بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
মহা সংবাদ সম্পর্কে,
যে বিষয়ে তারা মতভেদ করে।
কখনোই না, শীঘ্র তারা জানতে পারবে।
অতঃপর কখনোই না, শীঘ্র তারা জানতে পারবে।
আমরা কি পৃথিবীকে করিনি বিছানা স্বরূপ?
এবং পর্বতমালাকে পেরেক স্বরূপ?
আর আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়,
এবং তোমাদের জন্য নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী।
আমরা রাত্রিকে করেছি আবরণ
এবং দিবসকে করেছি জীবিকা অন্বেষণকাল।
আমরা তোমাদের মাথার উপরে নির্মাণ করেছি কঠিন সপ্ত আকাশ
এবং তন্মধ্যে স্থাপন করেছি কিরণময় প্রদীপ।
আমরা পানিপূর্ণ মেঘমালা হ’তে প্রচুর বারিপাত করি।
যাতে তা দিয়ে আমরা উৎপন্ন করি শস্য ও উদ্ভিদ
এবং ঘনপল্লবিত উদ্যানসমূহ।
নিশ্চয়ই বিচার দিবস সুনির্ধারিত।
যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা দলে দলে সমাগত হবে
আর আকাশ খুলে দেওয়া হবে। অতঃপর তা বহু দরজা বিশিষ্ট হবে
আর পর্বতমালা চালিত হবে। অতঃপর তা মরীচিকা হয়ে যাবে।
নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে।
সীমালংঘনকারীদের ঠিকানা রূপে।
সেখানে তারা অবস্থান করবে যুগ যুগ ধরে।
সেখানে তারা আস্বাদন করবে না শীতলতা কিংবা পানীয়।
কেবল ফুটন্ত পানি ও দেহনিঃসৃত পুঁজ-রক্ত ব্যতীত।
যথার্থ কর্মফল হিসাবে।
নিশ্চয়ই তারা (আখেরাতে) জওয়াবদিহিতার আশা করত না
এবং আমাদের আয়াতসমূহে তারা পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত।
আর আমরা সকল কর্ম আমলনামায় লিপিবদ্ধ করি।
অতএব তোমরা স্বাদ গ্রহণ কর। আর আমরা তোমাদের কিছুই বৃদ্ধি করব না শাস্তি ব্যতীত।
নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে সফলতা।
রয়েছে উদ্যানসমূহ ও আঙ্গুরসমূহ
আর সমবয়স্কা কুমারীগণ
এবং পরিপূর্ণ পানপাত্র।
তারা সেখানে কোনরূপ অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না।
এটা তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে যথোচিত প্রতিদান।
যিনি আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা। যিনি দয়াময়। কেউ তাঁর সাথে কথা বলার ক্ষমতা রাখে না।
যেদিন রূহ (জিব্রীল) ও ফেরেশতাগণ দন্ডায়মান হবে সারিবদ্ধভাবে। দয়াময় যাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে।
সে দিবস সুনিশ্চিত। অতএব যে চায় তার প্রতিপালকের নিকট ঠিকানা নির্ধারণ করুক!
নিশ্চয়ই আমরা আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করলাম। যেদিন মানুষ প্রত্যক্ষ করবে যা তার দু’হাত অগ্রিম প্রেরণ করেছে। আর অবিশ্বাসী ব্যক্তি বলবে, হায়! যদি আমি মাটি হয়ে যেতাম!!