بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
প্রশ্নকারী প্রশ্ন করল অবধারিত শাস্তি সম্পর্কে।
অবিশ্বাসীদের জন্য যাকে বাধা দানকারী কেউ নেই-
আল্লাহ থেকে; যিনি সিঁড়ি সমূহের মালিক।
যে সিঁড়ি দিয়ে ফেরেশতাগণ ও জিব্রীল দৈনিক ঊর্ধ্বারোহন করে তার দিকে। যে দিনের পরিমাণ তোমাদের পঞ্চাশ হাযার বছরের সমান।
অতএব তুমি উত্তমভাবে ছবর কর।
তারা (অবিশ্বাসীরা) ঐদিনকে বহু দূরে মনে করে।
অথচ আমরা ঐদিনকে নিকটে মনে করি।
সেদিন আকাশ হবে গলিত ধাতুর মত
এবং পর্বতসমূহ হবে (ধুনিত) রঙিন পশমের মত।
সেদিন কোন বন্ধু তার বন্ধুর খোঁজ নিবে না।
তাদের পরস্পরকে ভালভাবে দেখানো হবে। অপরাধী সেদিনের শাস্তির বিনিময় হিসাবে দিতে চাইবে তার সন্তানদের,
তার স্ত্রী ও ভাইকে;
তার আত্মীয়-স্বজনকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত;
এবং পৃথিবীতে যত লোক আছে সবাইকে; অতঃপর তিনি যেন তাকে মুক্তি দেন।
কখনই না। এটাতো লেলিহান অগ্নি।
যা চামড়া তুলে নিবে।
সে ঐ ব্যক্তিকে ডাকবে, যে (সত্য থেকে) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
যে সম্পদ জমা করেছিল, অতঃপর তা পুঞ্জিভূত করে রেখেছিল।
নিশ্চয়ই মানুষ সৃষ্টি হয়েছে ভীরু রূপে।
যখন তাকে মন্দ স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে।
আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে কৃপণ হয়।
তবে মুছল্লীগণ ব্যতীত।-
যারা নিয়মিতভাবে ছালাত আদায় করে।
যাদের সম্পদে নির্ধারিত হক থাকে,
প্রার্থী ও বঞ্চিতদের জন্য।
যারা বিচার দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।
যারা তাদের প্রতিপালকের শাস্তি থেকে ভীত।
নিশ্চয়ই তাদের প্রতিপালকের শাস্তি হ’তে নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই।
যারা তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে।
তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী ব্যতীত। তারা এতে নিন্দিত হবে না।
যারা এদেরকে ছেড়ে অন্যদের কামনা করে, তারাই তো সীমালংঘনকারী।
যারা তাদের আমানত সমূহ রক্ষা করে ও অঙ্গীকার পূর্ণ করে।
যারা তাদের সাক্ষ্য সমূহে অবিচল থাকে।
আর যারা তাদের ছালাতের হেফাযত করে।
তারাই হবে জান্নাতে সম্মানিত।
অতঃপর অবিশ্বাসীদের কি হ’ল যে, তারা তোমার দিকে ছুটে আসছে?
ডান ও বাম দিক থেকে দলে দলে?
তাদের প্রত্যেকে কি আশা করে যে, তাকে প্রবেশ করানো হবে নে‘মতপূর্ণ জান্নাতে?
কখনোই না। আমরা তাদেরকে যা হ’তে সৃষ্টি করেছি তা তো তারা জানে।
অতঃপর আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচল সমূহের মালিকের। নিশ্চয়ই আমরা সক্ষম-
তাদের বদলে উত্তম লোকদের সৃষ্টি করতে। আর এতে আমরা আদৌ অক্ষম নই।
অতএব তুমি ওদের ছাড় ওরা খেল-তামাশায় মত্ত থাকুক, যতদিন না তারা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুত দিবসের সম্মুখীন হয়।
সেদিন তারা কবর থেকে বের হবে দ্রুতবেগে, যেন তারা কোন এক লক্ষ্যবস্ত্তর দিকে ছুটে চলেছে।
যখন তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত এবং হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। সেটা হবে সেই দিন, যেদিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হ’ত।