘মতপূর্ণ জান্নাত।
আমরা কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?
তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছ?
তোমাদের কি কোন কিতাব আছে যা তোমরা পাঠ কর?
আর তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা পসন্দ কর?
নাকি তোমাদের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমাদের কোন চুক্তি রয়েছে যে, তোমরা যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই-ই পাবে?
তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর, তাদের মধ্যে কে উক্ত চুক্তির বিষয়ে যিম্মাদার?
নাকি তাদের কোন শরীক আছে? থাকলে তাদের সেই শরীকদের নিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়।
(স্মরণ কর) যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার আহবান জানানো হবে। কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হবে না।
সেদিন তাদের দৃষ্টি হবে অবনত এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে গ্রাস করবে। অথচ (দুনিয়াতে) যখন তারা সুস্থ ছিল, তখন তাদেরকে সিজদার জন্য আহবান জানানো হ’ত (কিন্তু তারা তা করত না)।
অতএব আমাকে ও যারা এই বাণীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে ছাড়। আমরা তাদেরকে অবশ্যই এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধরব যে ওরা জানতেও পারবে না।
আর আমি তাদেরকে অবকাশ দেই। নিশ্চয়ই আমার কৌশল অতীব মযবুত।
তুমি কি তাদের কাছে মজুরী চাও যে তারা বোঝার ভারে নুয়ে পড়েছে?
তাদের কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, যা তারা লিখে রাখে?
অতএব তুমি তোমার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালা (ইউনুসের) মত হয়ো না, যখন সে বিপদগ্রস্ত হয়ে (আল্লাহকে) ডেকেছিল।
যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তাহ’লে সে দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় বিরাণ ভূমিতে নিক্ষিপ্ত হ’ত।
অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
কাফেররা যখন কুরআন শোনে, তখন মনে হয় যেন তারা চোখ পাকিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলে দিবে। আর তারা বলে, সে তো অবশ্যই একজন পাগল।
অথচ এটি বিশ্ববাসীদের জন্য উপদেশ বৈ কিছুই নয়।