সূরাঃ আ‘রাফ ()

মাক্কীমোট আয়াত ২০৬ টি

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

الۤمّۤصۤ‏

আলিফ লাম মীম ছোয়াদ।

كِتٰبٌ اُنۡزِلَ اِلَيۡكَ فَلَا يَكُنۡ فِىۡ صَدۡرِكَ حَرَجٌ مِّنۡهُ لِتُنۡذِرَ بِهٖ وَذِكۡرٰى لِلۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

এই কিতাব (হে নবী!) যা তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে। যাতে তুমি এর মাধ্যমে (লোকদের) ভয় প্রদর্শন করতে পার। অতএব তোমার অন্তরে যেন এ বিষয়ে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ না থাকে। এটি মুমিনদের জন্য উপদেশ স্বরূপ।

اِتَّبِعُوۡا مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡكُمۡ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ وَلَا تَتَّبِعُوۡا مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اَوۡلِيَآءَؕ قَلِيۡلًا مَّا تَذَكَّرُوۡنَ‏

তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে যা নাযিল হয়েছে, তার অনুসরণ কর এবং তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কোন বন্ধুর অনুসরণ করো না। বস্ত্তত তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।

وَكَمۡ مِّنۡ قَرۡيَةٍ اَهۡلَـكۡنٰهَا فَجَآءَهَا بَاۡسُنَا بَيَاتًا اَوۡ هُمۡ قَآٮِٕلُوۡنَ‏

আর কত জনপদকেই না আমরা ধ্বংস করেছি! অতঃপর সেখানে আমাদের শাস্তি নেমে এসেছে রাত্রিকালে ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা দুপুরে বিশ্রামরত অবস্থায়।

فَمَا كَانَ دَعۡوٰٮهُمۡ اِذۡ جَآءَهُمۡ بَاۡسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِيۡنَ‏

আর যখনই তাদের নিকট আমাদের শাস্তি এসে গেছে, তখনই তারা বলেছে ‘আমরা নিশ্চিতভাবে সীমালংঘনকারী ছিলাম’।

فَلَنَسۡــَٔــلَنَّ الَّذِيۡنَ اُرۡسِلَ اِلَيۡهِمۡ وَلَـنَسۡـَٔـــلَنَّ الۡمُرۡسَلِيۡنَۙ

অতঃপর আমরা যাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে এবং রাসূলগণকে অবশ্যই (ক্বিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসাবাদ করব।

فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيۡهِمۡ بِعِلۡمٍ وَّمَا كُنَّا غَآٮِٕبِيۡنَ‏

অতঃপর আমরা তাদের নিকট সবকিছু বর্ণনা করব পূর্ণজ্ঞান সহকারে। আর আমরা তো তাদের থেকে অনুপস্থিত ছিলাম না।

وَالۡوَزۡنُ يَوۡمَٮِٕذِ اۨلۡحَـقُّۚ فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِيۡنُهٗ فَاُولٰۤٮِٕكَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ‏

আর সেদিন ওযন হবে যথার্থ। অতঃপর যাদের নেকীর পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।

وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِيۡنُهٗ فَاُولٰۤٮِٕكَ الَّذِيۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ بِمَا كَانُوۡا بِاٰيٰتِنَا يَظۡلِمُوۡنَ‏

পক্ষান্তরে যাদের নেকীর পাল্লা হালকা হবে, তারা হবে সেইসব লোক, যারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করার ফলে নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করেছে।

وَلَقَدۡ مَكَّـنّٰكُمۡ فِى الۡاَرۡضِ وَجَعَلۡنَا لَـكُمۡ فِيۡهَا مَعَايِشَؕ قَلِيۡلًا مَّا تَشۡكُرُوۡنَ‏

আর আমরা তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য সেখানে জীবিকা সমূহ প্রদান করেছি। কিন্তু তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।

وَلَقَدۡ خَلَقۡنٰكُمۡ ثُمَّ صَوَّرۡنٰكُمۡ ثُمَّ قُلۡنَا لِلۡمَلٰۤٮِٕكَةِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَۖ  فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِيۡسَؕ لَمۡ يَكُنۡ مِّنَ السّٰجِدِيۡنَ‏ 

আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আকৃতি দান করেছি। অতঃপর ফেরেশতাদের বলেছি তোমরা আদমকে সিজদা কর। অতঃপর তারা সিজদা করেছে ইবলীস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

​قَالَ مَا مَنَعَكَ اَلَّا تَسۡجُدَ اِذۡ اَمَرۡتُكَؕ قَالَ اَنَا خَيۡرٌ مِّنۡهُۚ خَلَقۡتَنِىۡ مِنۡ نَّارٍ وَّخَلَقۡتَهٗ مِنۡ طِيۡنٍ‏

আল্লাহ বললেন, আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম, তখন কোন্ বস্ত্ত তোমাকে বাধা দিল যে তুমি সিজদা করলে না? সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।

قَالَ فَاهۡبِطۡ مِنۡهَا فَمَا يَكُوۡنُ لَـكَ اَنۡ تَتَكَبَّرَ فِيۡهَا فَاخۡرُجۡ اِنَّكَ مِنَ الصّٰغِرِيۡنَ‏

আল্লাহ বললেন, এখান থেকে তুমি নেমে যাও। এখানে তুমি অহংকার করবে, তা হবে না। অতএব তুমি বেরিয়ে যাও। তুমি লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।

قَالَ اَنۡظِرۡنِىۡۤ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَ‏

সে বলল, আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।

قَالَ اِنَّكَ مِنَ الۡمُنۡظَرِيۡنَ‏

আল্লাহ বললেন, তোমাকে অবকাশ দেওয়া হ’ল।

قَالَ فَبِمَاۤ اَغۡوَيۡتَنِىۡ لَاَقۡعُدَنَّ لَهُمۡ صِرَاطَكَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ ‏ 

সে বলল, যে (আদমের) কারণে আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেই আদম সন্তানদের (পথভ্রষ্ট করার) জন্য আমি অবশ্যই আপনার সরল পথের উপর ওঁৎ পেতে বসে থাকব।

ثُمَّ لَاَتِيَنَّهُمۡ مِّنۡۢ بَيۡنِ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِهِمۡ وَعَنۡ اَيۡمَانِهِمۡ وَعَنۡ شَمَآٮِٕلِهِمۡؕ وَلَاٰ تَجِدُ اَكۡثَرَهُمۡ شٰكِرِيۡنَ‏

অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসব তাদের সামনে ও পিছনে, ডাইনে ও বামে (সবদিক দিয়ে)। আর তখন আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।

قَالَ اخۡرُجۡ مِنۡهَا مَذۡءُوۡمًا مَّدۡحُوۡرًاؕ لَمَنۡ تَبِعَكَ مِنۡهُمۡ لَاَمۡلَــٴَــنَّ جَهَنَّمَ مِنۡكُمۡ اَجۡمَعِيۡنَ‏

আল্লাহ বললেন, তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায়। তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।

وَيٰۤاٰدَمُ اسۡكُنۡ اَنۡتَ وَزَوۡجُكَ الۡجَـنَّةَ فَـكُلَا مِنۡ حَيۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُوۡنَا مِنَ الظّٰلِمِيۡنَ‏

আর হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর যেখান থেকে খুশী তোমরা খাও। তবে এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না। তাহ’লে তোমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

فَوَسۡوَسَ لَهُمَا الشَّيۡطٰنُ لِيُبۡدِىَ لَهُمَا مَا وٗرِىَ عَنۡهُمَا مِنۡ سَوۡاٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهٰٮكُمَا رَبُّكُمَا عَنۡ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ اِلَّاۤ اَنۡ تَكُوۡنَا مَلَـكَيۡنِ اَوۡ تَكُوۡنَا مِنَ الۡخٰلِدِيۡنَ‏

অতঃপর শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল, যাতে যে লজ্জাস্থান তাদের পরস্পর থেকে গোপন ছিল তা প্রকাশ করে দিতে পারে। সে বলল, তোমাদের প্রতিপালক এই বৃক্ষ থেকে তোমাদের নিষেধ করেছেন কেবল এজন্য যে, তোমরা দু’জন ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা এখানে চিরস্থায়ী হয়ে যাবে।

وَقَاسَمَهُمَاۤ اِنِّىۡ لَـكُمَا لَمِنَ النّٰصِحِيۡنَۙ

আর সে উভয়ের নিকট শপথ করে বলল, আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাংখীদের অন্তর্ভুক্ত।

فَدَلّٰٮهُمَا بِغُرُوۡرٍۚ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتۡ لَهُمَا سَوۡءٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفٰنِ عَلَيۡهِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَـنَّةِؕ وَنَادٰٮهُمَا رَبُّهُمَاۤ اَلَمۡ اَنۡهَكُمَا عَنۡ تِلۡكُمَا الشَّجَرَةِ وَاَقُلْ لَّـكُمَاۤ اِنَّ الشَّيۡطٰنَ لَـكُمَا عَدُوٌّ مُّبِيۡنٌ‏

এভাবে সে তাদের দু’জনকে ধোঁকার মাধ্যমে ধ্বংসে নিক্ষেপ করল। অতঃপর যখন তারা উক্ত বৃক্ষের স্বাদ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়ল। ফলে তারা বাগিচার পাতাসমূহ দিয়ে তা ঢাকতে লাগল। এ সময় তাদের প্রতিপালক তাদের ডাক দিয়ে বললেন, আমি কি তোমাদের এই বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি? আর আমি কি তোমাদের একথা বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

قَالَا رَبَّنَا ظَلَمۡنَاۤ اَنۡفُسَنَا وَاِنۡ لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَـنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَـنَكُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِيۡنَ‏

(তখন) তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছি। এক্ষণে যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন ও দয়া না করেন, তাহ’লে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

قَالَ اهۡبِطُوۡا بَعۡضُكُمۡ لِبَـعۡضٍ عَدُوٌّۚ وَلَـكُمۡ فِى الۡاَرۡضِ مُسۡتَقَرٌّ وَّمَتَاعٌ اِلٰى حِيۡنٍ‏

তিনি বললেন, তোমরা নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। তোমাদের জন্য পৃথিবীতে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আবাসস্থল ও ভোগ্যবস্ত্ত সমূহ রইল।

قَالَ فِيۡهَا تَحۡيَوۡنَ وَفِيۡهَا تَمُوۡتُوۡنَ وَمِنۡهَا تُخۡرَجُوۡنَ‏

তিনি বললেন, সেখানেই তোমরা বাঁচবে ও মরবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের বের করে আনা হবে।

يٰبَنِىۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَيۡكُمۡ لِبَاسًا يُّوَارِىۡ سَوۡاٰتِكُمۡ وَرِيۡشًاؕ وَلِبَاسُ التَّقۡوٰىۙ ذٰ لِكَ خَيۡرٌؕ ذٰ لِكَ مِنۡ اٰيٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمۡ يَذَّكَّرُوۡنَ‏

হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের উপর পোষাক নাযিল করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান সমূহকে আবৃত করে এবং নাযিল করেছি বেশভূষার উপকরণ সমূহ। তবে আল্লাহভীতির পোষাকই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের অন্যতম। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

يٰبَنِىۡۤ اٰدَمَ لَا يَفۡتِنَـنَّكُمُ الشَّيۡطٰنُ كَمَاۤ اَخۡرَجَ اَبَوَيۡكُمۡ مِّنَ الۡجَـنَّةِ يَنۡزِعُ عَنۡهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوۡءاٰتِهِمَاؕ اِنَّهٗ يَرٰٮكُمۡ هُوَ وَقَبِيۡلُهٗ مِنۡ حَيۡثُ لَا تَرَوۡنَهُمۡؕ اِنَّا جَعَلۡنَا الشَّيٰطِيۡنَ اَوۡلِيَآءَ لِلَّذِيۡنَ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ‏

হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে। যেমন সে তোমাদের আদি পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদের থেকে তাদের পোষাক খুলে নিয়েছিল, যাতে সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাতে পারে। সে ও তার দল-বল তোমাদেরকে এমন স্থান থেকে দেখে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই শয়তানদের আমরা অবিশ্বাসী লোকদের বন্ধু বানিয়ে দিয়েছি।

وَاِذَا فَعَلُوۡا فَاحِشَةً قَالُوۡا وَجَدۡنَا عَلَيۡهَاۤ اٰبَآءَنَا وَاللّٰهُ اَمَرَنَا بِهَاؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰهَ لَا يَاۡمُرُ بِالۡفَحۡشَآءِؕ اَتَقُوۡلُوۡنَ عَلَى اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ‏

যখন তারা কোন অশ্লীল কর্ম করে তখন বলে, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এরূপ করতে দেখেছি এবং আল্লাহ আমাদের এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি বল, আল্লাহ কখনো অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আললাহ সম্পর্কে এমন কথা বলছ যা তোমরা জানো না?

قُلۡ اَمَرَ رَبِّىۡ بِالۡقِسۡطِ​ وَاَقِيۡمُوۡا وُجُوۡهَكُمۡ عِنۡدَ كُلِّ مَسۡجِدٍ وَّادۡعُوۡهُ مُخۡلِصِيۡنَ لَـهُ الدِّيۡنَؕ كَمَا بَدَاَكُمۡ تَعُوۡدُوۡنَؕ ‏ 

তুমি বল, আমার প্রভু আমাকে ন্যায়নিষ্ঠার আদেশ দিয়েছেন। আর নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রত্যেক ছালাতে তোমরা তোমাদের চেহারাকে (কা‘বার দিকে) নিবদ্ধ রাখ এবং পূর্ণ আনুগত্য সহকারে একনিষ্ঠভাবে তাঁকে ডাক। (মনে রেখ) তোমরা সেভাবে (আমার নিকট) ফিরে আসবে, যেভাবে তোমাদেরকে (দুনিয়ায়) প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল।

فَرِيۡقًا هَدٰى وَ فَرِيۡقًا حَقَّ عَلَيۡهِمُ الضَّلٰلَةُؕ اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيٰطِيۡنَ اَوۡلِيَآءَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَيَحۡسَبُوۡنَ اَنَّهُمۡ مُّهۡتَدُوۡنَ‏ 

এক দলকে আল্লাহ হেদায়াত দান করেছেন এবং আরেক দলের উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে এবং ভেবে নিয়েছে যে, তারা সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।

يٰبَنِىۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِيۡنَتَكُمۡ عِنۡدَ كُلِّ مَسۡجِدٍ وَّكُلُوۡا وَاشۡرَبُوۡا وَلَا تُسۡرِفُوۡاۚ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الۡمُسۡرِفِيۡنَ‏

হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক ছালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর। তোমরা খাও ও পান কর। কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালবাসেন না।

قُلۡ مَنۡ حَرَّمَ زِيۡنَةَ اللّٰهِ الَّتِىۡۤ اَخۡرَجَ لِعِبَادِهٖ وَالطَّيِّبٰتِ مِنَ الرِّزۡقِؕ قُلۡ هِىَ لِلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا فِى الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَا خَالِصَةً يَّوۡمَ الۡقِيٰمَةِؕ كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الۡاٰيٰتِ لِقَوۡمٍ يَّعۡلَمُوۡنَ‏

বলে দাও, আল্লাহ্র সৌন্দর্যের বস্ত্ত সমূহ, যা তিনি বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র জীবিকা সমূহ, কে হারাম করেছে? বলে দাও, এগুলি তো পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যই। আর বিশেষ করে ক্বিয়ামতের দিন। এভাবে আমরা আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।

قُلۡ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّىَ الۡـفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَمَا بَطَنَ وَ الۡاِثۡمَ وَالۡبَـغۡىَ بِغَيۡرِ الۡحَـقِّ وَاَنۡ تُشۡرِكُوۡا بِاللّٰهِ مَا لَمۡ يُنَزِّلۡ بِهٖ سُلۡطٰنًا وَّاَنۡ تَقُوۡلُوۡا عَلَى اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ‏ 

তুমি বল, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন এবং হারাম করেছেন সকল প্রকার পাপ ও অন্যায় বাড়াবাড়িকে। আর তোমরা আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করো না যে বিষয়ে তিনি কোন প্রমাণ নাযিল করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে তোমরা এমন কথা বলো না, যে বিষয়ে তোমরা জানো না।

وَلِكُلِّ اُمَّةٍ اَجَلٌۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمۡ لَا يَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَةً​ وَّلَا يَسۡتَقۡدِمُوۡنَ‏

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের সেই মেয়াদ এসে যাবে, তখন সেখান থেকে এক মুহূর্ত পিছাবেও না, আগাবেও না।

يٰبَنِىۡۤ اٰدَمَ اِمَّا يَاۡتِيَنَّكُمۡ رُسُلٌ مِّنۡكُمۡ يَقُصُّوۡنَ عَلَيۡكُمۡ اٰيٰتِىۡۙ فَمَنِ اتَّقٰى وَاَصۡلَحَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُوۡنَ‏ 

হে আদম সন্তান! যখন তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেন, যারা তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করে; তখন যে ব্যক্তি আল্লাহভীরু হয় ও নিজেকে সংশোধন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।

وَالَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَاسۡتَكۡبَرُوۡا عَنۡهَاۤ اُولٰۤٮِٕكَ اَصۡحٰبُ النَّارِۚ هُمۡ فِيۡهَا خٰلِدُوۡنَ‏

আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে এবং দম্ভ ভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَـرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا اَوۡ كَذَّبَ بِاٰيٰتِهٖؕ اُولٰۤٮِٕكَ يَنَالُهُمۡ نَصِيۡبُهُمۡ مِّنَ الۡـكِتٰبِؕ حَتّٰٓى اِذَا جَآءَتۡهُمۡ رُسُلُـنَا يَتَوَفَّوۡنَهُمۡۙ قَالُوۡۤا اَيۡنَ مَا كُنۡتُمۡ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِؕ قَالُوۡا ضَلُّوۡا عَنَّا وَشَهِدُوۡا عَلٰٓى اَنۡفُسِهِمۡ اَنَّهُمۡ كَانُوۡا كٰفِرِيۡنَ‏

অতঃপর তার চাইতে বড় যালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে? তাদের তাক্বদীরে যা লিখিত আছে, তা সত্বর তাদের নিকট পৌঁছে যাবে। অবশেষে যখন তাদের কাছে আমাদের দূতেরা (মালাকুল মউত) এসে যাবে তাদের জান কবয করার জন্য, তখন তারা বলবে, তারা এখন কোথায় যাদেরকে তোমরা ডাকতে আল্লাহকে ছেড়ে? তারা বলবে, তারা এখন আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে। এভাবে তারা নিজেরাই স্বীকারোক্তি করবে যে, তারা কাফের ছিল।

قَالَ ادۡخُلُوۡا فِىۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ فِى النَّارِؕ كُلَّمَا دَخَلَتۡ اُمَّةٌ لَّعَنَتۡ اُخۡتَهَاؕ حَتّٰۤى اِذَا ادَّارَكُوۡا فِيۡهَا جَمِيۡعًاۙ قَالَتۡ اُخۡرٰٮهُمۡ لِاُوۡلٰٮهُمۡ رَبَّنَا هٰٓؤُلَۤاءِ اَضَلُّوۡنَا فَاٰتِهِمۡ عَذَابًا ضِعۡفًا مِّنَ النَّارِ​ؕ قَالَ لِكُلٍّ ضِعۡفٌ وَّلٰـكِنۡ لَّا تَعۡلَمُوۡنَ‏

আল্লাহ বলবেন, তোমাদের পূর্বে জিন ও মানুষের যেসব দল বিগত হয়েছে, তাদের সাথে তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো। এভাবে যখন একদল প্রবেশ করবে, তখন তারা অন্য দলকে অভিশাপ দিবে। অবশেষে যখন সবাই সেখানে জমা হবে, তখন শেষের লোকেরা আগের লোকদের সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! ওরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। অতএব ওদেরকে আপনি দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন, প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ শাস্তি। কিন্তু তোমরা তা জানো না।

وَقَالَتۡ اُوۡلٰٮهُمۡ لِاُخۡرٰٮهُمۡ فَمَا كَانَ لَـكُمۡ عَلَيۡنَا مِنۡ فَضۡلٍ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا كُنۡتُمۡ تَكۡسِبُوۡنَ‏

তখন আগের লোকেরা পরের লোকদের বলবে, আমাদের উপর তোমাদের কোন প্রাধান্য নেই। অতএব তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ কর।

اِنَّ الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَاسۡتَكۡبَرُوۡا عَنۡهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ اَبۡوَابُ السَّمَآءِ وَلَا يَدۡخُلُوۡنَ الۡجَـنَّةَ حَتّٰى يَلِجَ الۡجَمَلُ فِىۡ سَمِّ الۡخِيَاطِؕ وَكَذٰلِكَ نَجۡزِى الۡمُجۡرِمِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে ও তা থেকে দম্ভ ভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দরজা সমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যে পর্যন্ত না সূঁচের ছিদ্রপথে উষ্ট্র প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমরা পাপীদের বদলা দিয়ে থাকি।

لَهُمۡ مِّنۡ جَهَـنَّمَ مِهَادٌ وَّمِنۡ فَوۡقِهِمۡ غَوَاشٍؕ وَكَذٰلِكَ نَجۡزِى الظّٰلِمِيۡنَ‏

তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের অগ্নিশয্যা ও তাদের উপরে থাকবে অগ্নির আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমরা যালেমদের বদলা দিয়ে থাকি।

وَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُـكَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَاۤ  اُولٰۤٮِٕكَ اَصۡحٰبُ الۡجَـنَّةِۚ هُمۡ فِيۡهَا خٰلِدُوۡنَ‏

পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, আর আমরা কারু সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেই না- তারা হ’ল জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

وَنَزَعۡنَا مَا فِىۡ صُدُوۡرِهِمۡ مِّنۡ غِلٍّ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهِمُ الۡاَنۡهٰرُۚ وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ هَدٰٮنَا لِهٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهۡتَدِىَ لَوۡلَاۤ اَنۡ هَدٰٮنَا اللّٰهُۚ لَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِالۡحَـقِّؕ وَنُوۡدُوۡۤا اَنۡ تِلۡكُمُ الۡجَـنَّةُ اُوۡرِثۡتُمُوۡهَا بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ‏ 

আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ অবশিষ্ট ছিল, সবটুকুই আমরা সেদিন বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে এবং তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদেরকে এ পথের হেদায়াত দান করেছিলেন। আর আল্লাহ হেদায়াত না করলে আমরা এ পথের হেদায়াত পেতাম না। আমাদের প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূলগণ তো সত্য নিয়েই আমাদের নিকটে এসেছিলেন। এ সময় তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, এটাই সেই জান্নাত যার উত্তরাধিকারী তোমাদের করা হয়েছে তোমাদের সৎকর্ম সমূহের প্রতিদান হিসাবে।

وَنَادٰٓى اَصۡحٰبُ الۡجَـنَّةِ اَصۡحٰبَ النَّارِ اَنۡ قَدۡ وَجَدۡنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلۡ وَجَدْتُّمۡ مَّا وَعَدَ رَبُّكُمۡ حَقًّاؕ قَالُوۡا نَـعَمۡۚ فَاَذَّنَ مُؤَذِّنٌۢ بَيۡنَهُمۡ اَنۡ لَّـعۡنَةُ اللّٰهِ عَلَى الظّٰلِمِيۡنَۙ ‏ 

তখন জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের ডেকে বলবে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সবই আমরা যথার্থভাবে পেয়েছি। এখন তোমরা কি তোমাদের প্রতিপালকের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথার্থভাবে পেয়েছ? তারা বলবে, হ্যাঁ। তখন তাদের একজন ঘোষক ঘোষণা দিবে যে, যালেমদের উপর আল্লাহ্র অভিসম্পাৎ।

الَّذِيۡنَ يَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِيۡلِ اللّٰهِ وَيَـبۡـغُوۡنَهَا عِوَجًاۚ وَهُمۡ بِالۡاٰخِرَةِ كٰفِرُوۡنَۘ

তারা আল্লাহ্র পথ থেকে মানুষকে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়াত। আর তারা আখেরাতকে অস্বীকার করত।

وَبَيۡنَهُمَا حِجَابٌۚ وَعَلَى الۡاَعۡرَافِ رِجَالٌ يَّعۡرِفُوۡنَ كُلًّاۢ بِسِيۡمٰٮهُمۡۚ وَنَادَوۡا اَصۡحٰبَ الۡجَـنَّةِ اَنۡ سَلٰمٌ عَلَيۡكُمۡ​ لَمۡ يَدۡخُلُوۡهَا وَهُمۡ يَطۡمَعُوۡنَ‏

উভয় দলের মাঝে একটা পর্দা থাকবে। আর আ‘রাফের উপর লোকেরা থাকবে। তারা প্রত্যেককে চিনবে তাদের (উজ্জ্বল ও মলিন) চেহারা দেখে। তারা তখন জান্নাতীদের ডেকে বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হৌক! তারা তখন জান্নাতে প্রবেশ করেনি। কিন্তু তার আকাংখা করবে।

وَاِذَا صُرِفَتۡ اَبۡصَارُهُمۡ تِلۡقَآءَ اَصۡحٰبِ النَّارِۙ قَالُوۡا رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ‏

আর যখন জাহান্নামবাসীদের দিকে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তখন তারা (আ‘রাফবাসীরা) বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে যালেম সম্প্রদায়ের সাথী করো না।

وَنَادٰٓى اَصۡحٰبُ الۡاَعۡرَافِ رِجَالًا يَّعۡرِفُوۡنَهُمۡ بِسِيۡمٰٮهُمۡ قَالُوۡا مَاۤ اَغۡنٰى عَنۡكُمۡ جَمۡعُكُمۡ وَمَا كُنۡتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُوۡنَ‏

আ‘রাফবাসীরা যাদের চেহারা দেখে চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে, তোমাদের জনবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসল না।

اَهٰٓؤُلَۤاءِ الَّذِيۡنَ اَقۡسَمۡتُمۡ لَا يَنَالُهُمُ اللّٰهُ بِرَحۡمَةٍؕ اُدۡخُلُوا الۡجَـنَّةَ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡكُمۡ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ تَحۡزَنُوۡنَ‏

(জবাবে জাহান্নাম বাসীরা বলবে) এরা কি তারাই, যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম করে বলতে যে, এদের প্রতি আল্লাহ দয়া করবেন না। তখন (আ‘রাফবাসীদের) বলা হবে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তান্বিত হবে না।

وَنَادٰٓى اَصۡحٰبُ النَّارِ اَصۡحٰبَ الۡجَـنَّةِ اَنۡ اَفِيۡضُوۡا عَلَيۡنَا مِنَ الۡمَآءِ اَوۡ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُؕ قَالُـوۡۤا اِنَّ اللّٰهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الۡـكٰفِرِيۡنَۙ

আর জাহান্নামবাসীরা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবে, আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ তোমাদের যেসব রিযিক দিয়েছেন, তা থেকে কিছু দাও। তারা বলবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ এ দুই বস্ত্ত অবিশ্বাসীদের উপর হারাম করেছেন।

الَّذِيۡنَ اتَّخَذُوۡا دِيۡنَهُمۡ لَهۡوًا وَّلَعِبًا وَّغَرَّتۡهُمُ الۡحَيٰوةُ الدُّنۡيَاۚ فَالۡيَوۡمَ نَنۡسٰٮهُمۡ كَمَا نَسُوۡا لِقَآءَ يَوۡمِهِمۡ هٰذَاۙ وَمَا كَانُوۡا بِاٰيٰتِنَا يَجۡحَدُوۡنَ‏

যারা তাদের দ্বীনকে খেল-তামাশার বস্ত্ততে পরিণত করেছিল এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলেছিল, আজ আমরা তাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তারা তাদের এ দিনের সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত।

وَلَقَدۡ جِئۡنٰهُمۡ بِكِتٰبٍ فَصَّلۡنٰهُ عَلٰى عِلۡمٍ هُدًى وَّرَحۡمَةً لِّـقَوۡمٍ يُّؤۡمِنُوۡنَ‏

আর নিশ্চিতভাবে আমরা তাদের (কুরায়েশদের) নিকট কিতাব (কুরআন) প্রেরণ করেছিলাম, যাতে আমরা বিশদভাবে বর্ণনা করেছিলাম পূর্ণ জ্ঞান সহকারে; বিশ্বাসীদের জন্য সুপথ প্রদর্শক ও রহমত হিসাবে।

هَلۡ يَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا تَاۡوِيۡلَهٗؕ يَوۡمَ يَاۡتِىۡ تَاۡوِيۡلُهٗ يَقُوۡلُ الَّذِيۡنَ نَسُوۡهُ مِنۡ قَبۡلُ قَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِالۡحَـقِّۚ فَهَلْ لَّـنَا مِنۡ شُفَعَآءَ فَيَشۡفَعُوۡا لَـنَاۤ اَوۡ نُرَدُّ فَنَعۡمَلَ غَيۡرَ الَّذِىۡ كُنَّا نَـعۡمَلُؕ قَدۡ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ وَضَلَّ عَنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا يَفۡتَرُوۡنَ‏ 

তারা কি তবে তার পরিণতির অপেক্ষা করছে? যেদিন সেই পরিণতি এসে যাবে, সেদিন যারা একথা ইতিপূর্বে ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব আমাদের জন্য কোন সুফারিশকারী আছেন কি যারা আমাদের জন্য সুফারিশ করবেন? অথবা আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠানো হবে, অতঃপর আমরা পূর্বে যা করেছি তার বিপরীতে সৎকর্ম করে আসতাম! বস্ত্তত তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যেসব মিথ্যা (শরীক) উদ্ভাবন করত, সবই (আজ) উধাও হয়ে গেছে।

اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ فِىۡ سِتَّةِ اَيَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰى عَلَى الۡعَرۡشِ يُغۡشِى الَّيۡلَ النَّهَارَ يَطۡلُبُهٗ حَثِيۡثًاۙ وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ وَالنُّجُوۡمَ مُسَخَّرٰتٍۢ بِاَمۡرِهٖؕ اَلَا لَـهُ الۡخَـلۡقُ وَالۡاَمۡرُؕ تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু আল্লাহ। যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর আরশে উন্নীত হয়েছেন। তিনি রাত্রি দ্বারা দিবসকে আচ্ছন্ন করেন এমনভাবে যে একে অপরকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি সবই তার হুকুমের অনুগত। মনে রেখ! সৃষ্টি ও আদেশের মালিক কেবল তিনিই। বিশ্বপালক আল্লাহ (শিরক হ’তে) মহাপবিত্র।

اُدۡعُوۡا رَبَّكُمۡ تَضَرُّعًا وَّخُفۡيَةًؕ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الۡمُعۡتَدِيۡنَۚ

তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাক বিনীত ভাবে ও চুপে চুপে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘনকারীদের ভালবাসেন না।

وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِى الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِهَا وَادۡعُوۡهُ خَوۡفًا وَّطَمَعًاؕ اِنَّ رَحۡمَتَ اللّٰهِ قَرِيۡبٌ مِّنَ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

তোমরা জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করো না শান্তি স্থাপনের পর। আর তোমরা তাঁকে ডাক ভয় ও আকাংখার সাথে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রহমত সৎকর্মশীলদের অতীব নিকটবর্তী।

وَهُوَ الَّذِىۡ يُرۡسِلُ الرِّيٰحَ بُشۡرًۢا بَيۡنَ يَدَىۡ رَحۡمَتِهٖؕ حَتّٰۤى اِذَاۤ اَقَلَّتۡ سَحَابًا ثِقَالًا سُقۡنٰهُ لِبَلَدٍ مَّيِّتٍ فَاَنۡزَلۡنَا بِهِ الۡمَآءَ فَاَخۡرَجۡنَا بِهٖ مِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِؕ كَذٰلِكَ نُخۡرِجُ الۡمَوۡتٰى لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُوۡنَ‏

তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন ঐ বায়ুরাশি ভারী মেঘে পূর্ণ হয়ে যায়, তখন আমরা তাকে কোন মৃত ভূখন্ডের দিকে হাঁকিয়ে নেই। অতঃপর ওটা থেকে বারি বর্ষণ করি। অতঃপর তার মাধ্যমে সকল প্রকার ফল-ফলাদি উৎপন্ন করি। এভাবেই আমরা (ক্বিয়ামতের দিন) মৃতদের জীবিত বের করে আনব। সম্ভবত এ থেকে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।

وَالۡبَلَدُ الطَّيِّبُ يَخۡرُجُ نَبَاتُهٗ بِاِذۡنِ رَبِّهٖۚ وَالَّذِىۡ خَبُثَ لَا يَخۡرُجُ اِلَّا نَكِدًاؕ كَذٰلِكَ نُصَرِّفُ الۡاٰيٰتِ لِقَوۡمٍ يَّشۡكُرُوۡنَ‏ 

বস্ত্তত উৎকৃষ্ট ভূমি তার প্রভুর নির্দেশে (খুব ভাল) ফসল উৎপন্ন করে। আর নিকৃষ্ট ভূমি তেমন ফসল উৎপন্ন করে না অল্প কিছু ব্যতীত। এভাবে আমরা কৃতজ্ঞ বান্দাদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি।

لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰى قَوۡمِهٖ فَقَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ اِنِّىۡۤ اَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍ‏ 

আমরা নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর সে তাদের বলল, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের উপর এক ভয়াবহ দিবসের শাস্তির আশংকা করছি।

قَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِهٖۤ اِنَّا لَـنَرٰٮكَ فِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍ‏ 

(জবাবে) তার কওমের নেতারা বলল, আমরা তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।

قَالَ يٰقَوۡمِ لَـيۡسَ بِىۡ ضَلٰلَةٌ وَّلٰـكِنِّىۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏ 

সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোন ভ্রান্তি নেই। বরং আমি বিশ্বপালকের একজন রাসূল মাত্র।

اُبَلِّغُكُمۡ رِسٰلٰتِ رَبِّىۡ وَاَنۡصَحُ لَـكُمۡ وَاَعۡلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ‏

আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম সমূহ পৌঁছে দেই ও তোমাদেরকে উপদেশ দেই। আর আমি আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে যা জানি তোমরা তা জানো না।

اَوَعَجِبۡتُمۡ اَنۡ جَآءَكُمۡ ذِكۡرٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ عَلٰى رَجُلٍ مِّنۡكُمۡ لِيُنۡذِرَكُمۡ وَلِتَـتَّقُوۡا وَلَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ‏

তোমরা কি এতে বিস্মিত হয়েছ যে, তোমাদের সতর্ক করার জন্য তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন ব্যক্তির নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে উপদেশবাণী এসেছে? যাতে তোমরা সতর্ক হও ও তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।

فَكَذَّبُوۡهُ فَاَنۡجَيۡنٰهُ وَالَّذِيۡنَ مَعَهٗ فِى الۡفُلۡكِ وَاَغۡرَقۡنَا الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَاؕ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا قَوۡمًا عَمِيۡنَ‏

অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ফলে আমরা তাকে ও তার সাথী যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে উদ্ধার করলাম এবং যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। বস্ত্তত তারা ছিল জ্ঞানান্ধ সম্প্রদায়।

وَاِلٰى عَادٍ اَخَاهُمۡ هُوۡدًاؕ قَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ‏

আর আমরা ‘আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে প্রেরণ করেছিলাম। সে তাদের বলল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। এর পরেও কি তোমরা সতর্ক হবে না?

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖۤ اِنَّا لَــنَرٰٮكَ فِىۡ سَفَاهَةٍ وَّاِنَّا لَــنَظُنُّكَ مِنَ الۡـكٰذِبِيۡنَ‏

তখন তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী নেতারা বলল, আমরা অবশ্যই তোমাকে একজন নির্বোধ মনে করছি এবং তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন বলে ধারণা করছি।

قَالَ يٰقَوۡمِ لَـيۡسَ بِىۡ سَفَاهَةٌ وَّلٰـكِنِّىۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏

সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই। বরং আমি বিশ্বপালকের প্রেরিত একজন রাসূল মাত্র।

اُبَلِّغُكُمۡ رِسٰلٰتِ رَبِّىۡ وَاَنَا لَـكُمۡ نَاصِحٌ اَمِيۡنٌ‏

আমি তোমাদের নিকট আমার প্রতিপালকের পয়গামসমূহ পৌঁছে দেই এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাংখী।

اَوَعَجِبۡتُمۡ اَنۡ جَآءَكُمۡ ذِكۡرٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ عَلٰى رَجُلٍ مِّنۡكُمۡ لِيُنۡذِرَكُمۡؕ وَاذۡكُرُوۡۤا اِذۡ جَعَلَـكُمۡۚ خُلَفَآءَ مِنۡۢ بَعۡدِ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّزَادَكُمۡ فِى الۡخَـلۡقِ بَصۜ ۡطَةً​​ فَاذۡكُرُوۡۤا اٰ لَۤاءَ اللّٰهِ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ‏

তোমরা কি এতে বিস্মিত হয়েছ যে, তোমাদের সতর্ক করার জন্য তোমাদেরই মধ্যকার একজন ব্যক্তির নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশবাণী এসেছে? তোমরা স্মরণ কর, যখন নূহের সম্প্রদায়ের পর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতিতে বিশালবপু করেছেন। অতএব তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহসমূহ স্মরণ কর যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার।

قَالُـوۡۤا اَجِئۡتَنَا لِنَعۡبُدَ اللّٰهَ وَحۡدَهٗ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَاۚ فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِيۡنَ‏

তারা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট কেবল এজন্য আগমন করেছ যে আমরা একমাত্র আল্লাহকেই ইবাদত করব ও বাকীদের বর্জন করব যাদেরকে আমাদের বাপ-দাদারা পূজা করত? তাহ’লে তুমি আমাদের যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো যদি তুমি সত্যবাদী হও।

قَالَ قَدۡ وَقَعَ عَلَيۡكُمۡ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ رِجۡسٌ وَّغَضَبٌؕ اَتُجَادِلُوۡنَنِىۡ فِىۡۤ اَسۡمَآءٍ سَمَّيۡتُمُوۡهَاۤ اَنۡـتُمۡ وَاٰبَآؤُكُمۡ مَّا نَزَّلَ اللّٰهُ بِهَا مِنۡ سُلۡطٰنٍؕ فَانْتَظِرُوۡۤا اِنِّىۡ مَعَكُمۡ مِّنَ الۡمُنۡتَظِرِيۡنَ‏ 

সে বলল, তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের শাস্তি ও ক্রোধ অবধারিত হয়ে গেছে। তোমরা আমার সাথে ঐসব নাম নিয়ে কেন বিতর্ক করছ, যেসবের নামকরণ তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা করেছ, যে বিষয়ে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি? অতএব তোমরা (শাস্তির) অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

فَاَنۡجَيۡنٰهُ وَالَّذِيۡنَ مَعَهٗ بِرَحۡمَةٍ مِّنَّا وَ قَطَعۡنَا دَابِرَ الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا​ وَمَا كَانُوۡا مُؤۡمِنِيۡنَ‏

অতঃপর আমরা তাকে (হূদকে) ও তার সাথীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে উদ্ধার করলাম এবং যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছিল, তাদের মূলোৎপাটন করে দিলাম। বস্ত্তত তারা বিশ্বাসী ছিল না।

وَاِلٰى ثَمُوۡدَ اَخَاهُمۡ صٰلِحًاۘ قَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوۡا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ قَدۡ جَآءَتۡكُمۡ بَيِّنَةٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡؕ هٰذِهٖ نَاقَةُ اللّٰهِ لَـكُمۡ اٰيَةً​ فَذَرُوۡهَا تَاۡكُلۡ فِىۡۤ اَرۡضِ اللّٰهِ​ وَلَا تَمَسُّوۡهَا بِسُوۡٓءٍ فَيَاۡخُذَكُمۡ عَذَابٌ اَ لِيۡمٌ‏

আর আমরা ছামূদ জাতির নিকট তাদের ভাই ছালেহকে প্রেরণ করেছিলাম। সে তাদের বলল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহ্র উষ্ট্রী, যা তোমাদের জন্য সেই নিদর্শন। অতএব তোমরা ওকে ছেড়ে দাও আল্লাহ্র যমীনে চরে বেড়াক। একে মন্দ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করবে না। তাহ’লে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে।

وَاذۡكُرُوۡۤا اِذۡ جَعَلَـكُمۡ خُلَفَآءَ مِنۡۢ بَعۡدِ عَادٍ وَّبَوَّاَكُمۡ فِى الۡاَرۡضِ تَـتَّخِذُوۡنَ مِنۡ سُهُوۡلِهَا قُصُوۡرًا وَّتَـنۡحِتُوۡنَ الۡجِبَالَ بُيُوۡتًاۚ فَاذۡكُرُوۡۤا اٰ لَۤاءَ اللّٰهِ وَلَا تَعۡثَوۡا فِى الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِيۡنَ‏ 

তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে ‘আদ জাতির পরে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ সমূহ এবং পাহাড় কেটে আবাসগৃহ সমূহ নির্মাণ করেছ। অতএব তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহসমূহ স্মরণ কর এবং জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করো না।

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِيۡنَ اسۡتَكۡبَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖ لِلَّذِيۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِمَنۡ اٰمَنَ مِنۡهُمۡ اَتَعۡلَمُوۡنَ اَنَّ صٰلِحًا مُّرۡسَلٌ مِّنۡ رَّبِّهٖؕ قَالُـوۡۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلَ بِهٖ مُؤۡمِنُوۡنَ‏

অতঃপর তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতারা দুর্বল মুমিনদের জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি বিশ্বাস কর যে, ছালেহ তার প্রভুর পক্ষ হ’তে প্রেরিত পুরুষ? তারা বলল, নিশ্চয়ই; তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তাতে বিশ্বাস করি।

قَالَ الَّذِيۡنَ اسۡتَكۡبَرُوۡۤا اِنَّا بِالَّذِىۡۤ اٰمَنۡتُمۡ بِهٖ كٰفِرُوۡنَ‏ 

তখন দাম্ভিক নেতারা বলল, তোমরা যাতে বিশ্বাস স্থাপন কর, আমরা তাতে অবিশ্বাস করি।

فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوۡا عَنۡ اَمۡرِ رَبِّهِمۡ وَ قَالُوۡا يٰصٰلِحُ ائۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَ‏

অতঃপর তারা উষ্ট্রীটিকে হত্যা করল ও তাদের প্রতিপালকের নির্দেশ অমান্য করল এবং বলল, হে ছালেহ! এবার তুমি যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছিলে তা নিয়ে এস, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক।

فَاَخَذَتۡهُمُ الرَّجۡفَةُ فَاَصۡبَحُوۡا فِىۡ دَارِهِمۡ جٰثِمِيۡنَ‏

অতঃপর কঠিন ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করল এবং তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে পড়ে রইল।

فَتَوَلّٰى عَنۡهُمۡ وَقَالَ يٰقَوۡمِ لَقَدۡ اَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَالَةَ رَبِّىۡ وَنَصَحۡتُ لَـكُمۡ وَلٰـكِنۡ لَّا تُحِبُّوۡنَ النّٰصِحِيۡنَ‏

অতঃপর ছালেহ (গযব নাযিলের আগেই) বেরিয়ে গেল এবং স্বীয় কওমের উদ্দেশ্যে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের নিকট আমার প্রভুর বাণী পৌঁছে দিয়েছি ও তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছি। কিন্তু তোমরা উপদেশ দানকারীদের ভালবাস না।

وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمۡ بِهَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنَ الۡعٰلَمِيۡنَ‏

আর (আমরা পাঠিয়েছিলাম) লূতকে। যখন সে তার জাতিকে বলল, তোমরা এমন অশ্লীল কর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে জগদ্বাসীর কেউ করেনি।

اِنَّكُمۡ لَـتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَهۡوَةً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِؕ بَلۡ اَنۡـتُمۡ قَوۡمٌ مُّسۡرِفُوۡنَ‏

তোমরা নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের প্রতি উপগত হচ্ছ। বরং তোমরা হ’লে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।

وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوۡمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُـوۡۤا اَخۡرِجُوۡهُمۡ مِّنۡ قَرۡيَتِكُمۡۚ اِنَّهُمۡ اُنَاسٌ يَّتَطَهَّرُوۡنَ‏

এতে তার সম্প্রদায়ের লোকদের এটা ব্যতীত কোন জবাব ছিল না যে, তোমরা এদেরকে তোমাদের নগরী থেকে বের করে দাও। এরা বড়ই পবিত্র থাকতে চায়।

فَاَنۡجَيۡنٰهُ وَاَهۡلَهٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَهٗۖ  كَانَتۡ مِنَ الۡغٰبِرِيۡنَ‏ 

অতঃপর আমরা তাকে ও তার পরিবারকে বাঁচিয়ে দিলাম। তবে তার স্ত্রী ব্যতীত। কেননা সে ছিল ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

وَاَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِمۡ مَّطَرًاؕ فَانْظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُجۡرِمِيۡنَ‏ 

অতঃপর আমরা তাদের উপর (প্রস্তর) বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। অতএব তুমি দেখ পাপিষ্ঠদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।

وَاِلٰى مَدۡيَنَ اَخَاهُمۡ شُعَيۡبًاؕ قَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗؕ قَدۡ جَآءَتۡكُمۡ بَيِّنَةٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ​ فَاَوۡفُوا الۡكَيۡلَ وَالۡمِيۡزَانَ وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡيَآءَهُمۡ وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِى الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِهَاؕ ذٰ لِكُمۡ خَيۡرٌ لَّـكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَۚ

আর আমরা মাদিয়ানের প্রতি তাদের ভাই শো‘আয়েবকে প্রেরণ করেছিলাম। সে বলল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের নিকটে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওযন পূর্ণ কর এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্ত্ত কম দিয়ো না। আর শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তোমরা জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করো না। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।

وَلَا تَقۡعُدُوۡا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوۡعِدُوۡنَ وَتَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِيۡلِ اللّٰهِ مَنۡ اٰمَنَ بِهٖ وَتَبۡغُوۡنَهَا عِوَجًاۚ وَاذۡكُرُوۡۤا اِذۡ كُنۡتُمۡ قَلِيۡلًا فَكَثَّرَكُمۡ​وَانْظُرُوۡا كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُفۡسِدِيۡنَ‏

আর তোমরা প্রত্যেক রাস্তায় এজন্য ওঁৎ পেতে বসে থেকোনা যে, ঈমানদারগণকে ভয় দেখাবে ও তাদেরকে আল্লাহ্র পথ থেকে বাধা দিবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। আর স্মরণ কর যখন তোমরা সংখ্যায় কম ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিলেন। আর দেখ অনর্থ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছে।

وَاِنۡ كَانَ طَآٮِٕفَةٌ مِّنۡكُمۡ اٰمَنُوۡا بِالَّذِىۡۤ اُرۡسِلۡتُ بِهٖ وَطَآٮِٕفَةٌ لَّمۡ يُؤۡمِنُوۡا فَاصۡبِرُوۡا حَتّٰى يَحۡكُمَ اللّٰهُ بَيۡنَنَاۚ وَهُوَ خَيۡرُ الۡحٰكِمِيۡنَ‏

আর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা যদি তোমাদের একদল বিশ্বাস করে ও একদল অবিশ্বাস করে, তাহ’লে তোমরা ধৈর্যধারণ কর যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দেন। কারণ তিনিই হ’লেন শ্রেষ্ঠ ফায়ছালাকারী।

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِيۡنَ اسۡتَكۡبَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖ لَـنُخۡرِجَنَّكَ يٰشُعَيۡبُ وَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَكَ مِنۡ قَرۡيَتِنَاۤ اَوۡ لَـتَعُوۡدُنَّ فِىۡ مِلَّتِنَاؕ قَالَ اَوَلَوۡ كُنَّا كَارِهِيۡنَۚ

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতারা বলল, হে শো‘আয়েব! আমরা অবশ্যই তোমাকে ও তোমার সাথী ঈমানদারগণকে আমাদের এই শহর থেকে বের করে দেব। অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে। সে বলল, আমরা তাতে অনিচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও?

قَدِ افۡتَرَيۡنَا عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا اِنۡ عُدۡنَا فِىۡ مِلَّتِكُمۡ بَعۡدَ اِذۡ نَجّٰٮنَا اللّٰهُ مِنۡهَاؕ وَمَا يَكُوۡنُ لَـنَاۤ اَنۡ نَّعُوۡدَ فِيۡهَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ يَّشَآءَ اللّٰهُ رَبُّنَاؕ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَىۡءٍ عِلۡمًاؕ عَلَى اللّٰهِ تَوَكَّلۡنَاؕ رَبَّنَا افۡتَحۡ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَ قَوۡمِنَا بِالۡحَـقِّ وَاَنۡتَ خَيۡرُ الۡفٰتِحِيۡنَ‏

আমরা আল্লাহ্র উপরে মিথ্যারোপকারী হব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাই, তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দেয়ার পর। আর আল্লাহ না চাইলে ওতে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্ত্তকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহ্র উপরেই আমরা ভরসা করি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি যথার্থ ফায়ছালা করে দাও। আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ ফায়ছালাকারী।

وَقَالَ الۡمَلَاُ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖ لَٮِٕنِ اتَّبَعۡتُمۡ شُعَيۡبًا اِنَّكُمۡ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَ‏

তখন তার কওমের অবিশ্বাসী নেতারা লোকদের বলল, যদি তোমরা শো‘আয়েবের অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতভাবে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

فَاَخَذَتۡهُمُ الرَّجۡفَةُ فَاَصۡبَحُوۡا فِىۡ دَارِهِمۡ جٰثِمِيۡنَۛۙۚۖ

অতঃপর প্রবল এক ভূকম্পন তাদের পাকড়াও করল। ফলে তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে পড়ে রইল।

الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا شُعَيۡبًا كَاَنۡ لَّمۡ يَغۡنَوۡا فِيۡهَاۛۚ اَ لَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا شُعَيۡبًا كَانُوۡا هُمُ الۡخٰسِرِيۡنَ​​‏

ফলে শো‘আয়েব-এর প্রতি মিথ্যারোপকারীদের অবস্থা এমন হ’ল যেন তারা ইতিপূর্বে কখনো সেখানে বসবাস করেনি। বস্ত্তত যারা শো‘আয়েবকে মিথ্যা বলেছিল, তারাই হ’ল ক্ষতিগ্রস্ত।

فَتَوَلّٰى عَنۡهُمۡ وَقَالَ يٰقَوۡمِ لَقَدۡ اَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسٰلٰتِ رَبِّىۡ وَنَصَحۡتُ لَـكُمۡۚ فَكَيۡفَ اٰسٰی عَلٰى قَوۡمٍ كٰفِرِيۡنَ‏

অতঃপর শো‘আয়েব (গযব আসার পূর্বে) সেখান থেকে প্রস্থান করল এবং বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদেরকে আমার প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি ও তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছি। এক্ষণে আমি কিভাবে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আক্ষেপ করতে পারি?

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِىۡ قَرۡيَةٍ مِّنۡ نَّبِىٍّ اِلَّاۤ اَخَذۡنَاۤ اَهۡلَهَا بِالۡبَاۡسَآءِ وَالضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمۡ يَضَّرَّعُوۡنَ‏

আর যখন কোন জনপদে আমরা কোন নবী প্রেরণ করি, তখন সেখানকার অধিবাসীদের আমরা নানারূপ কষ্টে ও বিপদে ফেলি, যাতে তারা বিনয়ী হয়।

ثُمَّ بَدَّلۡـنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الۡحَسَنَةَ حَتّٰى عَفَوْا وَّقَالُوۡا قَدۡ مَسَّ اٰبَآءَنَا الضَّرَّآءُ وَالسَّرَّآءُ فَاَخَذۡنٰهُمۡ بَغۡتَةً وَّهُمۡ لَا يَشۡعُرُوۡنَ‏

অতঃপর আমরা তাদের দুরবস্থাকে উত্তম অবস্থায় বদলে দেই। ফলে তারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয়। তখন তারা বলে, আমাদের বাপ-দাদাদেরও এরূপ কষ্ট ও আনন্দ স্পর্শ করেছিল। ফলে আমরা তাদেরকে আকস্মিকভাবে পাকড়াও করি এমনভাবে যে, তারা বুঝতেও পারে না।

وَلَوۡ اَنَّ اَهۡلَ الۡقُرٰٓى اٰمَنُوۡا وَاتَّقَوۡا لَـفَتَحۡنَا عَلَيۡهِمۡ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ وَلٰـكِنۡ كَذَّبُوۡا فَاَخَذۡنٰهُمۡ بِمَا كَانُوۡا يَكۡسِبُوۡنَ‏

অথচ জনপদের অধিবাসীরা যদি বিশ্বাস স্থাপন করত ও আল্লাহভীরু হ’ত, তাহ’লে আমরা তাদের উপর আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের দুয়ারসমূহ খুলে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করল। ফলে তাদের কৃতকর্মের দরুণ আমরা তাদেরকে পাকড়াও করলাম।

اَفَاَمِنَ اَهۡلُ الۡـقُرٰٓى اَنۡ يَّاۡتِيَهُمۡ بَاۡسُنَا بَيَاتًا وَّهُمۡ نَآٮِٕمُوۡنَؕ

তাহ’লে জনপদের অধিবাসীরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, আমাদের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হবে না রাত্রিকালে ঘুমন্ত অবস্থায়?

اَوَاَمِنَ اَهۡلُ الۡقُرٰٓى اَنۡ يَّاۡتِيَهُمۡ بَاۡسُنَا ضُحًى وَّهُمۡ يَلۡعَبُوۡنَ‏ 

অথবা জনপদের অধিবাসীরা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, আমাদের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হবে না দিনের বেলা খেল-তামাশায় মত্ত থাকা অবস্থায়?

اَفَاَمِنُوۡا مَكۡرَ اللّٰهِۚ فَلَا يَاۡمَنُ مَكۡرَ اللّٰهِ اِلَّا الۡقَوۡمُ الۡخٰسِرُوۡنَ‏

তারা কি তাহ’লে আল্লাহ্র পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্ত্তত আল্লাহ্র পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হয় কেবল ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়।

اَوَلَمۡ يَهۡدِ لِلَّذِيۡنَ يَرِثُوۡنَ الۡاَرۡضَ مِنۡۢ بَعۡدِ اَهۡلِهَاۤ اَنۡ لَّوۡ نَشَآءُ اَصَبۡنٰهُمۡ بِذُنُوۡبِهِمۡۚ وَنَطۡبَعُ عَلٰى قُلُوۡبِهِمۡ فَهُمۡ لَا يَسۡمَعُوۡنَ‏

কোন এলাকার লোকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেখানকার পরবর্তী লোকদের নিকট কি একথা পরিষ্কার হয়নি যে, আমরা ইচ্ছা করলে তাদেরকেও তাদের পাপের কারণে শাস্তি দিতে পারি এবং তাদের অন্তরগুলিতে মোহর মেরে দিতে পারি? ফলে তারা আর উপদেশ শুনতে পাবে না।

تِلۡكَ الۡقُرٰى نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ اَنۡۢبَآٮِٕهَاۚ وَلَقَدۡ جَآءَتۡهُمۡ رُسُلُهُمۡ بِالۡبَيِّنٰتِۚ فَمَا كَانُوۡا لِيُؤۡمِنُوۡا بِمَا كَذَّبُوۡا مِنۡ قَبۡلُؕ كَذٰلِكَ يَطۡبَعُ اللّٰهُ عَلٰى قُلُوۡبِ الۡكٰفِرِيۡنَ‏

ঐ জনপদগুলির কিছু বৃত্তান্ত আমরা তোমার নিকট বর্ণনা করছি। বস্ত্তত তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইতিপূর্বে তারা যে বিষয়ে মিথ্যারোপ করেছিল, তার উপরে তারা বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিল না। এভাবেই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।

وَمَا وَجَدۡنَا لِاَكۡثَرِهِمۡ مِّنۡ عَهۡدٍۚ وَاِنۡ وَّجَدۡنَاۤ اَكۡثَرَهُمۡ لَفٰسِقِيۡنَ‏

আমরা তাদের অধিকাংশকে অঙ্গীকারের উপর পাইনি। বরং তাদের অধিকাংশকে আমরা অবশ্যই পাপাচারী হিসাবে পেয়েছি।

ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ مُّوۡسٰى بِاٰيٰتِنَاۤ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۟ئِهٖ فَظَلَمُوۡا بِهَاۚ فَانْظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُفۡسِدِيۡنَ‏

অতঃপর আমরা তাদের পর মূসাকে নিদর্শনাবলীসহ ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গের নিকট পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা সেগুলিকে অস্বীকার করল। অতএব তুমি দেখ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।

وَ قَالَ مُوۡسٰى يٰفِرۡعَوۡنُ اِنِّىۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ ‏ 

আর মূসা বলল, হে ফেরাঊন! আমি বিশ্বপালকের পক্ষ হ’তে প্রেরিত একজন রাসূল।

حَقِيۡقٌ عَلٰٓى اَنۡ لَّاۤ اَقُوۡلَ عَلَى اللّٰهِ اِلَّا الۡحَـقَّؕ قَدۡ جِئۡـتُكُمۡ بِبَيِّنَةٍ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ فَاَرۡسِلۡ مَعِىَ بَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَؕ

আমার উপর ওয়াজিব হ’ল, আমি আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত কিছুই বলব না। আমি তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আগমন করেছি। অতএব তুমি আমার সাথে বনু ইস্রাঈলদের পাঠিয়ে দাও।

قَالَ اِنۡ كُنۡتَ جِئۡتَ بِاٰيَةٍ فَاۡتِ بِهَاۤ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِيۡنَ‏ 

ফেরাঊন বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তবে তা নিয়ে এস, যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক।

فَاَلۡقٰى عَصَاهُ فَاِذَا هِىَ ثُعۡبَانٌ مُّبِيۡنٌۖۚ

তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং সাথে সাথে তা একটি প্রকাশ্য বিরাটকায় সাপে পরিণত হ’ল।

وَّنَزَعَ يَدَهٗ فَاِذَا هِىَ بَيۡضَآءُ لِلنّٰظِرِيۡنَ‏

অতঃপর সে (বগলের নীচ থেকে) তার হস্ততালু টেনে বের করল। সাথে সাথে তা দর্শকদের সামনে প্রদীপ্ত হয়ে দেখা দিল।

قَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِيۡمٌۙ

এ দেখে ফেরাঊনের কওমের নেতারা বলে উঠল, নিশ্চয়ই লোকটি একজন বিজ্ঞ জাদুকর।

يُّرِيۡدُ اَنۡ يُّخۡرِجَكُمۡ مِّنۡ اَرۡضِكُمۡۚ فَمَاذَا تَاۡمُرُوۡنَ‏

(ফেরাঊন বলল) সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা কি পরামর্শ দিচ্ছ?

قَالُوْۤا اَرْجِهْ وَاخَاہُ وَاَرْسِلْ فِی الْمَدَآٮِٕنِ حٰشِرِیْنَۙ

তারা বলল, তাকে ও তার ভাই (হারূণকে) কিছু দিনের জন্য অবকাশ দিন। আর শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারীদের পাঠিয়ে দিন।

يَاۡتُوۡكَ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِيۡمٍ‏

যারা আপনার নিকট বিজ্ঞ জাদুকরদের উপস্থিত করবে।

وَجَآءَ السَّحَرَةُ فِرۡعَوۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ لَـنَا لَاَجۡرًا اِنۡ كُنَّا نَحۡنُ الۡغٰلِبِيۡنَ‏

অতঃপর জাদুকররা ফেরাঊনের কাছে এলো এবং বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তাহ’লে নিশ্চয়ই আমাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে?

قَالَ نَـعَمۡ وَاِنَّكُمۡ لَمِنَ الۡمُقَرَّبِيۡنَ‏

সে বলল, হ্যাঁ। নিশ্চয়ই তখন তোমরা হবে আমার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত।

قَالُوۡا يٰمُوۡسٰٓى اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِىَ وَاِمَّاۤ اَنۡ نَّكُوۡنَ نَحۡنُ الۡمُلۡقِيۡنَ‏

অতঃপর জাদুকররা বলল, হে মূসা! হয় তুমি প্রথমে নিক্ষেপ কর, না হয় আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি।

قَالَ اَلۡقُوۡاۚ فَلَمَّاۤ اَلۡقَوۡا سَحَرُوۡۤا اَعۡيُنَ النَّاسِ وَاسۡتَرۡهَبُوۡهُمۡ وَجَآءُوۡ بِسِحۡرٍ عَظِيۡمٍ‏

মূসা বলল, তোমরাই প্রথমে নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন তারা (তাদের রশি ও লাঠি) নিক্ষেপ করল, তখন তারা লোকদের দৃষ্টিসমূহ জাদুগ্রস্ত করে ফেলল ও তাদেরকে ভীত করল এবং এভাবে তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল।

وَاَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰى مُوۡسٰٓى اَنۡ اَلۡقِ عَصَاكَۚ فَاِذَا هِىَ تَلۡقَفُ مَا يَاۡفِكُوۡنَۚ

অতঃপর আমরা মূসাকে অহি করলাম যে, তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর তা সহসাই তাদের জাদুকৃত সবকিছুকে গ্রাস করতে লাগল।

فَوَقَعَ الۡحَـقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوۡا يَعۡمَلُوۡنَۚ

অতঃপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হ’ল এবং তাদের বানোয়াট সব জাদুকর্ম মিথ্যা হয়ে গেল।

فَغُلِبُوۡا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوۡا صٰغِرِيۡنَۚ

ফলে তারা সেখানেই পরাজিত হ’ল এবং তারা (ফেরাঊন ও তার দলবল) অপমানিত হয়ে ফিরে গেল।

وَ اُلۡقِىَ السَّحَرَةُ سٰجِدِيۡنَۙ

আর জাদুকররা সিজদায় পড়ে গেল।

قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ

তারা বলল, আমরা বিশ্বপালকের উপর ঈমান আনলাম।

رَبِّ مُوۡسٰى وَهٰرُوۡنَ‏

যিনি মূসা ও হারূণের প্রতিপালক।

قَالَ فِرۡعَوۡنُ اٰمَنۡتُمۡ بِهٖ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَـكُمۡۚ اِنَّ هٰذَا لَمَكۡرٌ مَّكَرۡتُمُوۡهُ فِى الۡمَدِيۡنَةِ لِتُخۡرِجُوۡا مِنۡهَاۤ اَهۡلَهَاۚ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ‏

ফেরাঊন বলল, আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তার উপর ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই এটি একটি ষড়যন্ত্র, যা তোমরা পাকিয়েছ শহরবাসীদের এখান থেকে বের করে দেয়ার জন্য। অতএব সত্বর তোমরা এর পরিণতি টের পাবে।

لَاُقَطِّعَنَّ اَيۡدِيَكُمۡ وَاَرۡجُلَكُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ ثُمَّ لَاُصَلِّبَنَّكُمۡ اَجۡمَعِيۡنَ‏

অবশ্যই আমি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব। অতঃপর তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।

قَالُـوۡۤا اِنَّاۤ اِلٰى رَبِّنَا مُنۡقَلِبُوۡنَۚ

তারা বলল, (তাহ’লে) অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যাব।

وَمَا تَـنۡقِمُ مِنَّاۤ اِلَّاۤ اَنۡ اٰمَنَّا بِاٰيٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتۡنَاؕ رَبَّنَاۤ اَفۡرِغۡ عَلَيۡنَا صَبۡرًا وَّتَوَفَّنَا مُسۡلِمِيۡنَ‏

তুমি তো আমাদের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছ এ কারণে যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি, যখন তাঁর নিদর্শনসমূহ আমাদের নিকটে এসে গেছে। অতএব হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের উপর ধৈর্যের দুয়ার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দান কর।

وَقَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ اَتَذَرُ مُوۡسٰى وَقَوۡمَهٗ لِيُفۡسِدُوۡا فِى الۡاَرۡضِ وَيَذَرَكَ وَاٰلِهَتَكَؕ قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبۡنَآءَهُمۡ وَنَسۡتَحۡىٖ نِسَآءَهُمۡۚ وَاِنَّا فَوۡقَهُمۡ قَاهِرُوۡنَ‏

ফেরাঊন গোত্রের নেতারা তাকে বলল, আপনি কি মূসা ও তার কওমকে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদেরকে বর্জন করতে ছেড়ে দিবেন? সে বলল, অচিরেই আমরা ওদের পুত্র সন্তানদের টুকরা টুকরা করে হত্যা করব ও কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখব। আর আমরা তো ওদের উপর প্রবল আছিই।

قَالَ مُوۡسٰى لِقَوۡمِهِ اسۡتَعِيۡنُوۡا بِاللّٰهِ وَاصۡبِرُوۡاۚ اِنَّ الۡاَرۡضَ لِلّٰهِۙ  يُوۡرِثُهَا مَنۡ يَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖؕ وَالۡعَاقِبَةُ لِلۡمُتَّقِيۡنَ‏ 

তখন মূসা তার কওমের লোকদের বলল, তোমরা আল্লাহ্র নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর ও ধৈর্যধারণ কর। এই পৃথিবীর মালিকানা আল্লাহ্র। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান এর উত্তরাধিকারী করেন। আর শুভ পরিণাম কেবল আল্লাহভীরুদের জন্যই।

قَالُـوۡۤا اُوۡذِيۡنَا مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَاۡتِيَنَا وَمِنۡۢ بَعۡدِ مَا جِئۡتَنَاؕ قَالَ عَسٰى رَبُّكُمۡ اَنۡ يُّهۡلِكَ عَدُوَّكُمۡ وَيَسۡتَخۡلِفَكُمۡ فِى الۡاَرۡضِ فَيَنۡظُرَ كَيۡفَ تَعۡمَلُوۡنَ‏

তারা বলল, তুমি আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি, তুমি আসার পরেও আমরা নির্যাতিত হচ্ছি। তখন মূসা বলল, শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং জনপদে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। অতঃপর তিনি দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ কর?

وَلَقَدۡ اَخَذۡنَاۤ اٰلَ فِرۡعَوۡنَ بِالسِّنِيۡنَ وَنَقۡصٍ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّهُمۡ يَذَّكَّرُوۡنَ‏

আর নিশ্চয়ই আমরা ফেরাঊনের সম্প্রদায়কে পাকড়াও করেছিলাম দুর্ভিক্ষ ও ফসলহানির দ্বারা যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

فَاِذَا جَآءَتۡهُمُ الۡحَسَنَةُ قَالُوۡا لَـنَا هٰذِهٖۚ وَاِنۡ تُصِبۡهُمۡ سَيِّئَةٌ يَّطَّيَّرُوۡا بِمُوۡسٰى وَمَنۡ مَّعَهٗؕ اَلَاۤ اِنَّمَا طٰٓٮِٕرُهُمۡ عِنۡدَ اللّٰهِ وَلٰـكِنَّ اَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُوۡنَ‏

অতঃপর যখন তাদের কোন কল্যাণ আসত, তখন বলত আমাদের কারণেই এটা হয়েছে। আর যদি কোন অকল্যাণ আসত, তখন বলত, এটা মূসা ও তার সাথীদের অশুভ কারণে হয়েছে। অথচ তাদের শুভাশুভ সবকিছুই আল্লাহ্র নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানে না।

وَقَالُوۡا مَهۡمَا تَاۡتِنَا بِهٖ مِنۡ اٰيَةٍ لِّـتَسۡحَرَنَا بِهَاۙ فَمَا نَحۡنُ لَكَ بِمُؤۡمِنِيۡنَ‏

তারা বলল, আমাদের জাদুগ্রস্ত করার জন্য তুমি যে নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না।

فَاَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمُ الطُّوۡفَانَ وَالۡجَـرَادَ وَالۡقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ اٰيٰتٍ مُّفَصَّلٰتٍ فَاسۡتَكۡبَرُوۡا وَكَانُوۡا قَوۡمًا مُّجۡرِمِيۡنَ‏ 

ফলে আমরা তাদের উপর (একের পর এক) পাঠিয়ে দিলাম প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত সুস্পষ্ট নিদর্শন (গযব) হিসাবে। কিন্তু তারা তাতে দম্ভ করল। বস্ত্তত তারা ছিল পাপী সম্প্রদায়।

وَلَـمَّا وَقَعَ عَلَيۡهِمُ الرِّجۡزُ قَالُوۡا يٰمُوۡسَى ادۡعُ لَـنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنۡدَكَۚ لَٮِٕنۡ كَشَفۡتَ عَنَّا الرِّجۡزَ لَـنُؤۡمِنَنَّ لَكَ وَلَـنُرۡسِلَنَّ مَعَكَ بَنِىۡۤ اِسۡرَآءِيۡلَۚ

যখন তাদের উপর মহামারি আপতিত হ’ত, তখন তারা বলত, হে মূসা! তোমার প্রভুর নিকট আমাদের জন্য দো‘আ কর যা (কবুলের) প্রতিশ্রুতি তিনি তোমার নিকট দিয়েছেন। যদি তুমি আমাদের থেকে এই বিপদ দূর করে দাও, তাহ’লে আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব এবং অবশ্যই তোমার সাথে বনু ইস্রাঈলদের পাঠিয়ে দেব।

فَلَمَّا كَشَفۡنَا عَنۡهُمُ الرِّجۡزَ اِلٰٓى اَجَلٍ هُمۡ بٰلِغُوۡهُ اِذَا هُمۡ يَنۡكُثُوۡنَ‏

অতঃপর যখনই আমরা তাদের থেকে আযাব উঠিয়ে নিতাম একটা নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাওয়ার পর, তখনই তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত।

فَانْتَقَمۡنَا مِنۡهُمۡ فَاَغۡرَقۡنٰهُمۡ فِى الۡيَمِّ بِاَنَّهُمۡ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَكَانُوۡا عَنۡهَا غٰفِلِيۡنَ‏

ফলে আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে মারলাম। কারণ তারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছিল এবং তারা তার প্রতি উদাসীন ছিল।

وَاَوۡرَثۡنَا الۡـقَوۡمَ الَّذِيۡنَ كَانُوۡا يُسۡتَضۡعَفُوۡنَ مَشَارِقَ الۡاَرۡضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِىۡ بٰرَكۡنَا فِيۡهَاؕ وَتَمَّتۡ كَلِمَتُ رَبِّكَ الۡحُسۡنٰى عَلٰى بَنِىۡۤ اِسۡرَاۤءِيۡلۙ َ بِمَا صَبَرُوۡاؕ وَدَمَّرۡنَا مَا كَانَ يَصۡنَعُ فِرۡعَوۡنُ وَقَوۡمُهٗ وَمَا كَانُوۡا يَعۡرِشُوۡنَ‏

আর যাদেরকে দুর্বল ভাবা হ’ত সেই সম্প্রদায়কে (অর্থাৎ বনু ইস্রাঈলকে) আমরা উত্তরাধিকার দান করলাম পূর্ব ও পশ্চিমের। যাতে আমরা বরকত দান করেছি। এভাবে তোমার প্রভুর কল্যাণময় প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়ে গেল বনু ইস্রাঈলের উপর এজন্য যে, তারা বিপদে ধৈর্যধারণ করেছিল। আর ধ্বংস করে দিলাম ফেরাঊন ও তার সম্প্রদায় যেসব শিল্প তৈরী করেছিল ও যেসব প্রাসাদ তারা নির্মাণ করেছিল।

وَجَاوَزۡنَا بِبَنِىۡۤ اِسۡرَاۤءِيۡلَ الۡبَحۡرَ فَاَ تَوۡا عَلٰى قَوۡمٍ يَّعۡكُفُوۡنَ عَلٰٓى اَصۡنَامٍ لَّهُمۡۚ قَالُوۡا يٰمُوۡسَى اجۡعَلْ لَّـنَاۤ اِلٰهًا كَمَا لَهُمۡ اٰلِهَةٌؕ قَالَ اِنَّكُمۡ قَوۡمٌ تَجۡهَلُوۡنَ‏

আর আমরা বনু ইস্রাঈলকে নদী পার করে দিলাম। অতঃপর তারা একটি সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছল যারা তাদের হাতেগড়া মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল। তখন তারা বলল, হে মূসা! আমাদেরকেও এরূপ একটা উপাস্য বানিয়ে দাও, যেমন এদের অনেক উপাস্য (মূর্তি) রয়েছে! জবাবে মূসা তাদের বলল, তোমরা তো একটা মূর্খ জাতি।

اِنَّ هٰٓؤُلَۤاءِ مُتَبَّرٌ مَّا هُمۡ فِيۡهِ وَبٰطِلٌ مَّا كَانُوۡا يَعۡمَلُوۡنَ‏ 

নিশ্চয়ই এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তাতো ধ্বংস হবেই এবং যা কিছু তারা করছে, তাতো অনর্থক কাজ।

قَالَ اَغَيۡرَ اللّٰهِ اَبۡغِيۡكُمۡ اِلٰهًا وَّهُوَ فَضَّلَـكُمۡ عَلَى الۡعٰلَمِيۡنَ‏ 

সে বলল, আমি কি তোমাদের জন্য আল্লাহকে ছেড়ে অন্য উপাস্য তালাশ করব? অথচ তিনি তোমাদেরকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

وَاِذۡ اَنۡجَيۡنٰكُمۡ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ يَسُوۡمُوۡنَـكُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِۚ يُقَتِّلُوۡنَ اَبۡنَآءَكُمۡ وَ يَسۡتَحۡيُوۡنَ نِسَآءَكُمۡؕ وَفِىۡ ذٰ لِكُمۡ بَلَاۤ ءٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ عَظِيۡمٌ‏

আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তোমাদেরকে ফেরাঊন সম্প্রদায়ের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। যারা তোমাদের নিকৃষ্টতম শাস্তি দিত। তারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের টুকরা টুকরা করে হত্যা করত এবং কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখত। এর মধ্যে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হ’তে কঠিন পরীক্ষা নিহিত ছিল।

وَوٰعَدۡنَا مُوۡسٰى ثَلٰثِيۡنَ لَيۡلَةً وَّاَتۡمَمۡنٰهَا بِعَشۡرٍ فَتَمَّ مِيۡقَاتُ رَبِّهٖۤ اَرۡبَعِيۡنَ لَيۡلَةًۚ وَقَالَ مُوۡسٰى لِاَخِيۡهِ هٰرُوۡنَ اخۡلُفۡنِىۡ فِىۡ قَوۡمِىۡ وَاَصۡلِحۡ وَلَا تَتَّبِعۡ سَبِيۡلَ الۡمُفۡسِدِيۡنَ‏

আর আমরা মূসাকে ত্রিশ দিনের ওয়াদা দিয়েছিলাম। অতঃপর তা আরও দশ দিন দ্বারা পূর্ণ করি এবং এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত চল্লিশ দিন সময় পূর্ণ হয়। আর এ সময় মূসা তার ভাই হারূণকে বলে, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ও তাদের সংশোধন করবে। আর সাবধান! তুমি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবে না।

وَلَمَّا جَآءَ مُوۡسٰى لِمِيۡقَاتِنَا وَكَلَّمَهٗ رَبُّهٗۙ قَالَ رَبِّ اَرِنِىۡۤ اَنۡظُرۡ اِلَيۡكَؕ قَالَ لَنۡ تَرٰٮنِىۡ وَلٰـكِنِ انْظُرۡ اِلَى الۡجَـبَلِ فَاِنِ اسۡتَقَرَّ مَكَانَهٗ فَسَوۡفَ تَرٰٮنِىۡۚ فَلَمَّا تَجَلّٰى رَبُّهٗ لِلۡجَبَلِ جَعَلَهٗ دَكًّا وَّخَرَّ مُوۡسٰى صَعِقًاۚ فَلَمَّاۤ اَفَاقَ قَالَ سُبۡحٰنَكَ تُبۡتُ اِلَيۡكَ وَاَنَا اَوَّلُ الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏

অতঃপর যখন মূসা আমাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গেল এবং তার প্রভু তার সাথে (পর্দার অন্তরাল থেকে সরাসরি) কথা বললেন, তখন সে বলল, হে প্রভু! আমাকে দেখা দাও, আমি তোমাকে দেখব। তিনি বললেন, তুমি কখনোই আমাকে দেখতে পাবে না। বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও। যদি সেটি স্বস্থানে দৃঢ় থাকে, তাহ’লে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। অতঃপর যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে তার জ্যোতির বিকীরণ ঘটালেন, তখন তা তাকে বিধ্বস্ত করে দিল। আর মূসা বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। অতঃপর যখন মূসা হুঁশ ফিরে পেল তখন বলল, মহাপবিত্র তুমি (হে প্রভু!)। আমি তওবা করছি এবং আমিই (আমার কওমের মধ্যে) বিশ্বাসীদের প্রথম।

قَالَ يٰمُوۡسٰٓى اِنِّى اصۡطَفَيۡتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسٰلٰتِىۡ وَ بِكَلَامِىۡۖ  فَخُذۡ مَاۤ اٰتَيۡتُكَ وَكُنۡ مِّنَ الشّٰكِرِيۡنَ‏

আল্লাহ বললেন, হে মূসা! আমার রিসালাত ও বাক্যালাপের দ্বারা আমি তোমাকে লোকদের মধ্য থেকে বাছাই করে নিয়েছি। অতএব আমি যা তোমাকে দেই তা গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।

وَكَتَبۡنَا لَهٗ فِى الۡاَلۡوَاحِ مِنۡ كُلِّ شَىۡءٍ مَّوۡعِظَةً وَّتَفۡصِيۡلًا لِّـكُلِّ شَىۡءٍۚ فَخُذۡهَا بِقُوَّةٍ وَّاۡمُرۡ قَوۡمَكَ يَاۡخُذُوۡا بِاَحۡسَنِهَاؕ سَاُورِيۡكُمۡ دَارَ الۡفٰسِقِيۡنَ‏

আর আমরা তার জন্য ফলক সমূহে লিখে দিয়েছিলাম সকল বিষয়ে উপদেশ ও সকল বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা। অতএব তুমি তা শক্তভাবে ধারণ কর এবং তোমার সম্প্রদায়কে সেগুলির উত্তম বিধানসমূহ মেনে চলতে আদেশ দাও। আর সত্বর আমি তোমাদেরকে অবাধ্যদের ঠিকানা দেখাব।

سَاَصۡرِفُ عَنۡ اٰيٰتِىَ الَّذِيۡنَ يَتَكَبَّرُوۡنَ فِى الۡاَرۡضِ بِغَيۡرِ الۡحَـقِّؕ وَاِنۡ يَّرَوۡا كُلَّ اٰيَةٍ لَّا يُؤۡمِنُوۡا بِهَاۚ وَاِنۡ يَّرَوۡا سَبِيۡلَ الرُّشۡدِ لَا يَتَّخِذُوۡهُ سَبِيۡلًاۚ وَّاِنۡ يَّرَوۡا سَبِيۡلَ الۡغَىِّ يَتَّخِذُوۡهُ سَبِيۡلًاؕ ذٰ لِكَ بِاَنَّهُمۡ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَكَانُوۡا عَنۡهَا غٰفِلِيۡنَ‏

এ পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে দম্ভ করে আমি তাদেরকে আমার আয়াতসমূহ থেকে ফিরিয়ে রাখব। তারা আমার সমস্ত নিদর্শন দেখলেও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না। তারা হেদায়াতের পথ দেখলেও সে পথে যাবে না। কিন্তু যদি ভ্রষ্টতার পথ দেখে তাহ’লে তারা সেটাই গ্রহণ করবে। এটা এ কারণে যে, তারা আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে এবং তারা এ থেকে উদাসীন।

وَالَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَلِقَآءِ الۡاٰخِرَةِ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُهُمۡؕ هَلۡ يُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا كَانُوۡا يَعۡمَلُوۡنَ‏

যারা আমাদের আয়াত সমূহে এবং আখেরাতে (আমার সাথে) সাক্ষাতে মিথ্যারোপ করে, তাদের সকল কর্ম বৃথা যাবে। তাহ’লে কি তারা তাদের কৃতকর্ম ছাড়াই বদলা পাবে?

وَاتَّخَذَ قَوۡمُ مُوۡسٰى مِنۡۢ بَعۡدِهٖ مِنۡ حُلِيِّهِمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌؕ اَلَمۡ يَرَوۡا اَنَّهٗ لَا يُكَلِّمُهُمۡ وَلَا يَهۡدِيۡهِمۡ سَبِيۡلًاۘ اِتَّخَذُوۡهُ وَكَانُوۡا ظٰلِمِيۡنَ‏

মূসার অনুপস্থিতিতে তার সম্প্রদায় তাদের অলংকারাদি পুড়িয়ে একটি গোবৎসের অবয়ব বানিয়ে তাকে উপাস্য রূপে গ্রহণ করল; যাতে এক ধরনের শব্দ ছিল। অথচ তারা কি দেখে না যে সে তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদের কোন পথও দেখায় না? তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্ত্তত তারা ছিল সীমালংঘনকারী।

وَلَـمَّا سُقِطَ فِىۡۤ اَيۡدِيۡهِمۡ وَرَاَوۡا اَنَّهُمۡ قَدۡ ضَلُّوۡاۙ قَالُوۡا لَٮِٕنۡ لَّمۡ يَرۡحَمۡنَا رَبُّنَا وَيَغۡفِرۡ لَـنَا لَنَكُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِيۡنَ‏ 

আর যখন তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে লজ্জিত হ’ল এবং দেখল যে, তারা নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তারা বলল, আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন, তাহ’লে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

وَلَمَّا رَجَعَ مُوۡسٰٓى اِلٰى قَوۡمِهٖ غَضۡبَانَ اَسِفًاۙ قَالَ بِئۡسَمَا خَلَفۡتُمُوۡنِىۡ مِنۡۢ بَعۡدِىۡۚ اَعَجِلۡتُمۡ اَمۡرَ رَبِّكُمۡۚ وَاَلۡقَى الۡاَلۡوَاحَ وَاَخَذَ بِرَاۡسِ اَخِيۡهِ يَجُرُّهٗۤ اِلَيۡهِؕ قَالَ ابۡنَ اُمَّ اِنَّ الۡـقَوۡمَ اسۡتَضۡعَفُوۡنِىۡ وَكَادُوۡا يَقۡتُلُوۡنَنِىۡۖ  فَلَا تُشۡمِتۡ بِىَ الۡاَعۡدَآءَ وَ لَا تَجۡعَلۡنِىۡ مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ‏

অতঃপর যখন মূসা ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ অবস্থায় তার কওমের নিকট ফিরে এল, তখন বলল, আমার পরে তোমরা কতই না মন্দভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছ! তোমরা কি তোমাদের প্রতিপালকের নির্দেশ আসার আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়লে? একথা বলে সে (তাওরাতের) ফলক সমূহ ছুঁড়ে ফেলে দিল এবং তার ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টানতে লাগল। তখন ভাই বলল, হে আমার সহোদর! সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে দুর্বল ভেবেছিল এবং আমাকে হত্যার উপক্রম করেছিল। অতএব তুমি আর আমাকে শত্রুদের নিকট হাসিয়োনা এবং আমাকে সীমালংঘনকারীদের মধ্যে গণ্য করো না।

قَالَ رَبِّ اغۡفِرۡ لِىۡ وَلِاَخِىۡ وَ اَدۡخِلۡنَا فِىۡ رَحۡمَتِكَۖ  وَاَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِيۡنَ‏

তখন মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের মধ্যে প্রবেশ করাও। আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

اِنَّ الَّذِيۡنَ اتَّخَذُوا الۡعِجۡلَ سَيَنَالُهُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّهِمۡ وَذِلَّـةٌ فِى الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاؕ وَكَذٰلِكَ نَجۡزِىۡ الۡمُفۡتَرِيۡنَ‏

(বলা হ’ল) নিশ্চয়ই যারা গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে, এ পার্থিব জীবনেই তাদেরকে তাদের প্রভুর পক্ষ হ’তে ক্রোধ ও লাঞ্ছনা গ্রাস করবে। আর মিথ্যা রটনাকারীদের শাস্তি আমরা এভাবেই দিয়ে থাকি।

وَالَّذِيۡنَ عَمِلُوا السَّيِّاٰتِ ثُمَّ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِهَا وَاٰمَنُوۡۤا اِنَّ رَبَّكَ مِنۡۢ بَعۡدِهَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِيۡمٌ‏

আর যারা মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে ও ঈমান আনে, নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক উক্ত তওবার পরে ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

وَلَـمَّا سَكَتَ عَنۡ مُّوۡسَى الۡغَضَبُ اَخَذَ الۡاَلۡوَاحَۖ  وَفِىۡ نُسۡخَتِهَا هُدًى وَّرَحۡمَةٌ لِّـلَّذِيۡنَ هُمۡ لِرَبِّهِمۡ يَرۡهَبُوۡنَ‏

তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল, তখন ফলকগুলি তুলে নিল। বস্ত্তত যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাদের জন্য উক্ত ফলকগুলিতে পথনির্দেশ ও রহমত লিখিত ছিল।

وَاخۡتَارَ مُوۡسٰى قَوۡمَهٗ سَبۡعِيۡنَ رَجُلًا لِّمِيۡقَاتِنَاۚ فَلَمَّاۤ اَخَذَتۡهُمُ الرَّجۡفَةُ قَالَ رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ اَهۡلَـكۡتَهُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ وَاِيَّاىَؕ اَ تُهۡلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَآءُ مِنَّاۚ اِنۡ هِىَ اِلَّا فِتۡنَـتُكَؕ تُضِلُّ بِهَا مَنۡ تَشَآءُ وَتَهۡدِىۡ مَنۡ تَشَآءُؕ اَنۡتَ وَلِيُّنَا فَاغۡفِرۡ لَـنَا وَارۡحَمۡنَا​ وَاَنۡتَ خَيۡرُ الۡغَافِرِيۡنَ‏

আর মূসা তার সম্প্রদায় থেকে সত্তুর জন লোককে আমাদের নির্ধারিত স্থানে সময়মত উপস্থিত হওয়ার জন্য বেছে নিল। অতঃপর যখন পাহাড়ের কম্পন তাদেরকে গ্রাস করল, তখন মূসা বলল, হে আমার প্রভু! তুমি চাইলে তাদেরকে ও আমাকে এর পূর্বেই মেরে ফেলতে পারতে? আমাদের মধ্যেকার কিছু নির্বোধ লোক যে কাজ করেছে, সেজন্য কি তুমি আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে? এটা কিছুই নয় তোমার পরীক্ষা ব্যতীত। যার দ্বারা তুমি যাকে চাও পথভ্রষ্ট কর ও যাকে চাও সুপথ দেখাও। তুমি আমাদের অভিভাবক। অতএব তুমি আমাদের ক্ষমা কর ও অনুগ্রহ কর। আর তুমিই শ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল।

وَاكۡتُبۡ لَـنَا فِىۡ هٰذِهِ الدُّنۡيَا حَسَنَةً وَّفِى الۡاٰخِرَةِ اِنَّا هُدۡنَاۤ اِلَيۡكَؕ قَالَ عَذَابِىۡۤ اُصِيۡبُ بِهٖ مَنۡ اَشَآءُۚ وَرَحۡمَتِىۡ وَسِعَتۡ كُلَّ شَىۡءٍؕ فَسَاَكۡتُبُهَا لِلَّذِيۡنَ يَتَّقُوۡنَ وَيُؤۡتُوۡنَ الزَّكٰوةَ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ بِاٰيٰتِنَا يُؤۡمِنُوۡنَۚ

আর আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ নির্ধারিত কর। আমরা তোমার দিকেই ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ বললেন, আমার শাস্তি দ্বারা আমি যাকে চাই তাকে পাকড়াও করি। আর আমার অনুগ্রহ সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। আমি তা সত্বর নির্ধারিত করব ঐসব লোকদের জন্য যারা আল্লাহকে ভয় করে, যাকাত প্রদান করে এবং আমাদের আয়াত সমূহে বিশ্বাস পোষণ করে।

اَ لَّذِيۡنَ يَتَّبِعُوۡنَ الرَّسُوۡلَ النَّبِىَّ الۡاُمِّىَّ الَّذِىۡ يَجِدُوۡنَهٗ مَكۡتُوۡبًا عِنۡدَهُمۡ فِى التَّوۡرٰٮةِ وَالۡاِنۡجِيۡلِ يَاۡمُرُهُمۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَيَنۡهٰٮهُمۡ عَنِ الۡمُنۡكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ الۡخَبٰۤٮِٕثَ وَيَضَعُ عَنۡهُمۡ اِصۡرَهُمۡ وَالۡاَغۡلٰلَ الَّتِىۡ كَانَتۡ عَلَيۡهِمۡؕ فَالَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا بِهٖ وَعَزَّرُوۡهُ وَنَصَرُوۡهُ وَ اتَّبَـعُوا النُّوۡرَ الَّذِىۡۤ اُنۡزِلَ مَعَهٗ ۤۙ اُولٰۤٮِٕكَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ‏

যারা এই রাসূলের আনুগত্য করে যিনি নিরক্ষর নবী, যার বিষয়ে তারা তাদের কিতাব তাওরাত ও ইনজীলে লিখিত পেয়েছে। যিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজে নিষেধ করেন। যিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্ত্ত সমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্ত্ত সমূহ হারাম করেন এবং তাদের উপর থেকে বোঝা ও বন্ধন সমূহ নামিয়ে দেন যা তাদের উপরে ছিল। অতএব যারা তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাকে শত্রু থেকে প্রতিরোধ করেছে ও সাহায্য করেছে এবং সেই জ্যোতির (কুরআন ও সুন্নাহ্র) অনুসরণ করেছে যা তার সাথে নাযিল হয়েছে, তারাই হ’ল সফলকাম।

قُلۡ يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اِنِّىۡ رَسُوۡلُ اللّٰهِ اِلَيۡكُمۡ جَمِيۡعَاْ ۨالَّذِىۡ لَهٗ مُلۡكُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ يُحۡىٖ وَيُمِيۡتُ​ فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰهِ وَرَسُوۡلِهِ النَّبِىِّ الۡاُمِّىِّ الَّذِىۡ يُؤۡمِنُ بِاللّٰهِ وَكَلِمٰتِهٖ وَاتَّبِعُوۡهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُوۡنَ‏

তুমি বল, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল। যার জন্যই আসমান ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন। অতএব তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর, যিনি নিরক্ষর নবী। যিনি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন আল্লাহ ও তার বাণী সমূহের উপর। তোমরা তার অনুসরণ কর যাতে তোমরা সুপথপ্রাপ্ত হ’তে পার।

وَ مِنۡ قَوۡمِ مُوۡسٰٓى اُمَّةٌ يَّهۡدُوۡنَ بِالۡحَـقِّ وَبِهٖ يَعۡدِلُوۡنَ‏ 

মূসা-র কওমের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে, যারা সত্যের অনুসরণ করে ও সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে।

وَقَطَّعۡنٰهُمُ اثۡنَتَىۡ عَشۡرَةَ اَسۡبَاطًا اُمَمًاؕ وَاَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰى مُوۡسٰٓى اِذِ اسۡتَسۡقٰٮهُ قَوۡمُهٗۤ اَنِ اضۡرِبْ بِّعَصَاكَ الۡحَجَرَۚ فَاْنۢبَجَسَتۡ مِنۡهُ اثۡنَتَا عَشۡرَةَ عَيۡنًاؕ قَدۡ عَلِمَ كُلُّ اُنَاسٍ مَّشۡرَبَهُمۡؕ وَظَلَّلۡنَا عَلَيۡهِمُ الۡغَمَامَ وَاَنۡزَلۡنَا عَلَيۡهِمُ الۡمَنَّ وَالسَّلۡوٰىؕ كُلُوۡا مِنۡ طَيِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰكُمۡؕ وَ مَا ظَلَمُوۡنَا وَلٰـكِنۡ كَانُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ يَظۡلِمُوۡنَ‏

আর আমরা ইয়াকূবের বারো জন পুত্রের বংশধারাকে বড় বড় গোত্র সমূহে বিভক্ত করেছি। অতঃপর মূসার কওমের লোকেরা যখন তার কাছে পানি চাইল, তখন আমরা প্রত্যাদেশ করলাম যে, তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর। অতঃপর সেখান থেকে বারোটি ঝর্ণাধারা বের হ’ল। প্রত্যেক গোত্র তাদের স্ব স্ব পানির ঘাট চিনে নিল। আর আমরা তাদের উপর মেঘ দ্বারা ছায়া প্রদান করলাম ও তাদের উপর মান্না ও সালওয়া নাযিল করলাম এবং বললাম তোমাদেরকে যে পবিত্র রূযী আমরা দান করেছি, তা থেকে ভক্ষণ কর। বস্ত্তত তারা আমাদের উপর যুলুম করেনি, বরং তারাই তাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছিল।

وَاِذۡ قِيۡلَ لَهُمُ اسۡكُنُوۡا هٰذِهِ الۡقَرۡيَةَ وَكُلُوۡا مِنۡهَا حَيۡثُ شِئۡتُمۡ وَقُوۡلُوۡا حِطَّةٌ وَّادۡخُلُوا الۡبَابَ سُجَّدًا نَّـغۡفِرۡ لَـكُمۡ خَطِيْٓــٰٔــتِكُمۡؕ سَنَزِيۡدُ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏

আর যখন তাদের বলা হ’ল তোমরা এ নগরীতে (ফিলিস্তীনে) বসবাস কর ও সেখান থেকে যা খুশী ভক্ষণ কর এবং বল (হে আল্লাহ!) আমাদের ক্ষমা কর ও মাথা নীচু করে নগরীর প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ কর, তাহ’লে আমরা তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেব এবং সৎকর্মশীলদের জন্য আমরা আরো বেশী করে দেব।

فَبَدَّلَ الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡهُمۡ قَوۡلًا غَيۡرَ الَّذِىۡ قِيۡلَ لَهُمۡ فَاَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِجۡزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوۡا يَظۡلِمُوۡنَ‏ 

কিন্তু তাদের মধ্যকার সীমালংঘনকারীরা কথা পাল্টে দিল যা তাদেরকে বলা হয়েছিল। অতঃপর তাদের সীমা লংঘনের ফল হিসাবে আমরা তাদের উপর আকাশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করলাম।

وَسۡـــَٔلۡهُمۡ عَنِ الۡـقَرۡيَةِ الَّتِىۡ كَانَتۡ حَاضِرَةَ الۡبَحۡرِۘ اِذۡ يَعۡدُوۡنَ فِى السَّبۡتِ اِذۡ تَاۡتِيۡهِمۡ حِيۡتَانُهُمۡ يَوۡمَ سَبۡتِهِمۡ شُرَّعًا وَّيَوۡمَ لَا يَسۡبِتُوۡنَۙ لَا تَاۡتِيۡهِمۡۛۚ كَذٰلِكَۛۚ نَبۡلُوۡهُمۡ بِمَا كَانُوۡا يَفۡسُقُوۡنَ‏

আর তাদেরকে জিজ্ঞেস কর সমুদ্রতীরবর্তী সেই জনপদের কথা, যেখানে তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালংঘন করেছিল। যখন শনিবারে তাদের ইবাদতের দিন (সাগরের) মাছ সমূহ ভাসমান অবস্থায় আসত, কিন্তু অন্যদিন আসত না যেদিন তারা ইবাদত করত না। এভাবে তাদের অবাধ্যতার কারণে আমরা তাদের পরীক্ষা নিয়েছিলাম।

وَاِذۡ قَالَتۡ اُمَّةٌ مِّنۡهُمۡ لِمَ تَعِظُوۡنَ قَوۡمَاْۙ اۨللّٰهُ مُهۡلِكُهُمۡ اَوۡ مُعَذِّبُهُمۡ عَذَابًا شَدِيۡدًاؕ قَالُوۡا مَعۡذِرَةً اِلٰى رَبِّكُمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَّقُوۡنَ‏

আর যখন তাদের একটি দল বলেছিল, তোমরা কেন ঐ সম্প্রদায়কে উপদেশ দিচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন? অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন? জবাবে তারা বলেছিল, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ওযর পেশ করার জন্য এবং যাতে তারা সতর্ক হয়।

فَلَمَّا نَسُوۡا مَا ذُكِّرُوۡا بِهٖۤ اَنۡجَيۡنَا الَّذِيۡنَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ السُّوۡۤءِ وَاَخَذۡنَا الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡا بِعَذَابٍۭ بَـِٕيۡسٍۢ بِمَا كَانُوۡا يَفۡسُقُوۡنَ‏

অতঃপর যখন তারা ভুলে গেল যা তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন যারা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত, তাদেরকে আমরা বাঁচিয়ে নিলাম এবং যারা সীমালংঘন করেছিল, তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার কারণে কঠোর শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম।

فَلَمَّا عَتَوۡا عَنۡ مَّا نُهُوۡا عَنۡهُ قُلۡنَا لَهُمۡ كُوۡنُوۡا قِرَدَةً خٰسِـٮِٕیْنَ‏

অতঃপর যখন তারা নিষিদ্ধ কাজে চূড়ান্তভাবে বাড়াবাড়ি করল, তখন আমরা বললাম, তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।

وَاِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبۡعَثَنَّ عَلَيۡهِمۡ اِلٰى يَوۡمِ الۡقِيٰمَةِ مَنۡ يَّسُوۡمُهُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِؕ اِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيۡعُ الۡعِقَابِۖۚ وَاِنَّهٗ لَـغَفُوۡرٌ رَّحِيۡمٌ‏

(হে রাসূল! তুমি স্মরণ কর) যখন তোমার পালনকর্তা (ইহূদীদের) জানিয়ে দেন যে তিনি তাদের উপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবশ্যই এমন সব লোকদের প্রেরণ করবেন, যারা তাদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিতে থাকবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তিদাতা এবং তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

وَقَطَّعۡنٰهُمۡ فِى الۡاَرۡضِ اُمَمًاۚ مِنۡهُمُ الصّٰلِحُوۡنَ وَمِنۡهُمۡ دُوۡنَ ذٰ لِكَ​ وَبَلَوۡنٰهُمۡ بِالۡحَسَنٰتِ وَالسَّيِّاٰتِ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُوۡنَ‏ 

আর আমরা তাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করে টুকরা টুকরা করে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেই। তাদের মধ্যে কেউ ভাল কেউ অন্য রূপ। আমরা তাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করি যাতে তারা ফিরে আসে।

فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ وَّرِثُوا الۡكِتٰبَ يَاۡخُذُوۡنَ عَرَضَ هٰذَا الۡاَدۡنٰى وَيَقُوۡلُوۡنَ سَيُغۡفَرُ لَـنَاۚ وَاِنۡ يَّاۡتِهِمۡ عَرَضٌ مِّثۡلُهٗ يَاۡخُذُوۡهُؕ اَلَمۡ يُؤۡخَذۡ عَلَيۡهِمۡ مِّيۡثَاقُ الۡـكِتٰبِ اَنۡ لَّا يَقُوۡلُوۡا عَلَى اللّٰهِ اِلَّا الۡحَـقَّ وَدَرَسُوۡا مَا فِيۡهِؕ وَالدَّارُ الۡاٰخِرَةُ خَيۡرٌ لِّـلَّذِيۡنَ يَتَّقُوۡنَؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ‏

অতঃপর তাদের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত হয় অপদার্থ লোকেরা, যারা কিতাবের (তাওরাতের) উত্তরাধিকারী হয়। যার মাধ্যমে তারা তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ গ্রহণ করে (অর্থাৎ ঘুষ খায়) আর বলে যে, সত্বর আমাদের ক্ষমা করা হবে। এমনি ধরনের পার্থিব সম্পদ যদি তাদের নিকট পুনরায় আসে, তাহ’লে তারা তা নিয়ে নিবে। তাদের নিকট থেকে কি তাদের কিতাবে এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ্র নামে সত্য ব্যতীত কিছুই বলবে না? আর সেখানে যা আছে তাতো তারা পাঠ করেছে। বস্ত্তত আল্লাহভীরুদের জন্য পরকালের গৃহ উত্তম, তোমরা কি তা বুঝ না?

وَالَّذِيۡنَ يُمَسِّكُوۡنَ بِالۡـكِتٰبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَؕ اِنَّا لَا نُضِيۡعُ اَجۡرَ الۡمُصۡلِحِيۡنَ‏

বস্ত্তত যারা কিতাবকে (তাওরাতকে) মযবুতভাবে ধারণ করে ও ছালাত কায়েম করে, নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার বিনষ্ট করি না।

وَاِذۡ نَـتَقۡنَا الۡجَـبَلَ فَوۡقَهُمۡ كَاَنَّهٗ ظُلَّةٌ وَّظَنُّوۡۤا اَنَّهٗ وَاقِعٌ ۢ بِهِمۡۚ خُذُوۡا مَاۤ اٰتَيۡنٰكُمۡ بِقُوَّةٍ وَّاذۡكُرُوۡا مَا فِيۡهِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَ‏

আর (স্মরণ কর) যখন আমরা তাদের মাথার উপরে (তূর) পাহাড় উত্তোলন করেছিলাম ছাতার ন্যায় এবং তারা ভয় পেয়েছিল যে, সেটি তাদের উপর পতিত হবে। আমরা তাদের বললাম তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং তাতে যা রয়েছে তা ভালভাবে স্মরণ কর। যাতে তোমরা বাঁচতে পারো।

وَ اِذۡ اَخَذَ رَبُّكَ مِنۡۢ بَنِىۡۤ اٰدَمَ مِنۡ ظُهُوۡرِهِمۡ ذُرِّيَّتَهُمۡ وَ اَشۡهَدَهُمۡ عَلٰٓى اَنۡفُسِهِمۡۚ اَلَسۡتُ بِرَبِّكُمۡؕ قَالُوۡا بَلٰىۛۚ شَهِدۡنَاۛۚ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ اِنَّا كُنَّا عَنۡ هٰذَا غٰفِلِيۡنَۙ

আর (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক বনু আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের উপর সাক্ষী বানিয়ে বললেন, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, হ্যাঁ। আমরা সাক্ষী রইলাম। যাতে তোমরা ক্বিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, আমরা এ বিষয়ে জানতাম না।

اَوۡ تَقُوۡلُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَشۡرَكَ اٰبَآؤُنَا مِنۡ قَبۡلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِّنۡۢ بَعۡدِهِمۡۚ اَفَتُهۡلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الۡمُبۡطِلُوۡنَ‏

অথবা তোমরা যেন ক্বিয়ামতের দিন একথা বলতে না পার যে, আমাদের পূর্ব পুরুষরাই ইতিপূর্বে শিরক করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর। অতএব ঐসব বাতিলপন্থীরা যে পাপ করেছে সেজন্য কি তুমি আমাদের ধ্বংস করবে?

وَكَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الۡاٰيٰتِ وَلَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُوۡنَ‏

এভাবেই আমরা আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি। যাতে তারা (কুফরী থেকে) ফিরে আসে।

وَاتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَاَ الَّذِىۡۤ اٰتَيۡنٰهُ اٰيٰتِنَا فَانْسَلَخَ مِنۡهَا فَاَتۡبَعَهُ الشَّيۡطٰنُ فَكَانَ مِنَ الۡغٰوِيۡنَ‏

আর তুমি তাদেরকে সেই ব্যক্তির কথা শুনিয়ে দাও, যাকে আমরা আমাদের অনেক নিদর্শন (নে‘মত) প্রদান করেছিলাম। কিন্তু সে তা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ফলে শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

وَلَوۡ شِئۡنَا لَرَفَعۡنٰهُ بِهَا وَلٰـكِنَّهٗۤ اَخۡلَدَ اِلَى الۡاَرۡضِ وَاتَّبَعَ هَوٰٮهُۚ فَمَثَلُهٗ كَمَثَلِ الۡـكَلۡبِۚ اِنۡ تَحۡمِلۡ عَلَيۡهِ يَلۡهَثۡ اَوۡ تَتۡرُكۡهُ يَلۡهَثؕ ذٰ لِكَ مَثَلُ الۡقَوۡمِ الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَاۚ فَاقۡصُصِ الۡقَصَصَ لَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُوۡنَ‏

যদি আমরা চাইতাম তাহ’লে উক্ত নিদর্শনাবলী অনুযায়ী কাজ করার মাধ্যমে অবশ্যই তার মর্যাদা আরও উন্নত করতে পারতাম। কিন্তু সে মাটি আঁকড়ে রইল ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসারী হ’ল। তার দৃষ্টান্ত হ’ল কুকুরের মত। যদি তুমি তাকে তাড়িয়ে দাও তবুও হাঁপাবে, আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এটি হ’ল সেই সব লোকদের উদাহরণ যারা আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে। অতএব তুমি এদের কাহিনী বর্ণনা কর, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

سَآءَ مَثَلَاْ ۨالۡقَوۡمُ الَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا وَاَنۡفُسَهُمۡ كَانُوۡا يَظۡلِمُوۡنَ‏

ঐ সম্প্রদায়ের উদাহরণ কতই না মন্দ, যারা আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে এবং নিজেদের উপর যুলুম করে।

مَنۡ يَّهۡدِ اللّٰهُ فَهُوَ الۡمُهۡتَدِىۡۚ وَمَنۡ يُّضۡلِلۡ فَاُولٰۤٮِٕكَ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ‏

আল্লাহ যাকে সুপথ দেখান সেই-ই সুপথ প্রাপ্ত হয়। আর তিনি যাদের পথভ্রষ্ট করেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

وَلَـقَدۡ ذَرَاۡنَا لِجَـهَنَّمَ كَثِيۡرًا مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِۖ  لَهُمۡ قُلُوۡبٌ لَّا يَفۡقَهُوۡنَ بِهَا  وَلَهُمۡ اَعۡيُنٌ لَّا يُبۡصِرُوۡنَ بِهَا  وَلَهُمۡ اٰذَانٌ لَّا يَسۡمَعُوۡنَ بِهَاؕ اُولٰۤٮِٕكَ كَالۡاَنۡعَامِ بَلۡ هُمۡ اَضَلُّؕ اُولٰۤٮِٕكَ هُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ‏

আমরা বহু জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য। যাদের হৃদয় আছে কিন্তু বুঝে না। চোখ আছে কিন্তু দেখে না। কান আছে কিন্তু শোনে না। ওরা হ’ল চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তার চাইতেও পথভ্রষ্ট। ওরা হ’ল উদাসীন।

وَلِلّٰهِ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى فَادۡعُوۡهُ بِهَا​ وَذَرُوا الَّذِيۡنَ يُلۡحِدُوۡنَ فِىۡۤ اَسۡمَآٮِٕهٖؕ سَيُجۡزَوۡنَ مَا كَانُوۡا يَعۡمَلُوۡنَ‏

আর আল্লাহ্র জন্য সুন্দর নাম সমূহ রয়েছে। সেসব নামেই তোমরা তাঁকে ডাক এবং তাঁর নাম সমূহে যারা বিকৃতি ঘটিয়েছে তাদের তোমরা পরিত্যাগ কর। সত্বর তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের ফলাফল প্রদান করা হবে।

وَمِمَّنۡ خَلَقۡنَاۤ اُمَّةٌ يَّهۡدُوۡنَ بِالۡحَـقِّ وَبِهٖ يَعۡدِلُوۡنَ‏ 

আর যাদেরকে আমরা সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে একটি দল রয়েছে, যারা সত্য পথে চলে ও সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে।

وَالَّذِيۡنَ كَذَّبُوۡا بِاٰيٰتِنَا سَنَسۡتَدۡرِجُهُمۡ مِّنۡ حَيۡثُ لَا يَعۡلَمُوۡنَۖۚ

যারা আমাদের আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে আমরা তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমনভাবে যে, তারা বুঝতেও পারবে না।

وَاُمۡلِىۡ لَهُمۡؕ  اِنَّ كَيۡدِىۡ مَتِيۡنٌ‏

আর আমি তাদেরকে অবকাশ দেই। নিশ্চয়ই আমার কৌশল অতীব মযবুত।

اَوَلَمۡ يَتَفَكَّرُوۡا​ مَا بِصَاحِبِهِمۡ مِّنۡ جِنَّةٍؕ اِنۡ هُوَ اِلَّا نَذِيۡرٌ مُّبِيۡنٌ‏

তারা কি ভেবে দেখে না যে তাদের সাথীর (মুহাম্মাদ) মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই? সে তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।

اَوَلَمۡ يَنۡظُرُوۡا فِىۡ مَلَـكُوۡتِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنۡ شَىۡءٍۙ وَّاَنۡ عَسٰٓى اَنۡ يَّكُوۡنَ قَدِ اقۡتَرَبَ اَجَلُهُمۡۚ فَبِاَىِّ حَدِيۡثٍۢ بَعۡدَهٗ يُؤۡمِنُوۡنَ‏

তারা কি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্বে এবং যা কিছু আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সেসবের মধ্যে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে না? এবং এ ব্যাপারে যে, অবশ্যই তাদের জীবনের চূড়ান্ত মেয়াদ ক্রমেই নিকটবর্তী হচ্ছে? অতঃপর তারা কুরআনের পর কোন্ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করবে?

مَنۡ يُّضۡلِلِ اللّٰهُ فَلَا هَادِىَ لَهٗؕ وَ يَذَرُهُمۡ فِىۡ طُغۡيَانِهِمۡ يَعۡمَهُوۡنَ‏

যাকে আল্লাহ বিপথগামী করেন, তাকে সুপথ দেখানোর কেউ নেই। আল্লাহ তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেন।

يَسۡـَٔـــلُوۡنَكَ عَنِ السَّاعَةِ اَيَّانَ مُرۡسٰٮهَاؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُهَا عِنۡدَ رَبِّىۡۚ لَا يُجَلِّيۡهَا لِوَقۡتِهَاۤ اِلَّا هُوَۘؕ ثَقُلَتۡ فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِؕ لَا تَاۡتِيۡكُمۡ اِلَّا بَغۡتَةًؕ يَسۡـــَٔلُوۡنَكَ كَاَنَّكَ حَفِىٌّ عَنۡهَاؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُهَا عِنۡدَ اللّٰهِ وَلٰـكِنَّ اَكۡثَرَ النَّاسِ لَا يَعۡلَمُوۡنَ‏

তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে ক্বিয়ামত কখন হবে? বলে দাও, এর জ্ঞান কেবল আমার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। তার নির্ধারিত সময় কেবল তিনিই প্রকাশ করে দিবেন। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে সেটি হবে একটি ভয়ংকর বিষয়। যা তোমাদের নিকটে আসবে আকস্মিকভাবে। তারা তোমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে যেন তুমি এ বিষয়ে পূর্ণ অবগত! বলে দাও, এর জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।

قُلْ لَّاۤ اَمۡلِكُ لِنَفۡسِىۡ نَـفۡعًا وَّلَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُؕ وَلَوۡ كُنۡتُ اَعۡلَمُ الۡغَيۡبَ لَاسۡتَكۡثَرۡتُ مِنَ الۡخَيۡرِۖۛۚ وَمَا مَسَّنِىَ السُّۤوۡءُۛۚ اِنۡ اَنَا اِلَّا نَذِيۡرٌ وَّبَشِيۡرٌ لِّقَوۡمٍ يُّؤۡمِنُوۡنَ‏ 

বল যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমি আমার নিজের কোন কল্যাণ ও অকল্যাণের মালিক নই। যদি আমি অদৃশ্যের খবর রাখতাম, তাহ’লে আমি অধিক কল্যাণ অর্জন করতাম এবং কোনরূপ অমঙ্গল আমাকে স্পর্শ করতে পারত না। আমি বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদ দানকারী মাত্র।

هُوَ الَّذِىۡ خَلَقَكُمۡ مِّنۡ نَّـفۡسٍ وَّاحِدَةٍ وَّجَعَلَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا لِيَسۡكُنَ اِلَيۡهَاۚ فَلَمَّا تَغَشّٰٮهَا حَمَلَتۡ حَمۡلًا خَفِيۡفًا فَمَرَّتۡ بِهٖۚ فَلَمَّاۤ اَثۡقَلَتۡ دَّعَوَا اللّٰهَ رَبَّهُمَا لَٮِٕنۡ اٰتَيۡتَـنَا صَالِحًا لَّـنَكُوۡنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِيۡنَ‏

তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন ব্যক্তি (আদম) হ’তে। অতঃপর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া (হাওয়া)-কে। যাতে সে তার নিকটে প্রশান্তি লাভ করে। অতঃপর যখন সে তাতে উপগত হয়, তখন সে হালকা গর্ভধারণ করে। আর এটা নিয়েই সে চলাফেরা করে। অতঃপর যখন তা ভারি হয়, তখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তাদের প্রতিপালককে ডাকে, যদি তুমি আমাদেরকে সুসন্তান দাও, তাহ’লে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হব।

فَلَمَّاۤ اٰتٰٮهُمَا صَالِحًـا جَعَلَا لَهٗ شُرَكَآءَ فِيۡمَاۤ اٰتٰٮهُمَاۚ فَتَعٰلَى اللّٰهُ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏

অতঃপর যখন আল্লাহ তাদেরকে হৃষ্টপুষ্ট সন্তান দান করেন, তখন তারা এই দানে অন্যকে শরীক সাব্যস্ত করে। অথচ তারা যেসব বস্ত্তকে শরীক করে, আল্লাহ তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।

اَيُشۡرِكُوۡنَ مَا لَا يَخۡلُقُ شَيۡـًٔـــا وَّهُمۡ يُخۡلَقُوۡنَۖ ‏ 

তারা কি এমন কিছুকে শরীক করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট।

وَلَا يَسۡتَطِيۡعُوۡنَ لَهُمۡ نَـصۡرًا وَّلَاۤ اَنۡفُسَهُمۡ يَنۡصُرُوۡنَ‏ 

তারা যেমন তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, তেমনি তারা নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারে না।

وَاِنۡ تَدۡعُوۡهُمۡ اِلَى الۡهُدٰى لَا يَتَّبِعُوۡكُمۡؕ سَوَآءٌ عَلَيۡكُمۡ اَدَعَوۡتُمُوۡهُمۡ اَمۡ اَنۡـتُمۡ صٰمِتُوۡنَ‏

যদি তোমরা ওদের সরল পথে ডাক, ওরা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা ওদের ডাক বা চুপ থাক দু’টিই তোমাদের জন্য সমান।

اِنَّ الَّذِيۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ عِبَادٌ اَمۡثَالُـكُمۡ​ فَادۡعُوۡهُمۡ فَلۡيَسۡتَجِيۡبُوۡا لَـكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِيۡنَ‏

আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদের মতই বান্দা মাত্র। অতএব তোমরা তাদের ডাক এবং তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক, যদি তোমরা (শিরকের দাবীতে) সত্যবাদী হয়ে থাক।

اَلَهُمۡ اَرۡجُلٌ يَّمۡشُوۡنَ بِهَآ اَمۡ لَهُمۡ اَيۡدٍ يَّبۡطِشُوۡنَ بِهَآ اَمۡ لَهُمۡ اَعۡيُنٌ يُّبۡصِرُوۡنَ بِهَآ اَمۡ لَهُمۡ اٰذَانٌ يَّسۡمَعُوۡنَ بِهَاؕ قُلِ ادۡعُوۡا شُرَكَآءَكُمۡ ثُمَّ كِيۡدُوۡنِ فَلَا تُنۡظِرُوۡنِ‏

তাদের (অর্থাৎ মূর্তিদের) কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলতে পারে? তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরতে পারে? তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখতে পারে? তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শুনতে পারে? তুমি বলে দাও যে, তোমরা তোমাদের শরীকদের ডাক। অতঃপর সকলে মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে কোনরূপ অবকাশ দিয়ো না।

اِنَّ وَلىِّۦَ اللّٰهُ الَّذِىۡ نَزَّلَ الۡـكِتٰبَۖ  وَهُوَ يَتَوَلَّى الصّٰلِحِيۡنَ‏

আমার অভিভাবক হ’লেন আল্লাহ। যিনি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন। আর তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।

وَالَّذِيۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِهٖ لَا يَسۡتَطِيۡعُوۡنَ نَـصۡرَكُمۡ وَلَاۤ اَنۡفُسَهُمۡ يَنۡصُرُوۡنَ‏

আর আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা ডাক, তারা তোমাদের কোন সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না এবং তারা নিজেরা নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারে না।

وَاِنۡ تَدۡعُوۡهُمۡ اِلَى الۡهُدٰى لَا يَسۡمَعُوۡاؕ وَتَرٰٮهُمۡ يَنۡظُرُوۡنَ اِلَيۡكَ وَهُمۡ لَا يُبۡصِرُوۡنَ‏

যদি তুমি তাদেরকে সুপথে ডাক, তারা তা শুনবে না। তুমি তাদের দেখবে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। অথচ ওরা কিছুই দেখে না।

خُذِ الۡعَفۡوَ وَاۡمُرۡ بِالۡعُرۡفِ وَاَعۡرِضۡ عَنِ الۡجٰهِلِيۡنَ‏

তুমি ক্ষমার নীতি গ্রহণ কর। লোকদের সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের এড়িয়ে চল।

وَاِمَّا يَنۡزَغَـنَّكَ مِنَ الشَّيۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰهِؕ اِنَّهٗ سَمِيۡعٌ عَلِيۡمٌ‏

শয়তানের কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহ’লে তুমি আল্লাহ্র আশ্রয় গ্রহণ কর। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

اِنَّ الَّذِيۡنَ اتَّقَوۡا اِذَا مَسَّهُمۡ طٰۤٮِٕفٌ مِّنَ الشَّيۡطٰنِ تَذَكَّرُوۡا فَاِذَا هُمۡ مُّبۡصِرُوۡنَۚ

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, শয়তানের কুমন্ত্রণা স্পর্শ করার সাথে সাথে তারা সচেতন হয়ে যায় এবং তাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়।

وَاِخۡوَانُهُمۡ يَمُدُّوۡنَهُمۡ فِى الۡغَىِّ ثُمَّ لَا يُقۡصِرُوۡنَ‏ 

পক্ষান্তরে তাদের ভাইয়েরা তাদেরকে নিয়ে যায় ভ্রষ্টতার মধ্যে এবং এ ব্যাপারে তারা কোনই ত্রুটি করে না।

وَاِذَا لَمۡ تَاۡتِهِمۡ بِاٰيَةٍ قَالُوۡا لَوۡلَا اجۡتَبَيۡتَهَاؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اَتَّبِعُ مَا يُوۡحٰٓى اِلَىَّ مِنۡ رَّبِّىۡۚ هٰذَا بَصَآٮِٕرُ مِنۡ رَّبِّكُمۡ وَهُدًى وَّ رَحۡمَةٌ لِّقَوۡمٍ يُّؤۡمِنُوۡنَ‏

আর যখন তুমি তাদের নিকট কোন আয়াত না নিয়ে যাও, তখন তারা বলে তুমি নিজের থেকে কোন আয়াত কেন বানিয়ে আনো না? বলে দাও, আমি তো কেবল অনুসরণ করি যা আমার প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে আমার নিকটে অহি করা হয়। এটি (কুরআন) তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য জ্ঞানসম্ভার, হেদায়াত ও রহমত হিসাবে এসেছে।

وَاِذَا قُرِئَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَهٗ وَاَنۡصِتُوۡا لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ‏ 

আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাকো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হ’তে পার।

وَاذۡكُرْ رَّبَّكَ فِىۡ نَفۡسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِيۡفَةً وَّدُوۡنَ الۡجَـهۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ وَلَا تَكُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِيۡنَ‏

তুমি তোমার প্রতিপালককে স্মরণ কর মনে মনে কাকুতি-মিনতি ও ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে সকালে ও সন্ধ্যায়। আর তুমি উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

اِنَّ الَّذِيۡنَ عِنۡدَ رَبِّكَ لَا يَسۡتَكۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِهٖ وَيُسَبِّحُوۡنَهٗ وَلَهٗ يَسۡجُدُوۡنَ۩ ‏

নিশ্চয়ই (নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ) যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে থাকে, তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না। তারা তাঁর গুণগান করে ও তাঁর জন্য সিজদা করে। (সিজদা-১)