بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
শপথ ফেরেশতাদের, যারা ডুব দিয়ে (কাফেরের) আত্মা টেনে বের করে।
শপথ ফেরেশতাদের, যারা মৃদুভাবে (মুমিনের) আত্মার বাঁধন খুলে দেয়।
শপথ ফেরেশতাদের, যারা তীব্র বেগে সন্তরণ করে।
শপথ ফেরেশতাদের, যারা প্রতিযোগিতায় পরস্পরকে ছাড়িয়ে যায়।
শপথ ফেরেশতাদের, যারা সকল কার্যনির্বাহ করে।
(ক্বিয়ামত আসবেই।) যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী।
যার পিছে পিছে আসবে আরেকটি প্রকম্পন।
যেদিন হৃদয়সমূহ হবে ভীত-বিহবল।
তাদের দৃষ্টিসমূহ হবে অবনমিত।
(অবিশ্বাসীরা) বলে আমরা কি (মৃত্যুর পরে আবার) পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবই?
আমরা গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরেও?
তারা বলে, সেটা হ’লে তা হবে ধ্বংসকর প্রত্যাবর্তন।
অথচ সেটি একটি মহা নিনাদ বৈ কিছুই নয়।
অতঃপর সবাই ময়দানে আবির্ভূত হবে।
তোমার নিকটে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?
যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় আহবান করেছিলেন।
(এবং বলেছিলেন) ফেরাঊনের কাছে যাও। কেননা সে সীমালংঘন করেছে।
অতঃপর তাকে বল, তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?
আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর।
অতঃপর সে (মূসা) তাকে মহা নিদর্শন দেখাল।
কিন্তু সে (ফেরাঊন) তাতে মিথ্যারোপ করল এবং অবাধ্য হ’ল।
অতঃপর সে পিছনে ফিরে গেল দ্রুতপায়ে।
অতঃপর সে লোক জমা করল এবং উচ্চ স্বরে আহবান করল।
অতঃপর বলল, আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ পালনকর্তা।
ফলে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও ইহকালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্বারা।
নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষণীয় রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে (আল্লাহ্র শাস্তিকে) ভয় করে।
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন, না আকাশের সৃষ্টি? যা তিনি নির্মাণ করেছেন।
তিনি তার ছাদকে সুউচ্চ করেছেন। অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন।
তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এর রাত্রিকে এবং প্রকাশিত করেছেন এর সকালকে।
পৃথিবীকে এর পরে তিনি বিস্তৃত করেছেন।
সেখান থেকে তিনি বের করেছেন পানি ও উদ্ভিদরাজি
আর পর্বতমালাকে তিনি স্থাপন করেছেন দৃঢ়ভাবে;
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগ্যবস্ত্ত হিসাবে।
অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে,
সেদিন মানুষ তার কৃতকর্মসমূহ স্মরণ করবে
এবং দর্শকের জন্য জাহান্নামকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে
জাহান্নাম তার ঠিকানা হবে।
আর যে ব্যক্তি তার প্রভুর সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং নিজেকে প্রবৃত্তির গোলামী হ’তে বিরত রাখে,
জান্নাত তার ঠিকানা হবে।
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, ক্বিয়ামত কখন হবে?
এ বিষয়ে বলার জন্য তুমি কে?
তোমার প্রতিপালকের নিকটেই তো রয়েছে এর চূড়ান্ত জ্ঞান।
তুমি তো কেবল সতর্ককারী ঐ ব্যক্তির জন্য যে ক্বিয়ামতকে ভয় করে।
যেদিন তারা এটা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে ছিল না একটি সন্ধ্যা বা একটি সকাল ব্যতীত।