بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে চাদরাবৃত!
ওঠ (ছালাতে) রাত্রি জাগরণ কর কিছু অংশ ব্যতীত।
অর্ধরাত্রি বা তার চাইতে কিছু কম।
অথবা কিছু বেশী। আর কুরআন তেলাওয়াত কর ধীরে-সুস্থে সুন্দরভাবে।
আমরা সত্বর তোমার উপর নাযিল করব ভারী কিছু বিষয়।
নিশ্চয়ই রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং বিশুদ্ধ পাঠের সর্বাধিক উপযোগী।
নিশ্চয়ই দিনের বেলায় তোমার রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।
সুতরাং তুমি (রাত্রিতে) তোমার পালনকর্তার নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর দিকে রত হও।
যিনি পূর্ব ও পশ্চিমের মালিক। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তুমি তাঁকেই কর্মবিধায়ক হিসাবে গ্রহণ কর।
আর তারা যেসব কথা বলে, তাতে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং তাদেরকে সুন্দরভাবে পরিহার করে চল।
আর তুমি ছেড়ে দাও আমাকে ও বিত্তবান মিথ্যারোপকারীদেরকে এবং ওদের কিছুদিন অবকাশ দাও।
নিশ্চয়ই আমাদের কাছে রয়েছে বেড়ীসমূহ এবং জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড।
রয়েছে গলায় আটকে যায় এমন খাদ্য ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ বহমান বালুকারাশির ন্যায় হবে।
আমরা তোমাদের নিকট একজন রাসূলকে পাঠিয়েছি তোমাদের উপর সাক্ষী স্বরূপ, যেমন ফেরাঊনের নিকট একজন রাসূলকে পাঠিয়েছিলাম।
কিন্তু ফেরাঊন সেই রাসূলের অবাধ্যতা করেছিল। ফলে আমরা তাকে কঠিনভাবে পাকড়াও করেছিলাম।
অতএব যদি তোমরা কুফরী কর, তবে সেদিন তোমরা কিভাবে বাঁচতে পারবে, যেদিন বালককে বৃদ্ধ করে ফেলবে?
যেদিনের ভয়াবহতায় আকাশ বিদীর্ণ হবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
নিশ্চয়ই এটি উপদেশ বাণী। অতএব যে চায় তার প্রতিপালকের পথ অবলম্বন করুক।
তোমার পালনকর্তা জানেন যে, তুমি (তাহাজ্জুদে) রাত্রি জাগরণ করে থাক কমপক্ষে রাত্রির দুই তৃতীয়াংশ, কখনো অর্ধেক, কখনো এক তৃতীয়াংশ এবং তোমার সাথীদেরও একটি দল। আল্লাহ রাত্রি ও দিবসের পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকেন। তিনি জানেন তোমরা রাত্রির উক্ত পরিমাণের হিসাব ঠিক রাখতে পারো না। তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হয়েছেন। অতএব তোমাদের পক্ষে যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু রাত্রি জাগরণ কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে, কেউ আল্লাহ্র অনুগ্রহ সন্ধানে ভ্রমণে বের হবে, কেউ আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদে লিপ্ত হবে; অতএব যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু রাত্রি জাগরণ কর। আর তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। বস্ত্তত তোমরা নিজেদের জন্য যতটুকু সৎকর্ম অগ্রিম পাঠাবে, তোমরা তা আল্লাহ্র নিকটে পাবে। সেটাই হ’ল উত্তম ও মহান পুরস্কার। আর তোমরা আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।