بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে গণীমতের মাল বণ্টন সম্পর্কে। বলে দাও, গণীমতের মাল সবই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং পরস্পরে মীমাংসা করে নাও। আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।
মুমিন কেবল তারাই, যখন তাদেরকে আল্লাহ্র কথা স্মরণ করানো হয়, তখন তাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে ওঠে। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।
যারা ছালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে আমরা যে রূযী দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করে।
তারাই হ’ল সত্যিকারের মুমিন। তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।
যেমনভাবে তোমার প্রভু তোমাকে তোমার বাড়ী থেকে (বদরের যুদ্ধে) বের করে এনেছিলেন যথার্থভাবে। অথচ মুমিনদের একটি দল এ বিষয়ে অনিচ্ছুক ছিল।
তারা তোমার সঙ্গে ঝগড়া করছিল সত্যের (যুদ্ধের) বিষয়ে, যা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল, যেন কেউ তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর তারা তা দেখতে পাচ্ছে।
আর যখন আল্লাহ দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের (বিজয়ের) ওয়াদা দিয়েছিলেন যে, সেটি তোমাদের করতলগত হবে। আর তোমরা চাচ্ছিলে যাতে কোন কাঁটা নেই সেটি তোমাদের ভাগে আসুক। অথচ আল্লাহ চেয়েছিলেন তাঁর নির্দেশ দ্বারা সত্যকে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের শিকড় কেটে দিতে।
যাতে তিনি সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন। যদিও পাপীরা এটা অপসন্দ করে।
যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট কাতর কণ্ঠে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে, আর তিনি তোমাদের সে প্রার্থনা কবুল করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে সাহায্য করব ধারাবাহিকভাবে আগত এক হাযার ফেরেশতা দ্বারা।
আর আল্লাহ এটা করেছেন কেবল তোমাদেরকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য এবং তোমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি আনয়নের জন্য। বস্ত্তত সাহায্য কেবল আল্লাহ্র কাছ থেকেই আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
(স্মরণ কর) যখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তির জন্য তোমাদেরকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে দেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের উপর বারি বর্ষণ করেন তোমাদেরকে পবিত্র করার জন্য ও তোমাদের থেকে শয়তানী কুমন্ত্রণা দূরীভূত করার জন্য। আর তোমাদের হৃদয়গুলিকে মিলিত করার জন্য ও তোমাদের পা গুলিকে দৃঢ় করার জন্য।
আর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন যে, আমি তোমাদের সাথে আছি। অতএব তোমরা ঈমানদারগণকে অবিচল রাখো। সত্বর আমি কাফেরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করে দেব। অতএব তোমরা কাফেরদের গর্দানে মারো এবং ওদের প্রত্যেক জোড়ায় জোড়ায় মারো।
আর এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। বস্ত্তত যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।
এটাই তোমাদের শাস্তি। সুতরাং তোমরা এর স্বাদ গ্রহণ কর। আর অবিশ্বাসীদের জন্য (এছাড়াও) রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা যুদ্ধের ময়দানে কাফের সৈন্যদের সম্মুখীন হবে, তখন তাদের থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না।
যে ব্যক্তি সেদিন তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে যুদ্ধকৌশল ব্যতীত অথবা নিজ বাহিনীর মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করা ব্যতীত, সে আল্লাহ্র ক্রোধ নিয়ে ফিরবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর সেটা কতই না মন্দ ঠিকানা!
সুতরাং তোমরা তাদের হত্যা করোনি, বরং আল্লাহ তাদের হত্যা করেছেন। আর তুমি ধূলি নিক্ষেপ করোনি যখন তুমি তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং আল্লাহ তা নিক্ষেপ করেছিলেন। যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে মুমিনদের উত্তম পুরস্কার দান করতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
ওটা তোমাদের জন্য। (এ ছাড়াও আরেকটি সুসংবাদ এই যে,) আল্লাহ অবিশ্বাসীদের চক্রান্ত দুর্বল করে থাকেন।
(হে আবু জাহলগণ!) যদি তোমরা বিজয় চেয়ে থাক, তবে সে বিজয় তো এসে গেছে (মুহাম্মাদ-এর জন্য)। এক্ষণে যদি তোমরা বিরত হও, তাহ’লে সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম হবে। আর যদি তোমরা (শত্রুতায়) ফিরে যাও, তাহ’লে আমরাও (তোমাদের দমনে) ফিরে আসব। তোমাদের দল যত বড়ই হৌক না কেন, তা তোমাদের কোন কাজে আসবে না। মনে রেখ, আল্লাহ সর্বদা বিশ্বাসীদের সঙ্গে থাকেন।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমরা জেনেশুনে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।
আর তোমরা ঐসব লোকদের মত হয়ো না, যারা বলে আমরা শুনলাম অথচ তারা শোনে না (অর্থাৎ মানে না)।
নিশ্চয়ই আল্লাহ্র নিকটে নিকৃষ্টতম জীব হ’ল বধির ও বোবারা, যারা কিছুই বুঝে না।
যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে কিছু কল্যাণ আছে বলে জানতেন, তাহ’লে অবশ্যই তিনি তাদের শুনাতেন। আর যদি তিনি তাদের শুনাতেন, তবুও তারা মুখ ফিরিয়ে নিত ও এড়িয়ে যেত।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহবানে সাড়া দাও। যখন তিনি তোমাদের আহবান করেন ঐ বিষয়ের দিকে যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। জেনে রেখ, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে থাকেন (অর্থাৎ তিনিই তাওফীক দাতা)। আর তাঁর কাছেই তোমাদের সমবেত করা হবে।
আর তোমরা ফিৎনা থেকে বেঁচে থাক, যা তোমাদের মধ্যকার যালেমদেরই কেবল পাকড়াও করবে না (বরং সকলের উপরে আপতিত হবে)। জেনে রেখ আল্লাহ শাস্তি দানে অতীব কঠোর।
আর স্মরণ কর যখন তোমরা জনপদে (মক্কায়) সংখ্যায় অল্প ও দুর্বল ছিলে, যখন তোমরা ভীত ছিলে, না জানি লোকেরা তোমাদের ছোঁ মেরে উঠিয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের (হাবশায় ও মদীনায়) আশ্রয় দেন এবং তোমাদেরকে নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন ও পবিত্র রূযী দান করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনে-শুনে তোমাদের পরস্পরের আমানত সমূহে খেয়ানত করো না।
জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পরীক্ষার বস্ত্ত মাত্র। আর আল্লাহ্র নিকটেই রয়েছে মহা পুরস্কার।
হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহভীরু হও, তাহ’লে তিনি তোমাদের সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার শক্তি দান করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন ও তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
আর (স্মরণ কর,) যখন (মক্কার) কাফেররা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তোমাকে বন্দী করার জন্য অথবা হত্যা করার জন্য অথবা বের করে দেবার জন্য। বস্ত্তত তারা চক্রান্ত করে আর আল্লাহ্ও কৌশল করেন। আর আল্লাহ্ই হ’লেন শ্রেষ্ঠ কৌশলী।
আর যখন তাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন তারা বলে, আমরা এগুলো শুনেছি। আমরাও চাইলে এরূপ বলতে পারি। এগুলি পূর্ববর্তীদের উপকথা ভিন্ন কিছুই নয়।
আর (স্মরণ কর,) যখন তারা প্রার্থনা করেছিল, যদি এই ব্যক্তি (মুহাম্মাদ) তোমার পক্ষ হ’তে সত্য (নবী) হয়ে থাকে, তাহ’লে তুমি আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর অথবা আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দাও।
অথচ আল্লাহ কখনো তাদের উপর শাস্তি নাযিল করবেন না যতক্ষণ তুমি (হে মুহাম্মাদ) তাদের মধ্যে অবস্থান করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না, যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে।
আর এখন তাদের কি বলার আছে যে, তিনি তাদের শাস্তি দিবেন না যখন তারা মাসজিদুল হারামে প্রবেশে (মুসলমানদের) বাধা দিচ্ছে? অথচ তারা এর তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার যথার্থ হকদার নয়। কেননা এর প্রকৃত হকদার হ’ল মুত্তাক্বীগণ। কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানেনা।
আর বায়তুল্লাহ্র নিকট তাদের ইবাদত বলতে শিস দেওয়া ও হাততালি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না। অতএব তোমরা তোমাদের কুফরীর শাস্তি ভোগ কর।
নিশ্চয়ই যারা কাফের তারা তাদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহ্র পথে বাধা দেওয়ার জন্য। তারা এটা করতেই থাকবে। অতঃপর এটাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে এবং অবশেষে তারা পরাস্ত হবে। আর যারা কুফরী করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে।
এটা এজন্য যে, আল্লাহ মন্দকে ভাল থেকে পৃথক করে নিবেন এবং মন্দগুলিকে একে অপরের উপর জমা করবেন। অতঃপর সবগুলিকে স্তূপ করবেন। অতঃপর সেটিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। আর এরাই হ’ল ক্ষতিগ্রস্ত।
তুমি কাফেরদের বলে দাও যদি তারা বিরত হয় (ও ইসলাম কবুল করে), তাহ’লে তাদের ক্ষমা করা হবে, যা তারা ইতিপূর্বে করেছে। কিন্তু যদি তারা (কুফরীতে) ফিরে যায়, তাহ’লে পূর্ববর্তীদের (ধ্বংসের) রীতি তো জারি আছে (অর্থাৎ তারা ধ্বংস হবে)।
আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর যতক্ষণ না ফিৎনা (কুফরী) শেষ হয় এবং দ্বীন পূর্ণরূপে আল্লাহ্র জন্য হয়ে যায়। আর যদি তারা বিরত হয়, তবে আল্লাহ তাদের সকল কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছেন (সে হিসাবে তিনি তাদের বদলা দিবেন)।
আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে জেনে রাখ আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক। তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতইনা উত্তম সাহায্যকারী।
আর তোমরা জেনে রাখ যে, যুদ্ধে যেসব বস্ত্ত গণীমত হিসাবে তোমরা লাভ করেছ, তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ্র, তাঁর রাসূলের, তাঁর নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন ও (দুস্থ) মুসাফিরদের জন্য। যদি তোমরা ঈমান এনে থাক আল্লাহ্র উপরে এবং যা কিছু (বণ্টন নীতি) আমরা নাযিল করেছি আমাদের বান্দার উপরে সত্য-মিথ্যার ফায়ছালার দিন (অর্থাৎ বদরের দিন)। যেদিন দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল। আর আল্লাহ সকল কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
(স্মরণ কর,) যখন তোমরা (মদীনার) নিকট প্রান্তে ছিলে এবং কাফের বাহিনী ছিল দূরপ্রান্তে। আর (আবু সুফিয়ানের ব্যবসায়ী) কাফেলা ছিল তোমাদের নিম্ন ভূমিতে। যদি তোমরা আগে থেকে যুদ্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইতে, তাহ’লে (সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে) তোমরা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মতভেদ করতে। কিন্তু আল্লাহ (উভয় দলকে যুদ্ধে একত্রিত করার) এমন একটি কাজ সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন, যা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। এটা এজন্য যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন (ইসলামের) সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধ্বংস হয় এবং যে বেঁচে থাকবে, সে যেন সত্য প্রতিষ্ঠার পর বেঁচে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
(স্মরণ কর,) যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নের মাধ্যমে কাফেরদের সংখ্যা কম দেখালেন। যদি তিনি তোমাকে তাদের সংখ্যা বেশী দেখাতেন, তাহ’লে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধের ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে (তা থেকে) রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি (তোমাদের) মনের কথাগুলি ভালভাবে জানেন।
আর (স্মরণ কর,) যখন তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হ’লে, তখন তিনি তোমাদের চোখে তাদের সংখ্যা কম দেখালেন এবং তাদের চোখেও তোমাদের সংখ্যা কম দেখালেন, যাতে আল্লাহ (ইসলামের বিজয়ের) সে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন, যা নির্ধারিত ছিল। বস্ত্তত সকল কাজই আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হবে, তখন দৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। আর আপোষে ঝগড়া করো না। তাহ’লে তোমরা শক্তিহীন হবে ও তোমাদের প্রতিপত্তি উবে যাবে। তোমরা ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।
আর তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা তাদের বাসস্থান (মক্কা) থেকে বের হয়েছিল দম্ভভরে ও লোক দেখিয়ে এবং যারা আল্লাহ্র পথ থেকে লোকদের বাধা দিত। অথচ আল্লাহ তাদের সকল কাজ পরিবেষ্টন করে আছেন।
আর যখন শয়তান কাফেরদের নিকট তাদের কাজগুলিকে শোভনীয় করে দেখিয়েছিল এবং বলেছিল আজ তোমাদের উপর বিজয়ী হবার মত কেউ নেই। আর আমি তোমাদের সাথী আছি। কিন্তু যখন দু’দল মুখোমুখি হ’ল, তখন সে পিছন ফিরে পালালো এবং বলল, আমি তোমাদের থেকে মুক্ত। আমি যা দেখি তোমরা তা দেখোনা। আমি আল্লাহকে ভয় করি। আর আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।
যেদিন মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল, তারা (মুমিনদের) বলেছিল, এদের দ্বীন এদেরকে প্রতারিত করেছে। অথচ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র উপর ভরসা করে (আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন)। কেননা আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
যদি তুমি কাফেরদের জান কবয করার অবস্থা দেখতে, যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে ও পিঠে মারে আর বলে, দহন জ্বালার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।
(আরও বলে) এই শাস্তি হ’ল তোমাদের সেই সব কৃতকর্মের ফল যা তোমরা অগ্রিম প্রেরণ করেছ। নইলে আল্লাহ তার বান্দাদের উপর অত্যাচারী নন।
এসব কাফেরদের অবস্থা ফেরাঊনের কওম ও তাদের পূর্বেকার কাফেরদের অবস্থার ন্যায়, যারা আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহকে অস্বীকার করেছিল। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা শক্তিধর ও কঠিন শাস্তিদাতা।
এটা এজন্য যে, আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের উপর কোন নে‘মত দান করলে তার পরিবর্তন ঘটান না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা সেটা পরিবর্তন করে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
যেভাবে তিনি আচরণ করেছিলেন ফেরাঊনের সম্প্রদায় ও তাদের পূর্বেকার লোকদের সাথে। যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন সমূহে মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর আমরা তাদের পাপের কারণে তাদের ধ্বংস করে দেই এবং ফেরাঊনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে মারি। বস্ত্তত তারা সবাই ছিল সীমালংঘনকারী।
নিশ্চয়ই আল্লাহ্র নিকট নিকৃষ্টতম জীব হ’ল তারাই যারা কুফরী করে। ফলে ওরা আর ঈমান আনবে না।
ওদের মধ্যে যাদের সাথে তুমি চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, পরে তারা বারবার চুক্তি ভঙ্গ করছে। অথচ তারা আদৌ সংযত হয় না।
সুতরাং যদি তুমি তাদের যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদেরকে এমনভাবে বিধ্বস্ত করে দাও যাতে তাদের পশ্চাতের লোকেরা শিক্ষা গ্রহণ করে।
আর যদি তুমি কোন সম্প্রদায়ের পক্ষ হ’তে খেয়ানতের আশংকা কর, তবে তাদের প্রতিও অনুরূপ নিক্ষেপ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ খেয়ানতকারীদের ভালবাসেন না।
আর যারা কাফের তারা যেন একথা মনে না করে যে, তারা পার পেয়ে গেছে। তারা কখনোই আমাদের অপারগ করতে পারবে না।
আর তোমরা কাফেরদের মোকাবিলায় সাধ্যমত শক্তি ও সুসজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্ত্তত রাখো, যা দিয়ে তোমরা ভীত করবে আল্লাহ্র শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের এবং অন্যদের যাদেরকে তোমরা জানো না, কিন্তু আল্লাহ তাদের জানেন। আর তোমরা আল্লাহ্র পথে যা কিছু ব্যয় কর তার প্রতিদান তোমাদেরকে পুরোপুরি দেওয়া হবে এবং তোমরা অত্যাচারিত হবে না।
যদি তারা সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও সেদিকে ঝুঁকে পড় এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা কর। নিঃসন্দেহে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আর যদি তারা তোমাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই তোমাকে শক্তি যুগিয়েছেন তার সাহায্যের মাধ্যমে ও মুমিনদের মাধ্যমে।
তিনি তাদের অন্তর সমূহে পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন। যদি তুমি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তর সমূহে ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে পরস্পরে মহববত পয়দা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
হে নবী! তোমার ও তোমার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
হে নবী! তুমি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ কর। (মনে রেখ) যদি তোমাদের মধ্যে বিশ জন দৃঢ়চিত্ত মুজাহিদ থাকে, তাহ’লে তারা দু’শো জন কাফেরের উপর বিজয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে এরূপ একশ’ জন থাকে, তবে তারা এক হাযার কাফেরের উপর বিজয়ী হবে। কেননা ওরা এমনই এক সম্প্রদায়, যারা কিছুই বুঝে না।
আল্লাহ এখন তোমাদের উপর বোঝা লাঘব করে দিলেন এবং তিনি জেনেছেন যে, তোমাদের মধ্যে কিছু দুর্বলতা এসে গেছে। অতএব যদি এখন তোমাদের মধ্যে একশ’ জন দৃঢ়চিত্ত মুজাহিদ থাকে, তবে তারা দু’শো জন কাফেরের উপর বিজয়ী হবে। আর এক হাযার জন থাকলে তারা দু’হাযারের উপর বিজয়ী হবে আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে। বস্ত্তত আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।
কোন নবীর পক্ষে বন্দীদের অাঁটকে রাখা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না জনপদে শত্রু নির্মূল হয়। তোমরা দুনিয়ার সম্পদ কামনা কর। আর আল্লাহ চান আখেরাত। আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
যদি আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে পূর্ব লিখন না থাকত, তাহ’লে (মুক্তিপণ স্বরূপ) তোমরা যা নিয়েছ, সেজন্য তোমাদের উপর ভয়ংকর শাস্তি আপতিত হ’ত।
এক্ষণে যুদ্ধে তোমরা যা কিছু গণীমত লাভ করেছ, তা হালাল ও পবিত্র হিসাবে ভক্ষণ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
হে নবী! তোমাদের হাতে যেসব বন্দী রয়েছে তাদের বল, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে কল্যাণকর কিছু আছে বলে জানতে পারেন, তাহ’লে তোমাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ স্বরূপ যা নেওয়া হয়েছে তার চেয়ে উত্তম তোমাদেরকে দান করবেন ও তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। বস্ত্তত আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
আর তারা যদি তোমার সাথে খেয়ানত করতে চায়, তবে তারা ইতিপূর্বেও আল্লাহ্র সাথে খেয়ানত করেছিল। অতঃপর তিনি তাদের উপর তোমাকে ক্ষমতাবান করেছেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তাদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করেছে, আর যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারা পরস্পরে বন্ধু। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে, কিন্তু হিজরত করেনি, তাদের অভিভাবকত্বের কোন দায়িত্ব তোমাদের নেই যতক্ষণ না তারা হিজরত করে আসে। অবশ্য যদি তারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায়, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সন্ধিচুক্তি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নয়। বস্ত্তত তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সবই দেখেন।
আর যারা অবিশ্বাসী তারা পরস্পরে বন্ধু। তোমরা যদি উক্ত বিধান কার্যকর না কর, তাহ’লে যমীনে ব্যাপক বিশৃংখলা ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে।
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে ও আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করেছে এবং যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারা হ’ল সত্যিকারের মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও উত্তম জীবিকা।
আর যারা পরে ঈমান এনেছে ও হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে থেকে জিহাদ করেছে, তারাও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত। আর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়গণ আল্লাহ্র বিধানে একে অপরের চাইতে অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত।