৭৮

সূরা নাবা

(সংবাদ)মাক্কীমোট আয়াত ৪০ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

عَمَّ يَتَسَآءَلُوۡنَۚ ‏

তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

عَنِ النَّبَاِ الۡعَظِيۡمِۙ ‏

মহা সংবাদ সম্পর্কে,

الَّذِىۡ هُمۡ فِيۡهِ مُخۡتَلِفُوۡنَؕ ‏

যে বিষয়ে তারা মতভেদ করে।

كَلَّا سَيَعۡلَمُوۡنَۙ ‏

কখনোই না, শীঘ্র তারা জানতে পারবে।

ثُمَّ كَلَّا سَيَعۡلَمُوۡنَ‏

অতঃপর কখনোই না, শীঘ্র তারা জানতে পারবে।

اَلَمۡ نَجۡعَلِ الۡاَرۡضَ مِهٰدًاۙ ‏

আমরা কি পৃথিবীকে করিনি বিছানা স্বরূপ?

وَّالۡجِبَالَ اَوۡتَادًاۙ ‏

এবং পর্বতমালাকে পেরেক স্বরূপ?

وَّخَلَقۡنٰكُمۡ اَزۡوَاجًاۙ ‏

আর আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়,

وَّجَعَلۡنَا نَوۡمَكُمۡ سُبَاتًاۙ ‏

এবং তোমাদের জন্য নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী।

وَّجَعَلۡنَا الَّيۡلَ لِبَاسًاۙ ‏

আমরা রাত্রিকে করেছি আবরণ

وَّجَعَلۡنَا النَّهَارَ مَعَاشًا‏

এবং দিবসকে করেছি জীবিকা অন্বেষণকাল।

وَّبَنَيۡنَا فَوۡقَكُمۡ سَبۡعًا شِدَادًاۙ ‏

আমরা তোমাদের মাথার উপরে নির্মাণ করেছি কঠিন সপ্ত আকাশ

وَّ جَعَلۡنَا سِرَاجًا وَّهَّاجًاۙ ‏

এবং তন্মধ্যে স্থাপন করেছি কিরণময় প্রদীপ।

وَّاَنۡزَلۡنَا مِنَ الۡمُعۡصِرٰتِ مَآءً ثَجَّاجًاۙ ‏

আমরা পানিপূর্ণ মেঘমালা হ’তে প্রচুর বারিপাত করি।

لِّـنُخۡرِجَ بِهٖ حَبًّا وَّنَبَاتًاۙ ‏

যাতে তা দিয়ে আমরা উৎপন্ন করি শস্য ও উদ্ভিদ

وَّجَنّٰتٍ اَلۡفَافًاؕ ‏

এবং ঘনপল্লবিত উদ্যানসমূহ।

اِنَّ يَوۡمَ الۡفَصۡلِ كَانَ مِيۡقَاتًاۙ ‏

নিশ্চয়ই বিচার দিবস সুনির্ধারিত।

يَّوۡمَ يُنۡفَخُ فِى الصُّوۡرِ فَتَاۡتُوۡنَ اَفۡوَاجًاۙ ‏

যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা দলে দলে সমাগত হবে

وَّفُتِحَتِ السَّمَآءُ فَكَانَتۡ اَبۡوَابًاۙ ‏

আর আকাশ খুলে দেওয়া হবে। অতঃপর তা বহু দরজা বিশিষ্ট হবে

وَّ سُيِّرَتِ الۡجِبَالُ فَكَانَتۡ سَرَابًاؕ ‏

আর পর্বতমালা চালিত হবে। অতঃপর তা মরীচিকা হয়ে যাবে।

اِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتۡ مِرۡصَادًاۙ ‏

নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে।

لِّلطّٰغِيۡنَ مَاٰبًاۙ ‏

সীমালংঘনকারীদের ঠিকানা রূপে।

لّٰبِثِيۡنَ فِيۡهَاۤ اَحۡقَابًاۚ ‏

সেখানে তারা অবস্থান করবে যুগ যুগ ধরে।

لَا يَذُوۡقُوۡنَ فِيۡهَا بَرۡدًا وَّلَا شَرَابًاۙ ‏

সেখানে তারা আস্বাদন করবে না শীতলতা কিংবা পানীয়।

اِلَّا حَمِيۡمًا وَّغَسَّاقًاۙ ‏

কেবল ফুটন্ত পানি ও দেহনিঃসৃত পুঁজ-রক্ত ব্যতীত।

جَزَآءً وِّفَاقًاؕ ‏

যথার্থ কর্মফল হিসাবে।

اِنَّهُمۡ كَانُوۡا لَا يَرۡجُوۡنَ حِسَابًاۙ ‏

নিশ্চয়ই তারা (আখেরাতে) জওয়াবদিহিতার আশা করত না

وَّكَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا كِذَّابًاؕ ‏

এবং আমাদের আয়াতসমূহে তারা পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত।

وَكُلَّ شَىۡءٍ اَحۡصَيۡنٰهُ كِتٰبًاۙ ‏

আর আমরা সকল কর্ম আমলনামায় লিপিবদ্ধ করি।

فَذُوۡقُوۡا فَلَنۡ نَّزِيۡدَكُمۡ اِلَّا عَذَابًا‏

অতএব তোমরা স্বাদ গ্রহণ কর। আর আমরা তোমাদের কিছুই বৃদ্ধি করব না শাস্তি ব্যতীত।

اِنَّ لِلۡمُتَّقِيۡنَ مَفَازًاۙ ‏

নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে সফলতা।

حَدَآٮِٕقَ وَاَعۡنَابًاۙ ‏

রয়েছে উদ্যানসমূহ ও আঙ্গুরসমূহ

وَّكَوَاعِبَ اَتۡرَابًاۙ ‏

আর সমবয়স্কা কুমারীগণ

وَّكَاۡسًا دِهَاقًاؕ ‏

এবং পরিপূর্ণ পানপাত্র।

لَا يَسۡمَعُوۡنَ فِيۡهَا لَـغۡوًا وَّلَا كِذّٰبًاۚ ‏

তারা সেখানে কোনরূপ অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না।

جَزَآءً مِّنۡ رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًاۙ ‏

এটা তোমার প্রভুর পক্ষ হ’তে যথোচিত প্রতিদান।

رَّبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا الرَّحۡمٰنِ​ لَا يَمۡلِكُوۡنَ مِنۡهُ خِطَابًاۚ ‏

যিনি আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা। যিনি দয়াময়। কেউ তাঁর সাথে কথা বলার ক্ষমতা রাখে না।

يَوۡمَ يَقُوۡمُ الرُّوۡحُ وَالۡمَلٰٓٮِٕكَةُ صَفًّاؕۙ  لَّا يَتَكَلَّمُوۡنَ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَهُ الرَّحۡمٰنُ وَقَالَ صَوَابًا​‏

যেদিন রূহ (জিব্রীল) ও ফেরেশতাগণ দন্ডায়মান হবে সারিবদ্ধভাবে। দয়াময় যাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে।

ذٰلِكَ الۡيَوۡمُ الۡحَـقُّۚ فَمَنۡ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰى رَبِّهٖ مَاٰبًا‏ 

সে দিবস সুনিশ্চিত। অতএব যে চায় তার প্রতিপালকের নিকট ঠিকানা নির্ধারণ করুক!

اِنَّاۤ اَنۡذَرۡنٰـكُمۡ عَذَابًا قَرِيۡبًاۖۚ   يَّوۡمَ يَنۡظُرُ الۡمَرۡءُ مَا قَدَّمَتۡ يَدٰهُ وَيَقُوۡلُ الۡـكٰفِرُ يٰلَيۡتَنِىۡ كُنۡتُ تُرٰبًا‏

নিশ্চয়ই আমরা আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করলাম। যেদিন মানুষ প্রত্যক্ষ করবে যা তার দু’হাত অগ্রিম প্রেরণ করেছে। আর অবিশ্বাসী ব্যক্তি বলবে, হায়! যদি আমি মাটি হয়ে যেতাম!!