بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
হে চাদরাবৃত!
ওঠ! সতর্ক কর
আর তোমার পালনকর্তার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর
তোমার পোশাক পবিত্র কর
নাপাকী বর্জন কর।
অধিক পাওয়ার আশায় কাউকে দান করো না।
আর তোমার প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্যধারণ কর।
যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে।
সেদিন হবে খুবই কঠিন দিন।
যা কাফিরদের উপর সহজ হবে না।
ছেড়ে দাও আমাকে এবং (ঐ অভাগাকে) যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাকী অবস্থায়।
অতঃপর তাকে আমি দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ
এবং সদা সঙ্গী পুত্রবর্গ
আর তাকে দিয়েছি বিপুল জীবনোপকরণ।
এরপরেও সে কামনা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই।
কখনই না। সে আমার আয়াত সমূহের বিরুদ্ধাচরণকারী।
অচিরেই আমি তাকে কঠিন আযাবে প্রবেশ করাবো।
সে চিন্তা করল ও সিদ্ধান্ত নিল।
ধ্বংস হৌক সে, কিভাবে সিদ্ধান্ত নিল?
পুনরায় ধ্বংস হৌক সে, কিভাবে সিদ্ধান্ত নিল?
পুনরায় সে দেখল।
ভ্রুকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল।
অতঃপর সে পিছনে ফিরল ও দম্ভ করল
এবং বলল, এতো অন্যের কাছ থেকে পাওয়া জাদু ব্যতীত নয়।
এতো মানুষের উক্তি ব্যতীত নয়।
অবশ্যই আমি তাকে প্রবেশ করাবো ‘সাক্বারে’।
তুমি কি জানো ‘সাক্বার’ কি?
যা তাদেরকে জীবিত রাখবে না, আবার মৃতও ছাড়বে না।
যা মানুষকে দগ্ধকারী।
তার উপরে রয়েছে ১৯ জন প্রহরী।
আমরা জাহান্নামের প্রহরীদের ফেরেশতা ব্যতীত করিনি। আর আমরা তাদের এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছি কাফেরদের পরীক্ষা করার জন্য। যাতে আহলে কিতাবদের বিশ্বাস দৃঢ় হয় ও ঈমানদারগণের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং আহলে কিতাব ও মুমিনগণ সন্দেহে পতিত না হয়। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা ও কাফেররা যেন বলে যে, আল্লাহ এইসব দৃষ্টান্ত দিয়ে কি বুঝাতে চান? এইভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন ও যাকে ইচ্ছা সুপথ প্রদর্শন করেন। বস্ত্তত তোমার প্রতিপালকের সেনাবাহিনী সম্পর্কে কেউ জানেনা তিনি ব্যতীত। আর (জাহান্নামের) এই বর্ণনা মানুষের জন্য কেবল উপদেশ মাত্র।
কখনোই নয়। শপথ চন্দ্রের।
এবং শপথ রাত্রির, যখন সে গত হয়।
আর শপথ প্রভাতকালের, যখন তা আলোকিত হয়।
নিশ্চয়ই এটি ভয়ংকর বিষয়গুলির অন্যতম।
মানুষের জন্য সতর্ককারী।
তার জন্য, যে তোমাদের মধ্যে (সত্য গ্রহণে) এগিয়ে আসতে চায় অথবা পিছিয়ে যেতে চায়।
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের নিকট দায়বদ্ধ।
ডান পাশের লোকেরা ব্যতীত।
তারা থাকবে জান্নাতে। তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে-
অপরাধীদেরকে।
কোন্ বস্ত্ত তোমাদেরকে ‘সাক্বারে’ প্রবেশ করালো?
তারা বলবে, আমরা মুছল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।
আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য প্রদান করতাম না।
আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনায় লিপ্ত থাকতাম।
আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম।
অবশেষে আমাদের নিকট এসে গেল নিশ্চিত বিষয়টি।
অতঃপর সুফারিশকারীদের সুফারিশ তাদের কোন কাজে আসল না।
আর তাদের কি হ’ল যে, তারা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল?
তারা যেন পলায়নপর বন্য গাধা।
যে হিংস্র সিংহ দেখে পালায়।
বরং তারা প্রত্যেকে চায় যে, তাকে (আযাব থেকে মুক্তির) একটা উন্মুক্ত কিতাব দেওয়া হৌক।
কখনোই না। বরং তারা আখেরাতকে ভয় করে না।
কখনোই না। এটি সতর্কবাণী মাত্র।
অতএব যে চায় এখান থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক!
বস্ত্তত আল্লাহ্র ইচ্ছা ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না। তিনিই মাত্র ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই মাত্র ক্ষমা করার মালিক।