بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বল! আমার প্রতি অহি করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং বলেছে যে, আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি।
যা সুপথ প্রদর্শন করে। অতঃপর আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমরা কখনোই আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করব না।
আর আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা সবার উপরে। তিনি কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেন না।
আর আমাদের নির্বোধেরা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে অতিরঞ্জিত ভাবে মিথ্যা বলত।
অথচ আমরা ধারণা করতাম যে, মানুষ ও জিন কখনো আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যা বলবে না।
বস্ত্তত কিছু মানুষ কিছু জিনের কাছে আশ্রয় চাইত। তাতে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা আরও বাড়িয়ে দিত।
আর মানুষেরা ধারণা করত যেমন তোমরা ধারণা করো যে, আল্লাহ কখনোই কাউকে (রাসূল হিসাবে) পাঠাবেন না।
আর আমরা নভোমন্ডল পর্যবেক্ষণ করেছি। অতঃপর সেটিকে পেয়েছি কঠোর প্রহরা ও উল্কাপিন্ড দ্বারা পূর্ণ।
পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে (আল্লাহ্র অহি চুরি করে) শোনার জন্য (ওঁৎ পেতে) বসে থাকতাম। কিন্তু এখন কেউ তা শুনতে গেলে সে লক্ষ্যভেদী উল্কার সম্মুখীন হয়।
আমরা জানিনা জগদ্বাসীর প্রতি কোন অনিষ্টের ইচ্ছা করা হয়েছে, না তাদের পালনকর্তা তাদের কোন কল্যাণ সাধনের ইচ্ছা করেছেন।
আমাদের মধ্যে কতক রয়েছে সৎকর্মশীল। আর কতক রয়েছে এর বিপরীত। আমরা তো বিভিন্ন তরীকায় বিভক্ত।
আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এ পৃথিবীতে আমরা কখনোই আল্লাহকে অপারগ করতে পারব না এবং কখনোই তাঁর কবল থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারব না।
আমরা যখনই হেদায়াতের বাণী শুনলাম, তখনই তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। বস্ত্তত যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, সে কোন ক্ষতি বা অন্যায়ের আশংকা করে না।
আর (কুরআন শোনার পরেও) আমাদের মধ্যে কিছু রয়েছি মুসলিম ও কিছু রয়েছি কাফের। তবে যে ব্যক্তি ইসলাম কবুল করেছে, সে ব্যক্তি মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।
পক্ষান্তরে যারা কাফের, তারা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।
(আল্লাহ বলেন,) যদি তারা ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহ’লে আমরা তাদেরকে প্রচুর বারিবর্ষণে সিক্ত করতাম।
যাতে আমরা তাদেরকে এর দ্বারা পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তিনি তাকে কঠিন শাস্তির মধ্যে প্রবেশ করাবেন।
নিশ্চয়ই সিজদার স্থান সমূহ কেবল আল্লাহ্র জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহ্র সাথে অন্য কাউকে আহবান করো না।
আর যখন আল্লাহ্র বান্দা (মুহাম্মাদ) আল্লাহকে ডাকার জন্য (ছালাতে) দাঁড়ায়, তখন তারা তার উপরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
তুমি বল, আমি তো কেবল আমার পালনকর্তাকে ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না।
বল, আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করার বা সুপথে আনার ক্ষমতা রাখি না।
বল, আল্লাহ্র শাস্তি থেকে আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত কোথাও আমি আশ্রয় পাবো না।
কেবল আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে তাঁর বাণী ও রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই আমি বাঁচতে পারি। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
অবশেষে যখন তারা তাদের প্রতিশ্রুত বিষয় দেখতে পাবে, তখন তারা জানতে পারবে সাহায্যকারী হিসাবে কে দুর্বল ও কারা সংখ্যায় কম।
তুমি বল, আমি জানিনা যে প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছে, তা আসন্ন, নাকি তার জন্য আমার প্রভু কোন দীর্ঘ মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন?
তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী। আর তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না-
তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। আর সেকারণ তিনি তার আগে-পিছে প্রহরী নিযুক্ত করেন।
যাতে তিনি জানতে পারেন যে, তারা তাদের প্রতিপালকের রিসালাত (অহি) পৌঁছে দিয়েছে। আর রাসূলদের নিকট যা আছে, তা সবই আল্লাহ্র গোচরীভূত। তিনি সবকিছু গুণে গুণে হিসাব রাখেন।