بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
নিশ্চয়ই মানুষের উপর যুগের এমন একটি সময় অতীত হয়েছে, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না।
আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি (পিতা-মাতার) মিশ্রিত জনন কোষ হ’তে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। অতঃপর আমরা তাকে করেছি শ্রবণশক্তি সম্পন্ন ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।
আমরা তাকে সুপথ প্রদর্শন করেছি। এক্ষণে সে কৃতজ্ঞ হৌক অথবা অকৃতজ্ঞ হৌক।
আমরা অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছি শিকল, বেড়ী ও প্রজ্বলিত অগ্নি।
নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা কর্পূর মিশ্রিত পানপাত্র থেকে পান করবে।
এমন ঝর্ণা থেকে আল্লাহ্র বান্দারা পান করবে, যাকে তারা যেখানে খুশী প্রবাহিত করবে।
যারা মানত পূর্ণ করে এবং সেই দিনকে ভয় করে, যেদিনের অনিষ্টকারিতা হবে ব্যাপক।
তারা আল্লাহ্র মহববতে অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীদের আহার্য প্রদান করে।
(তারা বলে) আমরা শুধুমাত্র আল্লাহ্র চেহারা কামনায় তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। তোমাদের নিকট থেকে আমরা কোনরূপ প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।
আমরা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিনকে ভয় করি।
অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট হ’তে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন প্রফুল্লতা ও আনন্দ।
আর ধৈর্যধারণের পুরস্কার স্বরূপ সেদিন তিনি তাদেরকে দান করবেন জান্নাত ও রেশমী পোষাক।
তারা সেদিন সুসজ্জিত আসনের উপর ঠেস দিয়ে বসবে। সেখানে তারা অতি গরম বা অতি শীত কোনটাই অনুভব করবে না।
বাগিচার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং ফল-মূল সমূহ তাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।
আর তাদের খাদ্য পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্রে এবং পানপাত্র সমূহ হবে কাঁচের।
ঐ কাঁচগুলি হবে রৌপ্য নির্মিত। সেগুলি থেকে তারা পরিমাণমত পরিবেশন করবে।
আর সেখানে তাদের পান করতে দেওয়া হবে আদা মিশ্রিত পানীয়।
জান্নাতের ঐ ঝর্ণার নাম হবে ‘সালসাবীল’।
তাদেরকে পরিবেশন করবে চির কিশোরগণ। তুমি তাদেরকে দেখে মনে করবে যেন বিক্ষিপ্ত মণি-মুক্তা।
যখন তুমি দেখবে, তখন সেখানে দেখবে অসংখ্য নে‘মতরাজি ও বিশাল সাম্রাজ্য।
তাদের পোষাক হবে পাতলা সবুজ রেশমের (গেঞ্জী) ও মোটা রেশমের (জামা)। তারা রৌপ্য কংকনের অলংকার পরিহিত হবে। আর তাদের প্রতিপালক তাদের পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয় (শরাবান তহূরা)।
নিশ্চয়ই এটি হবে তোমাদের জন্য পুরস্কার। আর তোমাদের সৎকর্মসমূহ গৃহীত হবে কৃতজ্ঞতার সাথে।
নিশ্চয়ই আমরা তোমার উপর কুরআন নাযিল করেছি পর্যায়ক্রমে।
অতএব তুমি তোমার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ কর। আর তুমি ওদের মধ্যকার কোন পাপাচারী কিংবা অবিশ্বাসীর আনুগত্য করবে না।
তুমি সকালে ও সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর।
আর রাত্রির কিছু অংশে তাঁর জন্য সিজদা কর এবং দীর্ঘ রাত্রি ব্যাপী তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর।
নিশ্চয়ই ওরা পার্থিব জীবনকে ভালবাসে এবং কঠিন দিবসকে পিছনে ফেলে রাখে।
আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি ও তাদের গঠনকে মযবূত করেছি। আর যখন আমরা চাইব, তাদের পরিবর্তে অনুরূপ কোন জাতিকে নিয়ে আসব।
নিশ্চয় এটি উপদেশবাণী। অতএব যে চায় সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক!
আর তোমরা (আল্লাহ্র পথের) ইচ্ছা করতে পার না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করান। আর যালেমদের জন্য তিনি প্রস্ত্তত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।